শেষ মুহুর্তের প্রচারণায় নারিশা বাজার বণিক সমিতি নির্বাচন

মে উঠেছে প্রায় ১৪ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নারিশা বাজার বণিক সমিতি নির্বাচন, চলছে প্রচারণা। ১০ মে’র ভোটকে সামনে রেখে প্রার্থীরা ব্যাবসায়ী ভোটারদের দিচ্ছেন নানা রকম প্রতিশ্রুতি। এর মধ্যে প্রাধান্য পাচ্ছে নদী ভাঙ্গন থেকে বাজার রক্ষা, বাজার রেজিস্ট্রেশন, অফিস প্রতিষ্ঠা, গভীর নলকূপ ও টয়লেট স্থাপন সহ নানা বিষয়। পোস্টারে-ব্যানারে ছেয়ে গেছে পুরো নারিশা বাজার।

১৪ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে সভাপতি পদে পার্থী ৪ জন, তারা হলেন, সাবেক সভাপতি ইব্রাহিম মৃধা-দোয়াত কলম মার্কা, মঞ্জু মোল্লা- ছাতা মার্কা, ওহাব মোল্লা- দেয়াল ঘরি মার্কা ও ইসহাক খান- চেয়ার মার্কা।

সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য লড়বেন ২ জন। এরা হলেন শেখ  শাহীন- আম মার্কা ও শামীম আহমেদ বাবু- আনারস মার্কা। ১১ পদের মধ্যে  ৭ টি পদে পার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত  হন। বাকি ৪ টি পদের জন্য লড়ছেন ১২ জন প্রার্থী।

নির্বাচন পরিচালনায প্রধান হিসেবে আছেন নারিশা ইউপি চেয়ারম্যান ডা. আবুল কালাম। সহকারী হিসেবে আরো আছেন রজ্জব আলী মোল্লা ও জিকু মেম্বার সহ কয়েকজন।

মৃতপ্রায় এই ঐতিহ্যবাহী বাজারে ভোটার আছেন ৩১৩ জন। নির্বাচন নিয়ে ব্যাবসায়ীদের মাঝে দারুন উৎসাহ দেখা গেছে।

দোহারে অস্ত্রসহ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতার

তানজিম ইসলাম, নিউজ৩৯.নেট ♦  দোহারে অস্ত্রসহ ডাকাত সরদার সালাউদ্দিন (৩২) কে গ্রেফতার করেছে দোহার থানা পুলিশ। দোহার থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মাহামুদুল হক জানান, গত ২৮ মে রাত ০১.০৫ টায় দোহার থানার মধুরচর সাকিনে কুখ্যাত ডাকাত সরদার মো. সালাউদ্দিন উরফে বেলাল (৩২) (পিতা নুরা চৌকিদার) এবং মো. তুষারকে (২২) (পিতা মো. মোজাম চৌকিদার) ৩ টি রামদা, অর্ধচন্দ্রাকৃতির ১ টি ধারালো অস্ত্র ২ টি রেদ, ১ টি ছোট দা ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত সহ গ্রেফতার করা হয়। 

তাদের নামে দোহার থানায় অস্ত্র আ‌ইনে পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা করেছে। মামলা নং ০৪(০৫)১৫, তারা এছাড়াও একাধিক মামলার আসামী। তাছাড়াও মোসা. লাকী আক্তার(২৫) নামে একজন মহিলা চোর সদস্যকে আটক করেছে যার ঠিকানা- গ্রাম: হালোরপাড়া, থানা: আটঘরিয়া, জেলা: পাবনা; স্বামী: আব্দুস সাত্তার।

জয়পাড়া বাজারে গয়নার দোকানে চুরি

তানজিম ইসলাম, নিউজ ৩৯.নেট ♦ জয়পাড়া বাজারের কাজী সুপার মার্কেটের ডিএস জুয়েলার্সে গত রাতে চুরি হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দোকান মালিক। রাত আনুমানিক ৩ টায় চুরি হয় বলে ধারণা করছেন তিনি। 

১১ টি তালার ৯ টি কেটে ভিতরে প্রবেশ করে দোকান থেকে নগদ ৪ লক্ষ টাকা ও ৪০ ভরি স্বণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরে স্থানীয় নাইট গার্ড তালা ভাঙ্গা দেখে চিৎকার করলে পালিয়ে যায় চুরেরা।

তাৎক্ষনিক পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে পর্যবেক্ষণ করে সন্দেহভাজন সেলিম নামে এক ব্যক্তি সহ ২ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হক বলেন, “আমরা দুজনকে আটক করেছি; সঠিক তথ্যের ভিত্ততে প্রকৃত চুরদের আটক করা হবে।“ 

এ বিষয়ে নব নির্বাচিত বাজার সমমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন খান বলেন, “কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা অতি শ্রীঘই খুজে বের করে মূল অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হবে।“

দোহারে মাদকসেবীর এক মাসের জেল

ঢাকার দোহারে আজাদ জমাদ্দার (৩০) নামে আটককৃত এক মাদকসেবিকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার লটাখোলা নতুন বাজার এলাকায় মদ খেয়ে প্রকাশ্যে মাতলামি করার সময় তাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে এ সাজা দেন।   

এ ব্যাপারে দোহার থানার ওসি মাহমুদুল হক জানান, আজ মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার লটাখোলা নতুন বাজার এলাকায় মদ খেয়ে প্রকাশ্যে মাতলামি করার সময় মদ্যপান অবস্থায় আজাদকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে উপজেলা নির্বাহী নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও ইউএনও নুরুল করিম ভুইয়ার ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। সাজাপ্রাপ্ত আজাদ জমাদ্দার লটাখোলা গ্রামের মৃত ফজল জমাদ্দারের ছেলে। 

মিজানুর রহমান শমশেরীর কবিতা: জীবনটা এক ছোট্ট নদী, কালের বাল্মীকি

জীবনটা এক ছোট্ট নদী

 

একটা নদী পেরিয়ে এলাম, সেই নদীটার মধ্যখানে

নষ্ট ক’টা পদ্মকুসুম পাঁপড়ি ভাঙে স্রোতের টানে।

সামনে এখন একটা নদী, যায় দেখা যায় শুষ্ক তট

মাঝখানে তার প্রবালদ্বীপে হাতছানি দেয় শিমুলবট।

সিঁড়ি বেয়ে উঠতে দেখি ভাবের ভুবন অনুর্বর

জীবনটা এক ছোট্ট নদী, মাঝখানে তার শুকনো চর।

 

 

কালের বাল্মীকি

 

গীটারের তার থেকে ক্রমশ স্থবির হয়ে 

হাত দুটো সরে যায় কুমারী মেয়ের 

চুলের বেনুনে, পায়ের আঙুল থেকে 

বেড়ে ওঠে শরীরী উত্তাপ, কখন যে 

কেঁপে ওঠে ঠোঁট দুটি অসতর্ক ইঙ্গিতে।

 

অত্যাধুনিক কবিতার দু-চার পঙ্ক্তি আউড়িয়ে 

তরুণেরা কিশোরীর গাল ঠোকে আঙুলে; 

কখনো বা নাবালিকার যৌনাঙ্গে হাত রেখে তৃপ্ত হয়ে বলে-

‘মা নিষাদ প্রতিষ্ঠাং তম গমঃ শাশ্বত সমা।’

দোহার পৌরসভায় আট কোটি টাকার রাস্তা সংস্কার

তানজিম ইসলাম, নিউজ৩৯.নেট ♦ নামে “ক” শ্রেণীর পৌরসভা হলেও কাজে তার মিল নেই। নেই পৌরসভার তেমন কোন সুযোগ সুবিধা।

রাস্তার প্রসঙ্গ চলে আসে প্রথমে, চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে পৌরসভার বেশীরভাগ রাস্তাই। লটাখোলা করম আলীর মোর থেকে শুরু করে জয়পাড়া বাজার পর্যন্ত ও থানার মোড় থেকে শুরু করে জয়পাড়া কলেজ এর পিছন পর্যন্ত দুটো রাস্তা চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে, কিন্তু সংস্কারের নাম উদ্যোগ নেই একেবারেই।
সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো। এই দুগর্ম অচল রাস্তাগুলিই দোহার পৌরসভার প্রতীক যেন।

দীর্ঘ ভোগান্তির এই পর্যায়ে পৌরসভার মেয়র আব্দুর রহিম মিয়া আশার বাণী শোনালেন, জানালেন, “রাস্তাগুলোর জন্য সাড়ে আট কোটি টাকার টেন্ডার পাশ করা হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আগামী ১৮-২০ দিনের মাঝেই কাজ শুরু হবে। সবগুলো রাস্তাই হবে উন্নতমানের এবং সাথে যুক্ত হবে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থাও।“

মিজানুর রহমান শমশেরীর কবিতা: কবিতার জন্য কবিতা লিখি নাই, দুটি মন 

কবিতার জন্য কবিতা লিখি নাই

তোমরা বুঝবে না আমার কবিতার ভাষা

আমি কবিতার জন্য কবিতা লিখি নাই।

হৃদয় কন্দরে হতাশার জমাট অন্ধকার

ক্ষুধার মানিক খোঁজে পথ, কোথায় পথ,

আহার্যের এক টুকরো রুটির ঠিকানা!

বিড়ম্বিত জীবনের অনন্ত জিজ্ঞাসা-

তোমরা বুঝবে না আমার কবিতার ভাষা।

আমি ক্ষুধার্ত, জঠর জ্বালায় ছুটে যাই উচ্ছিষ্ট রুটির সন্ধানে

কোথায় সাহেব-বিবির বালাখানা

ডাস্টবিনে আবর্জনার সাথে মিশে থাকা রুটির টুকরো

এবং উচ্ছিষ্ট সালুন,

আমি ছুটে যাই হোটেলে হোটেলে

কোথায় পরিত্যক্ত ভাতের ফ্যান

বাঁচার তাগিদে ছুটে যাই

শুধু খেতে চাই

তোমরা বুঝবে না আমার কবিতার ভাষা

আমি কবিতার জন্য কবিতা লিখি নাই।

আমি মানুষ! আমার বিশ্বাস হয় না

সভ্যতার বিংশুতি যুগে আমার পরনে বস্ত্র নেই

রাতে ফিরার মতো এক টুকরো চলার ঠিকানা

খাবারের বাসন যা প্রয়োজন প্রত্যহ মানুষের

আমার তা নেই।

আমার রাত্র কাটে খড়কুটোয় প্রত্যহ নতুন আস্তানায়

আমার শীতের কাঁথা আঁধারের কালো কুজ্ঝটি

বুকের ক’খান হাড়ে চাপা পড়ে থাকা প্রাণ

মানে না নিয়ন্ত্রণ।

স্নায়ুতে স্নায়ুতে আনে কঠোর যন্ত্রণা

বিংশুতি যুগে আমি মানুষন এ আমার বিশ্বাস হয় না।

হায়রে জীবন, এটাই যদি জীবন হয়

এমন জীবন চেয়েছিল কারা?

সভ্যতার উষালগ্নে আমার মনে আদিম প্রবৃত্তি

খাবারের জন্যই কেবল ব্যস্ততা

যেখানে যা কিছু পাই

কেবল খেতে চাই।

ইচ্ছে হয় সভ্যতার বেড়াজাল অগ্রাহ্য করে

আদিম হিংস্রতায় ফিরে যাই;

তোমরা বুঝবে না আমার কবিতার ভাষা,

আমি কবিতার জন্য কবিতা লিখি নাই।

দুটি মন 

ও পাড়ার মেয়েটির শাড়ির আঁচলে

কখন যে বাঁধা পড়ে প্রজাপতি মন

যতো চাই সরে যেতে- ডেকে ডেকে বলে,

ওরে তুই হতভাগা, দাঁড়া কিছুক্ষণ।

সবুজ ঘাসের বনে প্রজাপতি ওড়ে

বিকেলের লাল রোদে রাঙানো অধর,

ও পাড়ার শ্যামলিনী ডাক দেয় দূরে,

হাত নেড়ে ডেকে কয়- আয়, বাঁধি ঘর।

নীড়হারা মন বলে, ধীর পায়ে চলো

ক্লান্তিতে ভরে গেছে অলস অধর

মেয়েটিরে ফিরায়ো না, ওরে কিছু বলো

এমনি তো কেটে গেলো তিরিশ বছর।

ঘরভাঙা মাছরাঙা গাংচিল পাখি

রঙিন মাছের বুকে মেরেছে ঠোকর

প্রজাপতি-মন মোর, নিমীলিত আঁখি

ডেকে কই- ঘরভাঙা, আয়, বাঁধি ঘর।

গাংচিল ডেকে কয়- ঘরমুখো হবি!

