দোহার-নবাবগঞ্জ আলাদা আসন হবার পথ খুলল: সীমানা পুনর্নির্ধারণ অধ্যাদেশ অনুমোদন

এম এইচ কবির, ঢাকা: দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দোহার ও নবাবগঞ্জ নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন পুনর্গঠনের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সংশোধিত সীমানা পুনর্নির্ধারণ অধ্যাদেশ অনুমোদন করা হয়েছে। বৈঠক শেষে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এ তথ্য সাংবাদিকদের জানান।

তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজ চালিয়ে যেতে পারছিল না। কমিশনের অনুরোধে এ সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন গেজেট প্রকাশের পর কমিশন সাংবিধানিকভাবে সীমানা পুনর্নির্ধারণ কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।”

মঙ্গলবার (৬ মে) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

অধ্যাদেশটি অনুমোদনের পর দোহার ও নবাবগঞ্জ সংসদীয় আসন পুনরুদ্ধার কমিটির আহ্বায়ক মো. হুমায়ূন কবীর নিউজ৩৯কে বলেন, “সাবেক নির্বাচন কমিশন কার্যত এই প্রক্রিয়া বন্ধ করে রেখেছিল। তবে বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিষয়টিতে আন্তরিকতা দেখিয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “আমরা ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনে আবেদন জমা দিয়েছি। আশা করি, নতুন আইন কার্যকর হলে দোহারকে নিয়ে ঢাকা-১ এবং নবাবগঞ্জকে নিয়ে ঢাকা-২ সংসদীয় আসন পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে।”

এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই উপজেলার জনগণের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধু গেজেট প্রকাশ ও পরবর্তী কার্যক্রম শুরুর।

আসন পুনরুদ্ধার কমিটির সদস্য সচিব মো রাসেল আহমেদ নিউজ৩৯কে জানান, “আলহামদুলিল্লাহ, উপদেষ্টা পরিষদে সংশোধিত সীমানা পুনর্নির্ধারণ অধ্যাদেশ অনুমোদন হয়েছে। আইনটি সংশোধন হওয়ায় আমরা দোহার উপজেলা নিয়ে ঢাকা-১ ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে ঢাকা-২ আসন ফেরত পাবো। এরফলে দুই উপজেলার জনগণই সুযোগ সুবিধা বেশি করে পাবে, ইনশাআল্লাহ।”

খালেদা জিয়ার আগমনে গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটাবে: খোন্দকার আবু আশফাক

শরিফ হাসান, আল আমিন, এম এইচ সুমন:  চিকিৎসা শেষে লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ১০টায় তাকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এ উপলক্ষে দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুসরণ করে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। রাজধানীর মাছরাঙা টেলিভিশন ভবনের সামনে ঢাকা জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দলের সভাপতি খন্দকার আবু আশফাকের নেতৃত্বে সেখানে ফুল ও স্লোগান দিয়ে বেগম জিয়াকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

ঢাকা জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দলীয় ও জাতীয় পতাকা নিয়ে, পিকআপ ভ্যানে সাউন্ড সিস্টেমে গান বাজিয়ে নেত্রীকে স্বাগত জানাতে আসেন। অনেকেই মাথায় দলের পতাকা বেঁধে বেগম জিয়ার আগমনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

নেতাকর্মীরা ‘খালেদা জিয়ার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘খালেদা জিয়া ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ প্রভৃতি স্লোগানে রাজপথ মুখর করে তোলেন।

দোহার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও যুবদল নেতা জহিরুল ইসলাম বলেন, “প্রায় চার মাস পর নেত্রীর আগমন আমাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের। তিনি অসুস্থ ছিলেন, আমরা প্রতিদিন তার জন্য দোয়া করেছি। আজ তার সুস্থ হয়ে ফেরা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের।”

ঢাকা জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ফুটপাতে অবস্থান করেছি, যাতে জনসাধারণের চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। আমাদের সার্বিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন জেলা সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক ভাই।”

ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার দেশে ফিরে আসা শুধু আমাদের নয়, গোটা জাতির জন্য আনন্দের। গণতন্ত্রের উত্তরণের এই সময়ে তার উপস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তার নেতৃত্বে দেশ সঠিক ও বৈষম্যহীন পথে এগিয়ে যাবে। আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের দেশে আগমনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা পূর্ণতা পাবে।”

দোহার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নূরুল হক গ্রেপ্তার

দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নূরুল হক বেপারী গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (৪ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি টিম আজ (রবিবার) ভোরে  অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে, তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শ্রমিক-মালিকের সুসম্পর্কে হতে পারে একটি আধুনিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র: ব্যারিস্টার নজরুল

স্টাফ রিপোর্টারঃ বিশ্ব মানবতার দূত হযরত মুহাম্মদ (সা.)এর ঘাম শুকানোর আগেই শ্রমিকের মূল্য পরিশোধের নির্দেশনা পালন করার আহ্বান জানান ঢাকা -১ আসনের বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর এমপি প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১লা মে)জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে বোতলজাত পানি বিতরণ কর্মসূচি পালনকালে এ আহ্বান জানান ব্যারিস্টার নজরুল।

