পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে চীন সরকারের উপহার সিনোফার্মের করোনা টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকার দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। এরই মাঝে দোহারে এসে পৌছেছে চার হাজার ডোজ টিকা। মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সকাল দশটা থেকে এই টিকা প্রদান শুরু হয়। জনসাধারনের মাঝে সিনোফার্মের করোনা টিকা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে দোহার উপজেলায় দ্বিতীয় দফায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
টিকা প্রদান কার্যক্রম সম্পর্কে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন জানান, শুধুমাত্র রেজিষ্ট্রেশন সাপেক্ষেই টিকা গ্রহণ করা যাবে, ৩৫ বছর বেশি এবং অগ্রাধিকার তালিকাভুক্ত নাগরিকগণ রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবেন। পূর্বে যারা রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন কিন্তু টিকার কোন ডোজ নেননি, আপনারা মেসেজের জন্য অপেক্ষা না করে শুধুমাত্র টিকা কার্ডটি নিয়ে চলে আসুন। পূর্বে ১ম ডোজ সম্পন্নকারীরা কোনক্রমেই এই টিকা থেকে ২য় ডোজ নিতে পারবেন না। এক্ষেত্রে রিকোয়েস্ট করে বিব্রত না করার জন্য তিনি বিনীত অনুরোধ জানান। এছাড়াও তিনি বলেন, কেন্দ্র পরিবর্তন করে কোনভাবেই টিকা নেয়া যাবে না।
দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন আরো বলেন, টিকা গ্রহনের জন্য পূর্বের নিয়মে আপনার ফোনে মেসেজ যাবে। শুধুমাত্র মেসেজ পেলেই উল্লেখিত তারিখে নির্দিষ্ট টিকা কেন্দ্রে টিকা রেজিষ্ট্রেশন কার্ড এবং প্রাপ্ত মেসেজ সহ মোবাইল সাথে এনে টিকা গ্রহণ করবেন। বিদেশগামী ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রে যথানিয়মে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করে টিকা গ্রহণ করতে হবে। সৌদি আরব ও কুয়েত ব্যাতিত উনারা সরকার নির্ধানিত ৭টি টিকা কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারবেন। আজকে ২’শ জনকে টিকা প্রদান করা হবে। এছাড়াও প্রতিদিন গড়ে দেড়’শ জনকে টিকা প্রদান করা হবে। আমাদের দোহারে মোট চার হাজার ডোজ টিকা এসেছে।
দোহারে এসেছে করোনার চার হাজার ডোজ টিকা; টিকা প্রদান শুরু
” আমার বাবা, হায়াত আলী মিঞা: আলোর পথের দিশারী”
“আমার বাবা, হায়াত আলী মিঞা: আলোর পথের দিশারী” লিখাটি শ্রদ্ধেয় মরহুম হায়াত আলী স্যারের কনিষ্ঠ কণ্যা ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের এডুকেশন অফিসার তানিয়া লাইজু সুমি’র একটি আত্মসৃতিচারণ মূলক প্রবন্ধ। এই প্রবন্ধটি একজনের মেয়ের তার পরম ভালোবাসার পিতাকে নিয়ে লিখা। news39.net এই প্রবন্ধটি তানিয়া লাইজু সুমির ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করেছে। পাঠকদের উদ্দেশ্যে তা তুলে ধরা হলো।
আজ থেকে প্রায় আট যুগ আগের কথা, সময়টা ছিল ১৯৪৩ সাল। তখন সারা বিশ্বে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা। আজকের বাংলাদেশ, তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষের দোহারের ঘরে ঘরে আলোর বাতি জ্বলে ওঠেনি, বিদ্যুতের আলো যেমন নয়, শিক্ষার আলোও নয়। এই দোহারেই অবস্থিত; জয়পাড়া থেকে অনতিদূরত্বে কুসুমহাটি ইউনিয়নের একটি ছোট সুন্দর গ্রাম, চরকুশাই। অন্য অনেক গ্রামের মতোই ঠিক ছায়া সুনিবিড় আর শান্তির নীড় ধরনের। সেই গ্রামেরই একটি বড় বাড়ির (তৎকালীন তালুকদার বাড়ি এবং পরবর্তীতে মাদবর বাড়ি নামে পরিচিত) ছোট্ট ঘরে জন্ম নিলেন এক শিশু। বাবা তোরাব আলী মিঞা ও মা সৈয়দুন্নেসা আদর করে ছেলের নাম রাখলেন হায়াত; যেন ছেলের দীর্ঘ জীবনের প্রত্যাশা নিয়েই এই নামকরণ। অত্যন্ত আকর্ষণীয় এ শিশু বাবা-মায়ের চতুর্থ ছেলে হিসেবে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে থাকে পরিবারের মধ্যে। ছোটবেলা থেকেই সহোদর ও খেলার বন্ধুদের মধ্যে তাকে ঠিক আলাদা করা যেত। কিছুটা জেদ, কিছুটা নেতৃত্ব এবং অনেকটাই ভালোবাসার ক্ষমতা এই শিশুকে অন্যদের মধ্যে আলাদা এক অবস্থান দিয়েছিল। ধীরে ধীরে এই শিশুই বড় হয়ে সমাজের একজন উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব হয়ে সবার মাঝে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, সবার ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। হ্যাঁ, আমি জনাব হায়াত আলী মিঞা মহোদয়ের কথাই বলছি; যিনি তাঁর এই জীবনে শিক্ষার প্রদীপ হাতে নিয়ে আলো বিতরণ করেছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে। যাদের অনেকে আজ দেশে-বিদেশে স্ব-অবস্থানে নিজেদের ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করছে।
দেখতে সুদর্শন, রাশভারি, কিন্তু অসম্ভব স্নেহপ্রবণ এ মানুষটি আমার জন্মদাতা, আমার বাবা, আমার শিক্ষাগুরু ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। আমার হাতেখড়ি হয়েছিল তাঁর কাছেই। জীবনের প্রথম বর্ণ লেখাটি আমি তাঁর কাছেই শিখেছিলাম। ‘‘ব থেকে বক” দিয়েই শুরু হয়েছিল আমার বর্ণ ও শব্দ শেখা । আমার মতো আমার ভাই-বোনদেরও একইভাবে শুরু হয়েছিল বর্ণ ও শব্দ পরিচয়। এখনো চোখ বন্ধ করলে দিনগুলো হাতছানি দেয়। তখন ছিলনা কোনো আধুনিক প্রযুক্তি, ছিলনা কোনো ট্যাব, মোবাইল কিংবা কম্পিউটার; ছিল বাবা এবং মা নামক শিক্ষাকেন্দ্র ও সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত এমন প্রযুক্তি যারা আমাদের আজকের পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে এগিয়ে দিয়েছেন। এই নাতিদীর্ঘ লেখায় আমার বাবার জীবনের খুব কম অংশই হয়তো লিখতে পারব; অলিখিত রয়ে যাবে তাঁর জীবনের অনেক অনেক কথা।
১৯৪৩ সালের ০৬ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া জনাব হায়াত আলী মিঞা বেড়ে উঠেছেন তাঁর নিজস্ব গ্রাম চরকুশাইয়ে। গ্রামের পাঠশালা পেরিয়ে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। নিজ বাড়ি থেকে অনেকটা দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও কিশোর হায়াত তার পড়ালেখার বিষয়ে এতটুকু ছাড় দেননি। অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও হাঁটি হাঁটি পা পা করে তিনি পৌঁছে গেছেন বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ শ্রেণিতে। ১৯৫৯ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতকার্য হয়েছেন। এরপর পরিবারের অনিচ্ছ্বা উপেক্ষা করে মনে অনেক স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন ঢাকার পথে। কিছুই চিনতেন না তিনি। কিন্তু, বুকে ছিল সাহস আর মনে ছিল স্বপ্ন। জীবনে কিছু ভালো মানুষ আর বন্ধুর দেখা পেয়েছেন তিনি যারা তাঁকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন। পড়ালেখার খরচ নিজেই জুগিয়েছেন প্রাইভেট টিউশন করে। কষ্ট করেছেন, কিন্তু পিছপা হননি এতটুকু। অদম্য উৎসাহ আর চেষ্টায় তিনি ১৯৬১ সালে আইএ পাশ করেন তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ থেকে। এরপরই একই কলেজে ভর্তি হন বিএ কোর্স এ।
