কুসুমহাটিতে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ

ঢাকার দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের শাওন ইসলাম বাদশা নামে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার টাকা আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা এর প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ও সমাজসেবা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসের ভাতার টাকা উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বয়স্ক ও বিধবা ভুক্তভোগীদের ৩ হাজার করে প্রত্যেকের মোবাইলে নগদ একাউন্টে আসে।

কুসুমহাটি ইউপি সদস্য শাওন ইসলাম বাদশা ভুক্তভোগীদের বাড়িতে গিয়ে ভাতার টাকা অ্যাকাউন্টে আসছে কিনা তা জানতে চেয়ে প্রত্যেকের ব্যালেন্স চেক করে। মোবাইল ফোন ফেরত দিয়ে বলে টাকা আসে নাই বলে চলে যায়। অধিকাংশ গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে এমন কাণ্ড করে তিনি। এছাড়া তিনি ভাতা ভোগীতের লিস্ট দেখে ফোন করে তার অফিসে এনে মোবাইল টিপে নিজেই গোপন নম্বর সেট করে টাকা বের করে নেন একটি নির্দিষ্ট নম্বরে। পরে তাদের বলে একাউন্ট ঠিক আছে আগামী মাসে টাকা আসবে। আশপাশের এলাকার মানুষের কাছে যখন জানতে পারে অনেকেই ভাতার টাকা উত্তোলন করেছে । তখন গ্রাহকরা ইউপি মেম্বারের বাড়িতে ভিড় করলে সে নানা ধরনের টালবাহানা শুরু করে।

দক্ষিণ শিলাকোঠার মোক্তার খান বলেন, বাদশা মেম্বার ১৪ জুন আমাকে ফোন করে এনে আমার তিন হাজার টাকা মোবাইল থেকে নিয়ে গেছে। কিন্ত আমাকে টাকা দেয়নি।

জাহেরা খাতুনের ছেলে বাদশা বলেন, আমার মার নামে ভাতার করা কিন্ত বাদশা মন্ডল আমার মায়ের নম্বরে ফোন করে অফিসে আসতে বলে। আসার পর মোবাইল নিয়ে আমার টাকা বের করে রাখে সেটা আমি জানতামই না। পরে আবার টাকা এলে বুঝতে পারি আগেও তিন হাজার টাকা এসেছিলো। আমি এর বিচার চাই।

পরে সমাজ সেবা অফিসে গেলে তারা গ্রাহকদের আপনাদের প্রত্যেকের টাকা এই নম্বরে ০১৮৫৪ -২৪৪৪৪৪ ক্যাশ আউট করা হয়েছে।  অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় নগদ কতৃপক্ষ এই নম্বরের এজেন্ট পয়েন্টটি বন্ধ করে দিয়েছে।

শিলাকোঠা এলাকার বয়স্ক ভাতার সুবিধাভোগী আব্দুল হালিম জানান, আমাদের ওয়ার্ডের মেম্বার একদিন দুপুরে আমার বাড়িতে এসে মোবাইলে ভাতার টাকা (০১৯৯২৬৪৬১২৪) আসছে কিনা জানতে চাইলে আমি তাকে ফোনটি দেই। সে বলে টাকা আসে নাই। একমাস পরে আসবে। কিন্তু কৌশলে যে আমার ফোন থেকে ঢাকা বের করে নিয়ে গেছে তা আমার জানা ছিল না। চেক করার পর পর দেখি একাউন্টে টাকা নেই। উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে গিয়ে অভিযোগ করলে তারা ব্যালেন্স অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

অধিকাংশ গ্রাহকের টাকাই ০১৮৫৪-২৪৪৪৪৪ নম্বরে ক্যাশ আউট করা হয়েছে। মোবাইলের গোপন পিন নম্বরও নাকি মেম্বার নিজেই সেট করে দেয়। ভুক্তভোগীরা ইউপি মেম্বারের বাড়িতে গেলে অর্ধেক টাকা দেওয়ার কথা বললে এখনো টাকা পায়নি বলে জানা যায়। এদিকে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ৫ জুলাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সমাজসেবা অফিসে ৩০ জন ভুক্তভোগীরা যাদের মোবাইল থেকে টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে তারা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ইউপি সদস্য মু. শাওন ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ‘একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি। কিছু ভাতাপ্রাপ্ত লোক মারা গেছেন। মারা যাওয়া ভাতাভোগীদের স্থানে নতুন ভাতাভোগীদের নামের তালিকা দিয়েছি। নতুন ভাতাভোগীদের বলেছি, মৃত ভাতাভোগী পরিবারের সদস্যদের অর্ধেক টাকা দিয়ে দিতে। আমি কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি।

কুসুমহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন আজাদ জানান, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। গরীব মানুষের টাকার প্রতি লোভ সামলাতে পারি না আমরা।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ মাহমুদ জানান, ভুক্তভুগিদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা গ্রহণ করা হবে।

কুসুমহাটিতে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ

কুসুমহাটিতে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ

কুসুমহাটিতে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ

কুসুমহাটিতে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ

কুসুমহাটিতে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ

কুসুমহাটিতে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ

&nbsp

সরকারের ত্রাণ পৌঁছে দিলেন দোহারের ইউএনও

শরিফ হাসান, news39.net: লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়ায়, দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ও কুসুমহাটি ইউনিয়নে অসহায় ও হতদরিদ্রদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার পক্ষ থেকে দুই ইউনিয়নের প্রায় ২৮৩০ জন অসহায় পরিবারের মাঝে এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম ফিরোজ মাহমুদ নাঈমের উপস্থিতিতে এসব ত্রাণ সামগ্রী পৌছে দেওয়া হয়।

করোনা ভাইরাসের প্রকোপে সারাদেশে চলছে দশম দিনের কঠিন লকডাউন। লকডাউনে দোহারের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছে। পরিবারের উপার্জনশীল ব্যক্তি কর্মহীন হয়ে পড়ায়, পরিবারগুলো এক প্রকার অভাব অনাহারে দিন যাপন করছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে গরিব ও অসহায়দের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার লক্ষে এ ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

এ সময় এ এফএম ফিরোজ মাহমুদ নাঈম বলেন , আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে সুতারপাড়া ইউনিয়নে ২৬০০ পরিবারে মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছি। এর পরাবতীতে প্রত্যেক ওয়ার্ডের মেম্বার এবং চেয়ারম্যানরা এই ত্রাণ পৌঁছে দিবে সকালে ঘরে ঘরে। আমরা এই ত্রাণের সাথে ৫০০ টাকা করে মানবিক সহায়তা দিচ্ছি সরকারের পক্ষ থেকে। একইসাথে আজ কুসুমহাটি ইউনিয়নে ২৩০ জন দুঃস্থ মহিলাদের মাঝে ৬০ কেজি করে খাদ্যশস্য চাল (ভিজিডি) বিতরণ করা হয়েছে। দোহারের প্রতিটি ইউনিয়নে এই ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

দোহারে লকডাউনের ১০ম দিনে ১৭ জনকে জরিমানা

ঢাকার দোহার উপজেলায় দশম দিনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ১৭ জনকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণআদালত।
শনিবার (১০ জুলাই) সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনের দশম দিনে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দোহার উপজেলা সহকারি কমিশনার( ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে উপজেলার জয়পাড়া বাজার, থানার মোড়, লটাখোলা, পালামগঞ্জ, মেঘুলা বাজার, ইউসুফপুর বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও স্বাস্থ্য বিধি অমান্য করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৭ জনকে ১৭টি মামালায় তিন হাজার ছয়শত টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে সকাল থেকেই মাঠে কাজ করছেন দোহার উপজেলা প্রশাসন, দোহার থানার পুলিশ সদস্যগণ, সেনাবাহিনী সদস্যগণ, বিজিবি সদস্যগণ এবং উপজেলা আনসার সদস্যগণ।

দোহার উপজেলা সহকারি কমিশনার( ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র সরকার জানান, লকডাউন বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দোহারে পদ্মার তীরে ড্রেজিংঃ ঝুঁকিতে বাধ, ঘর-বসতি, আবাদী জমি

0

ক্রাইম ইউনিট, news39.net: এতোদিন শুনেছেন খাল কেটে কুমির আনা। এখন দোহারের মাহমুদপুর ইউনিয়নবাসী দেখছে ড্রেজিং করে, পদ্মা নদীকে কাছে আনা। দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের ইট ভাটার দক্ষিণ পাশে পদ্মা নদীর ১০০ মিটারের মধ্যে কৃষি জমি কেটে নিয়ে এখন বিশাল পুকুর বানিয়ে ফেলেছে। যেকোন সময় পদ্মা নদীর পাড় ভেংগে যেতে পারে এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক মেরিন ড্রাইভ ও বাধ নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থানটি ঝুকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া নদীর তীর ঘেষে রয়েছে বালু উত্তোলনের জন্য ৩টি বলগেট।

