কোন অবস্থাতেই নির্দলীয় সরকার ছাড়া নির্বাচন হতে দেয়া হবে না : হুদা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)এর প্রতিষ্ঠাতা কালিন স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দোহারের জনপ্রিয় নেতা সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা বলেছেন, কোন অবস্থাতেই বাংলাদেশের মাটিতে নির্দলীয় সরকার ছাড়া কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। বিএনপি আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশী জনপ্রিয় দল। আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশী বার ক্ষমতায় ছিল বিএনপি। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন জনগন ভোটের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেবে কোন দল বেশী জনপ্রিয়। বিএনপি কে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে বিশ্বের কেউ তা মেনে নিবে না।

২৩আগষ্ট শুক্রবার বিকেলে ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের মেঘুলায় সতীর্থ ও স্বজনদের সাথে মত বিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্পেন বিএনপির সভাপতি মাসুদ আহসান।

নাজমুল হুদা চ্যালেঞ্জ করে বলেন, আমি দেখতে চাই কে আমাকে ছাড়া দোহার-নবাবগঞ্জে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে আসে। দোহার-নবাবগঞ্জে ধানের শীষ আমার হাতেই নিরাপদ। ম্যাডাম আমাকে যে ভাবে চেনেন, কোন নেতাই আমাকে সে ভাবে চেনেন না।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে হুদা বলেন, সংবিধান থেকে এক চুলও নড়চড় হবে না যে বলেন, আপনি কেন কিছুদিন আগে সংবিধান নড়ালেন? আগের সংবিধানে ফিরে আসুন, সবাই তা মেনে নিবে। আমি আশা করবো আপনি আপনার দলের নেতাদের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিবেন কি ভাবে নির্বাচন দেয়া যায়। জনগনকে কষ্ট দিবেন না।
হুদা বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষ আমাকে ভালোবাসেন, তাদের ভালোবাসাই আমার মূল শক্তি। শহীদ জিয়া বাংলাদেশের বহুদলীয় গনতন্ত্র চালু করেছেন। তিনি এই দেশের মানুষের ৫টি মৌলিক চাহিদা পূরনের জন্য রাজনীতি করেছেন। আমিও তারই আদর্শে রাজনীতি করতে চাই।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কন্ঠ শিল্পী হাসান চৌধুরী, আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কামরুল হুদা, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন-সম্পাদক কেএম খালেকুজ্জমান জুয়েল, ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এমএ সাত্তার, সাবেক নারিশা ইউপি চেয়ারম্যান জালাল মোড়ল, বিএনপি নেতা আঃ সালাম বেপারী, আবুল হাসনাত, ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাসুদ পারভেজ, দোহার উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন হিটু মোল্লা, দোহার উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল হাসেম, সাধারন সম্পাদক জিএস সেন্টু ভূইয়া, জাসাস নেতা বজলুর রহমান পপি, জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখার সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি নূর-সালাম, যুবদল নেতা মিরাজ খালাসী, লূৎফর শিকদার, ছাত্রনেতা এটিম ফেরদৌস প্রমুখ।

হুদার সুজন সম্প্রীতি সভা

শুক্রবার বিকাল ৩ টায় মেঘুলা বাজারে জাসাস, স্পেন শাখার সভাপতি মাসুদ আহসানের সভাপতিত্বে এক সুজন সম্প্রীতি সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভাটি পূণর্মিলনী এবং সুজন সম্প্রীতি সভা হলেও মূলত আগামী নির্বাচন এবং রাজনৈতিক ইস্যু ভিত্তিক সভা বলে অনেকের অভিমত।

বিএনপি’র দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি কোন আসন হারাতে চায় না, তাই সম্প্রতী অতি গোপনীয়তার সাথে জনপ্রিয় ও যোগ্য প্রার্থীর খোঁজে ইতিমধ্যেই সারা দেশে তৃণমূলের মতামত চাওয়া হয়েছে । তাই তৃণমূলে প্রভাব বিস্তার ও সমর্থন আদায়ে করণীয় ঠিক করতে এই সভায় নতুন-পুরাতনদের একটি সক্রিয় সভা।

এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ও বিএনপি’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ব্যাঃ নাজমুল হুদা, বিশেষ অতিথি থাকবেন ঢাকা জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি কামরুল হুদা, জাসাসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক কে এম খালেকুজ্জামান জুয়েল, জাসাসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগাঠনিক সম্পাদক গায়ক হাসান চৌধুরী, ঢাকা জেলা মৎসজীবি দলের আহবায়ক সাইফুল ইসলাম সহ নাজমুল হুদার রাজনৈতিক সহ-কর্মি, শুভাকাংখী ও বর্তমান – পুরাতন সহচরেরা।

শিলাকোঠায় স্কুলে মাদকের আড্ডা

ঢাকার দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের ৭নং শিলাকোঠা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাথে কিছু বখাটে ও নেশাখোরদের  আনাগোনা দিন দিন বেড়েই চলছে।
১৭আগষ্ট শনিবার বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেনী কক্ষের তালার মধ্যে কে বা কারা আঠা জাতীয় পদার্থ, কাঠের টুকরা ঠুকিয়ে অকেজো করে রাখে। সকালে বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০০ কমোলমতি শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে আসলে দেখতে পায় প্রতিটি কক্ষের তালাই খোলা যাচ্ছে না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শাহ মনিরুল ইসলাম চিশ্তীকে জানায়। সভাপতি পুলিশকে খবর দিলে চর মোহাম্মদ পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই দেওয়ান জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থান পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। পরে স্কুলের প্রতিটা কক্ষের তালা ভেঙ্গে বাচ্চাদের ক্লাস নেয়া হয়।

উল্লেখ্য ১৩ আগষ্টে বিদ্যালয়ের ৩টি কক্ষের তালায় একই অবস্থা করে রাখে বহিরাগত নেশাখোরেরা। এর আগে স্কুলে কয়েকবার স্কুলে চুরির ঘটনা ঘটে। তখন দোহার থানায় একটি অভিযোগও করা হয়।

এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রেজাউল হক বলেন, স্কুলে বাউন্ডারী ও নাইটগার্ড না থাকায় কিছু বহিরাগত ও নেশাখোর লোকজন রাতে স্কুলে এসে আড্ডা দেয়। তারাই মাঝে মাঝে চুরি ও বিদ্যালয়ের ক্ষতি সাধন করে থাকে। বিদ্যালয়ে একজন নাইটগার্ড অতি জরুরী।

নেতৃত্বশূণ্য দোহার আর আমাদের অসহায় আকুতি

0

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, রাজনীতির মাঠ ততটাই ঘোলাটে হচ্ছে। চাপা থাকা অন্তঃদন্দ্ব বিস্ফারণ ইতোমধ্যে দোহারের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ঐক্যবদ্ধ দলের দাবি করলেও বাস্তবে আওয়ামীলীগ বি এনপি কয়েক খন্ডে বিভক্ত, দিকভ্রান্ত নেতা-কর্মী আর যোগ্য নেতৃত্বের বঞ্চনায় বিরক্ত আমজনতা।

মূলত দোহার বি এন পি র একচ্ছত্র নেতৃত্বদানকারী সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার সাম্প্রতিক কর্মকান্ড, বি এন এফ প্রতিষ্ঠা দলে তার পূর্বের শক্ত অবস্থান চুত্যির অন্যতম প্রধান কারন, যা হুদার সাথে সাথে দোহার বি এন পি র নেতৃত্বকেকে পরিনত করেছে দিকভ্রান্ত মরুচারিতে। রাজনৈতিক স্টান্টবাজিতে যে যত জোর দিয়েই দাবি করুক না কেন, দোহারের অধিকাংশ জনগণ বর্তমান বিএনপিতে নাজমুল হুদার উত্তরসূরি কাউকে খুজে পাচ্ছেন না।
হুদার বিকল্প হিসাবে খুজতে গেলে তরুন- প্রবীন যাদের নাম প্রথমে ভেসে উঠে তাহারা দোহারের আলো বাতাসে বেড়ে উঠা কেউ নয়। দোহার-নবাবগঞ্জ একটি আসনের বদৌলতে বি এন পির মনোনয়ন যে দোহার থেকে কেউ পাচ্ছে না, তা দিবালোকের মত স্পট। সেই ক্ষেত্রে বি এন পির প্রার্থী হিসাবে নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আশফাক নয়, ঢাকা জেলা বি এন পি সভাপতি আব্দুল মান্নানই এগিয়ে আছেন।