তিনি বলেন, কেবলমাত্র শ্রমিক-মালিকের সুসম্পর্কেই গড়ে ওঠতে পারে একটি আধুনিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র।সেজন্য মালিকপক্ষকে বুঝতে হবে শ্রমিকেরা বাঁচলে তাদের শিল্প বাঁচবে, ব্যবসা বাঁচবে। আবার শ্রমিকদেরও বুঝতে হবে উদ্যোক্তা বা মালিক বাঁচলে তারা বাঁচবে। এ জন্য উভয়পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

দুপুরে উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় পথচারী, দিনমজুর, রিকশাচালক,খেটে খাওয়া মানুষ, বাসচালক থেকে শুরু করে সকল শ্রমজীবী মানুষের মাঝে বোতলজাত পানি বিতরণ করে জামায়াতে ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী নবাবগঞ্জ শাখার সেক্রেটারী মোস্তাক আহমেদসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের খাবার পানি বিতরণ

পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা বাজারে শ্রমিক ও অটোচালকদের মাঝে খাবার পানি বিতরণ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম। এই সময় তিনি বলেন, “শ্রমিকেরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের প্রতি সহানুভূতি ও সম্মান দেখানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

নজরুল ইসলামের খাবার পানি

জামায়াতে ইসলামী সবসময় শ্রমজীবী মানুষের পাশে আছে এবং থাকবে।” অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামী’র আমির এডভোকেট ইব্রাহিম খলিল এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।  স্থানীয়রা ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

নজরুল ইসলামের খাবার পানি

দোহার বাজারে জমি দখলের চেষ্টা, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার দোহার উপজেলার ছন্দুমিয়ার বাজারে (দোহার বাজার) জোরপূর্বক দোকান উচ্ছেদ এবং ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ডালু খন্দকার ওরফে পীর ডালু শাহ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

ভূক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, দোহার খালপাড় এলাকার নজরুল ইসলাম মুক্তার ও নুরুল ইসলাম মনির দীর্ঘদিন আগে বাজার এলাকায় জমি ক্রয় করে সেখানে তিনটি দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেন। সম্প্রতি দোহার পেট্রোল পাম্পের মালিক ডালু খন্দকার ওই জমি জোরপূর্বক কিনে নিতে চান। জমির মালিকরা এতে রাজি না হওয়ায় মঙ্গলবার সকালেই ডালু খন্দকারের নেতৃত্বে একদল লোক এসে দোকান উচ্ছেদ শুরু করে এবং জমি বালু দিয়ে ভরাটের চেষ্টা করে। এসময় দোকানের ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী মিঠু পাল বাধা দিতে গেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে দোহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উচ্ছেদ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। তবে পুলিশের নির্দেশ উপেক্ষা করে উচ্ছেদ কাজ চলতে থাকে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

দোহার বাজারে জমি দখলে

এ বিষয়ে দোহার বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মতিন চোকদার বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি ডালু খন্দকারকে বলেছিলাম, দোকান মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাতে। ব্যবসায়ীকে মারধরের বিষয়টি নিয়েও আমরা সমিতির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।”

অভিযুক্ত ডালু খন্দকারের কাছে এ বিষয়ে বক্তব্য চাইলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। এদিকে জমির মালিক নজরুল ইসলাম মুক্তার বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে বলেছি জমি বিক্রি করব না। তারপরও আমাদের দোকান ভেঙে দেওয়া হলো। আমরা এই অন্যায়ের বিচার চাই।”

দোহার বাজারে জমি দখলে

বাংলাদেশের সবচে’ ছোট নদী ‘র তালিকা

0

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ—এই পরিচয় আমরা সবাই জানি। বড় বড় নদীর পাশাপাশি দেশে রয়েছে অসংখ্য ছোট নদী, যেগুলোর দৈর্ঘ্য এক কিলোমিটারেরও কম। অনেকেই হয়তো জানেন না যে, বাংলাদেশের সরকারী নদী তালিকায় এমন ২৪টি নদীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে যেগুলোর দৈর্ঘ্য মাত্র ০.২০ কিমি থেকে ০.৯৩ কিমি পর্যন্ত।  আমরা এসব ছোট নদীর অবস্থান, কারণ ও ভৌগোলিক বিশ্লেষণ তুলে ধরবো।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন ও নদী কর্মীদের সহায়তায় বাংলাদেশের নদীর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে। অবশ্য এটি খসড়া তালিকা, বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও পুনবিবেচনায় তালিকা হালনাগাদ করা হবে। এই নদীগুলোর কোনটি নদী কোনটি শাখা নদী সরকারকে সেটা নিশ্চিৎ করতে হবে।

সেই তালিকা থেকে বাংলাদেশের সবচে’ ছোট নদীগুলোর তালিকা করেছে নিউজ৩৯। দেশের সবচে’ ছোট নদীটির নাম বলেশ্বর, এটি শেরপুরের নকলা উপজেলায় প্রবাহিত, দৈর্ঘ্য মাত্র ২০০ মিটার।

এসব নদী কোথায় বেশি দেখা যায়?

