প্রতিবেদক এমআরএম : মৃতপ্রায় ইছামতি নদীকে বাঁচাতে এবং নদীর ব্যবহারযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে ঢাকার নবাবগঞ্জে কচুরিপানা অপসারণ ও সবজি চাষ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার সকালে নয়নশ্রী ইউনিয়নের রামনগর ও খানেপুর পয়েন্টে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়।
এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করছে তিনটি সংগঠন—ইছামতি নদীর কচুরিপানা অপসারণ কমিটি, সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম এবং নৌকাবাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটি।
কর্মসূচির সমন্বয়ক রাশিম মোল্লা জানান, “প্রাথমিকভাবে ইছামতি নদীর ১০টি পয়েন্টে কচুরিপানা অপসারণ করা হবে। পয়েন্টগুলো হলো তুইতাল, দাউদপুর, বারুয়াখালী, শিকাড়িপাড়া, জয় কৃষ্ণপুর, কার্তিকপুর, বান্দুরা, দেওতলা ও গোল্লা। এই উদ্যোগ নবাবগঞ্জ উপজেলার কাশিয়াখালী বেড়িবাঁধ থেকে বান্দুরা এবং দোহার উপজেলার কার্তিকপুর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা জানি পুরো নদী পরিষ্কার করা আমাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে আমরা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করছি। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এ জন্য আমরা নদীপাড়ের জনগণ ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. আবুল হোসেন খন্দকার। তিনি বলেন, “নদী আমাদের প্রকৃতির আশীর্বাদ। ইছামতি নদীকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আজকের এই উদ্যোগ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। শুধু অপসারণ নয়, কচুরিপানা ব্যবহার করে সবজি চাষের মতো উদ্ভাবনী ভাবনারও পরিচয় দিয়েছেন উদ্যোক্তারা। স্থানীয় প্রশাসনের উচিত এই কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করা।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সমাজকর্মী মোহাম্মদ মোহাম্মদ আলম, দৈনিক আগামীর সময় সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান, নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ, নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক আজহারুল হক, নয়নশ্রী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শারজাহান মোল্লা, একুশে ব্লাড ডোনার্স ক্লাব সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, সমাজকর্মী সুহেল রানা, রফিক মেম্বারসহ আরও অনেকে।