বর্তমান সরকারের আমলে আমাদের বর্তমান জনপ্রতিনিধি এলাকার উন্নয়নে কতটুকু মনোনবেশ করেছেন, কতটুকু জনতুষ্টি লাভে সক্ষম তার বিশ্লেষণ করা এই লেখার উদ্দেশ্য নয়,সময় সুযোগ হলে পরবর্তীততে লিখব।

কিন্তু তিনি যে দোহার আওয়ামীলীগকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে চরম ব্যার্থতার পরিচয় দিয়াছেন, সেটা অসত্য নয়। আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনার পরম আস্থা ভাজন হিসেবে সুপরিচিত পূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান মনোনয়নের দৌড়ে নূর আলীকে পিছনে ফেলতে পারবেন কি না, সেটা এখন লাখ টাকার উত্তর।

জাতীয় নির্বাচনে একাধিকবার প্রতিদ্বন্দীকারী নূর আলী অপেক্ষাকৃত অধিক ভোটার এলাকার বাসিন্দা হওয়া ছাড়াও তিনি নেত্রীর সুবিবেচনাধিনও বটে। এছাড়া জনপ্রিয় আওয়ামীলীগ নেতা মাহবুবুর রহামান, মান্নান খান বা নূর আলীকে ডিঙিয়ে মনোনয়ন বগলদাবা করতে পারার দিবাস্বপ্ন দেখতে আমি রাজি নই। তবে শেখ হাসিনার বানিজ্য উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান যদি এই আসন থেকে নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, সেই ক্ষেত্রে হিসাব পাল্টে যেতে পারে।

কিন্তু তিনি আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কোন গুজব এখনো দোহার-নবাবগঞ্জের বাতাসে শুনা যাচ্ছে না। তাই এখন পর্যন্ত নূর আলীকেই প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে রাখতে চাই।
অন্যদিকে ঢাকা-১ আসনের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদায়, সংরক্ষিত মহিল এমপি এড. সালমা ইসলাম অন্যতম প্রার্থী। সিদ্ধান্তহীন এরাশাদ শেষ পর্যন্ত যেই জোটেই যোগ দিক বা একক ভাবে নির্বাচন করুক, নবাবগঞ্জ বাসী সালমা ইসলামের মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত। আবেগে অনুপ্রানিত হয়ে অনেকে সতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার জয়ের স্বপ্ন দেখলেও, বাস্তবতা অনেক বৈরী।

রাজনীতির সুক্ষ্ম মারপ্যাঁচ, জটিল হিসাব নিকাশ, জনপ্রিয়তার দম্ভ ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে যেভাবেই চিন্তা করি না কেন, আমার চোখের সামনে একটাই ছবি বার বার ভেসে উঠে….”নেতৃত্বশুন্য দোহার আর আমাদের অসহায় আকুতি।”

কার্টেসি: Friendzz N Enemizz

কমরেড আব্বাসের মৃত্যূবার্ষিকীতে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের পুরোধা বিপ্লবী বাম নেতা কমরেড খন্দকার আলী আব্বাস ছিলেন ঘুণে ধরা সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তনের যোদ্ধা। দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকীতে শনিবার বিকাল ৪টায় নবাবগঞ্জ লাল বারান্দা চত্বরে আয়োজিত স্মরণ সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা জেলা সম্পাদক সেকান্দার হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, নারী নেত্রী বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, সাংবাদিক আজহারুল হক, জালাল উদ্দিন, জুয়েল মাহমুদ ও জাকির হোসেন প্রমুখ।

স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় আলী আব্বাস ছিলেন আপোষহীন বিপ্লবী। জেল জুলুম হুলিয়াকে উপেক্ষা করে সত্তরের দশকে ১০ বছর আত্মগোপনে থেকে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। সাম্রাজ্যবাদ, সমান্তবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও দূবৃর্ত্তায়ন মুক্ত করতে লোভ লালসার উর্দ্ধে থেকে কাজ করেছেন। নতুন প্রজম্মকে তার আর্দশ ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে।

খন্দকার আলী আব্বাস তার রাজনৈতিক জীবনে মাওলানা ভাষানীর জাতীয় কৃষক সমিতি, সাম্যবাদীদলের সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