কলেজে পা দিতেই যুবক হায়াত আলী মিঞাকে যে বিষয়টি প্রচণ্ডভাবে আকর্ষণ করেছিল, তা হলো রাজনীতি। ১৯৪৭ থেকে ৫২ এবং ক্রম চলমান আন্দোলন, অনেক কিছুই দেখেছেন তিনি। মিছিল, মিটিং, আলোচনা, স্বাধীনতা… তাঁকে খুব টানতো। তাইতো তখন ছাত্র রাজনীতি র সাথে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পড়ালেখার পাশাপাশি চলতে থাকে তার রাজনীতি। প্রাতিষ্ঠানিক পাঠের বাইরেও জ্ঞান অর্জনের নেশা তাঁকে পেয়ে বসে। যার জন্য সারাজীবন তিনি পাঠ্যবইয়ের বাইরের পড়াই বোধ করি বেশি করে পড়েছেন, শিখিয়েছেন তাঁর আত্মজাদেরও। মিটিং মিছিল করেও তিনি পেরিয়ে গেলেন গ্র্যাজুয়েশনের দরজা এবং পা রাখলেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.এ পড়ার জন্য। একই সাথে যোগ দেন শিক্ষকতা পেশায়। তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মজীবন শুরু ১৯৬৪ সালে গেণ্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। দুই বছর পরই তিনি যোগ দেন জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। চাকরি ও পড়ালেখা তিনি চালিয়ে গেছেন একই সাথে সব্যসাচীর মতো। তিনি ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্নাতোকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর কষ্টার্জিত শিক্ষা জীবনে শিক্ষক হওয়ার ব্রত নিয়েই বরাবর সামনের দিকে অগ্রসর হয়েছেন, তাই জীবনে অনেক আকর্ষণীয় হাতছানি তিনি মুহূর্তে উপেক্ষা করতে পেরেছেন।
জীবনের প্রথমে রাজধানী থেকে কর্মজীবন শুরু করলেও নিজের এলাকার ডাক, নিজের বিদ্যালয়ের ভালোবাসা তাঁকে ছুটে যেতে বাধ্য করেছে। সন্তান হিসেবে তাঁর এ টান আমি আজও দেখতে পাই। প্রথমে সহকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করলেও পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন এবং ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রায় চল্লিশ বছর জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন যোগ্যতা ও সুনামের সাথে। শিক্ষকতা পেশায় থেকে তিনি ক্রমাগত তাঁকে ধাপে ধাপে যোগ্য করে তুলেছেন জ্ঞানে, দক্ষতায়, নেতৃত্বে। বি.এডসহ বিভিন্ন ধরনের পেশাগত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রীড়া সংস্থা, রোয়িং ফেডারেশন, ফুটবল ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা ও এসোসিয়েশনের সাথে। তাঁর নেতৃত্বে জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের তাৎপর্যপূর্ণ আঙ্গিক ও গুণগত পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য। দোহার উপজেলার শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনুস্বীকার্য।
সবার প্রিয় শিক্ষক, জনাব হায়াত আলী মিঞা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার থানা-কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি প্রতিহত করেছেন অনেক অন্যায় ও অনিয়মকে। নিজের হাতে তৈরি করেছেন অনেক ছেলেমেয়ের জীবন। নিজের সুখের চিন্তা না করে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন অন্যের প্রয়োজনে। ছেলেবেলা থেকে আমি দেখেছি আত্মীয়, অনাত্মীয়, পরিচিত, অর্ধপরিচিতদের আমাদের বাড়িতে বেড়ে উঠতে ও পড়ালেখা করতে।
বাবা কখনো নিজের পরিবারের বাজার করার টাকা, কিংবা কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার টাকা তুলে দিয়েছেন অন্যের বই কিনতে বা পরীক্ষার ফি জমা দিতে। জীবন নিয়ে কখনো হিসেব করতে দেখিনি তাঁকে। জীবনের এই পড়ন্ত বিকেলে এসে যখন সময়ের সাথে বদলে নিতে হয়েছে নিজের শারিরীক যোগ্যতাকে, মনকে বদলে দিতে দেননি এতটুকু। প্রচণ্ড শারিরীক কষ্ট-ব্যথা ও পরিবর্তনকে বরণ করেছেন অদম্য শক্তি ও সাহসের সাথে। সময় তাঁর কাছ থেকে হয়তো হেঁটে বেড়ানোর শক্তি কেড়ে নিয়েছে প্রকৃতির নিয়মে, কমিয়ে দিয়েছে চোখের জ্যোতি, অস্পষ্ট করে দিয়েছে শব্দ; কিন্তু মনের জোর কমায়নি এতটুকু। এখনো দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘‘ভালো আছি।” তাঁর সেই উদাত্ত ডাক, ‘‘এই ছেলেরা…” হয়তো এখনো শুনতে পায় তাঁর শত সহস্র ছেলের দল। তাইতো দেশ-বিদেশ থেকে আজও তাঁর ছেলেরা খবর নেয় তাঁর, ছুটে আসে তাদের ‘‘হেডস্যার” এর সাথে দেখা করতে। নিজের প্রতিষ্ঠিত চার মেয়ে ও দুই ছেলের বাইরেও তাই হাজার হাজার ছেলেমেয়ের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, সম্মান সিক্ত করে রাখে তাঁকে অহর্নিশি।”
চলে গেলেন প্রিয় হায়াত আলী স্যারঃ শূণ্যতা অপরিমেয়
ঢাকা জেলায় সুপরিচিত ও প্রভাবশালী শিক্ষাবীদ, দোহার উপজেলার প্রবীন শিক্ষক ও জয়পাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক হায়াত আলী মিঞা মারা গেছেন। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে গত শুক্রবার ঢাকার গ্যাষ্ট্রোলিভার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি ৪ কন্যা, ২ পুত্র রেখে গিয়েছেন। মঙ্গলবার বাদ আসর তার নিজ কর্মস্থল জয়পাড়া পাইলট স্কুল মাঠে মরহুমের জানাযা অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষক, সমাজসেবী ও রাজনৈতিক নেতা হিসাবে হায়াত আলী মিঞা পুরো দোহারেই পরিচিত ছিলেন। ষাটের দশক থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে পদচারনা ছিল হায়াত আলী মিঞার। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় রাজনীতি করেছেন তোফায়েল আহমেদের সাথে। সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন ৬ দফা, উনসত্তরের গণ অভ্যুত্থানে। ছিলেন দোহার উপজেলা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। একজন মুক্তিযোদ্ধা। সফল ভাবে পালন করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব। রাজনীতি ছাড়াও শিক্ষকতা পেশায় তিনি ছিলেন দোহার উপজেলা শিক্ষকদের পথ প্রদর্শক। শুধু সফল মানুষ তৈরি করেননি, তৈরি করেছেন সফল রাজনৈতিক নেতাও। সাধারন মানুষের পাশে ছিলেন সব সময়। আজ এক কর্মবীরের প্রয়ান ঘটলো দোহার উপজেলা থেকে।
নিউজ৩৯ পরিবারের পক্ষ থেকে হায়াত আলী মিঞা বিদেহী আত্মার প্রতি মাগফেরাত ও তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইলো। আল্লাহ এই আলোর পথের পথপ্রদর্শককে জান্নাতুল ফেরদৌসির অধিকারী করুন, আমীন।
দোহারে লকডাউনের ১২তম দিনে ২২ জনকে জরিমানা
ঢাকার দোহার উপজেলায় ১২তম দিনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ২২ জনকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণআদালত।
সোমবার (১২ জুলাই) সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনের ১২তম দিনে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দোহার উপজেলা সহকারি কমিশনার( ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে উপজেলার জয়পাড়া বাজার, থানার মোড়, লটাখোলা, পালামগঞ্জ, মেঘুলা বাজার, ইউসুফপুর বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও স্বাস্থ্য বিধি অমান্য করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ২২ জনকে ২২ টি মামালায় পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে সকাল থেকেই মাঠে কাজ করছেন দোহার উপজেলা প্রশাসন, দোহার থানার পুলিশ সদস্যগণ, সেনাবাহিনী সদস্যগণ, বিজিবি সদস্যগণ এবং উপজেলা আনসার সদস্যগণ।
দোহার উপজেলা সহকারি কমিশনার( ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র সরকার জানান, লকডাউন বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দোহারে গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ
মোঃ আল-আমিন, news39.net: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় হতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এমপির অনুকূলে প্রদত্ত ঢেউটিন ও অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। দোহারের দুঃস্থ ও অসহায় ৫০টি পরিবারের মাঝে ৫৪ বান্ডিল ঢেউটিন ও প্রত্যেকটি পরিবারকে নগদ ৩ হাজার করে টাকা হস্তান্তর করা হয়।
সোমবার (১২ জুলাই) দুপুরে দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন এই ঢেউটিন ও অর্থ পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ করেন।
এসময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এফ.এম ফিরোজ মাহমুদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আল-সাইদসহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের চেয়াম্যান ও উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাবৃন্দ।
দোহারে গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক
ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় ৭ কেজি ৮৫০ গ্রাম গাঁজাসহ মো.জসিম উদ্দীন (৪০) ও মো. রাকিব (৩০) নামে দুই জন মাদক ব্যবসায়ীকে গাঁজাসহ আটক করেছে র্যাব-১১। রবিবার (১১ জুলাই) সকালে উপজেলার লটাখোলা ও দক্ষিণ জয়পাড়া গ্রাম থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। আটকৃতরা হলেন মো. জসিম উদ্দীন(৪০), পিতাঃ আলি হোসেন, গ্রাম: উত্তর ইউসুফপুর ও মো. রাকিব, পিতা: মো. শহিদ ফকির, গ্রাম: বানাঘাটা। বর্তমানে মো. রাকিব কার্তিকপুর গ্রামের বোরহান চাকলাদারের বাসায় ভাড়া থাকেন।
র্যাব-১১ জানায়, রবিবার সকালে উপজেলার লটাখোলা ও দক্ষিণ জয়পাড়া এলাকায় মাদক বেচা কেনা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-১ এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার এ কে এম মুনিরুল আলম ও স্কোয়াড কমান্ডার মো. আবু ছালেহ এর নের্তৃত্বে র্যাব অভিযান চালিয়ে মো. জসিম উদ্দীন ও মো. আলী হোসেন বেপারীকে ৭ কেজি ৮৫০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে দোহার থানায় তাদেরকে হস্তান্তর করা হয়।
এবিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, তাদের বিরুদ্ধে দোহার থানায় একটি মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।
দোহারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মিলবে পশুর হাট
ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট বসানো নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা করেছে দোহার উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১২) জুলাই বেলা ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দোহার উপজেলার ৪টি নির্দিষ্ট স্থানে জয়পাড়া, মেঘুলা, বাংলাবাজার ও মইতপাড়া এলাকায় পশুর হাট বসবে বলে এ সভায় সিদ্ধান্ত হয়।
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এফ.এম ফিরোজ মাহমুদের সভাপতিত্বে করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট বসানোর বিষয়ে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনামূলক আলোচনা করা হয় এই সভায়।
সভায় পশুর হাট বসানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়- নির্ধারিত স্থানের বাইরে কোরবানির পশুর হাট বসানো যাবে না আর বসলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১৭ বছরের নিচে এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সিদের হাটে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। একটি পশু কিনতে ২ জনের এর অধিক ব্যক্তি হাটে প্রবেশ করতে পারবেনা। হাট পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিটি হাটে মনিটরিং সেলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। পশুর হাটের বর্জ্য নিষ্কাশন ও পর্যাপ্ত পরিমাণে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। হাটে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সবাই অবশ্যই মাস্ক পড়তে হবে এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। পশুর হাটে শরীরের তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র রখতে হবে। ঠান্ডা, জ্বর ও কাশিতে আক্রান্তদেরকে পশুর হাটে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি সংবলিত ব্যানার, পোস্টার টানানোসহ সব সময় মাইকে স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক প্রচারের ব্যবস্থাও থাকতে হবে। জাল টাকা সনাক্তকরণের জন্য যন্ত্র ও স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ থাকতে হবে। এছাড়াও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পশুর হাটে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হবে। যদি কোনো হাট ইজারাদার এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন না করে তবে সেই হাট বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এ বিষয় জয়পাড়া দেবী নগর হাটইজারাদার দেলওয়ার মাঝি জানান, সরকার আমাদের হাট বসানোর জন্য যে সব নিয়মনীতি দিয়েছে আমরা সে নিয়ম মেনেই হাট বসাবো।
সভায় উপস্থিত ছিলেন- দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র, দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কমকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন, দোহার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং হাট ইজারাদারবৃন্দ।
দোহারে যুবলীগ নেতার মৃত্যু: ঘরে নেই ১ কেজি চাল
ঢাকা জেলার দোহার উপজেলা যুবলীগ নেতা আমজাদ বেপারীর মৃত্যুতে বিপাকে পড়েছে তার পরিবার। এই নেতার অকাল মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়েছে তার রেখে যাওয়া চার সদস্যের পরিবার।
গত ৮ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন আমজাদ বেপারী। রাতেই তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪২ বছর।
আমজাদ বেপারীর বাড়ী মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচন্ডি গ্রামে। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি, তার বড় মেয়ে আনিশা (১১) ৫ম শ্রেনীতে, মেজো মেয়ে আছিয়া (৫) গণশিক্ষা, ছোট মেয়ে আফিয়া (২.৫ বছর) কে নিয়ে তার স্ত্রী তিন কন্যাসহ অসহায় হয়ে পড়েছেন। ।
আমজাদ সম্পর্কে এলাকাবাসীর মন্তব্য, তিনি তার নিজের এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে খুব সহজে মিশে যেতেন ও নানা সমস্যার কথা তুলে ধরতেন উপজেলা চেয়ারম্যান এর কাছে।
দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত, যে কোন ধরনের সামাজিক উন্নয়নের কার্যকর্মে অগ্রণী ভুমিকা রাখতেন। বয়স্কভাতা, শিশুকার্ড, বিধবাভাতা প্রদানে সহায়তা করতেন। অথচ নিজের জন্য তিনিই কিছুই করেন নি বলে জানিয়েছেন তার পরিবার। ঘরে রেখে যান নি সন্তানদের জন্য এক সপ্তাহের খাবার, নেই ১ কেজি চাল। এখন কি কোন ভাতা তার স্ত্রী – কন্যারা পাবেন? দলের সুসময়ে তার পরিবার কি পাবে কোন সহায়তা? উপার্যনহীন পরিবারটির জন্য আওয়ামী পরিবারের কেউ কি এগিয়ে আসবে? নিবে কি তার সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব? এই প্রশ্ন এখন তার পরিবারের।
দোহারে নতুন করে ৩৯ জনের করোনা শনাক্ত
ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় নতুন করে আরও ৩৯ জন রোগী করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এ নিয়ে উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১৩৭ জনে। সোমবার সকালে নি দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: জসিম উদ্দিন এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ডাঃ জসিম উদ্দিন আরো জানান, রবিবার (১১ জুলাই) পাঠানো ৮৬ টি নমুনা থেকে ৩৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সনাক্তের হার ৪৫.৩৫% । বিভিন্ন বয়সী নতুন আক্রান্তরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা।
এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৬০৩৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ১৬৩ জন। এর মধ্যে এ পর্যন্ত মোট সুস্থ্য হয়েছেন ৭৭৫ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ১৭ জন।
করোনার সংক্রমণ রোধে ভূমিকা রাখতে পারেন ধনীরা: রাশিম মোল্লা
২০১৯ সালের হিসেব অনুযায়ী দেশে কোটিপতি সংখ্যা ৮৪ হাজার। দ্রুত গঠন করা হোক জাতীয় খাদ্য সহায়তা ভাণ্ডার। করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দেশে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিনই প্রায় ৩ জনে ১ জন শনাক্ত হচ্ছেন। একদিনে মৃত্যু সর্বোচ্চ ২১২ জনে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে মৃত্যু ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে। শনাক্তও ১০ লাখ অতিক্রম করেছে। করোনার উপসর্গ নিয়ে নিত্যদিন বহু লোক মারা যাচ্ছেন।
যা করোনায় শনাক্ত হয়ে মারা যাওয়া রোগীর চেয়ে বেশি। যেটা সরকারি তালিকায় থাকছে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক তথ্যে জানা গেছে, উপসর্গে প্রায় ৬৪ শতাংশ এবং করোনায় ৩৫ শতাংশ লোক মারা যাচ্ছেন। এ অবস্থায় ভাইরাসটি প্রতিরোধে চলতি মাসের শুরু থেকে চলমান কঠোর লকডাউনেও কমছে না মৃত্যু ও শনাক্তের হার।
যেহেতু করোনা একজনের কাছ থেকে আরেকজনে ছড়ায়, সেহেতু জনসমাগম বন্ধ করা ছাড়া করোনায় মৃত্যুর হার কমানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু চাইলেই তো জনসমাগম বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে জড়িত মানুষের রুটি-রুজি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, লোকজনকে খাদ্যের নিশ্চয়তা দেয়া গেলে, তারা বাসায় থেকে বের হবেন না। ইতিমধ্যে করোনার জাতীয় পরামর্শক কমিটি জনসমাগম কমাতে কারফিউ জারির পরামর্শ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন মনে করেনÑ এমন পরিস্থিতিতে করোনা নিয়ন্ত্রণে দেশে চলমান লকডাউনের পরিবর্তে কারফিউ বা ১৪৪ ধারার মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা প্রয়োজন।
আসলেই করোনার সংক্রমণ রোধে লকডাউন, শাটডাউন, কারফিউর কোনো বিকল্প নেই। তবে এটাও খেয়াল রাখতে হবে মানুষের পেটে ভাত না থাকলে তারা বের হবেই। কেন না কেউ-ই চায়না খাবারের অভাবে তার সন্তান তার সামনে চিৎকার করুক। কান্না করুক। চলমান কঠোর লকডাউনে অনেক দিনমজুরের ঘরেই খাবার নাই। তারা বিপদে পড়েই ঘর থেকে বের হন। আবার লকডাউন, শাটডাউন কিংবা কারফিউ দিলে যারা দিন আনে দিন খায় এ রকম দুই-আড়াই কোটি মানুষের কি অবস্থা হবে? সেটাও কিন্তু ভাবতে হবে। বরং যে কয়দিন কারফিউ থাকবে সেই দিনগুলোতে তাদেরকে খাবার সরবরাহ করতে হবে, পরিবারের সদস্যদের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতে হবে।
যাদের খাবার প্রয়োজন তাদের ঘরে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিন। এরপর কারফিউর মতো কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। আর এই মহতী কাজটি করার জন্য দেশের কোটিপতিদের এগিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে দেখতাম দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে ধনকুবেররা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অর্থ সহায়তা দিতেন। দুর্গতদের পাশে ছুটে যেতেন তারা। কিন্তু চলমান করোনায় এমন কার্যক্রম তেমন একটা চোখে পড়ছে না। মনে রাখবেন দেশে যদি করোনার সংক্রমণ আরো বেড়ে যায়, তাহলে আপনারাও রেহাই পাবেন না। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, করোনায় সচ্ছল, ধনী, লাখোপতি, কোটিপতিরাই বেশি মারা যাচ্ছেন। অতএব নিজেকে বাঁচাতে, করোনার সংক্রমণ রোধে নিম্ন আয়ের মানুষের রুটি-রুজির ব্যবস্থা করুন। দেখবেন অনায়াসে কার্যকর হবে লকডাউন কিংবা শটডাউন। দ্রুত কমে যাবে করোনার সংক্রমণ।
লেখক: রাশিম মোল্লা
সাধারণ সম্পাদক: সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম
মফস্বল সম্পাদক: দৈনিক মানব জমিন
উপদেষ্টা: news39.net
সাধারণ সম্পাদক: দোহার নবাবগঞ্জ পেশাজীবি পরিষদ

