দোহারে পদ্মা ভাঙ্গন রোধে মানববন্ধন

ঢাকার দোহার উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষার দাবিতে দোহার নবাবগঞ্জ নাগরিক ফোরাম মানববন্ধন করেছে।শনিবার দুপুর ১২টায় নয়াবাড়ী ইউনিয়নের ধোয়াইর নদীর পাড়ে এ কর্মসূচী পালন করা হয়।

সংগঠনের সমন্বয়ক মুক্তিযোদ্ধা এবি সিদ্দিক মোল্লা বলেন, প্রতি বছর নদী ভাঙনে শত শত পরিবার গৃহহারা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ওয়াদা গত ৬ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি অনতি বিলম্বে পদ্মা রক্ষা বেড়ীবাঁধ তৈরী করে দোহার নবাবগঞ্জের হাজারো পরিবারকে ভাঙন থেকে রক্ষার দাবি জানান

সংগঠনের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান বলেন, পদ্মা ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা ও বেড়ীবাঁধ নির্মাণের দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি পেশসহ সামাজিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

নদী ভাঙ্গন কবলিতদের মাঝে বিএনপির ত্রান বিতরণ

নিউজ৩৯♦ বর্ষার মাঝামাঝিতে রুদ্র রুপ ধারন করেছে পদ্মা নদীর ভাঙ্গন। ঈদের আনন্দ ফিকে হয়ে যাচ্ছে পদ্মা পাড়ের মানুষেরা। ক্রমাগত নদী ভাঙ্গনের শিকার এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নাই। তবে ঈদ উপলক্ষে তাদের পাশে এসে দাড়িয়েছে ঢাকা জেলা বিএনপি।

শুক্রবার তাদের মাঝে ত্রান বিতরন করেছে ঢাকা জেলা বিএনপি। নয়াবাড়ি ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গনের শিকার ২৫০ পরিবারের মাঝে চাল বিতরন করে ঢাকা জেলা বিএনপি। 

বর্ষার শুরুতে ভাঙ্গনের শুরু হয় পদ্মা পাড়ের। প্রতি বছরের মতো এবারও ধীরে ধীরে ভাঙ্গনের তীব্রতা বাড়ছে। নয়াবাড়ি, কুসুমহাটি, মুকসেদপুর, নারিশায় ভাঙ্গছে পদ্মা পাড়। এই পদ্মা পাড়ের মানুষের সহায়তা করার জন্য নয়াবাড়ি ইউনিয়নে ঢাকা জেলা বিএনপির উদ্যোগে ত্রান বিতরন করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান, নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক, জাসাস এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি সালাউদ্দিন মোল্লা, নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবেদ হোসেন আবেদ, বিএনপি নেতা মনির হোসেন রানা, সানাউল্লাহ সানু সহ স্থানিয় বিএনপি নেতা কর্মীরা।     

নবাবগঞ্জে নিজের পিস্তলের গুলিতে নিহত

নবাবগঞ্জ উপজেলার চুড়াইন ও গালিমপুর ইউনিয়নের  পুলিশ ও র‍্যাবের তালিকাভূক্ত আসামি বাবু মোল্লা ওরফে ফিটিং বাবু (৩৬)  নিজ পিস্তলের গুলিতে নিহত হয়েছে। গত বছরও বাবু’র ভাই বাচ্চু মোল্লাকে জবাই করে হত্যা করে একদল সন্ত্রাসী। বাবু মোল্লা উপজেলার চুড়াইন ইউনিয়নের মোসলেম হাটি গ্রামের আব্দুস সালাম মোল্লার ছেলে।

নিউজ৩৯-কে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টার দিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার মরাডাঙ্গি এলাকায় ছিনতাইকালে মোটরসাইকেল আরোহীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে দোহার উপজেলার সাবেক জয়পাড়া ইউনিয়নের মেম্বার হারুন মেম্বারের ছোট ছেলে শওকত (২২) তার বান্ধবীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে নবাবগঞ্জের উদ্দেশে যাচ্ছিলো। উপজেলার মরাডাঙ্গি এলাকায় আসলে বাবু ও তার লোকজন মোটরসাইকেলটি ছিনতাই করার চেষ্টা করে।