বর্ষা মৌসুমে দোহার-নবাবগঞ্জে বসেছে কোষা নৌকার হাট

দোহার-নবাবগঞ্জের নিচু এলাকায় বর্ষার মৌসুমে ঘর থেকে বের হলেই প্রয়োজন হয় নৌকার। আবহমানকাল থেকে বর্ষার মৌসুমে কোষা নৌকা ব্যবহার করে আসছে। নাগরিক জীবনে এ কারণে কদর বেড়ে যায় কাঠের তৈরি এ যানটির। জণমগ্ন হয়ে পড়ছে দোহার-নবাবগঞ্জের নিচু এলাকার খাল-বিল ও নদী-নালা। বর্ষার পানিতে যখন খাল-বিল ও বাড়ির চারপাশ থৈ থৈ করে তখন মানুষজন কোষা নৌকার মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে।

বর্ষাকালে নিচু এলাকায় বসবাসকারী লাখো মানুষের চলাচলে এ সময়ে নৌকা গুরুত্ব অপরিসীম। বর্ষার পানিতে প্লাবিত এসব এলাকায় যাত্রায়াত ও কৃষিপণ্য বহনে কোষা নৌকাই একমাত্র ভরসা। তাই ঐ সব এলাকায় নৌকার কদরও এখন বেড়ে গেছে। ফলে দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে কোষা নৌকার হাট। বর্ষার কারণে নৌকা তৈরীতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগররা। রাত-দিন পরিশ্রম করে তারা তৈরী করছেন ছোট-বড় নৌকা। কোষা নৌকা নির্মাণ, বিপণন ও ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে দুই উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার।

পদ্মা পানিতে প্লাবিত হওয়া নিচু ভূমি বর্ষার মৌসুমে একমাত্র চলাচলের বাহন হিসাবে স্থান পায় কোষা নৌকা। তাই এ মৌসুমে দোহার-নবাবগঞ্জের নৌকা কারিগরদের নৌকা তৈরী ও ক্রয়-বিক্রয়ের কার্যক্রমকে ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে জীবন-জীবিকা। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, নবাবগঞ্জ উপজেলার ব্রাক্ষ্রাখালী গ্রামের কাঠ মিন্ত্রিরা দিনের সবটুকু সময়ই ব্যায় করছেন নৌকা তৈরির কাজে। ঘামঝরা পরিশ্রম করে দিনে ২/৩ টি নৌকা তৈরি করছেন তারা। দুই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও রাস্তার পাশে এখন নৌকা বিক্রি করতে দেখো যাচ্ছে এছারা দোহার-নবাবগঞ্জের বিশেষ বিশেষ কয়েকটি হাটবাজারে এ নৌকা বিক্রির ধুম পড়ে যায় বর্ষা আসার সঙ্গে সঙ্গে। বর্তমানে রাস্তাঘাট বৃদ্ধি ও পানি কম হওয়ায় এর নির্মাণ ও ব্যবহার কমে আসছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে এ নৌকার ব্যবহার কমলেও এ পেশার সঙ্গে সংশিষ্টদের টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করার দাবি জানিয়েছে নির্মাণকারীরা। নির্মাতারা জানান, বর্তমানে কোষা তৈরির গাছগুলো বিলুপ্ত হওয়ায় রেইনট্রি, কড়ই, চাম্বুল ইত্যাদি গাছের কাঠ দিয়ে বেশিভাগ কোষা তৈরি করা হয়। ব্রাক্ষনখালী গ্রামের কাঠমিস্ত্রিরা জানান, তারা জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরু থেকে কোষা তৈরির কাজ করেন। জারলি, গোয়ারা, পউয়া বা উড়িয়া আম কাঠের একেকটি কোষা তৈরি করতে ১ দিন সময় লাগে। প্রকার ভেদে বিক্রি করা হয় ২-৮ হাজার টাকা। প্রতি শুক্রবার বারুয়াখালীর হাটে এ কোষা নৌকা গুলো বিক্রি করা হয়। ব্রাক্ষনখালী গ্রামের  গ্রামের ২ জন জানান, ভালো কাঠ না থাকায় তারা কড়ই ও চাম্বুল কাঠ দিয়ে কোষা তৈরি করছেন। একটি কোষা তৈরি করতে ৫০০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়।
বারুয়াখালীর হাট বাজার কমিটির সভাপতি শাহিন ভূইয়া জানান, প্রতি শুক্রবার বারুয়াখালীর হাটে ১০০ থেকে ১৫০ কোষা নৌকা বিক্রি হয়। নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, কোষা নৌকা নির্মাণ ও ব্যবহারের সুদীর্ঘকালের ঐতিহ্য রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এ বাহনকে ধরে রাখতে এবং নির্মাণ শ্রমিকদের টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই কোষা নৌকাসহ নির্মাণ শ্রমিকদের অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

