দোহার নবাবগঞ্জে বাড়ছে হাতুড়ে ও হাটুরে চিকিৎসকদের সংখ্যা

দোহার নবাবগঞ্জের বিভিন্ন হাট বাজারে বাড়ছে হাতুড়ে ডাক্তারদের সংখ্যা। প্রকৃতপক্ষে চিকিৎসক না হয়েও বড় বড় ডিগ্রিধারী চিকিৎসক সেজে তারা দিব্যি দিয়ে যাছেন ‘চিকিৎসা সেবা’। অথচ তাদের অনেকেরই নেই বলার মত তেমন কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা। আবার কেউ কেউ ওষুধ বিষয়ক ২-১ টা কোর্স করেই বাজারে দিয়ে বসছেন ফার্মেসীর দোকান আর সাইনবোর্ডে অথবা ভিজিটিং কার্ডে নিজের নামের আগে লিখছেন ডাক্তার সাথে লিখছেন বড় বড় সব ভুয়া ডিগ্রির নামও ।

দোহারের ৯টি এবং নবাবগঞ্জের ১৪ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাটবাজারে হাতুড়ে চিকিৎসক ও চরাঞ্চলে কবিরাজদের দৌরাত্ম দিন দিন বেড়েই চলেছে। হাজার হাজার সহজ সরল নিরহ গ্রামবাসী চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসায় প্রতারিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। গত ১ মাসের অনুসন্ধানে দোহার নবাবগঞ্জের বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে ।

দোহারের লটাখোলা নতুন বাজার, বাংলা বাজার, বিলাসপুর বাজার, পালামগঞ্জ বাজার, নারিশা বাজার নবাবগঞ্জের খানেপুর বাজার, বারুয়াখালী বাজার, শোল্লা বাজার, গালিমপুর বাজার, দূর্গাপুর বাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজারে ঘুরে দেখা গেছে হাতুরে চিকিৎসকরা তাদের দোকানের সামনে বা চেম্বারে সাধারন মানুকে আকৃষ্ট করতে বিশাল সাইনবোডে নিজেদের নামের পাশে নানা উপাধি ও ডিগ্রী জুড়ে দিয়েছেন । আসলে এদের নেই স্বাস্থ্য বিষয়ক কোন প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া । অধিকাংশই পড়ালেখা করেছেন পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত।

শুধু দোহারের লটাখোলা নতুন বাজারেই রয়েছে এমন হাতুড়ে ডাক্তারের ৬-৭ টি দোকান তাদেরই একজন ‘আজাদ ডাক্তার’। নামে ডাক্তার হলেও তার নেই কোন চিকিৎসা বিষয়ক শিক্ষা। অথচ তিনি ফার্মেসী দোকানের সাইনবোডে লিখেছেন ‘ডাঃ মোঃ আজাদ হোসেন’।  জানা গেছে, বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানীর এজেন্টরা ‘চিকিৎসা নির্দ্দেশিকা ও সহায়িকা’ নামের কিছু চটি বই পুস্তক দেন সেটি পড়েই রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন তিনি। তার কাছে ডাক্তারি সার্টিফিকেট দেখতে চাইলে তিনি সাংবাদিককে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে বলেন, ”শুধু আমি একা নয়, আরো অনেকেই আমার মত ফার্মেসী দিয়ে ডাক্তার সেজে রোগী দেখছেন। এটি আসলে আমাদের ব্যবসা”।  অভিযোগ পাওয়া গেছে আজাদের মতো এ রকম হাতুড়ে চিকিৎসকরা রোগী এলে সঠিক রোগ নির্ণয় না করে প্রথমেই উচ্চমাত্রার এন্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন। এরপর এন্টিবায়োটিকে কাজ না করলে বই ঘেটে অন্য ওষুধ প্রদান করেন।

দোহার নবাবগঞ্জে থাকা এমন শত হাতুরে চিকিৎসক ভুয়া ডিগ্রী লিখে অপচিকিৎসার মাধ্যমে অসহায় গরীব মানুষদেরকে ঠকাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এদের ভুল চিকিৎসায় অনেক সময় রোগী মারা যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।

অপরদিকে, দোহার নবাবগঞ্জের বিভিন্ন চরাঞ্চলে একশ্রেনীর ভন্ড কবিরাজ ও ফকিররা মানুষের ধর্মীয় অন্ধ বিশ্বাস ও কুসংস্কারকে পুঁজি করে নিজেদের তৈরী করা বটিকা ও শালসা দিয়ে গ্যাষ্টিক, পেটের পিড়া, মেহ প্রমেহ, বাত, ডায়াবেটিক, সর্দিকাশী, যৌনরোগসহ  জটিল কঠিন যত রোগ আছে সমস্ত রোগের ‘১০০% গ্যারান্টি’ সহকারে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন বলে জানা গেছে । গ্রাম ও চরাঞ্চলে সরল মানুষগুলো সহজে তা বিশ্বাস করে তাদের কাছে চিকিৎসা সেবা নিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন।

