দাউদপুরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত

২৫ আগষ্ট নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুরে ইছামতি নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। প্রতিবছর বাংলা ভাদ্র মাসে ৮ তারিকে গণনা করে দাউদপুরের ইছামতি নদীতে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়।

গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে নৌকাবাইচ উৎসব অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী একটি খেলা। যুগযুগ ধরে প্রচলিত নৌকাবাইচ উৎসব সব বয়সের মানুষের কাছে সমানভাবে সমাদৃত হয়ে আসছে। কালের পরিক্রমায় অনেক কিছুর পরিবর্তন হলেও এখনো নৌকা বাইচ রয়ে গেছে, যদিও আগের সেই জৌলুস আর নেই। গ্রামের মানুষের পাশাপাশি শহরে মানুষের কাছেও নৌকা বাইচ আকর্ষণীয়।

প্রায় সত্তর বছর আগে নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর গ্রামের একটি হিন্দু জমিদার পরিবার প্রথম ইছামতি নদীতে নৌকা বাইচের প্রচলন শুরু করেন। এরপর থেকে প্রতিবছর এ নদীতে নৌকা বাইচের দেখো দেখি অন্যান্য এলাকায় আস্তে আস্তে নৌকা বাইচ প্রতিয়োগিতা চালু হয়।

ঢাকা দক্ষিণে সবচেয়ে বড় নৌকা বাইচ এটি। এই বাইচ দেখতে দূর-দুরান্ত থেকে লোকজন আসে। সারাবছর দাউদপুরে মানুষের আনাগোনা কম থাকলেও নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে লোকে লোকারন্য হয়।

নৌকা বাইচ দেখতে আসা উৎসুক হাজার হাজার মানুষ ভিড় করে এ গ্রামটিতে। দুপুর থেকে সন্ধা পর্যন্ত দাউদপুরের ইছামতি নদীতে রঙ বেরঙের শত শত নৌকার উপস্থিতি চোখে পড়ে।

দর্শকদের আনন্দ দিতে বাইচের নৌকার বর্নিল সাজে সাজানো হয় ছোট ছোট অনেক নৌকা। ওইসব নৌকায় এ অঞ্চলের সংস্কৃতি তুলে ধরা হয় নানা ভাবে।

এ বছর দাউদপুরের নৌকা বাইচে অংশগ্রহন করতে মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলা থেকে বড় বড় বাইচের নৌকা আসে।

সোনার তরী, মাসুদ রানা, খান বাড়ি, সোনার চাঁন, আল্লাহর দান এন্টার প্রাইজ, হাজারী তরী, রিয়াদ এন্টার প্রাইজ, পরণ তরী, মোল্লা, রাজ, ফকির বাড়ি, বাংলা গৌরব, গয়োন, তরী, জিন্দশাহ ভক্ত প্রভৃতি নামে বাহারি নৌকা আসে ইছামতি নদীতে। প্রত্যেকটি নৌকা দুইবার করে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করার সুযোগ পায়। এর মধ্যে থেকেই ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান নির্ধারন করে নৌকা বাইচ কমিটি বিজয়ী নৌকার মালিকদের হাতে কমিটির পক্ষ থেকে পুরষ্কার দেওয়া হয়।

নৌকা বাইচ কমিটি বাইচের সকল আয়োজন করে থাকে। দাউদপুর নৌকা বাইচ কমিটির সভাপতি কাওছার আহমেদ আক্কু জানান, দাউদপুরের নৌকা বাইচ ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে এ এলাকার মানুষের মধ্যে সম্পীতি ও এক্য গড়ে উঠেছে।

তিনি জানান, বাইচ উপলক্ষে আত্মীয় স্বজনরা বেড়াতে আসে প্রতি বছর। এটা একটি রীতিতে পরিনত হয়েছে। বাইচ উপলক্ষে ইছামতি পাড়ে বসে গ্রাম্য মেলা। নারী, পুরুষ, শিশুসহ সব বয়সী লোকজনের যেন ঢল নামে দাউদপুরের নৌকা বাইচে। ইছামতিপাড়ে আনন্দ উৎসবে পরিনত হয়।

