পরকীয়া দেখে ফেলায় তুইতালে স্ত্রী সন্তানকে কুপিয়ে জখম

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় পরকীয়া দেখে ফেলায় স্ত্রী ইতি বেগম এবং ছেলে ইমরান হোসেনকে কুপিয়ে জখম করেছে প্রবাসী মোতালেব হোসেন। শনিবার রাতে উপজেলার চর-তুইতাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে মোতালেব পলাতক রয়েছে। 

দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা মোতালেব স্ত্রীর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সালমা বেগমের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। শনিবার বিকালে মোতালেবের ছেলে ইমরান বাবাকে খুঁজতে মামীর বাড়িতে যায়। সেখানে বাবাকে তার মামীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে বাসায় এসে মাকে জানায়। ইতি বেগম স্বামীকে মোবাইলে বাড়িতে আসতে বললে মোতালেব বাড়িতে এসে স্ত্রী ও সন্তানকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ইতি বেগম জানান, মোতালেব দীর্ঘদিন বিদেশ থাকে। কিন্তু সে পরিবারকে ভরণপোষণ না দিয়ে সব টাকা ওই মেয়েকে দেয়। আমি এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে আমাকে তালাক দিবে বলে হুমকি দেয়। আমি এর বিচার চাই। নবাবগঞ্জ থানার ওসি সায়েদুর রহমান বলেন, তদন্তসাক্ষেপে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নবাবগঞ্জে একরাতে তিন যায়গায় ডাকাতি : আহত ৫

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় এক রাতে তিন স্থানে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। এতে ডাকাতের হামলায় মো. সালাউদ্দিন, হালিমা বেগম, মেহের আলী, দিলিপ চন্দ্র মণ্ডল এবং পল্লী চিকিৎসক মজিবর রহমান নামে ৫ জন আহত হন।

শনিবার রাতে উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের খতিয়া গ্রামে রাত ৩টার দিকে সালাউদ্দিনের বাড়িতে ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল হানা দিয়ে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ১০ ভরি রুপা এবং আলমারিতে থাকা নগদ ১ লাখ টাকা নিয়ে যায়। এ সময় বাড়ির লোকজন চিৎকার দেয়ার চেষ্টা করলে সালাউদ্দিন ও তার স্ত্রীকে মারধর করে গুরুতর আহত করে ডাকাতরা।

একই রাতে উপজেলার শোল্লা এলাকায় মেহের আলীর বাড়িতে হানা দেয় ডাকাত দল। তাদের বাড়িতে থাকা ২ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতরা ফেরার পথে মেহের আলীকে পিটিয়ে আহত করে।

অপরদিকে উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের আজগড়া গ্রামের দিলিপ চন্দ্র মণ্ডল এবং পল্লী চিকিৎসক মজিবর রহমান মোটরসাইকেলে শনিবার রাত দেড়টার দিকে হরিষকুল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। ভাওয়ালিয়া সড়কের দুই সেতুর মাঝখানে পৌঁছলে রাস্তায় নৌকা ফেলা দেখে গাড়ি থামায়। এ সময় ডাকাত দল তাদের কুপিয়ে জখম করে এবং তাদের কাছে থাকা নগদ টাকাসহ ২টি মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেয়। তাদের চিকিৎসা দিতে একজনকে ঢাকা ও অপরজনকে নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নয়াবাড়ি-কুসুমহাটিতে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ

বর্ষা এলেই নদী ভাঙনের শিকার হাজার হাজার মানুষ। দিনের পর দিন গৃহহারা হচ্ছে অনেকেই। আবার অনেকে সংগ্রাম করে টিকে আছে। বিশ্ব যেখানে এগিয়ে গেছে সেখানে আমাদের দেশে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দিনবদল হয়নি। এবার বর্সার আগেই ভেঙেছে। বাঁধ দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না ভাঙন। 

দোহার উপজেলা দীর্ঘ দিন ধরে পদ্মা নদীর ভাঙনের শিকার। অব্যাহত ভাঙনে এ পর্যন্ত হাজার হাজার পরিবারকে পৈতৃক ভিটেমাটি হারাতে হয়েছে। শুধু ভিটেমাটি নয়, ভাঙনের ফলে ছিন্ন হয়ে গেছে শত বছরের পারস্পরিক মেলবন্ধন। ছিটকে গেছে চেনাজানা পরিচিত মুখ, শৈশব-কৈশোরের খেলার সাথীকে। আবার কেউ বসত ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। পদ্মা ভাঙনের ফলে বসতবাড়ি ফসলিজমি পাকা-আধাপাকা স্থাপনাসহ গত দুই যুগে মূল্যবান সব সম্পদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেই বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা পদ্মাপারের সরল সহজ মানুষগুলোকে ভোট ব্যাংক মনে করে বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর আর কোনো খবর থাকে না তাদের। বর্ষার ভরা মওসুমে ভাঙন তীব্রতর হলে প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাকে নদী ভাঙন পরিদর্শনে এসে ডিমওয়ালা ইলিশ নিয়ে আনন্দের সাথে বাসায় ফিরতে দেখা যায়। কিন্তু নিয়ম রক্ষার জন্য হলেও কোনো ধরনের কাজ হয়নি এই অবহেলিত পদ্মাপারের ভাঙনকবলিত মানুষের কল্যাণের জন্য। ভাঙনের ফলে প্রতি বছরই অনেক পরিবার প্রিয় জন্মস্থান থেকে নিরুপায় হয়ে অন্যত্র গিয়ে বসতি শুরু করছেন। তাই রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা বারবার প্রতারিত হওয়ায় এবার পদ্মাপারের মানুষ পদ্মা ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার জন্য নিজেরাই বাঁধ নির্মাণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। দোহার উপজেলার ৮-১০টি গ্রাম পদ্মা নদীর ভাঙনের মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। প্রতি বছর বর্ষা মওসুমে শত শত পরিবারকে ভাঙনের শিকার হতে হয়, ভাঙন রোধের জন্য এ বছর উপজেলার শিকাকোঠা মাদরাসার মুহতামিম আব্দুর রহিম মিয়া এলাকার সবাইকে একত্র করে নিজেদের উদ্যোগে পদ্মায় বাঁধ নির্মাণের কথা ব্যক্ত করেন। এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার সর্বস্তরের জনগণ তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে হাতে হাত কাঁধে কাঁধ রেখে কয়েকটি এলাকার সব শ্রেণী-পেশার মানুষ এগিয়ে আসেন। দলমত নির্বিশেষে সব ভেদাভেদ ভুলে সবাই একত্র হয়েছেন বাঁধ নির্মাণের জন্য। এর জন্য কেউ বাঁশ, কেউ টাকা আবার কেউ শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করছেন।

জানা যায়, ভাঙনপ্রবণ এলাকা থেকে বাহ্রাঘাট থেকে চরপুরুলিয়া খাল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমটিার এলাকা নিয়ে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ কাজ বাস্তবায়িত হলে এ কাজের পরিধি আরো বাড়ানো হবে বলে জানা যায়। এ বাঁধ নির্মাণ হলে দোহার উপজেলার শিলাকোঠা, আন্তা, বাহ্রা, বাংলাবাজার, শিলাকোঠা, চরপুরুলিয়া এলাকার হাজার হাজার বাড়িঘর ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। গত ১০ এপ্রিল শুক্রবার দোয়া মোনাজাতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কাজের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় এলাকার সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের দিন থেকে প্রতি দিন বাঁধের কাজ চলছে। এ কাজে সহযোগিতা করছেন উপজেলার অন্যান্য এলাকার বিত্তশালী মানুষজন। এ কাজের জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে এলাকার সবার আস্থাভাজন ব্যক্তি আব্দুর রহিম মিয়াকে। তিনিই সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন। এলাকা থেকে কয়টি বাঁশ, কে কত টাকা আর প্রতিদিন কতজন শ্রমিক কাজ করছে সবই সুচারুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকার কারো কোনো অনিয়মের অভিযোগ নেই। এ ব্যাপারে নয়াবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ হান্নান বলেন, এই উদ্যোগকে আমি আমার পক্ষ থেকে স্বাগত জানাই। বাঁধকে কেন্দ্র করে সবাই ঐকমত্যে পৌঁছেছে, এ বিষয়টি আমার কাছে ভালো লেগেছে। সবাই এক সাথে কাজ করলে অন্য রকম আনন্দ পাওয়া যায়। এতে হার-জিত বলে কোনো কিছু নেই। এ ছাড়া দুই ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ এ কাজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। কাজেই সবার অংশগ্রহণ থাকায় বিষয়টি আমার কাছে একটু ভিন্ন রকম মনে হয়েছে।

এ ব্যাপারে আন্তা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী মনিরুল ইসলাম বলেন, এ বাঁধ নির্মাণ হলে নয়াবাড়ী ও কুসুমহাটি ইউনিয়নের হাজার হাজার পরিবার নদীর করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পাবে, সে সাথে এ অঞ্চলের মানুষের যে মেলবন্ধন সেটি অটুট থাকবে। কুসুমহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর ওয়াহার দোহারী বলেন, বর্ষা মওসুম ছাড়াও অন্যান্য সময় নদীর ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ায় প্রতিদিন নদীতে বিলীন হচ্ছে ফসলিজমিসহ অন্যান্য স্থাপনা। বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে অন্তত এ ধরনের ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। বর্ষা মওসুমের আগেই এ বাঁধের কাজ সম্পন্ন হবে বলে মনে করছে এলাকার জনগণ। তবে আশার কথা হলো বাঁধকে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে তা যেন আগামীর জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে এ প্রত্যাশা সবার।

পদ্মার ভাঙনে ভিটেমাটি ভাঙলেও ভাঙবে না তাদের মন। সম্মিলিতভাবে যে ঐক্য গড়ে উঠেছে তা সবার জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে নিঃসন্দেহে। 

নেতাকর্মীদের জাতীয় পার্টিতে যোগদান অনুষ্ঠানে মাহমুদপুর ইউনিয়নে সালমা ইসলাম

এলাকার উন্নয়নে আমি জনগণের পাশে থাকতে চাই। শুক্রবার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের জাতীয় পার্টিতে যোগদান অনুষ্ঠানে সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় মহিলা পার্টির সভানেত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

মাহমুদপুর ইউনিয়নের পদ্মার পাড়ে হান্নান মুন্সির বাড়িতে আবদুল হালিম বেপারির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সালমা ইসলাম বলেন, মানুষের জনজীবনের সমস্যা নিরসনে সর্বদা তাদের পাশে থেকে কাজ করাই আমার একমাত্র স্বপ্ন। কারণ তাদের ভোটেই নির্বাচিত হয়ে আমি এমপি হয়েছি। তাই তাদের কাছে আমি ঋণী। দোহারবাসীর চাওয়া রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও পদ্মার ভাঙ্গনরোধে কিছু করতে পারলেই আমি দায়মুক্ত হবো। আমি আশা করবো সরকারের সদিচ্ছায় এসব উন্নয়ন কাজে সফল হতে পারবো।

বিকাল ৫টায় যুবলীগ নেতা হান্নান মুন্সির নেতৃত্বে ২ শতাধিক নেতাকর্মী সালমা ইসলাম এমপির হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন।
সালমা ইসলাম সবার উদ্দেশে বলেন, আমার কাছে যেতে আপনাদের কোনো বাধা নেই। এলাকার কাজের জন্য আমি আপনাদের যে কোনো দাবি পূরণে সাড়া দেবো।

তিনি বলেন, আমার সময়ে দোহার-নবাবগঞ্জে দখল, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি হয়নি। আশা করি কখনও হবে না। আমার দলে কোনো খারাপ লোকের স্থান নেই। আসুন সবাই মিলে দোহার-নবাবগঞ্জকে দুর্নীতি ও মাদক মুক্ত করে মডেল হিসেবে গড়ে তুলি।
সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যেসব জনপ্রতিনিধি দুর্নীতি ও অনিয়ম করে মানুষকে ঠকায় তাদের থেকে সাবধান হতে হবে। জনগণের ভোট নিয়ে যাতে কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় নবাবগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম-আহ্বায়ক জুয়েল আহমেদ, দোহারের ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ, আবদুল আলিম, এমএ মজিদ মাহফুজুর রহমান, আফজাল শিকদার, আবুল হোসেন আজাদ, আইরিন গমেজ, শিল্পী ইসলাম, রেশমী হোসেন আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সোনাহাজরায় ট্রাক খাদে: ৩ শ্রমিক নিহত, চালক আটক

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় পাথর ভর্তি একটি ট্রাক খাদে পড়ে তিন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোরের দিকে ঢাকা-দোহার বাইপাস সড়কে উপজেলার সোনাহাজরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ট্রাক চালক আজিমকে আটক করা হয়েছে। নিহতরা হলেন, মো. করিম (২৮), মো. ফুলচাঁন (৩০) ও মো. শহিদুল ইসলাম (৩৫)।

নিহত মো. করিম ও মো. ফুলচাঁন জামালপুর এবং শহিদুল টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মধ্যরাতে ট্রাকটি ঢাকার সাভার এলাকা থেকে পাথর নিয়ে দোহারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ভোর সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার গালিমপুর এলাকা হয়ে দোহার বাইপাস সড়কের প্রবেশপথে সোনাহাজরা এলাকায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে রাস্তা থেকে ছিটকে খাদে পড়ে যায়। এ সময় ট্রাকের উপরে থাকা ওই তিন শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ট্রাক চালক আজিমকে আটক করেছে পুলিশ।
নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক বশির আহমেদ জানান, ট্রাক চলককে আটক করা হয়েছে।

দুদকে হাজিরা দিলেন দোহার-নবাবগঞ্জের উপজেলার কার্য-সহকারী কর্মকর্তা

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) পাঁচ কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেই জিজ্ঞাসাবাদে এলজিইডির নবাবগঞ্জ শাখার কার্য-সহকারী শিউলী আক্তার, দোহার শাখার কার্য-সহকারী মাহমুদা আক্তার নিশা হাজিরা দিয়েছেন।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ১০টা থেকে এ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। দুদকের সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। পর্যায়ক্রমে এ জিজ্ঞাসাবাদ বিকাল পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে।
যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তারা হলেন- এলজিইডির নবাবগঞ্জ শাখার কার্য-সহকারী শিউলী আক্তার, দোহার শাখার কার্য-সহকারী মাহমুদা আক্তার নিশা, সাভার শাখার কার্য-সহকারী মরিয়ম সাদিয়া সিঁথি, লক্ষ্মীপুরের রামগতি শাখার কার্য-সহকারী মো. আমিনুল ইসলাম ও এলজিইডি-৩ এর উচ্চমান সহকারী মো. আব্দুল মজিদ।
দুদক সূত্র জানায়, গত ৯ এপ্রিল এদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুদক। এরা ছাড়াও এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে ১৩ জন প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

লৌহজংয়ে বাসচাপায় দোহারের যুবক নিহত

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে বাসের চাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো পাঁচ জন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার মেদেনীমন্ডল এলাকায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   

নিহতদের মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান নামে এক যাত্রীর নামপরিচয় জানা গেছে। তার বাড়ি ঢাকার দোহার এলাকায়। অপর নিহত যাত্রী একজন নারী। তার পরিচয় উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।    

লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হক জানান, ঢাকা থেকে মাওয়াগামী ডিএম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বিপারীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।   

এ ঘটনায় আহত হয় পাঁচ জন। তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   

বিদ্যুৎ দুর্ভোগে লটাখোলা-পালামগঞ্জ বাসিন্দা

রাজধানী ঢাকার অন্যতম উপজেলা দোহার । এই উপজেলায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। রাজধানীর পার্শ্ববর্তী থানা হওয়া সত্ত্বেও অনেক সময় বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় এই এলাকার মানুষ । ইতোমধ্যেই ঋতু বৈচিত্র্যের কারণে প্রকৃতির মাঝে নেমে এসেছে গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়া। আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ।
আগামীকাল এইচ এস সি ও সমমানের পরীক্ষা । আর এরই মাঝে সন্ধ্যা ৭ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল জয়পাড়ার লটাখোলা থেকে পালামগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ।
এব্যাপারে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নিউজ৩৯ কে জানায় , আগামীকালের পরিক্ষার জন্য তারা সন্ধ্যা থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে । কিন্তু প্রচণ্ড গরম আর বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই পড়ায় মনোযোগ দিতে পারেনি । অনেকেই মোমবাতি দিয়েই পড়াশুনা করেছে ।
কয়েকজন এলাকাবাসী জানান , বিদ্যুৎ চলে যাবার বেশ কিছুক্ষণ পরও না আশায় তারা বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিলে কর্মকর্তারা জানান চলে আসবে । কিন্তু বিদ্যুৎ আসে ৩ ঘন্টারও পর।

মানিকগঞ্জে নবাবগঞ্জের যুবককে কুপিয়ে খুন

ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার সীমান্তবর্তী মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকায় রাজীব খান (৩০) নামের এক যুবককে কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।  রাজীব ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার উত্তর বালুখণ্ডা গ্রামের আজমত আলীর ছেলে। তিনি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছে পুলিশ। 

এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেখে ফেলায় সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম এলাকার মজিবর দেওয়ানের ছেলে সজীব দেওয়ানকেও মারধর করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় সজীবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত কারণেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান প্রত্যক্ষদর্শী সজীবের বরাত দিয়ে জানান, গতকাল রাতে নবাবগঞ্জের বরাইটা গ্রামের ও সিংগাইরের আটকানিয়া এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে রাজীবকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায় দুর্বৃত্তরা। পরে রাজীব মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁর পায়ের রগ কেটে দেয়। তখন ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় সজীব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেখে ফেলে। পরে দুর্বৃত্তরা সজীবকে ধাওয়া দিয়ে ধরে ফেলে এবং মারধর করে। সজীব চিৎকার দিলে তারা পালিয়ে যায়।

এর পর রাজীব ও সজীবকে উদ্ধার করে স্থানীয় ঘোনাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজীবকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে সজীবকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া ঘটনাটি মানিকগঞ্জের সিংগাইর ও ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় স্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মামলা গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

এদিকে, নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদুল হক নয়ন জানান, নিহত রাজীব এলাকায় চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। কোন থানা এলাকায় ঘটনা ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়ার পর মামলা করা হবে।

নবাবগঞ্জে জনতা মাল্টি পারপাস কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকারীপাড়ায় জনতা ফিন্যান্স লিমিটেড নামে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গ্রাহকদের ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শিকারীপাড়া শাখার গ্রাহকরা টাকা ফেরতের দাবিতে ব্যাংকের সামনে ভিড় জমায়।

গ্রাহকদের জমা রাখা পুরো টাকা দাবি করলে ব্যাংকের ম্যানেজার আবদুল গফুর বলেন, সব টাকা প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সকালে ব্যাংকে এসে গ্রাহকরা দেখতে পায় ব্যাংকের প্রধান ফটকে তালা। এতে শত শত গ্রাহক হতাশ হয়ে পড়ে। গ্রাহকরা খবর পায় ম্যানেজার শিকারীপাড়া বাজারে আছেন। তারা দ্রুত সেখানে গিয়ে ম্যানেজারকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে শিকারীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলিমোর রহমান খান পিয়ারা উপস্থিত গ্রাহকদের নিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেন। পরে পুলিশকে সংবাদ দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ম্যানেজার আবদুল গফুর ও অফিস সহকারী জুবায়েরকে আটক করে। 

ম্যানেজার জানান, গ্রাহকদের কাছে আমি ৪০ লাখ টাকা লোন পাই। সেখান থেকে গ্রাহকদের টাকা দিয়ে দেব। তবে ম্যানেজারের কাছে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি বলতে অপারগতা জানান। ম্যানেজারের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়।

এই প্রতিষ্ঠানটির দোহারের বাংলাবাজার ও নবাবগঞ্জের গোবিন্দপুর এবং গালিমপুরে আরও তিনটি শাখা রয়েছে। সেসব জায়গায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় সবাই পলাতক। গ্রাহকদের অভিযোগ এসব শাখা থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এ প্রতিষ্ঠানটি। 

জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের গ্রাহক খোকন জানান, আমি এই ব্যাংকে ১৮ লাখ টাকা রেখেছি কিন্তু এখন ফেরত পাচ্ছি না। মনিকান্দা গ্রামের সালমা বেগম জানান, আমার নগদ টাকাসহ ৫ ভরি স্বর্ণালংকার রেখেছি।

এ সময় শত শত মানুষ ব্যাংকের সামনে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। নিজেদের সহায়-সম্বলটুকু হারিয়ে যাবে কিনা এ নিয়ে অনেকেই হতাশায় দিশেহারা হয়ে পড়ে। 

শিকারীপাড়া শাখার ম্যানেজার আবদুল গফুর জানান, আমার কাছে নগদ ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা আছে। বাকি টাকা আমি প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। 

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।