রাজার ফল ডুরিয়ান

0

যদি আজ থেকে কয়েকশত বছর পূর্বে হলে বলা হতো রাজার খায়েস। কিন্তু এখন রাজা দুর্লভ হলেও ধনকুবেরের তো আর অভাব নেই। আর সেরকম একজনের  যদি কোনো খায়েস জাগে তাহলে? ম্যাকাওয়ের ধনাঢ্য জুয়ারি স্টেনলি হোর খায়েস হয়েছিল ডুরিয়ান ফল খাওয়ার। আর তাই সঙ্গে সঙ্গে ম্যাকাও থেকে সিঙ্গাপুরে উড়ে গেল ব্যক্তিগত জেট বিমান। তবে এ বছর ফলটি দুষ্প্রাপ্য বলে মাত্র ৮৮টি ফল নিয়ে বিমানটি ফিরে যায় ম্যাকাও।

ডুরিয়ান ফলটি সিঙ্গাপুরে আসে মালয়েশিয়া থেকে। কিন্তু ডুরিয়ান কী এমন ফল যার জন্য একজনকে ব্যক্তিগত বিমান পাঠাতে হয়েছে? দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে ডুরিয়ানকে বলা হয় ফলের রাজা। বাণিজ্যিক বিমানে এ ফল বহন করা নিষিদ্ধ। তাতে কী, স্টেনলি হোর ব্যক্তিগত বিমান আছে না!

তো জেট বিমান নিয়ে হোর প্রতিনিধিরা ছুটলেন সিঙ্গাপুরের তেলক কুড়াও রোডে। ৮১৮ ডুরিয়ান স্টল নামের দোকান থেকে কিনে নিলেন ৮৮টি ডুরিয়ান। তাদের অবশ্য ৯৮টি ডুরিয়ান কেনার কথা ছিল। এ বছর আবহাওয়া খারাপ থাকায় ডুরিয়ানের ফলন খুব একটা ভালো হয়নি। কী আর করা ! ৮৮টি ডুরিয়ান কিনেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে স্টেনলি হোর লোকদের।

সবগুলো কিনতে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৬৫ ডলার বা প্রায় দেড় লাখ টাকা। আর স্টেনলি হো সব ডুরিয়ান একা সাবাড় করেননি। তার ধনেকুবের বন্ধু লি কা-সিঙ্গকে ১০টি উপহার দিয়েছেন।

যে ডুরিয়ানকে নিয়ে এতো মাতামাতি এর আকার ৬ থেকে ৭ ইঞ্চি। আর ওজন হয় এক থেকে তিন কিলোগ্রাম পর্যন্ত। গায়ের রঙ সবুজ থেকে বাদামি। ডুরিয়ানের বাইরের আবরণ কিছুটা আমাদের কাঁঠালের মতো। এর আছে মনমাতানো গন্ধ। বর্তমানে ৩০ প্রজাতির ডুরিয়ান পাওয়া যায়। তবে খাওয়া যায় ৯ প্রজাতির ডুরিয়ান। দক্ষিণ পূর্ব-এশিয়ায় মিষ্টিজাতীয় খাবারের সঙ্গে ডুরিয়ান ফল পরিবেশন করা হয়। এর বিচিও রান্না করে খাওয়া যায়।

ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায় এবং ফিলিপাইনে এ ফল বেশি জন্মে। এছাড়া শ্রীলংকা, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, ভারত, চিন, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রালিয়া ও মালয়েশিয়ায় ডুরিয়ান পাওয়া যায়। তবে যেসব দেশ আন্তর্জাতিক বাজারে ডুরিয়ান বাজারজাত করে তার মধ্যে অন্যতম থাইল্যান্ড। বিংশ শতাব্দী থেকে বাণিজ্যিকভাবে ডুরিয়ানের উৎপাদন শুরু হয় এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

