নবাবগঞ্জে শ্রমিক সংগঠনের মে দিবস পালন

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ঢাকার নবাবগঞ্জে শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও জাতীয় শ্রমিক পার্টি র‌্যালী ও সমাবেশ করেছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শ্রমিক ঐক্য পরিষদ একটি র‌্যালী বের করে। র‌্যালীটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কায়কোবাদ চত্বরে মিলিত হয়ে সমাবেশ করে। 

সমাবেশে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ তাদের ন্যায্য দাবি ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের কাছে আহবান জানান। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে নেতৃবৃন্দ এর প্রতিকার দাবি করেন। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ইব্রাহীম খলিল, শ্রমিক লীগের আমির হোসেন কুটি, মো. যাদু মিয়া, ইয়াছিন রবিন, ওয়ার্কার্স পার্টির আব্দুল জলিল, অটোরিক্সা মালিক ও শ্রমিক সমিতির সভাপতি নাইম হোসেন প্রমুখ। 

অন্যদিকে, জাতীয় শ্রমিক পার্টির নবাবগঞ্জ উপজেলার সভাপতি রোপন সরকারের নেতৃত্বে বেলা সাড়ে ১১টায় নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে একটি র‌্যালী বের হয়। র‌্যালীটি দোহার নবাবগঞ্জ কলেজ পর্যন্ত ঘুরে উপজেলার সামনে পথসভা করে। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক পাটির সাধারণ সম্পাদক রিপন মোল্লা, যুবসংহতির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ, তারেক হোসেন, নারায়ন সরকার, রেজাউল হাসান, হুমায়ন কবির, সাগর হোসেন ও মো. সেলিম প্রমুখ।

দোহারে ইমারত নির্মাণ শ্রমিক সংঘের শ্রমিক দিবস পালন

১ মে, শুক্রবার, বিকাল ৩টায় ঢাকার দোহার উপজেলার লটাখোলায় করম আলী মোড়ে মে দিবস উপলক্ষ্যে দোহার উপজেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক সংঘ শ্রমিক গণজমায়েত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

কর্মসূচীর শুরুতে দোহার উপজেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক সংঘ মে দিবসে তাদের দাবী-দাওয়া নিয়ে এক র‍্যালি বের করে। র‍্যলিটি করম আলীর মোড় থেকে শুরু করে জয়পাড়া বাজার প্রধান সড়ক দিয়ে স্বাধীনতা ভাস্কর্য্য  হয়ে থানার মোড় বাইপাস সড়ক ধরে সমাবেশ স্হলে এসে শেষ করে।

এরপর এক শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মো. হায়দার আলী ও পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক- মশিউর রহমান উদ্যম। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের সহ-সভাপতি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)  কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলাম টিটু, এনডিএফ ঢাকা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, এনডিএফ ঢাকা জেলা কমিটির প্রচার সম্পাদক রনী আহমেদ, দোহার উপজেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক সংঘের সহ-সভাপতি ছাহের উদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান বেপারী, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল আহমেদ, সদস্য হিরন মাদবর, কাঞ্চন মোল্লা, আঃ রহমান শিকদার, ফরহাদ মোল্লা, শিরজন কারাল প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গণ সঙ্গীত পরিবেশন করেন- ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ, দোহার উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও গণ সঙ্গীত শিল্পী শফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ও গণ সঙ্গীত শিল্পী গোপাল চঁন্দ্র পাল, সদস্য- আনোয়ার হোসেন, ওমান, জমির উদ্দিন প্রমূখ শিল্পীবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন- মহান মে দিবস আমাদের দাবী আদায়ে সর্বোচ্চ আত্ম ত্যাগের শিক্ষা দেয়। দাবী ও অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অনুপ্রেরণা যোগায়। নির্মাণ ও কাঠ শিল্পের শ্রমিকদের জন্য ২০১২ সালে সরকার একটি  নিম্নতম মজুরি কাঠামো গেজেট আকারে প্রকাশ করলেও আমাদের ২০১৫ সালেও সে অনুযায়ী মজুরি প্রদান করা হয় না। কর্মক্ষেত্রে আমাদের কোন নিরাপত্তা নাই। কোন দূর্ঘটনা ঘটলেও কোন ক্ষতিপূরণ পাই না। আমাদের নিয়মিত কাজের কোন নিশ্চয়তা নাই। কাজ করলেও নিয়মিত মজুরি প্রদান করে না। এই ব্যাপারে কিছু বললে আমাদের উপর নেমে আসে শাররিক ও মানসিক নির্যাতন। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে প্রয়োজন সকল শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত হওয়া এবং এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলা। নেতৃবৃন্দ সকল নির্মাণ শ্রমিকদের দাবী ও আধিকার আদায়ের লক্ষ্যে দোহার উপজেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক সংঘের পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত হওয়ার  আহবান জানান।

আমি একই সঙ্গে হিন্দু এবং মুসলমান- সালমান খান

0

নিউজ৩৯♦ সম্প্রতি আদালতে জবানবন্দিতে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে ভারতীয় সালমান খান বলেছেন, তিনি একই সঙ্গে হিন্দু এবং মুসলমান।

বুধবার জোধপুরে কৃষ্ণ হরিণ হত্যা মামলার শুনানিতে উপস্থিত হলে সালমানকে তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে প্রথমে সালমান বলেন, তিনি একজন ভারতীয়। পরে তাকে তার ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি একই সঙ্গে হিন্দু এবং মুসলমান।”

জোধপুরের আদালতে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অনুপমা বিজলানি সালমানের পরিচয় নথিবদ্ধ করার সময় এই প্রশ্ন করেন। আদালত কক্ষে উপস্থিত অনেকেই তখন সালমানকে মুসলমান হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরামর্শ দিলেও নিজের বক্তব্যে অটল থাকেন তিনি।

এই পরিচয়ের ব্যাখ্যায় সালমান বলেন, “আমি হিন্দু এবং মুসলমান। আমার বাবা (সেলিম খান) একজন মুসলিম, আমার মা (সুশীলা চারাক) একজন হিন্দু।”

জোধপুরে কৃষ্ণ হরিণ হত্যার পাশাপাশি বন আইনের অধীনে সালমানের বিরূদ্ধে আনা হয়েছে নতুন অভিযোগ। এই অভিযোগে বলা হয়েছে অনুমোদনবিহীন অস্ত্র বহন করায় সালমানের অস্ত্র ব্যবহার অবৈধ ছিল। এদিন আদালতে দাঁড়িয়ে সালমান দাবি করেন লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি এর নবায়ন করিয়েছিলেন। আর তাই তার বহন করা অস্ত্র অবৈধ ছিল না।

নবাবগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমিতে মন্দির ভাংচুরের অভিযোগ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় বিরোধপূর্ণ জমিতে অবস্থিত মন্দির ভেঙে প্রতিপক্ষ রান্নাঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের খন্দকারহাটি মাধবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগে জানা গেছে, মাধবপুর মৌজার এসএ খতিয়ানের ১৫৯, এসএ দাগ নং ৪৪ এর প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে গত ৭-৮ বছর ধরে রঞ্জিত বাড়ৈর সঙ্গে প্রতিবেশী মিরাজ ও মহারাজের বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও বিচারাধীন। ওই জমিতে হিন্দু পরিবারের শত বছরের পুরনো রাধা-গোবিন্দ মন্দির অবস্থিত।

রঞ্জিত বাড়ৈর অভিযোগ, মিরাজ ও মহারাজরা প্রভাব খাটিয়ে আদালতে বিচারাধীন ওই জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে মন্দিরের চালা ভেঙে দেয় মিরাজ ও মহারাজের লোকজন। সেখানে রান্নাঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নিলে রঞ্জিত বাড়ৈ থানা পুলিশে অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে।

রঞ্জিত বাড়ৈ জানান, মন্দিরটি শত বছরের পুরনো রাধা-গোবিন্দ মন্দির। মিরাজ মহারাজ আইন অমান্য করে মন্দির ভেঙে পারিবারিক ঐতিহ্য নষ্ট করেছে। 

এ বিষয়ে মিরাজ বলেন, এটি তাদের ক্রয় করা সম্পত্তি। তারা রান্নাঘর করবেন বলে মন্দিরের বারান্দা ভেঙেছেন।

নবাবগঞ্জ থানার ওসি সায়েদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাদীর অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নবাবগঞ্জে চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরে অবস্থিত মুক্তি ক্লিনিকে সোমবার সন্ধ্যায় অপারেশন করে প্রসবের সময় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অস্ত্রপচারের সময় শিশুটির শরীরে একটি অংশে কেটে গেলে তার মৃত্যু হয়। 

উপজেলার চর চরিয়া গ্রামের শামীম গাজীর স্ত্রী হেনা আক্তারের বাচ্চা প্রসব করানোর সময় এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার পর পুলিশ ক্লিনিকে এসে নবজাতকের পরিবারের সঙ্গে কথা বললে তারা কোনো অভিযোগ দিতে রাজি হয়নি বলে নবাবগঞ্জ থানার এসআই মোজাম্মেল হোসেন জানান। 

নবজাতকের চাচা গাজী সাজ্জাদ বলেন, ক্লিনিকের মালিক পক্ষ আমাদের পরস্পর আত্মীয়। তাছাড়া যে ক্ষতি হয়েছে তার তো আর ফিরে পাব না। তাই এ বিষয় নিয়ে কিছু বলার নেই। 

মুক্তি ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম বলেন, প্রসূতির গর্ভেই বাচ্চাটি মারা গিয়েছিল। নবজাতকের শরীরে কোনো কাটা দাগ ছিল না। চিকিৎসকের কোনো অবহেলাও ছিল না।

নবাবগঞ্জে কলেজছাত্রীর অশ্লীল ছবি ধারণ: বখাটে সুজন আটক

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় এক কলেজছাত্রীকে ধরে নিয়ে অশ্লীল ছবি ধারণ করা ও তাকে যৌন নির্যাতন করার অপরাধে সুজন (৩২) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।  

রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলা সদরের একটি গ্রামে ৬/৭ জন বখাটে যুবক ওই মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে উত্ত্যক্ত করার সময় থানা পুলিশ ধাওয়া করে সুজনকে আটক করে। 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ওই মেয়েটি একটি অনুষ্ঠান থেকে প্রতিবেশী কয়েকজনের সঙ্গে বাড়িতে ফিরছিল। পথিমধ্যে  পেছন থেকে ৬/৭ জন বখাটে তাকে মুখ আটকে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এসময় তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় বখাটেরা। সে সময়ে মেয়েটি তার ঋতুচক্র চলছে বলে জানায়। বখাটেরা তা পরীক্ষা করে দেখে। পরে তাকে বিবস্ত্র করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে বখাটেরা ছেড়ে দেয়। বাড়িতে ফিরে মেয়েটি ঘটনাটি পরিবারকে জানায়। রোববার রাত ২টার দিকে ওই বখাটেরা মেয়েটিকে তুলে নিতে বাড়িতে আসলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। এসময় সুজন নামে এক বখাটেকে ধরতে সমর্থ হয়। 

নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. তাজউদ্দিন জানান, মেয়েটি নিজে বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছে। আটককৃতকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

দোহারের নারিশায় ডাকাত গ্রেপ্তার

ঢাকার দোহার উপজেলায় মো. মামুন (২৭) নামে এক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে দোহার থানার পুলিশ।   শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের নারিশা পশ্চিমচর এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃত মামুন উপজেলার নারিশা পশ্চিমচর গ্রামের মো. জয়দর আলীর ছেলে।

দোহার থানার ওসি মো. মাহমুদুল হক জানান, মামুনের বিরুদ্ধে দোহার থানায় একাধিক ডাকাতি মামলা হয়েছে। শনিবার সকালে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। 

উন্নয়ন কাজে অনিয়ম সহ্য করা হবে না- সালমা ইসলাম

সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জাতীয় মহিলা পার্টির সভানেত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, এলাকার উন্নয়ন কাজে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। দোহারের রাস্তাঘাট ব্রিজ, কালভার্ট ও স্কুল-কলেজের ভবন নির্মাণে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে এলাকার উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে সে বিষয়ে প্রকৌশলীসহ সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। জনগণের টাকায় নির্মিত রাস্তাঘাট দেখভালের দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। এক্ষেত্রে আমার কাছে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়।

শুক্রবার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের চরহোসেনপুর মাহমুদপুর ২ কিমি. রাস্তার সংস্কার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের সচেতন হতে হবে। কারণ সরকারের টাকায় যেসব রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার হয় তা এদেশের সাধারণ মানুষেরই টাকা। তাই তাদের নিজেদের কাজ বুঝে নিতে হবে। সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম দোহার উপজেলা প্রকৌশলীকে দায়িত্বশীল হয়ে দোহারের যেসব রাস্তাঘাট ও ব্রিজ-কালভার্ট খারাপ সেগুলোকে সংস্কারের আওতায় এনে প্রকল্প তৈরি করে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা প্রকৌশলী সুশীল চন্দ্র সরকার, নবাবগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল আহমেদ, দোহার উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ,  ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি মশিউর রহমানসহ স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। 

দোহারে নিম্নমানের ইট খোয়া ও পাথর দিয়ে রাস্তা সংস্কার

ঢাকার দোহার উপজেলার দোহার বাজার-নিকরা আন্তঃমহাসড়কের সংস্কার কাজে নিুমানের ইট, খোয়া ও পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করায় ঠিকাদারের পক্ষ নিয়ে সওজ প্রকৌশলীদের মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়েছে। সওজ কর্মকর্তাদের মাঝে ঘটনাটি বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। 

নাম প্রকাশ না করে একজন সওজ কর্মকর্তা বলেন, কাজের ক্রুটি ধরায় ঊর্ধ্বতন এক প্রকৌশলী তার অধীনস্থের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবি করেছে মর্মে অভিযোগ তুলতে ঠিকাদারকে উৎসাহিত করেছেন। 

মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দোহার-কাটাখালী-নিকরা-গালিমপুর-টিকরপুর সড়কের দোহার অংশে সাড়ে তিন কিমি. রাস্তার সংস্কার কাজ চলছে। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এনটি-কেসিই জয়েন্ট ভেঞ্চার নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজের দরপত্র পায়। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষদিকে কার্যাদেশ পেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করে। রাস্তায় ব্যবহৃত ইট, খোয়া ও পাথর নিম্নমানের  এবং (থিকনেস) পুরুত্ব কম থাকায় সওজের একজন প্রকৌশলী তাতে বাধা দিলে ঠিকাদার তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই রাস্তার কাজ তড়িঘড়ি করে শেষ করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও সওজ কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। 

অভিযোগ আছে, সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ হায়দার কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগসাজশে ঠিকাদার এসব কাজ করছেন। এ কাজের বিষয়ে অধস্তন কর্মকর্তাদের তিনি শাসিয়ে ঠিকাদারের পক্ষ অবলম্বন করেছেন।

প্রকৌশলী কামরুজ্জামান মোবাইলে বলেন, নিম্নমানের কাজ হচ্ছে এটা কিভাবে বুঝলেন? কাজ ভালো হচ্ছে। খারাপ কাজের কোনো অভিযোগ নেই। এরপর তিনি পরে কথা হবে বলে মোবাইলের সংযোগ কেটে দেন। সওজের মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী তারেক ইকবালের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি সংযোগ কেটে দিয়েছেন। পরে মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা পাঠালে তিনি উল্টো বার্তা পাঠিয়ে বলেন, কিছু জানার থাকলে মোবাইলে বার্তা পাঠান। এরপর তার সঙ্গে আর কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার আবুল কালাম কানন বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। সওজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সব দেখেছেন। তবে তিনি সওজের প্রকৌশলীর সঙ্গে খারাপ আচরণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। রাস্তার পাশে জায়গা না থাকায় কোথাও কম প্রস্থে কাজ করছেন বলে স্বীকার করেন তিনি। কাজের বিষয়ে তার কাছে কেউ কোনো চাঁদা দাবি করেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ঠিকাদার কানন বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। নিকরার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, এ রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। সরকার কাজ শুরু করলেও তা খুব নিুমানের মালামাল দিয়ে করা হচ্ছে। এটি টেকসই হবে না।

সুতারপাড়ার ব্যবসায়ী আতাউর রহমান বলেন, ঠিকাদার ও প্রকৌশলী মিলে তাড়াহুড়া করে নিুমানের কাজ করছে। রাস্তার অনেক অংশেই দরপত্রের নিয়ম না মেনে ১৮ ফুটের স্থলে ১৪-১৫ ফুট প্রস্থে কাজ হচ্ছে। রাস্তাটির কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সওজের মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আলম বলেন, কাজে কিছু ত্র“টি হয়েছে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত জানিয়েছি।

নবাবগঞ্জে ‘ইছামতি বাঁচাও’ আন্দোলন কমিটির মানববন্ধন

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার সামাজিক সংগঠন ইছামতি নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলা সদর নবাবগঞ্জ পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ইছামতি নদীর প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে এ মানববন্ধন করা হয়। দোহার, নবাবগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সিরাজদিখান অঞ্চলের বাসিন্দারা এতে অংশগ্রহণ করেন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইছামতি নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) সুধীর সাহা, সহসভাপতি শফিউর রহমান তোতা, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মল সাহা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সায়মা রহমান তুলি, শিকারী পাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলীমুর রহমান খান পিয়ারা, জয়কৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেনসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ।

মানববন্ধন শেষে নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে কমিটির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ও কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। পরে নদী দখল ও দূষণ রোধে জনসচেনতামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।