সোনাবাজু বেড়িবাঁধে স্লুইচগেট: উপদেষ্টার নির্দেশে দুই দিনের মধ্যে প্রতিবেদন

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় সোনাবাজু বাজার এলাকায় কাশিয়াখালী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধে সুইসগেট স্থাপনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড চার পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করেছে ঢাকা পানি উন্নয়ন সার্কেল-১ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরে।

বুধবার পানি উন্নয়ন বোর্ড ঢাকা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত এই প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। তিনি বলেন, আমরা গত মঙ্গলবার মাননীয় পরিবেশ উপদেষ্টার নির্দেশক্রমে পাউবো’র দুই কর্মকর্তা ইছামতি নদীটি পরিদর্শন করেছে। আমরা মনে করি ওখানে স্লুইস গেট হলে ইছামতি নদী আবার আগের রূপ ফিরে পাবে। পরে বুধবার নবাবগঞ্জের স্লুইস গেট প্রকল্পটি এতদিনেও পাস না হওয়ার কারণ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ঢাকা পানি উন্নয়ন সার্কেল-১ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। ২০১৭ ও ২০১৯ সালে হওয়া প্রকল্পটি বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের সমীক্ষা না থাকায় আটকে যায়। সম্প্রতি তাদের সমীক্ষাটি সম্পন্ন হয়েছে।

দোহারের কার্তিকপুরে স্লুইস গেট স্থাপনে দুই সংগঠন নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটি ও সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৌশলী সৈকত বলেন, আমরা নবাবগঞ্জের কাশিয়াখালী স্লুইস গেট প্রকল্পের সঙ্গে
দোহারের কার্তিকপুরের ইছামতি নদীও যুক্ত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

এ বিষয়ে নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। তাদের কাছে ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ বেড়িবাঁধে স্লুইসগেট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছি। তারা আমাদের দাবিটি বিবেচনায় নেয়ার আশ্বাস দেন। তিনি আরও বলেন, মূলত বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের সমীক্ষা না থাকায় ২০১৭ ও ২০১৯ সালের গল্পটি পাস হয়নি। তবে জানতে পেরেছি সম্প্রতি ৮ কোটি টাকা খরচ করে এ সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছো।

প্রতিবেদনে যা বলা হয়:

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলাধীন কাইসাখালী এলাকায় ইছামতি নদীর উৎস মুখ পদ্মা নদী হতে উৎপত্তি হয়ে ধলেশ্বরী নদীতে মিলিত হয়েছে। ১৯৮৮ সালে পদ্মা নদী উপচে বন্যা হলে ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। ইছামতি নদীতে সৃষ্ট অতিরিক্ত প্রবাহের ফলে বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন দেখা দেয়। পরবর্তীতে ১৯৯৪-৯৫ সালে ইছামতি নদীর উভয় পাড়ের বিভিন্ন স্থানকে বন্যা ও প্রবল নদী ভাঙ্গন হতে রক্ষার জন্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ নির্মাণ করা হয়। বাঁধ নির্মাণকালে কার্তিকপুর এবং কাইসাখালী নামক স্থানে দুইটি ক্লোজার নির্মানের মাধ্যমে ইছামতি নদীর সাথে পদ্মা নদীর সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকা বন্যা ও প্রবল ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার জন্য কাশিয়াখালী হতে কামারগাঁও পর্যন্ত পদ্মা নদীর বাম তীর বরাবর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মান করা হয়েছে। প্রকল্পের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন খালের মুখে রেগুলেটর নির্মাণ করার নির্দেশনা থাকলেও প্রয়োজনীয় তহবিলের অভাবে তা তখন করা সম্ভব হয় নাই। ফলে ইছামতি নদী ও প্রকল্পের এলাকার বিভিন্ন খালে পানি প্রবাহ দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ থাকায় পানি দূষিত হয়ে পড়েছে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষাকালে যে বৃষ্টিপাত হয় তা ইছামতি নদী ও বিভিন্ন খালের পানি পরিশোধনের জন্য যথেষ্ট নয়। উপরন্তু ইছামতি নদী ও সংযুক্ত খালসমূহের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয়ভাবে অপরিকল্পিতভাবে ক্রস-ড্যাম নির্মাণ, খালের অফটেক ও আউটফল বাড়ীঘর, গাছপালা, বাজার ও রাস্তা দ্বারা বন্ধ করা এবং প্রকল্প এলাকার অনেকগুলি খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মান করার ফলে পানি প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে জলাবদ্ধতা ও পানি দুষন আরও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি দুষনের কারনে চাষাবাদ, মৎস চাষ, জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধনের জন্য “আড়িয়াল বিল এর সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা ও ইছামতি নদীর নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্প বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ২০১৬ সালে গ্রহণ করা হয়। উক্ত প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় বোটপাসসহ কার্তিকপুর এবং সোনাবাজুবাজার নামক স্থানে দুইটি সুসগেট নির্মাণের সংস্থান রাখা হয়েছিল, যাতে করে পদ্মা নদী হতে সারা বছর ইছামতি নদীতে পানি প্রবাহিত হতে পারে এবং নৌ চলাচল করতে পারে। উক্ত প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল প্রকল্প এলাকার ঘরবাড়ী, সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান প্রভৃতিকে নদী ভাঙ্গন হতে রক্ষা করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প এলাকায় পদ্মা নদীর পানি প্রবেশ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতার অবসান। উল্লিখিত উদ্দেশ্যেসমূহ বাস্তবায়নের নিমিত্ত প্রস্তুতকৃত ডিপিপি ২০১৬ সালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। ২০১৭সালের ৯ই আগস্ট পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ডিপিপি যাচাই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পরবর্তীতে ২০১৯ সালর সেপ্টেম্বর মাসে যাচাইসভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক পূর্নগঠিত ডিপিপি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। অতপর ২০১৯ সালের ১৩ই নভেম্বর পুনরায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবিত প্রকল্পের যাচাই সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত যাচাই সভার কার্যবিরণীতে কয়েকটি সুপারিশসহ পুর্নগঠিত ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। উক্ত নির্দেশনা মোতাবেক ডিপিপি পূর্নগঠন করা হয়, কিন্তু পরবর্তীতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫০ কোটি টাকার উর্দ্ধে প্রাক্কলিত ব্যয়ের প্রকল্পে সমীক্ষা রিপোর্ট বাধ্যতামূলক করা হয়। তৎপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২১শে মার্চ বাংলাদেশ পানি বোর্ড ঢাকা জেলার অন্তর্গত ইছামতি নদী অববাহিকার সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার নিমিত্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা” শীর্ষক সমীক্ষা প্রকল্পের পারফর্ম ফর ফিজিবিলিটি স্টাডি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় হতে নির্দেশনা প্রদান করা হয় যে, উক্ত এলাকায় বাংলাদেশ হাওড় ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক “আড়িয়াল বিল এলাকার জীবনযাত্রার মান এবং পানি ও ভূমি সম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা সমীক্ষা” শীর্ষক সমীক্ষা প্রকল্প চলমান থাকায় বাপাউবো কর্তৃক প্রস্তাবিত সমীক্ষা প্রস্তাবটি অনুমোদন করা যায়নি। ফলে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

দোহারে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ: বাজার কমিটির তোপের মুখে পন্ড 

শুক্রবার সকালে জয়পাড়া বাজারে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযুক্ত ব্যাক্তি আবুল হাশেম দাবী করেন, জমি তার কেনা সম্পত্তি। অন্যদিকে, বাজার কমিটির সভাপতি এসএম কুদ্দুস বলেন, জমি আপনার হলে, কাগজপত্র দিয়ে আইনগতভাবে বুঝে নিন। আবুল হাশেম একজন কেন্দ্রীয় এনসিপি নেতার বাবা।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা যায়, শুক্রবার সকালে জয়পাড়া বাজারের গরু হাটের কোটি টাকা মূল্যের সোয়া এক শতাংশ জায়গা বেড়া ও টিন দিয়ে ঘিরে দখল করছে এমন সংবাদ পায় জয়পাড়া বাজারের পরিচালনা কমিটির লোকজন।

তাৎক্ষনিক কমিটির সভাপতি এসএম কুদ্দুস ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। এরপর জমি দখল করতে আসা আবুল হাসেম মোল্লাকে দখল করার কারন জানতে চান বাজার পরিচালনা কমিটির লোকজন। এক পর্যায় আবুল হাসেম উত্তেজিত হয়ে উঠেন। তিনি বলেন, জমি আমার। আমার কেনা জমি।

বাজার কমিটির সদস্যরা এক পর্যায় তার দখল করা জায়গা থেকে আবুল হাসেমকে সব বেড়া খুলে ফেলতে বলেন। এসময় উত্বেজনা সৃষ্টি হলে বাজারের ব্যবসায়িরা জড়ো হয়ে সব বেড়া সরিয়ে ফেলেন । এসময় বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায় ব্যবসায়িদের রোষানলের কারণে, চলে যেতে বাধ্য হন আবুল হাসেম মোল্লা।

এ বিষয়ে আবুল হাসেম মোল্লা এই জমি তিনি আর এস এর রেকর্ডের বলে নাসির, শাহিন ও তার ভাই বোনদের সম্পত্তি হিসেবে তাদের নিকট থেকে ক্রয় করেছেন দাবি করেন।

তবে জমির মালিকানা দাবি হিসেবে তাতক্ষণিক কোন পেপারস দেখাতে পারেননি আবুল হাসেম মোল্লা।

এই বিষয়ে জয়পাড়া বাজারের ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি এসএম কুদ্দিস জানান, একজন কেন্দ্রীয় এনসিপি নেতার বাবা হিসেবে সে এই সরকারি জমি দখল করেছে। সেটা বাজারের কমিটির একজন সভাপতি হিসেবে আমি কোনভাবে মেনে নিতে পারিনা।

একই মনোভাব ব্যক্ত করেছেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ। তাদের কথা আইনগত কাগজ হলে, তিনি জমি এসিল্যান্ডের মাধ্যমে জমি বুঝে নিন।

তারা বলেন, বাজারের সরকারি সম্পত্বির উপরে আবুল হাসেম মোল্লার চোখ পরেছে গত ৫ আগষ্টের পরে।  এ নিয়ে দুই দফায় তিনি সরকারি জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে।

উল্লেখ্য আবুল হাশেম জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক মো রাসেল আহমেদ এর পিতা।

এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটি ( এনসিপি)র কেন্দ্রীয়  সংগঠক মো: রাসেল আহমেদ বলেন, জমি ক্রয়করা। বিষয়টি এসি ল্যান্ড কে জানানো হয়েছে। তিনি আসলে ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে বলে আমি আশা করছি।

ইছামতি বাঁচাতে দোহারে সুইচ গেট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরল দুই সংগঠন

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার ইছামতি নদী বাঁচাতে সুইচ গেট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে ‘সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম’ ও ‘নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটি’। গতকাল দুই সংগঠনের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ঢাকা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকতের কাছে দোহার ও নবাবগঞ্জে সুইচ গেট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এ সময় ঢাকা পানি উন্নয়ন সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ ওমর, নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাশিম মোল্লা, সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ ও নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ রবিউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ঢাকা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত বলেন, “মঙ্গলবার মাননীয় পরিবেশ উপদেষ্টার নির্দেশক্রমে পাউবো’র দুই কর্মকর্তা ইছামতি নদীটি পরিদর্শন করেছেন। আমরা মনে করি, সেখানে সুইচ গেট হলে ইছামতি নদী আবার আগের রূপ ফিরে পাবে।” তিনি আরও জানান, “বুধবার নবাবগঞ্জের সুইচ গেট প্রকল্পটি এতদিন পাস না হওয়ার কারণসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ঢাকা পানি উন্নয়ন সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।”

সংগঠনের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, “আমরা দোহারের কার্তিকপুরের ইছামতি নদী সমীক্ষা করে নবাবগঞ্জের কাশিয়াখালী সুইচ গেট প্রকল্পে যুক্ত করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।”

প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ২১ মার্চ ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ‘ঢাকা জেলার অন্তর্গত ইছামতি নদী অববাহিকার সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার নিমিত্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা’ শীর্ষক সমীক্ষা প্রকল্পের ‘পারফর্মা ফর ফিজিবিলিটি স্টাডি (পিএফএস)’ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয় যে, উক্ত এলাকায় বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক ‘আড়িয়ল বিল এলাকার জীবনযাত্রার মান এবং পানি ও ভূমি সম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা সমীক্ষা’ শীর্ষক সমীক্ষা প্রকল্প চলমান থাকায় পাউবো কর্তৃক প্রস্তাবিত সমীক্ষা প্রস্তাবটি অনুমোদন করা যায়নি। ফলে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি এতদিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

ইছামতীর উৎসমুখ খুলছে অবশেষে: নদীতে ফিরবে প্রাণ

আশিক শেখ, নবাবগঞ্জ, ঢাকা | অবশেষে প্রাণ ফিরতে যাচ্ছে এক সময়ের উজ্বল জলধারায় বয়ে চলা ইছামতী নদীতে। মংগলবারদীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির মুখে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। প্রায় দুই দশক ধরে কাশিয়াখালি বেড়িবাঁধের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে মুখ বন্ধ করে রাখা ইছামতী নদীর প্রবাহ এখন মুক্তির অপেক্ষায়। নানা প্রতিকূলতা ও প্রশাসনিক অবহেলার পর এবার যেন আশার আলো দেখছেন নদীপাড়ের মানুষ, কৃষক, সংগঠক ও পরিবেশকর্মীরা।

সাম্প্রতিক সময়ে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের নির্দেশে ইছামতী নদীর সোনাবাজু অংশ পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঢাকা বিভাগের দুই উপ-সহকারী প্রকৌশলী—ফরিদ উদ্দিন ও কালি কিংকর সাহা। পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সোনাবাজু বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি কার্যকর স্লুইচগেট স্থাপন করে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধারের সম্ভাব্যতা নিরূপণ।

পরিদর্শনের সময় স্থানীয়দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টোর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের নেতৃবৃন্দ, নদী বাঁচাও আন্দোলনের কর্মীরা এবং ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন বলেন,“ইছামতী নদীর জলাবদ্ধতা দূর করতে স্লুইচগেট স্থাপনের বিকল্প নেই। আমরা সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখেছি এবং প্রাথমিকভাবে মনে করছি, এখানে একটি বা একাধিক স্লুইচগেট স্থাপন করে নদী ও কৃষিজমির স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।”

এক যুগেরও বেশি সময়ের দাবি:

এই স্লুইচগেট স্থাপনের দাবিটি নতুন নয়। দৈনিক মানবজমিনের আদালত প্রতিনিধি ও নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা জানান, “আমরা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এ দাবি জানিয়ে আসছি। বিভিন্ন কর্মসূচি, স্মারকলিপি, মানববন্ধনের পর ২০১৭ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাজেট প্রস্তাব প্রেরণ করেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা এখনও অনুমোদনের আলো দেখেনি।”

তবে সাম্প্রতিক এই সরকারি তৎপরতা আন্দোলনের ফল বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল যে কৃষিভিত্তিক জনজীবন, তা আজ প্রায় ধ্বংসের পথে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, খরা মৌসুমে চাষাবাদে পানির অভাব—এই দ্বৈত সমস্যায় ভুগছে কোঠাবাড়ি, চকসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা।

ইছামতী কেবল একটি নদী নয়—এটি একটি ঐতিহ্যের ধারক। এই নদী ঘিরে ছিল বর্ষাকালের নৌকা বাইচ, ঘাট সংস্কৃতি ও জলভিত্তিক জীবনের ছন্দ। স্লুইচগেট নির্মাণের মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হলে একদিকে যেমন কৃষি পুনর্জীবিত হবে, অন্যদিকে নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতি ও পর্যটন সম্ভাবনাও জেগে উঠবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, খুব দ্রুত এ বিষয়ে একটি সুপারিশ প্রতিবেদন প্রণয়ন করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। স্থানীয় পরিবেশবাদী, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের প্রত্যাশা, এবার আর যেন প্রকল্পটি “ফাইলবন্দী স্বপ্ন” হয়ে না থাকে।

এই প্রসঙ্গে সেভ দ্য সোসাইটি ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক মোশতাক আহমেদ বলেন, “এই নদী আমাদের পরিবেশ, কৃষি ও সংস্কৃতির প্রাণ। দেরিতে হলেও প্রশাসন আমাদের কণ্ঠ শুনছে—এটাই বড় প্রাপ্তি।”

সীমানা পুনর্নির্ধারণে আসন পুনরুদ্ধার হয়নি:ক্ষোভ প্রকাশ, করে ফের দাবি জানাবে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ

নিউজ৩৯ সংবাদ প্রতিবেদন:বুধবার নির্বাচন কমিশন দেশের সংসদীয় আসনসমূহের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে খসড়া প্রকাশ করেছে। ফলে, একই থাকছে দোহার-নবাবগঞ্জ সংসদীয় আসন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে জোর দাবি থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঢাকা -১ ও ঢাকা -২ আসন পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়নি।

নির্বাচন কমিশনার সূত্রে জানা গেছে, ভোটার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়া এবং অতীতে দায়িত্বশীল নেতাদের অবহেলা ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়তা না থাকার কারণে এই আসনটি পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়নি। প্রক্রিয়ায় পিছিয়ে পড়ে।
এ প্রসঙ্গে জাসাসের কেন্দ্রীয় নেতা খালেকুজ্জামান জুয়েল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের আসনটি পুনরুদ্ধার না হওয়ায় যারা আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন, তাদের জন্য ধিক্কার রইলো। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা নয়, জনগণের অধিকারহরণের সমতুল্য।”

তিনি আরও বলেন, “তবে এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি। আমরা আবারও আমাদের ন্যায্য দাবির পক্ষে নির্বাচন কমিশনে লিখিত আবেদন করবো। যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ—ইনশাআল্লাহ।”

এই আন্দোলনের পেছনে যেসব স্থানীয় নাগরিক ও সংগঠন সমর্থন দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আসন পুনরুদ্ধার কমিটির আহবায়ক হুমায়ুন কবির বলেন, “যারা সবসময় আমাদের পাশে ছিলেন, তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা আশা করি, আগামী দিনেও আপনাদের সমর্থন আমাদের চলার পথকে আরও শক্তিশালী করবে।”

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত এই খসড়া নিয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে আপত্তি বা পরামর্শ জানানো যাবে। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী আশাবাদী, সুসংগঠিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তারা আবারও ন্যায্য অধিকার আদায়ে সফল হবেন।

দোহারে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

ঢাকার দোহার উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বেগম আয়েশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের হলরুমে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। পারফরম্যান্স বেইজড গ্রান্টস ফর সেকেন্ডারি ইন্সটিটিউশনস (PBGS) স্কিমের আওতায়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় দোহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং জেলা শিক্ষা অফিস যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রকিব হাসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া তাবাসসুম। তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের শুধু শিক্ষায় নয়, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলিতে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার নির্দেশনামূলক পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই-আগস্ট মাসে আহত ও নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে এবং উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় শহীদ ও আহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পদ্মা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জালাল হোসেন, জয়পাড়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আইয়ুবুর রহমান, জয়পাড়া মাহমুদিয়া আলীম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. আবদুন নূর, জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সায়্যিদা ইয়াসমিন লীনা এবং বেগম আয়েশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তার।

এছাড়াও পদ্মা সরকারি কলেজের প্রভাষক তারেক রাজীব, মো. মাসুদ রানা, মাহমুদুল হাসান সুমন, মো. আলমগীর হোসেনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য সকলেই শুভকামনা জানান।

নারিশায় রাস্তার বাধে চরম অনিয়ম, তদন্ত দাবি স্থানীয়দের

দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের ৬নং পশ্চিম চর সংলগ্ন মেঘুলা এলাকায় মাদরাসা ও এতিমখানা সংলগ্ন একটি রাস্তায় দুই লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনগণ ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে জনভোগান্তি আরও বেড়েছে।

উল্লেখ্য, মেঘুলা রওজাতুল ইসলাম দারুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানা সংলগ্ন রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি পরিবার চলাচল করে। জনস্বার্থে এই রাস্তাটি টেকসইভাবে নির্মাণ ও পাড় বাঁধাইয়ের প্রয়োজনীয়তা বহুদিন ধরেই স্থানীয়ভাবে আলোচিত ছিল। প্রথমে এলাকার জনগণ ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট মেম্বারকে বিষয়টি অবহিত করলে, পরবর্তী এক জনপ্রতিনিধি প্রকল্পটি পাশ করিয়ে নেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তাটিকে মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত অর্থ যোগ করার কথাও বলা হয়েছিল, যাতে তা টেকসই হয়। কিন্তু বাস্তবে কাজের গুণগত মান ছিল একেবারেই নিম্নমানের। কয়েকদিনের মধ্যেই রাস্তাটির পাড় ধসে পড়ে এবং কাজের উপকারিতা একপ্রকার শূন্যে নেমে আসে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের অর্থ মূলত ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট মেম্বারের পকেট ভারী করতেই ব্যয় হয়েছে, বাস্তব উন্নয়ন হয়নি।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা চাইছিলাম রাস্তা এমনভাবে করা হোক যাতে অন্তত ১০ বছর কোনো সমস্যা না হয়। কিন্তু কয়েক সপ্তাহেই সব ভেঙে পড়েছে। এই টাকা তো সরকারি, মানে আমাদেরই।”
অন্যদিকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, “আমাদের এতিম ছাত্রদের চলাচলের প্রধান রাস্তা এটি। উন্নয়ন হয়নি বরং আরও বিপদ বাড়লো।”

এ বিষয়ে এলাকাবাসী যথাযথ তদন্ত এবং প্রকল্পটির কাজ পুনরায় সঠিকভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তাঁরা।

এলাকার বিশিষ্টজনদের মতে, সরকারি অর্থে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের নামে এমন অনিয়ম একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ বাড়ায়, অন্যদিকে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়। নারিশার এ প্রকল্পের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

উত্তর শিমুলিয়ায় ডাকাতির পর ৭ ডাকাত গ্রেফতার, স্বর্ণালংকার উদ্ধার

দোহার থানার উত্তর শিমুলিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ (আবুল খালাসি) বাড়িতে গত ১৪.০৭.২০২৫ ইং তারিখ সকাল অনুমান ৩.৩০ ঘটিকায় ৭-৮ জন অজ্ঞাত ডাকাত গ্রিল কেটে প্রবেশ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রায় ৪.২ ভরি স্বর্ণালংকার ডাকাতি করে নিয়ে যায়।

উক্ত ঘটনায় জনাব আবুল কালাম আজাদ (আবুল খালাসি) দোহার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে একটি ডাকাতি মামলা রুজু হয় যার মামলা নং ১৪, তারিখ ১৪.০৭.২০২৫

মামলা রুজু হওয়ার সাথে সাথেই ঢাকা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আনিসুজ্জামান, পিপিএম দ্রুত মামলাটি তদন্ত, আসামি গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধারের নির্দেশ দেন। সহকারী পুলিশ সুপার (দোহার সার্কেল)  মোঃ আশরাফুল আলম, পিপিএম এর তত্ত্বাবধানে, দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ হাসান আলী ও শাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ শফিকুল আলম এর নেতৃত্বে গঠিত পুলিশের একটি দল ২৭.০৭.২০২৫ তারিখে ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে উক্ত ডাকাতির সাথে জড়িত ৭ জন আন্ত:জেলা পেশাদার ডাকাতকে গ্রেফতার করে ও ডাকাতির মালামাল উদ্ধার করে।

গ্রেফতারকৃত ডাকাতদলের সদস্যদের নাম ও ঠিকানা:

১. এমদাদুল হক (২৮), দোহার, ঢাকা
২. আবুল বেপারী (২৫), দোহার, ঢাকা
৩. সুমন রাজবংশী (৩৫), শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ
৪. মোঃ রাজন শিকদার (২৫), দোহার, ঢাকা
৫. রবিউল শেখ (২৬), লৌহজং, মুন্সিগঞ্জ
৬. শেখ ফারুক (৩০), দোহার, ঢাকা
৭. শহিদুল (৫১), শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ

উদ্ধারকৃত মালামাল:

ক. ১ জোড়া স্বর্ণের কানের দুল
খ. ১টি স্বর্ণের চেইন
(মোট ওজন: অনুমান ১ ভরি)

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দোহার থানায় ১৪/০৭/২৫ তারিখে দায়েরকৃত ডাকাতি মামলায় (মামলা নং-১৪, ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড) জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। ডাকাত দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন থানায়
ডাকাতি, খুন, অস্ত্র ও মাদক আইনলনে একাধিক মামলা রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

নবাবগঞ্জে সেনাবাহিনী ও পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে পৃথক স্থান থেকে মোট ১,৩২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় ২৭ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে নবাবগঞ্জ থানাধীন চুড়াইন ইউনিয়নের শংকরখালী এলাকায়। সেখানে জনৈক লালমুদ্দিনের মুরগির ফার্ম সংলগ্ন জয়পাড়া-গালিমপুর সড়কে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ চেকপোস্ট বসানো হয়। অভিযানে মোটরসাইকেলযোগে আসা দুই ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করে এক জনের কাছ থেকে ১,২৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন- ইয়ামুল ইসলাম ইমন (২২), পিতা মোঃ মাহি উদ্দিন, মাতা লতা বেগম, সাং- শংকরখালী, থানা- নবাবগঞ্জ, জেলা- ঢাকা।

দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় ২৮ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে, নবাবগঞ্জ থানাধীন চুড়াইন ইউনিয়নের দুর্গাপুর বাজার সংলগ্ন দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে। এসময় মোঃ কাউসার খান (২৫), পিতা মৃত ইমামুল হোসেন খান, মাতা মোছাঃ হাসেনা বেগম, সাং- মদনখালী, থানা- শ্রীনগর, জেলা- মুন্সিগঞ্জ এর কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

তৃতীয় অভিযানে, ২৭ জুলাই বান্দুরা ইউনিয়নের নতুন বান্দুরা এলাকার ইছামতি নদীর ঘাটের পাশে অভিযান চালিয়ে মোঃ শফিকুল ইসলাম ওরফে কালু, পিতা- মৃত মোহন বেপারী, সাং- নতুন বান্দুরা, থানা- নবাবগঞ্জ, জেলা- ঢাকা এর কাছ থেকে ২৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

সব মিলিয়ে তিনটি অভিযানে মোট ১,৩২৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত তিন আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

নবাবগঞ্জ থানা সূত্র জানিয়েছে, মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

দোহারে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

দোহারে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের আরও ৪ সদস্য গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২৮ আগস্ট প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দোহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আরশাফুল আলম (পিপিএম) জানান। চোর চক্রের সদস্যদের টঙ্গি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়:

১। হৃদয় হাওলাদার (২৫), পিতা: কান্চন হাওলাদার, সাং: কসবা, থানা: কাজিরহাট, জেলা: বরিশাল। বর্তমান ঠিকানা: ৫৭ নং ওয়ার্ড, ভরান, থানা: টঙ্গী পূর্ব, জেলা: গাজীপুর।
২। নাঈম হাওলাদার (২১), পিতা: কান্চন হাওলাদার, সাং: কসবা, থানা: কাজিরহাট, জেলা: বরিশাল। বর্তমান ঠিকানা: ৫৭ নং ওয়ার্ড, ভরান, থানা: টঙ্গী পূর্ব, জেলা: গাজীপুর।
৩। স্বপন বেপারী (২৭), পিতা: মজিবর বেপারী, সাং: হায়দারাবাদ, থানা: পূবাইল, জেলা: গাজীপুর।
৪। কামরুল সরকার ওরফে গাঙ্গুয়া (৪৫), পিতা: জহির উদ্দিন ওরফে জনু সরকার, সাং: গোপালনগর, থানা: দেবীদ্বার, জেলা: কুমিল্লা। বর্তমান ঠিকানা: উদয়ন টাওয়ার, মধুমিতা রোড, টঙ্গী পূর্ব থানা, গাজীপুর।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আনিসুজ্জামান (পিপিএম)-এর নির্দেশনায় এবং সহকারী পুলিশ সুপার (দোহার সার্কেল) মোঃ আরশাফুল আলম (পিপিএম)- এর তত্ত্বাবধানে, দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাসান আলীর নেতৃত্বে এসআই (নিঃ), মোঃ আবু সাদেকসহ পুলিশের একটি বিশেষ দল সফল অভিযান পরিচালনা করেছে।

দোহার থানায় দায়েরকৃত মামলা নং-২৫, তারিখ: ২০/০৬/২০২৫ খ্রি., ধারা: ৪১৩ পেনাল কোড অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত ১নং আসামি আবির সরকারের ১৬৪ ধারায় আদালতে প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, ২৭ জুলাই ২০২৫ খ্রি. গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

পূর্ববর্তী মামলার তথ্য:

হৃদয় হাওলাদার এর বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা নং-২০, তারিখ: ০৮ মে ২০২৪ খ্রি., ধারা: ৩৯৯/৪০২ দণ্ডবিধি। স্বপন বেপারী এর বিরুদ্ধে পূবাইল থানায় মামলা নং-১২, তারিখ: ২৭ জুন ২০২৫ খ্রি., ধারা: ৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৫০৬ দণ্ডবিধি।

কামরুল সরকার ওরফে গাঙ্গুয়া এর বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা নং-৩২, তারিখ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ খ্রি.। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।