দুর্নীতি আর দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে হলে জাতীয় পার্টির বিকল্প নেই: শোল্লায় সালমা ইসলাম

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যুগান্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, দুর্নীতি আর দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে হলে জাতীয় পার্টির বিকল্প নেই। তৃণমূল নেতাকর্মীরা যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে তাতে আবারও জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসবে। জাতীয় পার্টির প্রতি মানুষের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক তৎপরতা সুসংগঠিত করে জাতীয় পার্টিকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি। মঙ্গলবার ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নে যমুনা গ্রুপের নিজস্ব অর্থায়নে অসহায়-দুস্থদের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সকাল ৮টা থেকে পর্যায়ক্রমে পাতিলঝাপ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, ১০টায় শোল্লা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ, দুপুর সাড়ে ১২টায় মদনমোহনপুর স্কুল মাঠে কয়েক হাজার শাড়ি, লুঙ্গি ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন তিনি।

প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম আগামী জাতীয় নির্বাচনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করছে। গভীর ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জনগণ চায়। যতই ষড়যন্ত্র করুন দেশের স্বার্থে জনগণ তা ছাড় দেবে না। তিনি আরও বলেন, যমুনা গ্র“পের চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বাবুল রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করছেন। আগামীতে গ্যাসের সংযোগ দিয়ে বিপ্লব ঘটিয়ে এলাকায় শিল্পকারখানা ও জীবনযাত্রার মান উন্নীত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে দোহার নবাবগঞ্জ এলাকায় কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

পাতিলঝাপ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাকাতের শাড়ি নিতে এসে বয়সের ভারে ন্যুব্জ জবেদা খাতুন বলেন, আমগো পোলা পতিবছর কাপুড় চুপুর চাউল-ডাউল দিয়া বাঁচাইয়া রাখে। ওর কম্বল পাইয়া শীতে বাইচ্ছা আছি। আল্লা ওরে আরও বেশি বেশি টেকাপয়সা দিক। মন্ত্রী-এমপিরা আমাগো লিগা সব করে দিবার কতা কয়। কিন্তু কেউ কতা রাহেনা। কেউ কিছুই তো করলো না ভোট গেলে তাগো আর খোঁজ থাহে না। তাদের আর কাউরে ভোট দিমু না। এবার আমগো পোলা বাবুলের বউকে ভোট দিমু এবং ছেলে মাইয়াগো ভোট দিতে কহুম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলার জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব শরফুদ্দিন আহম্মেদ শরীফ, শোল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ফজলুর রহমান ফজল, নবাবগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম-আহ্বায়ক খন্দকার নুরুল আনোয়ার বেলাল, জুয়েল আহম্মেদ, মোঃ খলিলুর রহমান, মোঃ শাহজাহান, শেখ ফরিদ আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মোল্লা, একেএম আবদুল হালিম, খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেনসহ স্থানীয় জাতীয় পার্টি, যুবসংহিত, মহিলা পার্টি ও ছাত্রসমাজের নেতারা।

৩৫ লাখ টাকা নিয়ে মুদি ব্যবসায়ী উধাও

ঢাকার নবাবগঞ্জে মুদি ব্যবসায়ী সুমন সাহা ইসলামী ব্যাংক ও বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা দিয়ে উধাও হয়ে গেছে।

সুমন সাহা (২৫) নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের কান্দাবাড়িল্যা গ্রামরে নারায়ণ সাহার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুন সুমন সাহা সকালে দোকান করে বিকালে আর খোলে নি। তারপর থেকে সে উধাও।

দাউদপুর বাজারের ব্যাবসায়ীদের ধারণা সুমন সাহা টাকা নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে সুমন সাহার চাচা একই বাজারের ব্যাবসায়ী সঞ্জিত সাহা বলেন, “সুমন কোথায় উধাও হয়ে গেছে এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারি না।”

ব্যাবসায়ী আল-আমীন জানায়, “আমি বান্দুরা শাখার ইসলামী ব্যাংক থেকে সুমন সাহাকে ১ লাখ টাকা লোন নিয়ে দিয়েছিলাম। সুমন সাহার কাছে ব্যাংকের টাকা ও আমার দোকানের বাকিসহ মোট ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পাব।”

অন্য এক ব্যাবসায়ী উত্তম সাহার ১ লক্ষ ১৯ হাজার, ভজা সাহার ১০ হাজার, কাচামাল ব্যাবসায়ী আদুর ১ লক্ষ ৬০ হাজার, কাচামাল ব্যাবসায়ী হাকির ১ লক্ষ ৪০ হাজার, মোস্তফার ৬০ হাজার, আক্কাছ পরামানিকের ৩ লক্ষ ৬০ হাজার, কোরবানের ১ লক্ষ ৭০ হাজার, খায়রুল ইসলামের ২৯ হাজার, শহিদের ৩৬ হাজার, গপি হালদারের ১ লক্ষ ৪০ হাজার সহ আরো অনেকের কাছ থেকে সুদে নিয়ে মোট ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে সুমন সাহা।

দোহারের কাটাখালীতে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করায় বিক্ষোভ

ঢাকার দোহার উপজেলায় শিক্ষককে লাঞ্ছিল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

শনিবার উপজেলার কাটাখালী মিছের খান উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আবদুল মজিদকে (৫৩) লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে তারাবির নামাজ পড়তে মসজিদে গেলে বিদ্যালয়ের ছাত্র বিধান আহম্মেদসহ কয়েকজন ছাত্র মসজিদের ভেতরে নামাজে বিঘ্ন ঘটায়। এ সময় শিক্ষক মজিদ তাদের শাসন করেন।

নামাজ শেষে মজিদ বিদ্যালয়ের কাছে চায়ের দোকানে চা পান করছিলেন। এ সময় বিধানের বাবা সোনা মিয়া শিক্ষক মজিদকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তক্ষুণি স্থানীয় লোকজন তার প্রতিবাদ করেন।

লাঞ্ছনার প্রতিবাদে পরদিন বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং দোষী ব্যক্তির শাস্তির দাবি জানান।

দোহার থানার সহকারী উপপরিদর্শক মো. রফিক জানান, শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এন মল্লিক পরিবহন চলাচলে বাধা দেয়ার অভিযোগ

চাঁদা না দেয়ায় ঢাকা বান্দুরা সড়কে এন মল্লিক পরিবহন চলাচলে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১২ জুলাই শুক্রবার দুপুরে রামেরকান্দা বোডিং এর কাছে যাত্রীবাহি গাড়ী আটকে রাখা হয়।

এন মল্লিক পরিবহনের চেয়ারম্যান নার্গিস মল্লিক জানান, রুহিতপুর রামের কান্দা বোডিং এলাকায় শাক্তা ইউনিয়ন শ্রমিকলীগ সভাপতি মো. জুলহাস উদ্দিন ও রুহিতপুর বাজার এলাকায় রুহিতপুর ইউনিয়ন শ্রমিকলীগ সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মুন্সি ও তার বাহিনী দীর্ঘদিন যাবত তার পরিবহনের কাছে মাসিক চাঁদা দাবী করে আসছে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করায় মাঝে মাঝেই তার গাড়ীর শ্রমিকদের মারধর করতো। এ বিষয়ে তিনি কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ওসি মাইনউদ্দিনকে একাধিকবার জানিয়েও প্রতিকার পান নি বলে জানান।

বাস শ্রমিক ও যাত্রী সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই শুক্রবার দুপুর ১২টায় নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা থেকে ছেড়ে আসা এন মল্লিক পরিবহণের দুটি বাস রামেরকান্দা পৌছলে জুলহাসের নেতৃত্বে কিছু লোকজন লাঠিসোঠা নিয়ে আটকে দেয়। এসময় যাত্রীরা অনুরোধ করলে তাদেরকে হুমকি ধামকি দেয় এবং ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। ভয়ে যাত্রীরা নেমে গেলে গাড়ী দুটি আটকে রাখে। গাড়ীতে থাকা যাত্রী আবুল কালাম জানান, প্রায় প্রতিদিনই এখানে নামধারী শ্রমিক নেতারা গাড়ী থামিয়ে চাঁদা আদায় করছে। এতে সাধারণ যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে।

এব্যাপারে শ্রমিকলীগ নেতা জুলহাস জানান, তিনি কোন চাঁদা চান নি। “গত রোববার এন মল্লিক পরিবহনের একটি গাড়ী দূর্টঘনার শিকার হলে লোক মারা যায়। এ ঘটনায় আমার বিশ হাজার টাকা খরচ হয়। তিনি সে টাকা দাবী করেছেন। চাঁদাবাজির অভিযোগটি মিথ্যা।”

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাইনউদ্দিন বলেন, গাড়ীর মালিকের কাছ থেকে ঘটনা শুনেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

নবাবগঞ্জের বারুয়াখালীতে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় জহুরা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। ১৩ জুলাই শনিবার বিকালের দিকে উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের দীর্ঘ গ্রামের পার্শ্ববর্তী চকের একটি ধঞ্চে ক্ষেত থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত জহুরা বেগম উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মৃত রকমান মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, ১৩ জুলাই শনিবার বিকাল ৫ টার দিকে একটি ধনচে ক্ষেতে এক বৃদ্ধার লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে জানায়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজে আসন বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজে মানবিক শাখায় আসন বাড়ানোর দাবিতে কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে।

কলেজ সূত্র জানায়, একাদশ শ্রেণীর মানবিক শাখায় আসন সীমিত থাকায় ১৯২ জন আবেদনকারী ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পেয়ে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে কলেজ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করে। এক পর্যায়ে তারা কলেজের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়।

এসময় ছাত্র/ছাত্রীদের কলেজ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল সমর্থন করে। তাৎক্ষনিক কলেজ পরিচালনা কমিটি ও অধ্যক্ষ তার কক্ষে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে নেন। আসন বাড়ানোর জন্য বোর্ড কতৃপক্ষের কাছে আবার আবেদন করা হবে বলে অবিভাবকদের একটি লিখিত অঙ্গিকারনামা দেন।

এই আশ্বাস পেয়ে শিক্ষার্থীরা ফটকের তালা খোলে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। উল্লেখ্য বোর্ড থেকে মানবিক শাখায় ৩ শত আসনের অনুমোদন রয়েছে কিন্তু এ বিষয়ে আবেদন করেছেন ৪ শত ৯২ শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীরা জানান, আশপাশে আরো কলেজ রয়েছে ঐ কলেজগুলো বোর্ডে আবেদন করায় হয়তো আমরা নবাবগঞ্জের প্রধান কলেজে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। কোন কলেজে পড়াশুনা করবো আমাদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা। আশাকরি বোর্ড আমাদের সে সুযোগ করে দিবে।

নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, ডিএন কলেজে ছেলে মেয়েদের ভর্তি করলে আমাদের সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া ফলাফলেরও বিষয় রয়েছে। এ কলেজে ভর্তি করলে ছেলে মেয়েরা ভাল ফলাফল করবে।

দোহার নবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মানবেন্দ্র দত্ত জানান, মানবিক বিভাগের বর্ধিত আসনের জন্য বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে। বোর্ড বর্ধিতগুলো আবেদনগুলো পঠাতেও বলেছেন। আমরা আবার পাঠাব। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে একটি লিখিত অঙ্গিকারনামা হয়েছে। বোর্ড থেকে অনুমতি না পেলে কলেজ এ ব্যাপারে দায়ী থাকবে না।

নবাবগঞ্জে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত

১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। ‘কৈশরে গর্ভধারণ, মাতৃমৃত্যুর অন্যতম কারণ’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে রেখে সারা বিশ্বে পালিত হল জনসংখ্যা দিবস।

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় র‌্যালী ও আলোচনা সভা মাধ্যমে পালিত হয় দিবসটি। বৃহস্প্রতিবার সকাল ১০টায় উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের আয়োজনে একটি র‌্যালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে মহাকবি কায়কোবাদ চত্বর প্রদক্ষিণ করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সম্মেলন কক্ষে দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। মেডিকেল অফিসার ডা. কাজী গোলাম আহসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অথিতি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মাহ্বুবুর রহমান। আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. গঙ্গা গোবিন্দ পাল, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শাহজালাল।

সভায় বক্তারা বলেন বাল্যবিবাহ কিশোরীদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়। কিশোরীদের জোর করে বা প্রতারণা করে যৌনমিলনে বাধ্য করা হয়। অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার কারণে বেশির ভাগ কিশোরীর মধ্যেই যৌন শিক্ষা-সম্পর্কিত কোনো ধারণা নেই এবং তারা নিজের পছন্দমতো সময়ে গর্ভধারণ করতে পারে না। দরিদ্র পরিবারের এই কিশোরীরা বেশির ভাগ সময় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক যৌন অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। কম বয়সী মা ফিস্টুলার ঝুঁকিতে থাকেন, জীবনীশক্তি হারান, শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে ভোগান্তির শিকার হন।

অনিরাপদ গর্ভপাত জনিত কারণে কিশোরী ও কম বয়সী নারীরা দীর্ঘ মেয়াদি শারীরিক জটিলতায় ভোগে ও মৃত্যু মুখে পতিত হয়।

২০০৮ সালের এক জরিপে দেখা গেছে উন্নয়নশীল দেশে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশারীর প্রায় ৩ মিলিয়ন অনিরাপদ গর্ভপাত ঘটিয়েছে। ২০ থেকে ২৯ বছর বয়েসে সন্তান জন্মদান কারী মায়ের তুলনায় ২০ বছরের কম বয়সে সন্তান জন্মদানকারী মায়েরা ৫০ শতাংশ মৃত শিশু জন্ম দেন। বর্তমানে প্রতি হাজার জীবিত শিশু জন্মের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যু হার শতকরা ১ দশমিক ৯৪ ভাগ। ২০০১ সালে যা ছিল ৩ দশমিক ২ ভাগ।

বাল্য বিবাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থ-সামাজিক অবস্থাকে দায়ী করে বক্তারা বলেন, দারিদ্রই বাল্য বিবাহের অন্যতম প্রধান কারণ। তবে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের হিসেব মতে, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬৫০ সালে ১ কোটি ছিল। তা ২শ’ বছর পর ১৯৫১ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিগুণ অর্থাৎ ২ কোটি ৩ লাখ হয়। এই জনসংখ্যা ৪ কোটি ২০ লাখ হয় ৯০ বছরে (১৯৪১ সালে)।

দেশে বর্তমান জনসংখ্যা ১৪ কোটি ২৩ লাখ ১৯ হাজার। জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক হার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বাস করে ৯৭৯ জন মানুষ। বর্তমান হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী ৫০ বছরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হবে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল উর্ধ্বগামী। ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমতে শুরু করলেও তা ছিল পূর্বে বৃদ্ধির তুলনায় একেবারেই উদ্বেগজনক।

নবাবগঞ্জে যুবক খুন

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় লাভলু মিয়া (২৯) নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।  মঙ্গলবার রাত ১০টায় উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের চরকান্দিতে ইছামতী নদীর তীরে একটি পাটখেত থেকে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে। গতকাল বুধবার সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

লাভলু ওই গ্রামের মো. করিমের ছেলে। এই ঘটনায় লাভলুর স্ত্রী নাজমা বেগম গতকাল অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

লাশের সুরতহাল করেছেন থানার উপপরিদর্শক ইশতিয়াক রাসেল। গতকাল দুপুরে তিনি নিউজ৩৯কে বলেন, লাভলুর শরীরে পাঁচ-ছয়টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন আছে। তবে কে বা কারা তাঁকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে, তা জানা যায়নি।

জয়পাড়া কলেজের শিক্ষক আমিনুর রসুল ও সিদ্দিকুর রহামান-এর বিদায়

সোমবার দোহারের জয়পাড়া কলেজের দুই প্রবীণ শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধণা অনুষ্ঠিত হল, শিক্ষকদ্বয় হলেন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আমিনুর রসুল ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সিদ্দিকুর রহামান।

এই দুইজন শিক্ষক জয়পাড়া কলেজের সবচে’ পুরোনো শিক্ষকদের অন্যতম। মো. আমিনুর রসুল মো. সিদ্দিকুর রহামান দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় এই কলেজের শিক্ষকতা করেন। উভয় শিক্ষক তাদের বক্তব্যে কলেজটির শুরু কঠিন দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন। বিদায়ী শিক্ষক মো. আমিনুর রসুলের বক্তব্য থেকে জানা যায় এই কলেজটি আর্থিক সংকটে পড়ে টেক্সটাইল মিলে রুপান্তরিত হবার আশংকা ছিল। তখন কলেজের শিক্ষকগণ ব্যক্তিগত ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে টেক্সটাইল মিলে রুপান্তরিত হবার হাত থেকে রক্ষা করেন।

সেই সময়ে কলেজে যাতায়াত অসুবিধাও তারা আন্তরিকতা দিয়ে জয় করেন। সেদিনের সেই উচ্চমাধ্যমিক কলেজটি তাদের পরিশ্রমে আজ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উন্নীত হবার সুযোগ পেয়েছে।

উভয় শিক্ষক তাদের সহকর্মী, ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানান, দীর্ঘ সময় তারা এই এলাকার মানুষদের সাথে আন্তরিক পরিবেশে মিশেছেন।

শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহামান দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন, তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। মো. আমিনুর রসুল বাকি জীবন স্রষ্টার ইবাদত করে কাটিয়ে দিতে যেন পারেন সেই দোয়া কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ মোয়াজ্জেম হোসেন, কলেজর শিক্ষক মো. এনায়েত উল্লাহ, শিক্ষক মোতালেব হোসেন, শিক্ষক আব্দুর রহামন সহ অন্যান্য শিক্ষকগণ, আরও উপস্থিত ছিলেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, ছাত্র নেতা সহ সাধারণ ছাত্রছাত্রী।

অনুষ্ঠানের কিছু মুহূর্ত:

 

নবাবগঞ্জে পুলিশের হাত থেকে রিমান্ডের আসামী চম্পট

নবাবগঞ্জ উপজেলায় আদালত থেকে থানায় নিয়ে আসার পথে রিমান্ডের ১ আসামী পালিয়েছে।  আসামীকে ধরতে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে বলে নিউজ৩৯কে নিশ্চিত করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার নবাবগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর এলাকা থেকে মাদক বিক্রয় ও বহনের সময় পুলিশের মাদক ব্যবসায়ী রবিনসহ আরো ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার পুলিশ রবিনকে আদালতে প্রেরণ করে। পুলিশ রবিনকে রিমান্ড চাইলে আদালত রবিনসহ ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রাত ৮টার দিকে আদালত থেকে প্রাইভেটকার যোগে থানায় আনার পথে আগলা বাজার এলাকা থেকে হ্যান্ডকাপ পরিহিত অবস্থায় রবিন পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনর্চাজ মাসুদ করিম নিউজ৩৯ কে  জানান, রবিনকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে।