কালিগঙ্গা নদীতে নৌকা বাইচে উৎসবের আমেজ

শেখ ফয়সাল / রাকিব: ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা-সিংজোর কালিগঙ্গা নদীতে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। সোমবার সিংজোর এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ বাইচকে কেন্দ্র করে নদীপাড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ছয়টি নৌকা— সোনার বাংলা, জয় আলী, মোল্লা বাড়ি, কালাম সিকদার, বলধরার প্রবাসী, মামা ভাগিনা ও তুফান-২। লটারির মাধ্যমে প্রতিযোগিতার ধাপ নির্ধারণ করা হয়। প্রথম ধাপে সোনার বাংলা বনাম জয় আলী, মোল্লা বাড়ি বনাম কালাম সিকদার এবং বলধরার প্রবাসী বনাম মামা ভাগিনা নৌকার মধ্যে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা বলেন, “হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ আজও টিকে আছে শুধুমাত্র জনগণের আগ্রহে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই। সরকার প্রতিবছর ফুটবল ও ক্রিকেটের আয়োজন করলেও নৌকা বাইচকে অবহেলা করা হচ্ছে। আমরা দাবি জানাই, প্রতি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি উদ্যোগে নৌকা বাইচ আয়োজন করা হোক।”

বাইচ শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় চ্যাম্পিয়ন দলকে একটি মোটরসাইকেল প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সব নৌকাকে দেওয়া হয় সান্ত্বনা পুরস্কার।

দোহারে মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন

ঢাকার দোহার উপজেলায় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫ উপলক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৮ আগস্ট (সোমবার) সকালে উপজেলা সভাকক্ষে এ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিরিন সুলতানা মুন্নীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: তুরাজ, বি আর ডি বি কর্মকর্তা আঃ সাত্তার, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শামিম হোসেন, নৌ পুলিশের কর্মকর্তা ও অন্যান্য অতিথি।

সভায় স্থানীয় মৎস্যচাষী ও বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও মৎস্য খাতের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়াও মাছের পুষ্টিগুণ এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে মৎস্য বিক্রির কৌশল নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। মৎস্য সপ্তাহ উদযাপনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নানা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

সরবরাহ বাড়লেও ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ২ হাজার টাকার বেশি

রাজধানীর বাজারে ইলিশের সরবরাহ মৌসুমের শুরু থেকে কিছুটা বেড়েছে। তা সত্ত্বেও দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থেকে গেছে। ভরা মৌসুমে বাজারে প্রচুর ইলিশ থাকলেও মধ্যবিত্ত এখনও ইলিশের ঘ্রানও নিতে পারছে না। বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে দাম কিছুটা কমেছে, তবে তা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা মাত্র, যার ফলে ১ কেজি ওজনের ইলিশের জন্য এখনও গুনতে হচ্ছে ২ হাজার টাকার বেশি।

রোববার (১৭ আগস্ট) সকালে  বাজারে দেখা গেছে, ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২১০০-২২০০ টাকায়। ১ কেজি ২০০ গ্রামের ইলিশের দাম ২৪০০-২৫০০ টাকা, আর বড় সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকায়। ৮০০ গ্রামের ইলিশ ১৫০০-১৬০০ টাকায়, ৫০০ গ্রামের ছোট সাইজের ইলিশ ১২০০-১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৯০০ টাকিতে কেনা ইলিশ খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ২১০০-২২০০ টাকায়। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ কিনতে গুনতে হচ্ছে ২৪০০ থেকে ২৮০০ টাকা পর্যন্ত। মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটে ১ কেজি ২০০ গ্রামের ইলিশ ২৪০০-২৫০০ টাকায়, বড় ইলিশ ২৮০০-৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের তুলনায় দাম কিছুটা কমেছে। ৩ হাজার টাকার ইলিশ এখন ২২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জাটকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৮০০ টাকায়। জমির উদ্দিন বলেন, বাজারে ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। ছোট ইলিশ বেশি, তাই তার দামও কম। বিশেষ করে পদ্মার ইলিশের চাহিদা বেশি, অন্য জেলার তুলনায় চাঁদপুরের ইলিশের দাম একটু বেশি।

মোটের ওপর, সরবরাহ বাড়লেও ভরা মৌসুমেও ইলিশের দাম ২ হাজার টাকার ওপরে থাকায় সাধারণ মধ্যবিত্তের জন্য এটি এখনো বিলাসী মাছ হিসেবেই রয়ে গেছে।

দোহারে মাদকবিরোধী অভিযানে যুবক গ্রেফতার

ঢাকার দোহার উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৭ পিস ইয়াবাসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের এসআই (নিঃ) হরিচাঁদ হাজরা সঙ্গীয় ফোর্সসহ দোহার উপজেলার নারিশা বাজার এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন। এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, নারিশা ইউনিয়নের উত্তর শিমুলিয়া এলাকায় মাদক ক্রয়-বিক্রয় চলছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়।

তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে ৩৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ হাজার ১০০ টাকা। গ্রেফতারকৃতের নাম মো. জাহিদ (২৬)। তিনি উত্তর শিমুলিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

এ ঘটনায় দোহার থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা (নং-১৪, তারিখ-১৬/০৮/২০২৫) দায়ের করা হয়েছে।

হারুন-অর-রশীদ মাস্টার হত্যার প্রতিবাদে নয়াবাড়ীতে সমাবেশ

দোহার উপজেলার বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও দোহার উপজেলা বিএনপির নেতা হারুন-অর-রশীদ মাস্টার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১৫ আগস্ট শুক্রবার বাদ আসর নয়াবাড়ী ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে বালেংগা বাজারে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং ঘটনায় জড়িত খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে, হত্যার পেছনে থাকা মাস্টারমাইন্ডদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি উঠে আসে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নয়াবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হাই হারেজ মাদবর।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল মান্নান, লাভলু মোল্লা, জামাল বেপারী, আব্দুর রাজ্জাক, ডা. ইলামদ্দিন, ইয়ার আলী মেম্বার, শফি উদ্দিন, সোনাই মেম্বার, আবু বক্কর সিদ্দিক বাবু, তোতা মোল্লা, মশিউর রহমান রিপন, জাহাঙ্গীর চোকদার, সেলিম রেজা, মনির মোল্লা, ওয়াসিম মোল্লা, মজনু মিয়া, শাকিব হোসেন ফরিদ, ফিরোজ আলম, সবুজ মোল্লা, লিটন হোসেন কালু, সোহেল রানা, সেন্টুসহ অনেকে।

বক্তারা জানান, হারুন-অর-রশীদ মাস্টার ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক ও সমাজসেবক। তাঁর হত্যার মাধ্যমে একটি শিক্ষিত সমাজকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।

তারা হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

দোহারে দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার রমজান ওরফে কালা ও লালন গ্রেফতার

ঢাকার দোহার থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার শেখ রমজান ওরফে কালা (৩৮) ও তার সহযোগী লালন ফকির ওরফে লাল মিয়া (৩৬) গ্রেফতার হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১১ আগস্ট রাত ৩টা ১৫ মিনিটে কলেজ মোড়ে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে, ইসলামপুর খালপাড় এলাকায় একদল ডাকাত ট্রাকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডাকাতদল পালানোর চেষ্টা করে। এসময় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে আটকে গেলে পুলিশ চারজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে একটি ট্রাক, কাটার, কুড়াল, দা, লোহার রড ও তিনটি লম্বা পাটের রশি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো—
১. আব্দুর রহমান (৩৮), কুমিল্লা।
২. শাহীন মন্ডল (২৮), ঝিনাইদহ।
৩. নজরুল (৪৩), রাজবাড়ী।
৪. রাকিবুল ইসলাম (২৮), দোহার, ঢাকা।

এ ঘটনায় দোহার থানায় ডাকাতি মামলা (নং-০৭, ধারা-৩৯৯/৪০২, পেনাল কোড-১৮৬০) রুজু করা হয়।

পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ আগস্ট বিশেষ অভিযানে ডাকাত দলের সর্দার শেখ রমজান ওরফে কালা ও লালন ফকির ওরফে লাল মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শেখ রমজান ওরফে কালা দোহারসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ১১টি ডাকাতি মামলার আসামি। অপরদিকে, লালন ফকির ওরফে লাল মিয়ার নামে ৩টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মাদকবিরোধী সংবাদ প্রকাশ করায় কাজী জুবায়েরের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার: নবাবগঞ্জের মো মাসুম নামে অভিযুক্ত এক মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় দোহার প্রেসক্লাবের সদস্য ও সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তা সম্পাদক কাজী জুবায়েরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে, মামলাটি হয়রানীমূলক এবং মিথ্যা বলে দাবী করেছেন সাংবাদিক কাজী জুবায়ের।

গত ২৪ জুন সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তা পত্রিকায় অভিযোগের ভিত্তিতে হাসনাবাদ এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মাসুমের মাদক কারবার ও অবৈধ সম্পদ নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাসুম স্বল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

তথ্য যাচাইয়ে জানা যায়, মাসুমের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় একাধিক জিডি ও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তার মালিকানায় একটি মাছের প্রজেক্ট, বহুতল ভবনসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ রয়েছে।

সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিশোধ নিতে ও নিজের অপরাধ আড়াল করতে মাসুম এশিয়া বার্তা-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এস-এর নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি সাংবাদিক কাজী জোবায়ের আহমেদকে প্রধান আসামি করে এবং অজ্ঞাত আরও চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে নবাবগঞ্জ থানায় তদন্তাধীন।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা জেলা, দোহার ও নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা। তারা অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং অভিযুক্ত মাসুমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক বলেন, “সাংবাদিকের নিউজে ক্ষুব্ধ হয়ে ভিন্ন কৌশলে মামলা করা হয়েছে, যাতে বলা না যায় যে সংবাদ প্রকাশের কারণে মামলা হয়েছে।”

ঢাকা জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ বলেন, “যারা সাংবাদিকের কলম রুখতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে। সকল সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

দোহার প্রেসক্লাবের সভাপতি তারেক রাজিব বলেন, “সাংবাদিক কাজী জোবায়ের আহমেদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং মাদক কারবারির বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা সাংবাদিক সমাজ মাঠে নামবে।”

নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জহির আহমেদ বলেন, “সারাদেশে সাংবাদিক হত্যাসহ নানা হামলার শিকার হচ্ছে। দোহারেও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ তদন্ত করছে, তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উঠে আসবে।”

দোহারের মধুরচরের খাল থেকে মাদরাসাছাত্রী মরিয়মের লাশ উদ্ধার

দোহার উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর খাল থেকে উদ্ধার হলো ৭ বছরের মাদরাসাছাত্রী মরিয়মের নিথর দেহ। বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের মধুরচর এলাকায় বাড়ির পাশের খালে পানিতে ভাসমান অবস্থায় মরিয়মকে দেখতে পান স্থানীয়রা।

মরিয়ম মধুরচর গ্রামের আদিলউদ্দিন বেপারি ও শাহিদা দম্পতির একমাত্র সন্তান। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (১১ আগস্ট) বিকেলে প্রতিবেশী এক শিশুর সাথে খালে গোসল করতে গিয়েছিল মরিয়ম। গোসল শেষে প্রতিবেশী শিশু বাড়ি ফিরলেও মরিয়ম আর ফেরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন তার মা দোহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

দুই দিন পর বুধবার সকালে বাড়ির পাশের খালে মরিয়মের মরদেহ ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা-বাবা অসহায় হয়ে পড়েছেন, চলছে আহাজারি আর বেদনার মাতম।

ঢাকা-১ (দোহার) সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন

0

সংসদীয় আসন ১৭৪কে ঢাকা-১ (দোহার) হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহসহ বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনে আবেদন জমা দিয়েছে দোহার সংসদীয় আসন পুনরুদ্ধার কমিটি।

রোববার বিকাল সাড়ে ৪টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এ আবেদন জমা দেওয়া হয়। এর আগে শনিবার সকাল থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত দোহারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে কমিটি। আবেদনের সঙ্গে এই গণস্বাক্ষরের তালিকাও জমা দেওয়া হয়।

কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার নিকটবর্তী দোহার উপজেলা নিয়ে ১৯৭৩ সালে ঢাকা-১ আসন গঠিত হয় এবং তা ৩৫ বছর ধরে বহাল থাকে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১ (দোহার) ও ঢাকা-২ (নবাবগঞ্জ) একীভূত করে একটি আসন করা হয়। গত ৫ আগস্টের পর থেকে দোহার ও নবাবগঞ্জকে পৃথক আসনে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা।

দোহারের বাসিন্দা আইনজীবী মনির হোসেন বলেন, দুটি আসন একীভূত হওয়ার পর গত দেড় যুগে দোহার উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি দ্রুত দোহারকে ঢাকা-১ এবং নবাবগঞ্জকে ঢাকা-২ আসন হিসেবে পুনর্বহাল করে উন্নয়নের গতি বাড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁর মতে, ভোটার সংখ্যা কম থাকার অজুহাতে একীভূত করা হলেও বর্তমানে দোহারে ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৭ জন, যা একটি সংসদীয় আসনের জন্য যথেষ্ট।

রোববার বিকালে দোহার ও নবাবগঞ্জ সংসদীয় আসন পুনরুদ্ধার কমিটির পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষরসহ আবেদন জমা দেন কয়েকজন প্রতিনিধি। একই সঙ্গে একই দাবিতে পৃথকভাবে আবেদন করেন দোহারের বাসিন্দা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র কেএম খালেদুজ্জামান এবং দোহার জয়পাড়া কলেজের সাবেক জিএস মো. ফজলুল হক।

নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সেক্রেটারিকে প্রাণনাশের হুমকি: কলম থামবে না—ঘোষণা প্রতিবাদী মানববন্ধনে

0

নবাবগঞ্জ (ঢাকা), নিউজ৩৯ প্রতিনিধি শেখ আশিক
“একজন সাংবাদিক যদি আজ হুমকির মুখে পড়ে, কাল হয়তো আর লিখবেন না। আর তখনই থেমে যাবে সত্যের পথচলা।” – এমনই কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বর। কারণ, প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক যুগান্তরের দোহার-নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি কাজী সোহেল।

ঘটনাটি ঘটে ২ আগস্ট রাতে, অভিযোগ অনুযায়ী—আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের যন্ত্রাইল ইউনিয়ন শাখার সভাপতি সুরুজ মোল্লা কাজী সোহেলকে মোবাইল ফোনে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয় উপজেলা পরিষদের সামনে। একইসাথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলাম এবং নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর নিকট একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়।

মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন— “সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়, এটি পেশা নয়—একটি সামাজিক দায়িত্ব। আমরা কারো পক্ষ বা বিপক্ষ নই, আমরা শুধু সত্যের পক্ষেই। কিন্তু সাংবাদিককে হুমকি দিয়ে, তার কলম বন্ধ করার এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহিনুর রহমান তুতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান সুজন, প্রাক্তন সভাপতি সুমন মৃধা, দোহার প্রেসক্লাবের সদস্যগণসহ প্রায় ২৫ জন স্থানীয় সংবাদকর্মী।

দোহার প্রেসক্লাবের সভাপতি মু, তারেক রাজীব বলেন, এই ঘটনা শুধু একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি সাংবাদিকতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

দোহার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, যখন সাংবাদিক নিরাপদ থাকবেন না, তখন সমাজের গলার স্বরও স্তব্ধ হয়ে যাবে। আজ কাজী সোহেল, কাল হয়তো অন্য কেউ। এ দায় কি সমাজ এড়াতে পারে? প্রশাসন দ্রুত এই ব্যাপারে নিবে বলে আশা করছি।