বিশ্বের সবচেয়ে দামি ব্র্যান্ড ‘অ্যাপল’

 

বিশ্বের সবচেয়ে দামি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপল’। বর্তমানে অ্যাপলের ব্রান্ড মূল্য ১৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইন্টারব্রান্ড র‌্যাংকিংয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ‘অ্যাপল’ই বিশ্বের সবচেয়ে দামি প্রতিষ্ঠান।ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের সাম্প্রতিক এক খবরে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির ব্রান্ড মূল্য সাধারণত তিনটি উপাদান বা বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এই র‌্যাংকিং করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে আর্থিক সক্ষমতা, ক্রেতাদের পণ্য ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিতে ব্র্যান্ডের ভূমিকা এবং প্রতিযোগিতায় ব্র্যান্ডের সক্ষমতা টিকিয়ে রাখা। এগুলোর মধ্যে ব্র্যান্ড কীভাবে ব্যবসা সম্প্রসারণে বা পণ্য ক্রয়ে ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত নিতে ভূমিকা রাখে সে বিষয়টিরও ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইন্টারব্র্যান্ড র‌্যাংকিংয়ে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের র‌্যাংকিংয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি ব্র্যান্ডগুলো এগিয়ে রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১৪টি ব্র্যান্ডের বাজার মূল্য ছয়শ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

বিভিন্ন ব্রান্ডের প্রবৃদ্ধির চিত্রইন্টারব্র্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন টেকনোলজির পরিচালক জনি ট্রিন বলেন, ‘এসব প্রযুক্তি ব্যান্ড আমাদের কাজের সংজ্ঞা, পথ ও জীবনযাপন পদ্ধতি বদলে দিয়েছে এবং এই পরিবর্তন অব্যাহত রয়েছে।’

শীর্ষ ব্র্যান্ডের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ‘গুগল’। যার বর্তমানে বাজার মূল্য ১৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যাত্রা শুরুর প্রথম বছরেই গুগল ব্র্যান্ড র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে অবস্থান করে। তখন গুগলের ব্র্যান্ড মূল্য ছিল মাত্র ৮ বিলিয়ন ডলার।

গুগলের প্রবৃদ্ধিএ তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে কোকো-কোলা। যার বর্তমান ব্র্যান্ড মূল্য ৭৩ বিলিয়ন ডলার। এছাড়াও শীর্ষ ১০টি ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে মাইক্রোসফট, টয়োটা এবং অ্যামাজন।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে কয়েকটি ব্র্যান্ডের আশ্চর্যজনক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যার মধ্যে ফেসবুকের ব্র্যান্ড মূল্য বেড়েছে ৫০ শতাংশ, অ্যামাজনের ব্র্যান্ড মূল্য তৃতীয় প্রান্তিকে ও লেগোর ব্রান্ড মূল্য প্রথম প্রান্তিকে বেড়েছে।

ইন্টারব্র্যান্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেজ ফ্রামটন বলেন, ‘ইন্টারব্র্যান্ড প্রধানত ব্যবসা, ব্র্যান্ড এবং প্রবৃদ্ধির মধ্যে সম্পর্কের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। যার মধ্যে সংস্কৃতি, সক্ষমতা, পণ্যের ধরন এবং অভিজ্ঞতা প্রাধান্য পায়। তবে ভালো ব্রান্ডগুলো যেকোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে এবং প্রকৃত ও দীর্ষস্থায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম।’

নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অজ্ঞাত চিকিৎসাধীন বৃদ্ধ

 

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯দিন ধরে চিকিৎসাধীন নাম না জানা ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। নার্সদের অনুরোধে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মহাকবি কায়কোবাদ মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা তার দেখাশোনা করছেন। তিনি ভারসাম্যহীন অবস্থায় আছেন, কথাও বলতে পারছেন না। স্কাউট সদস্যরা বিকালে নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে সংবাদকর্মীদের জানান।

গত ২৭ ডিসেম্বর উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের পাড়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঙ্গাহীন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। ঐ এলাকার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন তাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি চিকিৎসা খরচ বহন করে আসছেন বলে জানা যায়।

আমজাদ হোসেন বলেন, তাকে কৈলাইলের মালিকান্দা ও পাড়াগ্রাম বাজার এলাকায় আগেও দেখেছি। গত ২৭ ডিসেম্বর পাড়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঙ্গাহীন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। তাই মানবিকতার তাগিদে তার চিকিৎসার ভার নিয়েছিলাম। ১৬ কিলোমিটার দূর থেকে যাতায়াত করে তার সেবা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আমার অনুরোধে স্কাউট গ্রুপকে দেখশোনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

মহাকবি কায়কোবাদ মুক্ত স্কাউট গ্রুপের রোভার সদস্য মো. রাজু ইসলাম, মো. ফয়সাল, মো. সুজন জানান, কোন স্বজন নয়। নার্সদের ডাকে ছুটে এসেছি। মানবিকতার সেবা করছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। লোকটি কথা বলতে না পারায় পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। তাকে যত্ন সহকারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তার চিকিৎসায় শারিরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প চোখ রাঙ্গাচ্ছে বাংলাদেশকে !