দোহার প্রেস ক্লাবের সম্পাদককে হত্যার চেষ্টা: নিউজ৩৯ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

ঢাকার জেলার দোহার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান টিপু (৪০) কে হত্যার চেষ্টা করেছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। গুরুত্বর আহত অবস্থায় সে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে উপজেলা সদর জয়পাড়া থেকে মালিকান্দা নিজ বাড়ি ফেরার পথে বসত বাড়ির সামনে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।

হামলাকারী সন্ত্রাসীরা হলেন, উপজেলার মালিকান্দা গ্রামের মৃত আ: মোন্নাফের ছেলে আজিজুর রহমান (৫৫), একই গ্রামের মৃত ইখলাসের ছেলে ইমন খান (২৮) ও ঝনকি গ্রামের মৃত আব্দুল হান্নানের ছেলে সোহেল (৩০)। ঘটনার দিন রাতেই আজিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে দোহার থানা পুলিশ ।

আহত সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান টিপু নিউজ৩৯ জানান, সাংবাদিকতার কাজ শেষে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে জয়পাড়া বাজার থেকে মোটর সাইকেল যোগে মালিকান্দা নিজ বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির সামনে গেলে রাস্তার পাশে আগে থেকে উৎপেতে থাকা সন্ত্রাসী আজিজুর রহমান, ইমন খান ও সোহেলসহ আরো ৫/৬ জন সন্ত্রাসী মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে তাকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। পরে তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে। এসময় সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকালে সে চিৎকার দেয়। তার ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।

তিনি আরো জানান, তার সাথে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। ঘটনার আগে মোবাইলের মাধ্যমে তাকে ঐ ব্যক্তিরা হত্যার হুমকী দিয়েছিল।
দোহার থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নিউজ৩৯কে জানান, এব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।

অন্যদিকে, দোহার প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মাহাবুবুর রহমানের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিউজ৩৯ জরুরী সভা ডেকে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সাথে এ রকম ঘটনা যেন কখনোই না ঘটে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

নবাবগঞ্জে ভূমিবল সমাজ পার্টির কমিটি গঠণ

“জাত-পাত নিপাত যাক, মানবতা মুক্তি পাক” এই স্লোগান ধারণ করে দলিত, আদিবাসী, বঞ্চিত, পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীদের নিয়ে পরিচালিত রাজনৈতিক সংগঠন ভূমিবল সমাজ পার্টির ঢাকা জেলা ও নবাবগঞ্জ উপজেলা কমিটি গঠণ করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় নবাবগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রখোলায় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কমিটি গঠণ করা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী রুহিদাস হালদারের সভাপতিত্বে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. সূধীর চন্দ্র বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক পন্ডিত বলরাম কির্তনীয়া, ননী গোপাল পাল প্রমূখ। নগেন চন্দ্র বিশ্বাসকে সভাপতি ও রাধেশ্যাম বাড়ৈকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট ঢাকা জেলা কমিটি এবং বাবু দুধেশ্বরকে সভাপতি ও রঞ্জিত সরকারকে সাধারণ সম্পাদক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট নবাবগঞ্জ উপজেলা কমিটি গঠণ করা হয়।

আমার হাত দিয়েই পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করা হবে : হুদা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)এর প্রতিষ্ঠাতাকালীন স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা বলেছেন, আবার ক্ষমতায় গেলে আমার হাত দিয়েই পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করা হবে। আমি পদ্মা সেতুর জন্যে জমি অধিগ্রহন করেছিলাম। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় না আসার কারনে এবং বর্তমান সরকারের পদ্মা সেতু নিয়ে একের পর এক দূর্নীতির কারণে পদ্মা সেতু করতে পারেনি। অথচ পদ্মা সেতুর নির্মান কাজ ২০০৮ সালে শুরু হয়ে ২০১২ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