এই তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে:

  • সুনামগঞ্জ জেলায় ৭টি নদী

  • নেত্রকোনা জেলায় ১০টি নদী

  • গাইবান্ধা, পঞ্চগড় ও শেরপুর-এ ১টি করে

অর্থাৎ, প্রায় ৭৫% নদী শুধু সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায় সীমাবদ্ধ। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূগোলগত দিক।

কেন এসব নদীর দৈর্ঘ্য এত কম?

এই নদীগুলোর দৈর্ঘ্য কম হওয়ার পিছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ:

১. হাওর অঞ্চলভিত্তিক ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য

সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা হাওর অধ্যুষিত এলাকা। বর্ষায় এ এলাকায় বিশাল পরিমাণ পানি জমে এবং শুষ্ক মৌসুমে এসব পানি ছোট ছোট প্রবাহে নামতে থাকে, যা স্থানীয়ভাবে নদী হিসেবে পরিচিত।

২. মৌসুমি নদী বা খাল

এমন অনেক ছোট নদী রয়েছে যেগুলো শুধুমাত্র বর্ষাকালে প্রবাহিত হয়। বছরজুড়ে প্রবাহ না থাকলেও, সরকারের মানচিত্রে নদী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এসব ছোট নদী অনেকসময় বৃহৎ নদীর শাখা, প্রাকৃতিক খাল, বা মৌসুমি প্রবাহ মাত্র। এগুলোর মধ্যে অনেকগুলো নদীর মতো শ্রেণিবিন্যাসে এসেছে, কিন্তু বাস্তবে এগুলো অনেকটা খাল বা ছড়ার মতো।

৩. নদীর ভরাট ও দখল

বহু ছোট নদী একসময় দীর্ঘ ছিল, কিন্তু অপরিকল্পিত দখল ও ভরাটের কারণে সেগুলোর প্রাকৃতিক প্রবাহ কমে এসেছে এবং এখন মাত্র কয়েকশ মিটারে সীমাবদ্ধ।

৪. নদী শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির পরিবর্তন

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু খাল, ছড়া বা জলপথও স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে “নদী” হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।


এই নদীগুলো কেন ময়মনসিংহ বিভাগে?

এটি পুরোপুরি নির্ভর করে ওই অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও পানির গঠন ব্যবস্থার ওপর। হাওর অঞ্চল হওয়ায় বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ধারন করতে গিয়ে ছোট ছোট প্রবাহ তৈরি হয়, যেগুলো পরবর্তীতে স্থায়ী বা মৌসুমি নদীতে রূপ নেয়।

বাংলাদেশের সবচে’ ছোট দশ নদী:

১. বলেশ্বর – নকলা, শেরপুর – ০.২০ কি.মি.

২. প্র. শরমতি – জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ – ০.৩২ কি.মি.

৩. হিলু চিয়ার – জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ – ০.৩৬ কি.মি.

৪. হইহরি – বোদা, পঞ্চগড় –  ০.৪০ কি.মি.

৫. বহর – ছাতক, সুনামগঞ্জ – ০.৪৬ কি.মি.

৬. টগী – জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ – ০.৪৭ কি.মি.

৭. তৈয়লখালী – নেত্রকোনা সদর – ০.৫ কি.মি.

৮. দাইম – ধর্মপাশা, সুনামগঞ্জ – ০.৫ কি.মি.

৯. ধামরিহালা – নেত্রকোনা সদর – ০.৫ কি.মি.

১০. বাকলা – কমলাকান্দা, নেত্রকোনা – ০.৫ কি.মি.

বাংলাদেশে ২৪ টি নদী আছে  যার দৈর্ঘ্য ১ কিলোমিটারের কম:

