দোহারে চলছে বাঁধ নিয়ে রাজনীতি

নিউজ৩৯ ♦ দোহারে চলছে বাঁধ নিয়ে রাজনীতি। পদ্মা পাড়ের অসহায় মানুষের দুঃখকে পুঁজি করে মাঠে নেমেছে স্থানীয় এক শ্রেণীর রাজনৈতিক নেতা।  সারা বছর তারা পদ্মা পাড়ের মানুষের কাছে না থাকলেও ফটোসেশনের রাজনীতির কল্যাণে আজ তারাই পরিণত হচ্ছে আইডলে। যদিও দুঃসময়ে তাদের টিকিটিও খুঁজে পায় নি অসহায় মানুষগুলো।

গত আগস্ট থেকে নদী ভাঙ্গনের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আন্দোলনের ডাক দেয় দোহারের অনলাইনে সরব থাকা তরুণ সমাজ। ধারাবাহিক কর্মসূচির ফলে আজ এই আন্দোলনের ডাক পৌছে গেছে সারা দোহার নবাবগঞ্জে। কিন্তু নদী তীরের কিছু স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এই ইস্যুকে সামনে নিয়ে ফায়দা তুলতে যাচ্ছে আগামী চেয়ারম্যান নির্বাচনে। বাধেঁর এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে তারা নিয়ে আসছে স্থানীয় রাজনীতির দলাদলি। ফলে প্রাণের এই দাবিকে রাজনৈতিক ভাবে তারা দুর্বল করে দিচ্ছে নিজের অজান্তেই।

গত কয়েক মাস আগে নয়াবাড়ি ইউনিয়ন ও কুসুমহাটি ইউনিয়নে নদী ভাঙন নিয়ে ঢাকায় ও বাহ্রা ঘাটে মানববন্ধন হলেও সেখানে দাওয়াত দেয়া হয় নি নয়াবাড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শামীম আহম্মেদ হান্নান ও কুসুমহাটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব দোহারিকে। শুধু রাজনৈতিক ও স্থানীয় দ্বন্দ্বের কারণে ডাকা হয় নি। এমনকি তারা যেন সেখানে উপস্থিত না থাকে তার সকল ব্যবস্থা উদ্যোগতারা করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন নয়াবাড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ হান্নান। এছাড়া ভাঙ্গন আক্রান্ত নারিশা ইউনিয়নের কাউকেও জানানো হয় নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান। 

এ ব্যাপারে নয়াবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ হান্নান নিউজ৩৯-কে বলেন, “কাউকে সারা বছর পদ্মা দুর্গতদের পাশে দেখা না গেলেও মৌসুমী এই সব রাজনীতিবিদদের ক্যামারার সামনে ঠিকই দেখা যায়। তারা আসেন ফটোশ্যুটের রাজনীতি করতে। কিন্তু বাঁধের জন্য সচিবালয়ে কাউকে দেখা যায় না। দেখা যায় না ত্রাণ নিয়ে পাশে দাঁড়াতে। একমাত্র দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্টের তরুণেরা নিঃস্বার্থভাবে বাঁধের দাবীতে আন্দোলন করে যাচ্ছে।” 

তার কথার সত্যতা মিলে ঈদের পর বাহ্রা ঘাটে হয়ে যাওয়া মানব বন্ধনে। ইউনিয়ন পরিষদের অর্থে বাহ্রা ঘাটে বাঁশের অস্থায়ী বাঁধ দেয়া হলে ছবি তুলে সেটা সাধারন জনগনের তৈরি বলে চালিয়ে দিয়েছেন এই সব রাজনৈতিক নেতারা। 

দোহারের প্রাণের দাবি বাঁধ নিয়ে রাজনীতি দেখে হতাশ পদ্মা পাড়ের সাধারণ মানুষ। তারা বাঁধের ব্যাপারে অচিরেই এই নোংরা রাজনীতি বন্ধ করে সাধারণ মানুষের সাথে ঐক্যবদ্ধ থাকতে ডাক দেন। 

দোহার নাগরিক ফোরাম, ওরা ২১ জন, দোহার নবাবগঞ্জ মানিকগঞ্জ নদী ভাঙন রক্ষা কমিটি নামে বিভিন্ন সংগঠন ২-১ টি মানববন্ধন করলেও ধারাবাহিক কোন আন্দোলনে দেখা যায় নি, দেখা যায় নি জনগণকে সম্পৃক্ত করে কিছু করতে। তাই স্থানীয়ভাবে অনেকেরই ধারণা এই আন্দোলন শুধু লোক দেখানো। আবার এতে কাউকে কাউকে রাজনৈতিকভাবে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করতেও দেখা গেছে। 

দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্টের বাঁধ বাস্তবায়ন প্রোগ্রামের আহবায়ক  তারেক রাজীব নিউজ৩৯-কে বলেন, “কে কি করলো আমরা তা ভাবি না। আমাদের করতে হবে এটাই বাস্তবতা। দোহারকে বাঁচাতে আমাদের দরকার বাধঁ সহ স্থায়ী সমাধান। আর বাঁধ দিতে পারবে একমাত্র সরকার। তাই সরকারের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করতে ও ঘুমন্ত প্রসাশনকে জাগাতে আমাদের এই আন্দোলন। এখানে প্রতিটি কর্মসূচিতে আওয়ামীলীগ, বিএনপিসহ সবাই সর্বোতভাবে আমাদেরকে দল-মত নির্বিশেষে দোহারবাসী হিসাবে সহযোগিতা করেছে, পাশে থেকেছে, মিছিল-সমাবেশ-মানববন্ধন করেছে। আজ দোহারের তরুণরা জেগে উঠেছে। সকল ভালোর পাশে আছে তারা। আমরা আশা করি ঢাকা-১ সংসদীয় আসন হিসাবে সরকার অবশ্যই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন । আমরা দাবি আদায়ে সবাইকে এক হয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।”

জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, “বাঁধ নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। এখানে চেহারা দেখানোর কিছু নেই। সবাইকে এই ভালো কাজে এক হতে হবে। দোহার নবাবগঞ্জের তরুণ সমাজ যে উদ্যোগ নিয়েছে সে ব্যাপারে আমরা সবাই এক হতে পারি। এই তরুণেরা সবাইকে নিয়ে বাঁধ নির্মাণে এগিয়ে যাবে বলে আশা রাখি। আর কেউ যদি রাজনীতি করতে চান তবে তার দলীয় ব্যানারে করুণ। কিন্তু ভালো কোন উদ্যোগকে নষ্ট করবেন  না বলে আশা করি।”

বাঁধের দাবীতে দূর হয়েছে সব মতপার্থক্য

নিউজ৩৯ ♦ বর্তমান সময়ের সরকারি দল বিরোধী দল যেখানে প্রতিটা ইস্যুতে মুখোমুখি অবস্থানে এসে দারিয়েছে। সারা দেশে যখন এই বিভেদের জোয়ার, তখন দোহার নবাবগঞ্জে তখন পরস্পর বিরোধী এই রাজনৈতিক নেতারা এক দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত ইসলামী, কমিউনিস্ট পার্টির সবাই আজ ঐক্যবদ্ধ পদ্মা বাঁধের জন্য। সবাই আজ জড়ো হয়েছে দোহার নবাবগঞ্জের মানুষের প্রাণের এই আন্দোলনে।

প্রতিবছর পদ্মার কড়াল গ্রাসে একের পর এক হারিয়ে যাচ্ছে দোহার নবাবগঞ্জের সমৃদ্ধ একের পর এক গ্রাম। চোখের সামনে হারিয়ে যাচ্ছে বাবা দাদার স্মৃতি বিজড়িত এই সব অঞ্চল। নিস্ব থেকে নিস্ব হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম প্রবাসী অধ্যুসিত এই অঞ্চল। কিন্তু সরকারের দৃষ্টি দোহারের উপর না থাকায় নিজের ভাগ্য উপর অলার কাছেই ছেড়ে দিয়েছিল এলাকার বেশির ভাগ মানুষ।  তরুন সমাজ এই সব অসহায় মানুষদের ভুলে যায় নি। তারা বাঁধের দাবিতে দোহার নবাবগঞ্জে যে ঐক্যর ডাক দিয়েছিল তা আজ দোহার নবাবগঞ্জের গন্ডি পেরিয়ে সারা দেশ এমনকি বিদেশেও পৌছে গেছে।

দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্টের এই আন্দোলনের ডাকে আজ বাঁধের দাবিতে একই ছাতার তলায় এসেছে উপজেলার আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত ইসলামী, কমিউনিস্ট পার্টি, যুবলীগ, যুবদল, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র সমাজসহ দোহারের সকল রাজনৈতিক দল। একই প্লাট ফর্মে দারিয়েছেন দোহার উপজেলার সকল চেয়ারম্যানরা। দোহারের মানুষের এই দাবি বর্তমানে দোহারের গন দাবিতে পরিনত হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে এক প্লাট ফর্মে দোহার নবাবগঞ্জের সকল শ্রেণীর মানুষ।  

জাগ্রত দোহার-নবাবগঞ্জ

আছিফুর রহমান♦ যে জাগরণের সূচনা আজ থেকে দুই মাস আগে হয়েছিল দিনে দিনে জনসাধারণের সম্পৃক্ততায় তা পরিণত হয়েছে গণ-মানুষের দাবিতে। পদ্মার কড়াল গ্রাসে আজ অস্তিত্ব হারানোর মুখে দোহার নবাবগঞ্জের সিংহভাগ মানুষ। ধীরে ধীরে দোহার নবাবগঞ্জকে গ্রাস করতে চলছে পদ্মা। কিন্তু দেশের ২য় বৃহত্তম রেমিট্যান্স প্রদানকারী এই উপজেলার মানুষের মনে বেদনা থাকলেও ছিলোনা কোন লক্ষ্য।

অসহায়ের মতো নিজেদের ভিটা মাটি হারানোর দৃশ্য দেখেই মতো আক্ষেপ করা ছাড়া আর কিছুই ছিল না, তখন এই দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলার কিছু তরুন স্বপ্ন দেখলো কিছু করার, এই ভিটাহারা, মাটি হারা সাধারন মানুষকে এক করে কিছু করার। দোহারের অন্যতম ফেসবুক গ্রুপ “দোহারের আড্ডা” থেকে এই চিন্তার শুরু, নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য কিছু করতে হবে, দোহারকে বাচাতে আমাদের একটি বাঁধ দরকার, সেই লক্ষে দোহারের অনলাইন কমিউনিটিকে এক করার লক্ষে এক ইভেন্ট খোলা হয়, সেখান থেকেই আজ বাঁধের দাবিতে উদ্দিপ্ত দোহারের আন্দলনের জন্ম।

সেদিনের ডাকে জয়পাড়া পাইলট স্কুলের মাঠে হাজির হয়েছিল ৬৪ জন উদ্দীপ্ত তরুণ, সেখান থেকেই শুরু দোহার বাঁচানোর এই আন্দোলন। সময়ের সাথে সাথে বেড়েছে তারুন্যের অংশ গ্রহন, বেড়েছে জন সমর্থন। সেই ৬৪ জন আজ পরিনত হয়েছে দুইটি উপজেলার মানুষের মুখপাত্রে।

দোহার নবাবগঞ্জের হাজারো মতের মানুষকে নিয়ে আসতে পেরেছে একটি প্লাটফর্মে। সবাই আজ সোচ্চার হয়েছে বাঁধের দাবিতে।  যেই দাবিতে আজ একই প্লাটফর্মে এসেছে একই স্কুল কলেজের ছাত্র-শিক্ষক। হাতে হাত রেখে তৈরি করেছে মানব বন্ধন, কলেজের ম্যাডামের সাথে দোহার–নবাবগঞ্জের ইতিহাসে প্রথম বারের মতো কলেজের ছাত্রীরা দোহার নবাবগঞ্জের অন্যতম প্রাণের দাবি পদ্মা বাঁধের জন্য নেমে এসেছিল রাস্তায়।

ব্যাংকের কাজ ফেলে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। আজ বাঁধের দাবিতে সবাই ঐক্যবদ্ধ, এখন দরকার সরকারের সুদৃষ্টি, প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি। সময় এখন ঐক্যবদ্ধ থাকার। আর এই একতাই সৃষ্টি করতে পারে দোহার নবাবগঞ্জে সচেতনতার। 

দোহারে ইতিহাস সৃষ্টিকারী মানবন্ধন: পদ্মায় চাই বাঁধ

নিউজ৩৯.নেট ♦ “জাগোরে জাগো, দোহারবাসী জাগো,

যদি থাকো ঘুমিয়ে 

দোহার-নবাবগঞ্জ যাবে তলিয়ে”

এই শ্লোগানে মুখরিত হয়েছিল আজ দুপুরে ঢাকার দোহার উপজেলার প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়ার প্রধান সড়ক। দোহার ও নবাবগঞ্জে পদ্মার ভাঙনের স্থায়ী সমাধানের দাবীতে উপজেলায় রেকর্ড সৃষ্টিকারী জনগণের অংশগ্রহণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে স্থানীয় তরুণদের সামাজিক সংগঠন ‘দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট’। 

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী জয়পাড়ায় উপজেলা কার্যালয়ের ফটকের সামনে প্রধান সড়কে বেলা এগারোটায় শুরু হয় মানবন্ধন এবং তা এক ঘন্টা স্থায়ী হয়ে শেষ হয় বেলা বারোটায়। উৎসাহী জনগন সকাল দশটার আগে থেকে এসে জড়ো হতে থাকে।

বর্ষার শুরুতে ভাঙন শুরু হয়ে তা তীব্র আকার ধারণ করলে দোহার-নবাবগঞ্জের তরুণরা এর সমাধানের লক্ষ্যে ফেসবুকে কার্যক্রম শুরু করে। পরে তা আন্দোলনে রুপ নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে দোহার-নবাবগঞ্জের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, যুক্ত হয় সর্ব স্তরের সাধারণ মানুষ।  

মানববন্ধনে অংশ নেন বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ, জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা। মিছিল নিয়ে এসে যুক্ত হয় ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা। আট শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে মানববন্ধন  জয়পাড়া চৌরাস্তা থেকে জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত দুই সারি করে দির্ঘায়িত হয়।

দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট

মানববন্ধনে উপস্থিত ব্যক্তিরা বলেন, পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে , নবাবগঞ্জ উপজেলার বালেঙ্গা, দোহারের নারিশা, নারিশা পশ্চিমচর, রানীপুর, কার্ত্তিকপুর, বাহ্রাঘাট, ধোয়াইর এলাকার হাজার হাজার বাড়িঘর বিলুপ্ত হয়ে গেছে। রানিপুর আর মধুরচর প্রায় নিঃশেষ। এ যাবত প্রায় ২০ হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। বাড়ি-ঘর হারা মানুষ পথে-ঘাটে মানবেতর জীবন যাপন করছে। পদ্মা ভাঙন কবলিত এলাকায় বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে এমপি, মন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী ওয়াদা থাকা সত্বেও আজ অবধি তা বাস্তবায়িত হয় নি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বারকলিপি দিয়েছি। তারা আরো বলেন, পদ্মায় বাঁধ নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট

দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট

ছবি: ইমরুল হাসান

নবাবগঞ্জে ছাত্রলীগ-ছাত্রসমাজ সংঘর্ষে পাঁচজন আহত

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রসমাজের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে।  সোমবার দোহার-নবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্রসমাজ ও ছাত্রলীগের মধ্যকার এই সংঘর্ষে ছাত্রসমাজ কলেজ শাখার সভাপতি মো. শাহিনসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়।

সোমবার সকালে ছাত্র সমাজের কয়েকজন কয়েকজন কর্মী কলেজ ক্যাম্পাসে স্থানীয় সংসদ সদস্য সালমা ইসলামের পোস্টার লাগাতে যায়। এসময় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সিজানসহ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বাঁধা দেয়। ঘটনার একপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

সংঘর্ষে ছাত্র সমাজের দোহার-নবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শাখার সভাপতি মো. শাহিনসহ ছাত্র সমাজ কর্মী খলিল দেওয়ান, সুমন, জাহিদ ও রানা আহত হয়। আহতদের স্থানীয় নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

দোহার-নবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন সিকদার বলেন, এ ঘটনায় ছাত্রলীগের কেউ জড়িত ছিল না। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমার জানা নেই। অপর দিকে, ছাত্র সমাজের সভাপতি মো. শাহিন বলেন, “ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মো. সিজানসহ আরও ২৫/৩০ জনের ছাত্রলীগের ছেলেরা আমাদের উপর হামলা চালায়। এই কলেজ ছাত্রলীগের দখলে বলে তারা জানায়। পোস্টার লাগাতে গেলে তারা আমাদের উপর হামলা চালায়।“

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে কেউ কোন অভিযোগ করে নি। “

জয়পাড়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার দক্ষিণ জয়পাড়ায় গত শুক্রবার জামিম নামে ৬ বছরের একটি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। নিহত জামিম পাইলট বাড়ীর শামসুদ্দিন আহমেদের নাতি ও তার বাবার নাম মামুদুল। সে অক্সফোর্ড বেবী কেয়ার স্কুলের প্লে’র ছাত্র।

শুক্রবার দুপুরে বাড়ীর পাশে  বাইসাইকেল চালাতে গিয়ে পার্শ্ববর্তী পুকুরে পড়ে যায়। এরপর অনেক  খুজাখুঁজির পর জামিমকে পাওয়া যায় নি। পরে তাকে উপস্থিত লোকজন পানিতে ভাসতে দেখে উদ্ধার করে উপজেলা কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক  তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জামিমের মৃত্যুতে আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

দোহারে সন্ত্রাসী নয়ন বাহিনীর সদস্য গ্রেপ্তার

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী গ্রুপ নয়ন বাহিনীর অন্যতম সদস্য জহুরুল ইসলামকে (২৫) শনিবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি।

দোহার থানার সহকারী উপপরিদর্শক মো. মাসুদ জানান, শনিবার দুপুর ২টার দিকে পুলিশ গোপনে সংবাদ পায়। পরে পূর্ব সুতারপাড়া গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে জহুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। সে সন্ত্রাসী গ্রুপ নয়ন বাহিনীর অন্যতম সদস্য ও এলাকার মাদক ব্যবসায়ী।

জহুরুল দোহার থানার ২০০৯ সালে অস্ত্র মামলার আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আসামি।  সে সুতারপাড়া গ্রামের সানোয়ার হোসেনের ছেলে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি দোহারের ভি পি কামাল

0

নিউজ৩৯ঃসম্প্রতি বিএনপি ঘোষিত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দোহারের জামালচরের সন্তান কামাল হোসেন। তবে আগের কমিটিতেও তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে রাজপথের লড়াকু সৈনিক ও মেধাবী ছাত্রনেতা হিসাবে পরিচিত কামাল হোসেন খান মূলতঃ দোহারে ভিপি কামাল নামে পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা মহানগরী ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া আবুজর গিফারী কলেজ, ঢাকার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন তিনি তার অমায়িক ও সদালপী ব্যবহারের কারণে ভিপি নির্বাচিত হন। এছাড়া বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পছন্দের ছাত্র নেতা হিসাবেও তিনি পরিচিত।
নিউজ৩৯ এর সাক্ষাতে তিনি জানান, পূর্বের ন্যায় আন্দোলন সংগ্রামে কে থাকবে আর কে থাকবে তা চিন্তা না করে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার নির্দেশ পালনে রাজপথে থেকে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করতে তিনি ও ছাত্রদল প্রস্তুত আছে বলে জানান। এছাড়া দোহার নবাবগঞ্জের উন্নয়নে তিনি দল মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এদিকে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মিরা ভিপি কামালকে কেন্দ্রীয় ছাএদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত করায় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বাঁধের দাবীতে মানববন্ধন : চলছে পোস্টারিং

0

নিউজ৩৯.নেট ♦ আগামী ২২ অক্টোবর পদ্মা নদীতে ভাঙনের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ডাকা মানবন্ধনকে সফল করতে কাজ করেছে দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট(ডিএনএসএম)। এই উদ্দেশ্যে পোস্টার লাগানো শুরু করা হয়েছে।

দোহারের তরুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা দোহার নবাবগঞ্জের সকল মানুষের কাছে এই উদ্যোগের কথা পৌছে দিতে করছে পোস্টারিং, চলছে হ্যান্ডবিল বিলি। সেই সাথে সাধারন মানুষের কাছে এই মাটি রক্ষার আবেদন আরো জোড়ালো ভাবে তুলে ধরতে কাল থানার মোড় থেকে কলেজ মার্কেট পর্যন্ত দেয়ালে দেয়ালে সাটানো হয়েছে পোস্টার।

এছাড়া দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্টের অফিসিয়াল গ্রুপ( https://www.facebook.com/groups/dn.social.movement/ ) ও ইভেন্ট পেজ পদ্মা নদীতে বাঁধের দাবীতে তরুণ প্রজন্মের উদ্যোগে দোহার উপজেলা কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ( https://www.facebook.com/events/862789883755788/ ) এর মাধ্যমে চলছে জন সংযোগের কাজ।

ডিমওয়ালা মাছ শিকার: এভাই হারিয়ে যাবে পদ্মার ইলিশ?

0

নিউজ৩৯.নেট  সবার অলক্ষ্যে দোহারের নয়াবাড়ি ইউনিয়নে ধরা হচ্ছে মনকে মন ইলিশ। সরকারি নিষেধ অমান্য করে প্রতিদিন ধরা হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ মন ডিম অলা ইলিশ। নয়াবাড়ি ইউনিয়নের স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের ইন্ধনে চাদপুরের জেলেদের দাদন দিয়ে ধরানো হচ্ছে এই ডিম অলা ইলিশ। সবার অলক্ষেই হুমকির মুখে পড়ে যাচ্ছে এই জাতীয় সম্পদ।

এই সময় নদীতে ডিম ছাড়ার উদ্দেশ্যে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ মাছ নদীতে প্রবেশ করে। ইলিশ মাছের প্রজনন সময় হওয়ার কারনে সরকার এই সময় ইলিশ মাছ ধরা ও বিক্রয় সম্পূর্ণ রুপে নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু সরকারের এই নির্দেশের তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রভাবশালিদের ছত্রছায়ায় ধরা হচ্ছে মনকে মন ডিম ওলা ইলিশ। পাচার হয়ে যাচ্ছে এই ইলিশ রাতের অন্ধকারে। 

নয়াবাড়ির স্থানীয় সুবল হাওলাদার,  ধুলসুরার মহি খান গ্রুপের প্রত্যক্ষ  ইন্ধোনে ধরা হচ্ছে ইলিশ। চাঁদপুরের জেলেদের দাঁদন দিয়ে ইলিশ ধরতে বাধ্য করছে এই গ্রুপটি। জানা যায়, তাদের সাথে জড়িত আছে নয়াবাড়ি ইউনিয়নের এক ইউপি মেম্বার।

তারপর নিজেরা পাইকারি ২৩০ টাকা দরে ইলিশ কিনে নিয়ে যাচ্ছে নিজেদের মোকামে। সেখান থেকে তা ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ মন ডিম অলা ইলিশ ধরেছে।

এছাড়া স্থানীয় ছোট জেলেরাও মাছ ধরার এই সুযোগ ছারছে না। প্রতিদিন তারা ধরছে দুই থেকে তিন মন ডিম অলা ইলিশ।

সুবল হাওলাদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি নিউজ৩৯-এর সাথে কথা বলতে রাজি হন নি। এবং মুহি খানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ছেলেরা কেউ নিউজ৩৯-এর সাথে কথা বলতে রাজি হন নি।

দোহার থানার সাথে কথা হলে অফিসার ইন চার্জ নিউজ৩৯-কে জানান, তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন এবং সেই সাথে তারা পদ্মায়  যেন ইলিশ শিকার পুরোপুরি বন্ধ হয় সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।