ভিয়েতনামের ব্যবসায়ী নিকোলো ডা কোন্টি ১৫০০ শতাব্দীতে চীন ও পশ্চিম এশিয়া সফর করেন। ওই সময় তিনি যেসব ফলের নাম লিখে গেছেন তার মধ্যে ডুরিয়ান ছিল। ১৫৬৩ সালে প্রকাশিত পর্তুগিজ ডাক্তার গার্সিয়া ড্যা ওরটির লেখা ‘সিম্পল ই ডগাস ডি ইন্ডিয়া’ বইয়ে ডুরিয়ান ফলের কথা লেখা আছে। আর ফলের রাজা ডুরিয়ানের সঙ্গে পশ্চিমাদের পরিচয়ও বেশ পুরনো, আনুমানিক ছয়শ বছরের। ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন, ডুরিয়ান কাসটার্ড বানোর জন্য খুবই উপযোগী।

ডুরিয়ানে প্রচুর চিনিজাতীয় উপাদান আছে। এছাড়া ভিটামিন সি, পটাসিয়াম, কার্বোহাইড্রোজ, চর্বি এবং প্রচুর প্রোটিনও রয়েছে। শরীর মোটা করতে ডুরিয়ান খুব ভালো কাজ করে। ডুরিয়ান গাছের পাতা ও মূল জ্বর নিরাময়ে ওষুধের কাজ করে।

দোহার পৌরসভা জামায়াতের সেক্রেটারী আটক

0

দোহার পৌরসভা জামায়াত ইসলামের সেক্রেটারী নুরুউদ্দিনকে বুধবার দুপুরে তার নিজ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান থেকে আটক করে। এর আগে  নবাবগঞ্জ থানা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী মো. আলীকে সোমবার রাতে নবাবগঞ্জের বাহ্রা বাজার থেকে আটক করে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। বুধবার মো. আলীকে ঢাকা জেলা দায়রা জজ আদালতে তাদের চালান করে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ।

গত সোমবার জামায়াত ইসলামীর ডাকা হরতালের পরিপ্রেক্ষিতে নাশকতা এড়াতে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ মো. আলীকে গ্রেফতার করে। বাহ্রা বাজার থেকে রাত দশটার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠায়।

অপরদিকে দোহার পৌর সভার জামায়াত ইসলামের সেক্রেটারী নুরুউদ্দিনকে দুপুরে তার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান থেকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। তাকে বৃহস্পতিবার আদালতে চালান করা হবে বলে জানিয়েছে দোহার থানা পুলিশ।

দোহারের চরকুশাই-এ জাতীয় পার্টির উঠান বৈঠক

0

ঢাকা দোহার উপজেলার চরকুশাই উত্তর পাড়ায় গত ১ ডিসেম্বর মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টির কুসুমহাটির ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে উপজেলা জাতীয় পার্টি ও তার অঙ্গ সংগঠনের উপস্থিতিতে এক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠীত হয়েছে।

উঠান বৈঠকে বক্তব্যকালে জাতীয় পার্টির নেতারা বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আনতে ঢাকা জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক, মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপি, যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম নেতৃত্বে দোহার-নবাবগঞ্জে জনমত গড়ে তুলতে হবে। আর সেই জনমত তৈরি করতে হলে আপনার আমার অক্লান্ত পরিশ্রম ও দলীয় কর্মকান্ড অব্যহত রাখতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দোহার উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ, সদস্য সচিব আ. আলিম, মো. ওহাব তালুকদার, জামাল হোসেন, মো. জসিম উদ্দিন পান্নু, আফজাল হোসেন, এবং রফিকুল ইসলাম, শেখ মো. আমীর হোসেন, নজরুল ইসলাম, মো. বাদল খান সিদ্দিকুর রহমান, চাঁন মিয়া, মহি মন্ডল, জামাল বেপারী, সজল ও জুয়েল রানা প্রমুখ।

ওয়াজ মাহফিলে হুদা-আসফাকের হঠাৎ সাক্ষাৎ

0

গত শুক্রবার দোহারের বউবাজারে অনুষ্ঠিত ওয়াজ মাহফিলে দেখা হলো বিএনএফ এর আহবায়ক ও বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহি কমিটির সদস্য খন্দকার আবু আসফাকের। তাদের দু’জনের একই সময় একই স্থানে দেখা হওয়ার ব্যাপারটি কাকতালীয় বলে দাবী করেছেন।


