দোহারের মাহমুদপুরে বেড়িবাঁধের কাজ শুরু

ঢাকার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের পদ্মার ভাঙন ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমুল হক।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, জাতিসংঘের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের অর্থায়নে প্রাথমিক পর্যায়ে মাহমুদপুরের আবাসন থেকে কাটাখাল পর্যন্ত প্রায় সোয়া কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এতে প্রায় ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

পদ্মা কলেজে বিজয় দিবস উদযাপন

নিরব মন্ডল, নিউজ৩৯.নেট ♦ দোহার উপজেলার পদ্মা ডিগ্রি কলেজে বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ ইন্সপেক্টর মান্নান খান।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ মুজিবুর হায়দার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আইনজীবী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম উজ্জল, বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল দাস সহ আরো অনেকে।

অনুষ্ঠানে অতিথিদের অংশগ্রহনে দেয়ালিকা প্রকাশ করা হয়। এ সময় বক্তারা শিক্ষার্থীদের সামনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরেন। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শিলাকোঠা ও মেঘুলা মাদ্রাসা জঙ্গী প্রজনন স্থান যাতে না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিন- রজ্জব মোল্লা

0

শিলাকোঠা ও মেঘুলা মাদ্রাসা যাতে জঙ্গী প্রজনন স্থান যাতে পরিনত না হয় সে দিকে সরকারের সজাগ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন দোহার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রজ্জব মোল্লা। ১৬ ডিসেম্বর দোহার উপজেলা পরিষদ ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন। দোহারের মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, দেশে ধীরে ধীরে স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্থানী প্রেতাত্বা জামায়াত শিবিরের ছায়া তলে যে জঙ্গীদের উত্থান হচ্ছে সে ব্যাপারে সরকারকে নজর রাখতে হবে। সেই সাথে দোহারের মেঘুলা মাদ্রাসা ও শিলাকোঠা মাদ্রাসার ছায়াতলে যেন কোন জঙ্গীর উত্থান না হয় সেদিকেও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

দোহারে আওয়ামী লীগের গ্রুপিং উদ্দেশ্য করে রজ্জব মোল্লা আই জি আর এম এ মান্নান ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা দুই জনে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব নিরসনের উদ্দ্যোগ নিন। তা নাহলে স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি এই দ্বন্দ্ব থেকে ফায়দা লুটবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সালমা ইসলাম ও টিএনও সুপরিকল্পিত ভাবে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি বাদ দিয়েছে- আব্দুর রহমান আকন্দ

0

টিওএনও ও জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম সুগভীর চক্রান্তের মাধ্যমে আজকের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের ব্যানার থেকে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি বাদ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন দোহার উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান আকন্দ। তিনি অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির নেতা কর্মীদের দ্বারা সাধারন মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার ও অভিযোগ করেন।

দোহারে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে দাওয়াত পান নি স্থানীয় রাজনীতির দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা মান্নান খান ও মাহবুবুর রহমান। এই নিয়ে আগে থেকেই উত্তেজিত ছিল দোহারের আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। এর ভিতরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির ব্যানারে শেখ মুজিবর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি না থাকায় ক্ষিপ্ত হয় আওয়ামী লীগ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আব্দুল মান্নান খান যুবলীগের নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে অনুষ্ঠানে  হাজির হন এবং বক্তব্য শুরু করলে তিনি ব্যানারে শেখ মুজিবর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি না থাকার ব্যাপারটা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে যুবলীগের নেতাকর্মীরা মঞ্চে উপস্থিত হয়ে ব্যানার ছিরে ফেলেন। এই ব্যাপারে যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান আকন্দ বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানে এমন এক জনের ছবি নাই যে না জন্মালে দেশই জন্মাতো না। এটা আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও টিএনও ও সালমা ইসলাম সেই ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা না নিয়েও আমাদের কথা অগ্রাহ্য করেন। সালমা ইসলাম আজ জয়পাড়ার মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের আপমান করে গেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের না নিয়ে তিনি তার নেতাকর্মীদের নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তলন করেছেন যা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগ মেনে নেয় নি। তাই তারা আজ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের এই অনুষ্ঠানে দাওয়াত পান নি দোহারের অন্যতম তিন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান খান, জজ এম এ মান্নান ও মাহবুবুর রহমান। তাদের এই দাওয়াত কেন দেওয়া হলো না তা আজ আওয়ামী পরিবার জানতে চায়। দোহার উপজেলা টিএনও ও সালমা ইসলাম মিলিত ভাবে দোহারে আজ এই বিশৃক্ষলা সৃষ্টি করেছে।