এছাড়াও দোহার নবাবগঞ্জের বিভিন্ন হাটে বাজারে সকাল এবং সন্ধ্যা বেলায় এক শেণীর ভ্রাম্যমান ফকির এবং কবিরাজরা গান বাজিয়ে আসর বসিয়ে বিভিন্ন রোগের বিশেষ করে যৌন রোগের ওষুধ বিক্রি করে থাকে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, ভ্রাম্যমান চিকিৎসকরা প্রকাশ্যেই তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে কখনো প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় নি । তারা বিভিন্ন বন্য প্রাণীর চামড়া কেটে, লজ্জাবতী গাছের ছাল পাতা কেটে তাবিজ বানিয়ে বিক্রি করে থাকে। অনেক সময় এদের কাছে দুর্লভ কিছু প্রাণীর চামড়াও দেখা যায়। কেউ কেউ আবার লতা পাতা সাজিয়ে টেপ রেকর্ডারে কথা বাজিয়ে এবং নিজে শুধু হাত নেড়ে ওষুধের গুনকীর্তন করে বিক্রি করে। তবে এ অপচিকিৎসকরা বেশীরভাগই বিভিন্ন যৌন, বাত, অর্শ, গেজ ও ভগন্দর রোগের ওষুধ বিক্রি করে থাকে। এতে তারা জনগনের সরলতা ও দুর্বলতাকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করছে।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ”সাধারণ জনগণের উচিত এসব হাতুড়ে ডাক্তারদের সরনাপন্ন না হয়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন ভিত্তিক সেবা কেন্দ্রে যাওয়া অথবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা । সরকারের পক্ষ থেকে সকলের জন্য বিনা টাকায় স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে”। এছাড়া কোন হাতুড়ে ডাক্তারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেলে তিনি সে ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ বড়কর্তা।

সম্প্রীতির মেলবন্ধন বান্দুরায়

তাঁদের ধর্ম ভিন্ন, পেশাও। সমবয়সী নন। জাতি-গোত্র আলাদা। কিন্তু আছে মনের মিল। তাই বন্ধুর মতো একসঙ্গে আড্ডা দেন। হইহল্লা করেন। বিশেষ করে ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে একে অন্যের বাড়িতে আমন্ত্রিত হন। খুব মজা করেন। সামাজিক-ধর্মীয় সম্প্রীতির এই চিত্র ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ও আশপাশের গ্রামে দেখা গেছে।

১৬ ডিসেম্বরের ঘটনা। তখন সকাল ১০টা বাজে। বান্দুরা বাসস্ট্যান্ডের কাছে বান্দুরা ডেকোরেটরের সামনে কয়েকজন দাঁড়িয়ে খোশগল্প করছিলেন। এর মধ্যে পুরোনো বান্দুরা গ্রামের আবুল খায়ের খোকা একটি বরফকলের মালিক। কিছুটা চুপচাপ ধরনের। আড্ডার মধ্যমণি দিলীপ গমেজ। হাস্যরস ছড়াচ্ছিলেন। তিনি বান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য। বাড়ি আড্ডাস্থল থেকে মাত্র কয়েক শ গজ দূরে। মোলাসিকান্দা গ্রামে। দুর্গাচরণ হালদার ফ্লাস্ক থেকে কাপে রং-চা ঢেলে একে একে সবার হাতে তুলে দেন। তিনি এই ডেকোরেটরের কর্ণধার। বাড়ি নতুন বান্দুরা গ্রামে। দীর্ঘদেহী হাসনাবাদ গ্রামের পিটার বিকাশ গমেজ নামকরা বাবুর্চি। দীর্ঘদিন সৌদি আরব ও কুয়েতে ছিলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে আবুল খায়ের খোকা বলেন, ‘আমার জন্ম মুসলিম পরিবারে হলেও বড় হয়েছি খ্রিষ্টান ও হিন্দুদের সঙ্গে মিলেমিশে। আপনি খোঁজ নিলে দেখবেন, বান্দুরা ও এর আশপাশের গ্রামগুলোতে হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিষ্টানরা মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করে। ধর্ম নিয়ে কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি করে না। বরং নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব অন্যদের নিয়ে উদ্‌যাপন করে।  বংশপরম্পরায় এমনটিই চলে এসেছে। আমরা শিখেছি আমাদের বড়দের কাছে। আর আমাদের সন্তানেরা শিখছে আমাদের কাছ থেকে।’

