দোহারে আলোচিত বিলাসপুর হত্যা মামলার ২ আসামী গ্রেপ্তার

0

নিউজ৩৯.নেট ♦ ঢাকার দোহার উপজেলায় নির্বাচন পরবর্তী জাতীয় পার্টির ৩ সমর্থক খুনের ঘটনায় তালিকাভুক্ত অন্যতম আসামী উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মোহাম্মদ আলমাছ উদ্দিন ও আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ঢাকা জেলা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এস আই) এ বি সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আরো জানান, মোবাইল ট্রেকিংয়ের সূত্র ধরে শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানী ঢাকার ফকিরাপুল চার রাস্তার মোড় থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি শাখাওয়াত হোসেন নিউজ৩৯-কে জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের হাজারবিঘা গ্রামে পরাজিত আওয়ামীলীগ প্রার্থী আব্দুল মান্নান খানের সমর্থকদের হামলায় জাতীয় পার্টির সালমা ইসলামের ৩ সমর্থক খুন হয় ও ২০ জন আহত হয়। ঘটনার সাথে জরিত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৪ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় ৫৬ জনের নাম ও অজ্ঞাত আরো ৯০ জনের নামে দোহার থানায় মামলা হয়। পমামলায় বাসায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও হত্যার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে দন্ড বিধিতে ১৪৩/১৪৭/১৪৯/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩০২/১০৯/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়। পরে মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়।

সব হারালেন মান্নান খান: পেলেন না দফতর সম্পাদক পদটিও

0

রাজনীতি কি তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এখন ঘোর অমানিশা। হারিয়েছেন ২৩ বছর আগলে রাখা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক পদটিও। নির্বাচনকালে সর্বদলীয় সরকার গঠিত হলে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে গিয়ে দলের দফতর সম্পাদকের পদ হারান তিনি।

সারাজীবন বাম ঘরানার এই রাজনীতিকের বিধি এতটাই বাম যে, নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের কাছে হেরে যান তিনি। শুধু তা-ই নয়, নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় মানুষ হত্যার দায়ও চেপেছে তার কাঁধে।

গত সরকারের পাঁচ বছরে গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দাপটের সঙ্গে মন্ত্রণালয় চালিয়েছেন মান্নান খান। তার ভাই-ভাইপো ও ভাগ্নেদের আধিপত্য ছিল মন্ত্রণালয় জুড়ে। কাউকে পরোয়াই করেন নি। এলাকার নেতাকর্মীদের পাত্তা দেন নি তিনি।

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ১০৭ গুণ। এর খেসারত দিয়েছেন নির্বাচনে। এবার মন্ত্রী বা এমপি কোনো পদ জোটে নি কপালে। এমনকি দলের পদও হারিয়েছেন। তার পরিবর্তে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক হয়েছেন ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সম্প্রতি তাকে এ দায়িত্ব দেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। দলীয় প্রধানের আস্থাভাজন হিসেবে বিবেচিতরাই এতদিন দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সামাজিক বিজ্ঞানে পিএইচডি আবদুস সোবহান গোলাপ শেখ হাসিনার আস্থার জায়গায় রয়েছেন বলে জানান দলটির নেতাকর্মীরা। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও মাস্টারদা সূর্য সেন হল ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও ভিপি হিসেবে তার ব্যাকগ্রাউন্ডও কম সমৃদ্ধ নয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন মুক্তিযোদ্ধা গোলাপ। পঁচাত্তর-পরবর্তীকালে ছাত্রনেতা হিসেবে সক্রিয় গোলাপ জরুরি সরকারের আমলেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠিত করে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন।

এবার পুলিশের পরিচয়ে হাজারবিঘায় ডাকাতি

0

বিলাসপুরে বহুল আলোচিত সহিংসতার রেশ কাটতে না কাটতেই এক রাতে তিন বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাতে ৫ প্রবাসীর বাড়িসহ ছয় বাড়িতে হানা দেয় ডাকাত দল। পুলিশের পরিচয় দিয়ে এসময় ডাকাতদল ছয় বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকাসহ ২০ ভরি স্বর্ণ ও সাত ভরি রুপা সহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করে।

ডাকাতির স্বীকার হওয়া পরিবাররা জানান, ১৪ থেকে ১৫ জনের ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয় অস্ত্র  সজ্জিত হয় এই ডাকাতিতে অংশ নেয়।

সাম্প্রতি বিলাসপুরে সহিংসতায় নিহত মকবুল হোসেনের পাশের আফজাল ফকিরের বাড়ি থেকে ডাকাতি শুরু করে। রাত ১টার সময় পুলিশের পরিচয় দিয়ে ডাকাতদল তাদের ঘর খুলতে বলে। এসময় ঘর খুললে অস্ত্রের মুখে তাদের কাছ থেকে ৩৮ হাজার টাকা লুট করে। এরপর আফজাল হোসেনের প্রবাসী বড় ছেলে আনোয়ার হোসেনের ঘরে হানা দেয় ডাকাতদল। এসময় আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী সাজেদা বেগমের কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৫০ হাজার টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ণ লুট করে। এরপর আফজাল ফকিরের মেঝ ছেলে দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী তানিয়া আক্তারের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ণ হাতিয়ে নেয়।

এরপর ডাকাতদল শেখ আজিজের বাড়িতে হানা দেয়। এসময় শেখ আজিজের স্ত্রী নাহার বেগম ও মেয়ে সুফিয়ার কাছ থেকে ঘরে থাকা নগদ ৪৮ হাজার টাকা, ৩ ভরি স্বর্ণ ও ৫ ভরি রুপার অলঙ্কার লুট করে।

এরপর ডাকাতদল বিল্লাল হোসেন ও আনোয়ার হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ১২ হাজার টাকা, দেড় ভরি স্বর্ণ ও ২ ভরি রুপার অলঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
এরপর ডাকাতদল হান্নান মৃধার বাড়ি থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও ২ ভরি স্বর্ণ, রজ্জব মৃধার বাড়ি থেকে ৫৫ হাজার টাকা ও দেড় ভরি স্বর্ণ, তোতা মিয়ার বাড়ি থেকে ৪৫ হাজার টাকা ও  ৪ ভরি স্বর্ণলঙ্কার লুট করে।

দোহার থানার ওসি কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এবং অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিবেন বলে নিউজ৩৯ কে নিশ্চিত করেছেন।

নৌকাকে নয়, নৌকার মাঝিকে প্রত্যাখ্যান করেছে দোহারের মানুষ: মাহবুব

0

নিউজ৩৯.নেট ♦ ঢাকার দোহারের বিলাসপুর ইউনিয়নে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত হয়ে দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান বলেন, এবারের নির্বাচনে নৌকা ঠিকই ছিল কিন্তু দোহারের মানুষ নৌকার মাঝিকে প্রত্যাখান করেছে।

শোক সভায় মাহবুব মান্নান খান ও মোতালেব খান সম্পর্কে বলেন, বিগত পাঁচ বছরে আ. মান্নান খান ও তার ভাই মোতালেব খান ঘাটে, হাটে-বাজারে সব জায়গায় থেকে বিভিন্ন উপায় অর্থ উপার্জন করেছে। এ হত্যাকান্ডের সাথে মান্নান খানের ভাই মোতালেব খান জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে এবং মোতালেব খানের নামে মামলাও হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দোহারের এ হত্যাকান্ডের ব্যাপারে প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অবহিত আছেন। গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের, ড. দীপু মনিসহ পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দোহারে এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠ তদন্তে  আসার কথা ছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদে তাদের শপথ নেয়ায় তারা আসতে পারেননি। কিন্তু এ হত্যাকান্ডের বিচার অবশ্যই হবে। তিনি বিলাশপুর ইউনিয়নবাসীকে ধৈর্য ধারণ করার আহবান জানান।

দোয়া মাহফিলে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল উপস্থিত হয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বলেন, আজকে এখানে এভাবে আমার আসার কথা না। কিন্তু আমাকে আসতে হয়েছে। আপনারা আওয়ামীলীগের লোক হয়েও আমার স্ত্রী সালমা ইসলামকে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিয়েছেন। সে জয়ী হয়েছে। এ কারণেই প্রতিপক্ষ ক্ষুদ্ধ হয়ে এ হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।

এসময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, সহ-সভাপতি ও বিলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আনারকলি পুতুল, বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম বেপারী, জাহাঙ্গীর বেপারী, জাতীয় পার্টির ডা. আলাউদ্দিন, আলিম, লায়ন আব্দুস সালাম প্রমুখ।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় মান্নান খানের সমর্থকদের হাতে নিহত মকবুল হোসেন, পিতা মুকসেদ (মুসা) খন্দকার এবং পূত্র মাসুদ খন্দকারের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

চুড়াইনে ডাকাতি, টাকা ও স্বর্ণ লুট

0

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় দক্ষিণ চুড়াইন গ্রামে গত মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে আলী হোসেনের (৬৭) বাড়ি থেকে ৭০ হাজার টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালংকার লুট করেছে ডাকাতেরা। তাদের অস্ত্রের আঘাতে আলী হোসেন ও তাঁর দুই ছেলে আহত হন।

রাত দুইটার দিকে ডাকাতেরা চরচরিয়া গ্রামের খালেক মোড়লের বাড়ি থেকে ২০ হাজার টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে। এরপর ডাকাতেরা পঞ্চবটি গ্রামের আবদুল হাইয়ের বাড়িতে হানা দিতে গেলে গ্রামবাসীর প্রতিরোধে তারা পালিয়ে যায়। গতকাল বুধবার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

বিলাসপুরে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্থদের সাক্ষাত করলেন সালমা ইসলাম

0

বহুল আলোচিত বিলাসপুরে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় ৩ জন নিহতের পরিবারের সাথে দেখা করলেন নবনির্বাচিত এমপি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম নিহতদের পরিবারকে সান্তনা দিয়ে বলেন, অত্যাচারীর  অত্যাচারের দিন শেষ। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানানো হলে তিনি আমাকে তা দেখার আশ্বাস দেন।

এসময় বিলাসপুরে সহিংসতায় নিহত হাজারবিঘা গ্রামের ৩ জনের পরিবারকে ৬ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দেন এ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। বুধবার দুপুর ১ টায় তিনি দোহারের বিলাসপুরের  হাজারবিঘা গ্রামে নিহতদের পরিবারের সাথে দেখা করেন।

এসময় নিহত মোশারফ খন্দকার ও তার ছেলে মাসুদ খন্দকারের পরিবারের পক্ষ থেকে নগদ ৪লাখ টাকা গ্রহণ করেন মোশারফ খন্দকারের স্ত্রী রোকেয়া বেগম এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মকবুল হোসেনের স্ত্রী শারমিন মোল্লা নগদ ২ লাখ টাকা গ্রহণ করেন।

এ সময় তিনি বিলাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন মোল্লাকে অনুরোধ করে বলেন, নিহত ও আহতদের পরিবারে যাদের চাকরী করার সামর্থ্য আছে তাদেরকে যমুনা গ্রুপে চাকরীর ব্যাবস্থা করা হবে।

বিলাসপুর হত্যাকান্ডের আসামী ৫৬ জন

0

বিলাসপুরে বহুল আলোচিত সংঘর্ষে ৫৬ জনসহ ৮০/৯০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংঘর্ষে নিহত মোকছেদ খন্দকার ওরফে মুসা খন্দকারের ছেলে মোতালেব খন্দকার। মামলায় বাসায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও হত্যার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে দন্ড বিধির ১৪৩/১৪৭/১৪৯/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩০২/১০৯/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

এতে আসামী করা হয় ১. আনোয়ার চোকদার(৩৫) ২. খোকত চোকদার(২২), ৩. তোতা চোকদার(৩৫), ৪. আলী খন্দকার(৭০), ৫. মোতালেব খান(৫০) পিতা মৃত মিছির খান, খাড়াকান্দা ৬. হুকুম আলী চোকদার(৬৫), ৭. রাশেদ চোকদার(৩০), ৮. বাশার চোকদার(৪০), ৯. তারা মিয়া চোকদার(৫২), ১০. রাসেল চোকদার(৩০), ১১. লিয়াকত চোকদার(৩৫), ১২. সাদ্দাম চোকদার(২২), ১৩. আলমগীর চোকদার(৫৫), ১৪. রাজন চোকদার(৩০), ১৫. ফরহাদ শেখ(৩৫), ১৬. মনু শেখ(৫২), ১৭. মজিবুর শেখ(৩৮), ১৮. ছুরফান শেখ(৬০), ১৯. আল হক খন্দকার(৩০), ২০. শের আলী মাদবর(৫০), ২১. মোহন চোকদার(৬৫), ২২. দুদু মিয়া চোকদার(৪২), ২৩. হারুন চোকদার(৪০), ২৪. ফিরোজ চোকদার(৪২), ২৫. সেলিম চোকদার(৩৪), ২৬. লিটন চোকদার(৩৭), ২৭. আনেছ মাঝি(৩৫), ২৮. জানাত মাঝি(৪০), ২৯. ইছহাক চোকদার(৬৫), ৩০. জাহাঙ্গির আলম(৩৮), ৩১. ইউনুছ চোকদার(৫০), ৩২. ওদু চোকদার(৩৫), ৩৩. সেলিম চোকদার(৪০), ৩৪. কামাল চোকদার(২০), ৩৫. সোহান চোকদার(২০), ৩৬. বিশা মাদবর(৫০), ৩৭. সোহেল(২২), ৩৮. রোকন ব্যাপারী(৫৫), ৩৯. তোতা চোকদার(৫০), ৪০. শাহিন চোকদার(২৫), ৪১. আবুল বয়াতী(৪০), ৪২. খোকন বয়াতী(২৫), ৪৩. জাহাঙ্গীর চোকদার(৪৫), ৪৪. স্বপন চোকদার(২০), ৪৫. রাহিম চোকদার(৪৮) পিতা মৃত ওমেদ আলী চোকদার, ৪৬. শাহ জাহান চোকদার(৫০), ৪৭. হুমায়ন(৩০) পিতা ইউনুছ মোল্লা, ৪৮. তোতা শেখ(৬০), ৪৯. আক্তার(৩২), ৫০. আল আমিন চোকদার(৩৫), ৫১. আলমাছ উদ্দিন(৪০)পিতা ইউনুছ মোল্লা, ৫২. জহিরুদ্দিন জহু(৫০), পিতা মুত করম আলী, খাড়াকান্দা, ৫৩. রাবিয়া বেগম(৬০), ৫৪. সুরিয়া বেগম(৩৫), ৫৫. আছিয়া আক্তার(৩৫), ৫৬. রাজিয়া বেগম(৪৫) সহ অঞ্জাতনামা ৮০/৯০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

পূর্ব বিরোধের কথা উল্লেখ করে মামলাতে বলা হয়েছে মোতালেব খান, হুকুম আলী চোকদার, রাশেদ চোকদার, বাশার চোকদার, আলমাছ উদ্দিন, জহিরুদ্দিন জহু এর পরিকল্পনা ও মোতালেব খানের নির্দেশে আসামীগন পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ৬ জানুয়ারী সকাল ৯টায় রামদা, ক্রিস, চাইনিজ কুড়াল, ট্যাট্যা, চাপাতি, ছেন, লাঠিসোটা নিয়ে মকবুল মুন্সীর বাড়িতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে আসামীগনের হাতে থাকা দা, রামদা, ছেনী দিয়ে হাতে, পেটে ও ঘাড়ে কুপিয়ে জখম করে। অতপর আসামীগন মুছা খন্দকারের বাসায় হামলা করে মুসা খন্দকার ও তার পুত্র মাসুদ খন্দকারকে কুপিয়ে জখম করে। এসময় মুছা খন্দকার ও তার পুত্র মাসুদ খন্দকারকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্ত্যবরত ডাক্তার তাদের মৃত ঘোষনা করে। এসময় আসামীদের হাতে আহত হয় ১. আনোয়ার খন্দকার(৫০), ২. শাহ জালাল খন্দকার(৬০), ৩. আসলাম মোল্লা(২২), ৪. রিয়াজুল মোল্লা(৪২), ৫. সালেহা বেগম(৫০), ৬. সুমন(১৬), ৭. বছিরুন নেছা(৫৩), ৮. দেলোয়ার খন্দকার(৪২), ৯. শাহ আলম খন্দকার(২৮)। এদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে আরো অভিযোগ করা হয় কাটাখালীস্থ মোতালেব খানের বাসায় ৫ জানুয়ারী রাত সাড়ে দশটার দিকে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়।

দোহারে সহিংসতায় মামলায় শতাধিক আসামী: ৪ জন রিমান্ডে

0

দোহারের বিলাসপুর এলাকায় নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানের ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব খানসহ ১২০/১৩০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে নিহতের পরিবার। মামলায় মোট ৫২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার নাম্বার ৩।

সোমবার গভীর রাতে দোহার থানায় মামলাটি দায়ের করে তা ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত মোকসেদ খন্দকারের ছেলে মোতালেব খন্দকার দোহার থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বিলাসপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হুকুম আলী চোকদার। ওই মামলায় দোহার উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলমাস উদ্দীনকে, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি বাশার চোকদার, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হুমায়ুন, জুহু আলমগীরকেও আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ এ ঘটনায় আনোয়ার চোকদার (৩১), খোকন হোসেন (২২), তোতা মিয়া (৩৫) এবং আলী খন্দকারকে (৪৫) আটক করে এবং ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দোহার পুলিশ।

হত্যার ঘটনায় আটক চারজনকে তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ডিবির এসআই সিদ্দিকুর রহমান প্রত্যেকের দশ দিন করে রিমান্ড চেয়েছিলেন।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে বিলাসপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঢাকা থেকে আসা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এলাকায়। পাশাপশি টহল দিচ্ছে যৌথ বাহিনী। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে নিহতদের লাশ এলাকায় নেয়া হয়।

সহিংসতায় থমথমে দোহার : এখনো মামলা হয় নি

0

দোহারের বিলাসপুরে দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হলেও মামলা করা হয় নি, থানা সূত্রে জানা গেছে মামলার প্রস্ততি চলছে। বিলাসপুর ইউনিয়ন ও মাহমুদপুর ইউনিয়নে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

দোহার পুলিশ জানায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন বিলাসপুর ইউনিয়নের দক্ষিন দেবিনগর গ্রামের আজিজ চোকদারের পূত্র আনোয়ার চোকদার, একই গ্রামের খোকন হোসেন ও তোতা মিয়া।

সংঘর্ষের পর র‍্যাব-১১ এর ডিএডি আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে দেখেন হাজারবিঘার রাস্থায় ছোপ ছোপ রক্ত। সেখানে প্রায় দুই শতাধিক যুবক রাম দা’, হকি স্টিক নিয়ে অবস্থান করছে। র‍্যাবের ধাওয়ায় তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

নিহতের সঠিক সংখ্যা নিয়েও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ছয় জন নিহত বলা হলেও পরে পুলিশ পক্ষ থেকে জানানো হয় আসলাম ও রিজাউল এখনো মিটফোর্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেঁচে আছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ঘটনার সূত্রপাত আগের দিন, ভোটের ফলাফল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক হয়। তার জের ধরেই সোমবার সকালে হুকুম আলী চোকদার পক্ষ আলাউদ্দিন মোল্লা পক্ষের উপর হামলা করে। ঘটনার পর হুকুম আলী চোকদার সহ তার পক্ষে বেশিরভাগ লোক পলাতক আছেন।

এই ঘটনায় এই আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট সালমা ইসলাম পরাজিত আওয়ামী প্রার্থী এডভোকেট আব্দুল মান্নান খান ও তার ভাই মোতালেব খানকে অভিযুক্ত করেন।

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “নির্বাচন নয় পারিবারিক বিষয়টিই এখানে প্রাধান্য পেয়েছে। নির্বাচনে হেরে হয়তো ক্ষোভ বেড়েছে। তবে এটা কোনোভাবেই নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা নয়।“

উল্লেখ্য দোহার পদ্মাতীরবর্তী চরাঞ্চল এই বিলাসপুর ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তার করা নিয়ে মোল্লা পরিবার ও চোকদার পরিবারের মধ্যে ঐতিহ্যগত দ্বন্দ্ব রয়েছে। গত পাঁচ বছরে দুই পরিবার একই ধারার রাজনীতিতে যুক্ত থাকায় বড় ধরণের সংঘর্ষ বাধে নি। যেহেতু এখন দুই পরিবার দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়েছে তাই এলাকাবাসী আশংকা করছে সংঘর্ষ এখানেই শেষ নয়, নতুন মাত্রা পেল মাত্র।

বিলাসপুরে নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষে সর্বশেষ নিহত ৩, আটক ৪

0

দোহারে পদ্মাতীরবর্তী বিলাসপুরে নির্বাচনোত্তর সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা সর্বশেষ বেড়ে ৬ এ দাড়িয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করছি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন সোমবার দোহারের হাজারবিঘা গ্রামে বিলাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন ও দোহার থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বাশার চকদারের সমর্থকরা সকাল ৯টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এই সংঘর্ষে জড়ায়।

নিহতদের মধ্যে মুসা খন্দকার (৫৫) ও তার ছেলে মাসুদ খন্দকার (২৮), আসলাম (২৫), রিয়াজুল ও আলাউদ্দিন মোল্লার ভাগিনা মকবুল (৩২)-এর পরিচয় পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরও একজনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

একসময় সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান খানের কাছ থেকে গুনিজন সংবর্ধনা পাওয়া বিলাসপুরের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা সাম্প্রতিক নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সালমা ইসলামের সাথে যোগ দেন। তার স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বাশার চোকদার আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেন।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। ঘটনাস্থলেই তিন জন নিহত হয় ।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, আমাদের কাছে তথ্য ছিল যে সংঘাত হতে পারে। সেজন্য আমরা সার্বক্ষণিক টহলের ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু সকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় পুলিশ চলে আসলে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। তবে ইতিমধ্যে আমরা সাঁড়াশি  অভিযান শুরু করেছি। ৩ জন আটক ও হয়েছে।  

ইতিমধ্যে দোহার থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। থানায় ঢাকা জেলা প্রশাসক, এসপি, উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, বিলাশপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা উপস্থিত ছিলেন। 

সংঘর্ষের ঘটনার পর এলাকায় বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, এবং টহল চলছে। এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। জয়পাড়া বাজারে সমস্ত দোকান, অফিস বন্ধ রয়েছে। বিলাসপুরে সাড়াশি অভিযান চলছে ও তিন জনকে আটক করা হয়েছে। দোহার থানায় মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে, সেখানে উপস্থিত আছেন উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান।

প্রসঙ্গত, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১ আসনে জাতীয় পার্টির সালমা ইসলামের কাছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান হেরেছেন।