সহসা গুটিয়ে পাও মেলে দিয়ে পর

ডেকে ডেকে কয়ে গেলো- ফিরে যাও কবি

কেন আর পিছু ডাকো, কোথা পাবো ঘর!

এ অসীম শূন্যতা, ঘরভাঙা ঝড়

এমনি তো কেটে যায় হাজার বছর।

দোহারে পাচারকারীর হাত থেকে রক্ষা পেল ২ ছাত্রী

ঢাকার দোহার উপজেলায় চায়ের দোকানির জন্য পাচারকারীর হাত থেকে রক্ষা পেল বৃষ্টি আক্তার ও লামিয়া আক্তার নামে ২ স্কুলছাত্রী। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তারা উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের মৈইতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী। বৃষ্টি মৈইতপাড়া গ্রামের মামুন হোসেনের মেয়ে, লামিয়া একই গ্রামের আব্দুল হাসেমের মেয়ে।

স্থানীয় ও দোকানির ভাষ্যমতে, শনিবার সকাল ৯টায় বিদ্যালয়ের কাস চলাকালীন বৃষ্টি ও লামিয়া পানি খেতে কাসের বাইরে বের হয়। এ সময় বোরকা পরিহিতা ২ অজ্ঞাত পাচারকারী নারী তাদের কাছে আসে। এ সময় ছাত্রীদের বলে তোমাদের একটি অনুষ্ঠানে নিয়ে যাব, সেখানে নতুন ব্যাগ ও টাকা দেবে এবং অনুষ্ঠান শেষে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। বৃষ্টি ও লামিয়া নারীদের কথায় প্রলুব্ধ হয়ে তাদের সঙ্গে চলে যায়। ওই নারীরা তাদের রিকশাযোগে বিভিন্ন স্থানে ঘুরায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বৃষ্টি ও লামিয়াকে ফরিদপুরে পাচারের উদ্দেশ্যে মেঘুলা ট্রলার ঘাটে নিয়ে যায়। ট্রলার ঘাটে তাদের রেখে ওই নারীরা কারও সঙ্গে কথা বলতে যায়। এ সময় ঘাটের চায়ের দোকানি জাহাঙ্গীর বৃষ্টি ও লামিয়ার আচরণ দেখে সন্দেহ করে। দোকানি এগিয়ে গিয়ে তাদের জিজ্ঞেস করলে তারা বিস্তারিত খুলে বলে। দোকানি জাহাঙ্গীর স্থানীয় লোকদের জড়ো করে বিষয়টি খুলে বলেন। এরপর থেকে ওই নারীদের খোঁজ করেও স্থানীরা পায়নি। পরে এলাকাবাসী বৃষ্টি ও লামিয়াকে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়। এ বিষয়ে স্থানীয়রা থানা পুলিশে জানায়নি বলে জানা যায়। 

দোহার থানার ডিউটি অফিসার এএসআই মাসুদ জানান, বিষয়টি থানায় কেউ জানায়নি। কিংবা কোনো মৌখিক অভিযোগও করা হয়নি।

মিজানুর রহমান শমশেরীর কবিতা: ধানক্ষেত : তুমি আর আমি, অস্পষ্ট জননী 

ধানক্ষেত : তুমি আর আমি 

কাঁচা মরিচের সবুজের মতো, 

কুমারী ধানের মতো আছো নুয়ে, 

আমার হৃদয়ে একান্ত নিবিড় হয়ে, একান্ত নিবিড়; 

যেমনি নেতিয়ে থাকে মাচানে 

পুঁইয়ের ডগা নিতান্ত স্থবির, 

আশ্বিনের সোনাঝরা রৌদ্রটুকু চুয়ে চুয়ে।

 

তোমাকে দেখেছি আমি কার্তিকের প্রথম ফসলে

শালিকের ভিড়ে, ভাঙা উঠোনের পাশে, 

যেখানে চড়ুই বসে বেগুনের ডালে।

 

