মান্নান খান দম্পতির সম্পদ বিবরণী চেয়ে দুদকের নোটিশ

সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান এবং তার স্ত্রী সৈয়দা হাসিনা সুলতানার সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। মঙ্গলবার দুপুরে দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে এ নোটিশ পাঠানো হয়।
মান্নান খানের দোহার উপজেলার গ্রামের বাড়ি এবং ঢাকাস্থ ধানমণ্ডির বাসভবনের ঠিকানায় দুদকের নিজস্ব বার্তা বাহকের মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির পর সাত কার্যদিবস এবং আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও সাত দিবসসহ ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে দুদক সচিব বরাবর তাদের সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে হবে।
দুদক সূত্র জানায়,১৩ মার্চ সাড়ে ৯ কোটি টাকার সম্পদের ‘সন্দেহজনক উৎস’ শনাক্ত করে মান্নান খান দম্পতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করে তাদের সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ পাঠানোর সুপারিশ করা হয়। কমিশন মঙ্গলবার এ নোটিশ অনুমোদন করলে গতকালই নোটিশ জারি করা হয়।

সূত্র মতে, দশম জাতীয় সংসদের হলফনামায় উল্লিখিত অস্বাভাবিক সম্পদ বিবরণীর সূত্র ধরে ২২ জানুয়ারি দুদক সরকারদলীয় যে সাত ভিআইপির দুর্নীতি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়,আবদুল মান্নান খান তাদের একজন। দশম জাতীয় সংসদের হলফনামা অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাঁচ বছরে অর্থ-সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি দেখানো হয় ৪ কোটি টাকার বেশি। অথচ নবম সংসদের হলফনামায় নিজের সম্পদের পরিমাণ ১০ লাখ ৩৩ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করেন।
পাঁচ বছরে তার সম্পদ বেড়েছে ১০৭ গুণ। দশম সংসদের হলফনামায় ১ কোটি ৪৪ লাখ ৬৩ হাজার ২২৭ টাকার উৎস দেখিয়েছেন মৎস্য চাষ। তার স্ত্রী সৈয়দা হাসিনা সুলতানা গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও উল্লেখ করেছেন ‘ব্যবসায়ী’ হিসেবে। মৎস্য খাত থেকে স্ত্রীর আয় দেখিয়েছেন ৮৫ লাখ টাকা।
দুদক অনুসন্ধানে মান্নান খান কিংবা তার স্ত্রীর নামে কোথাও কোনো মৎস্য খামারের অস্তিত্ব পায়নি। তবে ২৭ ফেব্র“য়ারি দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে মান্নান খান তার দোহার-নবাবগঞ্জ সংলগ্ন আড়িয়াল বিলে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে মৎস্য চাষ করেছেন বলে জানান।
এভাবে বিভিন্ন খাতে সাড়ে ৯ কোটি টাকার সন্দেহজনক অর্থ পাওয়া যায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে মান্নান খান দম্পতির সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ পাঠানোর সুপারিশ করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মোঃ নাসির উদ্দিন।

নবাবগঞ্জে আংশিক মাথাযুক্ত শিশুর জন্ম

নবাবগঞ্জ উপজেলার নতুন বান্দুুরা মডার্ন ক্লিনিক ও ডায়োগনিস্টিক সেন্টারে জন্ম গ্রহণ করেছে আংশিক মাথাযুক্ত মানব সন্তান। শিশুটির সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও চোখের উপরের অংশ কপাল ও মাথার খুলি নেই। সেই সাথে তার চোখ দুইটি অস্বাভাবিক বড়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের ছোট কাউনিয়াকান্দি গ্রামের বিরেন সরকারের ন্ত্রী গৃহবধূ মিনতি সরকারের গর্ভে জন্ম নেয় এ আংশিক মাথাযুক্ত শিশুটি। জন্ম নেওয়ার কিছুক্ষণ পর শিশুটি মারা যায়। পরে শিশুটির মৃত দেহ ঢাকা হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

গত শুক্রবার বিকাল ৫.৩০ টায় মডার্ণ ক্লিনিকে ডা. বিরেন্দ্রকুমার বিশ্বাস ও ডা. শ্যামলাল হালদার এর তত্বাবধানে সফল সিজারিয়ান মাধ্যমে শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু ডাক্তার সহ সবাই জানত শিশুটি অস্বাভাবিক আকৃতির। আংশিক মাথাযুক্ত শিশু জন্ম গ্রহণ করেছে শুনে শত শত মানুষ ছুটে আসে মডার্ন ক্লিনিকে। তবে এই ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি শিশুটির আত্মীয়-স্বজনরা।

ডা. বিরেন্দ্রকুমার বলেন, আমার দীর্ঘ ডাক্তারি জীবনে এই ধরনের শিশু প্রথম পেলাম। শিশুটিকে ঢাকা নেওয়া হলেও এখনো অনেকে আসছে হাসপাতালটি দেখার জন্য।

সুতারপাড়ায় বেকার যুবকের আত্মহত্যা

ঢাকার দোহার উপজেলায় মো. ওবায়দুল (২২) নামে এক যুবক গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। শুক্রবার বিকালের দিকে উপজেলার সুতারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওবায়দুল ঐ গ্রামের করম আলী ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ওবায়দুল দীর্ঘ দিন যাবত বেকার জীবনযাপন করছিল। এবিষয়ে তার পরিবারের লোকজন প্রায়ই তাকে বকাঝকা করতো। শুক্রবার পরিবারের সাথে অভিমান করে বসত ঘরের সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

দোহার থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিঞা জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মিডফোর্ট হাসাপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হবে।

দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দোহারের উন্নয়নে কাজ করতে হবে -ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা

দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দোহারের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। দোহার আমাদের সবার মাতৃভূমি। আমাদের যারা প্রতিপক্ষ দল ক্ষমতায় আছেন তাদের প্রতি আমি অনুরোধ করে বলছি আসুন আমরা আমাদের এ অঞ্চলকে উন্নয়নের জোয়ার দিয়ে গড়ে তুলি।

শুক্রবার বিকাল ৫ টায় ঢাকার দোহার উপজেলায় নব নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস্ চেয়ারম্যানদের পৌরসভা বিএনপি’র আয়োজনে জয়পাড়া কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গনে গণ-সংবর্ধনার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তেব্যে ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন এ আসনটি ছিল আওয়ামী লীগের, আপনাদের ভোটের মাধ্যমে বর্তমানে এ আসনটি ঘর গোছাতে শুরু করেছে। তাই আমি  আপনাদেরকে একত্রিত হয়ে থাকার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। উপজেলা চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন আপনারা দোহারে অবহেলিত রাস্তাঘাট, ব্রিজগুলো সংস্কারের উদ্যোগে নামুন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন আব্দুর রফিক বেপারী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নব-নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুল হুদা, ভাইস্ চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ, মহিলা ভাইস্ চেয়ারম্যান শামিমা রাহিম, অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন- আব্দুল রফিক বেপারী। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- জাসাস এর কেন্দ্রীয় যুগ্ন সম্পাদক- খালেদুর রহমান জুয়েল, উপজেলা বিএনপি নেতা নুরল ইসলাম বেপারী, আব্দুল হালিম চেয়ারম্যান, জাহাঙ্গীর বেপারী, যুবদল নেতা- সুরুজ মৃধা, মিরাজ খালাসী, হিটু মোল্লা, তৈয়ব আলী, ছাত্র নেতা- আতিকুর রহমান বাবুল, সেন্টু ভূইয়া, জুলহাস উদ্দিন, আব্দুল হান্নান, রাসেল, কামাল মোড়ল, সেলিম মাহমুদ, প্রমুখ।

মটর সাইকেল দুর্ঘটনা: নিউজ৩৯-এর সম্পাদকসহ আহত তিন

ফুলতলা থেকে জয়পাড়া আসার পথে মটর সাইকেল দূর্ঘটনায় নিউজ৩৯ এর এডিটর তারেক রাজিব সহ তিনজন আহত হয়েছে। এর মধ্যে নিউজ৩৯ এর এডিটর তারেক রাজিবের বাম পায়ের আঙ্গুলের একটি হাড় ভেঙ্গে গেছে। এছাড়া নিউজ৩৯ এর আরো দুই সাংবাদিক আসাদ সবুজ ও আছিফুর রহমানও আহত হয়েছে। মটর সাইকেল দূর্ঘটনায় আসাদ সবুজের শরীরের বেশ কয়েক জায়গায় ছিলে যায়।