খ্রিষ্টান পরিবারে বেড়ে ওঠা দিলীপ গমেজ বলেন, ‘এই এলাকার পোলাপানরা একটাই স্বপ্ন দেখে। বড় হয়ে তারা বিদেশ যাবে। টাকা কামাই করবে। দেখা গেল, আমার এক বন্ধু হিন্দু কিংবা মুসলিম, হে কাজে গেল দুবাই। পরে আমারেও নিয়া গেল গা। এই হলো হিসাব। ধর্মটর্ম নিয়া কেউ এত মাথা ঘামায় না। পড়াশোনাও খুব একটা হয় না। তবে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা বেশির ভাগ ঢাকায় থাকে। পড়াশোনার দিকে তাদের খুব মনোযোগ। হা হা হা…’

একজন পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু দৃষ্টিতে ধরা পড়েন। আড্ডাস্থল থেকে আঙুলের ইশারা করেন। আর হাসিতে ফেটে পড়েন। কারণটা বোঝা যায় একটু পরে। আগন্তুক সিগারেট নিয়ে এসেছেন। কে কোন ব্র্যান্ডের সিগারেট ফোঁকেন, তা তাঁর মুখস্থ। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা।

মাথা চুলকাতে চুলকাতে আসা লোকটির দিকে তাকিয়ে কিছুটা রাশভারী দুর্গাচরণ হালদারও হাসি আটকে রাখতে ব্যর্থ হন। রহস্য করে তিনি বলেন, ‘তুমি চোখের সামনে দিয়া যাও ক্যান। চুপ করে পেছনের দিকে আইস্যা খারাইতা। তাইলে কারও নজরে পড়তা না। সিগারেটও আনতে হতো না।’ তিনি বলেন দেখেন, ব্যবসাপাতি ভালো না। তারপরও এখানে প্রায় প্রতিদিনই এমন আড্ডা হয়। চা-সিগারেট চলে। এরপর যে যাঁর কাজে যান।

এরপর আবুল খায়ের খোকা হাসনাবাদ গ্রামের জপমালা রানীর গির্জা ঘুরিয়ে দেখান। মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও ১৭৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গির্জায় ঢুকতে কোনো বেগ পেতে হয়নি। বড়দিনের উৎসব সামনে রেখে গির্জার হলরুম সাজাচ্ছিলেন কয়েকজন তরুণ। গির্জার সামনে মাঠের এক কোণে একটি খড়ের ঘর। তাতে মাতা মেরি ও শিশু যিশুর মূর্তিরয়েছে। আশপাশের বাড়িগুলোর সামনে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো হয়েছে।

বান্দুরা বাজার থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে বড় গোল্লা গ্রাম। প্রতিটি বাড়ি বড় বড় গাছপালায় ঘেরা। আধুনিক দোতলা-তিনতলা ভবন কিন্তু জনমানুষের খুব একটা দেখা মেলে না। এই গ্রামের বাসিন্দা মাইকেল গমেজ। নদীর তীরে চায়ের দোকান চালান। তিনি বলেন, এখানে খ্রিষ্টান ছাড়া অন্য কোনো সম্প্রদায়ের মানুষের ঘরবাড়ি নেই। আশপাশের হিন্দু ও মুসলিম-অধ্যুষিত গ্রাম আছে। তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেন। তাঁদের গ্রামের প্রায় বাড়ির কোনো না কোনো সদস্য বিদেশে, নিদেনপক্ষে ঢাকায় থাকেন। বেশির ভাগই বাবুর্চি। তবে বড়দিন উপলক্ষে অনেকেই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। তখন গ্রাম বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে। এই গ্রামে রয়েছে সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার গির্জা। গির্জাটির কিছু দূরেই দেউতলা গ্রামের একটি মসজিদ। সেখান থেকে মাইকে ভেসে আসে মাগরিবের আজান। আর দূরে কোথাও হিন্দু বাড়িগুলো থেকে ভেসে আসে উলুধ্বনি। সন্ধ্যার বাতাসে মিলেমিশে যায়।

ধ্বংসের পথে নবাবগঞ্জের মৃৎ শিল্প

 

প্রায় তিন যুগ আগেও ইচ্ছামতি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নোঙর করা থাকতো সারি সারি ট্রলার। সেসব ট্রলার থেকে মাটি নামানোর কাজে ব্যস্ত থাকতো অনেকে। আবার কেউ কেউ ব্যস্ত থাকতো সেই মাটি দিয়ে তৈরি করা বিভিন্ন প্রকারের জিনিষপত্র ট্রলারে উঠাতে। আশপাশের বেশ কয়েকটি উপজেলার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের জন্য বিখ্যাত ছিল নবাবগঞ্জের মাটির তৈরি জিনিষপত্র।

কিন্তু সময়ের দাপটে প্লাস্টিক ও সিলভারের তৈরি জিনিষপত্রের কাছে হার মেনেছে মাটির তৈরি জিনিষপত্র। চাহিদা না থাকায় নবাবগঞ্জ উপজেলায় এখন নামেমাত্র টিকে আছে এই শিল্পটি। উপজেলায় এখন মাত্র শ’ খানেক পরিবার এই পেশার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।নিউজ৩৯কে বিষয়টি জানান ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের হরিসকুল পালপাড়া এলাকার সুবল পাল (৭০)।

পারিবারিক অভাব অনটনের কারণে পড়ালেখার সুযোগ পাননি তিনি। এছাড়া বাপ-দাদার পেশার প্রতি দরদ থাকায় এ পেশাতেই কেটে গেছে জীবন। তবে তার ঘরে জন্ম নেওয়া পাঁচ ছেলে সন্তানের কেউই এ পেশায় নেই বলে জানান তিনি। ছেলের বউদের নিয়ে অবসর সময় কাটানোর জন্য কোন রকমে নামেমাত্র ধরে রেখেছেন বাপ-দাদার পেশাটি।

তবে নবাবগঞ্জ উপজেলার আজিজপুর, হরিসকুল, জলারচর, ময়মনদি, গোল্লা, গোবিন্দপুর ও গালিমপুর এলাকার পালপাড়ার কয়েক হাজার পরিবারের অর্থ উপার্জন করার অন্যতম মাধ্যম ছিল ওই মৃৎ শিল্প। মাটির হাঁড়ি, ঢাকনা, বদনা, পানির চার, ফুলের টব ও চালের জালাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের জিনিষপত্রাদি তৈরি করতেন ওই মৃত শিল্পীরা। আশপাশের উপজেলাগুলোতে তাদের তৈরিকৃত মাটির জিনিষপত্রের চাহিদা ও সুনাম ছিল।

নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা এলাকার মৃত অমুল্য পালের ছেলে উপেন পাল জানান, এখন আর আগের মতো মাটির তৈরি জিনিষপত্রের চাহিদা নেই। শুধু অর্ডার পাওয়া দইয়ের পাতিল তৈরি করে তারা তাদের ওই পেশাটি কোনরকমে টিকিয়ে রেখেছেন। তবে তার ছেলে এবং ভাতিজারা কেউই আর এই পেশায় নেই বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাকিল আহমেদ জানান, মৃৎ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য মৃৎ শিল্পীদের উপজেলা প্রশাসন থেকে সব রকম সাহায্য সহযোগিতায় করা হয়ে থাকে।

এছাড়া তাদের যদি নির্দিষ্ট কোন দাবি দাওয়া থাকে সেগুলো লিখিতভাবে অবহিত করা হলে পরবর্তীতে সেই ব্যাপারে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

চালু হলো ডট বাংলা ডোমেইন

 

বাংলাদেশের কান্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন (সিসিটিএলডি) ‘ডট বাংলা’ চালু হলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে গতকাল শনিবার ডট বাংলার উদ্বোধন করেন। এখন বাংলা লিপিতে ওয়েবসাইটের ঠিকানা ব্যবহার করা যাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ডট বাংলা কেবল ডোমেইন নয়, বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। বাংলাভাষী মানুষ এখন থেকে বাংলায় ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিএএনএন গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশকে ডট বাংলা ব্যবহারের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। ডট বাংলা পেতে আগ্রহী গ্রাহককে বিটিসিএলের ওয়েবসাইটে (www.btcl.com.bd) গিয়ে অনলাইন নিবন্ধন ও ফরম পূরণ করে আবেদন করতে হবে।

দোহারে শীতার্তদের মাঝে ডিএনএসএম-এর কম্বল বিতরণ শুরু

0

“চলো কম্বল হাতে নদী ভাঙনে অসহায় শীতার্তদের পাশে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে দোহার নবাবগঞ্জের পদ্মা নদী ভাঙ্গনে অসহায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট (DNSM) নামে একটি জনসেবামূলক সংগঠন। ৩১ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১০ টায় জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে এক সাদামাটা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দোহার এবং নবাবগঞ্জের নদী ভাঙ্গনে অসহায় এবং শীতার্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। দোহারের বিভিন্ন ইউনিয়নে ও নবাবগঞ্জের কিছু এলাকায় আগামী কয়েকদিনে কম্বলবিতরণ করবে সংগঠনটি, এটি তারই আনুষ্ঠানিক শুরু।

দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্টের সভাপতি তারেক রাজীবের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাপরিদর্শক নিবন্ধন-আই.জি.আর. বীর মুক্তিযোদ্ধা ডক্টর খান মো আব্দুল মান্নান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, জয়পাড়া পাইলট হাই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক হায়াত আলী মিয়া, বাংলাদেশ জাহাজ মালিক সমিতির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এম. এ. রহিম, বেগম আয়েশা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, পদ্মা কলেজের সহকারি শিক্ষক ইমরান হোসেন, জয়পাড়া পূর্ব বাজার কমিটির সভাপতি করিম বেপারী, মেডিক্যাল রোড বাজার কমিটির সভাপতি জামাল হোসেন,  ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন আল-সোহাগ, দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজীব শরীফ, দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্টের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদুর রহমান সুমন ও সহ-সভাপতি মাহামুদুল হাসান সুমন এবং ডিএনএসএমের দুইশতাধিক কর্মী। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন সোহাগ ভুইয়াঁ।

তিন দিনব্যাপী ই-গভার্নেন্স ট্রেনিংয়ের জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারায় আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগির হোসেন, ভাইস-চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ এবং প্রবাসে থাকায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা রাহিম শিলা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম.আল-আমীন এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কো-চেয়ারম্যান ডক্টর সুদীপ্ত হান্নান। তবে তারা শুভকামনা জানিয়েছেন এবং ভবিষতে দোহার নবাবগঞ্জের পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তবে আই.জি.আর.খান মো: আব্দুল মান্নান বলেন, ”এটি একটি সামাজিক সংগঠন। আশা করি এই সংগঠন ভবিষতে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। আমি এর সাথে আছি এবং ভবিষতেও এদের পাশের থাকব ইন শা আল্লাহ”। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, ” আমি নিজে নদী ভাঙ্গনের শিকার আমি বুঝি নদী ভাঙ্গন কবলিতদের দুঃখ কষ্ট। এই তরুণরা যেভাবে এগিয়ে এসেছে এবং এদের প্রচেষ্টার কারনে আজ পদ্মা নদীর ভাঙ্গন রক্ষায় বাঁধ নির্মান হচ্ছে আমি তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই । আশা করছি এই সংগঠন আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে”।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে পদ্মা ভাঙ্গন রোধে দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট প্রথম জনসচেতনতা সৃষ্টি করে, ২০১৪ সালের ৪ঠা আগস্ট বৃহৎ মানববন্ধন করে বিষয়টিকে সামনে তুলে আনে এবং নদী ভাঙন রোধ দোহারে প্রধানতম ইস্যুতে পরিণত হয়। এবং এরই পরিপ্রেক্ষতিতে ২০১৫ সালে একনেকে দোহারে পদ্মাভাঙ্গন রোধে ৬ হাজার ২৫০ কোটি ৫৮ লাখ টাকার ১০ টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পদ্মা ভাঙ্গন রোধে বাঁধ নির্মাণ, বন্যার্তদের ত্রাণ সহায়তা প্রদানসহ মাদক বিরোধী নানারকম সামাজকল্যাণ মূলক কাজে দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে।

বান্দুরা হলিক্রশ স্কুলে শিক্ষিকা পালালেন ছাত্রের হাত ধরে

0

tanjim,news39.net: নবাবগঞ্জে স্কুলছাত্র ও শিক্ষিকার অসম বিয়ের ঘটনা এলাকায় আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত ৩ দিন আগে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন বলে ঐ জুটির দাবি।স্কুলছাত্র অর্পণ ওরফে শুভ (১৬) বান্দুরা হলিক্রস স্কুল এন্ড কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী। সে বান্দুরা ইউনিয়নের পুরাতন বান্দুরার গ্রামের ওয়াহেদুর রহমান ওরফে মঞ্জুরছেলে। শিক্ষিকা শারমীন আক্তার সুর্বনা একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিক। তিনি পার্শ্ববর্তী হাসনাবাদ গ্রামের আব্দুল ফজলের মেয়ে। এটি তার তৃতীয় বিয়ে বলে এলাকাবাসী জানায়।

স্থানীয়রা জানায়, শারমীন আক্তার সুবর্না বান্দুরা হলিক্রস স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্তব্যরত। অর্পণ ঐ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিবে। সুবর্না অর্পনের ক্লাশ শিক্ষিকা থাকায় তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। বিভিন্ন সময় ঐ শিক্ষিকা নানা অজুহাতে অর্পনের বাড়ীতে যাতায়াত করতো। ছাত্র-শিক্ষিকার সর্ম্পক হওয়ায় কেউ খারাপ চোখে দেখেনি।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে প্রেমের টানে ছাত্রের হাত ধরে ঘর ছাড়লেন শিক্ষিকা। ছেলে অপ্রাপ্ত বয়সী হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে অর্পনের বাবা নবাবগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার রাতে ঐ শিক্ষিকার বাড়ী থেকে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। রাতেই শিক্ষিকাকে তারপরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বুধবার সকালেলিখিত মুচলেকায় ছাড়া পায় অর্পন। তবে সুর্বনা ও অর্পন দাবি করেন, তারা কোর্টে বিয়ে করেছে।এধরনের সমাজিক অবক্ষয় রোধ করার বিষয়য়ে অভিভাবকদের আরো সচেতনতার আহ্বান জানিয়ে বান্দুরা গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, শিক্ষিকা ও ছাত্রের সম্পর্ক হওয়ার কথা পবিত্র। কিন্তু এঘটনার পর সবার মনে একটা প্রশ্ন, ছেলে-মেয়েরা কোথায় নিরাপদ!বান্দুরা হলিক্রস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রাদার নিপুন রোজারিও বলেন, বিষয়টি জেনেছি। আমি ছুটিতে আছি। ২ জানুয়ারি আসছি।নবাবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনছারী জিন্নাত আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে। শিক্ষিকা ও ছাত্রকে যার যার পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশঃ পাশের হার ৯২.৩৩%

0

সারাদেশে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার পাসের হার ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার পর এ ফল প্রকাশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভন গণভবন থেকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ ফল ঘোষণা করেন। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় ফলাফলের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার।
বেলা সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত ফলাফল তুলে ধরবেন নাহিদ। আর ফিজার দুপুর ১টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরবেন। দুই মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর পরই শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে ফল জানতে পারবে। যে কোনো মোবাইল থেকে এসএমএস করেও ফল জানা যাবে।

এবার ৩২ লাখ ৩০ হাজার ২৮৮ জন প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমপানী এবং ২৪ লাখ ১২ হাজার ৭৭৫ জন শিক্ষার্থী জেএসসি-জেডিসিতে অংশ নেয়। গত বছর প্রাথমিক সমাপনীতে ৯৮ দশমিক ৫২ শতাংশ ও ইবতেদায়ীতে ৯৫ দশমিক ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। জেএসসি-জেডিসিতে ২০১৫ সালে সম্মিলিতভাবে ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। এর মধ্যে জেএসসিতে ৯২ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং জেডিসিতে ৯২ দশমিক ৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়।

ঢাকা জেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ

1

ঢাকা জেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ঘোষিত বেসরকারী ফলাফলে সদস্য পদে দোহার (১৫ নাম্বার ওয়ার্ড) থেকে বিজয়ী হয়েছেন শাহজাহান মোল্লা, নবাবগঞ্জের ১৩ নাম্বার ওয়ার্ডে সাইফুল ইসলাম। তবে ১৪ নাম্বার ওয়ার্ডে ওয়াহিদুজ্জামান রনি ও আরিফুর রহমান দু’জনে সমান সংখ্যক ভোট পাওয়ায় তাদের ফলাফল লটারীর মাধ্যমে চুড়ান্ত করা হবে। আর দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার তিনটি ওয়ার্ড মিলে সংরক্ষিত নারী আসন-৫ এ বিজয়ী হয়েছেন নবাবগঞ্জের মাহমুদা আক্তার।

দোহার উপজেলা তথা ১৫ নাম্বার ওয়ার্ডে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে নারিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান মোল্লা (অটোরিক্সা) ৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা যুবলীগ নেতা হুমায়ুন কবির (ক্রিকেট ব্যাট) পেয়েছেন ৩৭ ভোট, নয়াবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি তৈয়বুর রহমান তরুন (তালা) ও রাকিব বিন হাসেম রিপন (ঘুড়ি) দুজনে পেয়েছেন ৬ ভোট করে। এছাড়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান (বৈদুতিক পাখা) ২ ভোট, আবুল বাশার (হাতি) ও শামীম বেপারী (ঢোল) পেয়েছেন ১ ভোট করে। কোন ভোট পাননি পৌর স্বেচ্ছাবেক লীগের সভাপতি মোঃ সালাউদ্দিন (টিউবওয়েল )।

দোহারের এ কেন্দ্রে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী শামীমা আক্তার বিথী (টেবিল ঘড়ি) পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৬২ ভোট। এছাড়া আনারকলি পুতুল (হরিণ) ৩১ ভোট, মাহমুদা আক্তার (দোয়াত কলম) ৮ ভোট ও জয়নব বেগম জলি (ফুটবল) পেয়েছেন ৪ ভোট। এ কেন্দ্রে কোন ভোটই পাননি রেশমা আক্তার (মাইক)। দোহারে মোট ভোটার ছিল ১০৭ জন। এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১০৬ জন ভোটার। বাতিল হয়েছে ১টি ভোট।

অপরদিকে, ঢাকা জেলা পরিষদ নির্বাচনে নবাবগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চল চুড়াইন, গালিমপুর, আগলা, বক্সনগর, বাহ্রা, শোল্লা ও কৈলাইল ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ১৩ নাম্বার ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৮ জন প্রার্থী। এ ওয়ার্ডে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাইফুল ইসলাম ২৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পত্তনদার মোহাম্মদ রাকিব, তিনি পেয়েছেন ২০ ভোট। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাসেত ১৬ ভোট, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান আওলাদ ১৪ ভোট, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউর রহমান রেজা ৭ ভোট, বক্সনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন খান ৬ ভোট, ভাস্কর চৌধূরী ১ ভোট। এ কেন্দ্রে কোন ভোটই পাননি শামীম মাহমুদ।

১৩ নাম্বার ওয়ার্ডের কেন্দ্রে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী মাহমুদা আক্তার (দোয়াত কলম) পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৪৭ ভোট। এছাড়া রেশমা আক্তার (মাইক) ২৬ ভোট, শামীমা আক্তার বিথী (টেবিল ঘড়ি) পেয়েছেন ২১ ভোট, আনারকলি পুতুল (হরিণ) ১৬ ভোট। এ ওয়ার্ডে কোন ভোট পাননি জয়নব বেগম জলি (ফুটবল)।

নবাবগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমাঞ্চল শিকারীপাড়া, জয়কৃষ্ণপুর, বারুয়াখালী, নয়নশ্রী, বান্দুরা, কলাকোপা ও যন্ত্রাইল ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ১৪ নাম্বার ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৬ জন প্রার্থী। এ ওয়ার্ডে ওয়াহিদুজ্জামান রনি ও আরিফুর রহমান খান সমান সংখ্যক ৩৫ ভোট করে পেয়েছেন। দুই প্রার্থী সমান সংখ্যক ভোট পাওয়ায় ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লটারীর মাধ্যমে বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। এ ওয়ার্ডের অন্য প্রার্থীদের মধ্যে পলাশ চৌধূরী পেয়েছেন ১৬ ভোট, নাসির উদ্দিন পান্নু ৫ ভোট, স্বপন কুমার সরকার ২ ও আকমল হোসেন ১ ভোট।

এ ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনে সর্বোচ্চ ৬৩ ভোট পেয়েছেন মাহমুদা আক্তার (দোয়াত কলম)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শামীমা আক্তার বিথী (টেবিল ঘড়ি) পেয়েছেন ১০ ভোট।

সবমিলিয়ে দোহার ও নবাবগঞ্জের তিনটি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত সংরক্ষিত নারী আসন-৫ এ বিজয়ী হয়েছেন মাহমুদা আক্তার (দোয়াত কলম)। তিন কেন্দ্র মিলে তিনি পেয়েছেন সর্বমোট ১১৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শামীমা আক্তার বিথী (টেবিল ঘড়ি) পেয়েছেন ৯৩ ভোট। ঢাকা জেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ এর পর বিজয়ীরা উচ্ছাস ও আনন্দ প্রকাশ করেন।

দোহারে জেলা পরিষদ সদস্য নির্বাচনে শাহজাহান মোল্লা বিজয়ী

 

ঢাকা জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৫ নাম্বার ওয়ার্ড (দোহার উপজেলা) এ সাধারন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন শাহজাহান মোল্লা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হুমায়ন কবির পেয়েছেন ৩৭ ভোট। বেলা দুইটায় ভোট গ্রহন শেষে তিনটার দিকে কেন্দ্র থেকে ফলাফল ঘোষনা করা হয়।

সকাল ৮ থেকে দোহারের জয়পাড়া পাইলট স্কুলে শুরু হওয়া ভোটে ১০৭ জন ভোটারের মাঝে ১০৬ জন ভোটার ভোট দেন। এর মাঝে বৈধ ভোট কাউন্ট হয় ১০৫ টি। ভোট গ্রহন শেষে নারিশার শাহজাহান মোল্লা অটো রিক্সা প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হুমায়ন কবির ক্রিকেট ব্যাট প্রতিক নিয়ে ৩৭ ভোট পেয়ে ২য় স্থান লাভ করেন। ৩য় স্থান লাভ করেছেন যুগ্মভাবে তালা প্রতিক নিয়ে তৈয়ুবুর রহমান ও রাকিব বিন হাসেম। উভয়ই পেয়েছেন ৬ ভোট। এছাড়া বৈদ্যুতিক পাখা নিয়ে হাবিবুর রহমান পেয়েচেন ২ ভোট, শামীম বেপারী ১ ভোট। অপর প্রার্থী সালাউদ্দিন কোন ভোট পান নি।

দোহার-নবাবগঞ্জে ইয়াবার ছড়াছড়ি

 

ঢাকার দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলায় বর্তমান সময়ে মাদক আসক্ত ব্যক্তিদের কাছে একটি অতিপরিচিত নাম  ইয়াবা যার  কদর  বাড়ছে প্রতিদিন এ অঞ্চলে।  ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসায়ীর সংখ্যাও। ইয়াবার কারনে যুব সমাজ আজ বিপথগামী। ভালো ভালো ছেলে-মেয়েরা ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন শিক্ষার্থী, বেকার যুবক থেকে শুরু করে এ তালিকায় রয়েছেন চাকরীজীবি, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ।

ইয়াবা সেবনকারীরা প্রায় নেশারত অবস্থায় চলাফেরা করে  ফলে অনিচ্ছ সত্বেও অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে  জরিয়ে পরে। ইয়াবার বিষাক্ত ছোবলে অকালে ঝরে যাচ্ছে যুবসমাজ। ইয়াবার টাকা জোগাড় করতে কেউ কেউ বেছে নিচ্ছেন চুরি, ছিনতাই মতো কাজও।

আর ইয়াবার জোগান দিতে অন্তত দুই শতাধিক উপর পাইকার ব্যবসায়ী আছেন দু উপজেলায়। পাইকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইয়াবা নিয়ে গ্রাহকের কাছে পৌছে দিচ্ছে খুচরো বিক্রেতারাগণ।

আর এসব অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী ও বিক্রেতার কাছ থেকে মাসোয়ারা নিয়ে অবাধে ব্যবসা করার সুযোগ দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য। আবার ইয়াবা বিক্রেতাকে আটকের পর টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার ঘটনাও কম ঘটেনি এই দু উপজেলায়। ‘গ্রেফতার বানিজ্য’ করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু সদস্য। টাকা না দিলে তাৎক্ষনিকভাবে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করে জেল-জরিমানা করে দায়িত্ব শেষ করছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  ইয়াবা ব্যবসায়ী বলেন, দোহার ও নবাবগঞ্জের  খুচরো ইয়াবা ব্যবসায়ী  রয়েছে ২৮০ জন। ইয়াবা বিক্রির নির্দিষ্ট কিছু স্পট থাকলেও বেশিরভাগ খুচরা বিক্রেতা মোবাইলে যোগাযোগের পর নির্দিষ্ট স্থানে ইয়াবা পৌছে দেয়া হয়। ইয়াবার আগ্রাসনরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। নবাবগঞ্জের এক রাজনীতিবিদ বলেন, ইয়াবা সব শ্রেনী পেশার মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। ধ্বংশ করে দিচ্ছে তরুন প্রজন্মকে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভয়াল মাদকের গ্রাসে ধ্বংস-নিঃস্ব হয়ে পড়ছে একেকটি পরিবার। একই সঙ্গে মাদকাসক্তদের অকাল মৃত্যু কিংবা ভয়ানক রোগব্যাধির মাত্রা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে মাদকাসক্ত মানুষের মধ্যে ক্যান্সার, কিডনির রোগ, লিভারের রোগ, হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট, উ”চ রক্তচাপ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, বিকলাঙ্গতার ঝুঁকি সবচেয়ে  বেশি বলে জানান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা জেলার সহকারী পুলিশ জানান, ইতিমধ্যে অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে ধরে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নিয়মিত মামলাও হরচ্ছ অনেকের বিরুদ্ধে। কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে যদি মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ঠতার অভিযোগ পাওয়া যায় বা মাসোয়ারার নেয়ার  অভিযোগ আসে তাকে ছাড় দেয়া হবে না। মাদক পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব আমরা চেষ্টাই করছি।