দোহারে মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনায় অতিথির তালিকায় নেই মান্নান খান, জজ মান্নান, মাহবুব

0

দোহার উপজেলা প্রশাসন ও দোহার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আয়োজিত দোহার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনায় অতিথি হিসাবে দাওয়াত আওয়ামী লীগের দুই মুক্তিযোদ্ধা নেতা সহ তিন প্রভাবশালী মুক্তিযোদ্ধা। এরা হলেন আওয়ামী লিগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, সাবেক দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান ও আই জি আর এম এ মান্নান।

এদের মধ্যে মাহবুবুর রহমান ছাড়া আর সবাই উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের মহা নায়ক মুক্তিযোদ্ধাদের এই  অনুষ্ঠানে এই মুক্তিযোদ্ধাদের দাওয়াত না দাওয়া নিয়ে সৃষ্ঠি হয়েছে ধুম্রজাল। এ নিয়েই শুরু হয়েছে মুলত ঝামেলা। তার উপর মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা কর্মীদের নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তলন করে এই পরিস্থিতি আরো উসকে দেন সালমা ইসলাম। ফলস্রুতিতে তার সামনেই দোহার উপজেলা যুবলীগের নেতা কর্মীরা তার ব্যানার ছিড়ে ফেলে। এর পর মান্নান খানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠান মঞ্চ ত্যাগ করে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা কর্মীরা।

দোহারে এমপি সালমা ইসলামকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা

0

নিউজ৩৯♦ দোহার উপজেলা প্রশাসন ও দোহার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের উদ্যোগে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি না থাকা নিয়ে অনুষ্ঠান বয়কট করেছে দোহার উপজেলা যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ। অনুষ্ঠানের মুল ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি না থাকা নিয়ে এই দ্বন্ধের সূত্রপাত।

দোহার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল ও দোহার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ১ আসনের এম পি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট সালমা ইসলাম এম পি। এসময় অনুষ্ঠানে দোহারের সাবেক এম পি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আব্দুল মান্নান খান ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমানকে কেন দাওয়াত দেওয়া হয়নি তা নিয়ে তর্ক শুরু হয়। এক পর্যায় ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি নেই কেন জানতে চাইলে তার কোন উত্তর দিতে না পারায় ব্যানার ছিরে ফেলে দোহার উপজেলা যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান খান । তিনি যুবলীগের নেতৃবৃন্দকে চুপ থাকতে বলেন। এসময় আব্দুল মান্নান খান অনুষ্ঠান বর্জন করে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ ত্যাগ করেন।

এসময় দোহার উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান আকন্দ একান্ত সাক্ষাৎকারে নিউজ৩৯ কে বলেন, সালমা ইসলাম প্রতি পদে পদে আজ মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানিত করেছেন। আজকে জয়পাড়া হাই স্কুলের প্যারেড গ্রাউন্ডের জাতীয় পতাকা মুক্তিযোদ্ধা ও তার উঠানোর কথা থাকলেও সব নিয়ম নীতি ভঙ্গ করে তিনি স্থানীয় জাতীয় পার্টির কিছু ফটকা নেতা নিয়ে পতাকা উত্তলন করেন। যা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অপমান ছাড়া আর কিছুই নয়।

দোহারের আজকের এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মুখ করতে পারে বলে মনে করছেন দোহারের বিশিষ্ট জনেরা।

নদী ভাঙ্গন কবলিত শীতার্ত মানুষের পাশে দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট

0

নিউজ৩৯♦ নদী ভাঙ্গন কবলিত শীতার্ত মানুষের পাসে দাড়ানোর উদ্দ্যোগ নিয়েছে দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট(ডিএনএসএম)। পদ্মার ভাঙ্গনে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া শীতে অসহায় এই সব মানুষের পাশে এসে দাড়ানোর জন্য ডিএনএসএম আয়োজন করেছে চল কম্বল হাতে, নদী ভাঙ্গন কবলিত অসহায় শীতার্তদের পাশে। এরই মাঝে শুরু হয়ে গেছে ইভেন্টের কার্যক্রম। আগামী বছরের প্রথম দিনেই অসহায় এই শীতার্তদের হাতে কম্বল তুলে দিতে কাজ করে যাচ্ছে ডিএনএসএমের কর্মীরা। এরই মাঝে আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন জায়গা থেকে অনুদান। নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ ৫০০ পরিবারের ঘরে কম্বল পৈছে দেয়ার এই মহৎ উদ্দ্যোগ নিয়েছে ডিএনএসএম এর তারুন্যে উদীপ্ত তরুনেরা।

এরই মাঝে ফেসবুক কেন্দ্রীক যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে। এই কাজের উদ্দ্যেশ্যে ফেসবুকে খোলা হয়েছে চল কম্বল হাতে, নদী ভাঙ্গন কবলিত অসহায় শীতার্তদের পাশে নামক একটি ইভেন্ট( https://www.facebook.com/events/1550332338517346/?ref=notif&notif_t=plan_user_joined )। এছাড়া সহায়তা চাওয়া হচ্ছে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা দোহার নবাবগঞ্জের প্রবাসী ভাইদের কাছে।  ইতিমধ্যে তারাও ইতিবাচক সারা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ডিএনএসএমের অন্যতম সংগঠক কামরুল ইসলাম নিউজ৩৯ কে এই শীত বস্ত্র প্রোগ্রাম সম্পর্কে বলেন, নদী ভাঙ্গন কবলিত এই চির দুখী মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছে থেকেই ডিএনএসএম এর উদ্ভব। নদী ভাঙ্গন কবলিত এক সময়ের আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল এই পরিবারগুলোর কাছে এখন একটা শীত নিবারনের জন্য কম্বল ক্রত করাও অনেক ক্ষেত্রে বিলাসিতা হয়ে গেছে। সব সময় সরকারের নজরের বাইরে থাকা এই অসহায় মানুষের জন্য আমরা তরুওনদের কিছু করার প্রচেষ্টা থেকেই শীত বস্ত্র বিতরনের উদ্যোগ।  আশা করছি নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধের আন্দোলনে সবাই যেমন আমাদের ডাকে সারা দিয়েছে তেমনি আমাদের এই প্রোগ্রামেও সবাই স্বতঃস্ফূর্ত ভাব্র সারা দিবে।

ইছামতি নদীতে আগে লঞ্চ চলত, এখন মশার ডিপো

0

কাজী সোহেল♦ নদীর নাম ইছামতী। এক সময় মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা থেকে ঢাকার নবাবগঞ্জ হয়ে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান পর্যন্ত এই নদীতে লঞ্চ চলত। এখন নৌকাও চলতে পারে না। কোথাও একদম পানি নেই, কোথাও হাঁটু-পানি থাকলেও কচুরি পানায় ঢেকে আছে। হাজা-মজা এই নদী এখন মশার বসতি।

পদ্মা নদী থেকে ইছামতীতে পানি প্রবেশের যেসব খাল ছিল, সেগুলো বেদখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি। এখন শুধু ভরা বর্ষায় ইছামতীতে ধলেশ্বরী নদীর পানি ঢুকলেই কিছু নৌকা চলতে পারে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান খন্দকার সামসুদ্দোহা বলেন, সরকারের নদী খনন প্রকল্পের ইছামতী প্রথম তালিকায় আছে। ইছামতী নদী খননে ড্রেজার পাঠানো হয়েছিল কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে তা বন্ধ রয়েছে। তবে শিগগিরই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাবেক গণ-পরিষদের সদস্য ও নবাবগঞ্জের বাসিন্দা সুবেদ আলী টিপু বলেন,  ১৯৭২ সালে কোমরগঞ্জ থেকে মরিচা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার খনন করা হয়েছিলো। ধলেশ্বরী নদীর সঙ্গে সংযোগ দেয়া হয়। ফলে ঢাকার সঙ্গে কলাকোপা বান্দুরার নদীপথের দূরত্ব কমে আসে। সারা বছর নৌযান চলাচল করত ইছামতীতে। পরে ১৯৭৭ সালে তত্কালীন ঢাকা-১-এর সংসদ সদস্য ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন নরুল হক ইছামতী নদী খনন করে ছিলেন।

এ অঞ্চলের কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা জানান, ১৯৯৬ সালে সরকার ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলাকে পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করতে দোহারের অরঙ্গবাদ থেকে মানিকগঞ্জের হাট-পাড়া বংখুরী পর্যন্ত ১৩ কিমি বাঁধ নির্মাণ করে। এতে ইছামতির সঙ্গে পদ্মার সংযোগ খালে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।

এলাকাবাসী জানান, পদ্মার সঙ্গে যুক্ত নবাবগঞ্জের সাদাপুর খাল, আড়িয়ল বিলের গোবিন্দপুর খাল, কার্তিকপুর ও কাশিয়াখালী বাঁধ দিয়ে ইছামতিতে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগ স্থানেই নদী শুকিয়ে গেছে। তবে নদীর সৈয়দপুর, মরিচা, ভাঙ্গাভিটা, হরিস্কুল, কলাকোপা পোদ্দার বাজার, ধাপারী, গোল্লা, গোবিন্দ পুর, বান্দুরা, নয়ানগর, বারুয়াখালী ও শিকারী পাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে সামান্য পানি জমে আছে। তবে সেসব স্থান কচুরিপানা ও মশার ডিপোতে পরিণত হয়েছে।

বান্দুরা বাজারের ব্যবসায়ী সত্যরঞ্জন হালদার বলেন, আগে নৌপথে কম খরচে বেশি মালামাল বহন করা যেত। এখন সড়ক পথে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ তার ওপর চাঁদা প্রদানসহ  নানা কারণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। এতে ব্যবসায় লাভ হচ্ছে খুব কম। পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। নদী খনন করা হলে স্বল্প খরচে নৌযানে মালামাল বহন করা যাবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শহীদ-উল্লাহ বলেন, ইছামতী নদীর পানি প্রবাহ সচল রাখতে পরিকল্পিত খনন করা প্রয়োজন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আলমগীর হোসেন বলেন, ইছামতী নদী খননের বিষযটি সরকারকে অবহিত করা হয়েছে। ঢাকা-১ আসনের এমপি এডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে।

৩ বছরেও পূর্ণতা পায়নি দোহারের পোদ্দার বাড়ি মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘর

0

নিউজ৩৯♦ দীর্ঘ প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হলেও আজও পুর্ণতা পায়নি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত ঢাকার দোহার উপজেলার রাইপাড়া ইউনিয়নের পোদ্দার বাড়িতে স্থাপিত একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘর। আশ্বাসের পরও র্দীঘ এ সময়ে সরকারি আর্থিক বরাদ্দ না পাওয়ায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দোহার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও পোদ্দার বাড়ি স্মৃতি জাদুঘরের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা।

 

পোদ্দার বাড়ি মুক্তিযোদ্ধা সমিতি জাদুঘরের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যে সুত্রে জানা যায়, টাকার অভাবে পোদ্দারবাড়ি মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরের কাজ সম্পূর্ণ করা যাচ্ছে না। সরকারি বরাদ্দ পেলে এর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যেত।

জানা যায়, ২০১২ সালে ১৪ মার্চ পোদ্দার বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর এর কাজ সম্পন্ন করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সাবেক নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-আমীন এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেন এবং মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের দোকান বিক্রয় বাবদ প্রায় ১০ লাখ টাকা এ পর্যন্ত এর আংশিক উন্নয়নে ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে আর্থিক সংকটে এর অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে মুক্তিযোদ্ধারা চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এর উন্নয়নে দ্রুত সরকারি বরাদ্দের দাবি জানান।

বর্তমানে পরিত্যক্ত বাড়িটি অরক্ষিত থাকায় স্থানীয় বখাটে ও মাদকসেবীরা এখানে মাদক ও নানা অপকর্ম করা বলে জানিয়ে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন, আমরা সব কিছু জানালেও এর কোন প্রতিকার করতে পারছিনা। প্রতিকার করতে হলে অতিদ্রুত এর বাকি উন্নয়ন কাজ শেষ করা জরুরী। কিন্তু টাকার অভাবে তা আর হচ্ছে না। তারা অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এর উন্নয়নে বাঁধা হয়ে দাড়াচ্ছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী খান অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ তিন বছরের সরকারি কোন আর্থিক বরাদ্দ না পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরটির উল্লেখ্যযোগ্য কোন উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন বলেন, আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের হাজার স্মৃতি জড়িত এই বাড়িটির সাথে। এখান থেকেই আমরা পাকহানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তির সংগ্রাম ঝাঁপিয়ে পড়ি। আমরা চাই এর অবশিষ্ট কাজ যেন দ্রুত শেষ করা হয়। তিনি বিজয়ের ৪৩ বছর পর মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত এই স্থাপনাটি রক্ষার্থে একই দাবি জানান।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ১৯৭১ সালে দোহার উপজেলার এই বাড়িটির ভিতরে অবস্থান করে ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ ও মনিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা সুসংগঠিত হয়ে পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করতেন।

স্থানীয়রা তৎকালীন হিন্দু সম্প্রদায়ের গোত্রের (বংশ) নামানুসারে সবাই একে পোদ্দারবাড়ি বলে চিনেন। পোদ্দারদের অগাধ সম্পতি আর আর্থিক অবস্থা উন্নত হওয়ায় এলাকায় তাদের উল্লেখ্যযোগ্য প্রভাব ছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন পাকহানাদার বাহিনী দোহার উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালালে পোদ্দাররা তাদের পৈত্রিক বাড়ি ও অগাধ সম্পতি ছেড়ে প্রতিবেশী দেশ ভরতে চলে যায়। এরপর পরিত্যক্ত এই বাড়িটি হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের শক্ত ঘাটি।

পোদ্দারবাড়ি যুদ্ধের পর হতে সরকারি সম্পত্তিটি হিসাবে বিবেচিত হয়। আর এখানে অবস্থান করতেন সরকারি সব আমলরা। র্দীঘদিন এখানে তফসিল অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ সপরিবারে বসাবাস করতেন। কিন্তু হঠাৎ স্থানীয় এক বাসিন্দা সরকারি সম্পত্তিটি লিজ নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা তাতে বাধাঁ দেন। কেননা বাড়িটি ঘিরে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মৃতি। তাই এই স্মৃতিকে ধরে রাখতে গত ২০১২ সালে মুক্তিযোদ্ধোদের আবেদনের প্রেক্ষিত সাবেক দোহার উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বাড়িটি মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘর করার ঘোষণা দেন এবং সে অনুযায়ী পোদ্দারবাড়ি বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরের নিজস্ব সম্পত্তি হিসাবে বিবেচিত।

দোহার উপজেলার বর্তমান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল কবীর ভূঁইয়া বলেন, খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোহারে বাড়ছে ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা

0

নিউজ৩৯♦ শীত বাড়ার সাথে সাথে দোহারে ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাও বাড়ছে উদ্বেগ জনক হারে। প্রতিদিনই ঠান্ডায় আক্রান্ত নবজাতক বা শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে হাজির হচ্ছেন নবব্জাতকের মা বাবারা। বিভিন্ন ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত এই শিশুদের অভিভাবকদের পদ ভারনায় সব সময় মুখর হয়ে থাকে দোহার উপজেলার বিভিন্ন হাঁসপাতালগুলো। বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লেগেই রয়েছে এই সব অসুস্থ শিশুদের অভিভাবকদের।

সরজমিনে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন অভিভাবক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাদের বাচ্চা নিয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য দারিয়ে আছে। এর মধ্যে শিলাকোঠা থেকে ৫ মাসের শিশু তারেককে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসা তার মা নাজিয়া আক্তার নিউজ৩৯ কে জানান, তার ছেলেকে তিনি ঠান্ডা জনিত কারনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারের কাছে এসেছেন। এরকম আরো বেশ কিছু অভিভাবকের সন্ধান পাওয়া যায় যারা দোহারের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উপস্থিত হয়েছেন এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

এই ব্যাপারে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাক্তার মনিরুজ্জামান বলেন, হটাত শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে বাচ্চারাও ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন টান্ডা জনিত রোগে প্রচুর রোগী আসছে। মুলত শিশু আর বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। প্রতিদিন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রায় ১০০ শিশুকে আমরা শীত জনিত রোগের ব্যাপারে পরামর্শ ও ওষুধ দিচ্ছি।

এই ব্যাপারে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আর এম ও মোঃ জসিম নিউজ৩৯ কে জানান, শীতের এই প্রকোপে অসুস্থ্য শিশুদের চিকিতাসার বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এবং এই সব শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা হাসপাতাল নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নিয়েছে।