নতুন কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভায় তীব্র সমালোচনার মুখে মাহবুবুর রহমান

দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের পুরাতন কমিটি থাকা অবস্থায় নতুন কমিটি করার প্রতিবাদে শনিবার বিকাল ৪ টায় নারিশা ইউনিয়ন কমপ্লেক্সে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । এসময় দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সাধারন কর্মী-সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন । এসময় বক্তারা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানকে এ কমিটি গঠন করায় তীব্র সমালোচনা করেন।

ঢাকা জেলা আওয়ামীলিগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক বলেন, আওয়ামীলীগ একটি গণতান্ত্রীক দল । এখানকার নির্বাচন পদ্ধতি হবে প্রকাশ্যে । দলীয় গঠন্তন্ত্রের বাইরে গিয়ে আপনি যে মনোনয়ন দিয়েছেন তা আমরা প্রত্যাখান করছি। আপনি আওয়ামীলিগ ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আপনাকে সতর্ক করছি নতুবা এর মূল্য নেতা – কর্মিদের কাছে আপনাকে দিতে হবে।

গিয়াসউদ্দিন আল মামুন মাহবুবুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, গত নির্বাচনে আপনি (মাহাবুবুর রহমান) ও আপনার সহকর্মীরা আওয়ামীলীগকে বাদ দিয়ে লাঙ্গল মার্কায় ভোট চেয়েছেন । আমরা সব হারিয়েছি । উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে প্রায় প্রত্যেকটি জায়গায় আপনাদের মত লোকের কারনে আমরা নির্বাচিত হতে পারি নি ।

তিনি আরো বলেন , দলের যেকোন পর্যায়ের মনোনয়নে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সম্মেলন হতে হয়। কিন্তু আপনি নিজে মনোনয়ন দিয়ে নারিশা ইউনিয়নের আহবায়ক কমিটি গঠন করেছেন । আমরা তা কখনও মেনে নিব না । আপনি নমিনেশন পেলে আওয়ামীলীগ আর না পেলে বিএনপি বা জাতীয় পার্টি । আপনি  লেবাস ছেড়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করুন ।

নুরুল হক বেপারী বলেন,  মাহাবুবুর রহমান ঘরে বসে দলের নির্বাচন করেন । আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি তিনি কখনই মাঠে ছিলেন না । গণ মানুষের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই । তিনি আমাদের বলেছেন নারিশা ইউনিয়নের বাদ পড়া ৩ টি ওয়ার্ডের নির্বাচনের পর সম্মেলনের মাধ্যমে নারিশা ইউনিয়নের কমিটি গঠন করা হবে । কিন্তু তিনি নতুন কমিটি গঠন করেছেন । যদি ঘরে বসে কমিটি করা যেত, তবে শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে বসেই দলেরর সভানেত্রী হতেন । এত বড় সমাবেশ , এত নেতা কর্মী দের আগমনের প্রয়োজন ছিল না ।

বেলাল মোল্লার বক্তব্যে বলেন, দেশের প্রত্যেক নেতাদের সম্পদের হিসাব নেওয়া হচ্ছে । আমাদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানেরও সম্পদের হিসাব নেওয়া হোক । আমরা তিলে তিলে মাহবুব রহমানকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি । এখন সে দলের সাথে বেইমানি করে কখনো বিএনপি কখনো জাতীয় পার্টি করে। আমরা বঙ্গবন্ধুর লড়াকু সৈনিক। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সাথে আপনার মত বেইমানি করতে পারি না ।

প্রতিবাদ সভায় নারিশা ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম তালুকদারের সভাপতিত্বে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফজলুল হক , ঢাকা জেলার সাংস্কৃতিজোটের সহ-সভাপতি বেলাল মোল্লা, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি নুরুল হক বেপারী , উপজেলা প্রচার সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, মোতালেব খান, আক্তার হোসাইন ,আ. মজীদ মোল্লা, সালাউদ্দিন, সাজু নারিশা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সেলিম তালুকদারসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ।

