নবাবগঞ্জে বেতন-বোনাস না পেয়ে শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা বেতন ও ঈদ বোনাস না পাওয়ায় ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা জানান, শিক্ষকদের জুলাই মাসের বেতন না দিয়ে ২৩ জুলাই বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করে প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম তাঁর গ্রামের বাড়ি চলে যান। সাত-আটজন শিক্ষক জুন মাসের বেতনও পাননি। এ কারণেই তাঁরা ক্লাস বর্জন করেন।

বিদ্যালয় থেকে জানা যায়, সকাল ১০টায় ক্লাস বর্জন করে শিক্ষকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেওয়ান মাহবুবুর রহমানের কার্যালয়ে গিয়ে এ ব্যাপারে মৌখিক অভিযোগ করেন।

প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম জানান, শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করার আগেই তাঁরা ক্লাস বর্জন করেন। তবে এটা তাঁর ব্যর্থতা বলে তিনি স্বীকার করেছেন। ইউএনও দেওয়ান মাহবুবুর রহমান জানান, শিক্ষকেরা এ ব্যাপারে তাঁর কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছেন।

সরকারের সাড়ে ৪ বছর পার হয়ে গেলেও ওয়াদা পালন করেনি পদ্মা পাড়ের মানুষের

ছবি তুলেন ক্যান? ছবি তুইলা কি ঐবো? কত ছবি তুললো আর মন্ত্রীরা কত ওয়াদা দিয়া গেলো। গাঙ্গে নাকি বান দিয়া দিবো। কই কি হইছে? কিছুই হয়নাই। হ হইছে আমদের সর্বনাস হইছে পদ্মায় বাপ-দাদার ভিটা গিলা ফালাইছে। আর ফিরা পামু না। আপনেরা তো ভোট নিবার সময় কন পাশ করলেই গাঙ্গে বান দিমু পাশ করলে আমাগো কতা মনেও করেন না। ঠিক এ ভাবেই কথা গুলো বলছিলেন দোহার উপজেলার ধোইয়ার গ্রামের জহুরা বেগম। বয়স ৮০ শেষ ৮১ এ পা রাখলেন এ বছর। তিনি এমন ভাবে কথা গুলো বলতে ছিলেন মনে হয় সব দোষই আমার।

দীর্ঘ দুই যুগের অব্যাহত ভাঙনে কালক্রমে মানবিক বিপর্য়য় নেমে এসেছে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়াবাড়ী ও জয়কৃপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম। পদ্মা নদীর অব্যাহত ভাঙন দোহার-নবাবগঞ্জ-মানিকগঞ্জ রক্ষা বেড়ীবাঁধের ধোয়াইর বাজার সংলগ্ন দেওয়ান বাড়ীর মোড়ের অংশে ভাঙন দেখা দেয়ায় তাদের বসত ভিটা ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। পদ্মার ভয়াবহ ভাঙ্গনের শিকার প্রায় ১৫০০ পরিবারের এখনও আশ্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহন করেনি সরকার। প্রতি বছরই নদীর তীরবর্তী গ্রামের পর গ্রাম ভেঙে চলেছে। শতশত পরিবার হচ্ছে গৃহহারা। ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে এসে জন প্রতিনিধিরা ভাঙন কবলিতদের জন্য আবাসন ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

জানা গেছে, এ বছর বর্ষার শুরুতেই বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে পদ্মার সেই ভয়াবহ ভাঙ্গন আবারও আগ্রাসী রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে গত এক মাসে প্রায় ৩০টি পরিবার তাদের ভিটে মাটি হারিয়েছে। এছাড়া দোহার-নবাবগঞ্জ-মানিকগঞ্জ (কাশিয়াখালী বাঁধ) বেড়ীবাঁধের ধোয়াইর বাজার সংলগ্ন দেওয়ান বাড়ীর মোড়ের বেশির ভাগ অংশ ভেঙ্গে গেছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে আরো ৪-৫টি পয়েন্ট। ফলে বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে গাড়ী চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ জনগণ। যে কোন মুহূর্তে উত্তাল পদ্মার পানির চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

এলাকার সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ভাঙ্গন থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে অবস্থান করছে। যে কোন সময় ভেঙ্গে যেতে পারে গুরুত্বপূর্ন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া স্কুল, মাদ্রাসা, কবরস্থান ও মসজিদসহ এসব এলাকার প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গনের মারাত্মক ঝূঁকির মধ্যে রয়েছে। ছোট বড় ৫টি বাজারও যে কোন সময় ভেঙ্গে নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা আনছার আলী বলেন, গত বছর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সাংসদ ও  প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান সকল পরিবারকে খাস জমিতে ঘরবাড়ী তুলে দেয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তার কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি।

বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লূৎফর রহমান বলেন, মন্ত্রী মহোদয় বার বার ওয়াদা দেয়ার পরও কেন বাধ রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো না তা বুঝতে পারলাম না। আমার এই স্কুলে ২কোটি টাকার ভবন আছে। এগুলো রক্ষা করার জন্য খুব দ্রুত ব্লগ ও বালুর বস্তা ফেলা খুবই জরুরী। না হলে এলাকার একমাত্র উচ্চ বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

বিগত ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ ভাঙগনের পর দীর্ঘ ১৪ বছর পর গত বার থেকে পদ্মা নতুন করে অগ্রাসী হয়ে উঠেছে। এরই মাঝে সব হারিয়ে কেউ কেউ হয়েছেন সর্বশান্ত। চলে গেছেন এলাকা  ছেড়ে অন্যত্র। যারা আবার মাটির টানে বাপ-দাদার পৈত্রিক ভিটা আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করছে তাঁর ভাঙ-গড়ার সাথে যুদ্ধ করছে প্রতিনিয়ত। কেউ কেউ ৫/৬ বার ভাঙনের শিকার হয়ে সব হারিয়েও এলাকায় বসতি গড়ছেন মায়ার টানে। অনেকে জমি জমা ফেলে রেখে আগেই নিরাপদে চলে যাচ্ছেন। আর যাদের অন্যত্র যাওয়ার মত সুযোগ নেই তারা রাস্তার পাশে অথবা পরিত্যক্ত কোন জায়গায় খোলা আকাশের নীচে কোন রকমভাবে ঠাঁই নিয়েছেন।

ভাঙন কবলিত দুর্দশাগ্রস্থ মানুয়ের পাশে কেউ নেই। গত বছর ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রানালয়ের সচিব নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে এলে স্থাণীয় জনতা তাকে প্রায় ১ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে পরে স্থাণীয় প্রশাসন ও ৩ দিনের সময় নিয়ে পূর্বের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ৩ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দিলে তাকে ছেওে দেওয়া হয়। গত বছর পদ্মা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করতে এসে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার বলেন বর্তমানে পদ্মা ভাঙনের তীব্রতা অনেক।

এখন পদ্মার মধ্যে টাকা ফেললে কোন লাখ হবে না। বন্যার পানি কমার পর শুল্ক মৌসুমে পদ্মা ভাঙন প্রতিরোধের জন্য বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বাঁধ দেওয়া হবে। যার ব্যায় ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। এ বাঁধের মাধ্যমে আমরা নির্বাচনী ওয়াদার বাস্তবায়ন করবো। এ জন্য আপনাদের ধৈর্য্য ধরতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের জয়পাড়া বড় মাঠ (ফুটবল খেলার মাঠ) নিবার্চনী জনসভায় ওয়াদা করেছিল পদ্মা নদী ভাঙ্গন রক্ষায় বাঁধ দেয়া হবে। সরকারের সাড়ে ৪ বছর কেটে গেলো বাঁধ এখনও দেওয়া হলো না।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমুল হক পাভেল বলেন, “ভাঙ্গনরোধের ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে। এছাড়া সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।” সব হারিয়ে এমন দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়েই বেঁচে আছে নদী ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ। দিন গেলো বছর গেলো এ সরকারও যাওয়ার সময় কিন্তু ওয়াদা আর প্রতিশ্রুতি অন্তরে মধ্য গেথেই রয়ে গেলো বাস্তব রূপ ধারণ করলো না।

নাজমুল হুদার শুভেচ্ছা বিনিময়ের আড়ালে নির্বাচনী পথসভা

রবিবার সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ঈদ পরবর্তী দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে পুনর্মিলন এবং তৃনমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার লক্ষ্যে একটানা ১৪ ঘণ্টা দোহারে ২০টি স্থানে পথ সভা করেছেন । এ সময় তিনি বেগম জিয়ার পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। সকাল ৯টায় শাইনপুকুর হতে পথসভা শুরু করে ৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় সভা শেষ করে তিনি রাত ১১ টায় নিকড়ার জনসভার সমাপনীর পর ঢাকা রওনা হন।

পথসভাগুলোতে নাজমুল হুদা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন্ সমালোচনা করেন । তিনি বলেন, এ সরকার দেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে। 

বর্তমান মন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন , আমি মন্ত্রী থাকা অবস্থায় দোহারের রাস্তা ঘাটের সার্বিক উন্নয়ন করেছি । বিগত সাড়ে ৪ বছর দোহারের কোন উন্নয়ন করেননি। এখন শেষ সময়ে এসে রাস্তার কিছু কাজ করতাছেন। আমি মনে করেছিলাম দোহারে একজন যোগ্য মন্ত্রী হয়েছেন বর্তমান মন্ত্রী । কিন্তু তিনি সরকারের শেষ সময়ে এসে নির্বাচনী কাজ শুরু করেছেন। যদি এ কাজ ভোটের জন্য হয়ে থাকে তার জবাব আপনারা দিবেন।
তিনি আরো বলেন, আগামীতে যে কোন আন্দোলন করার জন্য সকল নেতা কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে, এক থাকতে হবে। যে কোন সময় আন্দোলনের ডাক আসতে পারে। সরকার যদি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না দেয়, তাহলে বাংলাদেশে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।
দোহার সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি আগামীতে ক্ষমতায় আসলে দোহারে রেললাইন ও গ্যাস লাইন স্থাপন করা হবে। তাই বিগত দিনের মত তাকে ও ধানের শীষে ভোট দিয়ে দোহারের উন্নয়নের সুযোগ চান তিনি ।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার বিএনপির সহ সভাপতি মোঃকামরুল হুদা, জাসাসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ খালেকুজ্জামান জুয়েল, ঢাকা জেলা মৎস্যজীবীদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনাত আলী খালাসী, ঢাকা জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক লুতফর রহমান মাস্টার, ঢাকা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন লিটন, দোহার থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মিরাজ খালাসী, দোহার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামাল মোড়ল , জয়পাড়া কলেজ ভিপি আতিকুর রহমান সুয়েম, জয়পাড়া কলেজ ছাত্রদল সভাপতি জহিরুল ইসলাম, উপজেলা যুবদল যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমনসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মী।

দোহারের বাশঁতলা-কার্তিকপুর রাস্তা না মরনফাঁদ?

দোহার উপজেলার বাশঁতলা টু কার্তিকপুর প্রধান রাস্তাটি এখন মরনফাঁদে পরিনত হয়েছে। রাস্তাটির ৪ কিলোমিটারের পুরোটারই ঢালাই করা পিচ ও ইট-সুরকি সরে সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় অসংখ্য খনা-খন্দ। তার উপর গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির ফলে  বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে দুর্ভোগে পড়ে এ পথে যাতায়াত করা অসংখ্য যানবাহন ও সাধারন পথচারীরা। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও রেহাই পায় না এই দুর্ভোগ থেকে। হরহামেশাই এখানে ঘটে ছোট বড় অনেক দুর্ঘটনা।

ঢাকার দোহার উপজেলার প্রানকেন্দ্র জয়পাড়া থেকে করিমগঞ্জ, চরকুশাই, কার্তিকপুর, সুন্দরীপাড়া, শিলাকোঠা, আন্তা সহ বাহ্রা ঘাট থেকে মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ও মৈনটঘাট দিয়ে ফরিদপুর যাওয়ার গুরুত্বপূর্ন এই প্রধান সড়কের অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন স্থানের ঢালাই করা পিচ, ইট ও সুরকি সরে সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও কোথাও দেখা যায় রাস্তায় এক থেকে দের ফিট গর্থের সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহনের চালকেরা ঝুকি নিয়ে এই পথে চলাচল করলেও প্রায়ই শিকার হচ্ছেন দুর্ঘটনার। এসব অবহেলিত মানুষের দাবী একটাই রাস্তাটা খুব দ্রুত সংস্কার করা হোক। বিভিন্ন সময় এলাকাবাসীর দাবীর মুখে কর্তৃপক্ষ লোক দেখানো সংস্কার ছাড়া কাজের কাজ কিছুই করে নাই বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু দিন আগে সাপ্তাহিক একুশের কন্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর ইট বালু ফেলে কিছুটা মেরামত করা হলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই সড়কের অতি চেনা বেহাল রুপে ফিরে আসে। যা কিনা লোক দেখানো সংস্কার বলেই দাবী মানুষের। এই রাস্তাটিতে ২০০৫সালে সর্বশেষ চারদলীয় জোট সরকারের আমলে কাজ করা হয়। বর্তমান সরকারের সারে ৪ বছরেও কোন ধরনের কাজ না হওয়ার ফলে এই রাস্তায় যাতায়াত করী সাধারন মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোবের।

এই বছরের মে মাসে দোহারে এসে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দ্রুত সংস্কার করার কথা বললেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
কার্তিকপুর গ্রামের সাইমন বলেন, জনগনের কথা বিবেচনা করলে সরকার ও জনপ্রতিনিধিরা এই রাস্তাটি সংস্কার করত। এত গুরুত্বপূর্ন একটি সড়কের এই বেহালদশা দেখলে খুবই খারাপ লাগে। অনেক প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া আমার এই রাস্তা পাড়ি দিতে চাই না।
ট্রাক চালক জসিম উদ্দিন বলেন, বাশঁতলা থেকে কার্তিকপুর সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ন। এটি দীর্ঘ দিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। আমরা প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে অনেক ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করে থাকি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কেন এ সড়কের সংস্কার কাজ করছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়।

ভেঙ্গে যাচ্ছে দোহার-নবাবগঞ্জ রক্ষা বেড়িবাঁধ

”খালি মন্ত্রী-এমপিরা আমাগো লিগা ব্যবস্থা নিবার কতা কয়। ভোট গেলে তাগো আর খবর থাহে না। তাই আমরা আর কাউরে ভোট দিমু না। হাসিনা মা কয়ছিল আমাগো রক্ষায় গাঙ্গে বান দিব। কই কিছুই তো করলো না” অনেকটা আক্ষেপের সাথে কথা গুলো বলেন ধোয়াইর গ্রামের হাসিনা আক্তার (৩৫)।

সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু পদ্মা পাড়ের মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না। গত বছর পদ্মার ভয়াবহ ভাঙ্গেনের শিকার প্রায় ১৫০০ পরিবারের এখনও আশ্রয় এর ব্যবস্থা গ্রহন করেনি সরকার। কিন্তু গতবছর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় স্থানীয় প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান সকল পরিবারকে আশ্রয় দেয়ার কথা বলেছিলেন। এই বছর বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার কারনে পদ্মার সেই ভয়াবহ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে গত কয়েক দিনের ভাঙ্গনে  প্রায় ৩০টি পরিবার তাদের ভিটে মাটি হারিয়ে পথে বসে গেছেন। এছারা দোহার-নবাবগঞ্জ রক্ষায় দোহার-মানিকগঞ্জ (কাশিয়াখালী বাধ) বেড়ীবাধের ধোয়াইর বাজার সংলগ্ন দেওয়ান বাড়ীর মোড় এর বেশির ভাগ অংশ ভেঙ্গে গেছে। এর ফলে বেড়িবাধের উপর দিয়ে বর্তমানে গাড়ী চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সাধারন জনগন চরম ভোগান্তীর মধ্যে আছে। কিন্তু ভাঙ্গনের পর সরকার বাধঁ রক্ষায় কোন ধরনের সংস্কার কাজ না করায় দোহার-নবাবগঞ্জের লক্ষাধিক মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। এই বাধেঁ বেশ কয়েকটি স্থানে ভেঙে যাওয়ার ঝুকির মধ্যে আছে। গতবছর ভাঙ্গনের সময় স্থানীয় প্রতিমন্ত্রী, পানি মন্ত্রী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এবং সরকারী লোকজন শুষ্ক মৌসুমে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে যান। কিন্তু কার্যত দেখা যায় বছর গেলেও  হয়নি কোন সংস্কার। ফলে যে কোন মুহূর্তে উত্তল পদ্মার পানির চাপে এই বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ন এলাকা প¬াবিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। নয়াবাড়ী ইউনিয়নের ৬০% পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, অত্র এলাকার সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পদ্মার ভাঙ্গন চলছে মাত্র ১০০ গজ দূরে। যে কোন সময় ভেঙ্গ যেতে পারে গুরুত্বপূর্ন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া স্কুল, মাদ্রাসা, কবরস্থান ও মসজিদ সহ এসব এলাকার প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গনের মারাত্বক ঝকির মধ্যে রয়েছে। ছোট বড় ৫টি বাজারও সে কোন সময় ভেঙ্গে যেতে পারে।

বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক লূৎফর রহমান বলেন, মন্ত্রীমহাদয় বার বার ওয়াদা দেয়ার পরও কেন বাধ রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহন করা হলো না তা বুঝতে পারলাম না। আমার এই স্কুলে ২কোটি টাকার ভবন আছে। এগুলো রক্ষা করার জন্যে খুব দ্রুত ব্লক ও বালুর বস্তা ফেলা খুবই জরুরী। মন্ত্রী কি আমাদের এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা একটুও ভাবে না?
পদ্মার ভাঙ্গনের ফলে হাতনি গ্রামের মাত্র একটি বাড়ি অবশিষ্ঠ আছে। সেই বাড়িরও কিছু অংশ এরই মধ্যে ভেঙ্গে গেছে। বাড়িটি বাশ ও ছন দিয়ে রক্ষায় ব্যস্ত বাড়ীর মালিক জালাল দেওয়ান (৪৫) কান্না জরিত কন্ঠে বলেন, এই বাড়িটা ভাইঙ্গা গেলে আমরা কোথায় যামু? আমাগো গ্রামের সব বাড়ি ভাইঙ্গা গেছে। এহন আমারটাও ভাঙ্গতাছে। তাই চেষ্টা করতাছি বাড়িডা রক্ষা করা যায় কিনা।
নয়াডাঙ্গীর মিজানুর রহমান বলেন, আমরা মন্ত্রীর কাছে ভাত চাই না। আমরা আমাদের মাটি রক্ষায় বাধ চাই। আমাদের দুঃখ একটাই মন্ত্রী আমাদেরকে একটু সান্তনা দেয়ার জন্যও এলো না।
সেখান থেকে আমারা চলে যাই বর্তমানে দোহারের শেষ পানকুন্ডু গ্রামে। সেই গ্রামের সোবহান মল্লিক বলেন, সরকার আমাগো জন্যে অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও আমারা ২টাকার একটা বিস্কুটও পাই নাই। সরকার শুধু আশ্বাস দিয়ে যায়। বর্তমানে আমার মাইনসের বারিতে আশ্রয় নিছি। এইডাও কোনসুম যেন ভাইঙ্গা যায়। আমারা আতঙ্গের মধ্যে আছি।
পাদ্মার ভাঙ্গনের শিকার কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি বাবু নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, গত বছরের ভাঙ্গনে নয়াবাড়ী ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ড ভেঙ্গে গেছে। মসজিদ, মাদ্রাসা ও একটি বড় বাজার সহ দের হাজার পরিবার ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। তাদের জন্যে আমরা লঙ্গর খানা খুলেছিলাম। জননেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াদা করেছিল ভাঙ্গন রক্ষায় বাধ দেয়া হবে। আমরা সেই ওয়াদা পূরন করতে সচেষ্ট আছি।

পূর্ত প্রতিমন্ত্রীর সাফাই এবং আবাসন খাতের অনাচার

নিউজ৩৯♦ নিউজটি ঢাকা টাইমস ২৪ এর নিজস্ব সংবাদ। নিউজ৩৯ শুধু মাত্র তার পাঠকদের জন্য সংবাদটি প্রকাশ করলো।

চমৎকার গুছিয়ে কথা বলেন আমাদের পূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান। ভরাট কন্ঠ। শুদ্ধ উচ্চারন। তিনি কিছু বললে সহজেই নজর কাড়ে। আমার অন্তত এমনটাই মনে হয়। সোমবার গভীর রাতে জিটিভির টক শো’তে পূর্ত প্রতিমন্ত্রীকে একই ভূমিকায় দেখলাম। চোখ জুড়ে ঘুম। তবুও সুবক্তার কথা শোনার লোভ সামলাতে পারলাম না। সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিবরণ দিচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী। এক পর্যায়ে বললেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরে আবাসন খাতের সব অনাচার দূর হয়েছে। মান্নান খানের এই বক্তব্যে খানিকটা ধাক্কাই খেলাম। হাসিও পেল। এর কারণও আছে। ২০১০ সালে পূর্ত মন্ত্রনালয়ের সভাকক্ষে আবাসন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীদের বাহাসের প্রত্যক্ষদর্শী আমি। তখন কাজ করতাম বাংলাদেশ প্রতিদিনে, উপ সম্পাদক হিসেবে। দেখেছি প্রতিমন্ত্রী কিভাবে আবাসন ব্যবসায়ীদের অনিয়ম, অনাচারের কথা বলেছেন। কেন ড্যাপ বাস্তবায়ন করতে হবে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে তার যুক্তি তুলে ধরেছেন। সেইসব অনিয়ম, অনাচারের কোন সুরাহা না করে প্রতিমন্ত্রী যেভাবে টক শো’তে তৃপ্তির ঢেঁকুর গিললেন তা সত্যিই বিস্ময়কর।

ইচ্ছে আছে সুযোগ পেলে ছাত্র ইউনিয়নের এককালের তুখোড় এই নেতাকে জিঙ্গেস করবো মন্ত্রী হলে সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করতে হয়? আমার বিশ্বাস, অতীতে যে বিনয় তাঁর মধ্যে দেখেছি নিশ্চয়ই তিনি এর উত্তর আমায় দেবেন। ২০০৭ সালে ওনার সাথে কথা বলতে চেয়েছিলাম মুঠোফোনে। তিনি আধঘন্টা সময় চেয়ে নিয়ে আমার তখনকার কর্মস্থল প্রথম আলোতে চলে এসেছিলেন। এরপর ঘন্টাব্যাপী আলোচনায় বারবার সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার দুর্নীতির কথা বলেছেন। দু:খ করে বলেছেন, রাজনীতি যেখানে জনসেবা সেখানে মন্ত্রী হয়ে কীভাবে নিজের সেবায় মেতে ওঠেন কোন কোন রাজনীতিবিদ।

সেই মান্নান খান যখন পরবর্তীতে সালমান এফ রহমানকে হঠিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন। খুশি হয়েছিলাম। নির্বাচিত হয়ে যখন পূর্ত মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী হলেন তখন অনেকের মতো ধরেই নিয়েছিলাম, এবার বুঝি শৃঙ্খলা ফিরবে আবাসন খাতে। প্রথম দিকের হাকডাকে এক ধরনের ইতিবাচক মনোভাবও তৈরি হয়েছিল অনেকের মাঝে। বিশেষত. ড্যাপ বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি যখন অনঢ় মানসিকতা দেখাতে থাকলেন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই সব কিছু কেমন যেন থেমে গেল। বিস্ময়কর হলো ড্যাপ (ঢাকার বিশেষ অঞ্চল পরিকল্পনা) পর্যালোচনা কমিটির প্রথম বৈঠক হয় ২০১০ সালে। আর দ্বিতীয় বৈঠক হয় তিন বছর পর ২০১৩ সালের ১৯ মে। মোদ্দা কথা হল ড্যাপ বাস্তবায়নের ধারেকাছেও যেতে পারেনি রাজউক। ঢাকা থেকে মাওয়া যাওয়ার রাস্তার আশেপাশের কোন কোন অংশ ড্যাপের অন্তর্ভূক্ত। ওই সড়কের  দুই পাশের বিস্তীর্ণ পানির মধ্যে সাইনবোর্ড দেখতে পাওয়া যায়। ‘অমুক’ হাউজিং, ‘তমুক’ হাউজিংয়ের বাহারি বিজ্ঞাপন। অথচ প্রতিমন্ত্রী বেমালুম বলে দিলেন, এখন আর ৩০ ফুট পানির নিচে না জায়গা কিনে আর বিজ্ঞাপন দিতে পারেনা আবাসন ব্যবসায়ীরা।

সরকারের মন্ত্রীরা কি প্রকৃত তথ্য না নিয়ে কথা বলেন? না-কি তাদের যারা আড়াল করে থাকেন তারা আসল কথা বলতে দেননা? উত্তরা নতুন প্রকল্প যেখানে হচ্ছে তার ঠিক ওপারে তুরাগ নদী। আর নদীর উত্তর তীরে একাধিক হাউজিং প্রকল্পের সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে পাল্লা দিয়ে। হয়, রাজউকের এই প্রকল্পটি মন্ত্রী পরিদর্শনে যাননি কখনো। অথবা তিনি সেখানে গিয়ে বন্যাপ্রবাহ এলাকায় আবাসন প্রকল্পের ওই সাইনবোর্ডগুলো দেখেও না দেখার চেষ্টা করেছেন। আশুলিয়ায় আমিন মোহাম্মদ হাউজিংয়ের প্রকল্প কি রাজউক অনুমোদিত? না। অথচ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে এখনো জমি বিক্রয় করছে তারা। যারা প্রলোভনে পড়ে জমি কিনছেন তাদেরকে কি রাজউক অনুমোদনহীন এই প্রকল্পে বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেবে? নিশ্চয়ই না। তাহলে যারা প্রতারিত হচ্ছেন তারা কি অনাচারের স্বীকার হচ্ছেন না? প্রতিমন্ত্রী কি করে বললেন, যে আবাসন খাতের অনাচার দূর হয়েছে? রাজউক, পূর্ত মন্ত্রনালয়ের নাকের ডগায় অনুমোদনহীন একাধিক আবাসন প্রকল্পের মনভোলানো বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে টেলিভিশন, খবরের কাগজ, এমনকী অনলাইন নিউজ পোর্টালেও। সংশ্লিষ্ট হাউজিং কোম্পানীগুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে মাঝেমধ্যে খবরের কাগজে সতর্কীকরণ বিজ্ঞাপন দিয়ে দায় সারছে রাজউক। আর প্রতিমন্ত্রী বলে দিলেন অনাচার দূর হয়েছে!

প্রবাসী পল্লী, এশিয়ান টাউন শান্তি নিবাস, পদ্মা ফিউচার পার্ক, বসুমতি আবাসিক প্রকল্প, ভিশন গ্রুপ, ভুলুয়া রয়েল সিটি, কানাডা সিটি,বেস্টওয়ে সিটি, পূর্বাচল আমেরিকান সিটি, পিংক সিটি ইত্যাদি বাহারি নামের আবাসন প্রকল্পগুলো কি রাজউক অনুমোদিত? না। প্রবাসী পল্লী নামের আবাসিক প্রকল্পটির ৯৫ ভাগ হল জলমগ্ন এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা এখনো এখানে মাছ শিকার করেন। অথচ প্রায় প্রতিদিনই এই প্রকল্পের মনভোলানো বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে পত্র-পত্রিকায়। নির্বিকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এক খন্ড জমির আশায় যিনি এইসব প্রকল্পে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ করছেন তিনি যখন প্রতারিত হবেন তখন কি তাকে অনাচারের স্বীকার বলা যাবে? নিশ্চয়ই যাবে। তাহলে প্রতিমন্ত্রীর অনাচার দূরের দাবি কি অসার হয়ে যায়না?

ঢাকা শহরের দশ হাজার ভবনকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে দুদক। এই ভবনগুলোর কোনটা নকশাবিহীন, কোনটা অবৈধ জায়গার ওপরে করা, কোনটা নকশা না মেনে করা। আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ এইচ বি এম ইকবাল গুলশান এভিনিউ, নিকেতনে রাজউকের অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে সুউচ্চ ভবন তৈরি করেছেন। দলের আরেক সাংসদ লোটাস কামালও ১৩ তলার অনুমোদন না নিয়ে ২০ তলা ভবন করেছেন। সরকার ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর অন্তত চারটি বড় ভবন রয়েছে অবৈধ নকশায় করা। এরকম অসংখ্য উদাহরণ আছে।

অবৈধ নকশায় করা সাভারের রানা প্লাজা ধ্বসে শত শত প্রাণহানি হয়েছে আমাদের চোখের সামনে। মালিক রানা গ্রেপ্তার হয়েছেন। সাভার পৌর মেয়র প্রথমে বরখাস্ত, পরে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুর্ঘটনা হয়েছে বলে এই ব্যবস্থা। এখন ঢাকায় যদি অনুমোদনহীন কোন ভবনে এমন দুর্ঘটনা হয় তাহলে কি আমরা রাজউকের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা দেখতে পাব? আর রাজউক যদি সঠিক পথে না চলে তাহলে এর দায়-দায়িত্ব কি সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী নেবেন না?

আবাসন খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি রাতারাতি পুরোপুরি নির্মুল হয়ে যাবে এমন আশা আমরাও করিনা। কিন্তু ধীরে ধীরে কমবে এমনটা তো আশা করা দুরাশা নয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী যখন বলেন যে সব অনাচার দূর হয়েছে তখন তো অনাচার করা ব্যবসায়ীরা লায় পেয়ে যান। তাদের দুষ্কর্ম কার্যত বৈধতা পেয়ে যায়। এটা প্রতিমন্ত্রী বুঝেই করছেন? না-কি মুখ ফসকে বলেছেন। মান্নান খানের মতো একজন বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ মুখ ফসকে কিছু বলবেন এটা কি আমাদের বিশ্বাস করতে হবে? না-কি এর পেছনে অন্য কোন কারণ আছে?

লেখক: আরিফুর রহমান,  সম্পাদক, টাইমস২৪.কম

ঈদ উৎসবেও ভাঙ্গন দোহার থানার পদ্মা পাড়ের মানুষের

ঢাকার দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী, মাহমুদপুর, বিলাসপুর ও সুতারপাড়া ইউনিয়নে পদ্মার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহে এই চার ইউনিয়নের শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একমাত্র সম্বল ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে পথে বসেছেন অনেক মানুষ।
বাসিন্দারা জানান, পদ্মার তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা নয়াবাড়ী, মাহমুদপুর, বিলাসপুর ও সুতারপাড়া ইউনিয়নে ভাঙনের ফলে অনেকটা বদলে গেছে দোহারের মানচিত্র। ভাঙনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমুল হক বলেন, কিছু এলাকায় ভাঙনের বিষয়ে তাঁরা জেনেছেন। বাকি এলাকাগুলোর খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

সুতারপাড়া ইউনিয়নের মধুরচর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, মধুরচর রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে ঘরহারা মানুষ।
গ্রামবাসী জানান, অনেকে ঘরবাড়ি হারিয়ে উপজেলার আড়িয়ল বিল এলাকার দুবলী গ্রামে চলে গেছে। কয়েক দিন থেকে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের কেউ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেননি। ভাঙন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা না নিলে শিগগিরই মধুরচর ও আলীনগর গ্রাম দুটি পদ্মায় বিলীন হয়ে যাবে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা।

পদ্মার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মধুরচর গ্রামের দুলু মোল্লা বলেন, ‘পদ্মার ভাঙনে আমরা ভিটামাটি হারাইয়া রাস্তায় পইড়া গেলাম বাবা। কেউ তো আমাগো দেখতে আইলো না।’
সুতারপাড়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুরুজ ব্যাপারী বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ভাঙনের কারণে নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বাহ্রাঘাট ও দেওয়ানবাড়ী মোড় এলাকায় দোহার-মানিকগঞ্জ বেড়িবাঁধের বেশির ভাগ অংশ ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল মান্নান বলেন, এ মুহূর্তে তাঁরা কিছুই করতে পারছেন না। তবে নয়াবাড়ী এলাকায় দুটি পয়েন্টের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কাজ করতে চার কোটি টাকার একটি প্রকল্প চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

দোহার পৌরসভায় জলাবদ্ধতা: আমরা কি পৌরকর দিয়েই যাব, সেবা পাব না

পৌরসভায় জলাবদ্ধতা অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে দোহার পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের উত্তর জয়পাড়া এলাকা। একটু বৃষ্টি নামলেই  পানির কারনে চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এই এলাকায়। দিনে দিনে এই সমস্যা বেড়েই চলছে উত্তর জয়পাড়া এলাকায়। এই সমস্যা সমাধানে নেই এই ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধির নেই কোন উদ্যোগ। এলাকা বাসী নিজস্ব অর্থায়নে এর আগে ড্রেন নির্মান করা হলেও বর্তমানে বিভিন্ন কারনে তা আজ অকেজো।

দোহার  পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের এই জলাবদ্ধতা সমস্যা নতুন কোন সমস্যা নয়। এর আগে বারবার এই সমস্যা নিয়ে এলাকার জনপ্রতিনিধি ৩ নং ওয়ার্ড কমিশনার কুদ্দুশ কমিশনারের কাছে গেলেও তিনি বিষয়টি বারবার এড়িয়ে যান। ফলে কয়েকবছর আগে এলাকাবাসী নিজস্ব উদ্যোগে ড্রেন নির্মান করে। কিন্তু কিছু দিন আগে ঐ স্থানে নতুন ভবন নির্মান হওয়ায় ড্রেনটির কার্যকারীতা নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে নিয়োমিত ময়লা আবর্জনা ফেলে ড্রেনটি বন্ধ হয়ে যায়। বারবার পৌরসভায় নাগাদা দিয়েও কোন ফল পায় নি এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা খলিল ব্যাপারী আক্ষেপ করে বলেন, জলাবদ্ধতার সমস্যার কারনে আজ আমরা অতিষ্ঠ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পৌরসভার কাছে বারবার আবেদন করার পরও এর কোন প্রতিকার আমরা পাই নি। আমরা কি শুধু করই দিয়ে যাবো, সেবা পাব না কোন?
এলাকা বাসী দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চান।

ঈদ সামনে রেখে দোহার-নবাবগঞ্জে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা তৎপর

বাংলাদেশের অন্যতম রেমিট্যান্স অর্জনকারী এলাকা ঢাকার প্রবাসী অধ্যুষিত দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা। প্রতিবারই ঈদ সামনে রেখে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়।

হুন্ডির পাশাপাশি তৎপর হয়ে উঠেছে টাকা জালিয়াতরা। তাদের কারণে জনসাধারন শঙ্কিত। ব্যাংকের নানমুখী হয়রানি ও বিড়ম্বনাকে পুঁজি করে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের এ তৎপরতা।
দোহার-নবাবগঞ্জের দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের প্রায় ১ লাখ লোক মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বসবাস করে। এসব প্রবাসী সাংসারিক খরচসহ নানা প্রয়োজনে দেশে টাকা পাঠান।
নিয়মানুসারে প্রাবাসীরা ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের অর্থ দেশে পাঠানোর কথা। এতে প্রাবাসীদের অর্থের হিসাব সরকারে কাছে যেমন থাকে, তেমনি পাঠানো অর্থ থেকে সরকারের বৈদেশিক মূদ্রার তহবিল বড় হয়।
কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে সারাদিন হাড় ভাঙা পরিশ্রম করে সেখান থেকে দেশে টাকা পাঠাতে লাইনে দাঁড়িয়ে ড্রাফট বানাতে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। এই ঝামেলা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রবাসীরা হুন্ডিকে অর্থ প্রেরণের সহজ মাধ্যম হিসাবে বেছে নেয় হুন্ডি।

দুই উপজেলার প্রায় শতাধিক হুন্ডি ব্যবসায়ী রয়েছে। একজন হুন্ডি কারবারির আওতায় ১০-১২ জন টাকা বিতরণকারী রয়েছে। বিতরণ কারীরা গ্রাহকদের বাড়িতে গিয়ে প্রবাসীদের পাঠানো টাকা পৌঁছে দিয়ে আসে। অথবা গ্রাহকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করে দেয়। টাকার পরিমান কম হলে গ্রাহক নিজেকে হুন্ডি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে আনতে হয়।

এসব হুন্ডি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে থানার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন সমঝোতার কথাও মানুষের মুখে মুখে প্রচারিত রয়েছে। রয়েছে দায়িত্বশীল প্রশাসনের সঙ্গে বোঝাপড়া।
দায়িত্বশীল প্রত্যেকের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে হুন্ডি ব্যবসায়ী চক্র দেদারসে জাল টাকার ব্যবসা করছে বলেও প্রচলিত আছে। হুন্ডি ব্যাবসায়ীরা গ্রাহকদের জাল টাকা দিয়ে দিলেও পরে জাল টাকার আলামত বুঝতে পেরে আবার টাকা বদলাতে তাদের (হুন্ডি ব্যাবসায়ীদের) কাছে গেলে গ্রাহক ও টাকা প্রাপককে হুমকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে।

জাল টাকার কারণে মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে প্রবাসীদের আয় নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। যা স্বাধীনতার পর এ যাবতকালের সর্বোচ্চ। সমাপ্ত ২০১২-১৩ অর্থ বছরে প্রবাসীরা মোট ১ হাজার ৪৪৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। যা এর আগের অর্থ বছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে বারো শতাংশ বেশি। এর আগে ২০১১-১২ অর্থ বছরে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিলো ১ হাজার ২৮৪ কোটি ডলার। তার আগে ২০১০-১১ অর্থ বছরে ছিল ১ হাজার ১৬৫ কোটি ডলার।

প্রবাসী আয়ের সন্তোষজনক ধারায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নতুন মাত্রা পেয়েছে। যা বর্তমানে দেড় হাজার কোটি ডলার। আমাদের দেশে আমদানী ও রপ্তানী ব্যয়ে যে ঘাটতি থাকে তার জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করে প্রবাসী আয়। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, প্রতি বছরই রপ্তানীর থেকে আমদানি বেশি হয়। সেই ঘাটতির অনেকটাই মেটায় রেমিট্যান্স।

আমি বিএনপির নাজমুল হুদা, বিএনপিই আমাকে নাজমুল হুদা বানিয়েছে

“আমি বিএনপির নাজমুল হুদা, বিএনপিই আমাকে নাজমুল হুদা বানিয়েছে। এই বিএনপি আমার। বিএনপিই ছাড়া আমার আর কোন রাজনৈতিক দল নেই। আমি বিএনপিরই আছি” বলে মন্তব্য করেন সাবেক বিএনএফ নেতা ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা। দোহার উপজেলা বিএনপির নাজমুল হুদা গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত জয়পাড়া কলেজ মাঠে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

জয়পাড়া কলেজের মাঠে আয়োজিত এই ইফতার মাহফিল আয়োজন করে দোহার বিএনপির নাজমুল হুদা গ্রুপ বলে পরিচিত বিএনপির এক অংশ।  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নাজমুল হুদা, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কামরুল হুদা। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন বিলাশপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও দোহার উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম মেছের।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেন, আগামীতে আমি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করব। আমি জানি আপনারা আমার সাথেই আছেন।  এই সময় তিনি আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন।

এইসময় ইফতার মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাসুদ পারভেজ, সেচ্ছাসেবকদল নেতা সাখাওয়াত হোসেন বিদ্যুৎ, দোহার উপজেলা ছাত্রদল সাধারন সম্পাদক সেন্টু ভুইয়া, পৌরসভা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রিপন, পৌরসভা ছাত্রদল সভাপতি জুলহাস, জয়পাড়া কলেজ ছাত্রদল সভাপতি জহিরুল  ইসলাম সহ আরো অনেক।