১১আগষ্ট রবিবার বিকালে ঢাকার দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের শিলাকোঠা বাংলাবাজারে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন। তিনি উপজেলার ১৯টি স্থানে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ও ১টি শোক সভায় বক্তব্য রাখেন। প্রতিটি অনুষ্ঠানে বৃষ্টি অপেক্ষা করে শত শত মানুষ অংশগ্রহন করেন।

নাজমুল হুদা বলেন, এই অঞ্চল আমার ঘাটি। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন আমাকে ছাড়া দোহার-নবাবগঞ্জে কেউ ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে আপনাদের সামনে আসতে পারবে না। একটি মহল আমাকে নিয়ে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে। তাদের সব কিছুর জবাবই দিব আমি যেদিন ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে আসব। ধানের শীষ আমার প্রতিক, দলের প্রতিক ও দেশের প্রতিক। আগামীতে দোহার উপজেলা বিএনপিকে আরো সংগঠিত ও ঐক্যবধ্য করে গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরো বলেন বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর আমার সকল ওয়াদা পূরন করতে পেরেছি। শুধু মাত্র একটি ইচ্ছা আমার আগামীতে আমি দোহারে গ্যাস লাইন চালু করবো। দোহার কে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ এবং মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো।
হুদা বলেন, ক্ষমতায় গেলে যে সকল কৃষক ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ দোহারের পদ্মার ভাঙ্গনের কবলে যারা কৃষি জমি হারিয়েছেন তাদের কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে। পদ্মার ভাঙ্গন থেকে দোহার উপজেলাকে রক্ষা করার জন্যে স্থায়ী ভাবে বাধ দেয়া হবে। প্রয়োজন হলে বিদেশ থেকে প্রকৌশলী এনে পদ্মা রক্ষার জন্যে ব্যবস্থা গ্রহান করা হবে।
নাজমুল হুদা দোহারবাসীকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কামরুল হুদা, দোহার উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম মেসের, বিএনপি নেতা আব্দুল হালিম চেয়ারম্যান, আব্দুল ওয়াহেদ মেম্বার, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন-সম্পাদক জাহাঙ্গীর বেপারী, ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাসুদ পারভেজ, দোহার উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন হিটু মোল্লা, দোহার উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল হাসেম, সাধারন সম্পাদক জিএস সেন্টু ভূইয়া, জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখার সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফ আলী খাঁন, শাখাওয়াত হোসেন বিদ্যুৎ, ছাত্রনেতা জুলহাস উদ্দিন, যুবদল নেতা লূৎফর শিকদার, আয়নাল হক মেম্বার, মোন্নাফ মন্ডল, নূরুল ইসলাম মেম্বার, মোশারফ হোসেন বেপারী, শহিদুল ইসলাম শিকদার, আবুল বাশার বিশ্বাস, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রতন, ছাত্রনেতা এটিম ফেরদৌস, যুবনেতা মজিবর, খালেক প্রমুখ।

নবাবগঞ্জে গৃহবধূ হত্যার অভিযোগ: গ্রেপ্তার ২

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় নামের এক গৃহবধূকে এসিড ঝলসে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৪ আগষ্ট মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে শিকারীপাড়া ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রাম থেকে আরজিনা বেগম (২৩) ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ।

পরে ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার দুপুরে লাশ মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী মো. ফারুক মিস্ত্রী (৫৫) ও তার প্রতিবেশী মো. দাউদ খান (৩০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে আরজিনা বেগমের স্বামী ফারুক মিস্ত্রী চিৎকার করে। এলাকাবাসী এসে ঘরের মেঝেতে গৃহবধুর শরীর ঝলসানো লাশ পরে থাকতে দেখে। বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে জানায়। রাত ১টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে থানায় নিয়ে আসে।

নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. রাকিবুল জানান, লাশের মাথা থেকে উপরের অংশ ঝলসানো। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মাথা থেকে পেট পর্যন্ত এসিডে ঝলসে দেয়া হয়েছে।

নিহতের বাবা ফালু বেপারি বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে এসিড ঢেলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিহত গৃহবধু আরজিনা ফারুকের তৃতীয় স্ত্রী। তার প্রথম স্ত্রীকেও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে।