যদি কেউ দাড়ি না রাখে তাহলে সে কি গোনাহগার হবে?

আমাদের আগে জানতে হবে রাসূল (সা.)এর সুন্নত বলতে কি বোঝায়। রাসূল (সা.) এর ছোট/বড় সব আমল সবার জন্য ওয়াজিব নয়। বিশ্বনবীর কিছু সাধারণ আচার-আচরণ তাঁর সুন্নত হলেও এর সবগুলো পালন করা ফরজ বা ওয়াজিব নয়। তবে রাসূল (সা.)এর কিছু আমল আছে যা সরাসরি ধর্মীয় নির্দেশ; কাজেই সেসব পালন করা আমাদের জন্য অত্যাবশ্যক বা ওয়াজিব। তার মানে দাঁড়াচ্ছে এই যে, রাসূলের সুন্নতকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগের সুন্নত সবার জন্য ওয়াজিব নয় এবং দ্বিতীয় ভাগের সুন্নতগুলো তাঁর প্রতিটি উম্মতের জন্য ওয়াজিব বা অবশ্যপালনীয় কর্তব্য।

এবার দেখা যাক, দাড়ি রাখা কোন্‌ পর্যায়ের সুন্নত। ঐতিহাসিক দলিল থেকে আমরা জানতে পারি, রাসূল (সা.) দাড়ি রাখতেন এবং এটি তাঁর সুন্নত হিসেবে পরিগণিত। কিন্তু এ আমলটি প্রথম পর্যায়ের সুন্নত হিসেবে পরিগণিত বলে সবার জন্য ওয়াজিব নয়। অর্থাত্‌ কেউ যদি দাড়ি না রাখে তাহলে সে হারাম কাজ করেনি। অবশ্য দাড়ি রাখার সমর্থনে ও দাড়ি কামানো হারাম বলে যেসব হাদিস বর্ণনা করা হয় সেসব যায়িফ বা দুর্বল হাদিস হিসেবে চিহ্নিত এবং এগুলোর সত্যতা নিয়ে হাদিস বিশারদদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

দাড়ি কামানো সম্পর্কে একমাত্র যে হাদিসটির সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায় তা হল: রাসূল (সা.) বলেছেন: যে দাড়ি কামাবে সে মালাউন বা তার উপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হয়। ইসলামি পরিভাষায় মালাউন সেই ব্যক্তিকে বলা হয় যে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত। কাজেই প্রতিটি মুসলমানের জন্য উত্তম হল দাড়ি না কাটা। কিন্তু এই হাদিসের ব্যাখ্যার মাধ্যমে দাড়ি কামানোকে হারাম ঘোষণা করা যাবে কিনা তা নিয়ে ফকিহ বা বিজ্ঞ আলেমদেরর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

বড় বড় আলেম, মুজতাহিদ ও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতারা বলেছেন, এ হাদিসের ভিত্তিতে সতর্কতামূলকভাবে মুসলমানদের উচিত দাড়ি না কামানো।

প্রকৃতপক্ষে সতর্কতা তারাই অবলম্বন করেন যারা সত্যিকার দ্বীনদার ও মোত্তাকি। আমাদের প্রিয় শ্রোতাবন্ধুদের বলতে চাই, আপনারা প্রথমে ইসলামের ফরজ ও ওয়াজিবগুলোকে সঠিকভাবে আমল করার চেষ্টা করুন। যখন অবশ্যপালনীয় কর্তব্যগুলো পুঙ্ক্ষানুপুঙ্ক্ষভাবে পালন করতে পারবেন তারপরই উচিত হবে মুস্তাহাবের প্রতি নজর দেয়া এবং মাকরুহ কাজ থেকে দূরে থাকা।
দাড়ি রাখা হচ্ছে মুস্তাহাব। তবে এটি এমন একটি মুস্তাহাব যার প্রতি বেশি বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অন্য কথায় দাড়ি কামানো মাকরুহ অর্থাৎ এ কাজ যতটা পারা যায় ত্যাগ করাই উত্তম। আমাদের মনে রাখতে হবে, মুস্তাহাব পালন ও মাকরুহ ত্যাগ করার প্রতি গুরুত্ব দিতে গিয়ে যে ফরজ বা ওয়াজিব কাজ বাদ পড়ে না যায়।

আর একটি বিষয় হল, ইসলামে বাহ্যিকভাবে পরিপাটি থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত উত্তম পোশাক পরে বাইরে বের হওয়া। একজন মুসলমান যে কোনো চেহারা ধারণ করে ইচ্ছেমতো পোশাক পরে জনসম্মুখে বের হতে পারে না। পাশাপাশি ইসলাম বাহ্যিক পরিপাটি থাকার চেয়ে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করে। আসলে মানুষের অন্তরের কলুষিত বিষয়গুলোর ব্যাপারে তাকে আল্লাহর কাছে বেশি জবাবদিহী করতে হবে। কিন্তু কেউ যদি ছোট কোনো ভুল করে তাহলে কুরআনের আয়াত অনুযায়ী আল্লাহ তাকে ক্ষমা করলেও করতে পারেন।

সবশেষে প্রিয় শ্রোতাবন্ধুদের বলতে চাই, ইসলামের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে চেয়ে আপনারা যে প্রশ্ন করেন, তা ধর্মীয় কর্তব্য পালনের ব্যাপারে আপনাদের আন্তরিকতাই ফুটিয়ে তোলে। আপনারা ধর্মীয় খুঁটিনাটি বিষয়গুলিও পালন করার চেষ্টা করে আল্লাহর অতি প্রিয় বান্দা হওয়ার চেষ্টা করছেন যেনে আমরা সত্যিই খুশি হয়েছি। আমরা আশা করছি, আপনাদের পাশাপাশি আমরাও এমন কোনো কাজ করব বা যাতে আমরা আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হই। দাড়ি কামানো হারাম না হলেও যেহেতু এ কাজের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তাই দাড়ি না কামানোই উত্তম।

আরেকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল: অহঙ্কার, রিয়া বা লোকদেখানো ইবাদত গীবত এবং শিরকের মতো বড় বড় হারাম কাজ আমরা অহরহ করে যাচ্ছি এবং সারাজীবন এসব মস্তবড় গুনাহর কাজে ডুবে থেকেও আমরা সে সম্পর্কে উদাসিন হয়ে রয়েছি। পাশাপাশি ইসলামে অনেক নৈতিক সামাজিক দায়িত্ব আছে যা আমাদের পালন করা ওয়াজিব। যেমন: প্রয়োজনীয় ধর্মীয় জ্ঞানার্জন,অপরকে সহযোগিতা ও দানখয়রাত করা,কুরআনের অন্তর্নিহিত তাত্‌পর্য সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও তা অন্যকে শিক্ষা দেয়া ইত্যাদি হাজারো দায়িত্ব আছে যা আমাদের অবশ্যপালনীয় কর্তব্য। আমরা মহান আল্লাহর কাছে তার সন্তুষ্টি অর্জন এবং নিজেদের অন্তর ও বাহ্যিক আচরণকে পরিশুদ্ধ করার তৌফিক কামনা করছি।

নবাবগঞ্জে চার মাদক ব্যবসয়ী আটক

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ২ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে চুড়াইন ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী জামালের পরিত্যক্ত ঘর থেকে ৮’শ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১ কেজি গাঁজাসহ আরও চার মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন, দূর্গাপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে মিজানুর রহমান (৩২), ছাতিয়া মোহনপুর গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে আনুয়ার হোসেন আনু (২২), মোসলেমহাটি গ্রামের আয়নাল বেপারীর ছেলে মো. আলী আক্কাস (২৭) ও ছাতিয়া গ্রামের শেখ ফালুর ছেলে মো. রিমু (২০)।

নবাবগঞ্জ থানার ওসি মাসুদ করিম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক বেচা-কেনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের মাদকসহ আটক করে।

