দোহারের মৈনটঘাট-কার্তিকপুর সড়ক চলাচল অনুপযোগী

0

ঢাকার অদূরে দোহারের পদ্মা নদীতে মৈনটঘাট থেকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন ঘাটে ফেরি চলাচলের সব ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় ঘাটটি। সোমবার রাতে একটি ছোট ফেরিও এসে মৈনটঘাটে ভিড়েছে। কিন্তু দোহার অংশে কার্তিকপুর থেকে মৈনটঘাট পর্যন্ত প্রায় ৩ কিমি. রাস্তায় সংস্কার কাজের কোনো উদ্যোগ নেই। রাস্তার এ অংশটি এখন গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমনকি রাস্তায় কোনো ইট ও খোয়া নেই। শুধু ধুলাবালির স্তূপে ভরা।

সরেজমিনে মৈনটঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একটি ফেরি ভিরে আছে মৈনটঘাটে। কিন্তু পদ্মা পার হয়ে যে রাস্তায় ঢাকার সঙ্গে বাস চলাচল করবে সে রাস্তাটিই পড়ে আছে বেহাল অবস্থায়। ধুলাবালির স্তূপ মারিয়েই চলতে হচ্ছে পথচারীদের। গাড়ি চলাচলের সময় ইঞ্জিনে ধুলো গিয়ে বিকল হয়ে যায়। আর সর্বক্ষণই ধুলার কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের নাকাল অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। মৈনট এলাকার বাসিন্দা আ. মজিদ বলেন, হুনছি খুব তাড়াতাড়ি এখানে ফেরিঘাট হবে। কিন্তু রাস্তা ঠিক না অইলে গাড়ি কেমনে চলবে। সড়কটি মেরামত করা দরকার।

যমুনা বাস সার্ভিসের চালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, পেটের দায়ে এ রাস্তায় গাড়ি চালাই। ধুলাবালিতে গাড়ির যন্ত্রপাতির সঙ্গে যাত্রীরাও নাজেহাল হয়ে পড়ে।

বিআইডব্লিউটিএর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পদ্মার মৈনট-চরভদ্রাসন ফেরিঘাটে ফেরি চালু হবে খুব শিগগিরই । তবে তার আগে রাস্তাঘাট সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ফেরি চালুর বিষয়টি শুনেছি। তবে কবে নাগাদ হবে তা জানি না। রাস্তার কাজের বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী খায়রুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

স্মার্টফোনে আসক্তি কমানোর উপায়

0

বিখ্যাত গ্রাফিতিশিল্পী ব্যাঙ্কসির আঁকা ‘মোবাইল লাভার্স’ নামের এই দেয়ালচিত্রে আধুনিক মানুষদের স্মার্টফোনে আসক্তিকে বিষয় করা হয়েছে।স্মার্টফোনে আসক্তি এখন পরিবার ও সামাজিক পরিসর, এমনকি কর্মক্ষেত্রেও সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। আড্ডা তো বটেই, কাজের আলাপের সময়ও কারও কারও চোখ পড়ে থাকে স্মার্টফোনে! চারপাশে কী হচ্ছে, সেসবে যেন খেয়াল করেন না তাঁরা। প্রাত্যহিক কিছু চর্চার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে এই স্মার্টফোনে আসক্তি কমিয়ে আনা সম্ভব। এ বিষয়ে সিএনএন অবলম্বনে এক চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীর কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হলো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোনের এই আসক্তি অনেকটাই সংক্রামক। কোনো ঘরে বা কোনো আড্ডায় কেউ একজন হাতে স্মার্টফোন তুলে নিলে দ্রুতই অন্যরাও একে একে হাতে নিয়ে তাতে নজর বুলাতে শুরু করেন। চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী ক্যাথেরিন স্টাইনার-অ্যাডায়ার সিএনএনকে বলেন, অনেক মানুষেরই কিছুক্ষণ পরপর স্মার্টফোন চেক করার বাতিক আছে। প্রতিটি নোটিফিকেশন, লাইক, কমেন্ট এসব যেন তাঁদের মস্তিষ্কে একটা আনন্দ সংবাদের মতো প্রতিক্রিয়া করে এবং তাঁরা উদগ্রীব হয়ে ফোন দেখতে শুরু করেন।

স্মার্টফোনে আসক্তি কমানোর জন্য নিয়মিত কিছু চর্চার জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:

১. প্রয়োজনীয় কথাবার্তার বাইরে স্মার্টফোনে সামাজিক যোগাযোগের জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে নেওয়া। ধরা যাক, রাতের খাবারের পর ১৫ মিনিট।

২. বাড়িতে কিছু ‘স্ক্রিন-মুক্ত এলাকা’ তৈরি করা, যেখানে কেউই স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট ইত্যাদি নিয়ে মেতে থাকতে পারবেন না।

৩. স্মার্টফোনে ব্যয় করার সময়টুকু শিশুদের সঙ্গে কাটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া, শিশুদের সময় দেওয়া।

৪. যেসব কাজ শিগগিরই শেষ করতে হবে, তার একটা তালিকা কাগজে লিখে রাখুন। কাগজটি স্মার্টফোনের সঙ্গে রেখে দিন, যাতে ফোন তুলতে গেলেই ওই কাজের তালিকায় চোখ যায়।

৫. অনলাইনে শেয়ার করতে হবে এমন লেখালেখিগুলো অফলাইন থাকা অবস্থাতেই শেষ করে নিন।

৬. অপ্রয়োজনীয় সব নোটিফিকেশন বন্ধ করে রাখুন, বিশেষ প্রয়োজন থাকলে ব্যতিক্রমের তালিকা আপডেট করে কেবল তাঁদের নোটিফিকেশনই চালু রাখুন।

৭. নির্দিষ্ট কাজের সময়গুলোর জন্য টাইমার সেট করে রেখে বিরক্তিকর অ্যাপসগুলোর অ্যাকসেস ও নোটিফিকেশন অফ করে রাখুন।

৮. ‘মোমেন্ট’-এর মতো কোনো একটা অ্যাপস ডাউনলোড করে নিন, যা আপনাকে দিনে কতবার ফোন তুলে নিচ্ছেন তা মনে করিয়ে দেবে এবং আপনাকে এই কাজে নিরুৎসাহিত করবে।

৯. আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, আপনাকে ‘একঘেয়ে লাগা’ ও ‘ভালো না লাগা’র মতো অনুভূতিগুলোর সঙ্গেও কিছুটা সময় মানিয়ে চলতে শিখতে হবে, এসবে অভ্যস্ত হতে হবে।

শিগগিরই ইছামতি নদী পুনঃখনন শুরু হবে : অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম

0

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, এ সরকারের আমলেই ইছামতি নদী পুনঃখনন করা হবে। এক সময়ের স্রোতস্বিনী ইছামতি এখন মরা নদী। বেশি দিন আগে নয়, এ নৌপথে বড় বড় জাহাজ, স্টিমার চলত। ইছামতি হয়ে নৌযান যেত পদ্মা নদীতে। কিন্তু ইছামতি এখন শুকিয়ে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীনির্ভর পরিবারগুলো নিদারুণ দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। দোহার-নবাবগঞ্জবাসী আমাকে সহায়তা করলে শিগগিরই ইছামতি খনন প্রক্রিয়া শুরু হবে। 

গত শনিবার দুপুরে দোহার উপজেলার ইকরাশী কিড্স কেয়ার একাডেমিতে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নে পাঁচ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন এবং নগদ ২০ হাজার টাকা কমিটির হাতে তুলে দেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার শিক্ষায় অগ্রগতি সাধনে বছরের প্রথমই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দিয়েছে। তিনি এ সময় মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল করিম ভূইয়া, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল খান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক সিরাজুল ইসলাম সেরু, নুরুল ইসলাম, প্রবীণ সাংবাদিক ফারুকুল ইসলাম। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট ড. শহিদুল ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন। 

বান্দুরায় গরু দৌড় প্রতিযোগিতা

0

ঢাকার নবাবগঞ্জে রোববার বিকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বান্দুরা ইউনিয়নের মৌলভীডাঙ্গী একতা সংঘের উদ্যোগে গরু দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকাল ৪টায় উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সাজিয়ে রাঙিয়ে ছোট-বড় মিলে ১০-১২টা গরু দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। 

বসন্তের বিকালে সূর্য যখন গোধূলী লগ্নে ঠিক সেই মুহূর্তে শত শত নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণী গরু দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে ভিড় জমায়। মাঠের চারপাশে নানা পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এ গরু দৌড় প্রতিযোগিতা যেন শত বছরের স্মৃতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

নবাবগঞ্জের গোবিন্দপুরে ইয়াবাসহ ব্যবসায়ী আটক

0

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৮০ পিস ইয়াবাসহ পারভেজ আহম্মেদ (২২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‍্যাব-১১। শুক্রবার রাতে উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক পারভেজ আহম্মেদ গোবিন্দপুর গ্রামের মো. তৈনুদ্দিনের ছেলে। 

র‍্যাব-১১ সহকারী কমান্ডার এএসপি মংনে থোয়াই মারমার নেতৃত্বে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোবিন্দপুর এলাকায় অভিযান চালায় র‍্যাব-১১-এর একটি দল। এ সময় ওই এলাকার ছাত্তারের পানির পাম্পের টিনের ঘরে মাদক বেচা-কেনা করার সময় পারভেজ আহম্মেদ নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ৮০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

পরে রাতেই নবাবগঞ্জ থানায় তাকে হস্তান্তর করা হয়। নবাবগঞ্জ থানার ওসি সায়েদুর রহমান জানান, শুক্রবার রাতে ইয়াবাসহ পারভেজ নামে একজনকে থানায় হস্তান্তর করেছে র‍্যাব। তার নামে নবাবগঞ্জ থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে।

দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজের অনার্স ক্লাশ উদ্বোধন

0

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ দোহার-নবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স কাসের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে দোহার-নবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সেমিনারকক্ষে-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

এতে অধ্যক্ষ মানবেন্দ্র দত্তের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু। বিশেষ অতিথি ছিলেন নবাবগঞ্জ প্রেসকাবের সভাপতি মো. ইব্রাহীম খলিল, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. হুমায়ুন কবির।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপাধক্ষ মো. আনোয়ার হোসেন, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুল জলিল, খান ইফতেকার আল-ফারুকী প্রমুখ।

নবাবগঞ্জে ৩ বাড়িতে অগি্নকাণ্ডে ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি

0

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় পাশাপাশি ৩ বাড়িতে আগুন লেগে রান্না ঘরসহ ৫টি ঘর পুড়ে গেছে। আসবাবপত্র ও নগদ টাকাসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার আগলা ইউনিয়নের কালুহাটি গ্রামে সাইজদ্দিনের বাড়ির ঘরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কালুহাটি গ্রামের সাইজদ্দিনের বাড়ির লোকজনের চিৎকার শুনতে পায় স্থানীয়রা। এসময় এলাকাবাসী সাইজদ্দিনের ঘরে আগুন দেখতে পায়। এরপর আগুন দ্রুত পার্শ্ববর্তী বাড়ির রুহুল আমিন ও জাকির হোসেনের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা ৪ ঘন্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও ততক্ষণে ৩ পরিবারের রান্না ঘরসহ ৫টি ঘর, নগদ টাকা ও ঘরে থাকা আসবাবপত্র পুড়ে যায়।

নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

নবাবগঞ্জে সিডিউল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ

0

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় দেড় কোটি টাকার কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। তবে ঠিকাদারদের কাছে সিডিউল বিক্রিতে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী কার্যালয় ও ঠিকাদার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ ফেব্র“য়ারি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৩৬টি কাজের উন্নয়ন প্রকল্পের সিডিউল বিক্রির কথা ছিল। বিধি মোতাবেক বিকাল ৪টা পর্যন্ত ঠিকাদাররা সিডিউল কিনতে অপেক্ষা করে। এ সময়ের মধ্যে কাউকেই তা কিনতে দেয়া হয়নি। ৪টার পর থেকে সিডিউল বিক্রি শুরু করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। এ সময় বিপুলসংখ্যক ঠিকাদার সিডিউল কিনতে ভিড় জমান। রাত ১২টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে অনেকেই কিনতে সক্ষম হন। পরের দিন দরপত্র জমা দানের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয় দুপুর ১টা পর্যন্ত। কিন্তু এ স্বল্প সময়ে অনেক ঠিকাদার তাদের দরপত্র জমা দিতে পারেননি। যারা দরপত্র জমা দিয়েছেন তাদের বেশিরভাগই উপজেলা প্রকৌশলীর আস্থাভাজন ঠিকাদার। এ অবস্থায় উপজেলা প্রকৌশলী ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেছেন কতিপয় ঠিকাদার। দুইদিন ধরে তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের প্রশ্ন, ১৬ ফেব্র“য়ারি বিকাল ৪টা পর্যন্ত দরপত্র বিক্রির শেষ সময় থাকলেও তিনি কেন তা কিনতে দেননি? এছাড়া বিক্রির সময় রাত ১২টা পর্যন্ত বাড়ানো হলেও জমার সময় বাড়াননি। কারণ তার আস্থাভাজন ঠিকাদারদের দিয়ে কাজগুলো পাইয়ে দেয়ার কৌশলেই তিনি এসব অনিয়ম করেছেন। বৃহস্পতিবার নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে মেসার্স দ্বীপ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, সব ঠিকাদারের স্বার্থে ও কাজের স্বচ্ছতার জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বানের দাবি জানাই। মেসার্স শুভ অপু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খলিলুর রহমান বলেন, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও পুনঃদরপত্র আহ্বান করতে হবে। নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ বলেন, কোনো অনিয়ম হয়নি। বিকাল ৪টার আগে থেকে ঠিকাদাররা লাইনে ছিল তাই সিডিউল বিক্রিতে রাত হয়েছে। তবে ১৬ ফেব্র“য়ারি সকাল থেকে কেন সিডিউল বিক্রি হয়নি এ প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি তিনি।

দোহারে সাড়ে ৩ বছরের শিশুকে বলাৎকার

0

ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের মধুরচর গ্রামের নিলয় হোসেন নামের এক সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশুকে বলাৎকার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করছেন শিশুটির মা নাছিমা বেগম। 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩রা ফেব্রুয়ারি সকালে নিলয় হোসেনকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে নিজ ঘরে নিয়ে বলাৎকার করে তার প্রতিবেশী সিরাজ মিয়ার ছেলে শামীম হোসেন (১৫)। এ সময় নিলয় চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। দীর্ঘদিন শিশুটি হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ভর্তি ছিল। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার সকালে নিলয়ের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে দোহার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।  

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দোহার থানার পিএসআই নাজনীন আক্তার বলেন “শিশুটির মা এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে”।

দোহার-নবাবগঞ্জে হাত বাড়ালেই মাদক

0

ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলায় মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এখানে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যায়। প্রতি ১ কি.মি. রাস্তায় ২-৩টি করে মাদকের স্পট রয়েছে। মাদকাসক্তের কারণে এলাকার আইনশৃংখলা, পারিবারিক কলহ, খুনের ঘটনা বেড়ে চলছে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।

নবাবগঞ্জের বাসিন্দা চলচ্চিত্র অভিনেতা জামিলুর রহমান ওরফে শাখা বলেন, এক সময় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন উচ্চবিত্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল কিন্তু এখন তা সবার হাতের নাগালে। এ কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত যুবকদের মধ্যেও মাদকের বিস্তার ঘটছে। দোহার-নবাবগঞ্জে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, বাংলামদসহ নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে আসক্ত হয়ে পড়ছে তরুণ সমাজ। মাদকের ছোবল থেকে শিশু, কিশোর, তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ কেউ বাদ যাচ্ছে না।

দোহার-নবাবগঞ্জ মাদকে ছড়াছড়ি হলেও প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনেকটাই হিমশিম খাচ্ছে। নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরের আশপাশের তিনটি গ্রামের প্রায় শতাধিক যুবক ও ছাত্র মাদকাসক্ত হয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। এর মধ্যে ১০-১৫ জন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় ঘুরছে।

মাদক বিস্তারের কারণ: দোহার-নবাবগঞ্জের পুরুষ অধিবাসীদের শতকরা প্রায় ৮০ জন প্রবাসী। ছেলে-মেয়েদের উঠতি বয়সে বাবার শাসন থেকে তারা মুক্ত। ছেলে-মেয়েরা তাদের সহজ-সরল মাকে স্কুল-কলেজের বেতন কিংবা পোশাক-প্রসাধনী কেনার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিয়ে নেশাখোর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠে। ফলে নিজের অজান্তেই মাদকের বিষাক্ত থাবায় নিজেকে সঁপে দেয়।

সরেজমিন জানা গেছে, দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলায় মাদকের প্রধান স্পট প্রায় ৬০টি। ভাসমান স্পটের সংখ্যা প্রায় দুই শতাধিক। এসব জায়গায় হাত বাড়ালেই ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল, বাংলা মদ পাওয়া যায়। মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও রিকশায় চলন্ত অবস্থায়ও মাদকের বেচাকেনা হয়ে থাকে। এসব মাদক ব্যবসায় জড়িত আছেন রাজনৈতিক অনেক কর্মী। যাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে গড়ে উঠছে মাদকের আখড়া

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বান্দুরা এলাকার এক শিক্ষক জানান, মাদকের ভয়াবহতায় ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে পাঠাতেও ভয় হচ্ছে।

দোহার উপজেলা: মুকসেদপুর ট্রলারঘাট, নারিশা ট্রলারঘাট, মৈনট ট্রলারঘাট, বাহ্রা ট্রলারঘাট দিয়ে দোহারে মাদকের প্রবেশ ঘটে বলে স্থানীয়রা জানায়।

সূত্র জানায়, ভারতীয় সীমান্ত থেকে পাচার হয়ে বাংলাদেশের ভেতরে যেসব মাদক রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ করে এসব ট্রলারঘাট তারই নিরাপদ রুট।

মেঘুলা, জয়পাড়া বাজার ভূতের গলি, উপজেলা সদর, বাহ্রা ঘাট, মৈনট আবাসন প্রকল্প, দক্ষিণ শিমুলিয়া, অরঙ্গবাদসহ বিভিন্ন স্থানে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাদক সরবরাহ ও বিক্রি করে থাকে। রাইপাড়ার মনা, সাগর, জয়পাড়ায় হকুম আলী, বাবুল, সুতারপাড়ার রাকিব, রোমান এবং বাহ্রাঘাটে উজ্জ্বল শিকদার ও শিমুলিয়ায় লিটন এ ব্যবসা পরিচালনা করে বলে এলাকাবসীর অভিযোগ।

নবাবগঞ্জ উপজেলা: উপজেলায় শোল্লা ইউনিয়নের সাবেক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, এখানকার রুপার চর গ্রামকে মাদকের শহর বলা হয়ে থাকে। কাশিয়াখালী বেড়িবাঁধ এলাকা, পুরাতন বান্দুরা, নতুন বান্দুরা, গালিমপুর, চুড়াইন, আগলা, কৈলাইল, বলমন্তচর, আলগীরচর, আজিজপুর মাদকের কেনা-বেচা অন্যতম স্পট। এসব এলাকা মাদকের হাট নামেও পরিচিতি রয়েছে বলে জানা যায়। চুড়াইন এলাকার শামীম, বাবু, ছাতিয়ার আমান, বান্দুরার মফিজ, আবু, মনির কসাই, কুঠুরির তুহিন মাদক ব্যবসায় জড়িত রয়েছে।

এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সায়েদুর রহমান বলেন, মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নেই।