ঢাকায় দোহারের যুবক খুন

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার দোহার খাল পাড় এলাকার আরিফুল ইসলাম রনক নামে এক যুবক গত ২৯শে জুলাই ঢাকার রামপুরায় তার ভাড়া বাসায় খুন হয়েছে । 

বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকার রামপুরা এলাকার তার ভাড়া বাসায় হাত পা বাধা অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায় ।তার পাশের এক ফ্লাটের লোক লাশের গন্ধ পেয়ে রামপুরা থানায় জানায়। পুলিশ এসে তার হাত ও মুখ কস্টিপ পেচানো অবস্থায় উদ্ধার করে। আজ ময়না তদন্ত্য শেষে তার লাশ নিজ বাসায় নিয়ে আনা হয় । পরিবার সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়িক কারণে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে মনে করেন তারা ।

এ ব্যাপারে রামপুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে । রামপুরা পুলিশ ১ মহিলাসহ ১৪ জনকে সন্দেহভাজন কে গ্রেফতার করেছে ।

শত কোটির ঘরে যাবার আশা দোহারের ঈদ বাজার

আসন্ন রমজানের ঈদকে সামনে রেখে ঈদের পোশাক ও অনান্য জিনিস মিলে বিক্রয় শত কোটির মাইল ফলক ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন জয়পাড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা। মুলত কাপড়ের দোকানে বিক্রি বেশি হলেও পিছিয়ে নেই ইলেকট্রনিক্সের দোকানও। ঈদ ঘনিয়ে আশার সাথে সাথে দোকানে ক্রেতার আগমনও বাড়ছে।

প্রবাসী প্রধান এলাকা হিসাবে সারা বাংলাদেশে দোহারের একটি বিশেষ সুনাম আছে। প্রতি বছর ঈদে প্রচুর ক্রেতা সমাগম ঘটে জয়পাড়া বাজারে। ঢাকা শহরের মতো সকল সুবিধা সম্বোলিত অসংখ্য ফ্যাশন হাউস গড়ে উঠেছে জয়পাড়া। তারপরও ঈদের সময় ক্রেতা চাহিদা সামলে উঠতে পারছে না এই ফ্যাশন হাউস গুলো। ঈদ আসার সাথে সাথে জয়পাড়া বাজারে পা ফেলা মুসকিল হয়ে দাড়িয়েছে। বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানে দেখা গেছে একই চিত্র।

ভুতের গলি এলাকায় অবস্থিত জুতার দোকান উপড়ে পড়ছে ক্রেতায়।  আর আসন্ন ঈদ উপলক্ষেও দোকান মালিকরা উঠিয়েছেন নানা রকম ডিজাইনের জুতো। বড়ারড়ের মতো এবারও চাপড়ার স্যান্ডেলের প্রতি বেশি আগ্রহ তরুন সমাজের বলে জানিয়েছেন ভুতের গলির এক জুতোর দোকানের মালিক। এছাড়া চাইনিজ স্নিকারও খুব ভাল চলছে বলে জানান।

জয়পাড়া বিভিন্ন ফ্যাশন হাইস গুলোতে দেখা গেছে একই দৃশ্য। আয়োজন, আলোড়ন, পালকি, প্রিয়জন সবখানেই ক্রেতার উপড়ে পড়া ভীড়। তরুন তরুনির পদভারে ভরে উঠেছে এই সব ফ্যাশন হাউসগুলোর প্রাঙ্গন। তাই এবারের ঈদে জয়পাড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা আশা করছেন এবারের সম্মেলিত বিক্রয় শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।  তাদের আশাটা হয়তো বরাবরের মতো এবারো পূরণ হবে।