ক্রম নদীর নাম অবস্থান দৈর্ঘ্য
কি.মি.
৮২৫. বলেশ্বর নকলা, শেরপুর ০.২০
৭৮২. প্র. শরমতি জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ ০.৩২
১৪০৪. হিলু চিয়ার জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ ০.৩৬
১৩.৭৬. হইহরি বোদা, পঞ্চগড় ০.৪০
৮২৯. বহর ছাতক, সুনামগঞ্জ ০.৪৬
৪৮৩. টগী জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ ০.৪৭
৫৫৪. তৈয়লখালী নেত্রকোনা সদর ০.৫
৫৬৪. দাইম ধর্মপাশা, সুনামগঞ্জ ০.৫
৬১৯. ধামরিহালা নেত্রকোনা সদর ০.৫
১০ ৮৩৯. বাকলা কমলাকান্দা, নেত্রকোনা ০.৫
১১ ১১৭৩. রাজী কেন্দুয়া, নেত্রকোনা ০.৬
১২ ৭৮১. প্র. ডাইকা জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ ০.৬১
১৩ ৩১০. গারখানা সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা ০.৭
১৪ ৮১১. বয়রা খালিয়াজুরি, নেত্রকোনা ০.৭৫
১৫ ৩৫২. ঘামডুলি আটপাড়া, নেত্রকোনা ০.৭৫
১৬ ১০৩৭. মরা (খালিয়াজুরি) খালিয়াজুরি, নেত্রকোনা ০.৭৫
১৭ ১০২৯. মনিকা মদন, নেত্রকোনা ০.৭৬
১৮ ৭০৩. পাগারধার জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ ০.৭৯
১৯ ৮১৯. বর্নি মদন, নেত্রকোনা ০.৮১
২০ ৮১২. বয়রাহালা মদন, নেত্রকোনা ০.৮২
২১ ১৩৭২. হলহলিয়া মদন, নেত্রকোনা ০.৮২
২২ ৩৬২. ঘোড়াপুক্তা আটপাড়া, নেত্রকোনা ০.৮৮
২৩ ৭১০. পন্ডার মদন, নেত্রকোনা ০.৮৮
২৪ ৭৮৩. প্র. নাইজর জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ ০.৯৩

 

ছোট নদীগুলোর গুরুত্ব

যদিও এগুলোর দৈর্ঘ্য কম, তবুও:

  • কৃষিকাজে সেচ

  • স্থানীয় মাছ চাষ

  • বর্ষাকালে পানি নিস্কাশন

  • জীববৈচিত্র্য রক্ষা

—এই ছোট নদীগুলোর ভূমিকা অনেক।

বাংলাদেশের নদী সম্পদের বড় একটি অংশ হলো এসব ছোট নদী। এক কিলোমিটারের নিচের এই নদীগুলোর অস্তিত্ব আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শুধু পদ্মা-মেঘনা-যমুনা নয়, আমাদের প্রকৃতি ছোট ছোট জলধারার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। এসব নদী সংরক্ষণ করা তাই সময়ের দাবি।

দোহারে প্রবাসবন্ধু ফোরাম সভা অনুষ্ঠিত

0

ঢাকার দোহার উপজেলায় ব্র্যাকের “নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ (প্রত্যাশা-২)” প্রকল্পের আওতায় প্রবাসবন্ধু ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দোহারের জয়পাড়া সেভেনস্টার রেস্টুরেন্টে এ সভা আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রবাসবন্ধু ফোরামের দোহার শাখার সভাপতি শামীম আরমান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি হেলেনা বেগম, সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক মো. আল আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আক্তার রিনি, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক কাজী রাজীব, সদস্য ফয়সাল ফজলু, এমএইচ মেহেদী, উজ্জল মাহমুদ, তানিয়া সুলতানা, সুরভী ইসলাম, বিল্লাল হোসেন ও চায়না আক্তার। এছাড়া ব্র্যাকের প্রোগ্রাম অর্গানাইজার রাবেয়া বসরী আখিঁ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রবাসীদের নিরাপদ অভিবাসন, বিদেশফেরতদের টেকসই পুনঃএকত্রীকরণ এবং প্রবাসবন্ধু ফোরামের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের সব ঝর্ণার তালিকা ও অবস্থান | প্রকৃতি ভ্রমণ

0

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে ঝর্ণাগুলো এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা ঝর্ণার জলরাশি শুধু যে চোখের তৃপ্তি মেটায় তা নয়, বরং ভ্রমণপিপাসু হৃদয়ে এক অন্যরকম আনন্দও জাগায়। আমাদের দেশে বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য মনোমুগ্ধকর ঝর্ণা। বান্দরবান, রাঙামাটি, সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলে এসব ঝর্ণার জলধারা পাহাড়ি ঢালের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানির চাপ, নদীর গতিপথ ও ভৌগোলিক পরিবর্তনের ফলে সময়ের সাথে সাথে এসব ঝর্ণা তৈরি হয়েছে।

এই প্রতিবেদনে আমরা বাংলাদেশের জনপ্রিয় এবং কম পরিচিত সব ঝর্ণার তালিকা ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেছি, যা আপনাকে ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত গন্তব্য খুঁজে নিতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশে ঝর্ণাগুলো কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে:

বাংলাদেশের বেশিরভাগ ঝর্ণা গঠিত হয়েছে প্রাকৃতিক ভূ-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের উঁচুনিচু ভূমি ও ঢালের কারণে বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় জলধারা তৈরি করে। দীর্ঘ সময় ধরে পানির ক্ষয়প্রক্রিয়া (erosion) ও মাটির পরিবর্তনের ফলে এসব প্রবাহিত পানি একটি নির্দিষ্ট পথে পড়ে যায় এবং নিচের দিকে ঢালু হয়ে তৈরি হয় ঝর্ণা। অনেক ক্ষেত্রে পাহাড়ি ছোট নদী বা ছড়ার পানি গড়িয়ে আসতে আসতে বড় আকারের জলপ্রপাত তৈরি করেছে। বৃষ্টির মৌসুমে এগুলোতে অনেক পানি প্রবাহিত হয়, তখন দেখতে সুন্দর লাগে, এবং ঝণায় ঘুরতে যাবার ওটাই সেরা সময়। আবার শুষ্ক মৌসুমে কিছু ঝর্ণায় পানির প্রবাহ কমে আসে বা একেবারে শুকিয়ে যায়।

