দীর্ঘ দিনেও উচ্ছেদ হয় নি কলেজ মোরের অবৈধ বাসস্ট্যান্ড

তানজিম ইসলাম, নিউজ ৩৯.নেট ♦ পৌর মেয়রের আশ্বাসের পরেও উচ্ছেদ হয় নি জয়পাড়া কলেজের সামনে অবস্থিত অবৈধ বাস স্যান্ড। পৌর সভার সাইনবোর্ড এর সামনেই রাখা হচ্ছে বাস।

দোহার পৌরসভার মেয়র আব্দুর রহিম মিয়া আশ্বাস দিয়েছিলেন রমজানের আগেই উচ্ছেদ করা হবে এই বাস স্যান্ড অথচ রমজানের ঈদ পার হয়ে গেলেও র্দীঘ দিনেও উচ্ছেদ করা হয় নি। এখানে বাস রাখার ফলে প্রতি নিয়তই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট যার শিকার স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা ও সাধারণ জনগণ।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র বরাবরের মত এবারও বলেন, “আমরা নোটিশ দিয়েছি, তারা না উঠলে আমারা কি করব?এ ব্যাপারে আমি কাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে আইনগত ব্যাবস্হা নেব।“

আজ বিশ্ব হাতি দিবস

আজ বিশ্ব হাতি দিবস, হাতি রক্ষায় জনসচেতনতা রক্ষা করা এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য। জেনে নিই হাতি সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য:

আপনি জানেন কি…

পৃথিবীতে দুই প্রজাতির হাতি আছে, এশিয়ান হাতি ও আফ্রিকান হাতি,  যদিও শারিকরিকভাবে দেখতে প্রায় একইরকম তবু এদের মধ্যে জৈবিক পার্থক্য রয়েছে।

তৃতীয় প্রজাতি?

সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে বনচারী আফ্রিকান হাতি জেনেটিক্যালী স্বতন্ত প্রজাতি, যা হাতির তৃতীয় প্রজাতি।

এশিয়ান হাতি

পৃথিবীতে এখন ৪০,০০০ এর কম এশিয়ান হাতি আছে।

আফ্রিকান হাতি

পৃথিবীতে ৪,০০,০০০ এর কম আফ্রিকান হাতি (বন ও তৃণভূমি) বেঁচে আছে।

এশিয়ান হাতি ও আফ্রিকান হাতির পার্থক্য:

  • লম্বায় সাধারণত এশিয়ান হাতি ৬-১১ফুট হয়ে থাকে আর আফিকান হাতি হয় ৬-১৩ ফুট।
  • গড় ওজন এশিয়ান হাতির যেখানে ২-৫ টন, আফ্রিকান হাতির সেখানে ২-৭ টন। 
  • এশিয়ান হাতির গায়ের রং বেশ ফর্সা ও মসৃণ তুলনা মূলকভাবে আফ্রিকান হাতির গায়ের রং কালসেটে ও কুচকানো।
  • কানের আকৃতি নিশ্চত প্রমাণ দেয় কোনটা আফ্রিকান আর কোনটা এশিয়ান। আফ্রিকান হাতির আছে প্রকান্ড কান যা দিয়ে প্রচন্ড গরমে বাতাস করে নিজের গা নিজেই জুড়িয়ে নিতে পারে। পক্ষান্তরে এশিয়ান হাতির আছে ছোট কান। 
  • পেটের আকৃতিতেও দেখা যায় ভিন্নতা। এশিয়ান হাতিদের পেট গলা থেকে নীচের দিকে অনেকটা সমান। আর আফ্রিকানদের বেলায় গলা থেকে পেট ক্রমান্বয়ে নীচের দিকে ঝুলে আসে। 
  • এশিয়ান হাতিদের বুকের পাঁজরের হাড় এক জোড়া কম অর্থাৎ আফ্রিকান হাতির রয়েছে ২১ জোড়া হাড় আর এশিয়ান হাতির ২০ জোড়া।
  • আফ্রিকান স্ত্রী পুরুষ উভয় হাতির প্রলম্বিত দাঁত আছে কিন্তু এশিয়ান হাতিদের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষ হাতিদের এই দাঁত দেখা যায়। 
  • এশিয়ান হাতির শুড় তুলনামূলক একটু শক্ত ও শুড়ের শেষ প্রান্ত একদিক সামান্য বেড়িয়ে থাকে আঙ্গুলের মত। যা তাকে যে কোন জিনিস শক্ত ভাবে ধরতে সাহায্য করে। আফ্রিকান হাতিদের শুড়ের শেষ প্রান্তে দু’দিক বেড়িয়ে থাকে।
  • খাদ্য পছন্দের তালিয়ায় এশিয়ান হাতিরা বেশি পছন্দ করে ঘাস পক্ষান্তরে আফ্রিকান হাতির পছন্দ পাতা।

 

একটি হাতির আয়ুষ্কাল কিন্তু খুব বেশি নয় মাত্র ৬০ -৭০ বছর।

বাংলাদেশে হাতি:

বাংলাদেশের স্থায়ী বন্যহাতির আবাসস্থল হচ্ছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি। এর মধ্যে চট্টগ্রামের চন্দনাইনা, বাঁশখালী, পটিয়া ও রাঙ্গুনিয়া; কক্সবাজারের কাসিয়াখালি, রামু, উখিয়া ও টেকনাফ; বান্দরবানের লামা ও আলিকদম; রাঙ্গামাটির কাউখালি, কাপ্তাই ও লংদু এবং খাগড়াছড়িসহ দেশের ১১টি বনবিভাগে এদের বিচরণ করতে দেখা যায়।

ড. রেজা খানের জরিপ অনুযায়ী, ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে বন্যহাতির সংখ্যা ছিল ৩৮০টি। ২০০০ সালে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ডের গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে বন্যহাতির সংখ্যা ২৩৯টি। সর্বশেষ ২০০৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন)-এর করা জরিপে পাওয়া যায় ২২৭টি। উল্লিখিত পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্টত বোঝা যায়, বাংলাদেশে হাতির সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। 

বাংলাদেশের হাতি এশিয়ান প্রজাতির। আইসিইউএনের দেয়া তথ্যানুযায়ী বনবিভাগের চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলে হাতি আছে ৩০ থেকে ৩৫টি, কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বিভাগ মিলিয়ে আছে ৮২ থেকে ৯৩টি। বান্দরবানে আছে ১২ থেকে ১৫টি এবং লামা বিভাগে আছে ৩৫ থেকে ৪০টি হাতি। এছাড়া কক্সবাজার উত্তর বিভাগে আরো ৭ থেকে ৯টি এবং দক্ষিণ বিভাগে ৩০ থেকে ৩৫টি হাতি রয়েছে। আর অভিবাসী হাতির সংখ্যা ৮৪ থেকে ১০০টি। 

বাংলাদেশে হাতি কমে যাওয়ার ৯টি কারণ আইইউসিএনের গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বনাঞ্চল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া, খাদ্য সংকট, চলাচলের পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়া, যত্রতত্র জনবসতি গড়ে ওঠা এবং চোরাশিকারিদের নিষ্ঠুরতাসহ আরো কয়েকটি কারণ। তবে ভয়ঙ্কর হচ্ছে চোরাশিকারিদের উপদ্রব। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত শুধু বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার ৬টি উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে দাঁত ও হাড়গোরের জন্য ৩২টি হাতি হত্যা করা হয়। সুতরাং হাতি রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। 

নবাবগঞ্জে সাপের কামড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু

আসিফ শেখ, নিউজ৩৯.নেট ♦ নবাবগঞ্জ উপজেলায় মঙ্গলবার রাতে সাপের কামড়ে আমেনা খাতুন (৬১) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। আমেনা খাতুন উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামে মুনছের আলীর স্ত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আমেনা খাতুন রাতে তার ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ১ টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে সাপে কামড় দেয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে না নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় । সাপে কামড়ের আধা ঘন্টা পর আমেনা খাতুনের মৃত্যু হয়।

নবাবগঞ্জে ছাত্রলীগের হামলার শিকার পুলিশ কর্মকর্তা

নবাবগঞ্জে ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে থানা ফটকের সামনে বেদম প্রহারের শিকার হয়েছে মো. লিয়াকত আলী (৪৫) নামে এক পুলিশের উপ-পরিদর্শক।

মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মো. সাজু নামে একজনকে আটক করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সাদাপুর এলাকায় বিরোধকৃত জমিতে দেয়াল নির্মান করা হচ্ছিল। প্রতিপক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ কাজে বাঁধা দেয়। এ সময় ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান রনির নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী পুলিশের কাজে বাঁধা দেয়।

পুলিশ কয়েকজন নির্মান শ্রমিককে আটক করলে রনি তাতেও বাঁধা দেয়। ওই সময় পুলিশ রনিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসলে নবাবগঞ্জ থানার ওসি সায়েদুর রহমান রনিকে ছেড়ে দেন। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ক্ষিপ্ত হয়ে থানার গেইটের বাইরে হাতে লাঠি নিয়ে অবস্থান করে।

বিকালে এসআই লিয়াকত আলী পোশাক পরিহিত অবস্থায় মটরসাইকেল নিয়ে গেইটের বাইরে এলে তার মটর সাইকেল থামিয়ে এলোপাথারী পিটাতে থাকে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ছাত্রলীগ কর্মীরা পালিয়ে যায়।

আহত অবস্থায় এসআই লিয়াকতকে প্রথমে নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। তার অবস্থা আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে রনির সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাইফুল ইসলাম বলেন, “ ছাত্রলীগের কেউ এ ঘটনায় জড়িত নয়। ছাত্রলীগকে হেয় করতে কিছু দুষ্কৃতকারী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। “

নবাবগঞ্জ থানার ওসি সায়েদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,” দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অন্যায় ভাবে পুলিশকে আঘাত করা হয়ছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।“

কবি গুরু সমীপে

আমার ক্ষুদ্র মানব জীবনে যে কজন বাঙ্গালী মানব প্রভাব বিস্তার করিয়াছে তাহার ভিতর রবি বাবু অন্যতম। রবি বাবুর সহিত প্রথম পরিচিতি লাভ হয় আমার চার কি পাঁচ বৎসর বয়সে “আমাদের ছোট নদী” কবিতার মধ্য দিয়া।

কালের পরিক্রমায় সেই “ছোট নদী” কবিতা ছাড়াইয়া রবি বাবুর ছোট গল্প, উপন্যাস, নাটক, গীতিনাট্যে বিচরণ করিয়াছি। আর মনের অজান্তেই প্র্রেয়সীর পট আঁকিয়াছি রবি বাবুর “চারুলতা” চরিত্রটি দিয়া। সময় গতি যতই গড়াইয়াছে ততই মনপ্রকোষ্ঠের প্রতি কোণে আঁকিয়া গিয়াছি তাহাকে। প্রতিটি মূহুর্ত খুঁজিয়া ফিরিয়াছি তাহারে। মোর “মনদূয়ারী” তে কেহ কড়া নাড়িলে মিলাইয়া লইয়াছি সে “চারুলতার” সহিত কতটুকু খাপ খাইয়া থাকে। কোন মোহনিয়াকে দেখিয়া মন সামান্য আন্দোলিত হইলেও কবি গুরুর সেই নারী চরিত্রের সহিত মিলকরণ কখনো বন্ধ হয় নাই।

দীর্ঘকাল পরে কোন এক চৈত্রের সাঁজ বেলায় সম্পুর্ন অলৌকিকভাবে দেখা পাইয়া যাই মোর “চারুলতার”। একটি ছবির সামনে সে দাঁড়াইয়া ছিল। প্রথম দর্শনেই মোর মন গাহিয়া উঠিয়াছিল-

“আমারো পরাণ যাহা চায় তুমি তাই, তুমি তাই গো…।”

মোর মনের অবস্থা হইয়াছিল রবি বাবুর ভাষায়:

“সেই সুধাকণ্ঠের সোনার কাঠিতে সকল কথা যে সোনা হইয়া ওঠে। মেয়েটির সমস্ত শরীর মন যে একেবারে প্রাণে ভরা, তার সমস্ত চলায় বলায় স্পর্শে প্রাণ ঠিকরিয়া ওঠে। তাই মেয়েরা যখন তার মুখে গল্প শোনে তখন, গল্প নয়, তাহাকেই শোনে; তাহাদের হৃদয়ের উপর প্রাণের ঝরনা ঝরিয়া পড়ে। তার সেই উদ্ভাসিত প্রাণ আমার সেদিনকার সমস্ত সূর্যকিরণকে সজীব করিয়া তুলিল; আমার মনে হইল, আমাকে যে প্রকৃতি তাহার আকাশ দিয়া বেষ্টন করিয়াছে সে ঐ তরুণীরই অক্লান্ত অম্লান প্রাণের বিশ্বব্যাপী বিস্তার।”

মোর চারুলতা ষোড়শী নহে, তরুণী। তবুও তাহার সৌন্দর্যের বর্ণনায় এই উপমা যেন শুধু তাহার ক্ষেত্রেই খাটে:

“এবার সেই সুরটিকে চোখে দেখিলাম। তখনো তাহাকে সুর বলিয়াই মনে হইল। মায়ের মুখের দিকে চাহিলাম; দেখিলাম তাঁর চোখে পলক পড়িতেছে না। মেয়েটির বয়স ষোলো কি সতেরো হইবে, কিন্তু নবযৌবন ইহার দেহে মনে কোথাও যেন একটুও ভার চাপাইয়া দেয় নাই। ইহার গতি সহজ, দীপ্তি নির্মল, সৌন্দর্যের শুচিতা অপূর্ব, ইহার কোনো জায়গায় কিছু জড়িমা নাই। আমি দেখিতেছি, বিস্তারিত করিয়া কিছু বলা আমার পক্ষে অসম্ভব। এমন-কি, সে যে কী রঙের কাপড় কেমন করিয়া পরিয়াছিল তাহাও ঠিক করিয়া বলিতে পারিব না। এটা খুব সত্য যে, তার বেশে ভূষায় এমন কিছুই ছিল না যেটা তাহাকে ছাড়াইয়া বিশেষ করিয়া চোখে পড়িতে পারে। সে নিজের চারি দিকের সকলের চেয়ে অধিক—রজনীগন্ধার শুভ্র মঞ্জরীর মতো সরল বৃন্তটির উপরে দাঁড়াইয়া, যে গাছে ফুটিয়াছে সে গাছকে সে একেবারে অতিক্রম করিয়া উঠিয়াছে।”

তাহাকে দেখিয়া মোর মনদুয়ারে যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হইয়াছে তাহা বলার ভাষা আজও আমার জানা নাই। তাহাকে দেখিয়া বারবার মনে হইতেছিল “কেন সে শাড়ি পড়িয়া আসে নাই, কেন???” কল্পনায় মোর মন ক্যানভাসে আঁকিয়া লইলাম তাহার ছবি, “কপালে লাল টিপ, পড়নে শান্তিনীকেতনী ঘরনায় পরা সাদা জমিনে লাল পাড়ের শাড়ি। তাহার ডাগর ডাগর নয়নে ক্ষণিকের জন্য হারায়েছিলেম নিজের অবস্থান। প্রাণে বাজিয়া চলিতেছিল:

“বঁধু কোন আলো লাগলো লাগলো চোখে বঁধু”

তাহার রূপমাধুরীতে আমার অবস্থা বড়ই সঙ্গিন:

“প্রাণ চায় চক্ষু না চায়”

ভরিয়া তাহাকে দেখিতে ছিলাম, এক পলকের জন্যও তাহার উপর হইতে চক্ষু সরাইতে সক্ষম হই নাই। একগোছা দোলনচাঁপা লইয়া কহিতে ব্যকুল হইয়াছিলাম:

“ভালোবাসি ভালোবাসি এই সূরে কাছে দূরে, জলে স্থলে বাঁজায়,

বাঁজায় বাঁশি ভালোবাসি ভালোবাসি”

দুহাত সম্মুখে প্রসারিত করিয়া কহিতে চাইয়াছি:

“বড় আশা করে এসেছিগো কাছে ডেকে লও” এখনও সেই ভালবাসা লইয়া দাঁড়ায়ে রইয়াছি। মরফিয়াসের বাঁশীর সুরেরও টলাইবার ক্ষমতা নাই মোরে। মন মোর গাহিয়া চলে: “মাঝে মাঝে তব দেখা পাই চিরকাল কেন পাইনা”

বিশ্বকবির প্রয়াণ দিবসে আমার শ্রদ্ধাঞ্জলি।

লেখক: নওয়াজেশ হোসাইন পাটোয়ারী

ছবি: ১৮৯০ সালে লন্ডনে

নবাবগঞ্জে স্থানীয় উদ্যোগে রাস্তা তৈরি

৪৩ বছরেও কেউ কথা রাখে নি। তাই ওদের একতা-ই পিছনে ফেলা সাড়ে তিন যুগের বঞ্চনা আর কষ্টকে লাঘবের চেষ্টা করছে। মাত্র দেড় কি.মি. রাস্তার অভাবে রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ২০ কি.মি. দূরে নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা ইউনিয়নের বেনুখালি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ যুগের পর যুগ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

কারো প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় গ্রামবাসী নিজেরাই উদ্যোগ নেন রাস্তাটি তৈরি করতে। সম্প্রতি তারা ১ কি.মি. রাস্তা মাটি ভরাট করে নির্মাণ করেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-বান্দুরা সড়কের পাশে বেনুখালি এক নির্জন বসতি।

বেনুখালি গ্রামীণফোন টাওয়ার থেকে কবরস্থান দেড় কি.মি.। আর্থিক সচ্ছলতার তেমন কোন ঘাটতি না থাকলেও সড়ক যোগাযোগের সুব্যবস্থা নেই। এখানে রাস্তার অভাবে সারাবছরই ফসলী জমির সীমানা দিয়ে হাঁটতে হয় গ্রামবাসীকে। বৃষ্টি ও বর্ষা মৌসুমে কাদা আর পানি মাড়িয়ে হাটবাজার ও স্কুল-কলেজে যেতে হয় সবাইকে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রমজান খান (৬৫) বলেন, গত ৪৩ বছরে অনেক এমপি মন্ত্রী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এলাকায় এসে ভোট নিলেও কেউ কথা রাখে নি। কাদা পানি আর ধূলোবালি ছিলো আমাদের নিয়তি। অবশেষে এলাকার যুবকরা আশার আলো জাগিয়েছে। রাস্তা নির্মাণের উদ্যোক্তা রাশেদ খান ও শাহনেয়াজ বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গ্রামবাসীর চলাফেরার জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়। তারা গ্রামের সকলের সহযোগিতায় ১ কি.মি. রাস্তা নির্মাণ করেছেন। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কোন কাজ হয় নি। এমনকি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে টিআর, কাবিখার কোন প্রকল্প চেয়েও পাননি তারা।

আগলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবেদ হোসেন বলেন, “যুবকদের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাটি পরিপূর্ণভাবে করতে সরকারি উদ্যোগ নেয়া হবে।”

বেনুখালির বাসিন্দা আইনজীবী মহসীন মিয়া বলেন, “বৃহত্তর বেনুখালি গ্রামের ১০ হাজার মানুষের যাতায়াতে যে ভূমিকা ওরা রেখেছে তা প্রশংসার দাবি রাখে।”

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

নারিশায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশায় খালের পানিতে ডুবে আবীর (৯) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্র নিহত হয়েছে।

বুধবার বেলা ৩ টার দিকে নারিশা ইউনিয়নের পশ্চিম চর এলাকার সদর বেপারীর খালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবীর পশ্চিম চর গ্রামের হেলাল বেপারীর ছেলে। সে মেঘুলা আল-জামিয়াতুল ফজলে খোদা মাদ্রাসার দ্বিতীয় জামাতের ছাত্র ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল থেকে আবীর নিখোঁজ ছিল। দুপুরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

নারিশায় দুই গ্রামে ১০ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই

ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের দুটি গ্রামের ৫০ পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের পশ্চিম চর ও মেঘুলা গ্রামের ৫০ পরিবার ১০ দিন ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা।

ফ্রিজে রক্ষিত খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ও অন্ধকারে জীবনযাপন করছে এসব পরিবার। তা ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় চুরি-ডাকাতির আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি স্থানীয় নারিশা বিদ্যুৎ অভিযোগ কেন্দ্রে জানানো হলেও তারা এ বিষয়ে কর্ণপাত করে নি। পরে দোহার জোনাল অফিসে জানালেও তারা এ বিষয়ে  কোনো পদক্ষেপ নেয় নি।

মেঘুলা গ্রামের মো. মোস্তফা জানান, কর্মব্যস্ততার কারণে প্রতিদিন বাজারে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই খাদ্যপণ্যের চাহিদা মেটাতে মাছ, মাংস, সবজিসহ খাদ্যদ্রব্য ফ্রিজে রাখা ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় সব নষ্ট হয়ে গেছে।

নারিশা গ্রামের সিরাজ মাদবর জানান, ‘রাত হলেই গ্রামজুড়ে অন্ধকার ভুতুরে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এলাকায় চোর-ডাকাতের আক্রমণের আশঙ্কায় আমরা আতঙ্কিত। বিদ্যুৎ না থাকায় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কবে বিদ্যুৎ আসবে তাও জানতে পারছি না।’

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২-এর দোহার জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আবদুল লতিফ জানান, নদীভাঙনের কারণে এ এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়েছে। নদীভাঙন কমলে সংযোগ দেয়া হবে। তবে মাসখানেক সময় লাগতে পারে।

দোহারে নদী ভাঙনে পদ্মায় বিলীন ৪শ বাড়ি

গত এক মাসে পদ্মার ভাঙনে দোহার উপজেলার নারিশা, সুতার পাড়া, মধুরচর বিলাশপুর, মাহমুদপুর, নয়াবাড়ি, নারিশা ইউনিয়নের প্রায় চার শতাধিক বসতবাড়ি আর বিস্তীর্ণ ফসলের জমি নদীতে চলে গেছে।

ভাঙনের বর্ণনা দিতে গিয়ে রোববার আবেগাপ্লুত ৬৫ বয়সী বৃদ্ধ মোসলেম জানান, গত এক মাসে প্রচুর স্রোত, বাতাস ও বৃষ্টির কারণে ঢেউয়ের ব্যাপকতা এতই বেশি ছিল যে নিমিষেই ভেঙে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। নদী তীরবর্তী এলাকার লোকজন তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার সময়টুকু পায় নি। অসহায়ের মতো কান্নাকাটি করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় ছিল না।

বর্তমানে ভাঙন এলাকার মানুষ মেঘুলা ধোঁপাড়ির খেলার মাঠে গবাদি পশুর সঙ্গে একসাথে বসবাস করছে। এলাকায় বিশুদ্ধ পানি তীব্র সঙ্কটের কারণে ছড়াচ্ছে নানা রোগ জীবাণু। তিনি বলেন, “এই পর্যন্ত সরকারের কোনো লোক বা চেয়ারম্যান মেম্বার আমাগো খোঁজখরবও নিবার আহে নাই। নারিশা পশ্চিম চর এলাকার অনেকরই ভাষ্য ক্যামনে খাওন জুগামো কোতায় থাকমু হেই চিন্তায় আছি। বসতভিটা হারা মানুষের আকুতি আমাগো ইটটু জাগার ব্যবস্থা কইরা দেন।”

দোহার উপজেলা মধুরচর এলাকার বছরের বৃদ্ধা আম্বিয়া বেগম বলেন, “ইলেকশন আইলে নেতারা আমাগো কয় এইব্যার পাস করলে পদ্ধায় বান দিয়া দিমু, বাড়ি বানাইয়া দিমু. আরও কত কি। হেগো কতা হুইনা ভুট দেই, ভুটের পরে হেগো আর খরর থাহে না।”

আম্বিয়ার মতো হাফেজ মাওলানা শফিকুল ইসলাম, নারিশা ইউপি সদস্য আব্দুল হক মাদবর, শাহআলম মাদবর, হাবিব সরদার, কুদ্দুস নুর ইসলামসহ সবার একই ধরনের অবস্থা। আশা নিয়ে ঘর বাঁধেন সে ঘর চলে পদ্ধার পেটে। তারা নিজেরাও বুঝতে পারে না কোথায় কখন ভাঙা শুরু হবে।

নারিশা ইউনিয়নের বাসিন্দা বসির আহমেদ বলেন, “নারিশা পশ্চিম চর এলাকার প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।” প্রতিবছর ভাঙনে পদ্ধার গতিমুখ পরিবর্তন হওয়ায় এ বছর এলাকাটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিমত স্থায়ীভাবে নদীর বাঁধ নির্মাণ করা ছাড়া দোহারকে রক্ষার কোনো উপায় নেই। তারা আরো বলেন, নারিশা পশ্চিম চর মধুরচর এলাকায় গত এক মাসের ভাঙনে দুই ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদীতে চলে গেছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সরকারি রাস্তাঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

ভাঙনকবলিত সর্বস্বহারা এসব মানুষজন খেলার মাঠে ঝুপড়ি বানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। কেউবা খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করছে। ঢাকা জেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমাদের দোহারের প্রধান সমস্যা নদী ভাঙন এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ওয়াদা ছিল দোহার-নবাবগঞ্জকে পদ্ধার ভাঙন থেকে রক্ষা করবেন। আমরা এলাকাবাসী এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওয়াদার বাস্তবায়ন চাই।”

তিনি বলেন, ভাঙন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনুরুল করিম ভুঁইয়া বলেন, “দোহারের প্রধান সমস্যা নদী ভাঙন। অস্থায়ী ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

ঢাকা জেলা প্রশসক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “ভাঙন কবলিত আমি পরিদর্শন করেছি। ভাঙনের অবস্থা ভয়াবহ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের জন্য আমি জলবায়ু ট্রাস্ট এর কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলছি এবং ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলোচনা করেছি। দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

কবিতা: স্বপ্নভঙ্গের গল্প

স্বপ্নভঙ্গের গল্প

কবি: স্বপ্নবাজ মানুষ

চেয়েছিলাম দূর আকাশ থেকে এক টুকরো মেঘ এনে দিব তোমায়,
বসন্তের নীল আকাশে ডানা মেলব দুজনে
হারিয়ে যাব ধানসিঁড়ি অথবা ইছামতির বুকে
অথবা চারুকলার রাস্তায় হাতে হাত ধরে হাটব সারাটি বিকেল,
দুই কাপ চা অথবা এক প্লেট ফুচকায়
বিকেলটা কেটে যাবে এক নিমেষেই।
কিছুই হয় নি, সব আজ মহাশুন্যের উচ্চতায়,
তাই আজ স্বপ্ন বুনি দিবাস্বপ্ন বা খাতার বুকে।