দোহারে মৌমাছির হুলে এক ব্যক্তির মৃত্যু

নিউজ৩৯.নেট ♦ ঢাকার দোহার উপজেলায় মৌমাছির হুল ফুটানোতে মিনার মিয়া (পঞ্চাশোর্ধ বয়সী) নামে এক ব্যক্তির  মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে দোহার পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের গাজীকান্দা গ্রামে বাবু মিয়ার পুত্র মিনার মিয়া নিজ বাড়ির আম গাছে আম পাড়তে উঠে। এসময়ে গাছের ডালে মৌমাছির একটি চাকে তার হাতের ধাক্কা লাগলে মৌমাছির দল তার গায়ে হুল ফুটাতে থাকে।

তখন সে দ্রুত কোনো মতে আমগাছ থেকে নীচে নেমে আসে। মৌমাছি ছেয়ে ফেলে তার সারা শরীর। বাড়ীর কাজের মেয়ে পাটের একটি চট দিয়ে মৌমাছি তাড়াতে চেষ্টা করলে তাকেও মৌমাছি হুল ফুটাতে থাকে এবং সেখান থেকে সে পালিয়ে আত্মরক্ষা করে।

অসংখ্য মৌমাছির ফুটানো হুলে মিনার মিয়া দিশেহারা হয়ে দিকবিদিক ছুটে বেড়ায় এবং একসময়ে সে পুকুরের পানিতে নেমে পড়ে। সেখান থেকে উঠিয়ে তাকে ডাক্তারের কাছে নেওয়ার প্রস্তুতির সময় সে মারা যায়। তার স্ত্রী সহ পরিবারের সদস্যরা বাড়ীতে না থাকায় শনিবার মিনারের লাশ দাফন করা হয়।

নবাবগঞ্জে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা শুরু

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় দু’দিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে উপজেলা বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুল মাঠে মেলার উদ্বোধন করেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।

“জনগণের দোরগোড়ায় সেবা” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে তথ্য প্রযক্তি নির্ভর আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ২ দিন ব্যাপী ওই মেলার আযোজন করেন। এ উপলক্ষ্যে মেলা চত্বরে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম খোরশেদ-উল আলমের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান যুগ ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছাড়া দেশ এগোতে পারে না। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ছে। ফেইসবুক, ইউটিউব ও স্কাইপের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে হবে। তরুণরা দেশের ভবিষ্যৎ তাই বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সবার দ্বারে দ্বারে ডিজিটাল পদ্ধতি পৌঁছে দিতে হবে।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক, ভাইস চেয়ারম্যান মহসীন রহমান আকবর ও নবাবগঞ্জ থানা ওসি (তদন্ত) খন্দকার এখলাসুর রহমান।

উদ্ভাবনী মেলায় বক্তারা বলেন, বর্তমান যুগে ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার বেড়েছে।

মেলায় ১০টি স্টলে কৃষি, যুব উন্নয়ন, পরিবার ও পরিকল্পনা, মৎস শিক্ষা বিভাগসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র এবং উপজেলার ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের ডিজিটাল উদ্ভাবনী ও সেবাসমূহ প্রদর্শন করেন।

চুড়াইনে মাদকসেবীর কারাদণ্ড

আসিফ শেখ, নিউজ৩৯.নেট ♦ নবাবগঞ্জ উপজেলার মুন্সীনগর গ্রামের মো. দেলোয়ার (২৭) নামে এক মাদকসেবীকে ১ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে এ সাজা প্রদান করেন। কারাদন্ড প্রাপ্ত দেলোয়ার চুড়াইন ইউনিয়নের মুন্সীনগর গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদকসেবী দেলোয়ার গাজা ক্রয়ের টাকার জন্য বিভিন্ন সময় পরিবারের সদস্যদের সাথে খারাপ ব্যাবহার করত। মায়ের গায়ে আঘাত করতেও দ্বিধা করত না। মাদকাসক্ত ছেলে অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দেলোয়ারের মা ফাতেমা খাতুন নবাবগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার সকালে তাকে নিজ বাড়ি থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করে।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহর ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে দেলোয়ারকে ১ বছরের কারাদন্ড প্রদান করে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

খানেপুর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার, নিউজ৩৯.নেট ♦ নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের খানেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাধারণ অভিভাবক সদস্য পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে খানেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৬ মে সোমবার সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪ টা পযর্ন্ত ৩৭৩ জন ভোটারের মধ্যে একটানা ভোট গ্রহণের মধ্য দিয়ে এ নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