পদ্মা কলেজের ইংরেজির লেকচারার তারেক রাজিব শনিবার অনুষ্ঠিত গুনিজন সংবর্ধনার কাজের জন্য পদ্মা কলেজে সকাল ১১ টার সময় যান। এরপর জুম্মার নামাজ পড়ে মটর সাইকেল যোগে আসার পথে ফুলতলার কাছে ফ্যামস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের কাছে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে মটর সাইকেলটি রাস্তায় পড়ে যায়। এসময় অতি দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ফুলতলার আব্দুর রাজ্জাক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা করার পর তাকে জয়পাড়া ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয়। এসময় এক্সরে রিপোর্টে তার বাম পায়ের বুড়ো আঙ্গুল ফেটে গেছে বলে ধরা পড়ে। তারপর তাকে জয়পাড়া ক্লিনিকে পায়ে প্লাস্টার করে বাসায় নিয়ে আসা হয়। এসময় ডাক্তার তাকে ২ সপ্তাহের বেড রেস্ট গ্রহনের কথা বলে। আসাদ সবুজকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়।

উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যানকে সংবর্ধনা দিল দোহার পৌরসভা বিএনপি

শত শত নেতা কর্মী ও সমর্থকদের দ্বারা সংবর্ধিত হলেন নব নির্বাচিত দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান। দোহার পৌরসভা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এর উদ্যোগে এই সংবর্ধনা  অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দোহার পৌরসভা বিএনপির সভাপতি রফিক ব্যাপারী (নাজমুল হুদা পন্থী)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।

এসময় সংবর্ধনা দেয়া হয় সদ্য নির্বাচিত দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুল হুদা, ভাইস চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামিমা রাহিমকে। এসময় তারা তাদের নির্বাচিত করার জন্য দোহারের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধান অতিথির মিনিট তিনের বক্তবে  ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা সৎ ও যোগ্য প্রার্থী হিসাবে তার ভাইসহ অন্যান্য কে নির্বাচিত করায় দোহার বাসিকে ধন্যবাদ জানান। আগামীতেও তিনি দোহারবাসীর নিকট একই রকম সহযোগীতা কামনা করেন। সদ্য নির্বাচিত দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুল হুদা বলেন, উন্নয়নের গতিশীলতার  জন্য তাকে নির্বাচিত করায় দোহার বাসিকে ধন্যবাদ জানান। সেই সাথে তার দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে সর্বচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও জানান।

এসময় ভাইস চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ ও দোহার বাসিকে ধন্যবাদ জানান।মাসুদ পারভেজ বলেন, আগামীতেও তারা একইভাবে দোহারের মাটিতে ধানের শীষকে বিজয়ী করবেন ঐক্যবদ্ধভাবে। এছাড়া তিনি উপজেলা পরিষদে হতে যে কোন কল্যাণকর কাজে জনগণএর প্রয়োজনে সবাই তার সহযোগীতা পাবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামিমা রাহিম দোহারের মাটিকে নাজমুল হুদার ঘাটি বলে উল্লেখ করেন।