বাংলাদেশের ঝর্ণাগুলো দুটো পাহারি অঞ্চলের পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সসবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগেই শুধু আছে।

বাংলাদেশের সবচে’ সুন্দর দশটি ঝর্ণা:

১. নাফাখুম ঝর্ণা (বান্দরবান)

নাফাখুম বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ঝর্ণা, যা বান্দরবানের থানচি উপজেলায় অবস্থিত। এটি রেমাক্রি নদীর ওপর গঠিত এবং বর্ষাকালে প্রবাহ সবচেয়ে বেশি থাকে।

২. আমিয়াখুম ঝর্ণা (বান্দরবান)

থানচির গভীর জঙ্গলে অবস্থিত আমিয়াখুম ঝর্ণা হলো একটি দৃষ্টিনন্দন জলপ্রপাত, যেখানে পৌঁছাতে ট্রেকিং করতে হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নির্জন পরিবেশ একে বিশেষ করে তুলেছে।

৩. মাধবকুণ্ড ঝর্ণা (মৌলভীবাজার)

বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত ও পর্যটনবান্ধব ঝর্ণা হলো মাধবকুণ্ড। এটি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত। একটা সময় পর্যন্ত মানুষ ঝর্ণা বলতে মাধবকুণ্ডই চিনত।

৪. হাম হাম ঝর্ণা (সিলেট)

কমলগঞ্জের রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টের গভীরে অবস্থিত হাম হাম ঝর্ণা একটি বড় আকৃতির জলপ্রপাত, যেখানে ট্রেক করে যেতে হয়।

৫. তিনাপ সাইতার ঝর্ণা (বান্দরবান)

থানচির খুব দূরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত তিনাপ সাইতার ঝর্ণা বাংলাদেশে অন্যতম বড় ঝর্ণাগুলোর একটি বলে ধরা হয়। স্থানীয় ভাষায় “সাইতার” মানে ঝর্ণা।

৬. খৈয়াছড়া ঝর্ণা (মিরসরাই )

৭. সুপ্তধারা-সহস্রধারা (চট্টগ্রাম)

৮. দামতুয়া ঝর্ণা (লামোনাই ঝর্ণা)

৯. বাকলাই ঝর্ণা (থানচি)

এর উচ্চতা প্রায় ৩৯০ ফুট যা বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার বাকলাই গ্রামে অবস্থিত।

১০. জাদিপাই ঝর্ণা (বান্দরবান)

১১. ধুপপানির ঝর্ণা (রাঙ্গামাটি)

১২. রাইক্ষং ঝর্ণা (বিলাইছড়ি)

বাংলাদেশের সব ঝর্ণা’র তালিকা:

সিলেট

  • কুলুমছড়া (গোয়াইনঘাট)- এটি আসলে ছড়া, প্রপাত নয়
  • সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা (জাফলং)
  • শ্রীপুর চা-বাগান ঝর্ণা (জৈন্তাপুর)
  • শ্রীপুর মরা ঝর্ণা (জৈন্তাপুর)
  • খড়মপুর আদুরী ঝর্ণা (জৈন্তাপুর)

মৌলভিবাজার

  • পরিকুণ্ড ঝর্ণা (বরলেখা)
  • মাধবকুণ্ড ঝর্ণা (বরলেখা)
  • হামহাম ঝর্ণা (রাজকান্দি)- মৌলভিবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি বনের গহিনে এই বিশাল ঝর্ণাটি লোক চক্ষুর আড়ালেই ছিল। একজন এনজিও কর্মকর্তা এটি আবিষ্কার করেন। স্থানীয় অধিবাসীরা ঠিকই জানত এর কথা।

সুনামগঞ্জ

  • লালঘাট ঝর্ণাধারা (তাহিরপুর)

চট্টগ্রাম

  • সুপ্তধারা ঝর্ণা
  • সহস্রধারা
  • বাওয়াছড়া ঝরনা
  • নাপিত্তাছড়া
  • মহামায়া
  • হাটুভাঙ্গা
  • বাঘবিয়ানী
  • বোয়ালিয়া
  • অমরমাণিক্য
  • বাউশ্যাছড়া
  • নেহাতেখুম
  • উঠান
  • বান্দরখুম
  • রূপসী ঝর্ণা চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়ন এর পূর্ব পোলমোগরা ০৫ নং ওয়ার্ডের পাহাড়ে অবস্থিত একটি জলপ্রপাত।
  • ঝরঝরি ঝর্ণা
  • কমলদহ ঝর্ণা (সীতাকুণ্ড)
  • বাড়বকুণ্ড অগ্নি ঝর্ণা
  • বাড়বকুণ্ড ত্রি-পল ঝর্ণা
  • সোনাইছড়া ঝর্ণা
  • হরিণ মারা ঝর্ণা (মিরসরাই)
  • ছাগলকান্দা ঝর্ণা (সীতাকুণ্ড)

কক্স’সবাজার

  • জলদী ঝর্ণা (চকরিয়া): চকরিয়ার জলদী ইউনিয়নের পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত জলদী ঝর্ণা, যা একটি কম পরিচিত কিন্তু অত্যন্ত সুন্দর ঝর্ণা।
  • হিমছড়ি ঝর্ণা – শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না, তখন মোটার দিয়ে পানি প্রবাহিত করে

খাগড়াছড়ি

  • রিছাং ঝর্ণা (খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা)- এর অপর নাম তেরাং তৈকালাই।
  • তৈছামা ঝর্ণা
  • তৈলাফাং ঝর্ণা
  • তুয়ারি মাইরাং
  • তৈদুছড়া ঝর্ণা (দীঘিনালা)
  • কমলক ঝর্ণা (সাজেক)
  • সিজুক ঝর্ণা (দীঘিনালা)
  • তেজেংমা ঝর্ণা (দীঘিনালা)
  • বড়পাড়া ঝর্ণা (মাটিরাঙ্গা)- খাগড়াছড়ি জেলা ধীন মাটিরাঙ্গা উপজেলার বড়নাল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বড়গ্রাম পাড়ায় এই ঝর্ণাটি অবস্থিত।

বান্দরবান

  • তিনাপ সাইতার (রোয়াংছড়ি)
  • শীলবান্ধা ঝর্ণা (ছালাওয়া ঝর্ণা) (রোয়াংছড়ি)
  • রেমাক্রি ঝর্ণা (থানচি): থানচি ভ্রমণের সময় রেমাক্রি ঝর্ণা অন্যতম আকর্ষণ। রেমাক্রি খালের উপর অবস্থিত এই ঝর্ণা সাধারণত নাফাখুম যাওয়ার পথে দেখা যায়।
  • দামতুয়া ঝর্ণা (আলিকদম): বান্দরবানের আলিকদম উপজেলায় অবস্থিত এই ঝর্ণাটি অপেক্ষাকৃত কম ভ্রমণ করা হয়, ফলে এর পরিবেশ একেবারে প্রাকৃতিক ও শান্ত।
  • ঋজুক ঝর্ণা ()
  • চিংড়ি ঝর্ণা
  • জাদিপাই ঝর্ণা
  • লাংলোক ঝর্ণা বা লিলুক ঝর্ণা: বান্দরবানের তিন্দু থেকে কিছু দূরে অবস্থিত একটি ঝর্ণা যা কিছুদিন আগে লোকচক্ষুর সামনে এসেছে।
  • উদোতয় ঝর্ণা, মাঝের পাড়া, সুয়ালক, বান্দরবান সদর উপজেলা
  • জিংসিয়াম সাইতার ঝর্ণা
  • লুং ফের ভা সাইতার
  • বাকলাই ঝর্ণা (থানচি)
  • ত্লাবং ঝর্ণা (ডাবল ফলস)
  • ফাইপি ঝর্ণা
  • বড়ইতলী ঝর্ণা (নাইক্ষ্যংছড়ি)- ফাত্রাঝিরি ঝর্ণা
  • তুইনুম ঝর্ণা (আলিকদম)
  • রুপমুহুরী ঝর্ণা (আলিকদম)
  • পোয়ামুহুরী ঝর্ণা (আলিকদম)
  • ওয়াং পা ঝর্ণা (আলিকদম)
  • পালং খিয়াং ঝর্ণা (তাংখোয়াইন ঝর্ণা) (আলিকদম)
  • পাতাং ঝর্ণা
  • লিখ্যিয়াং ঝর্ণা
  • তুই কু তুমু ঝর্ণা
  • লাংলোক ঝর্ণা (লিলুক ঝর্ণা) (থানচি)
  • বাক্তলাই ঝর্ণা (থানচি)
  • লাদমেরাখ ঝর্ণা (আলিকদম)
  • থান কোয়াইন ঝর্ণা (আলিকদম)
  • সাইংপ্রা ঝর্ণা (আলিকদম)
  • শৈনগং ঝর্ণা (থানচি)

রাঙামাটি

  • রাইক্ষং ঝর্ণা (বিলাইছড়ি)
  • ন-কাবা ছড়া ঝর্ণা (বিলাইছড়ি)
  • গাছকাটা ঝর্ণা (বিলাইছড়ি)
  • শুবলং ঝর্ণা
  • ধুপপানি ঝর্ণা
  • ঘাগড়া তৈমা ঝর্ণা (কলাবাগান ঝর্ণা)
  • সিকাম তৈসা ঝর্ণা
  • হাজাছড়া ঝর্ণা (শুকনাছড়া ঝর্ণা)
  • মুপ্পোছড়া ঝর্ণা