কার্তিকের দারুণ রোদ্দুরে যখন কাস্তে হাতে মাঠে নামি, 

তোমাকে দেখেছি সেইবেলা, 

দেখেছি মাঠের পরে ধানশিষে ফড়িঙের প্রেম-প্রেম খেলা। 

নতুন উদ্যমে মনে হয় পৃথিবীটা ধানক্ষেত : 

সেখানে শালিকের মতো শুধু তুমি আর আমি।

 

 

অস্পষ্ট জননী 

 

আমি যতোদিন তোমাকে ভেবেছি এই দূরপ্রবাসে মা আমার,

যতোদূর মনে পড়ে, স্পষ্টতর নও তুমি; আধো আলো-আঁধারে

আলুথালু চুল, চোখের নীচে ঝুলে পড়া মাংস, অস্থিচর্মসার

তোমাকে হারাই যেন বার বার একদল ভিখারির ভিড়ে।

 

আমার পড়ার টেবিলের সামনে- প্রচ্ছন্ন দেয়ালের আস্তরণে

তোমাকে প্রতিষ্ঠা করি মাগরেবের সায়াহ্ন-কিরণে- জায়নামাজে,

অনেক মিনতিভরা চোখে তোমাতে তাকাই; তুমি তবু অকারণে

দূর থেকে ফিরে যাও ভিখারিণী বেশে একদল ভিখারির মাঝে।

 

আমার অস্তিত্ব সর্বদা ঘোষণা করে- আমি এক দূরন্ত পুরুষ;

বাবার বিশাল বক্ষ, তেজোদ্দীপ্ত আঁখি, আমি তাঁরই উত্তরসূরি :

তোমার লাঞ্ছনা দেখে ফেটে পড়ে বিদ্রোহের দারুণ আক্রোশ।

কাজ শেষ হয়নি তাতে কি, বিল তো তোলা হয়ে গেছে

ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জে জেলা পরিষদের নামে অনেক প্রকল্পেরই কাজ না করে বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, ১ থেকে ২ লাখ টাকার প্রকল্প রয়েছে ৪ শতাধিক। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মন্দির, গির্জা ও কবরস্থানসহ নানা প্রকল্পের বাইরে ও কতিপয় ভুঁইফোড় সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ১০ কোটি টাকার কাজের প্রকল্প তৈরি করে অর্থ লুট করা হয়। জেলা পরিষদের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতির তালিকার বেশিরভাগ কাজই সমাপ্ত দেখানো হয়েছে। সরেজমিন এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্প বরাদ্দ হয়েছে, তা অনেকে জানেই না। ওই সব প্রতিষ্ঠানের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছেও এমন তথ্য নেই। 

তুইতাল মেইন রোড থেকে বাজার পর্যন্ত রাস্তায় ১৫ লাখ টাকার প্রকল্প বরাদ্দ হয়। এখানে গত এক বছরে কোনো কাজ হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান। কিন্তু এ রাস্তার ঠিকাদার বলছেন, তিনি সম্পূর্ণ কাজ করেছেন। ৬ মাস আগে ইট সলিংয়ের কাজ করা হয়েছে।

এদিকে তুইতাল উচ্চবালিকা বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলা অডিটোরিয়াম ভবন নির্মাণে দুই ভাগে ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু সেখানে বেইস (ভিটি) করার পর আর কাজ হয়নি। অথচ ঠিকাদার বেশিরভাগ বিল তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তুইতাল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, তার স্কুলে কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে কেন কাজ হচ্ছে না তা তিনি জানেন না। 

নয়নশ্রী ইউনিয়নের বাংলাবাজার থেকে ঘোষপাড়া কালী মন্দির হয়ে উত্তর বাহ্রা রাস্তায় ইট সলিংয়ের কাজে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। সেখানে মাত্র ১ হাজার ফুট কাজ হয়। 

নয়নশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান মো. পলাশ চৌধুরী বলেন, প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তায় অল্প টাকায় কাজ করা সম্ভব নয়। তাই দুই প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প দিয়ে সমন্বয় করা হয়েছে। 

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মলয় কুমার রায় বলেন, সব প্রকল্প নিয়েই রিপোর্ট হয়েছে। এ বিষয় নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই।