পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে আতংকে মেঘুলা ও নারিশা’র মানুষ দিশেহারা

আসাদ সবুজ৩, নিউজ৩৯.নেট ♦ দোহারে পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে আতংকে মেঘুলা ও নারিশা’র মানুষ দিশেহারা। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দোহারের নারিশা পশ্চিমচর, রানীপুর, অরঙ্গবাদ এলাকায় পদ্মার পাড় ভাঙন মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে চলেছে। গত এক মাসে পাঁচ শতাধিক বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনকবলিত অসহায় মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারি অনুদান এতই সামান্য যে, তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

পদ্মা ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে মর্মে সরকার বারবার প্রতিশ্র“তি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। দোহার ভৌগোলিক মানচিত্র ক্রমেই ছোট করে চলেছে রাক্ষুসী পদ্মা। গত বছর বাড়িঘর ভেঙে অসহায় হয়ে পড়ে সহস্রাধিক মানুষ। অনেকেই ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি হাড়িয়ে নিঃস্ব হয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করছে।

সরেজমিন দেখা যায়, দোহারের নারিশা পশ্চিমচর, রানীপুর, মধুরচর এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক নদী ভাঙন। গত এক মাসে এসব এলাকার অন্তত পাঁচ শতাধিক বাড়ি, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, কবরস্থান, দোকানপাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা চলে গেছে নদীগর্ভে। যার সঙ্গেই দেখা হয়েছে, দেখা গেছে তার রোদে পোড়া, অনাহারী শীর্ণ মুখ। যেখানেই চোখ গেছে, কেবলই ভাঙন আর ভাঙন। ভিটে নেই, শুধুই ধ্বংসস্তূপ। আর এমন চিত্র প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ফিরে ফিরে এলেও ভাঙনরোধে নেই কোনো কার্যকরী উদ্যোগ।

নারিশা এলাকার বাসিন্দারা বলেন, গত কয়েকদিন ধরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বাঁশ ও ছন দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে আমরা ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু উত্তাল ঢেউয়ে সব ভেঙে গেছে। এই এলাকার মানুষের যে দুর্দশা তা ভাষায় প্রকাশ করার নয়। সরকার জরুরি কোনো পদক্ষেপ না নিলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।

দোহারের বিলাসপুর, বাহ্রা, ধোয়াইর পানকুন্ডু, অরঙ্গবাদ ও নবাবগঞ্জ এলাকার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রাম পদ্মা ভাঙনকবলিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। যখনই বর্ষ পরিক্রমায় ফিরে আসে বর্ষা, নদীপাড়ের লোকজন বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়ে। শুধু বলে কবে, কখন এর সমাধান হবে। দোহারের লাখো মানুষের একটাই দাবি : পদ্মার আগ্রাসন থেকে মুক্তি চাই।

নারিশা পশ্চিমচর এলাকার বাসিন্দা জয়নব বিবি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, পদ্মাপাড়ের দুঃখীজনদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে নির্বাচনের সময় অনেকেই ভোট আদায়ের কৌশলে সুন্দর সুন্দর প্রতিশ্র“তি দেয়। ভাঙন শুরু হলে পাঁচ-দশ কেজি চাল বিতরণ করে। এভাবেই যুগের যুগের পর যুগ পার করে দিচ্ছেন এমপি-মন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এমন চিত্র দেখতে দেখতে পদ্মাপাড়ের মানুষ চরম ক্ষুব্ধ। পাঁচ-দশ কেজি নয়। পদ্মাপাড়ের মানুষের প্রত্যাশা- ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা। অন্যদিকে, গত ৭ দিনে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বাহ্রা ঘাটবাজার ও ধোয়াইরবাজার ভাঙনের কবলে পড়েছে। দোকানিরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।

ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো অন্যের জমিতে কেউবা আবার মসজিদে, কেউবা আবার মন্দিরে, আবার কেউ কেউ স্কুলে ঘর তুলে থাকছে। যাদের সামর্থ্য নেই তারা রাস্তার ওপর ঝুপড়ি তুলে গবাদি পশুর সঙ্গে বসবাস করছে।অরঙ্গবাদ এলাকার পদ্মার পাড়ে দাঁড়ালেই চোখ আটকে যায়। এ এলাকায় দুই যুগ আগেও প্রায় চার হাজার পরিবারের বাস ছিল। এখন ‘বিরাণ প্রান্তর’ বললেই চলে। অনেকেই নদীর দিকে আঙুল তুলে দেখাতে পারেন ওইখানে ছিল অমুকের বাড়ি, তমুকের বাড়ি, জমি আরও কত কি। ওসব এখন কেবলই স্মৃতি।