ঝর্ণায় যেতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  • সঠিক মৌসুম বেছে নিন: ঝর্ণাগুলো সাধারণত বর্ষাকালে সবচেয়ে প্রাণবন্ত থাকে। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির সময় পাহাড়ি রাস্তা বিপজ্জনক হতে পারে, তাই পরিকল্পনা করে যাত্রা করুন।

  • পর্যাপ্ত পানি ও খাবার নিন: অনেক ঝর্ণায় পৌঁছাতে দীর্ঘ ট্রেকিং করতে হয়, তাই সাথে পানীয় জল ও হালকা খাবার রাখুন।

  • ট্রেকিং জুতা পরুন: পাথুরে ও পিচ্ছিল পথের জন্য ভালো গ্রিপযুক্ত জুতা পরা নিরাপদ।

  • স্থানীয় গাইড নিন: দূর্গম বা কম পরিচিত ঝর্ণায় যাওয়ার সময় স্থানীয় গাইড নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ, এতে পথ হারানোর ঝুঁকি কমবে।

  • পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন: ঝর্ণার আশেপাশে প্লাস্টিক, খাবারের মোড়া ইত্যাদি ফেলবেন না। প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল থাকুন।

দোহারের চাঞ্চল্যকর দুইটি ডাকাতির ঘটনায় কুখ্যাত ডাকাত সরদার ওমর সহ ৫ জন গ্রেফতার

দোহার থানা কর্তৃক প্রদত্ত প্রেস রিলিজ

প্রথম ঘটনা:

গত ইং ১৫/০৪/২০২৫ তারিখ রাত অনুমান ০৩.৩০ ঘটিকার সময় দোহার থানাধীন ৯নং সুতারপাড়া ইউনিয়ন পশ্চিম সুতারপাড়া সাকিনস্থ জনৈক শাহজাহান (৫৪) এর বসত বাড়ীতে অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জন সশস্ত্র ডাকাত দেশীয় অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ২ তলা বিল্ডিংয়ের নীচ তলার উত্তর পশ্চিম কর্ণারের রুমে থাই এর লক ও গ্রীল এর তালা ভাঙ্গিয়া ভেতরে প্রবেশ করিয়া দ্বিতীয় তলার উত্তর পাশে বাদীর রুমে প্রবশে করিয়া বাদীকে ও তার স্ত্রী আকলিমা আক্তার (৪২) দের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করিয়া হাত পা বেঁধে রুমের আলমারীর ভিতরে থাকা ৮টি র্স্বণের চেইন লকেট সহ, যাহার ওজন অনুমান ১০ ভরি ৭ জোড়া কানরে র্স্বণের দুল, যাহার ওজন অনুমান ৫ ভরি ৩ জোড়া র্স্বণের চুড়ি যাহার ওজন অনুমান ৪ ভরি ৪ টি র্স্বণের ব্যাসলাইট, যাহার ওজন অনুমান ৩ ভরি ৫টি র্স্বণের আংটি যাহার ওজন অনুমান ৩ ভরি র্সবমোট র্স্বণ ২৫ (পঁচশি) ভরি যাহার র্সবমোট মূল্য অনুমান ৩২,৫০,০০০/-(বত্রশি লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা এবং নগদ ১,৫০,০০০/-(এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা নিয়া যায়। উক্ত ঘটনায় দোহার থানার মামলা নং-১৯, তারিখ-১৬ এপ্রিল, ২০২৫; ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড রুজু হয়।

দ্বিতীয় ঘটনা:

গত ইং ১৬/০৪/২০২৫ তারিখ রাত অনুমান ০৩.০৫ ঘটিকার সময় দোহার থানাধীন নারিশা ইউনিয়ন নারিশা পশ্চিম চর সাকিনস্থ জনৈক গাজী মাহফুজ৥ কাকন (৪২)এর বসত বাড়ীতে অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন সশস্ত্র ডাকাত দেশীয় অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ২ তলা বিল্ডিংয়ের নীচ তলার উত্তর পশ্চমি কর্ণারের রুমের গ্রীল কেটে ভেতরে প্রবেশ করিয়া দ্বিতীয় তলার উত্তর পাশে বাদীর রুমে প্রবশে করিয়া বাদীকে ও তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার (৪৬) দরে অস্ত্ররে মুখে জিম্মি করিয়া হাত পা বেঁধে রুমের আলমারীর ভিতরে ৪ টি স্বর্ণের রুলি, ২ টি স্বর্ণের চেইন লকেট সহ, ৩ জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, ২ টি স্বর্ণের আংটি, ৪টি হীরাখচিত স্বর্ণের নাক ফুল যাহার ওজন অনুমান ০৫ (পাঁচ) ভরি, যাহার সর্বমোট মূল্য অনুমান ৭,৫০,০০০/-(সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা এবং নগদ ৫,০০,০০০/-(পাঁচ লক্ষ) টাকা নিয়া যায়। উক্ত ঘটনায় দোহার থানার মামলা নং-২০, তারিখ-১৭ এপ্রিল, ২০২৫; ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড রুজু হয়।