এসময়ে সওকতের সঙ্গে বাবুর ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে বাবুর কাছে থাকা পিস্তলের গুলি বের হয়ে বুকে লাগে। ঘটনাস্থলেই বাবুর মৃত্যু হয়। এসময় শওকত বাবুর সহযোগীদের বেদম প্রহারে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। আহত সওকাত ও তার বান্ধবীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ নিহত বাবুর ছোট ভাই রাজিব মোল্লা নিউজ৩৯-কে জানান, তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) সাইদুর রহমান জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, বাবুর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুইটি পরোয়ানাও রয়েছে। তবে যে পিস্তলের গুলিতে বাবু নিহত হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্ত শেষে ঘটনার মূল রহস্য নিশ্চিত হওয়া যাবে।  

ঈদ উপলক্ষ্যে দোহারে পুড়লো ৬ কোটি টাকার পটকা

দোহারবাসি আগে যা দেখে নি; এবার দেখলো তা !! পটকা ও বাজির শব্দে ঈদের আনন্দ উৎসব মুখর হলেও পরবর্তীতে তা রুপ নিয়েছে বিরক্তি ও ক্ষোভের। একটানা বিরিতীহীন (এক সেকেন্ডের জন্যও থামেনি) চলেছে এই পটোকাবাজী। আর দুষ্টুমীর ছলে মানুষের উপর নিক্ষেপ করা এই পটকাবাজিতে আহত হয়েছেন ও কেউ কেউ। আবার কোন কোন স্থানে হাতাহাতি-মারাম্রির ঘটনাও ঘটেছে।

আর এতে ঈদের আগের রাত অর্থাৎ চান রাতের দিন শুধু এক দোহার থানায়-ই পুড়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকার পটকা। চান রাতের দিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু করে ঈদের প্রথম জামায়াত সকাল ৮টা পর্যন্ত বিরতিহীন চলে এই পটকা বাজি। দোহার পৌরসভাসহ ৮টি ইউনিয়নে একই ভাবে পুড়েছে এই ৬ কোটি টাকার বাজি।

দোহার উপজেলার লটাখোলা গ্রামের কমল হাসান নামক এক ব্যাক্তি নিউজ৩৯ কে বলেন, ভাই- এর কি কোন প্রতিকার নাই। এই মাঝ রাতেও ঘুমাতে পারছি না পটকার শব্দে। মনে হচ্ছে যুদ্ধ আক্রান্ত ফিলিস্তিনের গাজা-তে আছি। হার্টের রোগী থাকলেতো ভাই মারা যাবে। আর এটা কি ধর্মের সৌন্দর্য অমুসলিমদের নিকট নষ্ট করছে না?

নিউজ৩৯ এর অনুসন্ধানে দেখা যায়, সময় ও টাকার আনুপাতিক গড় হিসাবে চাঁদ রাতের দিন ৬ কোটি টাকারও উপরে অর্থাৎ প্রায় সাড়ে সাত থেকে আট কোটি টাকার পটকা ফুটেছে। নবাবগঞ্জ উপজেলার সাদাপুর গ্রামের এক পটকা বিক্রেতা জানান, তিনি শুধু ঈদের আগের ৩ দিনেই প্রায় ৩০ লাখ টাকার পটকা বিক্রি করেছেন।

দোহারে প্রায় ২০০ টি হট স্পটে হরদম পটকা বিক্রি হয়েছে। সরকারের থেকে নিষেধ থাকলেও প্রশাসন ছিল একেবারেই নিশ্চুপ-নির্বিকার। জনসাধারণের মনে বিষয়টি নিয়ে বলেছেন, যখন ফিলিস্তিনের গাঁজা যুদ্ধাক্রান্ত, যখন একে একে পদ্মার ভানগনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে দোহার উপজেলা; তা নিশ্চিতভাবে বাড়াবাড়ী ও অর্থের ব্যাপক অপচয়। শুধু এই কয়টা টাকা দিয়েই হয়তো বা হাসি ফুটানো যেত নদী ভাঙ্গনে নিঃস্ব মানুষের। অভিভাবকদের নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধির সাথে সাথে সচেতন হওয়ার ও পরামর্শ দিয়েছেন সবাই। 

নবাবগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

আসিফ শেখ♦ নবাবগঞ্জ উপজেলায় নাজমা বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী আছলাম (৪০) শ্বশুর আনছার আলী (৬০) দেবর সালামকে (৩০) আটক করছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ।

সোমবার রাতে শোল্লা ইউনিয়নের উলাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গৃহবধূ নাজমার পরিবার নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ গৃহবধূর স্বামী আছলাম (৪০) শ্বশুর আনছার আলী (৬০) দেবর সালাম (৩০) আটক করে।

সোমবার রাত ১টার দিকে নাজমাকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন অসুস্থ্য অবস্থায় নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত নাজমার ভাই আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, কিছু দিন আগে বোনের জামাই আছলাম জমি কেনার জন্য টাকা চাইলে তাকে ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়। কিন্তু আছলাম আরো ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ টাকা না দেয়ায় আছলাম তার বোন নাজমাকে নির্যাতন করে আসছিলো।

তার অভিযোগ তার বোনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. আরিফ কায়সার জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশের গলা ও গালে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামীসহ তিন জনকে আটক করা হয়েছে।

ঈদ সামনে রেখে নবাবগঞ্জে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা তৎপর

আসিফ শেখ♦ বাংলাদেশের অন্যতম রেমিট্যান্স অর্জনকারী ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জের দুই উপজেলা। এই এলাকার বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী প্রবাসী। আর ঈদ সামনে রেখে নবাবগঞ্জে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈধ পথে এসব টাকা না পাঠিয়ে প্রবাসী প্রতিনিয়ত টাকা পাঠাচ্ছে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসায়ীদের হাতে। আর প্রশাসনের চোখের আড়ালে ব্যাপকহারে চলছে জমজমাট হুন্ডি ব্যবসা। হুন্ডি ব্যবসা এ অঞ্চলের একটি অত্যন্ত পুরনো অবৈধ ব্যবসা। এ ব্যবসা যদিও অবৈধ কিন্তু নবাবগঞ্জে অবাধে চলছে যুগ-যুগ ধরে।

নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়নের প্রবাসী শ্রমজীবি মানুষ সৌদিআরব, দুবাই, কাতার, বাহরাইন, ওমান, সিঙ্গাপুর ও মালেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চাকুরীসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে প্রবাস জীবনযাপন অতিবাহিত করছে। এসব প্রবাসী সাংসারিক খরচসহ নানা প্রয়োজনে দেশে টাকা পাঠান। নিয়মানুসারে প্রাবাসীরা ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের অর্থ দেশে পাঠানোর কথা। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যেসহ বিভিন্ন দেশে সারাদিন হাড় ভাঙা পরিশ্রম করে সেখানে দেশে টাকা পাঠাতে লাইনে দাঁড়িয়ে ড্রাফট বানাতে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। ফলে নানামুখী বিড়ম্বনা ও হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রবাসীরা হুন্ডিকে অর্থ প্রেরণের সহজ মাধ্যম হিসাবে বেছে নেয়।

হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে নবাবগঞ্জে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন হলেও সরকারের কোষাগারে এক কানাকড়িও রাজস্ব জমা পড়ছেনা। এ ধরণের হুন্ডি ব্যবসা চলতে থাকলে সরকার হারাবে বিপুল পরিমান রাজস্ব আর প্রতারিত হবে প্রবাসী পরিবারের লোকজন। হুন্ডি ব্যবসায়ীরা এ এলাকাকে হুন্ডির স্বর্গরাজ্যে পরিনত করেছে। হুন্ডি ব্যবসার সাথে যারা জড়িত:  কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে হুন্ডি ব্যবসা করে নবাবগঞ্জের এমন ৯ জনের নাম বিশেষ সূত্র প্রকাশ জানিয়েছে ফোন ও ফেজবুকের মাধ্যমে। যেসব সূত্র থেকে যানা গেছে তারাই প্রতিমাসে এসব হুন্ডি কারবারিদের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠায়। যারা যানিয়েছে তারা কেউ নিজেদের নাম প্রকাশে অগ্রহী নয়।

যাদের নামে অভিযোগ পাওয়া গেছে তারা হলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের বকচর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী মোবারক খাঁ ও তার ভাই হানিফ খাঁ, নয়নশ্রী ইউনিয়নের বিলপল্লি গ্রামের কুয়েত প্রবাসী মো. সামাদ, শিকারীপাড়া ইউনিয়নের সুজাপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আল-আমীন, শিকারীপাড়া ইউনিয়নের সুজাপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী মো. রফিজ। গালিমপুর ইউনিয়নের সোনাহাজরা গ্রামের সৌদি প্রবাসী আতাহার, গালিমপুর ইউনিয়নের সোনাহাজরা গ্রামের সৌদি প্রবাসী সোলাইমান, চুড়াইন ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী সেলিম, বক্সনগর ইউনিয়নের চক বক্সনগর গ্রামের সৌদি প্রবাসী জবরুল। দেশে থেকে যারা টাকা বিলি করেন তারা হলেন, কুয়েত প্রবাসী মোবারক খাঁ ও তার ভাই হানিফ খাঁর টাকা বিলি করেন তার পিতা মিলন খাঁ, কুয়েত প্রবাসী সামাদের টাকা বিলি করেন তার স্ত্রী, কুয়েত প্রবাসী আল-আমীনের টাকা বিলি করন তার ভাই রোমান, কুয়েত প্রবাসী রফিজের টাকা বিলি করেন তার স্ত্রী তাছলিমা। সৌদি প্রবাসী আতাহারের টাকা বিলি করেন তার স্ত্রী নুরনাহার, সৌদি প্রবাসী সোলাইমানের টাকা বিলি করেন তার ভাই সুজন, সৌদি প্রবাসী সেলিমের টাকা বিলি করেন তার ভাই রানা, সৌদি প্রবাসী জবরুলের টাকা বিলি করেন তার ভাই আব্দুল খালেক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিকারীপাড়া ইউনিয়নের মনিকান্দা গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রী জানান, ব্যাংকে টাকা পাঠালে তা উত্তোলন করতে বান্দুরা যেতে হয়। আর হুন্ডির মাধ্যমে টাকা দিলে ঘরে বসে সহজেই পাওয়া যায়। 

চর খলসি গ্রামের নুরজাহান বেগম বলেন, আগে ছেলে ব্যাংকে টাকা দিতো আমি বুড়া মানুষ ব্যাংকে টাকা আনতে গেলে অনেক কষ্ট হয় এখন আমার ছেলে টাকা কার কাছে জানি দেয় সে প্রতিমাসে টাকা বাড়িতে দিয়ে যায়। 

এসব হুন্ডি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে থানার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন সমঝোতার কথাও মানুষের মুখে মুখে প্রচারিত রয়েছে। রয়েছে দায়িত্বশীল প্রশাসনের সঙ্গে বোঝাপরা। দায়িত্বশীল প্রত্যেকের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে হুন্ডি ব্যবসায়ী চক্র দেদারসে ব্যবসা করছে বলেও খবর প্রচারিত আছে। গুটি কয়েক হুন্ডি ব্যবসায়ীদের হাতে বর্তমানে নবাবগঞ্জের পশ্চিম অঞ্চলের অধিকাংশ জনগণ নির্ভর হয়ে পড়েছে। আমাদের দেশে আমদানী ও রপ্তানী ব্যয়ে যে ঘাটতি থাকে তার জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করে প্রবাসী আয়। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, প্রতি বছরই রপ্তানীর থেকে আমদানি বেশি হয়। সেই ঘাটতির অর্থায়নে যায় প্রবাসীদের অর্থ।

হুন্ডিবাজ মহারাজরা ঘুণেধরা পোকার মতো ভিতর হতে খেতে খেতে অর্থনীতির সর্বনাশ করছে। যারা এ অপরাধের সাথে জড়িত তারা দেশ ও জাতির শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে বহু আগেই সাঁড়াশি অভিযান চালানো বাঞ্ছনীয় ছিল। এরাই প্রবাসীদেরকে প্রভাবিত করে অবৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণে উদ্বুদ্ধ করে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসনের সাথেও এলাকার হুন্ডি ব্যবসায়ীদের রয়েছে গভীর সম্পর্ক।

তাই হুন্ডি ব্যবাসায়ীরা খুব সহজেই আইনের ফাঁক থেকে পার পেয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। 

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সায়েদুর রহমান নিউজ৩৯কে বলেন, হুন্ডি ব্যবসার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

তুচ্ছ বিষয় নিয়ে হামলাঃ পাঁচ লক্ষ টাকা লুটের অভিযোগ

ফয়েজ ইমরান, নিউজ৩৯.নেট :: দোহার উপজেলার বাস্তা গ্রামে  মেয়েলী বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে প্রতিপক্ষের বাড়ীতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচ লক্ষ টাকা লুট হয়েছে বলে  অভিযোগ করেছে আক্রান্তের পরিবার।

নিউজ৩৯ কে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার ইফতার শেষে বাস্তা গ্রামের মতি মোল্লার ছেলে ইমরান এবং নেরু খাঁ এর ছেলে নাজু; মোরাদ হোসেনের বাড়ীর সামনে মেয়েলী বিষয় নিয়ে আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় মোরাদ হোসেনের ছোট ছেলে রাসেল তাদেরকে সরে যেতে বললে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ইমরান ও নাজু রাসেল মারধর করে। এতে রাসেল উত্তেজিত হয়ে তার সহযোগীদের একত্রিত করে নাজু ও ইমরানকে পালটা মারধর করে। এর জের ধরে তার ৮.৩০ টার দিকে নাজুর নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একটি দল রাসেলদের বাড়ীতে হামলা চালায়। বাড়ীতে তাকে না পেয়ে তারা নির্বিচারে ভাংচুর করে, এবং রাসেলের মা’কে মারধর করে ও প্রাণনাশে হুমকি দেয়। এ সময় তারা ঈদ উপলক্ষ্যে ঘরের থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৫ লক্ষ টাকা লূট করে বলে আহতের পরিবার অভিযোগ করে।

এ ঘটনায় রাসেলের বড় ভাই ফয়সাল বাদী হয়ে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলার ধারা নং ১৪৩/৪৪৮/৪২৭/৩৭৯/৩২৩/৫০৬ । বিষয়টি’র সত্যতা শিকার করেছেন দোহার থানার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই হারুন । মামলার আসামীরা হলেন নাজু(৩০), ইমরান(২০), লিয়ন(২২), ইমরান(২২), খায়রুল(২২), সবুজ(২২), সালাহউদ্দীন(২৪), দেলোয়ার(২৫), রবিউল ও অজ্ঞাতনামা ৬ জন।

 

নয়নশ্রীতে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন

আসিফ শেখ, নিউজ৩৯.নেট ♦ যৌতুকের দাবিতে নবাবগঞ্জে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে স্বামী মো. সোহেল মিয়াকে (৩০) গ্রেফতার করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। স্ত্রী উম্মে সায়িবা (২০) নবাবগঞ্জ থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

আটককৃত সোহেল মিয়া নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের বাংলা বাজার-ঘোষপাড়া গ্রামের মো. হারুন মিয়ার ছেলে।

নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহাগ রানা জানান, “যৌতুকের দাবিতে মো. সোহেল মিয়া বেশ কয়েকদিন যাবৎ স্ত্রীকে মারধর, এসিডে ঝলসে দেওয়া, অশ্লীল ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। স্ত্রীর অভিযোগে শুক্রবার দুপুরে নবাবগঞ্জ বাজার থেকে সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার সকালে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।”

আপডেট: ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর অভিযুক্ত সোহেল মিয়া নিউজ৩৯-কে তার বক্তব্য জানান। তার বক্তব্য-

“আমি আমার স্ত্রীকে ১১ মাসে ৬,৩৯,২৯৭ টাকা নগদ দিয়েছি এবং ৮ ভরি স্বর্ণ দিয়েছি। আপনি যদি ব্যাংকের কাগজপত্র দেখতে চান আমি দেখাতে পারব। আর স্বর্ণের মধ্যে নেকলেস আছে সাড়ে ছয় ভরি, কানের দুল ১.৫ ভরি ও আংটি ০.৫ ভরি। এই জিনিসগুলো আত্মসাৎ করার জন্য ওরা আমার নামে মিথ্যে মামলা দিয়ে মানুষকে বোঝাতে চায় আমি একটা দুঃচরিত্র লম্পট। আসলে এটা মিথ্যে। আর আমার মাসিক আয় আছে প্রায় ৭০/৮০ হাজার টাকা। আমি কেন যৌতুক চাইতে যাব আপনি বলেন?

শুধু তাই নয় ওর বড় বোনেরও একইরকম ইতিহাস রয়েছে। ওর বড় বোনের স্বামীর কাছ থেকেও এভাবে টাকা আত্মসাৎ করেছে। এই তথ্য আমার ভায়রা ভাই আমাকে দেয়ার পর আমি সব জানতে পারি।

আর এর মধ্যে আমার মা অসুস্থ হয়ে পড়ে, আমি কিছু টাকা চাই, তাতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এরপর আমি বাড়ী চলে আসি।

আমার স্ত্রীকে আনার জন্য গেলে আমাকে দেখা করতে না দিয়ে তারা বিভিন্ন হুমকি দিয়ে ফেরত পাঠায়। পরে আমাদের মুরুব্বিদের নিয়ে ওদের গ্রামের মুরুব্বীদের কাছে গেলে আমাদের প্রত্যাখ্যান করে। এর পর আমরা পুলিশে অভিয়োগ করলে পুলিশ তাদের ডাকে। কিন্তু তারা থানায় না এসে কোর্টে গিয়ে আমার নামে মিথ্যে মামলা দায়ের করে, এবং আমাকে গ্রেফতার করে। “

ডাকাতির প্রস্তুতির সময় ৪ ডাকাত গ্রেফতার

ডাকাতির প্রস্তুতির সময় পুলিশের টহল দলের কাছে গ্রেফতার হয়েছে ডাকাতদলের ৪ সদস্য। দোহার থানার এ.এস.আই রফিকুল ইসলাম লিটন এই ডাকাতদের গ্রেফতার করা হয়।

শুক্রবার রাত ১২.২০ টায় বাশতলার নাগের কান্দায় টহল দেয়ার সময় সন্দেহভাজন ৪ জনের গতিরোধ করে চেক করা হলে তাদের কাছে দেশীয় অস্ত্র ও কিছু মোবাইল পাওয়া যায়। এসময় তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় তারা পাশের একটা বাসায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলো।

গ্রেফতারকৃত ৪ জম হলো শরীয়তপুরের রহুল আমিন(২৩),জামালপুরের আ. রশিদ(৩৫), বরিশালের ইস্রাফিল(২৮),  পটুয়াখালীর মোশারফ(৩৫)। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ড বিধিতে ৩৯৯/৪১২ মামলা করা হয়। মামলা নং ৪। এ.এস.আই রফিকুল ইসলাম লিটন বাদি হয়ে এই মামলা করেন।   

ফিলিস্তিনে হত্যার প্রতিবাদে দোহারে বিক্ষোভ মিছিল

সবুজ/তানজিম: “ফিলিস্তিনে হামলা কেন, আমার ভাই মরল কেন, জাতিসংঘ জবাব চাই। ইসরাইল আগ্রাসন বন্ধ কর , করতে হবে; বিপন্ন মানবতা লুপ্ত কেন, বিশ্ববিবেক জবাব চাই।” শ্লোগানে- প্রতিবাদে ঢাকা জেলার দোহারেওবিক্ষোভ মিছিল হয় । ওলামা – মাশায়েখ পরিষদের উদ্দোগ্যে সকল দলমত নির্বিশেষে শুক্রবার বাদ জুম্মা উপজেলা মসজিদ থেকে এ বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি জয়পাড়া বাজার ও বাজার মসজিদ প্রদক্ষিণ করে জয়পাড়া কলেজ মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত পথসভার মাধ্যমে শেষ হয় ।

এসময় বক্তারা বলেন ,সারা পৃথিবীর সকল মানুষকে ইসরাইলী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে । ইসরাইলী পণ্য বর্জনের মাধ্যমে ইসরাইলের উপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে হবে । আসুন আমরা সর্বত্বঃভাবে ইসরাইলের উপর চাপ প্রয়োগ করি , ঘৃণা করি । মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া এই অবৈধরাষ্ট্রকে উচ্ছেদ্বের জন্য আন্তর্জাতিক মহলে নিকট আহবান জানান ।