0

বড় ধরনের ভূমিকম্প চোখ রাঙাচ্ছে বাংলাদেশকে। ভূগর্ভের যে দু’টি গভীর স্তর বা টেকটোনিক প্লেটের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ, সে দু’টি প্লেটের মধ্যে মৃদু সংঘর্ষের ফলে সম্প্রতি ভারতের ত্রিপুরা ও মায়ানামারের মাওলাইকে মাঝারি পাল্লায় ভূমিকম্প হওয়ায় এ শঙ্কা ভর করছে। প্লেট দু’টির সংযোগস্থল বা ফল্ট লাইনে যতো জোরে সংঘর্ষ বাঁধবে ততোই বাড়বে বিপর্যয়ের মাত্রা। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, মৃদু মৃদু সংঘর্ষের পর হঠাৎ বড় সংঘর্ষ হলে ভয়াবহভাবে কেঁপে উঠবে বাংলাদেশ তথা পৃথিবী, সোজা কথায় প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প!

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের গবেষক অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী দিলেন এ কড়া সতর্কতা।

সাতটি টেকটোনিক প্লেটের ওপর ভাসছে পৃথিবী। পৃথিবীর ভেতরের তাপ আর চাপে গতিশীল এ প্লেটগুলো। ফলে পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকেই এই প্লেটগুলো একটি অপরটির ভেতরে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা করছে বা ধাক্কা দিচ্ছে। যে জায়গায় এ সংঘর্ষ হয়, তাকে বলা হয় সাবসনিক জোন। এ রকমই দু’টি টেকটোনিক প্লেটের সাবসনিক জোনে রয়েছে বাংলাদেশ। এর একটি এশিয়ান প্লেট, আরেকটি ভারত এবং ভারত মহাসাগরীয় এলাকা নিয়ে গঠিত প্লেট।

মেহেদি আহমেদ আনসারীর মতে, এ দু’টি প্লেটের ফল্ট লাইন রয়েছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সিলেটের ডাউকিতে। দু’টি প্লেটের সংঘর্ষের ফলে এই ডাউকি ফল্ট ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইন্দো-বার্মা ফোল্ড বেল্টে (ত্রিপুরা-চট্টগ্রাম ফোল্ড বেল্ট) ৫ থেকে ৬ মিটার ভূচ্যুতি ঘটানোর মতো শক্তি অর্জন করেছে ভূগর্ভ স্তর। যেকোনো সময় বড় সংঘর্ষ হলে আঘাত হানতে পারে ভয়াবহ ভূমিকম্প, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা হতে পারে ৭ দশমিক ৫। আর এতো বড় ভূমিকম্প হলে ঘনবসতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাজধানী ঢাকা।

মেহেদি কিছু গ্রাফিক চিত্র দেখিয়ে তুলে ধরেন বিপদের শঙ্কার কথা। তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালে আসামে ৮ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তাতে ১ হাজার ৫৪২ জন মারা যান। ওই ভূমিকম্পে ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখানো হয়, হিমালয়ান অঞ্চলে (বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান-ভারত-মায়ানমার-তিব্বত-পাকিস্তান) সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিহাসও তারই পক্ষে বলে।গ্রাফউপরের ডান পাশে লক্ষ্য করলে দেখা যাচ্ছে, শিলং থেকে ইন্দো-বার্মা অঞ্চল লাল চিহ্নিত করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেখানো হয়েছে। আর বাম পাশে লক্ষ্য করলে দেখা যাচ্ছে, সেখানে লাল চিহ্নিত করে শিলং ম্যাসিফ অঞ্চল পরিচিত করানো হয়েছে। এই এলাকাটায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। গবেষণা মতে, ডান দিকের চিত্রে লাল চিহ্নিত (শিলং ম্যাসিফ) অঞ্চল থেকে ডেল্টা অঞ্চল (বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল) হয়ে ইন্দো-বার্মা ফল্ড বেল্টের দিকে ৯০ ডিগ্রি বাঁক নিয়ে ৫ থেকে ৬ মিটার ভূগর্ভ স্তরের চ্যুতি ঘটবে। এতে ঘটবে মারাত্মক ভূমিকম্প। এই অঞ্চলের আওতায় থাকার কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট এবং এর আশপাশের সকল স্থাপনা ধ্বংসের মুখে পড়বে।

বুয়েট ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (সিডিএমপি) এক সমীক্ষা প্রতিবেদন বলা হয়, ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হলে কেবল ঢাকা শহরের ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়বে। এতে দেশের অবস্থা হয়ে উঠতে পারে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের মতো।গ্রাফসাম্প্রতিক ছোট ছোট ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের আভাস উল্লেখ করে মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, ত্রিপুরায় ৫ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর মায়ানমারের মাউলাইকে ৫ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। এটা বড় ধরনের কাঁপুনির আভাস। আমাদের উচিত ভূমিকম্পের ব্যাপারে সচেতন হওয়া। যেহেতু প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে-কয়ে আসবে না। তাই উচিত হবে, যেসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আছে, তা দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া।

তিনি গার্মেন্টস সেক্টরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করতে তাদের সমীক্ষ‍ার চিত্র তুলে ধরে সবক্ষেত্রে এ সমীক্ষা চালানোরও পরামর্শ দেন। জানান, সমীক্ষার পর ঝুঁকিপূর্ণগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যসব ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে। হয় ভবন মজবুত করতে হবে, নতুবা পরিত্যক্ত ‍বা ভেঙে ফেলতে হবে।

মেহেদি আহমেদ আনসারী জানান, রানা প্লাজা ধসে যাওয়ার পর প্রায় ১০০টি কোম্পানি ট্রেনিং নিয়েছে বিল্ডিং পরীক্ষার ওপরে। সরকারের সহযোগিতা পেলে ১০০ থেকে ট্রেনিং দিয়ে ২০০ টিম করে দুই বছরে সব ভবন পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। সেজন্য সরকারকেই এ পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ গবেষক বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কমিটির মেম্বার হওয়ায় সেক্রেটরিয়েট মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেছি। বলেছি সব ভবন পরীক্ষা করাতে হবে বলে বিজ্ঞাপন দিতে হবে পত্রিকায়। তখন সাধারণ মানুষ তাদের ভবন পরীক্ষা করিয়ে নেবে।

জ্ঞানই মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের কারণ

0

জ্ঞান আল্লাহ তাআলার মহান দান। জ্ঞানের কারণেই মানুষ আল্লাহ তাআলার দরবারে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আল্লাহ তাআলা হজরত আদম আলাইহিস সালামকে জ্ঞান দান করে ফেরেশতাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করে তাঁকে সিজদার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

স্বীকৃত কথা হচ্ছে যার নিকট ইলম বা জ্ঞান থাকবে, তার শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা সর্ব মহলে সুপ্রতিষ্ঠিত। মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের কারণও এ ইলম বা জ্ঞান।

আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার সব প্রাণীকেই জীবন দান করেছেন। কিন্তু ইলম বা জ্ঞান না থাকার কারণে সব প্রাণী ভালো-মন্দ বিচার করতে পারে না।

এমনকি মানুষের মধ্যে যারা ইলম বা জ্ঞান অর্জনে ব্যর্থ তারাও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে ব্যর্থ। কারণ ইলম বা জ্ঞান না থাকলে আল্লাহ তাআলাকে চেনা-জানা বা তাঁকে ভয় করা যায় না। মানুষ কুরআনের ইলম বা জ্ঞান অর্জনের কারণেই আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে এবং অন্যায় কাজ থেকে বেঁচে থাকে।

তাফসিরে কবির-এ বৃষ্টিপাতের সঙ্গে উপমা দিয়ে মানুষের জ্ঞানার্জনের দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব লাভে ৫টি কারণ বর্ণনা করেছেন-

>> বৃষ্টি যেমন আসমান থেকে নাজিল হয়, তেমনি ইলম বা জ্ঞানও আসমান থেকে অবতীর্ণ হয়। যা মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব লাভের উপায়।

>> বৃষ্টিপাতের কারণে যেভাবে অনাবাদি জমি ফলফলাদি উৎপাদনে সক্ষশ হয়  তেমনি ইলম বা জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানুষ নৈতিক ও মানবিক গুণাবলী অর্জন করে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে।

>> জমিনে বৃষ্টি না হলে যেমন জমি আবাদ করা যায় না; ঠিক ইসলামের সঠিক ইলম বা জ্ঞান না থাকলে মানুষ দুনিয়ার কল্যাণ ও পরকালের মুক্তি লাভে আল্লাহ তাআলা ইবাদত-বন্দেগি করতে পারে না।

>> বৃষ্টিপাতের আগে বজ্র ধ্বনি ও বিদুৎ চমকের ফলে যেভাবে বৃষ্টি হয়, তেমনিভাবে জান্নাতের আশা ও জাহান্নামের ভয়ের ফলে মানুষ তাঁর অন্তর পবিত্র করতে ইলম অর্জন করে। যাতে মানুষ শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে।

>> বৃষ্টি যেমন অনেক সময় উপকারি আবার অনেক অপকারি, ঠিক তেমনি ইলমও ক্ষেত্র বিশেষ উপকারি এবং অপকারি। মানুষ তখনই আল্লাহ তাআলার দরবারে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে যখন মানুষ ইলম অনুযায়ী আমল করে। মানুষ তখনই লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয় যখন ইলম অর্জন করে না বা ইলম থাকা সত্ত্বেও আমল করে না।

দুনিয়া পরকালে ইলম বা জ্ঞান অর্জনকারীর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা অনেক বেশি। হাদিসে এসেছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি লাভকারী মানুষ দেখতে চায়, সে যেন আল্লাহ তাআলার দ্বীনের ইলম অর্জনকারী ব্যক্তির দিকে তাকায়।

তিনি শপথ করে বলেন, কোনো বিদ্বান বা জ্ঞানী ব্যক্তির দরজায় যখন কোনো জ্ঞান অন্বেষণকারী ইলম শিখতে যায়, তখন ইলম অর্জনকারীর প্রত্যেক পদক্ষেপের বিনিময় তাঁর আমলনামায় এক বছরের ইবাদতের সাওয়াব লেখা হয়।

জান্নাতে তার জন্য একটি শহর তৈরি করা হয়। সে যখন জমিনে বিচরণ করে, জমিন তার জন্যে আল্লাহ তাআলার দরবারে ক্ষমাপ্রার্থনা করে এবং তার উপর সকাল-সন্ধ্যা হয় এমন অবস্থায় যে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন। ফেরেশতারা সাক্ষ্য প্রদান করেন যে, তারা দোযখ থেকে নাজাত হাসিলকারী।

উপরের হাদিস থেকেও প্রতিয়মান হয় যে, জ্ঞান অর্জনকারী ব্যক্তিই তাকওয়াবান, শ্রেষ্ঠ এবং মর্যাদাবান। আল্লাহ তাআলা মুসলিমা উম্মাহকে ধর্মীয়জ্ঞানসহ সব ধরনের কল্যাণকর জ্ঞান অর্জন করে দুনিয়া ও পরকালের শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করা তাওফিক দান করুন। আমিন।

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই অসুস্থ্য

0

রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী ১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নবাবগঞ্জ উপজেলা। যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৫৭ জন মানুষের বসবাস। আর এই বিপুল সংখ্যক মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য রয়েছে উপজেলা পর্যায়ে ৫০শয্যা বিশিষ্ট ১টি সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

অপরিচ্ছন্ন পুরাতন ছেড়া চাদরের ভাংঙ্গা বেড , রোগীভর্তি ওয়ার্ড, নোংরা শৌচারগার, দালালদের উৎপাত, জনবলের সংকট ও ওষুধের স্বল্পতা যেখানে নিত্য দিনের চিত্র ।

রোগীদের জরুরি সেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সচল নয় দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে। রোগ নির্ণয়ের দুটি যন্ত্র আছে, একটি নষ্ট, অন্যটি বহুদিনের পুরাতন প্রায় কাজ করতে সমস্যা হয়। দায়িত্ব পালন কালে কোন চিকিৎস কে সেবার বিষয় প্রশ্ন করলে অভিযোগের জবাবে উত্তর আসে লোকবলের সংকট।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে (রঞ্জন রশ্মি) মেশিনটি ১৯৯১ সালে স্থাপন করা। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিও) কর্মকর্তা জানালেন, দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় যন্ত্রটি ভালো কাজ করে না। বেশির ভাগ রোগীই বাইরে থেকে এক্স-রে করিয়ে আনেন।

হাসপাতাল সূত্র মতে, ১৮ জন চিকিৎসক কাজ করেন। সব মিলিয়ে হাসপাতালে জনবল প্রায় ৫৮ জন। বহির্বিভাগে গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ জনের মতো রোগী চিকিৎসা নেন প্রতিদিন। রোগী ভর্তি থাকেন প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জনের মতো।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় রুপান্তর করা উচিত বলে মনে করেন সংশি¬ষ্ট ব্যক্তিরা।

হাসপাতালে ঢুকতেই প্রথমে ডান পাশে রয়েছে জরুরি বিভাগ। আয়তনে কক্ষটি খুব ছোট কিন্তু নোংরা আর এই পরিবেশে প্রতিদিন কাটা ছেড়া,

ভাঙা হাত ও পা, বিষ পানসহ ক্ষতস্থান পরিষ্কার করাতে অসংখ্য রোগীরা আসেন এদের চিকিৎসার কাজ শেষে নোংরা বেসিনে হাত ধুচ্ছেন চিকিৎসকরা প্রতিনিয়ত।

জরুরি বিভাগের সামনে কয়েকজন ব্যক্তিকে প্রতিদিন দেখাযায়। রোগীরা জানান, তাঁরা বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকের লোক। উন্নত সেবা ও চিকিৎসার কথা বলে রোগী ভাগিয়ে নেন তারা। এক্স-রে বা অন্য কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার যাদের প্রয়োজন তাদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করেন।

ভর্তি হওয়া রোগীদের ওয়ার্ড দোতলায়। নারী ও পুরষদের দুই ওয়ার্ডে শয্যাসংখ্যা প্রায় ৩২ টির মতো। কিন্তু রোগী ভর্তি থাকে ৮০ থেকে ১০০ জন।

ফলে বারান্দায় ও থাকতে হচ্ছে অনেককে।ওয়ার্ড গুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়না।ফলে প্রচুর ময়লা খাবার ও আর্বজনার দেখা যায়।শৌচাগারে ঢুকতে হয় নাক চেপে। কেও বিপদে না পরলে ব্যবহার করতে যায় না সাধারনত।

হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছেন চারজন । খাবার পানির মান খুব বাজে তাই কেউ পান করতে চায় না পানি।জরুরী চিকিৎসা জন্য, রোগী ঢাকায় নিয়ে যেতে ’বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হয়। দুই হাজার টাকার কম যেতে রাজি হন না কেউ। ফলে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে ঢাকায় নিয়ে যেতে হয় বলেন কোমরগঞ্জ থেকে আসা এক আহত রোগীর স্বজন রাজিয়া বেগম।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামরুন নাহার বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সটি ঠিক করতে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা লাগবে। অ্যাম্বুলেন্স চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত পেয়ে যাবো।

উপজেলার বিভিন্ন প্রত্তান্ত এলাকা থেকে আসা রোগীদের অভিযোগ তাঁরা প্রয়োজনে তুলনায় চিকিৎসা পান না। খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, ৫ থেকে ৯ জন চিকিৎসক ঢাকা থেকে এসে তাঁরা চিকিৎসক সেবা প্রদান করেন । বেলা ১২ টা থেকে ১টার পর হাসপাতালের বহির্বিভাগে কোনো চিকিৎসককে পাওয়া যায় না। এমন অভিযোগ বহুজনের। ঢাকা থেকে আসা-যাওয়ার কারণ হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামরুন নাহার আবাসন সমস্যার কথা জানান।

নবাবগঞ্জে ইছামতি ভরাট করে দখলের অভিযোগ

0

ঢাকার নবাবগঞ্জের ছোট গোবিন্দপুর এলাকায় ইছামতি নদী ভরাট করে দখলের অভিযোগ উঠেছে এলাকার গোপাল বর্মণ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ সূত্র জানায়, উপজেলার ছোট গোবিন্দপুর গ্রামের নতুন শ্মশান ঘাটসংলগ্ন ইছামতি নদীর তীরে বাঁশের খুঁটি বসিয়ে বাঁধ দিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত গোপাল বর্মণ জানান, তিনি নদী দখল করেননি। গত দেড় বছর আগে এটি ক্রয় করেছেন। প্রশাসনের অনুমতি নেননি বলেও জানান তিনি।

ইছামতি নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিউর রহমান তোঁতা বলেন, ইছামতি নদীর নাব্যতা ফেরাতে সরকারিভাবে ড্রেজিং চলছে। দখলের অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যায়। এর সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের এগিয়ে আসা উচিত।

নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোসা. শাহনাজ মিথুন মুন্নী জানান, এ বিষয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নবাবগঞ্জে ৫ ইট ভাটাকে জরিমানা

ঢাকার নবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এবং পরিবেশ দূষণ করে ইট পোড়ানোর দায়ে ৫ টি ইট ভাটাকে জরিমানা করেছে নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ মিথুন মুন্নির ভ্রাম্যমান ভ্রাম্যমাণ আদালত । গত ১লা জানুয়ারি রবিবাব এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পাকা চিমনী না থাকায় দুইটি ইটা ভাটার কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। অভিযান পরিচালিনার সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মিহির লাল সরকার ও নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫টি ভাটায় অভিযান চালিয়ে জেবিসিকে ৩০হাজার, এনবিআইকে-২ ৫০ হাজার, ময়মন্দি ব্রিকস ফিল্ডকে ৫০হাজার, গোল্ড ব্রিকসকে ৭০হাজার এবং বিবিসি ব্রিক ফিল্ডকে ৪০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন, ব্রিকস লাইসেন্স ও টিনের চিমনী ব্যবহারের কারণে এসব ভাটাকে জরিমানা করা হয়।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার এস আই শফিকুল ইসলাম সুমন বলেন, “ভ্রাম্যমান আদালত নানা অনিয়মের অভিযোগে এসব ইট ভাটাকে অর্থদন্ড করা হয়েছে”।

চাকরি করিনি বলেই লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান করেছি: নূর আলী

 

কালকে পরীক্ষা। পরীক্ষার পড়া পড়তেছি; কিন্তু রাত সাড়ে ৮টার দিকে দেখি কুপির (প্রদীপ) আলো নিভে আসছে। তেল নেই। মায়ের কাছে ছুটে যাই। মা বললেন ‘তোমাকে তো বললাম স্কুলে যাওয়ার সময় তেল নিয়ে এসো।’ বাড়ি থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে ছিল বাজার। কুপির আলোয় আমার পড়া আর শেষ হয়নি; কিন্তু সেদিন ছিল পূর্ণিমার আলো। বাইরে গিয়ে চাঁদের আলোয় পরীক্ষার পড়া পড়েছি। ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছি। চাকরির দিকে না গিয়ে ব্যবসা করে সফল হয়েছি। চাকরি করিনি বলে আজ পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান করেছি। তোমরাও স্বপ্ন দেখো। বড় কিছুর স্বপ্ন, স্বপ্ন দেখতে টাকা লাগে না। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পিতৃ হারানো এক শিশুর কষ্টসাগর পাড়ি দেওয়া অতঃপর স্বপ্নসিঁড়িতে পা রাখা মানুষের জীবনের গল্প এটি। তিনি স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহা. নূর আলী।

জীবনের বাঁকে বাঁকে তৈরি হওয়া বর্ণাঢ্য গল্প থেকে স্বপ্নসিঁড়িতে উঠে আসার গল্প আজকের শিশু-কিশোরদের শোনালেন মোহা. নূর আলী। গতকাল শনিবার ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জের ‘নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ’-এর বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও মেধা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০১৬ আয়োজন করা হয়। নূপুরের তালে তালে স্কুলছাত্রীদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য, গান, অতিথি-বক্তাদের আশা-আকাক্সক্ষার বর্ণনা, হাস্যরসভরা গল্প আর সেরা শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে বই বিতরণের মধ্য দিয়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত চলে পুরো অনুষ্ঠান। মোহা. নূর আলী ১১১ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি।

উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাজারো শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব ও আমন্ত্রিত অতিথিদের অনেকেই স্বপ্ন গড়ার এ কারিগরের বাস্তবজীবন নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্য, গল্প আর শীর্ষে উঠে আসার কৌশল শুনে কখনো পুলকিত হয়ে ওঠেন আবার কখনোবা মনের অজান্তেই ফেলেছেন চোখের জল। নবাবগঞ্জের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া, তারুণ্যকে সঠিক গন্তব্যে এগিয়ে নিতে সহায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া, পাইলট স্কুলের শিক্ষার গুণগত মানে শ্রেষ্ঠত্ব আর অবকাঠামোগত উন্নয়নে অবদান রাখা এ ব্যক্তিত্বের জন্য সকালের ঘন কুয়াশা আর হিমশীত উপেক্ষা করে অপেক্ষা করছিলেন যারা, তিনি উপস্থিত হলে তারা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ছয় মাস আড়িয়াল বিলের অথৈ পানিতে অবরুদ্ধ আর বাকিটা সময় হেঁটে মেঠোপথ পাড়ি দেওয়ার অতীত স্মৃতি টেনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মোহা. নূর আলী বলেন, লুঙ্গি পরে পার্শ¦বর্তী কামারখোলা থেকে কোষা নৌকায় আড়িয়াল বিল ডিঙিয়ে ৫ কিলোমিটার ঘুরে স্কুলে যেতাম। আসা-যাওয়ায় দুই ঘণ্টা লাগত। তোমাদের সেই কষ্ট তো নেই। সুতরাং তোমাদের চিন্তা করতে হবে অনেক দূরের, তোমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্নে দেখার এখনই সময়। তোমাদের মধ্যে প্রতিভা আছে, তার বিকাশ ঘটাতে হবে।

স্বপ্ন দেখা, স্বপ্ন আঁকা ও বাস্তবে তার রূপ দিতে বিশ্বাসী এ ব্যবসায়ী জ্ঞানপিপাসু কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বলেন, তোমরাই পারবে আমাদের স্থানে আসতে। আমরা তো একদিন থাকব না। তোমরা দেশকে নেতৃত্ব দেবে। রাজনীতি করবে। বড় ব্যবসায়ী হবে। চাকরিজীবী হবে। আমলা হবে। প্রকৌশলী-চিকিৎসক হবে। আর এসব হতে এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করতে হবে। স্বপ্ন না দেখে হঠাৎ করে কোনো কিছুই অর্জন করা সম্ভব নয়। ছোটকালে অভাব আমাকে পরিকল্পনা করতে শিখিয়েছে। যাদের অভাব বেশি, তাদের পরিকল্পনাও বেশি। আমি মনে করি তোমরা মাঝামাঝি পর্যায়ে আছ। তোমাদেরই পরিকল্পনা করার সময়। এখন যারা রাষ্ট্রের শীর্ষে, তারা তো একদিন থাকবেন না। তোমরাই ওই জায়গা পূরণ করবে।

জ্যেষ্ঠ শিক্ষক সুধীর চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় সুবিশাল মাঠের শামিয়ানা ঘেরা অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে মগ্ন শ্রোতা বা শিক্ষার্থীদের মাঝে মাঝেই প্রশ্ন ছুড়ে দেন শিক্ষানুরাগী মোহা. নূর আলী। উৎসুক শিক্ষার্থীরাও অবলীলায় তার জবাব দিয়েছে। এ সময় নূর আলী বলেন, আগে শুনতাম কাল তিন প্রকার। কিন্তু পৃথিবীতে এখন একটিমাত্র কাল রয়েছে। তা ‘বর্তমান কাল’। আগামীকাল তুমি বাঁচলে কিছু করতে পারবে। আজকের কথা ভেবে অবশ্যই ভালো করে পড়াশোনা করতে হবে। তিনি বলেন, একটা মানুষের ২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত শেখার সময়। ১৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত আস্তে আস্তে এটা কমে আসে। ১৫ বছর পর্যন্ত যা করলে সারা জীবন এটিই বহন করতে হবে। জীবন গঠনের সময় ছাত্রজীবন। গঠন ভালো হলে কর্মজীবন ভালো থাকবে। কর্মজীবনে ভালো না হলে অবসর জীবনেও শান্তি থাকে না। এটাও ছাত্রজীবনে শিক্ষা নেওয়ার উপযুক্ত সময়। ভালো ছাত্র হওয়ার পাশাপাশি একজন ভালো মানুষ হতে হবে। আমাদের ভালো মানুষ বড় দরকার। কারণ আমাদের সমাজ নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষ একটা বলে, আরেকটা করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজমুন আখতার এবং দুই শিক্ষার্থী বক্তব্যে মোহা. নূর আলীর কাছে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজকে জাতীয়করণ এবং জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের দাবি জানান। জবাবে নূর আলী বলেন, পুরনো ভবনের মান যাচাইয়ে আমি প্রকৌশলী পাঠাব। এরপর নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়টিও দেখা হবে। একই সঙ্গে জাতীয়করণের চেষ্টার কথাও জানান তিনি। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বায়রার মহাসচিব রুহুল আমিন তার নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে একটি কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দেন।

ঐতিহ্যবাহী স্কুল ও কলেজটি দিন দিন ফলে পিছিয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকরা। এ নিয়ে শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে গ্রুপ বা দলভিত্তিক পাঠদানের মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির পরামর্শও দেন সভাপতি। শিক্ষকের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতি শিক্ষার্থীর দিকে নজর দিতে হবে। এখানে ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া সুপারিশে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না। টিউশনি ছাড়া আন্তরিকতা, টিমওয়ার্ক দিয়েই ক্লাসে সব পড়া আদায় করার ব্যবস্থা করতে হবে। যে শিক্ষকের পড়ানো ভালো হয়, তাকে পুরস্কৃত করা হবে। যে শিক্ষকের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি ফেল করে তার শাস্তিও হবে।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বৃদ্ধাশ্রম থেকে পাঠানো এক মায়ের করুণ চিঠি পড়ে শোনান নূর আলী। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অনেকেই কেঁদে ফেলেন। মোহা. নূর আলী বলেন, তোমরা যেন এমন সন্তান না হও। শিক্ষার্থীদের তিনি বলেন, তোমরা সচ্ছলভাবে লেখাপড়া করছ। বিপদ মোকাবিলা করতে পারবে না। আমি যত বিপদের মুখোমুখি হয়েছি, ততই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। জীবনে কারো কারণে কখনো কোনো কষ্ট পেলে এটা মাথায় রাখবে না। এটাকে প্রতিশোধ হিসেবে মাথায় নেবে না।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ একাত্তরের সব শহীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার স্মৃতি স্মরণ করে মোহা. নূর আলী বলেন, তখন আমি চুরাইন স্কুলে ক্লাস নাইনের স্টুডেন্ট। পাইলট স্কুলে মিছিল নিয়ে আসি। তখন ক্লাস চলছিল। অনেক চেষ্টা করি এ ¯ু‹লের ছাত্রদের মিছিলে নামাতে; কিন্তু পারিনি। তখন দেয়াল টপকে, বেল পিটিয়ে ছাত্রদের বের করেছিলাম। স্বাধীনতার পাঁচ স্তম্ভের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, স্বাধীনতা মানে ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়, ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর মতো একজন লিডার। বঙ্গবন্ধু নেই, তার কন্যা জননেত্রী একাত্তরের ঘাতক, লুটেরাদের বিচারের মুখোমুখি করেছেন। অনুরোধ করব যত কষ্টেই হোক এই বিচার শেষ করা হোক। এজন্য সরকার বা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিচ্ছি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সভাপতি বেনজীর আহমদ, বায়রার সাবেক সভাপতি ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক গভর্নর এফএফ গোলাম মোস্তফা, বায়রার মহাসচিব মো. রুহুল আমিন, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী শওকত হোসেন শাহীন, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহম্মেদ ঝিলু, গুলশান জগার্স ক্লাবের সদস্য মাহফুজ জলিল, নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক সভাপতি মো. ফিরোজ আলী, প্রান্তিক ট্রাভেলসের পরিচালক রাকিব মোস্তফা, ওসি মোস্তফা কামাল, দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মানবেন্দ্র দত্ত, আদর্শ ডিগ্রি (অনার্স) কলেজের অধ্যক্ষ আজিজুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ দারু, শিকারীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলীমুর রহমান খান পিয়ারা, মো. জসিম উদ্দিন, দুলাল হালদার, উপজেলা যুবলীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক মশফিকুর রহমান পলাশ, নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কালাম আজাদ, বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির দাতাসদস্য হাজী সোয়ায়েব মিয়া, মাধ্যমিক সদস্য বজলুর রশীদ, মোয়াজ্জেম হোসেন, শিক্ষক প্রতিনিধি রোকসানা আক্তার, সংরক্ষিত সদস্য সানজিদা কবির, অভিভাবক প্রতিনিধি শেখ নাঈম আহমেদ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজমুন আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঐতিহ্য হারাচ্ছে শিকারীপাড়া ইউনিয়নের বক্তারনগর জমিদার বাড়ি

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত বক্তারনগর গ্রাম। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার পশ্চিমে এ গ্রামের অবস্থান। একসময় ইছামতি নদীর কুল ঘেষে বক্তারনগর গ্রামেই বসবাস করত এক জমিদার। তার তত্বাবধায়নেই গড়ে তুলে বিশালাকার দুটি অট্টালিকা। তবে কালের বিবর্তনে পর্যবেক্ষণের অভাবে রীতিমতই ঐতিহ্য হারাচ্ছে। গ্রামের মেঠো পথ। কিছুদূর হাটতেই চোখে পড়ে ইছামতি নদী।

আর ইছামতির কুল ঘেষেই রয়েছে বিশালকার একটি মসজিদ। লোকমুখে প্রচলিত, এ মসজিদটি আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে সুলতান শাহাবুদ্দিন শাহ নির্মাণ করেন। তার বংশের পতন হলে তার ছেলে এখানে কিছুকাল বসবাস করে।তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকার কারনে বেশিদিন বসবাস করতে পারেনি। এই ঐতিহ্যবাহী বক্তারনগর জমিদার বাড়িটি যথাযথ পর্যবেক্ষণের অভাবে ঐতিহ্য হারাচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,আজ থেকে প্রায় ৪০০ বছর আগের নির্মিত দুটি প্রাচীর এখন ঘন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে।সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় দর্শনীয় স্থানের বদলে এখানে চড়ানো হচ্ছে গরু ছাগল। প্রায় ৫ বিঘা জমির উপরই নির্মিত হয় এ জমিদার বাড়ি।আম গাছের সৌন্দর্যও যেন দর্শনার্থীদের এক সময় মন কাড়ত।তবে সেই অবস্থা আর বর্তমানে নেই।কালের বিবর্তনে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট।যুক্ত হয়েছে ঐতিহ্যের স্থানে অন্য কিছু। স্থানীয়রা জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব আগের ঐতিহ্য।

ঢাকা জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৪ নাম্বার ওয়ার্ডে ওয়াহিদুজ্জামান রনি লটারিতে জয়ী

১৪ নাম্বার ওয়ার্ডে ওয়াহিদুজ্জামান রনি ও আরিফুর রহমান দু’জনে সমান সংখ্যক ভোট পাওয়ায় তাদের ফলাফল লটারীর মাধ্যমে চুড়ান্ত করা হয়। ওয়াহিদুজ্জামান রনি লটারিতে জয়ী হয়েছেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমাঞ্চল শিকারীপাড়া, জয়কৃষ্ণপুর, বারুয়াখালী, নয়নশ্রী, বান্দুরা, কলাকোপা ও যন্ত্রাইল ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ১৪ নাম্বার ওয়ার্ডে প্রতিদ্ধন্ধীতা করেছেন ৬ জন প্রার্থী। মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান রনি (সাবেক সহ-সভাপতি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ) হাতি প্রতীক ও আলহাজ্ব আরিফুর রহমান খান অটোরিক্সা প্রতীক নিয়ে সমানসংখ্যক ৩৫ ভোট পান।