জাতি-ধর্ম, বর্ষ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে পদ্মাপাড়ের ৩/৪ কিলোমিটার এলাকা জুরে। সেখানে শুধু নৌকার সারি। দর্শনাথীরা ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও স্পীড বোট নিয়ে উপভোগ করে নৌকাবাইচ। অনেকে এরমধ্য থেকে পুষিয়ে নেন নৌ-ভ্রমণের নির্মল আনন্দ।

দর্শনাথীরা নৌকায় আয়োজন করে খাবারদাবারের। দোহার-নবাবগঞ্জ এবং দেশের অন্য অন্য জায়গা থেকে আসা প্রায় ১ লক্ষ মানুষ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। বিকাল ৩টায় বাইচ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ১টা থেকে বাইচের এলাকা মুখরিত হয়ে যায় উৎসাহী জনতার আগমনে।

বাইচে আগত দর্শনাথীরা ঢোল, তবলা নিয়ে নেচে-গেয়ে এক বর্ণিল পরিবেশ সৃষ্টি করে এলাকাজুরে। দাউদপুর বাজার কমিটি ও শিকারীপাড়া ইউনিয়নের উদ্দগে ইছামতি নদীতে ২৫ই আগষ্ট অনুষ্ঠিত হয় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ২০১৩।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ঘাষি ও চৈরা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেন। এদের মধ্য ৬টি ঘাষি নৌকা এবং ৭টি চৈরা নৌকা বাইচে অংশগ্রহণ করে। ৬টি ঘাষি নৌকার মধ্য চ্যাম্পিয়ন হয় মাসুদ রানা-১, রার্নাস-আপ হয় খান বাড়ি, চ্যাম্পিয়ন নৌকাকে ফ্রিজ ও রার্নাস-আপ নৌকাকে ২১” কালার রঙ্গিন টেলিভিশন প্রদান করা হয়। বাকি ৪টি নৌকাকে ২১” কালার রঙ্গিন টেলিভিশন এবং ৭টি চৈরা নৌকার মধ্য চ্যাম্পিয়ন হয় শুকচাঁন তরী ও রিয়াদ এন্টার প্রাইজ ২টি নৌকাকে ফ্রিজ ও রার্নাস-আপ ৫টি নৌকাকে ২১” কালার রঙ্গিন টেলিভিশন প্রদান করা হয়।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী বদির মিয়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোজাম্মেল হক টিপু বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী, আলীমুর রহমান খান পিয়ারা চেয়ারম্যান শিকারীপাড়া ইউনিয়ন, আব্দুল্লাহ আল মামুন খান চেয়ারম্যান বারুয়াখালী ইউনিয়ন, পলাশ চৌধুরী চেয়ারম্যান নয়নশ্রী ইউনিয়ন, নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাইচ চেয়ারম্যান হান্নান, শেখ আব্দুস সালাম, নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আঃ মান্নান, মোসফিকুর রহমান, সন্তোষ প্রমুখ।

নয়াবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে আওয়ামী লীগের কর্মী

ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে আওয়ামী লীগের কর্মী রয়েছে অভিযোগে দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির নবগঠিত কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন।

নয়াবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আঃ ওয়াহেদ মিয়া অভিযোগ করে নিউজ৩৯কে বলেন, নবগঠিত কমিটিতে ৩ জন আওয়ামী লীগের লোক রয়েছে এবং যুগ্ন-সম্পাদক মোঃ শাহজাহান পত্তনদার (চিনু মাতবর) নয়াবাড়ী ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। যাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে তার এর আগে বিএনপির সাথে কোন যোগাযোগই ছিল না।

তিনি আরও বলেন, আগের কমিটি বিলুপ্ত করে নবগঠিত ৫১ সদস্যের যে কমিটি করা হয়েছে তার ৩৭ জন কমিটির কিছুই জানেন না। গোপনে কাউকে না জানিয়ে যে কমিটি করা হয়েছে আমরা তা মানি না।

