তারেকের সঙ্গে দর কষাকষি করতে লন্ডনে নাজমুল হুদা

নিউজ৩৯ স্পেশাল: ফের বিএনপিতে ফিরবেন না কি ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে সরকার বিরোধী আন্দোলন করবেন তা চূড়ান্ত করতে বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন। বিএনপির সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক তৈরি হলে তা যেন সহসা ভেঙে না যায় সেজন্য এবার বুঝে শুনে এগুচ্ছেন নাজমুল হুদা। লন্ডনে বসে তারেক রহমানের সঙ্গে একান্তে আলাপ আলোচনা করে তিনি ভবিষ্যৎ করণীয় ঠিক করবেন।

উল্লেখ্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা‘র মধ্যে গত মাসে একটি বিশেষ বৈঠক হয়েছে। গত ২২ জুলাই রাজধানীর একটি বাড়িতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা‘র মধ্যে এ বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

দর কষাকষির পর ব্যাটে বলে মিললেই তিনি আবারো আপন ঘরে ফিরবেন এমন আভাসই পাওয়া যাচ্ছে তার ঘনিষ্টজনদের কাছ থেকে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে নাজমুল হুদার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিউজ৩৯ কে নিশ্চিত করেছে।

বিএনএ-এর একটি কেন্দ্রীয় সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। যেহেতু এখন বিএনপির অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন তারেক রহমান। তাই  বিশেষ কোনো রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা তারেকের সঙ্গেই করা যথার্থ। আর সেই বিবেচনা থেকেই নাজমুল হুদা লন্ডন যাওয়াই যথার্থ মনে করেছেন।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত ৭ আগস্ট লন্ডনে পৌঁছেছেন তিনি। এর আগে ৩ আগস্ট তিনি দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন। দুবাই ছিলেন ৬ আগস্ট পর্যন্ত। তিনদিন অবস্থানকালে তিনি দুবাইতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (বিএনএ) এর ৫১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছেন। আগামী মাসের ৭ তারিখে তিনি দেশে ফিরতে পারেন বলে নিউজ৩৯ কে জানিয়েছে একটি বিশ্বস্ত সূত্র।

সূত্র জানায়, নাজমুল হুদার সফরের মূল উদ্দেশ্য তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। তার প্রায় একমাস লন্ডনে থাকার কথা রয়েছে।

এ সময় তারেক রহমানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। বিএনএ বিলুপ্ত করে বিএনপিতে আসবেন কী না তা ঠিক করতে সম্ভাব্য এ সাক্ষাতের পরই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা‘র একটি ঘনিষ্ট সূত্র নিউজ৩৯ কে জানিয়েছে, বিএনপিতে ফিরবেন, না কী বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করবেন,  বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পরই তিনি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের সঙ্গেও তিনি একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন। তার যোগাযোগ ও ইচ্ছার কথা বিবেচনায় এনে কিছুটা অগ্রসরও হয়েছে বিএনপি।

সূত্র নিউজ৩৯ এর কাছে স্বীকার করে জানায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা‘র মধ্যে গত মাসে একটি বিশেষ বৈঠক হয়েছে। গত ২২ জুলাই রাজধানীর একটি বাড়িতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা‘র মধ্যে এ বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গণমাধ্যমকে এড়াতে ওই বৈঠকটির ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ থেকেই বেশ গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা এ দুই নেতার মধ্যে আলাপ-আলোচনা হয়। বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু ছিল এক সঙ্গে বর্তমান সরকার বিরোধী আন্দোলন করা। ওই বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পর নাজমুল হুদা বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু ওই সময় বেগম খালেদা জিয়া পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে থাকায় তার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি অস্পষ্টই থেকে যায়।

বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, আন্দোলন সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করতে শক্তি বাড়াতে চায় তার দল। কিন্তু, বিগত দিনে যারা দলের আস্থা হারিয়েছে, দলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তাদের বিষয়ে বুঝে শুনেই পা বাড়াবে বিএনপি। তিনি বলেন, যারা দলের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করেছে তাদের ব্যাপারে বিএনপি এখন অনেকটাই সতর্ক।

