নবাবগঞ্জে আপ বাংলাদেশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজঃ  ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) ঢাকা জেলা দক্ষিণের নবাবগঞ্জ উপজেলার সংগঠকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল ৩টায় নবাবগঞ্জের বড় রাজপাড়া নাহার গার্ডেনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আপ বাংলাদেশের সংগঠক আহছান উল্লাহ। এতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা ও সংগঠক আরেফিন মোহাম্মদ হিযবুল্লাহ, নাঈম আহমাদ, শাহরিন সুলতানা ইরা ও স্থানীয় সংগঠকরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরেফিন মোহাম্মদ হিযবুল্লাহ বলেন, “আপ বাংলাদেশ” দেশ, মাটি ও মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াই-সংগ্রামে কখনো পিছুপা হবে না। এই প্ল্যাটফর্ম দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে কাজ করবে।”

প্রধান আলোচক নাঈম আহমাদ বলেন, “পিলখানা, শাপলা এবং জুলাই গণহত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধগুলোর বিচার ও ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ করণের দাবিতে রাজপথে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তুলবে আপ বাংলাদেশ।”

বিশেষ অতিথি শাহরিন সুলতানা ইরা বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীরা সম্মুখসারিতে ছিল। কিন্তু সেই অবদানের পর যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। আপ বাংলাদেশ নারীদের ঐক্যবদ্ধ করে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং রাজনীতিতে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।”

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরাও অংশগ্রহণ করেন এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতামত বিনিময় করেন।

দোহারে বেঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থী ছুরিকাহত

0

রিপোর্টার: মাকসুমুল মুকিম : ঢাকার দোহার উপজেলায় বিদ্যালয়ের বেঞ্চে বসার বিষয়ে বিরোধে রাব্বি ও ইউসুফ নামের দুই শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করেছে মশিউর নামের অপর এক শিক্ষার্থী। এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে সোমবার (২১ এপ্রিল) সকালে লটাখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ে।

আহত রাব্বি চর-লটাখোলা এলাকার আউয়াল বেপারীর ছেলে এবং ইউসুফ একই এলাকার মোশারফ হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে।

দুই শিক্ষার্থীকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ইউসুফের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়।

দোহারে বেঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থী ছুরিকাহত

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে মশিউর ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রেজাউল করিম বলেছেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এ বিষয়ে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আসামীকে গ্রেপ্তারের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

জয়পাড়ায় বাস টার্মিনাল অবৈধ ঘোষণা: জয়পাড়া পরিবহনর যাত্রীসেবা বন্ধের ঘোষণা

শরিফ হাসান: জয়পাড়া ও ডিএনকে পরিবহনের যাত্রীসেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনের দেওয়া ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটামের প্রতিবাদে ঘোষিত হয়েছে। প্রশাসন অবৈধভাবে দখলকৃত বাস স্যান্ড (বাস পার্কিং ও টার্মিনাল এলাকা) সরিয়ে নেওয়ার জন্য এই আল্টিমেটাম দিয়েছিল।

প্রতিবাদ ও বাস সেবা বন্ধের কারণ হিসেবে জয়পাড়া ও ডিএনকে পরিবহনের মালিক সমিতি জানিয়েছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ বাস স্যান্ড সরানোর জন্য ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

বাস মালিক সমিতি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে এই স্থানটি বাস পার্কিং ও টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। হঠাৎ করে এটিকে অবৈধ ঘোষণা করে জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যাপক ক্ষতি করবে।

পূর্ববর্তী নির্দেশনা বর্তমান অবস্থা

উল্লেখ্য, এর আগে প্রশাসন এক মাসের সময় দিয়ে বাস স্যান্ডটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু বাস মালিকরা তা আমলে না নিলে এবার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে বাস স্যান্ড পরিচালনা করা হচ্ছে, যা আইনত দণ্ডনীয়।

