জ্ঞানই মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের কারণ

প্রকাশ:

শেয়ার করুন:

জ্ঞান আল্লাহ তাআলার মহান দান। জ্ঞানের কারণেই মানুষ আল্লাহ তাআলার দরবারে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আল্লাহ তাআলা হজরত আদম আলাইহিস সালামকে জ্ঞান দান করে ফেরেশতাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করে তাঁকে সিজদার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

স্বীকৃত কথা হচ্ছে যার নিকট ইলম বা জ্ঞান থাকবে, তার শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা সর্ব মহলে সুপ্রতিষ্ঠিত। মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের কারণও এ ইলম বা জ্ঞান।

আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার সব প্রাণীকেই জীবন দান করেছেন। কিন্তু ইলম বা জ্ঞান না থাকার কারণে সব প্রাণী ভালো-মন্দ বিচার করতে পারে না।

এমনকি মানুষের মধ্যে যারা ইলম বা জ্ঞান অর্জনে ব্যর্থ তারাও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে ব্যর্থ। কারণ ইলম বা জ্ঞান না থাকলে আল্লাহ তাআলাকে চেনা-জানা বা তাঁকে ভয় করা যায় না। মানুষ কুরআনের ইলম বা জ্ঞান অর্জনের কারণেই আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে এবং অন্যায় কাজ থেকে বেঁচে থাকে।

তাফসিরে কবির-এ বৃষ্টিপাতের সঙ্গে উপমা দিয়ে মানুষের জ্ঞানার্জনের দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব লাভে ৫টি কারণ বর্ণনা করেছেন-

>> বৃষ্টি যেমন আসমান থেকে নাজিল হয়, তেমনি ইলম বা জ্ঞানও আসমান থেকে অবতীর্ণ হয়। যা মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব লাভের উপায়।

>> বৃষ্টিপাতের কারণে যেভাবে অনাবাদি জমি ফলফলাদি উৎপাদনে সক্ষশ হয়  তেমনি ইলম বা জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানুষ নৈতিক ও মানবিক গুণাবলী অর্জন করে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে।

>> জমিনে বৃষ্টি না হলে যেমন জমি আবাদ করা যায় না; ঠিক ইসলামের সঠিক ইলম বা জ্ঞান না থাকলে মানুষ দুনিয়ার কল্যাণ ও পরকালের মুক্তি লাভে আল্লাহ তাআলা ইবাদত-বন্দেগি করতে পারে না।

>> বৃষ্টিপাতের আগে বজ্র ধ্বনি ও বিদুৎ চমকের ফলে যেভাবে বৃষ্টি হয়, তেমনিভাবে জান্নাতের আশা ও জাহান্নামের ভয়ের ফলে মানুষ তাঁর অন্তর পবিত্র করতে ইলম অর্জন করে। যাতে মানুষ শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে।

>> বৃষ্টি যেমন অনেক সময় উপকারি আবার অনেক অপকারি, ঠিক তেমনি ইলমও ক্ষেত্র বিশেষ উপকারি এবং অপকারি। মানুষ তখনই আল্লাহ তাআলার দরবারে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে যখন মানুষ ইলম অনুযায়ী আমল করে। মানুষ তখনই লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয় যখন ইলম অর্জন করে না বা ইলম থাকা সত্ত্বেও আমল করে না।

দুনিয়া পরকালে ইলম বা জ্ঞান অর্জনকারীর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা অনেক বেশি। হাদিসে এসেছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি লাভকারী মানুষ দেখতে চায়, সে যেন আল্লাহ তাআলার দ্বীনের ইলম অর্জনকারী ব্যক্তির দিকে তাকায়।

তিনি শপথ করে বলেন, কোনো বিদ্বান বা জ্ঞানী ব্যক্তির দরজায় যখন কোনো জ্ঞান অন্বেষণকারী ইলম শিখতে যায়, তখন ইলম অর্জনকারীর প্রত্যেক পদক্ষেপের বিনিময় তাঁর আমলনামায় এক বছরের ইবাদতের সাওয়াব লেখা হয়।

জান্নাতে তার জন্য একটি শহর তৈরি করা হয়। সে যখন জমিনে বিচরণ করে, জমিন তার জন্যে আল্লাহ তাআলার দরবারে ক্ষমাপ্রার্থনা করে এবং তার উপর সকাল-সন্ধ্যা হয় এমন অবস্থায় যে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন। ফেরেশতারা সাক্ষ্য প্রদান করেন যে, তারা দোযখ থেকে নাজাত হাসিলকারী।

উপরের হাদিস থেকেও প্রতিয়মান হয় যে, জ্ঞান অর্জনকারী ব্যক্তিই তাকওয়াবান, শ্রেষ্ঠ এবং মর্যাদাবান। আল্লাহ তাআলা মুসলিমা উম্মাহকে ধর্মীয়জ্ঞানসহ সব ধরনের কল্যাণকর জ্ঞান অর্জন করে দুনিয়া ও পরকালের শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করা তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ সংবাদ

এই রকম আরও

বাংলাদেশে ২০২৬ সালের পবিত্র আশুরার তারিখ ঘোষণা: রোজা ২৫, ২৬ ও ২৭ জুন

ইসলামি ইতিহাসে ১০ মহররম তথা আশুরা এক অনন্য তাৎপর্যমণ্ডিত দিন। এই দিনে মহান আল্লাহ নবী মুসা (আ.) ও...

আশুরার রোজা ও মহররমের আমল: ফজিলত, করণীয় ও বর্জনীয়

২০২৬ সালে পবিত্র আশুরার রোজা (১০ মহররম) পালিত হবে ২৬ জুন, শুক্রবার। ইসলামে কেবল ১০ মহররমের একটি রোজা...

গাজওয়াতুল হিন্দ: শেষ জমানার মহাযুদ্ধ নিয়ে হাদিসের আলোয় তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

গাজওয়াতুল হিন্দ : একটি তাত্ত্বিক ও তথ্যবহুল আলোচনা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতিশ্রুত গাজওয়াতুল হিন্দ কি অতি...

আশুরার শিক্ষা ও একজন মুসলিমের করণীয়

আল্লাহ তাআলা মানুষের জীবনকে ইবাদতের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করার জন্য বছরজুড়ে বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন।...