উল্লেখ্য, দলের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে বহিষ্কার হয়েছেন বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। বহিষ্কারের পর বিএনপির সমালোচনায় গণমাধ্যমে সব সময় সরব ছিলেন তিনি। এরপর জিয়াউর রহমানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) নামে একটি বিতর্কিত দল গঠন করেন তিনি। ওই দলের টিকেটে গত ৫ জানুয়ারি’র বিতর্কিত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একজন সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনএফ’র সঙ্গে বিভিন্ন কারণে মতবিরোধ দেখা দিলে তিনি চলতি বছরের ৭ মে গঠন করেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (বিএনএ)। ওই দিনও সংবাদ সম্মেলন করে দুর্বল বিএনপিতে আর ফিরবেন না বলেও ঘোষণা দেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।

খন্দকার আলী আব্বাস ছিলেন সমাজ বিপ্লবের হাতিয়ার: স্মরণ সভায় বক্তারা

“প্রয়াত কমিউিনিস্ট নেতা বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির  সাবেক সভাপতি কমরেড খন্দকার আলী আব্বাস ছিলেন সমাজ বিপ্লবের হাতিয়ার।” ১৭ আগষ্ট তার ৩য় মৃত্যু বাষির্কীতে ঢাকার নবাবগঞ্জ লাল বারান্দা চত্বরে স্মরণসভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

সভায়  ঢাকা জেলা সম্পাদক সেকান্দার হোসেনের সভাপতিত্বে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক বলেন, “বুর্জোয়া লেজুরবত্তিকে পরিহার করে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় খন্দকার আলী আব্বাস আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মার্কসবাদ লেলিনবাদের আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আলী আব্বাসদের চেতনাকে ধারণ করতে হবে।” এসময় তিনি বর্তমান সরকারের শ্রমিক নির্যাতন ও অবহেলার সমালোচনা করে সকল শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে বলেন।

এসময় স্মরণ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, নারী নেত্রী বহ্নিশিখা জামালী, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আবু হাসান টিপু, আকবর খান, সাংবাদিক আজহারুল হকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। আলোচনা সভার আগে খন্দকার আলী আব্বাসের স্মৃতিতে পুস্পমাল্য ও শোকর‌্যালী বের করা হয়।

উল্লেখ্য, খন্দকার আলী আব্বাস তার রাজনৈতিক জীবনে কমিউনিস্ট আন্দোলন করতে গিয়ে ১০ বছর আত্মগোপনে ছিলেন। তার রাজনৈতিক জীবনে মাওলানা ভাষানীর জাতীয় কৃষক সমিতি, সাম্যবাদীদলের সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

জয়পাড়া কলেজের ফলাফল বিপর্যয়, দায় কতটুকু ছাত্র রাজনীতির

নিউজ৩৯.নেট ♦ দোহারের অন্যতম পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এই অঞ্চলের সানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে সেই ১৯৭৪ সাল থেকে। মধু চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সময়ের সাথে সাথে উপহার দিয়েছে দেশ বিখ্যাত বরেণ্য মানুষদের। শিক্ষার মান নিয়েও তেমন কোন প্রশ্ন ছিল না।

জয়পাড়া কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দোহারের সুস্থ্য রাজনীতির অন্যতম পীঠস্থান। রাজনীতির পাশাপাশি পড়াশোনার মেল বন্ধন সৃষ্টি হয়েছিল এই কলেজে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে পড়াশোনার সাথে ছাত্রদের সম্পর্ককে সম্পর্ককে রাজনীতি কী দূরেই ঠেলে দিচ্ছে!

ভয়াবহ ফলাফল বিপর্যয়ের এই বছর রাজনীতির সাথে পড়াশোনার সম্পর্কটাও বেশ জোরেশোরে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের এক ছাত্র ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য ছাত্র রাজনীতিকে মূল কারন হিসাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ছাত্রনেতাদের প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয়ে কলেজে আসা মাত্রই নতুন ছাত্র ছাত্রীরা কলেজের নিয়মগুলো ভাংতে শুরু করে। শিক্ষকরা এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারে না। ফলে কলেজে পা দেয়া মাত্রই একটি ছাত্র কলেজের নিয়মের বাইরে চলে যায়, যার ফলাফল এইবারের এইচ এস সি রেজাল্টে অনুদিত হয়েছে।“

কিন্তু এই ব্যাপারে সম্পূর্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রাজিব শরীফ। তিনি কলেজের এই ফলাফলের জন্য কলেজের ম্যানেজম্যান্টের দূর্বলতাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, “কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি ছাত্র ভর্তি হবার পর তার পড়াশোনার কোন তদারকিই করে না। তার খোঁজ খবর রাখার কোন প্রয়োজনীয়তাই বোধ না কলেজ কতৃপক্ষ। ফলে এই বারের ফলাফল বিপর্যয়। ছাত্রলীগ কোন ছাত্রছাত্রীকে দিয়ে জোর করে কোন মিটিং মিছিল করে না আর তাছাড়া কলেজে তেমন রাজনৈতিক প্রোগ্রামও হয় না। তাই এই খারাপ রেজাল্টের দায় কোন ভাবেই ছাত্রলীগ নেবে না।“

জয়পাড়া কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জহিরুল ইসলাম এই ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য ছাত্র ছাত্রীদের পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্রের পিছনে ছোটাকেই দায়ী করেন।

এছাড়া জয়পাড়া কলেজের ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রেজাল্ট খারাপ হওয়ার পিছনে এবারের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করাকে কারণ মনে করেন

জয়পাড়া কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ১ম বর্ষের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, “কলেজ সময়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মিছিল হয়, ফলে স্যাররাও মতো ক্লাস নিতে পারেন না। নিয়মিত ক্লাসের চেয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের উঠতি নেতাদের পিছনে থাকতেই শিক্ষার্থীরা বেশি পছন্দ করে। ফলে এই ফরাফল বিপর্যয়। এই ধারা চলতে থাকলে ভবিষ্যতেও রেজাল্ট ভালো হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ভাগ্য ফেরাতে ইতালির যেতে লাশ হয়ে ফিরল আবুল বাশার

নিউজ৩৯.নেট ♦ আজ থেকে প্রায় দুই বছর আগে লিবিয়া পাড়ি জমিয়েছিল বিলাশপুরের দেবী নগরের ক্বারী আবুল কাশেমের ছেলে আবুল বাশার। কিন্তু দিনে দিনে লিবিয়া পরিস্থিতি বাংলাদেশীদের জন্য খারাপের দিকে মোড় নিলে ভাগ্য পরিবর্তনের  জন্য ইতালির দিকে যাত্রা করে আবুল বাশার। সেখান থেকে অবশেষে লাশ হয়ে ফিরলো সে।

গাদ্দাফির মৃত্যুর পর আপাত দৃষ্টিতে গৃহ যুদ্ধ শেষ হলেও পরিস্থিতি শান্ত ছিল না লিবিয়ার। এমন পরিস্থিতিতে আবুল বাশারের লিবিয়  মালিক তাকে সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়।

বাংলাদেশিদের জন্য লিবিয় পরিস্থিতি গৃহযুদ্ধের পর কখনোই অনুকুলে ছিল না। এমন এক পরিস্থিতিতে অবৈধ ভাবে সাগর পথে ইতালির উদ্যেশ্যে রওনা দেয় আবুল বাশার। জেলে নৌকায় ইতালির উদ্যেশ্যে রওনা দেয়া এই তরুন।

জেলে নৌকাটি ইতালির  সমুদ্রসীমার কাছে এসে ডুবে গেলে আবুল বাশারের ইতালির স্বপ্ন ও তার পরিবারের  স্বপ্নও ইতালির উপকুলে ডুবে যায়। তার মৃত্যুতে দেবিনগরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ভাঙ্গছে বসতভিটা, থামছে না পদ্মা পাড়ের হাহাকার

পদ্মার বুকে  একে একে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। ঘুম ভাঙ্গছে না দ্বায়িত্বশীল  কারো। নদী গর্ভে হারিয়ে গেছে নয়াবাড়ী বাধের ৪০০ মিটারেরও বেশি অংশ।

নদী পাড়ের কান্না থামছেই না। অশ্রু ভেজা নয়নে চোখের সামনে হারিয়ে যাচ্ছে শত বছরেরও পুরোনো বাপ দাদার ভিটামাটি। কিছুই করার নেই,  চোখের অশ্রুও যেন শুকিয়ে গেছে। কিছুই করার নেই,  নিজের নাড়ীর বাধন ছিড়ে যাওযার দৃশ্য  অসহায় ভাবে অবলোকন করা ছাড়া আর কিছু করার সাধ্য তাদের নেই।

রাস্তায় রাস্তায় নদী ভাঙ্গন কবলিতদের আহাজারীতে ভারী হয়ে উঠেছে মেঘুলা, নারিশা, নয়াবাড়ীর  বাতাস। শংকিত হয়ে অপেক্ষা কখন নিজের বসত ভিটা বিলীন হবে পদ্মার বুকে।

নয়াবাড়ী ইউনিয়নের অর্ধেকের বেশি এখন পদ্মার গর্ভে। ৬ বছর আগেও যে পদ্মা নয়াবাড়ী বাধ থেকে ৬ কিলো মিটার দূরে ছিল সেই পদ্মার পেটে এখন নয়াবাড়ী বাধের ৪০০ মিটারেরও বেশি এলাকা। চোখের সামনে হারিয়ে গেছে বেরি বাধের এই এলাকা।

গত ৬ বছরে শুধু মাত্র পদ্মা গর্ভেই হারিয়ে গেছে নয়াবাড়ি ইউনিয়নের ৩০০০ হাজারের মতো বসত ভিটা। এক সময়ের সমৃদ্ধ অঞ্চল অরেঙ্গাবাদের কোন অস্তিত্বই নেই এখন।
বিলিন হওয়ার অবস্থান পানকুন্ডু গ্রাম। এক সময়ের বিখ্যাত দুধের বাজার ধোয়াইর বাজার এখন ভাঙ্গনের সম্মুখিন। একেবারে  পদ্মাপাড়ে অবস্থান এসে দাড়িয়েছে বাজারটির। যেকোন দিন হারিয়ে যেতে পারে পদ্মার গর্ভে।

একই অবস্থা দোহারের অন্যতম বাজার মেঘুলা বাজারেরও। ঠেকতে  ঠেকতে এই বাজারের কাছেই অবস্থান নিয়েছে পদ্মা। যেকোন দিন ভাঙ্গন শুরু হয়ে যেতে পারে এই বাজারের।

খেলতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

নিউজ৩৯.নেট ♦ খেলতে গিয়ে গলায় ফাঁশ লেগে মর্মান্তিক মৃত্যূ হয়েছে চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী এক শিশুর। বৃহস্পতিবার বিকালে নয়বাড়ির আন্তা গ্রা্মের বদরুল আলম ব্যাপারীর বড় ছেলে রাবিব(১০) ছোট ভাইয়ের সাথে খেলার ছলে এমন দূর্ঘটনার শিকার হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকালে টিভি দেখার সময় ৬ বছরের ছোট ভাই এর সাথে খেলার ছলে ঘরের হাড়ি পাতিলের তাকের সাপোর্টিং এর সাথে ঈদের পাঞ্জাবীর উড়না পেচিয়ে ফাশেঁর অভিনয় করে। এমন সময় তার গলায় ফাঁশ এটে যায়।

এই সময় তার ছোট ভাই পাশের ঘরে থাকা ঘুমন্ত বাবাকে ডাক দিলে সে কোন জবাব না নেয়ায় তার পাশের বাড়ির চাচীকে ডেকে আনে। ততক্ষনে রাবিব মারা যায়। পরে রাবিবের বাবা বদরুল আলম ব্যাপারী তাকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে। বদরুল আলম বাংলাবাজারের একজন চাউল ব্যবসায়ী।

জয়পাড়া কলেজে ফলাফল বিপর্যয়, দায় কার ?

সারা দেশে জিপিএ ৫ ও উচ্চ মাধ্যমিকে পাশের হারের বন্যা বয়ে গেলেও দোহারের এইচএসসি রেজাল্ট সেই আগের মতোই অতল তিমিরেই আছে। বরং দিনে দিনে আরো অধঃপতনে যাচ্ছে দোহারের শিক্ষাব্যবস্থা।

বিগত দিনের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্ট দুঃখজনক ভাবে সেই দিকেই ইংগিত করছে। ঢাকা বোর্ডে পাশের হার ৮৪% এবং সারাদেশে পাশের হার ৭৮%; অথচ দোহার উপজেলায় পাশের হার ৭৫.৩৩% ।

এবার দোহারে পাশের হারের দিক থেকে জয়পাড়া কলেজের অবস্থান সর্বনিম্ন। কিন্তু ঢাকা জেলার পাশের হার ধরে রাখা তো দূরে থাক জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ধরে রাখতে পারে নি সারা দেশের পাশের হারও। ৬৬ শতাংশ পাসের এক লজ্জা জনক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে দোহারের সবচেয়ে প্রাচীন এই উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। দিনে দিনে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মানের অধপতনের কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছে নিউজ৩৯।

ছাত্র রাজনীতি উন্মুক্ত থাকলেও সেটা খুব বেশি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করে না। বরং শিক্ষকদের মধ্যকার দলাদলি, কলেজ ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে রাজনীতিকরণ এবং অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও অযোগ্য ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের এম.এ. ডিগ্রীধারী শিক্ষকদের উপর প্রভাব খাটানো; সর্বপরি টেস্ট পরীক্ষা না দিয়ে বা টেস্টে অযোগ্য হলেও ঢালাও পাশ এ বিপর্যয়ের কারণ। 

এই ব্যাপারে নিউজ৩৯ যোগাযোগ করে  জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মোয়াজ্জেম হোসেনের সাথে। কলেজের এইচ এস সি পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে সন্তুষ্ট কিনা এই প্রশ্ন করলে তিনি বলেন “আমরা আমাদের রেজাল্ট নিয়ে সন্তুষ্ট না, এই রেজাল্ট থেকে কিভাবে উত্তরণ করা যায় তা নিয়ে আমরা বৈঠকে বসছি।”

জয়পাড়া কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ তাপস কুমার নন্দীর বলেন, “আসলে এই রেজাল্ট নিয়ে আমরা খুশি না। আসলে এই বারের ব্যাচটা দূর্বল ছিল এটাই হয়তো মূল কারণ।”

জয়পাড়া কলেজের এই ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে নিউজ৩৯ কথা বলেন দোহারের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জনাব হায়াত আলী স্যারের সাথে। তিনি বলেন, “আসলে জয়পাড়া কলেজে নিয়ম শৃঙ্খলা বলতে কিছু আছে কি না তা আসলে আমি জানি না। শিক্ষক-ছাত্রদের কেউ ক্লাসমুখি না, শিক্ষকরা নিজেদের কোচিংমুখি আর ছাত্ররাও কোচিংমুখি। প্রতিদিন সকালে ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজে যাওয়ার পরিবর্তে কলেজ মার্কেটের বিভিন্ন কোচিং সেন্টারগুলোতে তাদের দেখা যায়, তাছাড়া কলেজে ক্লাসের পরিবর্তে তারা বিভিন্ন চাইনিজেই তাদের দেখা যায়। আর তাদের কলেজমুখি করার কোন উদ্যোগ তাদের নেই। আর কলেজে যারা ম্যানেজিং কমিটিতে আছে তারা আসলে কলেজের মতো কোন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং থাকার যোগ্যতা আছে কিনা সেটা নিয়েও আমার সন্দেহ আছে।”  

৪০ বছরের পুরনো বাড়ি হারিয়ে দিশেহারা শামেলা বেগম

শামেলা বেগম,  দোহারের নারিশায় নদী ভাঙ্গনের শিকারদের একজন। বয়স প্রায় ৫৫ ছুই ছুই। স্বামী হাসিম ব্যাপারী মারা গেছেন প্রায় ১০ বছর হতে চললো। নিউজ ৩৯ এর সাথে কথা বলতে গিয়ে তিনি অশ্রু ধরে রাখতে পারেন নি । জীবনের বেশির ভাগ সময় এখানে কাটিয়েছে বলে আবেগটা হয়তো বেশি।

অশ্রু সজল চোখে তিনি বলেন, “৪০ বছরের বেশি সময় এই বাড়িতে থাকছি, সেই বাড়ি আজ শেষ হইয়া গেলো।“ প্রায় ৫০ বছরের বেশি সময় যে পদ্মার সাথে সখ্যতা গড়ে উঠেছিল সেই পদ্মা হটাৎ হয়ে উঠলো এমন নিষ্ঠুর ও নির্মম।

এর আগে সংবাদ সগ্রহের কাজে নারিশা গেলে চোখে পরে ২০ থেকে ২৫ মিটার উঁচু রক শিমুল গাছের। জানা যায় সেই গাছটি শামেলা বেগমের নিজ হাতে লাগানো। সেই গাছের শেকড় তুলতে দেখা যায় এই বৃদ্ধকে। গাছের মতো তারও আজ হারিয়ে যাওয়ার দ্বার প্রান্তে।

বসত বাড়ি হারিয়ে কোথায় যাবেন, কী করবেন এই প্রশ্নের জবাবে শামেলা বেগম বলেন, “বোনের বাড়িতে উঠছি এখন।“

এই রকম কয়েকশত শামেলা বেগমের খোঁজ পাওয়া যাবে নারিশাতে। প্রায় ৬০ বছরের পুরনো ও সমৃদ্ধ এই জনপদ এখন পদ্মার গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়।

এইচএসসিতে দোহারে ফলাফল বিপর্যয়

নিউজ৩৯.নেট ♦ সারা দেশে জিপিএ ৫ -এর ছড়াছড়ি ও উচ্চ পাশের হারের ভিড়ে আগের সেই তিমিরেই রয়েছে দোহারের শিক্ষার অবস্থা। সারা দেশের পাশের হার ও জিপিএ ৫ এর মাঝে লজ্জাজনক ভাবে সারা দোহার উপজেলার কলেজগুলো সম্মেলিত ভাবে জিপিএ ৫ অর্জন করেছে ৯ টি। 

এর মাঝে পদ্মা কলেজ ৭ টি ও মেঘুলা মালিকান্দা কলেজ ২ টি। এবং রাজনৈতিক আচ্ছাদনে থাকা দোহারের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে জিপিএ ৫ অর্জন করেছে৩ টি। উল্টো ৬৬ শতাংশ পাশের হার নিয়ে পাশের হারের ক্ষেত্রে দোহারের সর্ব নিম্ন অবস্থানে অবস্থান করছে কলেজ টি। 

জিপিএর ভিত্তিতে দোহারে সবচেয়ে ভাল রেজাল্ট করেছে পদ্মা ডিগ্রী কলেজ। কলেজ থেকে সর্বমোট ৪৩০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়। এর মাঝে ৩২৪ জন পরীক্ষার্থী পাশ করে এবং ২ জন গোল্ডেন সহ ৭ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে।

এর পরের অবস্থানে আছে মেঘুলা মালিকান্দা কলেজ। কলেজের ২৬৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং ২৩৪ জন উত্তীর্ণ হয়। এর মাঝে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২ জন। 

আর জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ৫৩৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয় এর মাঝে ৩৬৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। সারাদেশের এই উচ্চ মুখি পাশের হারের ভিতরে দোহারের শিক্ষার এই নিম্নমুখীতা সচেতন মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে।

বাংলাবাজারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

নিউজ৩৯.নেট ♦ বুধবার সকালে বাজার থেকে ফেরার পথে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন শিলাকোঠা গ্রামের লুতফর রহমান(৪৭)। তিনি বাংলাবাজারের সবজির ব্যবসায়ী ছিলেন।

এলাকাবাসী জানায়, প্রতিদিন সকালের মতো বুধবার বাজার থেকে ফেরার পথে শিলাকোঠার দিকে যাওয়া বাইলাবাজার মোড়ের কাছে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু বরণ করেন। এলাকাবাসী লাশ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ নিজ হেফাজতে নেয়।