দোহার বাজারে মারাত্মক সড়ক দূর্ঘটনা

দোহার বাজারে ওভারটেকিং এর সময় মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষ দর্শী ও গতি গাড়ির যাত্রীর নিকট থেকে জানা যায় ফুলতলা থেকে ছেড়ে আসা বালেঙ্গা ও নবাবগঞ্জ গামী দুইটি গতি গাড়ী একে অপরটিকে বারবার ওভারটেকিং এর চেষ্টা করছিল। এসময় দোহারের পল্লী বিদ্যু অফিসের সামনে এসে হারুন ড্রাইভারের গতি গাড়িটি সামনের টিকে ওভারটেকিং করে এগিয়ে গেলে পিছনের গতি গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়।  হারুনের গতি গাড়ির পিছনে হেলপার সহ চারজন রাস্তায় পড়ে যায়। দুই সহোদরসহ তিনজনের পা ভেঙ্গে যায়।

উত্তেজিত জনতা গতি গাড়ির ড্রাইভার হারুনকে ধরে গনপিটুনি দেয়। আহত একজনের পা হাটু থেকে খুলে গেছে বলে জানা যায়।    

দোহার-নবাবগঞ্জের ঈদের পার্ট টাইম জব

সময়ের সাথে সাথে এগিয়ে আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সেই সাথে বিক্রি বাড়ছে বিক্রি বাড়ছে বিভিন্ন শপিং মল ও কাপড়ের দোকানের। সারা বছর মোটামুটি বিক্রি থাকলেও রমজানের সময় এই ধাক্কাটা বেড়ে অনেক উপড়ে উঠে যায়।  সারা বছর এক বা দুইজন কর্মচারী থাকলেও রমজানের সময় প্রতি দোকানে নিয়োগ দিতে হয় তিন থেকে পাঁচ জন নতুন কর্মচারী। এই নতুন কর্মচারী হিসাবে কাজ করছে দোহার-নবাবগঞ্জেরই বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

পশ্চিমে গ্রীষ্মের ছুটিতে বিভিন্ন কাজ করে টাকা সংগ্রহ করে বিদেশে ঘুরতে যাওয়া খুবই প্রচলিত এবং জনপ্রিয় একটি ধারনা। তিনমাস গ্রীষ্মের বন্ধে দুই মাস কাজ করে ঐ টাকা দিয়ে দেশের বাইরে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যায় সেখানকার ছাত্ররা। এই ধারনাটা সেখানে অনেক পুরনো। এবং সিক্সথ বা সেভেন গ্রেডে পরার সময়ই তারা এই কাজ শুরু করে।

আমেরিকাতে এক গবেষনায় দেখা যায়, এ লেভেল শেষ করার আগেই ৭৫ ভাগ ছাত্রছাত্রীর ইউরোপ সফর শেষ হয়ে যায়। এবং সেটা তারা করে নিজের উপার্জন করা টাকাতেই।

বাংলাদেশ আমেরিকার মতো ধনী দেশ না। তাই অন্তত ইউরোপ যাওয়ার চিন্তা এই দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা না করলেও অন্তত আনন্দ তো করতে পারে। মুসলিম প্রধান দেশ হিসাবে অন্যতম প্রধান উৎসব ঈদকে তাই বেছে নিয়েছে এই দোহারের ছেলেরা। ঈদ উপলক্ষে তারা বিভিন্ন দোকানের সেলসম্যানের চাকুরি নিয়ে নিজে যেমন আয় করছে, তেমনি ঈদের হাত খরচও হয়ে যাচ্ছে নিজের কাছ থেকে। এর ফলে বাবা-মা বা বড় ভাইএর মুখাপেক্ষীও হতে হচ্ছে না কাউকে।

আসন্ন রোজার ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের প্রচুর চাপ পরেছে জয়পাড়ার বিভিন্ন শপিং মল ও কাপড়ের দোকানে। এই জন্য প্রতি বছরই নতুন করে সেলস ম্যান নিয়োগ দিতে এই সব শপিং মল ও দোকানে। আর এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময়ই প্রাধান্য থাকে তরুনদের। এবারও তার ব্যাতিক্রম হয় নি। জয়পাড়া বিভিন্ন শপিং মল ও কাপড়ের দোকানে রমজান উপলক্ষে সেলসম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন এই দোহারের বিভিন্ন স্থানের ছেলেরা। কোন কাজই ছোট নয় এই মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে এই রমজানে কাজ করে ঈদের শপিং ও ভ্রমনের টাকা তুলে নিচ্ছে এরা।
এমনই একজন, নবাবগঞ্জের রাজাপুর গ্রামের মোঃ আল আমিন। ঈদ উপলক্ষে তিনি বন্ধুর দোকানে সময় দিচ্ছেন। এতে তিনি যেমন আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন তেমনি ঈদের হাত খরচটাও উঠে যাচ্ছে তার।

এমন কয়েকশত মুখ পাওয়া যাবে জয়পাড়া বাজারে। ঈদ মার্কেটিং উপলক্ষে দোকানের চাপ বাড়ার সাথে সাথে কদর বাড়ে এদেরও। তাছাড়া রমজানে পড়াশোনার চাপ কম থাকায় অনেকে শখের বসেও করছেন এই সেলসম্যানের চাকুরী।

নবাবগঞ্জে বন্যায় নির্ঘুম রাত

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর, বারুয়াখালী ইউনিয়নে পদ্মা নদীর পানি প্রবেশ করে প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এলাকার যোগাযোগ রক্ষায় বিভিন্ন স্থানে বাঁশের সাঁকো তৈরী করে যাত্রায়াত করছে পানিবন্দি মানুষেরা।

এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে ওইসব গ্রামের মানুষ নৌকা অথবা কলাগাছের ভেলায় চরে বাজার, হাট থেকে শুরু করে সব ধরনের যোগাযোগ রক্ষা করছে।

এছাড়া বিষধর সাপের ভয়ে অনেকেই নিদ্রাহীন রাত কাটাচ্ছে। ঘুরে দেখা গেছে, নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রাজাপুর, বালেঙ্গা, ঘোষাইল, রায়পুর, আশয়পুর, কঠুরি, তিতপালদিয়া, পশ্চিম সোনাবাজু, গ্রামের বাড়ি ঘরসহ ফসলি জমি দফায় দফায় প্লাবিত হচ্ছে।

পুকুর ও মাছের ঘের পদ্মা নাদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। ওইসব এলাকার লোকজন জোয়ারের সময় উচু জায়গা কিংবা নিকটস্থ বিদ্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ কোন সাহায্য সহযোগিতা পায় নি বলে অভিযোগ করেন। জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের আফছল বিবি (৫০) জানান, তার স্বামী তিন বছর আগে মারা গেছে। “এ্যাহন ছেলের কাছে থাহি। কয়দিন ধইর‌্যা জোয়ারের পানিতে ঘর তলাইয়া যায়। রাইতে নাতি দুইডারে কোলে লইয়া খারাইয়া থাকতে অয়। রায়পুর গ্রামে গৃহবধূ তাসলিমা বেগম জানান, বর্ষা আসলেই মোগো ঘর বাড়ি তলায়াই যায়। ঠিক মত চুলা ধরাইতে পারি নাই। রাইত অইলে সাপের ভয়ে পোলা পান লইয়া স্কুলে যাইয়া থাহি।”

একই কথা বললেন ওই গ্রামে পানিবন্দী ডালিয়া বেগম (৪৫), নূরজাহান (৩৫), শাহাভানু (৫০), হাসন ভানু (৪৫) সহ আরো অনেকেই।

রায়পুর গ্রামের কৃষক আমজেত হাওলাদার বলেন, “যারা বেঁড়ি বাধের ঐ পাশে আছে পানি কি জিনিস তা তারা জানেও না সব মরন হইছে আমাগো। প্রতি বছরই পানিতে চলাইআ মরি কেই খুঁজ খবর নেয় না।” দু’হাত দিয়ে দুরের গ্রামগুলো প্লাবিত হওয়ার দৃশ্য দেখিয়ে তিনি আরো বলেন, “ওইসব গ্রামের মানুষের জীবন যে সামনে ক্যামনে চলবে, হেইয়া আল্লায়ই ভালো জানে।”

দোহার-নবাবগঞ্জে গরীবের ইফতার

আসিফ শেখ, নিউজ৩৯ ♦ “নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে তিন বেলা খাবার কেনাই কষ্টকর! ভালো ইফতারি কেনার সাধ্য তো আমাদের নেই। ফুটপাত থেকে যা কিনতে পারি, তাতেই আমাদের আনন্দ!” কি দিয়ে ইফতার করেন প্রশ্ন করতেই এভাবে আক্ষেপ করেন ভ্যান চালক হযরত আলী।

হযরত আলীর বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী তে বসবাস করছেন। অসংখ্য শ্রমজীবি মানুষ প্রতিদিন ইফতার করেন দোহার-নবাবগঞ্জে উপজেলার বিভিন্ন যায়গায়। সামান্য মুড়ি, ছোলা, পিয়াজু আর পানিই তাদের ভরসা।

দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেশ কয়েকজন শ্রমজীবি মানুষের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, কষ্ট হলেও ২০ থেকে ৩০ টাকা ব্যয় করেন ইফতার কিনতে। তবে যেদিন আয় ভালো হয়, সেদিন ইফতারে খাবারের পদের সংখ্যাও বেড়ে যাবে। অবশ্য সেটা সব সময় নয়, কালে-ভদ্রে। তা না হলে রোজ রোজ একই খাবার দিয়ে ইফতার করেন এসব শ্রমজীবি মানুষ।

তারা ইফতার সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে প্রতিদিন আয়ের ওপর নির্ভর করেন। তাদের একমাত্র ভরসা ফুটপাতের ইফতারের দোকানগুলো। বেশির ভাগ সময় মুড়ি, ছোলা, পিয়াজু দিয়েই ইফতার করেন তারা। শরবত বা খেজুর দিয়ে ইফতার করা তাদের পক্ষে প্রায় দিনই সম্ভব হয় না। অনেকে আবার ইফতারি কেনার সার্মথ্য না থাকায় ভিড় জমান বিভিন্ন মসজিদে।

দোহার-নবাবগঞ্জে উপজেলার বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, ইফতার সামগ্রীর মূল্য এবার অনেক চড়া। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রভাব পড়েছে ইফতারের বাজারেও। প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভর করে যাদের জীবিকা র্নিবাহ করতে হয় বা হচ্ছে তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ইফতার সামগ্রী কেনা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ফুটপাতের ইফতারের দোকান থেকে ২০-৩০ টাকার ইফতার কিনেই তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা বারুয়াখালী বাজারে ফুটপাত দোকানে ইফতার বিক্রি করে আশেদ আলী, তিনি জানান, “আমরা সস্তায় ইফতার বিক্রি করি। আইটেমের মধ্যে রয়েছে, ছোলা, আলুর চপ, বেগুনি ও মুড়ি। কম আয়ের মানুষ আমাদের কাছ থেকে ইফতার সামগ্রী কিনেন। কেউ কিনেন ৩০ টাকার আবার কেউ ৪০ টাকার।

রিক্সা চালক আবজাল মিয়া জানান, “প্রতিদিন জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। ঠিক মতো তিন বেলা খাবারই জোটাতে পারি না। আবার ইফতার। তারপারেও পানি বা মুড়ি দিয়ে কোন রকমে ইফতার করতে হয়। আমরা অসহায়। মনে নানা স্বপ্ন উকি দিলেও অর্থাভাবে অনেক সাধই পূরণ করা সম্ভব হয় না।”

জোয়ারের পানিতে ভেঙ্গে গেলো স্কুলের প্রধান সড়ক

জোয়ারের পানির চাপে ভেঙ্গে গেছে নয়াবাড়ি ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান বিদ্যাপিঠ বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান সংযোগ সড়ক। শনিবার সকালে হঠাৎ করে পানির চাপে ভেঙ্গে যায় এই সড়কটি। ফলে ধোয়াইর, বালেঙ্গা গ্রামের শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত এক কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে স্কুলে পৌছাতে হবে।