অন্যান্য পরিবহন বিভিন্ন স্থানে তাদের নিজস্ব ওয়ার্কশপসহ পার্কিং স্ট্যান্ডের জন্য জমি নিয়েছে। এছাড়াও, এটি দোহারের প্রাণকেন্দ্র। প্রায় ৫ টি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, দোহার প্রেসক্লাব, পশু হাসপাতাল এবং ২টি বড় বাজার এখানে অবস্থিত। এখানে, একটি পাব্লিক বাস পার্কিং স্ট্যান্ড জনগণের জন্য সমস্যা।

এদিকে, বাস সেবা বন্ধের কারণে জয়পাড়া ও আশেপাশের এলাকার যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বিকল্প বাস সার্ভিস চালু থাকায় স্বস্তি মিলেছে।

এই ইস্যুতে ঢাকায় নিয়মিত যাতায়াতকারী মুনির মাহমুদ নিউজ৩৯কে বলেন, শহরের পাশ্ববর্তী কোন স্থানে পার্কিং স্ট্যান্ড হলে সবার জন্যই ভালো হয়।

আপডেট:

চালু হয়েছে জয়পাড়া-ডিএনকে পরিবহন। দোহার উপজেলা প্রশাসনের সাথে বাস কর্তৃপক্ষের মিটিংয়ের জয়পাড়া-ডিএনকে পরিবহনকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে বাস ডিপোর যায়গা নির্ধারণের জন্য। এই সময়ের মধ্যে নতুন যায়গা নির্ধারণের ডকুমেন্ট দেখাতে পারলে এক মাস সময় পাবে স্থানান্তরের জন্য। অন্যথায় ২৮ তারিখের পর আবার অভিযান হবে।

যাত্রীদের জন্য বিকল্প সেবা

জয়পাড়া ও ডিএনকে পরিবহনের সেবা বন্ধ থাকাকালীন যাত্রীদের সুবিধার জন্য বিকল্প বাস সার্ভিস চালু থাকবে। যাত্রীরা নিম্নোক্ত বাসগুলোতে চলাচল করতে পারবেন:

  • আরাম নগর পরিবহন: জয়পাড়া থানার মোর থেকে ঢাকার রুটে চলাচল করবে।
  • যমুনা পরিবহন: বাশতলা মোর থেকে ঢাকার দিকে যাতায়াত করতে পারবেন যাত্রীরা।

বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যমুনা পরিবহনের সিট ও যাত্রীসেবা জয়পাড়া পরিবহনের তুলনায় আরও উন্নত এবং আরামদায়ক।

গাজায় আরও ৫২ জন নিহত, হামলা জোরদারের নির্দেশ নেতানিয়াহুর

ডেস্ক রিপোর্টঃ গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার দিনভর বোমাবর্ষণ চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। হামাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর গাজায় আক্রমণ আরও জোরদারের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৭৮৩ জনে। অক্টোবর ২০২৩ থেকে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৫১,১৫৭ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৪ জনের বেশি। জাতিসংঘ জানিয়েছে, আগ্রাসনে গাজার ৮৫ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। ইতোমধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছে।

গণহত্যার অভিযোগে ১৯ জন সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ট্রাইব্যুনালে হাজির

0

ডেস্ক নিউজঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ১৯ জনকে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আজ সকাল ১০টায় শুনানি শুরু করে। এ মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হতে যাচ্ছে।

মায়ের জন্য উপহারের সেরা আইডিয়া

0

মা—এই ছোট্ট একটি শব্দেই জড়িয়ে আছে সীমাহীন ভালোবাসা, ত্যাগ আর নিঃস্বার্থ স্নেহ। একজন মা সন্তানকে বড় করতে নিজের জীবনের অনেক কিছু বিসর্জন দেন—নিজের ঘুম, স্বপ্ন, আরাম সব কিছু। তাই একজন সন্তানের উচিত, সময় সুযোগমতো মায়ের জন্য ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। আর উপহার হচ্ছে সেই ভালোবাসার ছোট্ট কিন্তু স্পর্শকাতর বহিঃপ্রকাশ।

আমরা প্রায়ই বাবা-মা’কে উপহার দেওয়ার দিন নিয়ে ভাবি—মা দিবস, জন্মদিন, ঈদ বা কোনো বিশেষ উপলক্ষে। কিন্তু সত্যি বলতে কি, মায়ের জন্য উপহার দেওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিন লাগে না। কোনো এক চুপচাপ সন্ধ্যায় তাকে চমকে দিয়ে উপহার দিলে তার চোখের তৃপ্তি, মুখের হাসি আপনার মনকেও ছুঁয়ে যাবে।

একটা ছোট জিনিসও মা’কে খুব খুশি করতে পারে, যদি সেটার মধ্যে থাকে যত্ন আর মনোযোগ। নিচে এমনই ১৫টি মায়ের জন্য উপহারের সেরা আইডিয়া তুলে ধরা হলো, যা একজন মা’কে সত্যিই আনন্দিত করতে পারে।

মায়ের জন্য উপহারের ১২টি আইডিয়া


১. হাতের তৈরি শাড়ি

মায়েরা শাড়ি ভালোবাসেন, আর একটি খাঁটি জামদানী বা হাতের তাঁতের শাড়ি পেলে তাদের মুখে যে হাসি ফুটে ওঠে, সেটা অমূল্য। জন্মদিন বা ঈদে এমন একটি উপহার তাদের দিনটাকে আরও বিশেষ করে তুলবে। চাইলে তার পছন্দের রঙে কাস্টমাইজ করেও নিতে পারেন।

২. স্বর্ণ বা রুপার গহনা

বাংলাদেশি মায়েরা সাধারণত গহনা খুব পছন্দ করেন। একজোড়া রুপার কানের দুল বা নাকফুল বা ছোট্ট একটা সোনার লকেট—উপহার হিসেবে এমন কিছু হলে তা তিনি আজীবন যত্ন করে রেখে দেবেন। চাইলে নিজের নাম বা মায়ের নাম দিয়ে কাস্টমাইজড করে নিতে পারেন।

৩. ডায়াবেটিক বা হারবাল হেলথ কেয়ার সেট

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মায়েদের স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়া জরুরি হয়ে পড়ে। হারবাল চা, ডায়াবেটিক জুস, সুগার ফ্রি হেলদি স্ন্যাকস  বা একটি আরামদায়ক মাসাজার এমন একটি সেট উপহার দিলে মা বুঝবেন আপনি তার স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত ও যত্নশীল।

৪. ব্লাড প্রেসার মেশিন

বর্তমানে প্রায় সকল মায়েদেরই ব্লাড প্রেশার বাড়তি বা কম থাকে। প্রায়ই দরকার হয় প্রেশার মাপার, হাতের কাছে একটা রক্তচাপ মাপার মেশিন থাকলে কাজটি সহজ হয়, ও জরুরি মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হয়। তাই মা’কে দিতে পারেন একটি রক্তচাপ মাপার মেশিন।

৫. ঘরের সাজানোর কিছু জিনিস

একটি সুন্দর শো-পিস, হাতের তৈরি ওয়াল ম্যাক্রামি, বা ছোঁয়াচে রঙের কুশন কাভার—এসব ছোট জিনিস দিয়েও মাকে খুশি করা যায়। ঘর তার মতো করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেলে মা নিশ্চয়ই আনন্দিত হবেন।

৬. প্রিমিয়াম কুকিং সেট

রান্না যাদের শখ, তাদের জন্য একটা কাস্ট আয়রন কড়াই, তামার হ্যান্ডি বা নন-স্টিক প্যান উপহার দিলে তারা খুব খুশি হন। আপনি চাইলে একটা প্রিমিয়াম কিচেন সেট বানিয়ে দিতে পারেন, যেমন—চপিং বোর্ড, কাঠের চামচ, হ্যান্ড ব্লেন্ডার ইত্যাদি মিলিয়ে।

৭. হাতঘড়ি বা ব্যাগ

একটা ক্লাসিক ডিজাইনের ঘড়ি বা হ্যান্ডব্যাগ অনেক কাজে লাগে আবার মার্জিতও দেখায়। মা ঘর-বাইরের কাজে গেলে এমন উপহার তাকে স্টাইলিশ আর আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

৮. কাস্টমাইজড মাগ বা বালিশ কাভার

“আমার মা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা” এমন উক্তি দিয়ে বানানো একটা কফি মাগ বা বালিশ কাভার—ছোট হলেও খুব ইমোশনাল উপহার। চাইলে মায়ের ছবি দিয়েও বানিয়ে নিতে পারেন।

৯. বাংলা কবিতার বই বা ধর্মীয় বই

যদি আপনার মা পড়তে পছন্দ করেন, তাহলে জীবনঘনিষ্ঠ বাংলা কবিতা বা ইসলামিক বই হতে পারে একটি দারুণ উপহার। নামাজ, তাফসির, হাদীস বা আত্মোন্নয়নমূলক কোনো বই তার মানসিক প্রশান্তিতে সাহায্য করবে।

১০. প্রিয় খাবার হোম ডেলিভারি

মায়ের ছোটবেলার প্রিয় মিষ্টি, অথবা কোনো প্রিয় রেস্টুরেন্টের খাবার যদি আপনি চমক হিসেবে অর্ডার করে দেন, তাহলে সেটা তার জন্য সত্যি একটা আনন্দময় মুহূর্ত হবে। খাওয়ার সময় আপনার কথা মনে করবেন বারবার।

১১. একটি হাতে লেখা চিঠি বা কার্ড

আজকাল সবাই ডিজিটালে অভ্যস্ত, তাই হাতে লেখা কিছু পেলে মা আরও বেশি আবেগে ভেসে যান। ছোট্ট একটা চিঠি বা কার্ড লিখে তার প্রতি আপনার অনুভূতির কথা প্রকাশ করুন—“তোমার জন্যই আমি আজ এখানে”, “তোমার কষ্টগুলো আমি বুঝি”—এমন লাইন তাকে আবেগতাড়িত করবেই।

১২. ফুল ও চকলেট সহ একটি “সারপ্রাইজ বক্স”

আপনার তৈরি করা একটি বক্সে কিছু চকলেট, সুগন্ধি, ছোট্ট উপহার, হাতে লেখা নোট এবং একটা ফুল রেখে তাকে সারপ্রাইজ দিন। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে এমন কিছু পেলে তার পুরো দিনটাই হবে স্পেশাল।


উপসংহার:

মাকে উপহার দেওয়া মানেই শুধুমাত্র কিছু জিনিস কেনা নয়, বরং তা হল কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক স্নেহভরা মাধ্যম। উপহার দিয়ে মায়ের মুখে হাসি ফোটানোটা আপনাকে যে মানসিক শান্তি দেবে, সেটা অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা হয় না। সময় করে একটা ছোট্ট জিনিস দিয়ে তাকে জানান—আপনি এখনো তার সেই ছোট্ট সন্তান, যে তার ভালোবাসার ছায়ায় বড় হয়ে উঠেছে। এখন সময় তার জন্য কিছু করার।

পোস্টটি ভালো লেগেছে? আপনার মা’কে কী উপহার দিতে চান তা নিচে কমেন্টে জানান!

ছবি বিক্রি করার সেরা ১০টি ওয়েবসাইট | অনলাইনে ছবি বিক্রির উপায়

0

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ফটোগ্রাফি শুধুমাত্র শখ নয়, এটি একটি আয়ের উৎস হিসেবেও দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যারা ভালো ছবি তোলেন, তারা নিজেদের তোলা ছবি অনলাইনে বিক্রি করে আয় করতে পারেন। এখন এমন অনেক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যেখানে আপনি আপনার তোলা ছবি আপলোড করে বিক্রির সুযোগ পান। কিন্তু প্রশ্ন হলো—ছবি বিক্রি করার ওয়েবসাইট কোনটি আপনার জন্য সবচেয়ে উপযোগী?

বিশ্বজুড়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ওয়েব ডিজাইনার, বিজ্ঞাপন সংস্থা, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও ব্লগাররা নিয়মিত উচ্চমানের ছবি কিনে থাকে। এই ছবি সংগ্রহ করতে তারা বিভিন্ন স্টক ফটোর সাইট থেকে ছবি কিনে নেয়। ফলে একজন ভালো ফটোগ্রাফার হিসেবে আপনি যদি ইউনিক ও কোয়ালিটি ছবি আপলোড করতে পারেন, তাহলে সারা বিশ্ব থেকে ক্রেতা পাওয়া সম্ভব। এটি একটি প্যাসিভ ইনকামের চমৎকার মাধ্যম।

আন্তর্জাতিকভাবে স্টক ফটোগ্রাফি এখন একটি প্রতিষ্ঠিত ও প্রফেশনাল ক্যারিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আপনি চাইলে ফুলটাইম বা পার্টটাইম ছবি বিক্রি করে আয় করতে পারেন। এমনকি শুধুমাত্র স্মার্টফোন দিয়ে তোলা ছবিও অনেকে বিক্রি করে ভালো আয় করছেন।

এই ব্লগে আমরা আলোচনা করবো সেরা ১০টি ছবি বিক্রি করার ওয়েবসাইট সম্পর্কে, যেগুলোতে আপনি খুব সহজেই আপনার তোলা ছবি আপলোড করে আয় শুরু করতে পারেন। আপনি যদি একজন পেশাদার ফটোগ্রাফার হন বা শখের বসে ছবি তুলেই আয় করতে চান, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য উপকারী হবে।

1. Shutterstock

Link

সুবিধা:

  • জনপ্রিয়তা ও বড় মার্কেটপ্লেস।
  • ছবি প্রতিবার বিক্রির জন্য রয়্যালটি পাওয়া যায়।
  • রেফারেল সিস্টেমের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় সম্ভব।

অসুবিধা:

  • প্রতিযোগিতা অনেক বেশি।
  • নতুনদের জন্য ইনকাম তুলনামূলক কম হতে পারে।

2. Adobe Stock

Link

সুবিধা:

  • Adobe Creative Cloud এর সাথে ইন্টিগ্রেটেড।
  • ভালো রয়্যালটি রেট (১৫%–৩৫%)।
  • ছবি একবার অ্যাপ্রুভ হলেই সব Adobe ইউজারের কাছে একসেসযোগ্য হয়।

অসুবিধা:

  • কনটেন্ট অ্যাপ্রুভাল তুলনামূলক কঠিন।
  • হাই-কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলতে হয়।

3. iStock (by Getty Images)

Link

সুবিধা:

  • Getty Images এর ব্র্যান্ড ভ্যালু।
  • এক্সক্লুসিভ কনটেন্ট দিলে উচ্চ রেট পাওয়া যায়।

অসুবিধা:

  • কমিশন রেট কিছুটা কম (১৫%–৪৫%)।
  • কনটেন্ট সিলেকশন অনেক কঠিন হতে পারে।

4. Getty Images

Link

সুবিধা:

  • শুধু এক্সক্লুসিভ কনটেন্ট।
  • উচ্চ রেট পাওয়া যায়।
  • প্রেস্টিজিয়াস

অসুবিধা:

  • বিগিনারদের জন্য নয়, সিরিয়াস ফটোগ্রাফারদের জন্য।
  • একসেস পাওয়া কঠিন।

5. Alamy

Link

সুবিধা:

  • হাই পে-আউট (আপনি ৫০% পর্যন্ত পেতে পারেন)।
  • কম্পিটিশন তুলনামূলক কম।

অসুবিধা:

  • বিক্রির গতি অনেক ধীর হতে পারে।
  • কিছু ক্ষেত্রে ছবি রিভিউয়ে সময় বেশি লাগে।

6. Dreamstime

Link

সুবিধা:

  • নতুনদের জন্য ফ্রেন্ডলি প্ল্যাটফর্ম।
  • অনেক ধরনের কনটেন্ট আপলোড করা যায় (স্টিল, আর্ট, ইলাস্ট্রেশন ইত্যাদি)।

অসুবিধা:

  • পে-আউট রেট কিছুটা কম।
  • ওয়েবসাইট ইন্টারফেস পুরনো।

7. 123RF

Link

সুবিধা:

  • ব্যবহারকারী-বান্ধব ইন্টারফেস।
  • অনেক দেশে লোকাল মার্কেট ফোকাস করে।

অসুবিধা:

  • রয়্যালটি তুলনামূলক কম (৩০% থেকে শুরু)।
  • ট্রাফিক বড় সাইটগুলোর চেয়ে কম।

8. Canva Contributors

Link

সুবিধা:

  • ডিজাইনারদের বিশাল ইউজারবেজ।
  • ছবি ছাড়াও গ্রাফিক, আইকন, ভিডিও আপলোড করা যায়।

অসুবিধা:

  • কিছু ছবিতে সাবস্ক্রিপশন পদ্ধতিতে কম পেমেন্ট পাওয়া যায়।
  • কনটেন্ট রিভিউ সিস্টেম কিছুটা স্লো।

9. Depositphotos

Link

সুবিধা:

  • দ্রুত ছবি রিভিউ।
  • মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজ আপলোড।

অসুবিধা:

  • রয়্যালটি রেট কম।
  • ওয়েবসাইটে কমিউনিটি সাপোর্ট দুর্বল।

10. EyeEm

Link

সুবিধা:

  • AI বেসড ট্যাগিং ও রিকমেন্ডেশন।
  • Getty Images এর সাথে পার্টনারশিপ।

অসুবিধা:

  • কিছু ছবি শুধুমাত্র EyeEm Market-এ সীমাবদ্ধ থাকে।
  • বিক্রির হার কিছুটা ধীর।

যে কেউ এখন ঘরে বসে, এমনকি মোবাইল দিয়েও ছবি তুলে অনলাইনে বিক্রি করতে পারে। তবে সফল হতে হলে শুধু ছবি তোলাই নয়, বাজার বুঝে কনটেন্ট তৈরি, সঠিক ট্যাগ ব্যবহার এবং প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন—এই তিনটি দিক খুব গুরুত্বপূর্ণ। উপরের তালিকাভুক্ত প্রতিটি ছবি বিক্রি করার ওয়েবসাইট-এর নিজস্ব সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাই আপনার লক্ষ্য ও ফটোগ্রাফির ধরন অনুযায়ী সাইট নির্বাচন করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

ফিচার ছবি: তালহা আহমেদ/আনস্প্ল্যাশ

বোমা ও ত্রাণ-অবরোধের মধ্যে গাজার শিশুরা বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছে

ছয় বছরের ওসামা আল-রাকাব এখন খুবই দুর্বল। তার গাল বসে গেছে, শরীরের হাড় দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে তার একটা ছবি ছিল, যেখানে সে হাসছিল। এখন তাকে দেখে চিনতেই কষ্ট হয়।
“সে এক সময় খুবই প্রাণবন্ত ছিল, হাসিখুশি ছিল,” ওসামার খালা, নুর সামির আল-রাকাব, রবিবার দক্ষিণ গাজার বানি সুহেলাতে আমেরিকার এনবিসি নিউজের কর্মীদের বলেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগে তোলা ছবিটি ওসামার মুখের পাশে ধরে বলেন, “এখন সে যেন এক কঙ্কাল।”

ওসামার দাদি উম আহমেদ আল-রাকাব ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে তার নাতিকে চিকিৎসার জন্য গাজা থেকে সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। ওসামা সিস্টিক ফাইব্রোসিসে ভুগছিল, এই রোগে আক্রান্তরা ওজন হারাতে থাকে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে।
তিনি বলেন, “যদি এইভাবে থাকে, সে বাঁচবে না।”

গাজার অসংখ্য শিশুর মতোই ওসামাও এখন বাঁচার জন্য লড়াই করছে। প্রায় দেড় মাস ধরে গাজায় কোনো ত্রাণ বা খাবার ঢুকছে না। এটা যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ত্রাণ বন্ধ থাকার ঘটনা।