নির্বাচনে মোট ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচিতরা হলেন, মো. মফজেল হোসেন, মোহাম্মদ সামছুল ইসলাম, শেহের আলী ও নিত্যানন্দ সরকার। এর আগে সংরক্ষিত মহিলা অভিভাবক সদস্য পদে রোকসানা বেগম, সাধারণ শিক্ষক সদস্য পদে কাজী শারফুদ্দিন মাহ্ফুজ ও মোজাফফর আহমেদ, সংরক্ষিত মহিলা শিক্ষক সদস্য পদে আফরোজা আক্তার, দাতা সদস্য পদে সামসুদ্দিন আহমেদ ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পদে আনিস উদ্দিন আহমেদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন।

নির্বাচন সম্পন্ন করতে খানেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমজাদ হোসেন তদারকিতে ছিলেন।

দোহারে এক রাতে চার বাড়িতে ডাকাতি : আহত পাঁচ

ঢাকার দোহার উপজেলার দক্ষিণ শিলাকোঠা ও সুন্দরীপাড়া গ্রামের এক রাতে চার বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতদল এ সময় পাঁচজনকে কুপিয়ে জখম করে অন্তত ২২ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

স্থানীয় ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে  ১৪/১৫ জনের একটি ডাকাতদল উপজেলার দক্ষিণ শিলাকোঠা জামে মসজিদের পার্শ্ববর্তী আব্দুর রহিমের বাড়িতে যায়। ডাকাতরা  বাড়ির গেইটের তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় ঘরে থাকা আব্দুর রহিম (৭৫), তার স্ত্রী সোনাবরু (৬৫), ছেলে নুর মোহম্মদ নান্নু (৪৩) ও ছেলের বউ ফারজানা আক্তারকে (৩২) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। তারা ঘরে থাকা ১৫ ভরি স্বর্ণ, নগদ ৪০ হাজার টাকা, ১টি ল্যাপটপসহ বেশকিছু দামি জিনিসপত্রসহ ৯ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এরপর একই ডাকাতদল রাত আড়াইটার দিকে পাশের সুন্দীপাড়া গ্রামের প্রবাসী আব্দুল হামেদের বাড়িতে হানা দিয়ে ঘরে থাকা তার স্ত্রী আলেয়া বেগমকে মারধর করে ৯ ভরি স্বর্ণ, ১৪ ভরি রূপা, নগদ ৭ হাজার টাকা ও ২টি মোবাইল সেট সহ ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে।

রাত ৩টার দিকে তারা পাশের বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো.  ছালিমের বাড়িতে হানা দিয়ে ঘরে থাকা তার স্ত্রী সম্পা বেগমকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৪ ভরি স্বর্ণ, ১২ ভরি রূপা, নগদ ৬০ হাজার টাকা ও ১টি মোবাইল সেটসহ অন্তত ৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করে।

সবশেষে রাত সাড়ে ৩টার দিকে একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবুল কালামের বাড়িতে হানা দেয় ওই ডাকাতদল। এ সময় ঘরে থাকা তার স্ত্রী রূপা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আসবাবপত্র ভেঙে ৭ ভরি স্বর্ণ, ১০ ভরি রূপা ও এক লাখ নগদ টাকাসহ প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল লুটে করে পালিয়ে যায় ডাকাতদল।

ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলেও এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় নি। এ ঘটনায় শিলাকোঠা ও সুন্দরীপাড়া গ্রামের মানুষের মাঝে ডাকাত আতঙ্ক বিরাজ করছে।

দোহারে কর প্রদানে অবহেলার অভিযোগে সড়কবাতি সংযোগ বিচ্ছিন্ন

৩টি ওয়ার্ডে কর প্রদানে অবহেলার অভিযোগে দোহার পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সড়কবাতির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে এই লাইট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা শুরু হয়েছে।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নিউজ৩৯-কে জানান, “দোহার পৌরসভার দোহার বাজার, সুতারপাড়া এলাকা নিয়ে গঠিত ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডগুলোতে কর আদায়ের হার শতকরা ১ শতাংশেরও নিচে।  ফলে স্বল্প আয়ের এই পৌরসভার পক্ষে ভর্তুকি দিয়ে দিয়ে এই সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই কতৃপক্ষ বাধ্য হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে।”

দোহার পৌরসভার মেয়র আব্দুর রহিম মিয়াও একই কথা জানান। তিনি বলেন, “বাজেট স্বল্পতার কারনে যেখানে উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না, সেখানে ভর্তুকি দিয়ে এই সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।”

জয়পাড়া কলেজ কর্তৃক খাল দখল

আছিফুর রহমান, নিউজ৩৯.নেট ♦ জয়পাড়া বাজারের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া জয়পাড়া খালের একটি শাখা জয়পাড়া কলেজের পেছন দিয়ে আড়িয়াল বিলে যেয়ে মিশেছে, যা জয়পড়া থেকে আড়িয়াল বিল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের উপকার করে চলছে।

এই প্রয়োজনীয় খালটি এখন দখলের কবলে! সামনে থেকে এই দখলের নেতৃত্ব দিছে বিবেক জাগরণের কেন্দ্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। জয়পাড়া কলেজের অবিবেচক আচরণের কারনে প্রায় অর্ধেক খাল এখন দেয়ালের আড়ালে!

এই খালের উপর কলেজের উত্তর পাশে যেখানে সেতু সেখানে ‘সীমানা দেয়াল’ তৈরির নামে খালের বড় একটা অংশ দখল করেছে সয়ং কলেজ কতৃপক্ষ। খালই যেখানে সীমানা সেখানে প্রাচীর নির্মাণ প্রশ্নবিদ্ধ।

খালের উপর দেয়াল তৈরি করেছে কলেজ। কিন্তু এর দায় তারা সরাসরি চাপিয়ে দিচ্ছে দোহার পৌরসভার উপর।  পৌরসভা অস্বীকার করে পাল্টা দায়িত্ব চাপিয়েছে কলেজের উপর।

এই বিষয়ে নিউজ৩৯-কে জয়পাড়া কলেজের অধ্যক্ষ মোয়াজ্জেম হোসেনে বলেন, “এই খাল দখলের সাথে কলেজের কোন সম্পর্ক নেই। জেলা পরিষদ থেকে এই কাজ করা হয়েছে এবং মূল তদারকিতে তারাই ছিল।“

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন, কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের দায় এরিয়ে গেলেও দোহার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, সীমানা প্রচীরের কাজ জয়পাড়া কলেজের অধীনেই হয়েছে। পরবর্তীতে দোহার পৌরসভা এই ব্যাপারে অভিযোগ জানায়। তিনি আরো জানান, এই দখলকৃত জায়গায় তারা মার্কেট করতে চেয়েছিল।

পৌরসভার আপত্তিতে তারা মার্কেট নির্মান থেকে সরে আসে। মোয়াজ্জম হোসেন আরো জানান, তারা এই খালের দেয়াল ভাংগার জন্য পৌরসভাকে অনুরোধ জানিয়েছেন। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, কাজটা যেহেতু জেলা পরিষদ করেছে তাই এটা ভাঙ্গার এখতিয়ার তাদের নেই। তবে এই দেয়াল ভাঙ্গার ব্যাপারে তারা জেলা পরিষদকে চিঠি দিয়েছে, অচীরেই এই খাল দখল মুক্ত করা হবে। দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিউজ৩৯-কে জানিয়েছেন এই ব্যাপারে তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

কিন্তু এলাকাবাসীর ধারণা ভিন্ন, এই পাল্টাপাল্টি দায় চাপনোর মাধ্যমে দেয়ালটিকে টিকিয়ে রাখার পায়তারা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে জয়পাড়া ও আশেপাশের বেশ কয়েকটি খাল ভরাট ও দখল হয়েছে, যার খেসারত দিচ্ছে এলাকাবাসী। একসময় দোহারের জনগণ জলাবদ্ধতার সাথে পরিচিত ছিল না যার কারণ ওই খালগুলি, এখন তারা বৃষ্টি হলেই ভোগছেন জলাবদ্ধতায়।

জয়পাড়া বাজারে বৃষ্টি হলেই রাস্তা যেন খাল

বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে খাল, চলাচলের উপায় নেই, কাদার কারনে হাটার সুযোগও নেই। এটা কোন অজ পাড়া গাঁ এর রাস্তা না, দোহারের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা জয়পাড়া বাজারের মূল সড়কের অবস্থা।

দোহারের প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়া বাজারের মূল সড়কের এই অবস্থা আজকে নতুন নয়। বিগত কয়েক বছর ধরেই এমন শোচনীয় অবস্থা এই রাস্তার। জয়পাড়া বাজারের ব্রিজ থেকে করম আলীর মোড় পর্যন্ত রাস্তাটি খানা খন্দে ভরপুর।

এই রাস্তা নিয়ে নিউজ৩৯ এ আগেও রিপোর্ট হয়েছে। এর মাঝে একবার সংস্কার শুরু করলেও ডাচ-বাংলা ব্যাংক এর কিছুটা সামনে গিয়ে থেমে যায়। এর গুরুত্ব অনুধাবন করে রাস্তাটি সংস্কারে এগিয়ে আসে নি।

বহুল ব্যবহৃত এই রাস্তায় প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর শিকার হচ্ছে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা। অটো উল্টে যাওয়া নিত্যদিনের সাধারণ ঘটনায় পরিনত হয়েছে।

এই ব্যাপারে দোহার পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী নিউজ৩৯-কে জানান, রাস্তার কাজ ঠিক কবে শুরু হবে তা বলতে পারছি না, স্বল্প বাজেটের কারনে আমরা এই রাস্তা সংস্কার করতে পারছি না।

আব্দুর রহিম মিয়া বলেন,  “দোহার ১ম শ্রেনীর পৌড়সভা হলেও স্বল্প বাজেট ও নাগরিকদের কর প্রদানে অনাগ্রহের কারণে উন্নয়ন কাজ করা যাচ্ছে না। পৌরসভা প্রতি বছর সরকার থেকে মাত্র ৭০ লাখ টাকা পায়, এই টাকা দিয়ে কি উন্নয়ন করা সম্ভব?“

পাঁচ সন্তানের জনক তিন সন্তানের জননীকে নিয়ে উধাও

নবাবগঞ্জে পাঁচ সন্তানের একজন পিতা তিন সন্তানের আরেক জনের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নের হাগ্রাদী  গ্রামে। সমাজের প্রভাবশালী রফিজ মোল্লা নামের ৫০ বছর বয়সের এক ব্যক্তি একই গ্রামের আব্দুল মালেকের স্ত্রী রহিমা বেগমকে (৪০) নিয়ে গত ২৩ মে শুক্রবার পালিয়ে  গেছে। মহিলাটি  দুই সন্তান রেখে এবং এক বছরের এক ছেলে সন্তানকে নিয়েই পালিযে যায়। এর আগে গত ১৭ মে শনিবার রফিজ মোল্লা রহিমার বাবার বাড়ি মনিকান্দা গ্রামে দুপুর বেলা আপত্তিকর অবস্থায় পরিবারের লোকদের কাছে ধরা পড়ে। সেসময় গ্রামের লোকজন আটকের পর তাকে বেদম পিটিয়েছিল। বিষয়টি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনাটি  ধামাছাঁপা দেয়ার জন্য এলাকার স্থানীয় নেতারা একটা মিমাংশা করে দেয়। কিš‘ তাতে কোন কাজ হয়নি। কিন্তু আবার পাঁচ দিন পরই দুজন উধাও।

রফিজের তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে এক ছেলে ও এক মেয়ে বিবাহিত। অবশ্য কিছু দিন আগে ছেলের স্ত্রীও স্বামীর সংসার আর করবে না বলে পিতার বাড়িতে চলে গেছে। জনসাধারণের মন্তব্য, এ রকম পূত্রবধু ঘর করবেই বা কেমন করে! যদি এমন শশুর বাড়িতে থাকে। এসব ঘটনা ঘটার পেছনে কারন হলো সমাজের প্রভাবশালী লোকজন অনৈতিক কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে এবং তার কোন সঠিক বিচার হয় না। ফলে নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে এরকম ব্যক্তিরা এই সুযোগে সমাজকে কুলশিত করছে।