কয়েকদিন পূর্বে সড়কটি নতুন করে সংস্কার করা হয়। যদিও সংস্কার কাজ নিয়ে ছিল অনেক অভিযোগ। সংস্কারের এক মাস যেতে না যেতেই এই সড়কটি পানির তোড়ে ভেঙ্গে গেল। বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বাসার সামনে এই ভাঙ্গার ঘটনা ঘটে।

সফরের সময় পূর্ণাঙ্গ নামাজ পড়া এবং রোজা রাখা যাবে কি?

0

প্রশ্ন: বিমান ভ্রমণের মাধ্যমে এখন কয়েক ঘণ্টায় বহু দূরের দেশে পৌঁছে যাওয়া যায়। প্রশ্ন হল: এখন যেহেতু আর আগের মত সফরে কষ্ট ও পরিশ্রম হয় না, তাহলে কি সফরের সময় কসর নামাজ না পড়ে পূর্ণ নামাজ পড়া এবং রোজা রাখা যাবে?

উত্তর: আমরা জানি, ইসলামের আহকাম বা ধর্মীয় বিধিবিধান ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনের প্রয়োজনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছেন মহান আল্লাহ। সম্ভবত সফরের সময় মানুষের পরিশ্রম ও কষ্টের কথা বিবেচনা করে নামাজ কসর ও রোজা ভাঙার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে সফরের ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাপনে বিঘ্ন ঘটে এবং এ বিপত্তির বিষয়টি মানুষ মেনে নিয়েছে। অর্থাত মানুষ জানে, সফরে গেলে তার প্রতিদিনের খাওয়া-দাওয়া ও ঘুম ইত্যাদির রুটিনে বিঘ্ন ঘটবে। অবশ্য এখন সফরের কষ্ট অনেকটা লাঘব হয়েছে। তারপরও ঘরের পরিবেশ আর সফরের পরিবেশ এক হয় না।

নিজের দেশে নিজের ঘর কখনো অন্য দেশ বা অন্যের ঘরের সমান হয় না। নিজের বাসস্থানে মানুষ যে আরাম-আয়েশে থাকে সফরে গেলে তা আর থাকে না এবং মানুষ এক ধরণের অস্থিরতার মধ্যে থাক। কাজেই দেখা যাচ্ছে, এই আধুনিক যুগেও সফরের সমস্যাবলী আগের মতোই বিদ্যমান।

এ ছাড়া, এখনো বহু শহর ও গ্রাম আছে যেখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা খুবই কম এবং সেখানে সফরে গেলে মানুষকে অনেক কষ্টে সময় কাটাতে হয়। তাই কসরের নামাজ এখনো অনেকের জন্য বড় ধরণের ছাড় বলেই গণ্য হয়। কাজেই কসরের নামাজ ও রোজা ভাঙার মতো ইসলামের নির্দেশাবলী সার্বিকভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে।

কোন সফরে যদি কোনরকম কষ্ট নাও হয় তাহলেও এ সার্বিক নির্দেশ অমান্য করা যাবে না। অর্থাত নির্দিষ্ট পরিমাণ দূরত্বে সফরে গেলে কসরের নামাজ পড়তেই হবে এবং রোজা রাখা যাবে না।

অবশ্য নামাজ-রোজা সম্পর্কে আল্লাহর এ নির্দেশের পেছনে অন্য কোন কারণও থাকতে পারে, যার সঙ্গে হয়ত সফরের কষ্টের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা সে কারণ জানি না বলে আল্লাহর নির্দেশে পরিবর্তন আনার অধিকার আমাদের নেই।

দোহার-নবাবগঞ্জের ফুটপাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতার বিক্রি

দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন ফুটপাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যেখানে-সেখানে বিক্রি হচ্ছে হরেক রকমের ইফতার সামগ্রী। বিকাল হলেই দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন রাস্তার পাশে ফুটপাতে গড়ে ওঠে অস্থায়ী ইফতারের দোকান। ফুটপাতের দোকানে ইফতার বিক্রি করা হলেও খাবারের ওপর কোনো ঢাকনা নেই। এতে খাবারের ওপর যেমন ধুলাবালি পড়ছে তেমনি যুক্ত হচ্ছে মাছি। এছাড়া বাসি খাবারও বিক্রি করা হচ্ছে টাটকা খাবার হিসেবে।

খোলা ও বাসি খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নবাবগঞ্জ ও জয়পাড়া বাজার ফুটপাতে অন্তত শতাধিক ইফতার সামগ্রীর অস্থায়ী দোকান রয়েছে। এছাড়াও নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকারীপাড়া, দাউদপুর, আলালপুর, বাংলাবাজার, তুইতাল, হাগ্রাদী, বারুয়াখালী, ঘোষাইল, রাজাপুর, বান্দুরা, মাঝির কান্দা, দোহার উপজেলার ধোয়ার, বাহ্রা, কার্তিকপুর, পালামগঞ্জ …….. এলাকার ফুটপাতে বিকাল গড়ালেই গড়ে ওঠে অসংখ্য ইফতার খাবারের দোকান।

এছাড়াও দোহার-নবাবগঞ্জের অলিতে গলিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইফতার সামগ্রীর দোকান। বারুয়াখালী বাজারের ইফতার বিক্রেতা আরশেদ আলী বলেন, প্রতি বছরই একটু বাড়তি ইনকামের জন্য রোজার মাসে ইফতার বিক্রি করি। গত বছরের তুলোনায় এ বছর বিক্রি একটু বেশি। সামনে আরো বিক্রি বাড়বো।

দাউদপুর বাজারের ইফতার বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন বাজারে অনেক দোকানে ইফতার বিক্রি করে তাই আগের তুলোনায় এ বছর বাজার তেমন ভালো যাচ্ছে না। তবে আর কিছু দিন পর আর একটু বিক্রি বাড়তে পারে। সুযোগে কোনো কোনো দোকানি আগের দিনের থেকে যাওয়া ইফতারের খাবারের সঙ্গে পরের দিনের ইফতার মিলিয়ে টাটকা খাবার হিসেবে বিক্রি করছেন। তবুও এসব দোকানিদের দম ফেলার সুযোগ নেই। রয়েছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ক্রেতাদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত ও নিন্ম আয়ের মানুষ। খাবার বাসি ও অস্বাস্থ্যকর জেনেও কিনছেন অনেক ক্রেতা। দামে একটু সস্তা হওয়ায় টাকা দিয়ে কিনেও অস্বাস্থ্যকর ও বাসি খাবার খেতে যেন বাধ্য হচ্ছেন নিন্ম আয়ের মানুষেরা।

বর্ষায় ঘুরে আসুন তিতপালতিয়া স্লোইসগেট থেকে

মাথার ওপর বিস্তীর্ণ নীল আকাশ। চারপাশে সুবজের সমারোহ।  দিগন্তজুড়ে চারিপাশে পানি আর পানি। স্থাণীয়দের মনোমুগ্ধকর আতিথেয়তা। সব মিলে এক অন্য রকম অনুভূতি। এ যেন কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা। স্থানটি নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের তিতপালতিয়ার স্লুইসগেট। বর্ষায়  এখানে দেখা যায় এক অন্যরকমের দৃশ্য। বৈচিত্রময় পরিবেষ্টিত বর্ষার দিনে তিতপালতিয়ার স্লুইসগেট ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। স্লুইসগেটের  এ পাশ থেকে অন্যপাশে পানির ঝিরঝির মত শব্দ আর পাখির কলকাকলি স্লুইসগেটের আকর্ষণ এ যেন এক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। চারি দিকে সবুজ-শ্যামল আর ঝরনাবেষ্টিত শব্দে নবাবগঞ্জের সীমান্ত অঞ্চলের তিতপাদিয়ার স্লুইসগেট  এখন পরিণত হয়েছে নবাবগঞ্জের পশ্চিম অঞ্চলের অন্যতম পর্যটন এলাকা হিসেবে। প্রতিদিন বিকালে এখানে এক অন্য রকমের পরিবেশ সৃষ্ঠি হয়।