তদন্তের ফলাফল:

মামলা ২টি রুজু হওয়ার সাথে সাথে ঢাকা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আনিসুজ্জামান মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত পূর্বক মামলার রহস্য উদঘাটন, আসামী গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন। মাননীয় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আশরাফুল আলম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অফিসার ইনচার্জ মোঃ রেজাউল করিমের নেতৃত্বে দোহার থানার একটি চৌকস দল এবং ঢাকা জেলা গোয়েন্দা(দক্ষিণ) শাথার একটি চৌকস দল সম্মিলিতভাবে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত ২ জন ডাকাত ও লু্ন্ঠিত স্বর্ণ বিক্রি ও ডাকাতির তথ্য সংগ্রহ কাজে সহায়তা করায় ২ জন আসামি ও লু্ন্ঠিত স্বর্ণ ক্রেতা ১ জনসহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের নিকট ডাকাতির সময় ব্যবহৃত ১ টি দেশীয় অস্ত্র ও লুন্ঠিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। ধৃত আসামীগণ প্রাথমিকভাবে অত্র ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা যায়, ডাকাত ওমর আলী মাতুব্বর কিছুদিন পূর্বে জামিনে বের হয়ে দোহার থানা এলাকায় বাসাভাড়া নিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করে এবং চাঞ্চল্যকর দুইটি ডাকাতি সংগঠিত করে। আসামিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন সহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অত্র ঘটনার সাথে জড়িত অপরাপর আসামীদের গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের নাম ও ঠিকানা:

১। ওমর আলী মাতুব্বর (৩৫), পিতা- খোরশেদ মাতুব্বর, মাতা-কমেলা বেগম, সাং-ছাগলদী (দক্ষিণ পাড়া,খালপাড়), থানা-নগরকান্দা, জেলা- ফরিদপুর।
২। মোঃ আকরাম মাতুব্বর (৪২), পিতা-মৃত সরোয়ার মাতুব্বর, মাতা-রহিমা বেগম, সাং-নাজিরপুর,থানা-ভাংগা, জেলা-ফরিদপুর।
৩। কমেলা বেগম (৬৫), স্বামী-খোরশেদ মাতুব্বর,
৪। রাবেয়া বেগম (৩০), স্বামী- ওমর আলী মাতুব্বর উভয় সাং-ছাগলদী (দক্ষিণ পাড়া,খালপাড়),
৫। গোপাল পাল (৪৫), পিতা- গোসাই দাস পাল, মাতা-কল্পনা রানী পাল, সাং-বিনোকদিয়া সর্ব থানা-নগরকান্দা, জেলা-ফরিদপুর।

উদ্ধারকৃত মালামাল:
১. ১ টি চাপাতি
২. লুন্ঠিত স্বর্ণ ১০ আনা ১ রতি

ধৃত আসামী(ডাকাত) ওমর আলী মাতুব্বর(৩৫) এর পিসিপিআর:

১। দোহার থানার মামলা নং-৪/০৪, তারখি- ১০ জানুয়ারি ২০২১; তারখি- ২৮ ফব্রেুয়ারি ২০২৩; ধারা- ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড-১৮৬০;
২। দোহার থানার মামলা নং-১৯/৫৮, তারখি- ২৪ মে ২০১৮; সময়- ১২.৩৫ ঘটিকা ধারা- ৩৯৫/৩৯৭/৪১২ পেনাল কোড-১৮৬০; ,
৩। দোহার থানার মামলা নং-১৩/৩৭, তারখি- ২৪ এপ্রলি, ২০১৮; ধারা- ৩৯২/৩৯৫/৩৯৭/৪১২ পেনাল কোড-১৮৬০;
৪। দোহার থানার মামলা নং-৩/৩, তারখি- ০৭ জানুয়ারি ২০২২; ধারা- ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড-১৮৬০
৫। নবাবগঞ্জ থানার থানার মামলা নং-১০, তারিখ-১২ মে, ২০২৪; ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড।
৬। ঢাকা এর দোহার থানার মামলা নং-১৯, তারিখ-১৬ এপ্রিল, ২০২৫; ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড ।
৭। ঢাকা এর দোহার থানার মামলা নং-২০, তারিখ-১৭ এপ্রিল, ২০২৫; ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড ।

ধৃত আসামী রাবেয়া বেগমের পিসিপিআর:
১। নবাবগঞ্জ থানার থানার মামলা নং-১০, তারিখ-১২ মে, ২০২৪; ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড।

ধৃত আসামী কোমেলা বেগমের পিসিপিআর:
১। নবাবগঞ্জ থানার থানার মামলা নং-১০, তারিখ-১২ মে, ২০২৪; ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড।