১৪ বছরেও দোহার পৌরসভায় নেই আধুনিক নাগরিক সুবিধা

0

ঢাকার দোহার উপজেলার জয়পাড়া, রাইপাড়া ও সুতারপাড়া ইউনিয়নের আংশিক অংশ নিয়ে ২০০০ সালে গঠিত হয় দোহার পৌরসভা। সে বছর ২৬ সেপ্টেম্বর প্রথম এবং শেষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছিল পৌরবাসী। বিগত ১৪ বছর পূর্বে নিবার্চন অনুষ্ঠিত হলেও এরই মাঝে কেটে গেছে এক যুগের বেশি। এলাকাবাসী আধুনিক যে সব সুযোগ সুবিধা পাবে বলে আশা করেছিল তার কিছুই পাচ্ছে না।

সীমানা জটিলতা ও নামকরণ নিয়ে আদালতে মামলা ঝুলে থাকায় আর কোন নির্বাচনও হয়নি কেটে গেছে প্রায় ১৪ বছর। এরই মধ্যে পৌরসভাটি ১ম শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও কোনো নাগরিক সুবিধা দিতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ।  

পৌর বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌর এলাকার রাস্তা জুড়ে খানাখন্দ আর গর্তে ভরা। নেই প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পাবলিক টয়লেট, সুপেয় পানির সরবরাহ ব্যবস্থায়, ট্রাফিক, পরিচ্ছন্ন কর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী। ডোবা নালার পচা পানিতে মশা মাছির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এমন অবস্থায় শুধু করের বোঝা বহন করছে পৌরবাসী। সড়কবাতি থাকলেও তা নিন্মমানের।

দোহার পৌরসভার ২০১৪/১৫ অর্থ বছরের বাজেটে ৩৫ কোটি ৩৪ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৭ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাজেট পেশ করেন মেয়র আব্দুর রহিম মিয়া। বাজেটে নিজস্ব আয়ের লক্ষমাত্রা ধরা হয় ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার অধিক। উন্নয়ন খাতে আয়ের লক্ষ্য ২৬ কোটি ৩১ লাখের অধিক এবং ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ৯২ লাখের অধিক। 

দোহারের বাসিন্দা সম্মিলিত নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হ.আ.ম ওয়াদুদ বলেন, পৌরসভার কোনো সুযোগ সুবিধা না পেলেও করের বোঝা বহন থেকে মুক্তি নেই নাগরিকদের।

জয়পাড়ার রাকিব উদ্দীন রুবেল বলেন, পৌরসভা এলাকায় থাকি এটা মনেই হয় না। শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। 

পৌর এলাকার বাসিন্দা শ্রমিক হারেস বলেন, ১৪/১৫ বছর আগে একবার ভোট দিয়েছি, আর কেউ ভোট নিতে আসলো না। মশা মাছির জ্বালায় ঘরে থাকা যায় না। কিসের পুরসভা। কোনো রকমে থাকি আর কি। 

ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য কমরেড করম আলী বলেন, নির্বাচন হলে মেয়র ও কাউন্সিলরা উন্নয়ন কাজে উদ্যমী হতো। নতুন প্রতিনিধি হলে কাজের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা থাকত। এখন তো আর ভোটের দরকার নেই। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। গাড়ি তো দূরের কথা হেঁটে চলাও দায়।

এ ব্যাপারে দোহার পৌর মেয়র আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, কিছু সমস্যা আছে। খুব শীঘ্রই রাস্তাঘাটসহ নাগরিক সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেয়া হবে

নবাবগঞ্জে চালককে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই

0

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় পলাশচন্দ্র কির্ত্তনিয়া (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে তার মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাতে উপজেলার হরিষকুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত পলাশ হরিষকুল গ্রামের জলধর কির্ত্তনিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ১০টার দিকে পলাশ নবাবগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেলযোগে হরিষকুল নিজ বাড়িতে ফিরছিল। হরিষকুলের লোকনাথ মন্দিরের সামনে এলে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে পলাশের পিঠে কোপ দেয়।

ফুলতলায় হেরোইনসহ ৩ যুবক আটক

0

নিউজ৩৯♦ ঢাকার দোহার উপজেলায় ৩০ পুরিয়া হেরোইনসহ ৩ যুবককে আটক করেছে থানা পুলিশ। গত সোমবার সন্ধ্যার পর দোহার উপজেলার ফুলতলা বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়। 

আটককৃতরা হলেন, আছির উদ্দিনের ছেলে মো. শাহীন দেওয়ান (২৮), খলিল মোল্লার ছেলে সোহাগ (২৭), খলিল শেখের ছেলে মো. জিল্লুর রহমান (২২)। তারা সবাই দোহার উপজেলার রাইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। 

দোহার থানার সহকারী উপপরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম লিটন বলেন, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে হেরোইনের ব্যবসায় জড়িত। দোহার থানার ওসি মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, এ ব্যাপারে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

নবাবগঞ্জের পশ্চিম অঞ্চলে বাবা সন্ধানে ছেলেরা!

0

নবাবগঞ্জের পশ্চিম অঞ্চলে সন্ধার পরে বাবার সন্ধানে ছেলেরা ঘুরাঘুরি করে এক এলাকা থেকে  অন্য এলাকায়। তবুও যেন সন্ধার পরে মিলছে না বাবার সন্ধান। সন্ধা পেরিয়ে রাত হলে অনেক খুজাখুজি পরে অনেকে সন্ধান পায় বাবার। তার পরেও আবার বাবার দাম আকাশ-পাতাল। এরকম বাবা সংকটে পড়ছে নবাবগঞ্জের পশ্চিম অঞ্চলের যুবক ছেলেরা। প্রতিদিন যেসব ছেলেদের কমপক্ষে ৪/৫ পিচ বাবা ছাড়া চলে সেইসব ছেলেরা এখন পড়ছে বিপদে। এ যেন ১০ নং মহাবিপদ সংকেত। যাও আবার মিলছে বাবার সন্ধান দিতে হয় দিগুন দাম। 

বাবার খোঁজে দিশে হারা হয়ে পড়ছে ছেলেরা। আগে যেখানে সেখানে ছেলেরা খুজে পেতেন বাবার সন্ধান কিন্তু বর্তমানে যেখানে সেখানে খুঁজ মিলছে না বাবার। নবাবগঞ্জে পশ্চিম অঞ্চলের জন্য বাবা যেন এখন আমাবর্ষার চাঁদ হয়ে গেছে। এমনই তথ্য দিয়েছে নবাবগঞ্জের পশ্চিম অঞ্চলের বারম্নয়াখালী এলাকার এক ইয়াবা সেবী।

নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক অন্য এক ইয়াবাসেবী জানায়, বারম্নয়াখালী ইউনিয়নের মাদলা এলাকায় থেকে ২৮ এপ্রিল সোমবার দুপুরে সুভাষ বিশ্বাস নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ৬ মাসের কারাদন্ড দেওয়ায় পশ্চিম অঞ্চলের অন্যান্য ইয়াবা ব্যবসায়ীরা গা ঢাকা দিয়েছে। বন্ধ রাখছেন মোবাইল মিলছে না বাড়ি গিয়েও। তিনি আরো জানায় আগে মোবাইলে ওডার করলেই সহজেই মিলতো বাবার সন্ধান কিন্তু সুভাষর জেল হওয়ায় সব বাবা ব্যবসায়ীরা মোবাইল বন্ধ রেখেছে। ছেলেরা বাসায় গিয়েও খুজে পাচ্ছেন না বাবার সন্ধান। 

নবাবগঞ্জের পশ্চিম অঞ্চলে যে দামে বিক্রি হয় বাবা: ইয়াবাকে ছদ্মনামে সংশিস্নষ্ট চক্রের সদস্যরা বাবা, চম্পা এবং আর-সেভেন নামে বলে থাকে। তিন ধরনের ইয়াবার রঙ, কার্যকারিতা এবং দামে রয়েছে বেশ পার্থক্য। অনুসন্ধানে জানা যায়, ইয়াবার মধ্যে চম্পা ক্যাটাগরিটি সবচেয়ে কমদামি এবং কম কার্যকর। খয়েরি রঙের প্রতিটি চম্পা ইয়াবার দাম পাইকারি বাজারে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। খুচরা বিক্রি হয় ১২০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। ইয়াবা-বাবা ক্যাটাগরিটি মধ্যম মানের গাঢ় লাল রঙের ইয়াবার নাম বাবা। এই বাবার প্রতিটির পাইকারি দাম ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা এবং খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। এছাড়া আর-সেভেন ইয়াবাটি সবচেয়ে দামি। কমলা-গোলাপি রঙের আর-সেভেন এবং সিঁদুর রঙের ইয়াবার প্রতিটির পাইকারি দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খুচরায় এগুলো বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। কিন্তু পশ্চিম অঞ্চলে ইয়াবার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চলে চম্পা ক্যাটাগরি ইয়াবাটি এর প্রধান কারন এটির মূল্যে কম সহজে যে কারো কাছে পাওয়া যায়।

এক তথ্যে যানা গেছে বাংলাদেশে ইয়াবা সেবনকারীর সংখ্যা ১৫ লাখ, আর ইয়াবা ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১২ লাখ। বারম্নয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান মামুন খান বলেন, আমার ইউনিয়নকে শতভাগ মাদক মুক্ত করার লড়্গে আমি সর্বত্র কাজ করে যাচ্ছি। এজন্য ইউনিয়নবাসীর সকরেই আমার সঙ্গে একসাথে কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ভবিষৎত প্রজন্মকে রড়্গা করতে হলে এখনি মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরম্ননদের ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য অভিবাবকদের সর্বড়্গন ছেলেদের প্রতি নজরে রাখতে হবে।  

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সায়েদুর রহমান বলেন, পুলিশের নানাবিধ দায়িত্ব পালনের কারণে সব সময় একই ধারায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। মাদক নির্মূলে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নবাবগঞ্জে অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।

সায়েদুর রহমান বলেন, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্য মাদকের পক্ষে সামান্য অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করলে তাকে কঠোর শাসিত্ম পেতে হবে। মাদক সমস্যা কেবল নবাবগঞ্জে নয়, এ সমস্যা বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ব্যাপক হারে মাদক উৎপাদন হওয়ায় পুরোপুরি এসব রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। নবাবগঞ্জে মাদক কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় সে লক্ষ্যে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ কাজ করছে।

ডিএনএসএমের শীতবস্ত্র বিতরণ প্রকল্প: প্রথম ধাপে আসছে অর্ধ লক্ষ টাকার কম্বল

0

দোহারের নদী ভাঙ্গন কবলিত মানুষের কাছে শীত বস্ত্র পৌছে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল দোহারের তারুনদের প্লাটফর্ম ডিএনএসএম তার প্রথম ধাপে আজ ঢাকা থেকে অর্ধ লক্ষ টাকার কম্বল দোহারে এসে পৌছেছে।

দেশ বিদেশ থেকে অভূত পূর্ব সাড়া পাওয়া ডিএনএসএমের এই কার্যক্রমের প্রথম ধাপে আজ দোহারে এসে পৌছেছে এই কম্বল। 

ইতিমধ্য নদী ভাঙ্গন কবলিত মানুষদের কাছে শীত বস্ত্র পৌছে দেয়ার এই কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দোহার নবাবগঞ্জের সর্ব স্তরের মানুষ। তারা আশা করেন পরবর্তীতে দোহার নবাবগঞ্জের অসহায় মানুষদের পাশে সব সময় ডিএনএসএম থাকবে। 

ইছামতিতে নাব্যতা সংকট; দ্রুত খননের দাবি

0

কাজী সোহেল♦ নদীর নাম ইছামতি। একসময় মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা থেকে ঢাকার নবাবগঞ্জ হয়ে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান পর্যন্ত নদীতে লঞ্চ চলতো। এখন নৌকাও চলতে পারে না। কোথাও একদম পানির দেখা নেই, সামান্য কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও তা কচুরিপানায় ঢাকা। আর এর থেকে পচনে সৃষ্টি হয়েছে দুর্গন্ধ আর মশার বসতি।

পদ্ম নদী থেকে ইছামতিতে পানি ঢোকার বিভিন্ন খাল দখল, ভরাট ও বাঁধ সৃষ্টি করায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এখন শুধু ভরা বর্ষায় ইছামতিতে ধলেশ্বরী নদীর পানি ঢুকলেই কিছু নৌকা চলতে পারে। এ অবস্থায় ইছামতিকে বাঁচাতে বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত খননের দাবি করা হয়েছে।

সাবেক গণ-পরিষদের সদস্য ও নবাবগঞ্জের বাসিন্দা সুবেদ আলী টিপু বলেন, ১৯৭২ সালে ইছামতিকে সচল করতে কোমরগঞ্জ থেকে মরিচা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার খনন করা হয়েছিলো। ধলেশ্বরী নদীর সঙ্গে সংযোগ দেয়া হয়। ফলে ঢাকার সঙ্গে কলাকোপা বান্দুরার নদীপথের দূরত্ব কমে আসে সারা বছর নৌ-চলাচলের জন্য ইছামতি সচল থাকে। পরে ১৯৭৭ সালে তত্কালীন ঢাকা-১ এর দোহার সংসদ ও নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন নুরুল হক ইছামতী নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খনন করেছিলেন।

এ অঞ্চলের কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা জানান, ১৯৯৬ সালে সরকার ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলাকে পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করতে দোহারের অরঙ্গবাদ থেকে মানিকগঞ্জের হাট-পাড়া বংখুরী পর্যন্ত ১৩ কি.মি. বাঁধ নির্মাণ করে। এতে ইছামতির সঙ্গে পদ্মার সংযোগ খালে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।

দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ এন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মানবেন্দ্র দত্ত বলেন, ইছামতিটি খনন করা হলে পরিবেশ দূষণমুক্ত হবে, পাশাপাশি স্কুল-কলেজের পরিবেশ ভাল থাকবে। তাই  খুব শিগগিরই  এর খনন দরকার।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটি) চেয়ারম্যান খন্দকার সামসুদ্দোহা বলেন, সরকারের নদী খনন প্রকল্পের ইছামতি প্রথম তালিকায় আছে। ইছামতি নদী খননে ড্রেজার পাঠানো হয়েছিল কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে তা বন্ধ রয়েছে। তবে খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিয়ে ইছামতিকে সচল করা হবে।

ঢাকা-১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে  কথা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আলমগীর হোসেন বলেন, ইছামতী নদী খননের বিষয়টি সরকারকে অবহিত করা হয়েছে।

নবাবগঞ্জের ভাঙ্গাপাড়া সেতুটির বেহাল দশা

0

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাঙ্গাপাড়া গ্রামের ব্রিজটির বেহাল দশা প্রায় ৩ বছর । প্রতিদিন ব্রিজটি দিয়ে চার থেকে পাঁচ হাজার লোক  ঝুঁকির মধ্য দিয়ে চলাচল করছে। এলাকাবাসী জানায়, ২০০২ সালে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের পাঁচ বছর পর ব্রিজের দুপাশের রেলিং ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে। এরপর আর ব্রিজটি সংস্কার করা হয়নি। 

স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া জানান, কিছুদিন আগে মারুফ নামে ৪ বছরের এক শিশু ব্রিজ থেকে পড়ে আহত হয়।  বারুয়াখালির ইউনিয়নের কৃষক নেতা মো. আলি বলেন, ব্রিজটি দিয়ে  প্রতিদিন অসংখ্য রিক্সা, ভ্যান, ইজিবাইক, বাইসাইকেল চলাচল করে।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ার ফলে যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।নবাবগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শ্রী ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ মোবাইল ফোনে জানান, দ্রুত দরপত্র আহবান করে ব্রিজটি সংস্কারে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করা হবে।

নবাবগঞ্জে আওয়ামী লীগের হরতাল বিরোধী মিছিল

0

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় হরতালবিরোধী মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন। সোমবার দুপুরে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার শহীদ মিনারে এসে মিছিলটি শেষ হয়। 

এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, খালেদা জিয়ার সন্ত্রাসীর বরপুত্র ও দুর্নীতির মহানায়ক মামলায় পলাতক আসামি তারেক রহমান লন্ডনে বসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে যে কটূক্তি করেছে তার জন্য তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি দিতে হবে। তারা আরও বলেন, আগামী ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র রক্ষা দিবস হিসেবে মাঠ নিজেদের দখলে রাখার জন্য নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকতে হবে। নেতারা খালেদা জিয়ার ষড়যন্ত্রকে রুখতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। 

বিক্ষোভ মিছিলটির নেতৃত্ব দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আলীগ নেতা মোসলেম দেওয়ান, হুমায়ন কবির, ইব্রাহীম খলিল, মোশারফ হোসেন জুয়েল, সুবেদুজ্জামান সুবেদ, শাহিন খান, গিনি মৃধা, দেওয়ান তুহিনুর রহমান, জিয়াউর রহমান জিয়ন, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান রনি, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাইফুল ইসলাম, কৃষক লীগের সভাপতি জাহিদ হায়দার উজ্জ্বল, সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার কবির, দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ অ্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন সিকদার প্রমুখ।

নবাবগঞ্জ থেকে অপহৃত স্কুলছাত্র দোহারে উদ্ধার

0

ঢাকার নবাবগঞ্জে এক স্কুলছাত্রকে অপহরণের একদিন পর অভিযান চালিয়ে দোহার থেকে উদ্ধার করেছে  পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় দোহার উপজেলার কার্তিকপুর বাজারের কাছ থেকে অপহৃত নয়ন বিশ্বাসকে (৯) উদ্ধার করা হয় বলে নবাবগঞ্জ থানার এসআই আবুল বাশার জানিয়েছেন। নয়ন নলগোড়া গ্রামের নিমাই মেম্বারের ছেলে ও নলগোড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্র।এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

এসআই আবুল বাশার বলেন, “ গত ১৫ ডিসেম্বর তার বাসায় রাখালের কাজ করতে আসে আলামিন (২৭)। সে ওই বাড়িতে মিথ্যে বলে হিন্দু পরিচয় দিয়ে কাজ নেয় এবং নিজের নাম বলে হৃদয়। “রোববার বিকালে সে কাউকে কিছু না বলে শিশু নয়নকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ হিসাবে ৫ লাখ টাকা দাবি করে।”এসআই আবুল বাশার জানান, নয়নের পরিবার রোববার রাতে বিষয়টি নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে জানান।

পরে নবাবগঞ্জ থানার এসআই আবুল বাশার ও সোহেল রানা রোববার রাত ১০টা থেকে ফরিদপুর জেলার চরভদ্রসন থানার সালেপুর, হাজারভিঘা, মজিদহাটি বাজারে অভিযান চালিয়ে মোবাইল ট্র্যাকিং করে সোমবার নয়নকে উদ্ধার করে।

এসআই আবুল বাশার বলেন, “হরিরামপুরের হাজার বিঘা বাজার থেকে মোবাইল কলের সূত্র ধরে আলামিনের শ্বশুর ফেলু মৃধা (৫২) ও শ্যালক জাহিদকে (১৮) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।“

পরে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার বসন্তপুর গ্রাম থেকে অপহরণকারী আল-আমিনের বাবা বশির খানকে (৫৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নবাবগঞ্জ থানায় আটক করে আনা হয়। নয়নকে অপহরণের পর আল-আমিন তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিল।”

“আটকদের সঙ্গে অপহরণকারীর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আলাপ হয়, আমরা তা মোবাইল ট্যাক এর মাধ্যমে সনাক্ত করেছি,” বলেন এসআই বাশার

পদ্মার চরে হিউম্যান এইডের উদ্দ্যোগ স্বাস্থ্যসেবা

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মার ভাঙনের শিকার। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই জনপদের মানুষ বারবার ভাঙনের শিকার হয়ে ভিটেমাটি হারিয়ে আজ অনেকটা নিঃস্ব। তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পর্যুদস্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাই একটু সহযোগিতার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকেন এই জনপদের মানুষ।

বর্তমানে এই জনপদের শিশু-বৃদ্ধসহ সব বয়সের মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পত্রপত্রিকায় এ বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সাহায্য সহযোগিতার জন্য এগিয়ে এসেছে অনেক সংগঠন ও ব্যক্তি।

বিজয় দিবস উপলক্ষে অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দি হিউম্যান এইড ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায় মানুষের কল্যাণে উপজেলার বটিয়া গ্রামে আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী চিকিৎসাসেবার। এ ধরনের আয়োজন দেখে মুগ্ধ এলাকার ছোট-বড় সবাই। তাই সকাল থেকে দোহার উপজেলার সব শ্রেণী-পেশার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে ছুটে আসেন। চিকিৎসাসেবা যেখানে দুর্বল সেখানে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে, তা অবশ্যই মহতী ও ব্যতিক্রম উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেন এলাকার লোকজন।

শুক্রবার সকাল ১০টায় বটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে ফ্রি চিকিৎসাকার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জয়পাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন আহমেদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দারিদ্র্য ও জনবহুল দেশ হওয়ায় আমাদের দেশের অনেকেই উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। এখনো মানুষ চিকিৎসার জন্য ছুটে যায় ফকির আর কবিরাজের কাছে। অথচ বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা গ্রহণ করলে এক দিকে যেমন হয়রানি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, অন্য দিকে রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত হয়।

তিনি আয়োজকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে পদ্মাবেষ্টিত এলাকা দোহারের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে এসেছেন, তা যেন আগামীতেও অব্যাহত থাকে। এক সপ্তাহ আগে থেকে এলাকায় প্রচার-প্রচারণা করায় শত শত রোগী সকাল থেকেই ভিড় করেন চিকিৎসা ক্যাম্পে। নির্দিষ্ট সময় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করায় রোগীর সংখ্যা বেশি হলে চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে কোনো বেগ পেতে হয়নি চিকিৎসকদের।

দশজন চিকিৎসক সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। সেই সাথে রোগীদের বিনা মূল্যে ওষুধ ও ব্যবস্থাপত্র তুলে দেয়া হয়। 

পদ্মার ভাঙনে বসতভিটা হারানো জয়নাল নামে এক ব্যক্তি ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে এসে আনন্দিত। তিনি জানান, যারা সমাজের অবহেলিত মানুষের কথা ভেবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তারাই প্রকৃত মানুষ।

বিলাসপুর এলাকা থেকে আব্দুল হামিদ নামে ষাটোর্ধ্ব এক রোগীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমাদের সমাজব্যবস্থা যত দিন টিকে থাকবে মানুষ মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসবে। এলাকার মুরব্বিরা বলেন, এ ধরনের ক্যাম্প নিয়মিত করা হলে চিকিৎসা সুবিধাবঞ্চিত মানুষজন সামান্য হলেও উপকৃত হবে।

অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা জানান, ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে দি হিউম্যান এইড ফাউন্ডেশন নামে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়েছি আমরা। আগামীতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে আরো ব্যাপকভাবে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে জানান আয়োজকেরা। দি হিউম্যান ফাউন্ডেশনের সভাপতি বলেন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে আমরা মানুষের ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই অনেক দূর। সবার সহযোগিতা পেলে আগামী এক যুগে দেশের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে ঠাঁই পাবে।

ফ্রি চিকিৎসাক্যাম্পে চিকিৎসা প্রদান করেন ডা. আরাফাত বাপ্পী, ডা. আহমেদুল হক, ডা. ইমরান খান, ফারজানা হোসাইন, ডা. সোনালী আক্তার, ডা. শাহাদাদ হোসেন প্রজ্ঞা ও সত্যপ্রিয়। চিকিৎসকেরাও বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করতে পেরে মুগ্ধ হয়েছেন বলে জানান।