স্লুইসগেটে ঘুরতে আসা প্রবাসি আনোয়ার হোসেন বলেন, দুই বছর আগে একবার  এসেছিলাম সেই প্রথম দেখাতেই ভালো লাগে এ জায়গাটি। বিদেশে থাকায় প্রতি বছর আসতে পারি না কিন্তু বর্ষার দিনে এ জায়গাটির কথা মনে হলে ছুটে আসটে মনে চায়।  এ দিনে অনেক মিস করি এখানকার অপরূপ দৃশ্য। এখানে আসলে যেনো হারিয়ে যাই কোন এক অজানা প্রান্তরে।

অন্য এক ভ্রমনপিপাসু সুবর্ণা সাহা জানায়, স্লুইসগেটে বর্ষার এ মনমুগ্ধকর দৃশ্য  দেখতে প্রতি বছরই এখানে ছুটে আসি সুন্দর পরিবেশ উপভোগ করতে। বদ্ধ ঘরে বন্ধ জানালার ভিতরে আর যেন পেরে উঠছেনা জীবনের বাকি দিন গুলো। তাই অন্য রকমের অনন্য এক পরিবেশে কয়েক মিনিটের জন্য যেন হারিয়ে যেতে মন চায়। প্রতি বছরই এখানে আসি এখানকার রূপ, সৌন্দর্য, বর্ষায় ভেসে যাওয়া বাড়ি ঘড়, আরো  কত কি দৃশ্য উপভোগ করতে যা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।

স্থাণীয়দের কাছে থেকে জানা গেছে, রোজার কারনে এখন দর্শক আগের তুলনায় কম। তবে ঈদের পর দর্শক সংখ্যা আরো বাড়বে।

নগর জীবনের যান্ত্রিক কোলাহল থেকে দূর তিতপালদিয়া স্লুইসগেটের কোলাহলমুক্ত  পরিবেশ, নির্মল বাতাস আর শ্যামল বৃক্ষরাজির বিন্যাস পর্যটকদের বার বার কাছে টানে। সন্ধা হলে সূর্যাস্ত দেখার দৃশ্য এ যেন এক স্বপ্নের ছোঁয়া। প্রকৃতির এ অপার  সৌন্দর্যের নাম তিতপালদিয়া স্লুইসগেটের। রাস্তার একপাশে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য  অন্যপাশে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের খেলা করছে এবং রাস্তায় গাড়ি চালানোর রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো যেকোনো পর্যটকের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে তিতপালদিয়া স্লুইসগেট ধীরে ধীরে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। স্বচ্ছ  জলরাশি আর দু’ধারের অপরূপ সোন্দর্য, দীর্ঘ নৌকা ভ্রমণের সাধ যে কোনো মানুষের  কাছে এক দুর্লভ আকর্ষণ। চারিদিকে শুধু দুই চোখ ভরে দেখার পালা। গ্রামীণ মানুষের কর্মব্যাস্ততা, অন্যদিকে বর্ষার পানিতে ভাষা মানুষের বাড়িঘড় সবই উপভোগ্য হবে  তিতপালদিয়া স্লুইসগেট যাত্রায়।

যোগাযোগের ব্যাবস্থা, যে কোন স্থান থেকে নবাবগঞ্জের বান্দুরা ইজিবাইক ষ্ট্যানে আসুন  সেখানে থেকে বারুয়াখালী বাজারে আসুন বাজার থেকে সোনাবাজু বেড়িবাঁধের দক্ষিন দিকে তিতপালদিয়া স্লুইসগেট।