গত কয়েক দিন ধরে দোহার-নবাবগঞ্জের রাজনীতিতে নাজমুল হুদা সম্পর্কে কানাঘুষা হচ্ছিল যে, তিনি বিএনএফ থেকে পদত্যাগ করে আবার বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে নিউজ৩৯ কে তিনি বলেন, তিনি আগামীতে কোন ব্যানারে দোহার-নবাবগঞ্জে আসবেন তা একমাত্র আল্লাহ্ জানেন। তবে আগামীতে গ্যাস সরবরাহ, রেলপথ নির্মান, রাস্তা সংস্কার ও তার অসমাপ্ত কাজের সমাপ্তি ঘটাতে তিনি দোহার-নবাবগঞ্জে আসবেন।


বিএনএফ থেকে পদত্যাগ করে
বিএনপিতে যোগ দিবেন কিনা এই সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা নিছক একটি গুজব আর কিছুই না। এর কোন ভিত্তি নেই, তবে ভবিষ্যতে এই ব্যাপারে তিনি সিদ্ধান্ত নিবেন।


আঠারো দলের মহাসমাবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা একটি রাজনৈতিক প্রোগ্রাম। এটি সম্পর্কে তার বলার কিছু নাই।


ওয়াজ মাহফিলের সভাপতি ও দোহার উপজেলার ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক জিএস সেন্টু ভূইয়া ওয়াজ মাহফিলে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও আবু আসফাকের এই সাক্ষাত পূর্ব নির্ধারিত কিনা এ ব্যাপারে নিউজ৩৯কে বলেন, এটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠান। এটা কোন রাজনৈতিক সাক্ষাৎ নয়।

ওয়াজ মাহফিলে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে প্রধান অতিথি করার কারন সম্পর্কে তিনি বলেন এটি একটি ওয়াজ মাহফিল এখানে কোন দলীয় দাওয়াত দেয়া হয়নি। আমরা সবাই মুসলমান এবং আমরা নবীর দল।


ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিএনপিতে ফেরার সম্পর্কে জানতে চাইলে সেন্টু ভুইয়া বলেন আমরা ১৮ বছর ধরে নাজমুল হুদার সাথে রাজনীতি করেছি। আমরা চাই তিনি আবার দলে ফিরে আসুক। তিনি আরো বলেন, সামাজিক ও ব্যাক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি ওয়াজ মাহফিলে নাজমুল হুদাকে দাওয়াত দিয়েছিলেন।


ঢাকা-১ আসনের সাবেক এমপি এই বর্ষিয়ান নেতা ওয়াজ মাহফিলের প্রধান অতিথীর বক্তিতায় বলেন, তিনি আবার জনগনের প্রতিনিধি নির্বাচিত হতে পারলে দোহার উপজেলায় গ্যাস, রেল লাইন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও সকল অসাম্প কাজের সমাপ্তি ঘটাবেন।


ওয়াজ মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসাবে ছিলেন, আজিজুর রহমান বুলবুলি ও বিশেষ বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল ওহাব দোহারি। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন বিদুৎ, ছাত্রনেতা জহিরুল ইসলাম সহ বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতা কর্মী।

দোহারে মাদক বিরোধী সচেতনতার ডাক দিলেন বাবুল চেয়ারম্যান

0

আজ শনিবার নজরুল ইসলাম বাবুল ওরফে বাবুল চেয়ারম্যানের উদ্যোগে তার নিজ বাড়ীতে মাদক বিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ১১টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম বাবুল বলেন যে বর্তমানে মাদক নামের এই সামাজিক ব্যাধি ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। এর হাত থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে। যারা মাদক ছেড়ে ভালো হয়েছেন তাদের সবাইকে তিনি ধন্যবাদ জনান আর বাকী সবাই যাতে ভালো হতে পারে সেই কামনা করেন। তিনি উদাহরন দিয়ে বলেন দশের লাঠি একের বোঝা, সবাইকে ঐকবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সবাইকে মরেতে হবে তবে মৃত্যুর আগে মারা যাওয়া যাবে না। আর মৃত্যুর আগে সবার মনটাকে ভালো করতে হবে। সবদিক দিয়েই ভালো হতে হবে এবং সবাই যাতে ভালো হতে পারে এক কামনা করেই তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