মান্নান খানের সাড়ে ৯ কোটি টাকার উৎস সন্দেহজনক

সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান ও তার স্ত্রী সৈয়দা হাসিনা সুলতানার সাড়ে ৯ কোটি টাকার সম্পদের ‘সন্দেহজনক উৎস’ বেরিয়ে এসেছে। বৃহস্পতিবার দাখিলকৃত অনুসন্ধান প্রতিবেদনে তাদের অর্থের বৈধ উৎস নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মোঃ নাসির উদ্দিন দেড় মাস অনুসন্ধান শেষে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে আবদুল মান্নান খান ও তার স্ত্রী সৈয়দা হাসিনা সুলতানার সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ জারির অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, প্রাপ্ত সম্পদ শুধু নবম ও দশম জাতীয় সংসদের হলফনামায় মান্নান খানের স্বেচ্ছায় উল্লেখিত সম্পদ বিবরণী থেকে পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তবে সম্পদ বিবরণী দাখিলের পরবর্তী অনুসন্ধানে আরও সম্পদ বেরিয়ে আসতে পারে।
সূত্রমতে, দশম জাতীয় সংসদের হলফনামায় উল্লেখিত অস্বাভাবিক সম্পদ বিবরণীর সূত্র ধরে ২২ জানুয়ারি দুদক সরকারদলীয় যে ৭ ভিআইপির সম্পদের ওপর অনুসন্ধান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, আবদুল মান্নান খান তাদের একজন। দশম জাতীয় সংসদের হলফনামা অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাঁচ বছরে অর্থ-সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি দেখানো হয় ৪ কোটি টাকার বেশি। অথচ নবম সংসদের হলফনামায় নিজের সম্পদের পরিমাণ ১০ লাখ ৩৩ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করেন। পাঁচ বছরে তার সম্পদ বেড়েছে ১০৭ গুণ। দশম সংসদের হলফনামায় ১ কোটি ৪৪ লাখ ৬৩ লাখ ২২৭ টাকার উৎস দেখিয়েছেন মৎস্য চাষ। তার স্ত্রী সৈয়দা হাসিনা সুলতানা গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও উল্লেখ করেছেন ‘ব্যবসায়ী’ হিসেবে।
মৎস্য খাত থেকে স্ত্রীর আয় দেখিয়েছেন ৮৫ লাখ টাকা। দুদক অনুসন্ধানে মান্নান খান কিংবা তার স্ত্রীর নামে কোথাও কোনো মৎস্য খামারের অস্তিত্ব পায়নি। তবে ২৭ ফেব্র“য়ারি দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে মান্নান তার দোহার-নবাবগঞ্জ সংলগ্ন আড়িয়াল বিলে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে মৎস্য চাষ করেছেন বলে জানান।
হলফনামায় মান্নান রাজধানীর গুলশান, খিলগাঁওয়ে কিছু স্থাবর সম্পত্তি থাকার কথা উল্লেখ করলেও ১১৭ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউর ইউনিক হাইটসে চারটি অ্যাপার্টমেন্টের প্রকৃত মূল্য প্রদর্শন করেননি। দলিল মূল্য ১ কোটি ৮১ লাখ ৮৬ হাজার ৩৮৬ টাকা দাবি করলেও একেকটি অ্যাপার্টমেন্টের মূল্যই ২ কোটি টাকা হবে মর্মে বেরিয়ে আসে অনুসন্ধানে। গুলশান থানাধীন ভাটারা মৌজায় কেনা ৮ শতাংশের প্লটের প্রকৃত মূল্য গোপন করেন তিনি। প্লটটির দলিল মূল্য ২৩ লাখ টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত মূল্য হবে ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা। ২০১১ সালে রাজধানীর খিলগাঁও গজারিয়া মৌজায় ১৫ শতাংশ কিনে মান্নান দলিল মূল্য দেখিয়েছেন ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অনুসন্ধানে এর মূল্য বেরিয়ে আসে দেড় কোটি টাকা।
গুলশানের বড় বেরাইদ মৌজায় ৬০ শতাংশ জমি থেকে ২৯ শতাংশ জমির এওয়াজ বদল করলেও অবশিষ্ট ৩১ শতাংশ নিজের মালিকানায় থেকে যাওয়ার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেননি। বাজার দর অনুযায়ী যার মূল্য বেরিয়ে এসেছে আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকা। ২০১২ সালে মান্নান খান ব্যাংক ঋণ শোধ করেছেন পৌনে ১২ লাখ টাকা। যা তার বৈধ আয় থেকে শোধ করা সম্ভব নয় মর্মে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
হলফনামায় নিজেকে ‘আইনজীবী’ হিসেবে উল্লেখ করলেও তিনি ডাকসাইটে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তা সত্ত্বেও তিনি নিজের সঞ্চয়পত্র দেখিয়েছেন ৬ লাখ টাকা। এফডিআর দেখিয়েছেন ৩৭ লাখ টাকা। আগে রিকশা কিংবা হেঁটে চললেও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি ল্যান্ডক্রুজার প্রাডো গাড়ি (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-৫৮০২) কেনেন ৪৪ লাখ ৩১ হাজার টাকায়। এ টাকার উৎস সম্পর্কেও সন্দেহ পোষণ করা হয় প্রতিবেদনে।
সূত্র জানায়, অনুসন্ধান প্রতিবেদনে তুষ্ট হয়ে কমিশন অনুমোদন দিলে মান্নান খান ও তার স্ত্রী সৈয়দা হাসিনা সুলতানার সম্পদ বিবরণী চাওয়া হবে।

নবনির্বাচিত উপজেলা প্রতিনিধিদের সংবর্ধনা দিলো বিএনপি নাকি বিএনএফ!

বিশেষ প্রতিবেদন শুক্রবার দোহারে নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানদের সংবর্ধনা দিলো বিএনপি না বিএনএফ এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখার এক সহ-সভাপতি এই অনুষ্ঠান যারা করছেন তাদের ব্যাপারে বলেছেন, ওরা বেওয়ারিশ বিএনপি। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য বিলি করা দাওয়াত কার্ড ও সংবর্ধনা গেটে লেখা রয়েছে আয়োজনে দোহার পৌরসভা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠন। সভাপতিত্ব করবেন দোহার পৌরসভার নাজমুল হুদা প্যানেলের সভাপতি রফিক ব্যাপারী। এবং নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের সংবর্ধনা দিবেন সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা।
এখন প্রশ্ন উঠেছে নাজমুল হুদা বর্তমানে বিএনপিতে অবস্থান কি? তিনি স্বঘোষিত বিএনএফ এর প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক। এছাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি হিসাবে পৌর মেয়র আব্দুর রহিম চেয়ারম্যানই সবার কাছে পরিচিত। এজন্য উপজেলা নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে সমঝোতার উদ্দেশ্যে ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা ও স্থানীয় বিএনপির মাঝে একটি বৈঠকে সমঝোতার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল আব্দুর রহিমের বাসায়।

তবে কি দলীয় আনুগত্যের বাইরে ব্যক্তি আনুগত্য করেছে বিএনপির একাংশ।
এ ব্যাপারে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো: রাসেল নিউজ৩৯কে বলেন, ওরা বেওয়ারিশ বিএনপি। তে পারবে না ওদের সভাপতি কে আর তার বৈধতা কি? এভাবে ওরা বিএনপিকে দ্বংস করছে।

এ ব্যপারে দোহার উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল হাসেমের সাথে নিউজ৩৯ এর পক্ষ থেকে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
দোহার পৌর বিএনপির দারন সম্পাদক(হুদা পন্থী) আব্দুল হালিম চেয়ারম্যান নিউজ৩৯কে বলেন, আমরা নাজমুল হুদাকে এখনও বিএনপির বলে চিনি। ওনার বিএনএফের কোন বৈধতা আমরা দেই না। উনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তাই উনার হাত দিয়েই এই সংবর্ধনা সুন্দর দেখায়।

এ ব্যাপারে নিউজ৩৯ এর পক্ষ থেকে দোহার পৌরসভা বিএনপির সভাপতি রফিক ব্যাপারী(হুদা পন্থী) এর সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজ৩৯ এর সাথে যোগাযোগ করেন নি। তার পরিবার নিউজ৩৯ কে জানান তিনি বাড়িতে নেই।

এ ব্যাপারে নিউজ৩৯ আরো যোগাযোগ করে দোহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহম্মেদের সাথে। তিনি পৌরসভা বিএনপির এই অনুষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিউজ৩৯কে তিনি বলেন, যাদের সংবর্ধনা দেয়া হবে তারা বিএনপির কোন নেতাকর্মী না। এদের রাজনৈতিক নেতা বিএনএফের চেয়ারম্যান। এরা বিএনপির নেতা হয় কি ভাবে। আর বর্তমানে পৌরসভা বিএনপির সভাপতি পৌরসভা মেয়র রহিম মিয়া। তিনি তো এরকম অনুষ্টানের আয়োজন করছে বলে আমরা জানি না। আর তারা নিজেদের বিএনপির সভাপতি বলে দাবি করে, অথচ কাগজপত্র দেখাতে পারে না। এটা কেমন কথা হলো। এই অনুষ্ঠানের সাথে বিএনপির কোন সম্প্রিক্ততা নেই।

কাল দ্বিধাবিভক্ত দোহার বিএনপি’র নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের সংবর্ধনা

=কাল নব নির্বাচিত দোহার উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কে সংবর্ধনা দিবে দোহার পৌরসভার নাজমুল হুদা পন্থী বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন। শুক্রবার বিকাল তিনটায় জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

বিগত উপজেলা নির্বাচনে নাজমুল হুদা পন্থি বিএনপির গ্রুপ একক ভাবে দোহার উপজেরা পরিষদে জয়লাভ করে। এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ঢাকা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কামরুল হুদা, ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ঢাকা জেরা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাসুদ পারভেজ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা রাহিম এরা সবাই নাজমুল হুদার ঘনিষ্টজন বলে পরিচিত। এই নির্বাচনে জয়ের ফলে দোহার বিএনপির নাজমুল পন্থী ঝিমিয়ে পড়া নেতা কর্মীরা নতুন ভাবে সজাগ হয়।
পৌরসভা বিএনপির এই সংবর্ধনা নিয়ে দোহার উপজেলা বিএনপির মান্নান পন্থী গ্রুপের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ পৌরসভা বিএনপির এই অনুষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিউজ৩৯কে তিনি বলেন, যাদের সংবর্ধনা দেয়া হবে তারা বিএনপির কোন নেতাকর্মী না। এদের রাজনৈতিক নেতা বিএনএফের চেয়ারম্যান। এরা বিএনপির নেতা হয় কি ভাবে। আর বর্তমানে পৌরসভা বিএনপির সভাপতি পৌরসভা মেয়র রহিম মিয়া। তিনি তো এরকম অনুষ্টানের আয়োজন করছে বলে আমরা জানি না। আর তারা নিজেদের বিএনপির সভাপতি বলে দাবি করে, অথচ কাগজপত্র দেখাতে পারে না। এটা কেমন কথা হলো। এই অনুষ্ঠানের সাথে বিএনপির কোন সম্প্রিক্ততা নেই।
এদিকে অনুষ্ঠানের সভাপতি ও নাজমুল হুদা পন্থী দোহার পৌরসভা বিএনপির সভাপতি রফিক ব্যাপারীকে ফোন করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায় নি।

আজ পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী

কোবিদ♦ লোকসাহিত্যের আজীবন প্রবক্তা, মাটি ও মানুষের কবি পল্লী কবি জসীমউদ্দীন। যুগে যুগে বাংলা সাহিত্যে অনেক উজ্জ্বল প্রতিভার আবির্ভাব হয়েছেন যাঁদের প্রতিভা স্পর্শে বাংলাসাহিত্য আজ বিশ্বমানের। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, জীবনানন্দ দাশ তাঁরা সবাই স্বমহিমায় ভাস্বর প্রতিভাবান। কিন্তু যে নামটি উচ্চারিত হলে আবহমান বাংলার রূপ, কাদা মাটির গন্ধে, কৃষকের হাসি ফোটা মুখচ্ছবি, গাঁয়ের সহজ সরল চাষীদের কথা, রাখাল বালকের কথা, নববধূর কলসীতে জল ভরানোর কথা, ফসল ঘেরা সবুজ মাঠ এবং প্রেমিকের ছন্দচিত্র আমাদের চেতনায় ফুটে ওঠে তিনি আমাদের প্রাণের মানুষ প্রিয় পল্লীকবি জসীমউদ্দীন। তবে পল্লীকবি বলতে যে অশিক্ষিত গেঁয়ো বয়াতিদের বোঝানো হয় তিনি তা ছিলেন না। তিনি ছিলেন যথার্থই একজন আধুনিক কবি। তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু গ্রামভিত্তিক ছিল, তাঁর কবিতায় পল্লীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পল্লীর মানুষের সুখদুঃখের ছবি প্রতিফলিত হয়েছে বলেই তাঁকে পল্লীকবি বলা হয়। তাঁর মতো এতো সুন্দর করে আর কোনো কবি পল্লীর চিত্র অঙ্কন করতে পারেননি। ১৯৭৬ সালের ১৩মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আজ তার ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। মৃত্যুদিবসে পল্লী কবিকে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,
মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়,
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
ছোট গাঁওখানি – ছোট নদী চলে, তারি একপাশ দিয়া,
কালো জল তার মাজিয়াছে কেবা কাকের চক্ষু নিয়া;
ঘাটের কিনারে আছে বাঁধা তরী
পারের খবর টানাটানি করি;
বিনাসুতি মালা গাথিছে নিতুই এপার ওপার দিয়া;
বাঁকা ফাঁদ পেতে টানিয়া আনিছে দুইটি তটের হিয়া।
বন্ধুকে নিন্ত্রণে এমন আন্তরিক আহ্বান যাঁর লেখায় প্রকাশ পায় তিনিই বিখ্যাত বাঙালি কবি জসীমউদ্দীন।

পল্লী কবি জসীমউদ্দীন ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এটি ছিল তাঁর নানার বাড়ি। নিজের বাড়ি ছিল গোবিন্দপুর গ্রামে। পুরো নাম জসীমউদ্দীন মোল্লা। তাঁর বাবা আনসার উদ্দীন এবং মা আমিনা খাতুন ওরফে রাঙাছুট । কবি জসিমউদ্দীনের পিতা ছিলেন ফরিদপুর হিতৈষী এমই স্কুলের শিক্ষক। নেহাজউদ্দীন নামে জসীমউদ্দীনের এক চাচাতো ভাই ছিলেন। তাঁরা দু’জন সারাদিন টোটো করে পথেঘাটে, ক্ষেত-খোলা আর নদীর পাড়ে ঘুরে বেড়াতেন। এমনি দুষ্টুমি আর দস্যিপনায় মেতে থাকতে থাকতে স্কুলে যাওয়ার বয়স হলে বাবা তাঁদের দু’জনকেই শোভারামপুর গ্রামে অম্বিকা মাস্টারের পাঠশালায় ভর্তি করে দিলেন। তারপর কবি অম্বিকা বাবুর পাঠশালা থেকে আসেন বাবার স্কুলে। সেখানে পড়েন চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত। তারপর জেলা স্কুলে। এই স্কুল থেকেই তিনি ১৯২১ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তারপর ভর্তি হন ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে। এখান থেকেই তিনি আইএ এবং বিএ পাস করেন ১৯২৯ সালে। তারপর তিনি চলে যান কলকাতায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এমএ পাস করে ১৯৩৩।
জসীমউদ্দীনের কবি প্রতিভা বিকশিত হয় শৈশবেই। কবিতা লেখার প্রতি তার প্রবল ঝোঁক থেকে ইচ্ছে হয় বড় কবি হওয়ার। ১৯২৭ সালে তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ (একটি রাখালি অন্যটি নকশীকাঁথার মাঠ) প্রকাশিত হলে তাঁর কবি খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামের সহজ-সরল মানুষের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখের বিচিত্র বিষয় ছিল তার কবিতার বিষয়বস্তু। গ্রামের সাধারণ মানুষের কথাই তিনি তার কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। দেশের মানুষ তাই তাকে ভালোবেসে ‘পল্লীকবি’ হিসেবে ভূষিত করেছে। তবে ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর পরিচয় বেঁধে দেয়া বোধ হয় ঠিক নয়, বরং আমাদের বাঙালি সত্তার একজন সত্যিকার মহৎ ও বড় কবি হিসেবেই তাকে শনাক্ত করা উচিত; যিনি প্রচলিত আধুনিক ধ্যান-ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে সহজ সরল ভাষায় চিরায়ত পল্লী জীবনকে তুলে ধরেছেন তাঁর কবিতায়।
কবি জসীমউদ্দীন কবির খ্যাতির শীর্ষে ওঠেন যখন কলেজে পড়ার সময় তিনি কবর কবিতাটি লেখেন। কবর কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে এক অবিস্মরণীয় অবদান। তিনি যখন বিএ ক্লাসের ছাত্র তখনই কবিতাটি প্রবেশিকা পরীক্ষার্থীদের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়। জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’তে তাঁর বিখ্যাত কবিতা কবর ও পল্লীজননী স্থান পেয়েছে। তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘নকশী কাঁথার মাঠ,’ এক পল্লীকিশোরীর বেদনা-মধুর প্রেম কাহিনীর অপূর্ব কাব্যিক রূপ প্রকাশ পেয়েছে এখানে। এ গ্রন্থটি মিসেস ই. এম. মিলফোর্ড ‘ফিল্ড অব দি এমব্রয়ডারড কুইল্ট’ ‘নামে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। গ্রন্থটি জসীমউদ্দীনকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কবি করে তোলে।
