গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২০০, ঘরছাড়া ৩ লাখ

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গত ৪৮ ঘণ্টায় ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষকে জোরপূর্বক গাজা শহরের দিকে সরিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস।

শনিবার (১৭ মে) এক বিবৃতিতে তারা এই তথ্য জানায়। রোববার (১৮ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বিবৃতিতে বলা হয়, “ইসরায়েলের রক্তাক্ত ইতিহাসে আরও একটি ভয়াবহ অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। শুধুমাত্র উত্তর গাজা গভর্নরেটেই গত দুই দিনে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের এই ধারাবাহিকতা স্পষ্টতই গণহত্যারই অংশ।”

গাজার মিডিয়া অফিস আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা ওই অঞ্চলের এক হাজারেরও বেশি বাড়িঘর পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস করেছে। পাশাপাশি, ৩ লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে গাজা শহরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের আশ্রয় দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামোই নেই।

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ইসরায়েলি সেনারা ইচ্ছাকৃতভাবে অ্যাম্বুলেন্স ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের হামলার স্থানে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে। ফলে প্রায় ১৪০ জনের লাশ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সফরের সময় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা চার দিনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭৮ জনে, যা পূর্ববর্তী চার দিনের তুলনায় প্রায় চারগুণ।

দিল্লি থেকে ৪০ রোহিঙ্গাকে ধরে নিয়ে সাগরে ফেলে দিলো ভারত

ভারতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তাদের অভিযোগ, নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আন্দামান সাগরে ফেলে দিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার (ওএইচসিএইচআর), রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিবার ও তাদের আইনজীবীরা এই অভিযোগ করেছেন। বলা হয়েছে, ওই ৪০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে জীবন রক্ষাকারী জ্যাকেট পরিয়ে মিয়ানমারের সামুদ্রিক সীমানার কাছে (আন্দামান সাগরে) ফেলে দেওয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। ওএইচসিএইচআর আরও জানায়, গত ৬ মে নয়াদিল্লি থেকে আটক করা রোহিঙ্গাদের ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্তৃপক্ষ ৮ মে বিমানযোগে নিয়ে গিয়ে সাগরে ফেলে দিয়েছে। তাদের মধ্যে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরাও ছিলেন। সাঁতরে তারা মিয়ানমারের কোনো এক দ্বীপে পৌঁছলেও তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

ভারতের শরণার্থীবিষয়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফিরে আসা বেশির ভাগই ভারতে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের নিবন্ধিত ছিলেন এবং তাদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের অজুহাতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করেছিল।

এ ঘটনায় জাতিসংঘের পক্ষ থেকে একজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি ঘটনা তদন্ত করবেন। পাশাপাশি ওএইচসিএইচআর ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের এমন অমানবিক ও জীবনের জন্য হুমকি এ রকম পরিস্থিতিতে ঠেলে না দেওয়া হয়।

এক রোহিঙ্গা শরণার্থী বলেন, তার ভাই ৮ মে স্থানীয় এক জেলের কাছ থেকে মোবাইল ধার করে ফোন করে জানায়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাদের বেঁধে রাখা চোখ ও হাত খুলে দেয়। এরপর জীবন রক্ষাকারী জ্যাকেট পরিয়ে সাগরে ঝাঁপ দিতে বলে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বাবা-মাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমি শুধু আমার বাবা-মাকে ফিরে পেতে চাই। আমার আর কিছু লাগবে না।’

মায়ানমারের সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকারের মুখপাত্র থেট সোয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের জন্য পাঠানো ইমেইলের জবাব দেননি। এপি তাদের একটি ফোনালাপের রেকর্ডও পর্যালোচনা করেছে, যেখানে এক রোহিঙ্গা তার ভাইকে ফোনে জানাচ্ছেন, গ্রুপের কয়েকজনকে ভারতীয় নৌবাহিনী মারধর করেছে। ভারতের নৌবাহিনী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভারত এখনো শরণার্থীদের জন্য কোনো জাতীয় নীতি বা আইন প্রণয়ন করেনি এবং ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশন ও ১৯৬৭ সালের প্রটোকলেরও সদস্য নয়। তবুও দেশটিতে আনুমানিক ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করছেন, যাদের মধ্যে ২২ হাজার ৫০০ জন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) নিবন্ধিত সদস্য। তারা মূলত ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অনুন্নত, অপরিচ্ছন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। অনেক রোহিঙ্গাকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। কিছু রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে ফেরতও পাঠানো হয়েছে।

