নবাবগঞ্জ (ঢাকা), নিউজ৩৯ প্রতিনিধি শেখ আশিক
“একজন সাংবাদিক যদি আজ হুমকির মুখে পড়ে, কাল হয়তো আর লিখবেন না। আর তখনই থেমে যাবে সত্যের পথচলা।” – এমনই কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বর। কারণ, প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক যুগান্তরের দোহার-নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি কাজী সোহেল।
ঘটনাটি ঘটে ২ আগস্ট রাতে, অভিযোগ অনুযায়ী—আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের যন্ত্রাইল ইউনিয়ন শাখার সভাপতি সুরুজ মোল্লা কাজী সোহেলকে মোবাইল ফোনে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয় উপজেলা পরিষদের সামনে। একইসাথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলাম এবং নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর নিকট একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন— “সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়, এটি পেশা নয়—একটি সামাজিক দায়িত্ব। আমরা কারো পক্ষ বা বিপক্ষ নই, আমরা শুধু সত্যের পক্ষেই। কিন্তু সাংবাদিককে হুমকি দিয়ে, তার কলম বন্ধ করার এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহিনুর রহমান তুতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান সুজন, প্রাক্তন সভাপতি সুমন মৃধা, দোহার প্রেসক্লাবের সদস্যগণসহ প্রায় ২৫ জন স্থানীয় সংবাদকর্মী।
দোহার প্রেসক্লাবের সভাপতি মু, তারেক রাজীব বলেন, এই ঘটনা শুধু একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি সাংবাদিকতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
দোহার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, যখন সাংবাদিক নিরাপদ থাকবেন না, তখন সমাজের গলার স্বরও স্তব্ধ হয়ে যাবে। আজ কাজী সোহেল, কাল হয়তো অন্য কেউ। এ দায় কি সমাজ এড়াতে পারে? প্রশাসন দ্রুত এই ব্যাপারে নিবে বলে আশা করছি।