গাজায় আমরা এমন যুদ্ধ-অপরাধ প্রত্যক্ষ করছি, যেখানে মানবজীবনের প্রতি কোনো সম্মান নেই,” জাতিসংঘ সংস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিসহ বিভিন্ন মানবিক ও স্বাস্থ্য সংগঠন এক যৌথ বিবৃতিতে একথা জানায় ।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস (OCHA) তাদের সর্বশেষ আপডেটে জানিয়েছে, মার্চ মাসে ইসরায়েল অবরোধ আরোপ করার পর থেকে কোনো ত্রাণ ঢুকতে পারে নি। এর ফলে অপুষ্টি ও প্রতিরোধযোগ্য রোগ বাড়ছে, এতে শিশুদের মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে। ওষুধও দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।

যদিও আন্তর্জাতিক চাপ ও সমালোচনার মুখে ইসরায়েল বলেছে যে গাজায় “মানবিক ত্রাণের কোনো ঘাটতি নেই,” কারণ যুদ্ধবিরতির সময় তারা হাজার হাজার ট্রাক ত্রাণ প্রবেশ করতে দিয়েছিল বলে দাবী করে। এনবিসি নিউজ এ বিষয়ে মন্তব্য চাইলে ইসরায়েলের সামরিক সংস্থা COGAT ইসরায়েলি কতৃপক্ষের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন মিলেকোস্কির (নেতানিয়াহু) দপ্তরে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু সেখান থেকে কেউ উত্তর দেয়নি।

খান ইউনিসে এনবিসি নিউজ দেখেছে, শিশুরা খালি হাঁড়ি-পাতিল হাতে একটি রান্নাঘরের চারপাশে ভিড় করছে।
যদি আমি খাবার না পাই, আমরা খেতে পারব না,” বলছিল এক ছোট মেয়ে, বারা আবু মুসা। “আমাদের বাসায় কিছুই নেই।”
এক ছোট মেয়ে বারা আবু মুসা, যখন তাকে ভিড় থেকে ঠেলে বের করে দেওয়া হয় সে বলে, “যদি খাবার না পাই, আমরা খেতে পারব না। বাসায় কিছুই নেই।”
চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর, বারা তার পরিবারকে খাওয়ানোর জন্য এক মুঠো ভাত পায়।

১৮ মার্চ ইজরায়েল যুদ্ধবিরতি ভেঙে হামলা শুরু করে, কার্যত কোনো প্রতিরোধ না আসার পরও ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের একটি মিলিটারি অভিযানের পর পাল্টা অভিযানে ইসরায়েলের হামলায় গাজার এখন পর্যন্ত ৫১,০০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে—তাদের অনেকেই নারী ও শিশু। গাজার বেশিরভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে। এখনও সেখানে জীবিত ও মৃত মিলিয়ে ৫০ জনেরও বেশি ইসরায়েলি বন্দী রয়েছে।

কেরানীগঞ্জে ৭ বছরের শিশু ধর্ষণ: আসামি পলাতক 

0

ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ঘটেশ্বর পশ্চিম পাড়া এলাকায় ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মর্মান্তিক অভিযোগ ওঠেছে ৬০ বছর বয়সী জসিম মিয়ার বিরুদ্ধে। গত ১১ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে জসিম শিশুটিকে পুতুল কেনার প্রলোভন দেখিয়ে নিজের সাততলা বাড়ির ছাদে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।   

শিশুটির বাবা জানান, তিনি ও তার স্ত্রী একটি গার্মেন্টস কারখানায় স্টোনের কাজ করেন। শুক্রবার সকালে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে মেয়েকে এক আত্মীয়ের কাছে রেখে তিনি কাজে যান। রাত ১০টায় বাড়ি ফিরে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজা শুরু করেন। পরে স্থানীয় ঘাটেশ্বর প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন একটি সাততলা ভবনের নিচতলায় মেয়েকে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়। সচেতন হওয়ার পর মেয়ে জসিমের কৃতকর্মের কথা জানায়। 

শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা (নম্বর-১৪) দায়ের করেছেন। থানার উপ-পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত জসিম ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাকে গ্রেফতারের জন্য তৎপরতা চলছে। পুলিশের সহায়তায় শিশুটিকে ঢামেকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে, যেখানে তার শারীরিক ও মানসিক পরিচর্যা চলছে। 

শিশুটির পরিবার ন্যায়বিচার ও দোষীর দ্রুত গ্রেফতার চেয়ে বিক্ষোভ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে। 

শিশু অধিকার কর্মীরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেরানীগঞ্জে শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। এ ধরনের অপরাধ রোধে সমাজে সচেতনতা বাড়ানো, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। 

 

বিলাসপুরে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় বসত বাড়িতে হামলা

ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের ছোট রামনাথপুর গ্রামে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় বসত বাড়িতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই হামলায় কনের বড় বোনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাহজাহান মাঝি নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর পরিবার দোহার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

ভুক্তভোগী পারভীন আক্তার (২৫) জানান, গত ১০ই এপ্রিল দুপুর ১টায় তিনি দোহার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন—আব্দুল কাদেরের ছেলে শাহজাহান মাঝি (৬৫) এবং খোকন মাঝির ছেলে রিফাত (১৮)।

অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘ এক বছর ধরে শাহজাহান মাঝি তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছেন। তিনি রাজি না হওয়ায় শাহজাহান মাঝি রাজনৈতিক নেতাদের পাঠিয়ে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেন এবং ব্ল্যাকমেইল করে বিয়েতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন।

পারভীন বলেন, “আমি বরিশালের মেয়ে, বর্তমানে দুলাভাইয়ের বাসায় থাকি। এক বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর এই এলাকায় এসে থাকছি। শাহজাহান মাঝি প্রতিনিয়ত আমাকে বিরক্ত করেন। বাসায় এসে বসে থাকেন, খেতে বা পানি পান করতেও বাধা দেন। আজ তুচ্ছ কথায় তিনি আমার বোন ও আমাকে মারধর করেন।”

ভুক্তভোগী পারভীনের বড় বোন সারমিন বেগম বলেন, “আমার বোনের স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তারা বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছে। আমি রাজি না হওয়ায় জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে হুমকি দেয়। শাহজাহান মাঝি নিজে বেকার, রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং এর আগেও দুই-তিনটি বিয়ে করেছেন। এক স্ত্রীকে নির্যাতন করে তাড়িয়েছেন।”

সারমিন অভিযোগ করেন, “আজ আমাকে এবং আমার বোনকে রাস্তায় টেনে হিঁচড়ে ব্রিজের কাছে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। আমাকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। আমার ছোট বোনের আড়াই বছরের সন্তান রয়েছে, পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্বে আমার স্বামী রিকশা চালিয়ে কষ্টে সংসার চালায়।”

স্থানীয় আদেল হাওলাদার বলেন, “আমরা শাহজাহান মাঝির সাথে কোনো সম্পর্ক রাখি না। আজ ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পর সে বাসায় এসে হুমকি দিয়ে বলে, ‘আমি যদি আব্দুল কাদের মাঝির ছেলে হয়ে থাকি তাহলে কেউ কিছু করতে পারবে না।’ এরপর আমাদের মারধর করে।”

অভিযোগ বিষয়ে শাহজাহান মাঝি প্রথমে মন্তব্য করতে না চাইলেও পরে বলেন, “আমি অনেক আগে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আজ তাদের বাড়িতে গেলে তারা আমার দাড়ি ও পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলে এবং আমাকে মারধর করে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।” আর জায়গার ব্যপারে আমি কিছু জানিনা।

এ বিষয়ে দোহার থানার ওসি মো. রেজাউল করিমকে তাৎক্ষণিক পাওয়া না গেলেও ডিউটি অফিসার এসআই আবু সাদেক বলেন, “শাহজাহান মাঝির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে এখনো ঘটনাস্থলে তদন্তে যাওয়া হয়নি।”

ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।