সংসদ নির্বাচনে একসাথেই থাকছে দোহার-নবাবগঞ্জ

আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংসদ নির্বাচনে এক সাথেই থাকছে দোহার-নবাবগঞ্জ। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা বুধবার চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর এই চুড়ান্ত সীমানা নির্ধারনের ফলে দোহার-নবাবগঞ্জের সংসদীয় আসন একই থাকছে।
এই সীমানা পরিবর্তনের ফলে সীমানা পরিবর্তন হয়েছে ৫০ টি আসনের। শতকরা হিসাবে যা ১৭ শতাংশ। সে অনুযায়ী ৫০টি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ৩০০ আসনের সীমানা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ।
যেসব আসন পরিবর্তন করা হয়েছে সেগুলো হলো কুড়িগ্রাম- ২, ৩, ৪, বগুড়া- ১, ২, খুলনা-১, ৬, যশোর- ৩, ৪, ৫, ৬, পটুয়াখালী- ১, ২, ৩, পিরোজপুর- ১, ২, ৩, জামালপুর- ২, ৩, ময়মনসিংহ- ২, ৩, ৪, নেত্রকোনা- ২, ৫, ঢাকা- ১৪, ১৯, গাজীপুর- ২, ৩, নরসিংদী- ১, ২, ৩, ৫, নারায়ণগঞ্জ- ৩, ৪, ৫, সুনামগঞ্জ- ৪, ৫, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া- ১, ২, ৩, কুমিল্লা- ৬, ৭, ৮, ১০, চাঁদপুর- ১, ২ এবং চট্টগ্রাম- ৫, ৬, ১৪, ১৫।
সীমানা নির্ধারণ নিয়ে ইসির খসড়ায় ৮৭টি আসনের সীমানা  পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু এ ৫০টি আসন বাদে বাকি ৩৭টি আসনসহ অন্য আসনেরও সীমানা ২০০৮ সালের সীমানা অনুযায়ী বহাল রাখা হয়েছে। এ নতুন সীমানায় দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
২৬ অক্টোবর’ ২০১৩ থেকে ২৪ জানুয়ারি’ ২০১৪ এর মধ্যে সংবিধান অনুযায়ী এ সংসদ নির্বাচন হবে। নবম সংসদের কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৯ সারের ১৫ জানুয়ারি। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষের তিন মাসের মধ্যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে।

শিলাকোঠায় গৃহবধূকে ধর্ষনের অভিযোগ

পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে বাসায় গিয়ে দোহার উপজেলার শিলাকোঠা গ্রামের এক গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার রাত নয়টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে সোমবার রাতেই থানায় মামলা করেন ওই গৃহবধূ। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে আসামি মোবারক হোসেনকে (৪৭) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের ওই গৃহবধূ ইকরাশী গ্রামের পূর্বপরিচিত মোবারককে দুই হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। টাকা পরিশোধের জন্য মোবারক ওই গৃহবধূকে সোমবার রাতে তাঁর বাসায় যেতে বলেন। সোমবার রাত নয়টার দিকে ওই গৃহবধূ টাকা চাইতে গেলে মোবারক তাঁকে রান্নাঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। গৃহবধূর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে মোবারক পালিয়ে যান।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন নিউজ৩৯কে জানান, ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গৃহবধূকে রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দোহার-নবাবগঞ্জের বাজারে আমে মাছি নেই

দোহার-নবাবগঞ্জের আমের বাজার এখন জমজমাট। রসালো ফল হিসেবে আমের বেশ কদর রয়েছে। আমের মৌসুম এলে চারিদিকে এক ধরনের উৎসব শুরু হয়ে যায়। কিন্তু পছন্দের ফলটি যদি প্রাণনাশের কারন হয় তাহলে সে ফল খাওয়া কতটুকু স্বাস্থসম্মত সেটা ভেবে দেখা প্রয়োজন।

ফরমালিন মেশানোর কারণে এসব আমে কোনো মাছি বসে না। “পঁচা ফলে মাছি বসে, ভালো ফলে বসে না” এমন কথার ফুল ঝুরিতে ক্রেতা টানার চেষ্টা করছেন দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন বাজারের আম বিক্রেতারা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও জাতীয় মান নির্ধারণী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্টান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনসহ (বিএসটিআই) বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান অভিযান চালালেও তাতে কাজ হচ্ছে না। নিয়মিত বিষাক্ত কেমিক্যালযুক্ত আম বিক্রি হচ্ছে দোহার-নবাবগরঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়।