এছাড়া বিশেষ অতিথি ডালু খন্দকার বলেন, “দলমত নির্বিশেষে মাদকের বিরুদ্ধে একসাথে কাজ করতে হবে। যে কোন সমস্যায় আমি সবার সাথে আছি এবং থাকব।”

এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আলী হোসেন। এ অনুষ্ঠানের আরো উপস্থিত ছিলেন আবুল হোসেন মোল্লা, নুরুল ইসলাম খোকা, নুরু মোল্লা প্রমুখ। 

জয়পাড়া মডেলে লাঞ্চিত হওয়ার ভয়ে সবাই পাশ!

0

জয়পাড়া মডেল বিদ্যালয়ে ছাত্রদের হাতে লাঞ্চনার ভয়ে নির্বাচনী পরীক্ষায় (টেস্ট পরীক্ষা) সবাইকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।  নভেম্বর ৪ তারিখে নির্বাচনী পরীক্ষার রেজাল্ট ঘোষণা করা হয়। নভেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত ফর্ম পুরণের শেষ তারিখ।

কিন্তু অকৃতকার্য হওয়া এক ছাত্র আসাদ (জয়পাড়া বড় মাঠের কাছের লিয়াকত উকিলের ছেলে) ও তার দুলাভাই রফিক মারধর এবং প্রাননাশের হুমকি দেয় প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজীৎ পালকে, পরীক্ষা কমিটির সদস্যসহ আরো কয়েকজন শিক্ষককে বলে অভিযোগ করেন জয়পাড়া মডেল হাই স্কুলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক।

এছাড়া বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক চাপও আসতে থাকে বলে জানা যায়। এর ধারাবাহিকতায় রবিবার আসাদ ও তার দুলাভাই রফিক স্কুলে যেয়ে প্রাননাশের হুমকি দিলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সবাইকে উত্তীর্ণ বলে ঘোষণা দেয়। এমনকি শিক্ষার্থীদের বাড়ী থেকে ডেকে এনে ফর্ম পুরন করা হচ্ছে বলে জানা যায়।

এই ব্যাপারে জয়পাড়া মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজীৎ পালের সাথে নিউজ ৩৯ এর যোগাযোগ হলে তিনি হুমকির কথা অস্বীকার করে বলেন, স্কুলে এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটে নি। তারা স্বেচ্ছাপ্রনদিত হয়ে কারো ভবিষ্যৎ যাতে নষ্ট হয়ে না যায় সে জন্য সবাইকে উত্তীর্ণ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘটনার পর স্কুলের শিক্ষার পরিস্থিতি নিয়ে সচেতন মানুষের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

বিএনপির দুই পক্ষ দোহারে সভা করতে পারেনি

0

ঢাকার দোহারে উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপ শনিবার জয়পাড়ার করম আলীর মোড়ে সভা আহ্বান পুলিশি বাধার মুখে তা পণ্ড হয়ে যায়। দোহার উপজেলার বিএনপির দুই গ্রুপ ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও আব্দুল মান্নান গ্রুপের এই সভা আয়োজনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের হস্তক্ষেপে পণ্ড হয়।

তারেক জিয়ার ৪৮তম জন্মদিন উপলক্ষে দোহার উপজেলা বিএনপির ব্যানারে দোহারের লটাখোলার করম আলী মোড়ে একই সময় সভা আহ্বান করে জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সালাহউদ্দিন মোল্লার নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপির একটি গ্রুপ।

অপরদিকে একই স্থানে সভা আহ্বান করে উপজেলা যুবদলের একাংশের সভাপতি জুলহাস বেপারী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সভাস্থলে শনিবার সকাল থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিকেলে সালাহউদ্দিন মোল্লা সমর্থিত দোহার উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা সভাস্থলে সমবেত হতে থাকলে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তাদের বাধা দেয়।

বাধা উপেক্ষা করে নেতা-কর্মীরা সভাস্থলে সমবেত হলে সেখানে উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ উপস্থিত নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সভাস্থল থেকে সরে গিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করতে চাইলে পুলিশি বাধায় তাও পণ্ড হয়ে যায়।

পরে নেতা-কর্মীরা জয়পাড়া চৌরাস্তায় জড়ো হয়ে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করে। এ সময় অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির নেতা মজিবর রহমান, এম এ সালাম, সামছুল আলম বাদল, মনির হোসেন রানা, নাজিম চৌধুরী, মোয়াজ্জেম হোসেন, খোকন বেপারী, আবদুর রহমান পত্তনদার, বজলুর রহমান পপি প্রমুখ।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন নিউজ৩৯-কে বলেন, একটি স্থানে বিএনপির দুটি গ্রুপ সভা আহ্বান করায় এবং সেখানে কোনো অনুমতি না থাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে। তবে কাউকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা হয় নি।

চুড়াইনে বাবার হাতে ছেলে খুন

0

আসিফ শেখ ♦ নবাবগঞ্জ উপজেলায় চুড়াইন ইউনিয়নের পশ্চিম চুড়াইন গ্রামে মাহেদুল ইসলাম (২০) নামে এক যুবক তার পালক বাবার হাতে খুন হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ নভেম্বর শুক্রবার রাত ৩ টার দিকে পালক ছেলে মাহেদুল বাড়ি ফিরতে দেরী হলে তার বাবা জয়নাল পারমানিকের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বাবা জয়নাল পারমানিক রাগাম্বিত হয়ে কুড়ালের বাট দিয়ে মাহেদুলের মাথায় আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা গুরতর আহত অবস্থায় মাহেদুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মাহেদুলের খালা নাসিমা আক্তার নিউজ৩৯ কে জানান, শিশুকালে জয়নাল পারমানিক ও তার বোন মাহেদুলকে পালতে আনেন। এরপর তার মা মারা গেলে বাবা একাই তাকে লালন পালন করে আসছিল।

কিন্তু ইদানিং ছেলে বাবার কথা মত চলাফেরা করতো না। সে বাজে পরিবেশে মিশতো। জয়নাল প্রায়ই ছেলের আচরনে কান্নাকাটি করতো আর বলত, “ওর জন্যে কোথাও মুখ দেখাতে পারি না। ওরে আমি মাইরাই ফেলামু।”

এলাকাবাসী জানান, মাহেদুল আগে ভালো ছিল কিন্তু ইদানিং মদ,গাঁজা, ইয়াবা সেবন করতো এবং চালচলনে খারাপ হয়ে উঠেছিল। তবে বাবা জয়নাল পারমানিক রোজা নামাজি মানুষ ও সহজ সরল। ফলে বাবাকে আশপাশের অনেকেই প্রায়ই গালমন্ধ করতো। এ ঘটনার পর থেকে জয়নাল পারমানিক পলাতক রয়েছে।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নিউজ৩৯-কে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। এ ব্যাপারে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে দোহার সিবিওর সেমিনার

0

শিক্ষাক্ষেত্রে ঝরে পড়া রোধে দোহার পৌরসভার উদ্যোগে উত্তর জয়পাড়া সোনা মিয়ার মাঠে শুক্রবার বেলা সাড়ে এগারটার সময় এক আলোচনা ও সচেতনতা মুলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সাধারন মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতা করে সিবিও। 

সকাল দশটার সময় অনুষ্ঠান শুরু করার কথা থাকলেও বেলা সাড়ে এগারটায় কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। 

কয়েক দিন আগে সিবিও এর তত্বাবধানে এক জরিপে দেখা যায়, শিক্ষাক্ষেত্রে দোহার পৌরসভার সবচেয়ে অনগ্রসর স্থান দোহার পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড। এ লক্ষে সাধারন মানুষকে শিক্ষাসম্বন্ধে আরো সচেতন করতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দোহার পৌরসভার। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আলহাজ্ব রহিম মিয়া বলেন যে, “৩নং ওয়ার্ডের মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা স্কুল থেকে বেশি ঝরে পড়ে। এই ওয়ার্ডে শিক্ষিত মানুষের হার ও অনেক কম। যা লজ্জাজনক।” তিনি উপস্থিত মকল অভিভাবকদের তাদের ছেলেমেয়েকে এইচএসসি পাশ করে কাজের জন্য প্রবাশে যেতে উৎসাহী করেন। 