কবি জসীমউদ্দীন ছোটদের ভালোবাসতেন। তাই তো তিনি শিশুদের জন্য লিখেছিলেন হাসু, এক পয়সার বাঁশী, বাঙালির হাসির গল্প, ডালিম কুমার, আসমানীর কবি ভাই, হলুদ পরীর দেশে প্রভৃতি গ্রন্থ। তার অন্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ ধানক্ষেত, মাটির কান্না, হলুদ বরণী রূপবতী, জলের লেখন, পদ্মা নদীর দেশে প্রভৃতি। কাহিনী কাব্যের মধ্যে সুজন বাদিয়ার ঘাট, নকশীকাঁথার মাঠ, সকিনা প্রভৃতি। তার অন্যতম জনপ্রিয় লোকনাট্য গ্রন্থ মধুমালা, বেদের মেয়ে, পদ্মার পার, পল্লীবধূ, গ্রামের মায়া, গাঙের পার, ওগো পুষ্প রেণু প্রভৃতি। তাঁর স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থের মধ্যে অন্যতম ঠাকুর বাড়ীর আঙিনায়, স্মৃতিপট, যে দেশে মানুষ বড় ইত্যাদি। ভ্রমণ কাহিনীর মধ্যে চলে মুসাফির, জার্মানির শহরে ও বন্দরে প্রভৃতি। বোবা কাহিনী তার একটি জনপ্রিয় উপন্যাস। এছাড়াও আছে তার জারিসারি ও মুর্শিদী গানের সংগ্রহ ও সম্পাদনা।
১৯৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করার পর তিনি চাকরি জীবন শুরু করেন। জসিমউদ্দীণ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. দীনেশ চন্দ্র সেনের অধীনে ‘রামতনু লাহিড়ী’ গবেষণা সহকারী নিযুক্ত হন। ১৯৩৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। অধ্যাপনা ছেড়ে ১৯৪৪ সালে তত্কালীন পাকিস্তান সরকারের প্রচার বিভাগে চাকরি গ্রহণ করে ১৯৬১ সালে অবসর গ্রহণ করেন। জসিমউদ্দীন ব্যক্তি জীবনে যেমন সফল মানুষ তেমনি একজন কবি হিসেবেও সফলতার দ্বার ছোঁয়া একজন সফল কবি।
জসীমউদ্দীন সাহিত্য জীবনে অনেক সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কলকাতা তাকে সম্মানসূচক ‘ডিলিট’ উপাধি দেন ১৯৬৮ সালে, বাংলা একাডেমী তাকে ১৯৭৬ সালে ‘একুশে পদক’ প্রদান করে। ১৯৬৯ সনে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মান সূচক ডি লিট উপাধিতে ভূষিত করেন।
আনুষ্ঠানিক উপাধি ও সম্মাননা ছাড়াও বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা পাওয়া জনপ্রিয় এই কবি ১৯৭৬সালের ১৩ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পরে তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে দাফন করা হয় নিজ গ্রাম গোবিন্দপুরে। এ কথা সত্যি যে তিনি সঠিকভাবে মূল্যায়ন হননি, তাঁর কথা আমরা অনেকেই ভুলে গেছি। তাঁকে আমাদের স্মরণ করতে হবে এবং তাঁর লেখা রচনাগুলো স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সিলেবাসে সন্নিবেশিত করতে হবে। তাহলে আমরা তাঁকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারব। আমাদের আবহমান বাংলা চিরকাল টিকে থাকবে তার অমর সাহিত্য সৃষ্টির মধ্যদিয়ে। আর হয়তো আগামীতে উত্তরাধুনিক চেতনায় জসীমউদ্দীন দেশে সর্বাধুনিক ও সর্বশ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে নতুন যুগের পাঠকদের কাছে নতুনভাবে আবির্ভূত হবেন।
আজ মাটি ও মানুষের কবির ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। পল্লী কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।