বান্দুরা বাজারের আম দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে কথার ফুলঝুরি বিক্রেতাদের মুখে। এক ব্যক্তি বিক্রেতার কাছে জানতে চাইলেন ফরমালিনমুক্ত আম হলেতো মাছি ওড়ার কথা, কিন্তু আপনার দোকানেতো কোনো মাছি নেই। জবাবে বিক্রেতা বলেন, “পঁচা ফলে মাছি বসে, ভালো ফলে বসে না।” আরেক বিক্রেতা বলেন, “দুনিয়ার সব কচি কলা ফরমালিন দিয়ে বেচা হয়, সেগুলোতো ভালোই চলতাছে। শুধু আম কিনতে আইসা মানুষ ফরমালিন খোঁজে।” অন্য এক ব্যবসায়ী বলেন “আমের ফরমালিন কি আমরা দেই নাকি? আমরা আড়ত থেকে আম কিনে এখানে বিক্রি করি। এতে যদি আড়তদাররা ফরমালিন মিশায় তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। আমাদের ব্যবসা করা দরকার তাই বিক্রি করি।”

শুধু দোহার-নবাবগঞ্জে নয় সারাদেশেই বিভিন্ন ফল-ফসলে বেপরোয়াভাবে বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হচ্ছে হরহামেশাই। বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় এগুলো মানুষের শরীরে প্রবেশ করে অনেককে তাৎক্ষণিকভাবে আবার অনেককে নীরবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে মানুষ তার নিজের অজান্তেই এভাবে স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এসব রাসায়নিক মিশ্রিত ভেজাল খাদ্য গ্রহণ করছে। এ ব্যাপারে সচেতন হতে দেরী না করাই ভাল।

মানিকগঞ্জ থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী দোহারে উদ্ধার: গ্রেপ্তার ১

মানিকগঞ্জে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী অপহরণের চারদিন পর পুলিশ মঙ্গলবার রাতে ঢাকার দোহার উপজেলার রায়পাড়া এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেছে। এ সময় পুলিশ ওই এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে নোমান হোসেনকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানা সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার পূর্ব খলিলপুর গ্রামের শ্রেণীর ছাত্রী একই এলাকার কবি জাহানারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গত ২১ জুন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় দূর্বৃত্তরা তাকে অপহরণ করে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা থানায় মামলা করেন।

পরে পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিং করে ওই এলাকায় নোমানের বাড়ি থেকে অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করে। হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী জানান, অপহৃত মেয়েটি সহ নোমানকে কোর্টে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে, তারা কোর্টের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে।

নিউজ৩৯ কর্তৃক অপহৃত মেয়েটির নাম ও পরিচয় গোপন রাখা হল।

এক রাতে কৈলাইলে ১১ দোকানে চুরি

২২ জুন শনিবার রাতে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের কাটাখালী ও মাশাইল বাজারে একরাতে ১১ দোকানে চুরি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা জানান, কাটাখালী বাজারের হিমেল শপিং সেন্টার, ভাই ভাই ইলেকট্রিক, দোলা স্টুডিও,  আয়েশা কসমেটিকস, মাশাইল বাজারের ইফাত স্টোর, তপু অপু স্টোর, পরেশ সূত্রধর স্টোর, সোহাগ জুয়েলার্স, ভক্তবাবু স্টোর, খন্দকার মর্ডান হারবালসহ ১১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দরজার তালা ভেঙে মোট সাড়ে ৪ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।

পরদিন রবিবার স্থানীয় পাড়াগ্রাম পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. বাবুল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং চুরির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

দোহার থানার জামায়াতের নতুন কমিটি

দোহার থানার জামায়াতে ইসলামীর নতূন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে নতুন আমীর হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এ.বি.এম কামাল হোসাইন ও থানা সেক্রটারী হয়েছেন মো. জিল্লুর রহমান।