সভায় পৌরসচিব নাসরিন জাহান বলেন, দোহারের শিক্ষার হার বাংলাদেশের অন্যান্য যে কোন অঞ্চলের চেয়ে কম। এবং দোহার পৌরসভার মাঝে সবচেয়ে কম ৩ নং ওয়ার্ড। ৩ নং ওয়ার্ডের ৩০০ পরিবারের মাঝে জড়িপ চালিয়ে দেখা যায় শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার এই ওয়ার্ডে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের অনেক বেশি। যেখানে মেয়েদের হার ১১% সেখানে ছেলেদের হার তিনগুনের ও বেশি ৩৫%।

দোহার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মসিউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে ঝরে না পড়ে সেই লক্ষে সিবিও কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন যে, ৩ নং ওয়ার্ডের মোট পরিবার ৩১২ টি। এবং তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১৬৮২ জন। ৫ – ২২ বছর বয়সি ছেলেমেয়েদের মধ্যে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা মাত্র ৪০০ জন। এর মাঝে ২২৯ জন ছাত্রী ও ১৭১ জন ছাত্র। এছাড়াও ছেলেদের ঝরে যাওয়ার ঝরে যাওয়ার হার এতো বেশি যে ২০১২ সালের এইচএসসি পরীক্ষা ৬৫ জন মেয়ের বিপরীতে মাত্র ৯ জন ছেলে ছিল।

সিবিও সভাপতি তেনজিং চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, সিবিও প্রতিষ্ঠা করার পর এই ওয়ার্ডে শিক্ষার হার বেড়েছে, সেই সাথে মাদক ব্যবসা, জুয়া, ইভটিজিং প্রতিরোধে তারা বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি ছাড়াও এর পর আরো বক্তব্য রাখেন এলজিইডির কর্মকর্তা জসিমউদ্দিন। তিনি বলেন যে, যেহেতু দোহারে প্রবাসী সংখ্যা বেশি সেহেতু লেখাপড়া শেষ করে বিদেশে গেলে বেশি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে এবং বেশি বেতন পাওয়া যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়াও আরো বক্ত্যব্য রাখেন ৩ নং ওয়ার্ডের কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস, সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড কমিশনার খালেদা আক্তার, সেচ্ছাসেবক দল নেতা বিদ্যুৎ, সিবিও সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠান শেষে সকল অভিভাবক ও উপস্থিত অতিথিবৃন্দকে সাথে নিয়ে পৌর মেয়র আলহাজ্ব রহিম মিয়া শপথ করেন যে, কোন ছেলে মেয়েকে অন্তত এইচএসসি পাশ না করা পর্যন্ত তারা প্রবাসে পাঠাবেন না।

দোহার নবাবগঞ্জে শীতে বাজারে দামে আগুন

0

রাতে হালকা ঠান্ডা আর সকালে কুয়াশা। প্রকৃতিতে নিজের আহমনী বার্তা ঘোষনা দিচ্ছে শীত। সেই সাথে বাজারেও উঠতে শুরু করেছে শীতের সবজী। দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে শীতের সবজীর প্রাচুর্য।

দোহার-নবাবগঞ্জে শীত এখনো পুরোদমে না পড়লেও রাতে বেশ ঠান্ডা ও সকালে কুয়াশা পড়ে। প্রকৃতিতে বাজছে শীতের আগমনী বার্তা। বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতের বিভিন্ন সবজী। মুলা, ফুলকপি, বাধাকপি, গাজর, টমেটো, শিম, ধনেপাতা, বরবটি সহ আরো শীতের সবজী। এখনো পুরোপুরি শীতের সবজী না উঠায় দাম এখনও একটু বেশি এই সবজীর।

দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই সবজী গুলোর দামের তারতম্যও দেখা যায়। জয়পাড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে মাঝারি সাইজের একটা ফুলকপি ৩০ টাকা, শিম ৬০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, আলু (নতুন) ৩৫ টাকা। সবজী বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায় এখনো মৌসুম শুরু না হওয়ায় দাম এখনও একটু বেশি। যোগান বাড়ার সাথে সাথে সবজীর দামও কমে যাবে।