এখনও পরিত্যক্ত ভিটের ওপর দুমড়েমুচড়ে পড়ে থাকা বসতবাড়ির কিছু কংকাল। পাকা বাড়িগুলোর ইট, লোহালক্কড় বেরিয়ে আছে। কিছু নলকূপ চোখে পড়ল, ভাঙনে উপড়ে আছে। হয়তো এগুলো কয়েকদিন পরে চলে যাবে নদীর পেটে। আর এমন আতংকে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকা পাকা-আধাপাকা ঘর ভেঙে নিয়ে অন্যত্র ছুটছেন অনেকেই।

এ ব্যাপারে দোহারের নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল করিম ভুইয়া বলেন, সরকারিভাবে স্থানীয় এমপি ত্রাণের ব্যবস্থা করেছেন। আরও সাহায্য আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নদী ভাঙন প্রতিরোধ করতে মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় এমপি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, পদ্মার ভাঙন ঠেকাতে আগের মন্ত্রী-এমপিরা কিছু করে নি। সরকারিভাবে ৫৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৪ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এছাড়া দুস্থদের তালিকা করে খাস জমি বণ্টনের ব্যবস্থা করা হবে। ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

আব্দুল মান্নান খানের আগাম জামিন

অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় জামিন পেয়েছেন মহাজোট সরকারের সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান। তাকে আগামী ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার মুচলেকায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন আদালত। রোববার সকালে তিনি ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান আব্দুল মান্নান খান। শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এমদাদুল হক।

দোহার–নবাবগঞ্জে প্রায় ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দী

আসাদ সবুজ৩৯ঃ উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মায় ক্রমেই বেড়ে চলছে পানির উচ্চতা। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। সেই সঙ্গে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। সড়ক ও জনপদ তলিয়ে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবন।  অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে দুর্গতরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেই ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ। ২৪ ঘণ্টায় দোহার ও নবাবগঞ্জের ৯ গ্রামে প্রায় ১২  সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের অভাবে পানিবন্দী মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

এলাকার লোকজন জানান, ছয় দিন ধরে পদ্মার পানি বেড়েই চলেছে। এতে করে দোহার ও নবাবগঞ্জের  নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গতকাল দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, দোহারের নারিশা জোয়ার, চর বিলাসপুর, কৃষ্ণদেবপুর, কুতুবপুর, কুলছুরি, দেবীনগর, বায়রাচর, চর মাহমুদপুর, চর নারায়ণপুর, হোসেনপুর, সুখদেবপুর, চর কুসুমহাটির কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছে।এ ছাড়া নবাবগঞ্জের কাশিয়াকালী বেড়িবাঁধ গেট বন্ধ করা না হলে যে কোনো সময় গেট ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এতে নবাবগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মানুষের পানিবন্দি হয়ে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে।

৭ দিনে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকার নবাবগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম, দোহার উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ২২টি গ্রামের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গবাদিপশু নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এতোদিনেও সরকারি কোনো ত্রাণ পাওয়া যায়নি। বানভাসি মানুষরা অসহায় হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল। পানিবন্দী পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতর মাচার ওপর বসবাস করছেন। খড়ের গাদা ও কচুরিপানার ঢিবি বানিয়ে তাতে গবাদিপশু রাখা হয়েছে। নলকূপগুলো তলিয়ে যাওয়ায় এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।নবাবগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেননিউজ৩৯কে বলেন, তার ইউনিয়নের দোহার-নবাবগঞ্জ-মানিকগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের বাইরের অংশের প্রায় ১৩ গ্রামের ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া  বালেঙ্গা এলাকার শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল করিম ভুঁইয়া বলেন, বানভাসি ও ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর জন্য বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বরাদ্দের জন্য আলোচনা চলছে। এছাড়া এদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 

রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে পদ্মাতীরের মানুষের চোখের জল

নিউজ৩৯.নেট ♦ “মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসলে দোহারের নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা হবে”- শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচন পূর্ব জনসভায় এমনই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বলেছিলেন পদ্মা তীরে গড়ে তোলা হবে পর্যটন এলাকা। সেই সাথে তৎকালিন এমপি গৃহায়ণ ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান ও পদ্মা বাঁধের প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছিলেন এই অঞ্চলের মানুষকে। ফলশ্রুতিতে স্বাধীনতার পর প্রথম বারের পর ঢাকা ১ আসনটি দখল করতে সক্ষম হয় আওয়ামী লীগ। এমপি হন আব্দুল মান্নান খান এবং স্থান পান আওয়ামী লীগের মন্ত্রী সভায়।

এর পরের ৫ বছর পদ্মার নিয়মিত ভাঙ্গনে পদ্মা যত কাছে এসেছে এই এলাকার সাথে তার দূরত্ব তত বেড়েছে। চোখের জলে নিজের ভিটামাটি হারিয়ে ততদিনে উদ্বাস্তুতে পরিনত হয়েছে দোহারের প্রায় ৩০ হাজারেরও উপরের দোহারবাসী।

এর মাঝে ২০১৪ সালের নির্বাচনে মান্নান খানকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হয় জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম। দোহার-নবাবগঞ্জের মৃতপ্রায় জাতীয় পার্টির এই জয়ের মূল সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে পদ্মা বাধ। নির্বাচনী বৈতরনী পার হওয়ার পর তিনিও আমাব্যশার চাঁদে পরিনত হয়েছেন।

ইতিমধ্যে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের নামে নতুন এক প্রহসন তৈরী হয়েছে। ভোটের রাজনীতির বলি বানাতে কারো চেয়ে পিছিয়ে নেই কোন দল। এই ত্রাণ কার্যক্রম দেখে নয়াবাড়ি ইউনিয়নের হাবিবুব রহমান বলেন, “যে কয়টাকা খরচ করে ত্রান দেওয়া হচ্ছে ব্যক্তি উদ্যোগে সেই টাকা গুলো দ্বারা যদি বস্তা ভর্তি করে নদী তীরে ফেলা হতো তাহলেও ভাঙ্গন অনেক কমে যেতো। এরা এখানে আসে অসহায় মানুষের সার্কাস দেখতে।“

কয়েক দিন আগে ঢাকা জেলা বিএনপির উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হয় ভাঙ্গন কবলিত অঞ্চল গুলোতে। সেই দিনের বক্তব্যে সাধারন মানুষের প্রতি সহানুভুতি জানানো দূরে থাক, ক্ষমতার রাজনীতিতে তাদের ব্যবহার করার উদ্যেশ্যে তাদেরকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করতে আহ্বান জানান। অসহায় মানুষগুলোর প্রতি এর চে’ বড় কৌতুক আর কি হতে পারে!

এরপর ঈদের আগে এই অঞ্চলের মানুষের কাছে দেখা দেন জাতীয় পার্টির স্থানীয় এমপি সালমা ইসলাম। কিন্তু তিনিও ত্রান বিতরণের নামে প্রহসনের একটা অনুষ্ঠান করে অসহায় ভাবে ফেলে রেখে যান এই পদ্মা তীরের মানুষগুলোকে। বরাবরের মতো প্রতিশ্রুতির পাহাড় শুনিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়নের কোন লক্ষণ এখনো দেখা যায় নি।

বরাবরের মতো রাজনৈতিক ঘুটিতে পরিনত হচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষগুলো। তাদের নিয়ে এই রাজনৈতিক প্রহসনগুলো কি শেষ হবে না!

দোহার উপজেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক সংঘের কমিটি গঠন

প্রেস রিলিজ ♦ গত ২২ আগষ্ট ২০১৪ , শুক্রবার সকাল ১১টায় মধুরচর গ্রামে দোহার উপজেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক সংঘের এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাবুল আহমেদ, পরিচালনা করেন মশিউর রহমান উদ্যম।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে হায়দার আলীকে সভাপতি, মশিউর রহমান উদ্যমকে সাধারণ সম্পাদক ও বাবুল আহমেদকে সাংগঠনিক  সম্পাদক নির্বাচিত করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহ-সভাপতি (ক) ছাহের উদ্দিন (খ) আতিকুল ইসলাম টিটু। সহ-সাধারণ সম্পাদক (ক) শাহজাহান বেপারী (খ) অহেদুজ্জামান, কোষাধক্ষ্য- সহিদুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক-জাহাঙ্গীর আলম সাগর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক- রিপন বিশ্বাস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক- সাইদুল ইসলাম।

হুমকির মুখে বাহ্রা ঘাট

অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে নয়াবাড়ির ইউনিয়নের সাথে ঢাকা যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম বাস স্ট্যান্ড বাহ্রা ঘাট। যেকোন সময় ভেঙ্গে যেতে পারে নয়াবাড়ির এই গুরুত্বপূর্ন স্থান। অসহায় ভাবে দেখা ছাড়া কিছুই করতে পারছে না বাহ্রাঘাটের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

পানি বাড়ার সাথে তাল মিলিয়ে ভাঙ্গছে নয়াবাড়ীর বিস্তীর্ন এলাকা। কিন্তু এই ভাঙ্গন কবলিতদের পাশে নেই কেউ। ইতোমধ্যে বাহ্রা ঘাটের এই ভাঙ্গনের ফলে গৃহহারা হয়েছে প্রায় ৫০০ পরিবারের ও বেশি।

এই ভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে কিছুদিনের ভিতরেই বাহ্রা ঘাটের স্থান নদী গর্ভে স্থান নেবে বলে আশংকা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাহ্রা ঘাট ভেঙ্গে গেলে নয়াবাড়ীর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে, বিচ্ছিন্ন হবে প্রায় ২০,০০০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা।

বাহ্রা ঘাট ভেঙ্গে গেলে নগর পরিবহন কোথায় থেকে ছাড়বে তাও পরিস্কার করতে পারেন নি নগর পরিবহনের সুপার ভাইজার তোতা মিয়া (৩৬)। তবে তিনি আভাষ দিয়েছেন নতুন বাস স্ট্যান্ড কার্তিকপুরেই হতে পারে।

বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কলেজে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে প্রায় ১০০০ ছাত্র ছাত্রীর। কিন্তু এই নিয়ে নেই কারো মাথা ব্যাথা। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির আড়ালে হারিয়ে গেছে সাধারন মানুষের কান্নার জল।

বিএনপি’র ঢাকা জেলার দায়িত্বে মওদুদ

নিউজ৩৯: নির্দলীয় সরকারের অধীনে অতিদ্রুত নির্বাচনের দাবিতে সারাদেশে গণসংযোগ করবে ২০ দলীয় জোট। বৃহস্পতিবার থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ গনসংযোগ কর্মসূচি চলবে। সারাদেশে গণসংযোগ করার জন্য ৪৮টি টিম গঠন করা হয়েছে।

তবে টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপি নেতারা। আর টিমের সদস্য থাকবেন ২০ দলের নেতারা। এ গণসংযোগ শেষে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি জানান, দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত সারাদেশে যে গণসংযোগ কর্মসূচি দেয়া হয়েছে তা শেষ হলেই নতুন কর্মসূচি আসবে।

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জানিয়েছেন, সারাদেশে গণসংযোগের জন্য ৪৮টি টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিমের প্রধান করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম-মহাসচিব ও সম্পাদকদের। এছাড়া টিমে ২০ দলীয় জোট নেতারাও রয়েছেন।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে অনেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় চলে গেছেন। অনেকে এলাকায় যাওয়ার জন্য সভা করছেন। দুএকদিনের মধ্যে অন্যরাও যাবেন।ঢাকা মহানগর, মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলায় গণসংযোগের দায়িত্বে আছেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।ঢাকা জেলা ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় গণসংযোগের দায়িত্বে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার মওদুদ আহমেদ।

ইতিহাসের পাতায় বিক্রমপুরের বীরেরা

যুগে যুগে বহু ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের আবির্ভাব হয়েছে বিক্রমপুরের মাটিতে। তাদের জ্ঞান ও কর্মময় জীবন শুধু বিক্রমপুরকেই নয়, গোটা বাঙালি জাতিকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে গেছেন। প্রাচীনকালের এমন মহাপুরুষের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন রাজা শ্রীচন্দ্র, অতীশ দীপঙ্কর এবং ধর্মপাদ।

পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা অর্থাৎ তৎকালীন বঙ্গ রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী স্বাধীন রাজবংশ ছিল চন্দ্রবংশ (৯০০-১০৪৫ খ্রি.)। এ বংশের রাজারাই বিক্রমপুরে সর্বপ্রথম রাজধানী গড়ে তোলেন। চন্দ্রবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রীচন্দ্র (৯৩০-৯৭৫ খ্রি.) প্রথম বিক্রমপুরে রাজধানী প্রতিষ্ঠা করে রাজ্য পরিচালনা করেন। তিনি খুব শক্তিধর রাজা ছিলেন বলে জানা যায়।

শ্রীচন্দ্রের রাজ্য উত্তর-পূর্ব কামরূপ এবং উত্তরে গৌড় এ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তার উপাধি ছিল পরমেশ্বর, পরম ভট্টারক, মহারাজধিরাজ। চন্দ্রবংশের রাজারা প্রায় দেড়শ’ বছর রাজত্ব করেন। এ বংশের রাজারা সবাই ছিলেন বৌদ্ধ। পরবর্তী রাজবংশের রাজারাও বিক্রমপুরকে রাজধানী করে রাজ্য পরিচালনা করেন।

প্রাচীন বিক্রমপুরের আরেক মহান ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর। চন্দ্রবংশের রাজা কল্যাণ চন্দ্রের রাজত্বকালে (৯৭৫-১০০০ খ্রি.) সর্বকালের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালি মনীষী ৯৮২ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গের রাজধানী বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বিক্রমপুরের এই আলোকিত সন্তান অজ্ঞানতা ও অন্ধকারের জগতে উদিত হয়েছিলেন জ্ঞানের সূর্যমশাল  নিয়ে। তার প্রতিভা ও মনীষার উজ্জ্বল জ্যোতিতে প্লাবিত হয়েছিল পুরো এশিয়া-গোটা বৌদ্ধ জগৎ।

বিক্রমপুরের এই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ জ্ঞানের ভুবনে তার অসামান্য অবদানের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে গেছেন। এশিয়ার চোখ হিসেবে বিশ্বখ্যাত দীপঙ্কর শুধু একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একাধারে দার্শনিক, কবি, শব্দবিজ্ঞানী, সঙ্গীতজ্ঞ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, পরিকল্পনাবিদ ও সমাজ সংস্কারক। তিনি দুই শতাধিক মৌলিক গ্রন্থ রচনা, অনুবাদ ও সম্পাদনা করেন। এ বিস্ময়কর প্রতিভার জন্য তিনি তিব্বতী উপাধি ‘অতীশ’ অর্থাৎ মহান বা শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন।

প্রাচীন বিক্রমপুরের আরো একজন প্রাতঃস্মরণীয় মনীষী হচ্ছেন কবি-দার্শনিক ধর্মপাদ। যে ক’জন মহাপণ্ডিত বাংলা সাহিত্যের উন্মেষ ঘটিয়েছিলেন, ধর্মপাদ হচ্ছেন তাদের একজন। উল্লেখ্য, খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত বৌদ্ধ দোহ সংকলন চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। এই গীতি পদাবলীর রচয়িতা ছিলেন সহজিয়া বৌদ্ধ চার্যরা। হাজার বছরের প্রাচীন বাংলা ভাষার একমাত্র ও আদি নিদর্শন চর্যাপদ এখন সেকালের এ অঞ্চলের ধর্মীয়, আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনাচারের প্রামাণ্য দলিল হি

সেবে নিবেচিত হচ্ছে। এই দলিল রচয়িতা ২৪ জনের অন্যতম ধাম বা ধর্ম দা’র জন্ম বিক্রমপুরের এক ব্রাহ্মণ বংশে। ঐতিহাসিক রাহুল সাংকৃত্যায়নের মতে ধর্মপাদ বিগ্রহ পাল নারায়ণ পালের রাজত্বকালে জীবিত ছিলেন। চর্যাপদের সর্বাধিক সংখ্যক রচয়িতা কাহ্ন বা কাহ্নপাদের শিষ্য ছিলেন। 

নবাবগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রী’কে কুপিয়ে হত্যা

আসাদ সবুজ, নিউজ৩৯.নেট ♦ কার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নের গরীবপুর এলাকায় নুরজাহান বেগম (৩২) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বত্তরা। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

 স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃস্পতিবার রাত দুইটার দিকে ৩/৪ জন দুর্বৃত্ত শিকারীপাড়ার গরীবপুর এলাকার প্রবাসী আব্দুস সালামের ঘরে ঢুকে তার স্ত্রী নুরজাহানকে কুপিয়ে হত্যা করে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঢাকা জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) ডা. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিউজ৩৯-কে বলেন, “কী কারনে ঘটনাটি ঘটছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটককৃত তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

দোহার উপজেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণা

তারেক রাজীব, নিউজ৩৯ ♦ শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা জেলা যুবদল আহবায়ক নাজিম উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে দোহার উপজেলা যুবদলের ১৫ সদস্যের উপজেলা ও একই সংখ্যাধিক্যের পৌরসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

যুবদলের উপজেলা সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন  উপজেলা ছাত্রদল সাবেক সভাপতি আবুল হাশেম, সিনিয়র সভাপতি হিটু মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক পদে উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগাঠনিক সম্পাদক জাহিদ ব্যাপারী জাহিদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মোশাররফ হোসেন, সাংগাঠনিক সম্পাদক পদে ইমরান হোসেন ইমন, জিকু আহমেদ এবং আব্দুস সালাম মৃধা দায়িত্ব পেয়েছেন।

পৌরসভা কমিটিতে সভাপতি পদে দেওয়ান ফরিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক পদে সালাহউদ্দীন মনির এবং সাংগাঠনিক পদে মনির ব্যাপারিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।