২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার একটি বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করে, যা সমালোচকদের মতে মুসলিম শরণার্থী, বিশেষত রোহিঙ্গাদের প্রতি বৈষম্যমূলক। এ ঘটনায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ভারত সরকারের প্রতি রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদ্ণ্ড

ডেস্ক রিপোর্টঃ মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকালে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান এই রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার মাত্র দুই মাস ১১ দিনের মাথায় এই মামলার রায় হলো।

গত ১৩ এপ্রিল আলোচিত এই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় বিচার কার্যক্রম। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন ২৯ জন। ছুটির দিন বাদে টানা শুনানি করে ১২ কার্যদিবসে শেষ হয় বিচার।

গত ৬ মার্চ মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। গুরুতর আহতাবস্থায় প্রথমে তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতাল নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।

বান্দুরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির গ্রেফতার

নিউজ৩৯: ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বান্দুরা এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ বান্দুরার একটি খ্রিষ্টান পরিবারের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে কয়েকজনকে আড্ডারত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের মধ্যেই ছিলেন হুমায়ুন কবির। এরপর তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানান, হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় দায়েরকৃত বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় নাম রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত জুলাই-আগস্টে অনুষ্ঠিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ফাতেমা বেগম ও এস. এম. আরিফুল ইসলাম পৃথকভাবে দুটি মামলা করেন। মামলাগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ. রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়। একইসঙ্গে মামলায় ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, আলমগীর হোসেনসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ মোট ৪০৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলাগুলোর প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত তিনজন ইউপি চেয়ারম্যানসহ প্রায় অর্ধশতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হলেও শীর্ষ পদধারীদের মধ্যে কেউ এখনও গ্রেপ্তার হননি।

নবাবগঞ্জে ২ কিলোমিটার দৌড়ে হত্যাচেষ্টার আসামি ধরেছে পুলিশ

শেখ ফয়সাল: নবাবগঞ্জে সাংবাদিক হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বিপ্লব (২৭)-কে দুই কিলোমিটার ধাওয়া করে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (১৪ মে) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিনুল ইসলাম।

বিপ্লব নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের নূরনগর এলাকার শামীম চৌকিদার ওরফে আক্কেল চৌকিদারের ছেলে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয় স্থানীয় সাংবাদিক ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন ও দৈনিক আমাদের সময়-এর প্রতিনিধি নাজমুল হোসেন অন্তরকে হত্যাচেষ্টার মামলায়।

নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিয়াকত হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বিপ্লব বান্দুরা বাজারের একটি সেলুনে অবস্থান করছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মনির ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ সেখানে অভিযান চালান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বিপ্লব পালানোর চেষ্টা করে। প্রায় দুই কিলোমিটার ধাওয়া করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় বিপ্লবের হাতে থাকা একটি দেশীয় চাপাতি দিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করে। তবে স্থানীয় জনতার সহায়তায় তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তার কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি মমিনুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পরপরই সাংবাদিকের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। শুরুতে চপল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী ইখতিয়ার ওরফে মাইজা কাকাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল মাইজা কাকা।”

তিনি আরও জানান, “বিপ্লবকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলার সব এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। বিপ্লবের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ ও দোহার থানায় মাদক, ডাকাতি চেষ্টা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

বান্দুরা-ঢাকা রুটে চালু হল এসি বাস সেবা দোহার নবাবগঞ্জ এক্সপ্রেস

ঢাকা-বান্দুরা আঞ্চলিক মহাসড়কে এসি বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে দোয়া মাহফিল ও ফিতা কেটে ঢাকা থেকে বান্দুরা পর্যন্ত দোহার নবাবগঞ্জ এক্সপ্রেস তাদের এসি সিটিং সার্ভিসের উদ্বোধন করেন।

জানা যায়, দোহার নবাবগঞ্জ এক্সপ্রেস প্রাথমিকভাবে ১০টি এসি বাসের মাধ্যমে যাত্রী পরিসেবা শুরু করবেন। আগামী রবিবার সকাল ৭টা থেকে যাত্রী পরিবহণ শুরু হবে।

ম‍্যানেজিং ডিরেক্টর খন্দকার মাহমুদ আরশীন জানান, “দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলা রাজধানীর অত্যন্ত নিকটবর্তী হলেও পরিবহণ সেবায় অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। দুই উপজেলার বাসিন্দারা উন্নত পরিবহণ থেকে বঞ্চিত। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরও পরিবহণ সেবার মান সেভাবে উন্নত হয়নি। আমাদের ইচ্ছা ছিল দোহার নবাবগঞ্জবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে যাত্রা সহজ ও আনন্দদায়ক করতে বাসের এসি সার্ভিস চালু করবো। এসি বাসের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আজ আমাদের স্বপ্ন পূরণ হলো। আগামী রবিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এসি বাসের কার্যক্রম শুরু হবে। এই রুটে চলাচলকারী বাসগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, অত্যাধুনিক, আরামদায়ক এবং যাত্রীবান্ধব হবে। সেই সাথে যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা হবে। আমরা আশা করি, এই পরিষেবা যাত্রীদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় হবে এবং তারা গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত হবে।”

এসময় দোহার নবাবগঞ্জবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন দোহার নবাবগঞ্জ এক্সপ্রেসের চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক ও ম‍্যানেজিং ডিরেক্টর খন্দকার মাহমুদ আরশীন সহ স্থানীয় লোকজন।

গরমে সুরক্ষিত থাকার জরুরি নির্দেশিকা

তীব্র গরমে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা, কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললেই প্রতিরোধ করা যায়। তাপ প্রবাহের সময় ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। এ সময় নিজের ও পরিবারের সকলের সুস্থতা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আসিডিডিআর-বি) আলাদাভাবে পরামর্শ দিয়েছে।

তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে রক্ষা পেতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া জরুরি নির্দেশনাগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. দিনের বেলায় ঘরের বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি/ক্যাপ বা কাপড় দিয়ে মাথা যথাসম্ভব ঢেকে রাখুন।

২. হালকা রঙের সুতির ঢিলে-ঢালা জামা পরিধান করুন।

৩. প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করুন এবং তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন।

৪. সম্ভব হলে একাধিক বার গোসল করুন।

৫. অতিরিক্ত তেল-মশলা যুক্ত খাবার পরিহার করুন এবং বাসি, খোলা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৬. প্রস্রাবের রঙের দিকে লক্ষ্য রাখুন, গাড় হলুদ রঙের প্রস্রাব হলে অবশ্যই পানি পানের পরিমাণ বৃদ্ধি করুন।

৭. গরমে অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে স্বাস্থ্য বাতায়ন- ১৬২৬৩ নম্বরে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

অপরদিকে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আসিডিডিআর-বি)-এর ফেসবুক পেজেও গরমে সচেতন থাকার জন্য প্রায় একইরকম পরামর্শ দিয়েছে। পরামর্শগুলো হলো, দিনের বেলায় যথাসম্ভব বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন, রোদ এড়িয়ে চলুন। বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি/ক্যাপ বা কাপড় দিয়ে মাথা যথাসম্ভব ঢেকে রাখুন। হালকা রঙের, ঢিলে কতটা এবং সম্ভব হলে সুতির জামা পরুন, প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করুন। সহজে হজম হয় এমন খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন ও বাসি, খোলা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

দিনের বেলায় একটানা শারীরিক পরিশ্রম করা থেকে বিরত থাকুন, সম্ভব হলে একাধিকবার পানির ঝাপটা নিন বা গোসল করুন, প্রস্রাবের রঙের দিকে নজর রাখুন, তা হলুদ বা গাঢ় হলে অবশ্যই পানি পানের পরিমাণ বাড়ান, ঘরের পরিবেশ যেন অতিরিক্ত গরম বা ভ্যাপসা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন, বেশি অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আসিডিআর-বি’র মতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে যারা, ক) শিশু ও গর্ভবতী মা খ) বয়স্ক ব্যক্তি গ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ঘ) শ্রমজীবী বাক্তি, যেমন রিকশাচালক, কৃষক, নির্মাণ শ্রমিক, দিনমজুর ৩) স্থূলকায় ব্যক্তি চ) শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি বিশেষ করে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী, তারা বিশেষ ভাবে সাবধান থাকবেন।

ইছামতী নদীর দূষণে হুমকির মুখে জলজ প্রাণি, ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর প্রশাসন

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: নবাবগঞ্জের ইছামতী নদী মারাত্মক দূষণের শিকার, নদীর পানি কচুরিপানায় আচ্ছাদিত এবং রঙ পরিবর্তনের ফলে মাছ মরে ভেসে উঠছে। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সাভারের ট্যানারি বর্জ্য কালিগঙ্গা নদী হয়ে ইছামতীতে প্রবেশ করছে, যা নদীর পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে।

ইছামতী নদীর পানিপ্রবাহ হ্রাসের মূল কারণ হিসেবে পদ্মা নদীর সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়াকে দায়ী করা হয়েছে। জয়কৃষ্ণপুর, বারুয়াখালি, শিকারীপাড়া ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বেরিবাঁধ নির্মাণের ফলে এই বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া হরিরামপুরের ধূলশুড়া ইউনিয়নের বোয়ালি বাজার এলাকায় নদীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাস্তা নির্মাণের বিষয়টিও পরিদর্শিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং উপজেলা মৎস্য অফিসের সহযোগিতায় সোনাবাজু এলাকায় একটি স্লুইস গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই গেট নির্মাণ এবং মাঝখানের বাঁধ অপসারণের মাধ্যমে নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কলাকোপা, বক্সনগর, বাহ্রা ও আগলা ইউনিয়ন পরিষদের অংশের পানি পরীক্ষা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

সকলকে নদীর আশেপাশের এলাকায় ময়লা আবর্জনা নদীতে না ফেলার জন্য সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে নদীর দূষণ মুক্ত করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

জয়পাড়া পূর্ব বাজার সমিতির নির্বাচনে হুমায়ুন কবির মিজান সভাপতি, কবির হোসেন সম্পাদক পদে নির্বাচিত

মাহমুদুল হাসান সুমন: ঢাকা জেলার দোহার পৌরসভার জয়পাড়া পূর্ববাজার উন্নয়ন সমিতির নির্বাচন ১০ মে, ২০২৫, শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।সকাল ৯.০০ টায় নির্বাচন শুরু হয়ে একটানা বিকাল ৪.০০ টা পর্যন্ত ভোটগ্রহন চলে। এ নির্বাচনে ৪৫২জন ভোটারের বিপরীতে ৪৩২ জন ভোটারাধিকার প্রয়োগ করেন।

৪টি ভোট বাতিল ঘোষিত হয়। হুমায়ুন কবির মিজান ২৩৩ ভোট পেয়ে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাহিম হোসেন রুবেল পেয়েছেন ১৯৫ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কবির হোসেন ২৬৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জামাল হোসেন পেয়েছেন ১৬৪ ভোট।

সহ-সভাপতি পদে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ৩৪৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ হান্নান পেয়েছেন ৮৫ ভোট।

যুগ্ম সম্পাদক পদে মোঃ পারভেজ ২০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শিপন খান পেয়েছেন ২০৩ ভোট।

কোষাধ্যক্ষ পদে আজাদ হোসেন ২৬৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পরিমল চন্দ্র শীল পেয়েছেন ১৬৩ ভোট।

এছাড়াও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যারা নির্বাচিত হয়েছেন- সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সোহান গাজী , প্রচার সম্পাদক পদে গিয়াস উদ্দিন খান , ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মামুন মোল্লা, সদস্য হিসেবে মোঃ জিল্লুর রহমান, মোস্তাক হোসেন, মনির হোসেন, আদনান দোহারী, সজল রাজবংশী, মোঃ রফিকুল ইসলাম প্রমুখ ব্যবসায়ীরা।

ফলাফল ঘোষণা করা হলে নতুন সভাপতি হুমায়ুন কবির মিজান ও সেক্রেটারি কবির হোসেন সকল ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। কমিটির সকল সদস্য মিলে জয়পাড়া পূর্ব বাজার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, দোহার উপজেলা পরিষদ ভবন, পৌরসভা ভবন, দুইটি কলেজ, দুইটি বড় স্কুলসহ ৪৫২ টি ছোট বড় দোকান এ বাজারের অন্তর্ভুক্ত।

জিসাস-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সুমন আহমেদ মোল্লা নির্বাচিত

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সুমন আহমেদ মোল্লাকে নির্বাচিত করা হয়েছে। সুমন আহমেদ মোল্লা ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার বাসিন্দা এবং একজন সক্রিয় সাংস্কৃতিককর্মী।

জিসাস-এর সম্মানিত উপদেষ্টা মণ্ডলী এবং সিনিয়র নেতৃবৃন্দের পরামর্শে তাঁকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সুমন আহমেদ মোল্লা বলেন, “আমি জিসাস-এর সকল সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞ, যারা আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও সক্রিয় ও প্রাণবন্ত করতে কাজ করে যাব।”

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেছেন যে, সুমন আহমেদ মোল্লা তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করবেন এবং জিসাসকে আরও গতিশীল করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়েছে।