গত ২৩ জুন জামায়াতের এক জরুরী সভায় এই কমিটি গঠন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের জেলা আমির  ইঞ্জিনিয়ার আবুল হাসেম, জেলা সেক্রেটারি শাহীন আহমেদ, সদ্য বিদায়ী থানা আমির মাওলানা সাইফুল্লাহ, শিবিরের দোহার দক্ষিণ অঞ্চলের সভাপতি সহ জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।

বেসরকারি উদ্যোগে পদ্মা বাঁধ হচ্ছে

রাজনৈতিক নেতাদের একের পর এক আশ্বাস বানী ও ফিতা কাটার উন্নয়নের পর দোহার উপজেলার ঐতিহ্য বাহী নয়াবাড়ি ইউনিয়ন ও মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলাকে পদ্মার হাত থেকে রক্ষা করতে বাঁধ নির্মানের কাজ হাতে নিয়েছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ইখলাস উদ্দিন ফাউন্ডেশন। সম্পূর্ন বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত এই ফাউন্ডেশন স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ গ্রহন করেছে।

গত কয়েক বছর ধরে স্মরণ কালের ভয়াবহ ভাঙ্গনে অস্তিত্বের হূমকির মুখে পড়েছে দোহার উপজেলার নয়াবাড়ি, কুসুমহাটি ও মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার কয়েক লক্ষাধিক মানুষ। গত কয়েক বছরের ভাঙ্গনে উদ্বাস্তু হয়েছে এক থেকে দেড় লক্ষ মানুষ। একের পর এক প্রতিশ্রুতি আর ফিতা কাটার উন্নয়ন ছাড়া এই বাধ তৈরীর কোন কাজই হাতে নেয় নি বর্তমান সরকার।

নির্বাচনের আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য বলেছিলেন তিনি নির্বাচিত হলে এই বাঁধ তৈরীর কাজ সবার আগে হাতে নিবেন। বর্তমান সরকারের শেষ সময়ে এসেও এখনও শুরু করতে পারে নি বাঁধের কাজ। ২০১২ সালে পানি সম্পদ মন্ত্রী এসে পদ্মার অবস্থান পরিদর্শন করে গেলেও বাঁধের কাজ শুরু করতে পারে নি সরকার।

এই সময় নদী ভাঙ্গন তীব্র হলে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ইখলাম উদ্দিন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এই বাঁধ তৈরীর উদ্যোগ নেয়া হল। স্থানীয় মানুষের আর্থিক সাহায্য নিয়ে বাঁধ তৈরীর উদ্যোগ নিলো। এতে এলাকা বাসীর মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।  তারা চায় দ্রুত এই বাঁধের কাজ শেষ হোক।

নবাবগঞ্জে অগ্রণী ব্যাংকে ডাকাতি

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা অগ্রণী ব্যাংকের নবাবগঞ্জ শাখায়  ডাকাতি হয়েছে। ১৯ জুন বুধবার গভীর রাতে ডাকাতদল উপজেলার বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের অপর প্রান্তে মদিনা ট্রেডার্স মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক হতে ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে শাখা ব্যবস্থাপক আবু জায়েদ কাদেরী প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আবু জায়েদ কাদেরী নিউজ৩৯ কে জানান, ১৩ জুন বুধবার ব্যাংকের কার্যক্রম শেষে কার্যালয়ের দরজা জানালা বন্ধ করে তালা দিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তারা যার যার বাসস্থানে চলে যান। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টায় কেয়ারটেকার মো. বাবুল ব্যাংকের ভবনের উত্তর পাশের জানালা ভাঙা দেখতে পেয়ে তাকে খবর দেন। তাৎক্ষণিকভাবে কার্যালয়ে এসে তিনি দেখতে পান, ব্যাংকের ভল্ট ভাঙা এবং এতে কোনো টাকা নেই।

ডাকাতির খবর পেয়ে কেরাণীগঞ্জ সার্কেল এএসপি ডা. শহীদুল ইসলাম, নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাসুদ করিম ও সিআইডির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তিনি আরো জানান, ব্যাংকে ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে হিসেব করা হয়েছে। ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।