জানা যায়, ২৭ আগষ্ট, মঙ্গলবার বিকাল ৫ টায় দোহার উপজেলার বাহ্রা বাজারে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আঃ ওয়াহেদ মিয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন খানের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় নবগঠিত কমিটির ৫১ সদস্যের ৩৭ জন উপস্থিত ছিলেন। তারা দোহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহাম্মেদ ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর বেপারীকে এই কমিটির অনুমোদন দেয়ায় তাদের ও কমিটির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ, নিন্দা ও ধিক্কার জানান।

প্রতিবাদ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম ভুলু, সেচ্ছাসেবকদলের কেন্দ্রীয় নেতা ওয়াহিদুর রহমান বানী, আব্দুল ওহাব মাষ্টার, হারুন অর রশিদ মাষ্টার, মুন্সী মোঃ মুনছের আলী, মোঃ আদালত খান, আঃ হাই হারেজ মাতবর, আঃ রাজ্জক, জামাল বেপারী, মোঃ হায়াত আলী, মোঃ ফজল মাতবর, মোঃ দলিল উদ্দিন মেম্বার, মোঃ ফজলু বেপারী, মবজেল হোসেন, জিএস সফি, আঃ মজিদ মাতবর, ইয়ার আলী মেম্বার, সামসুদ্দিন আহাম্মেদ মেম্বার, মহিউর রহমান প্রেস, মোঃ ইছাক ডাঃ, মোঃ মহন মিয়া, আঃ হালিম মাষ্টার, ক্যাপ্টেন আঃ হালিম, আঃ হাকিম মেম্বার, মশিউর রহমান সজীব, আমির উদ্দিন, হাসিনা ইসলাম, নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ, মোজাম্মেল হোসেন রুবেল, লূৎফর রহমান রতন, আলাউদ্দিন ভূইয়া, মোঃ ইলাহী, মোশারফ হোসেন মাতবর, বাদশা মল্লিক সহ নয়াবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।

 

পক্ষ ত্যাগ করায় ছাত্রদল নেতা প্রহৃত

নাজমুল হুদার পক্ষ ত্যাগ করায় মান্নান গ্রুপে যোগ দেয়ার কারনে বেহুদা মাইর খেলেন ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা ওরফে সেন্টু। তিনি সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের বাহ্রা গ্রামের নাজমুল হুদা পন্থী বিএনপি নেতা হারুন মাস্টারের বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তিনি এই হামলার স্বীকার হন।

সাবেক এই ছাত্রনেতাকে হামলার কারন হিসাবে স্থানীয় বিএনপির অর্ন্তকোন্দলই মূল কারন হিসাবে উঠে আসছে। নাজমুল হুদার ব্লকের সাথে রাজনীতি শুরু করা এই ছাত্রনেতা কিছু দিন আগে ঢাকা জেলা বিএনপি সভাপতি মান্নান গ্রুপে যোগ দেন।

আর কিছু দিন ধরে নাজমুল হুদা ফের বিএনপিতে সক্রিয় হওয়ার কারনে দোহার উপজেলার নাজমুল হুদা গ্রুপটি শক্তিশালী হয়ে উঠে।

অভিযোগ আছে স্থানীয় বিএনপি নেতা হারুন মাস্টারের ইন্ধোনেই তার উপর এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অংশ নেয় হারুন মাস্টারের ভাতিজা রবিন, ভাগিনা সেন্টুসহ স্থানীয় রাসেল, রনি, সাব্বিরসহ আরো অনেকে অংশ নেন।

এই সময় তিনি গুরুতর আহত হন এবং তাকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এদিকে আহত ছাত্রনেতা সেন্টুকে দেখতে বৃহস্পতিবার জাসাস এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন মোল্লা ও দোহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহবুদ্দিন আহম্মেদ সহ নেতা বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে দেখতে যান। এবং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও এর সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন। 

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত থানায় এই ব্যাপারে কোন মামলা নেয়া হয়নি।

নবাবগঞ্জে ইজিবাইক চালক ও মালিক সমিতির ৩ দফা দাবি

ঢাকার নবাবগঞ্জে উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল প্রতিবাদ সভা করেছে ইজিবাইক চালক ও মালিক সমিতি।  ২৫ আগষ্ট রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ৩ দফার দাবিতে তারা এ বিক্ষোভ করে। পরে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও ঢাকা পল্লী বিদ্যুত সমিতি ঢাকা-২ প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করে।

এ সময় বিক্ষোভকারী নেতা মোসফিক, সিদ্দিকুর রহমান ও আজাদ তাদের ৩ দফা তুলে ধরে বলেন, “আমরা ইজিবাইক চালিয়ে দিন যাপন করি। কিন্তু আমাদের মাসিক বিদ্যুৎ বিল বাণিজ্যিক হিসেবে দিতে হচ্ছে। যা আমাদের উপর জুলুম তাই আমরা আবাসিক বিদ্যুৎ বিলের দাবি, বিভিন্ন স্ট্যান্ডে পুলিশি চাদাঁ বন্ধ ও নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল প্রতিবাদ সভা করছি।”

এই সময় ঢাকা-বান্দুরা আঞ্চলিক মহাসড়ক যানবাহন চলাচল প্রায় ১ ঘন্টা বন্ধ থাকায় রাস্তার উভয়দিকের বিশাল যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আহবান জানান।

পরে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান নিজ উদ্যোগে বিক্ষোভকারীদের সাথ কথা বলেন। তাদের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা চলে যায়।

পরে বিক্ষোভকারিরা ঢাকা পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২ প্রধান ফটকে অবস্থান নিলে পুনরায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ খবর পেয়ে বিদ্যুত অফিসে চলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

এসময় ঢাকা পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২ জেনারেল ম্যানেজার এজেড এম আজাদের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর আগামী মাসের ১ তারিখে আলোচনায় বসার সিদ্বান্তের ভিতিত্বে আন্দোলনরত বিক্ষোকারীরা স্ব স্ব কাজে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

উপজেলা অটোরিক্সা মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কতৃপক্ষ আমাদের ন্যায্য দাবি মেনে না নিলে সামনে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা করা হবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান বলেন বিক্ষোভকারিদের সাথে ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে , আগামী ১ তারিখে বিদ্যুত অফিসের কর্মকর্তা ও থানা প্রসাশনের কর্মকর্তা, বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ত্রি-পক্ষীয় আলোচনায় বসার সিন্ধান্ত হয়েছে।

দাউদপুরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত

গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে নৌকাবাইচ অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী একটি খেলা। যুগযুগ ধরে ২৫ আগষ্ট নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুরে ইছামতি নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। প্রতিবছর বাংলা ভাদ্র মাসে ৮ তারিখে দাউদপুরের ইছামতি নদীতে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়।

জানা গেছে, প্রায় সত্তর বছর আগে নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর গ্রামের একটি হিন্দু জমিদার পরিবার প্রথম ইছামতি নদীতে নৌকা বাইচের প্রচলন শুরু করেন। ঢাকা দক্ষিনে সবচেয়ে বড় নৌকা বাইচ এটি। দাউদপুরের নৌকা বাইচ দেখতে দূর-দুরান্ত থেকে লোকজন আসে। দর্শকদের আনন্দ দিতে বাইচের নৌকার বর্নিল সাজে সাজানো হয় ছোট ছোট অনেক নৌকাকে। ওইসব নৌকায় এ অঞ্চলের সংস্কৃতলে নানা ভাবে তুলে ধরা হয়।

এ বছর দাউদপুরের নৌকা বাইচে অংশগ্রহন করতে মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলা থেকে বড় বড় বাইচের নৌকা আসে। সোনার তরী, মাসুদ রানা, খান বাড়ি, সোনার চাঁন, আল্লাহর দান এন্টার প্রাইজ, হাজারী তরী, রিয়াদ এন্টার প্রাইজ, পরণ তরী, মোল্লা, রাজ, ফকির বাড়ি, বাংলা গৌরব, গয়োন, তরী, জিন্দশাহ ভক্ত প্রভৃতি নামে বাহারি নৌকা আসে ইছামতি নদীতে। প্রত্যেকটি নৌকা দুইবার করে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করার সুযোগ পায়।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ঘাষি ও চৈরা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেন। এদের মধ্য ৬টি ঘাষি নৌকা এবং ৭টি চৈরা নৌকা বাইচে অংশগ্রহণ করে। ৬টি ঘাষি নৌকার মধ্য চ্যাম্পিয়ন হয় মাসুদ রানা-১, রার্নাস-আপ হয় খান বাড়ি, চ্যাম্পিয়ন নৌকাকে ফ্রিজ ও রার্নাস-আপ নৌকাকে ২১” কালার রঙ্গিন টেলিভিশন প্রদান করা হয়। বাকি ৪টি নৌকাকে ২১” কালার রঙ্গিন টেলিভিশন এবং ৭টি চৈরা নৌকার মধ্য চ্যাম্পিয়ন হয় শুকচাঁন তরী ও রিয়াদ এন্টার প্রাইজ ২টি নৌকাকে ফ্রিজ ও রার্নাস-আপ ৫টি নৌকাকে ২১” কালার রঙ্গিন টেলিভিশন প্রদান করা হয়।

দাউদপুর নৌকা বাইচ কমিটির সভাপতি কাওছার আহমেদ আক্কু জানান, দাউদপুরের নৌকা বাইচ ঐতিহ্যে পরিনত হয়েছে। নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে এ এলাকার মানুষের মধ্যে সম্পীতি ও এক্য গড়ে উঠেছে। তিনি জানান, বাইচ উপলক্ষে আতœীয় স্বজনরা বেড়াতে আসে প্রতি বছর। এটা একটি রীতিতে পরিনত হয়েছে। দাউদপুরের নৌকা বাইচের কথা অত্র এলাকার সবারই জানা। দাউদপুরের নৌকা বাইচ আমাদের ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্যকে আমরা যুগ যুগ ধরে লালন পালন করে আসছি। বাইচ উপলক্ষে ইছামতি পাড়ে বসে গ্রাম্য মেলা নারী, পুরুষ, শিশুসহ সব বয়সী লোকজনের যেন ঢল নামে দাউদপুরের নৌকা বাইচে। ইছামতিপাড়ে আনন্দ উৎসবে পরিনত হয়।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী বদির মিয়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোজাম্মেল হক টিপু বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী, আলীমুর রহমান খান পিয়ারা চেয়ারম্যান শিকারীপাড়া ইউনিয়ন, আব্দুল্লাহ আল মামুন খান চেয়ারম্যান বারুয়াখালী ইউনিয়ন, পলাশ চৌধুরী চেয়ারম্যান নয়নশ্রী ইউনিয়ন, নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাইচ চেয়ারম্যান হান্নান, শেখ আব্দুস সালাম, নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আঃ মান্নান, মোসফিকুর রহমান, সন্তোষ প্রমুখ।

পদ্মার ভাঙনে দোহারের মানচিত্র বদলে যাচ্ছে

ঢাকার দোহার উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের শত একর জমিসহ প্রায় চারশত ঘরবাড়ী পদ্মা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নষ্ট হয়েছে আবাদী ফসল, পনিতে ভেসে গেছে হাজার হাজার গাছপালা ও শত শত ঘরবাড়ী। কিছু কিছু ঘরবাড়ী অন্যত্র সরানো গেলেও যাদের পরিবারে পুরুষ লোকজন নেই তারা পাদ্মার হাত থেকে কিছুই রক্ষা করতে পারেনি । সরকারের আছে কোটি কোটি টাকার প্রজেক্টের নানান প্রতিশ্রুতি। বাস্তবে কিছুই পাচ্ছে না পদ্মার ভাঙ্গন কবলিত এলাকার অবহেলিত মানুষ। এ যেন এক নীরব বোবা কান্না।
এলাকাবাসীর ধারনা ভাঙ্গন প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অচিরেই উপজেলার নয়ারাড়ী, কুসুমহাটি, মাহমুদপুর, বিলাশপুর ও বিলাসপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম পদ্মায় গিলে ফেলবে। পদ্মার তীর ঘেষে গড়ে উঠা এই ৫টি ইউনিয়নের ভাঙ্গনের ফলে অনেকটা বদলে গেছে দোহারের মানচিত্র। ক্রমশই ছোট হয়ে আসছে দোহারের আয়তন ও ভৌগলিক অবস্থান।
কয়েকদিন ধরে পদ্মার পানি বৃদ্ধি, প্রচন্ড স্রোতে ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে দোহার উপজেলার সুতারপাড়া, বিলাসপুর, মাহমুদপুর, কুসুমহাটি ও নয়াবাড়ী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ভাঙ্গন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
গত বিশদিনে সুতারপাড়া ইউনিয়নের মধুরচর ও বিলাশপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর, চর বিলাসপুর, আলীনগর গ্রামের চার শতাধিক ঘরবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পদ্মার ভাঙ্গনে এ বছর নয়াবাড়ী, মাহমুদপুর ও কুসুমহাটি ইউনিয়নের অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। তবে দোহার উপজেলা প্রশাসনের কাছে এধরনের কোন তথ্যই নেই।
একমাত্র সম্বল ভিটে-মাটি ও মাঠের ফসলী জমি হারিয়ে কান্না আর আহাজারিতে দিশেহারা দোহার উপজেলার পদ্মা পারের মানুষ। ভাঙ্গনের শিকার পরিবারগুলো কোথায় থাকবে সেটা তারা জানে না। মাথা গুজার ঠাই না পেয়ে অনেকে মধুরচর রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে সেই বিদ্যালয়টিও নদী গর্ভে বীলিন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেকে আবার সহায় সম্বল নিয়ে উপজেলার আড়িয়াল বিল এলাকার দুবলী গ্রামে চলে গেছে। গত কয়েকদিনের অব্যাহত ভাঙ্গন হলেও তাদের সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা উপজেলা প্রশাসনের কেউ খোঁজ নিতে আসেনি বলে অভিযোগ করেন বিলাসপুরের আঃ মান্নান মুন্সি (৬৭)।
ভাঙ্গনের শিকার মধুরচর মধুরচর গ্রামের জরিনা বেগম (৫৯) বলেন, পদ্মার ভাঙ্গনে আমরা ভিটা-মাটি হারাইয়া রাস্তায় পইড়া গেলাম বাবা, কেউ তো আমাগো দেখতে আইলো না। আমারা এহন খোলা আকাশের নিচে দশদিন ধইরা পইরা আছি।
নয়াবাড়ীর নান্নু মিয়া (৫০) ঘরদরজা সরানো কাজে ব্যস্ত। তিনি বলেন, এই গ্রাম আওয়ামী লীগের ঘাটি। আমার আওয়ামী লীগ করতে করতে জীবন গেল। এই সাড়ে ৪ বছরের মধ্যে আমাদের সাথে আমাগো এমপি ও মন্ত্রী (আব্দুল মান্নান খান) দেখা করতেও আসে নাই। অসহায় মানুষের বর্তমানে থাকার জায়গাও নেই। তিনি ভিটেহারা মানুষ গুলোকে আশ্রয় দিতে সরকারের প্রতি দাবী জানান।
বিলাশপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা বলেন, গত ২০দিনে আমার ইউনিয়নের ৩টি মৌজার শত একর জমিসহ প্রায় তিনশত ঘরবাড়ী পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। আমার সাদ থাকলেও কিছুই দেয়ার সাধ্য নেই ভাঙ্গন কবলিত মানুষদের।

আমাকে নিয়ে খালেদার অনুতপ্ত হওয়া উচিত: নাজমুদ হুদা

সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ও দোহারের চারবারের সাবেক এমপি নাজমুল হুদা আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জয়ী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ২৭আগষ্ট মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
নাজমুল হুদা বলেন, আমাকে নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কোন ক্ষোভ থাকার কথা না; বরং তাঁর অনুতপ্ত হওয়া উচিত। কেননা, আমি প্রথম সংলাপের কথা বলে শাস্তি পেয়েছিলাম। এখন সবাই সংলাপের কথা বলছে। তাই আমি আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে বিজয়ী হতে চাই।

বিএনপি থেকে পদত্যাগ ও বহিষ্কার সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে নাজমুল হুদা দাবি করেন, ওই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি। তাই কমিটিতে না থাকলেও তিনি দলের প্রাথমিক সদস্য হিসেবে দলেই আছেন।
বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে নাজমুল হুদা বলেন, আমি তাদের সঙ্গে নেই। ওই দলটিও আমাকে বহিষ্কার করেছে। আমি বলতে চাই, আমি বিএনপির সঙ্গেই ছিলাম এবং সারা জীবন থাকবো।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের নভেম্বরে বিএনপি থেকে বের হয়ে নাজমুল হুদা বিএনএফ গঠন করেন।

ভূমিধ্বসে দিশেহারা পদ্মারপাড়ের মানুষ : রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিদর্শন

প্রকৃতির কাছে মানুষ যে কত অসহায় তা দোহারের পদ্মা পাড়ের মানুষের  বর্নণাতীত কষ্ট না দেখলে বোঝা যায় না। জীবনের একমাত্র সহায় সম্বল ভিটে মাটি হারিয়ে যখন স্বাভাবিক অবস্থা সম্পন্ন মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, হয়ে যায় উদ্বাস্তু সে কষ্ট অনুভবের ক্ষমতা তাদের নেই যারা কোনদিন তা দেখেনি। এমনি জীবন সংগ্রামে আজ দিশেহারা দোহারের পদ্মা পাড়ের মানুষ।

বছর বছর প্রতিশ্রুতি আসে, হয়তো আসে ২/১ দিন চলার মতো ত্রাণ, তারপর যার জীবন তাকেই সংগ্রাম করতে হয়,  হারিয়ে যায় লোক দেখানো এসব উন্নয়ন পরিকল্পনা।

ইতোমধ্যে নারিশা ও সুতারপাড়া ইউনিয়নের বেশ কিছু জমি পদ্মার প্রবল থাবায় বিলীন হয়ে গেছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছে এলাকার মানুষ। প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে এলাকার বসত বাড়িসহ মূল্যবান সম্পত্তি। এ অঞ্চলের অধিকাংশ লোক জলভূমির উপর নির্ভর করে জীবন যাপন করে থাকে। কেউ মাছ ধরে, কেউবা আবার খেয়া পারাপার করে থাকে। এখন তাদের বসতবাড়ি হারিয়ে তারা কোথায় যাবে এমন প্রশ্ন সকলের চোখে মুখে।

রবিবার দুপুরে মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল এন্ড কলেজের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একটি পরিদর্শন দল দুর্ঘটনা প্রবণ অঞ্চলে পরিদর্শনে যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণে।

এলাকাবাসী ও এলাকার বিশিষ্টজনেরা মনে করেন, সরকারের পক্ষ থেকে এখনই কোন পদক্ষেপ না নিলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিলীন হয়ে যেতে পারে মেঘুলা বাজারসহ আশপাশের এলাকা, ক্ষতিগ্রস্থ হবে এলাকার উন্নয়ন।

দোহার নবাবগঞ্জের সাধারণ মানুষের সেবাই আমার প্রধান লক্ষ্য: সালমা ইসলাম

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য, যুগান্তর সম্পাদক ও প্রকাশক, যমুনা গ্রুপের পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, দোহার-নবাবগঞ্জের সাধারণ মানুষের সেবা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাই আমার প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের সব ষড়যন্ত্রের ঊর্ধে থেকে দেশ ও গণতন্ত্রের কথা চিন্তা করা উচিত। দেশ ও দেশের বাইরে এখন নানা ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করা হয়ছে।

নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে দেশ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের আস্থা অর্জন করার জন্য পরামর্শ দেন। জাতীয় পার্টির প্রতি মানুষের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে উলখে করে তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক তৎপরতা সুসংগঠিত করে জাতীয় পার্টিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুক্রবার ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে ঈদ-পুনমর্লিন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

নবাবগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে কলাকোপা ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির সভাপতি নুরুল ইসলামের সভাপত্বিত্বে ঈদ-পুনমিলন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে ১৪টি ইউনিয়নের জাতীয় পাটর্রি হাজার হাজার নেতাকর্মী ঈদ-পুনমর্লিন অনুষ্ঠানে জড়ো হয়ে কুশল বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, দুর্নীতি আর দুঃশাসনের রামরাজত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অন্যায়, অনিয়ম ও নির্যাতন প্রতিহত করে বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। জনগণ এখন সচেতন। আগামী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে জনগণ সমুচিত জবাব দেবে। তিনি আরও বলেন, জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে সিটি নির্বাচনে। সামনে কঠিন দিন। গণতন্ত্রের ধারায় এগিয়ে আসুন। সারাদেশে সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত রেখে আগামীতে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায় জাতীয় পার্টি। তাই সব নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে তৃণমূলে সাংগঠনিক তৎপরতা সুসংগঠিত করে জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, যেভাবে নবাবগঞ্জের কৃতী সন্তান, যমুনা গ্র“পের চেয়ারম্যান, স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট শিল্পপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বাবুল এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চান। রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট ও গ্যাস সংযোগ থেকে শুরু করে উপজেলাকে আধুনিক শহরে পরিণত করতে চান।

ঢাকা থেকে সফরসঙ্গী হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মো. নুরুল ইসলাম নুরু, জাতীয় ছাত্রসমাজের আহ্বায়ক মশিউর রহমান, জাতীয় পার্টি ক্যান্টনমেন্ট থানার সভাপতি মো. ইব্রাহীম মিয়া, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সভাপতি মনির সরকার, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার সভাপতি শাকিল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক লাইজু ইসলাম লাইজু, মো. আজমত উলাহ, সোহেল রহমান, অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর আলম, জিয়াউল হক জুয়েল, দেওয়ান আনিসুর রহমান, এসএম আকাশ, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. মজিবুর রহমান, মো. আলমগীর হোসেন, আল-মামুন মানিক, তাপস মণ্ডল প্রমুখ। এছাড়া নবাবগঞ্জের স্থানীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলার সদস্য সচিব শরফুদ্দিন আহমেদ শরীফ, উপজেলা জাতীয় পার্টি যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার নুরুল আনোয়ার বেলাল, হুমায়ুন কবির, জুয়েল আহমেদ, মো. খলিলুর রহমান, দেওয়ান কফিল উদ্দিন মেম্বারসহ জাতীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনে নূরপুরে রাস্তায় ধ্বস

ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের জয়পাড়া থানার মোড় থেকে আসা রাস্তা পশ্চিম নূরপুর ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে অপরিকল্পিতি ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে প্রায় ৪ ফুট নদীতে ধ্বসে যায়।

১৫আগষ্ট বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এই ধ্বসের সৃষ্টি হয়। এসময় ধ্বসের কারনে সড়কটি দিয়ে ভারি যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীরা বাঁশের বেড়া, বাঁশ ও বালুর বস্তা দিয়ে রাস্তাটি অস্থায়ীভাবে মেরামতের চেষ্টা চালায়।

স্থানীয়রা জানায়, অপরিকল্পিতি ভাবে ড্রেজার দিয়ে বানিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন, নদীর গভীরতা বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে পানির প্রবল স্রেতের তোড়ে উপজেলার এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ন রাস্তাটির ধ্বস হয়।

অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজা মোল্লা দীর্ঘদিন যাবৎ এই নদী থেকে অনেক গভীর করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে থাকে। কিছুদিন আগে ড্রেজারটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। কিন্তু ড্রেজার সরিয়ে নেয়া হলেও নদীর গভীরতা থাকায় নদীর পানি ঘুরপাক খাচ্ছে। আরো কয়েকটি স্থানে রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে স্থানীয়রা খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছেন। দ্রুত রাস্তাটির সংস্কার করা না হলে ভোগান্তিতে পরবে এলাকার সাধারন মানুষ।

ধ্বসের পর দোহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ধ্বসে পরা রাস্তার পাশের জমির মালিক দুলাল মাতবর বলেন, স্রোতের কারনে এই রাস্তাটি ভেঙ্গে যায়। বালু উত্তোলন আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।