news39.net ক্রাইম ইউনিট সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, চর মাহমুদপুর গ্রামে পদ্মা নদীর পাড় থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে ড্রেজিং করা হচ্ছে আবাদী জমিতে। এর অতি সন্নিকটেই রয়েছে মাহমুদপুর ইউনিয়ন অফিস। আবার পদ্মা নদীর পাড় থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে প্রাকৃতিকভাবে তৈরী হয়েছে একটি খাল। যে খালে পদ্মা নদী থেকে সরাসরি পানি প্রবাহিত হয়। পদ্মার পাড়ের পাশেই রয়েছে বিস্তীর্ণ আবাদী জমি। কৃষি জমিতে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে সেখান থেকে মাটি ও ভিটা বালু উত্তোলন করায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অনেক ফসলি জমি। যেখানে চাষ হতো বাদাম ও আমন ধান । এছাড়াও ভাঙনের হুমকিতে পড়ছে মেরিন ড্রাইভ ও বাধ।

স্থানীয় এলাকাবাসী news39.net কে জানান, দীর্ঘ দিন ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। সে সময়ে ড্রেজার বন্ধের জন্য পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়। পুলিশ এসে ড্রেজারের মেশিন ও পাইপ ভেঙে দিয়ে বালু উত্তোলন করা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু তার পরদিনই পুণরায় বালু উত্তোলন শুরু হয়ে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা চলে। এভাবেই ঘটনা হয়ে আসছে।

এই ব্যাপারে ড্রেজার ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন বলেন, ইয়াকুব দেওয়ান আমার কাছ থেকে ড্রেজার ভাড়া নিয়ে মাটি কাটছে। তারা প্রশাসনের কাছে থেকে অনুমতি নিয়েছে কিনা সে বিষয় আমি কিছু জানি না।

এ বিষয়ে ইয়াকুব দেওয়ান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, আমি আমার নিজের জমি থেকে মাটি কাটছি। নিজের জায়গা থেকে মাটি কাটতে আবার কোন অনুমতি লাগে? আর কতৃপক্ষ বিবেচনায় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনকে বলেছি। তিনি আমার কাছে লোক, প্রতিবেশী।

মাহমুদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি এবিষয়ে কিছু জানি না। তাদেরকে আমি কখনোই এসব বিষয়ে অনুমতি দেইনি। এতে পার ভেংগে নদী ভিতরে ঢুকে যাবে। সাংবাদিক ভাইদের নিকট আবেদন, আপনারাও বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যানকে অবহিত করুন।

সরকারের বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ধারা ৫-এর ১ উপধারা অনুযায়ী, পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। ধারা ৪-এর (খ) অনুযায়ী, সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারী দুই বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

সরকারি বিধিমোতাবেক, কৃষি জমিতে পুকুর খননও করা যাবে না। ক্ষেত্র বিশেষে পুকুর খননের প্রয়োজনীয়তা থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খনন করা যাবে।

দোহার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা লুতফুন্নাহার জানান, আবাদী জমি কেটে পুকুর তৈরির জন্য কেউ আমাদের কাছে থেকে কোন অনুমতি নেয়নি।

বিষয়টি দোহার উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র জানান, ইতঃপূর্বে পাঠিয়ে আমি ড্রেজার বন্ধ করে দিয়েছিলাম। পুনরায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায়, দোহার উপজেলা প্রশাসন  অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিবে।

দোহার উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ফিরোজ মাহমুদ নাঈম news39.net কে বলেন, আপনাদের মাধ্যমে আমি বিষয়টি অবহিত হলাম। প্রশাসন দ্রুত এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিবে। কোন অবৈধ ড্রেজার বা বালুর ব্যবসা করতে দেয়া হবে না।

ঢাকায় করোনার হটস্পট হয়ে উঠছে দোহার-নবাবগঞ্জ

0

আল-আমিন ও শরিফ হাসান, news39.net: ঢাকার চারপাশের উপজেলাগুলোতে করোনাভাইরাসের হটস্পটে পরিণত হচ্ছে। আর করোনার হটস্পট হয়ে উঠছে দোহার-নবাবগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, মানিকগঞ্জ প্রতিদিনই এসব এলাকায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। এছাড়া ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় গত ১০দিনে  ২১৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আর দোহারে আক্রান্ত হয়েছে ১৮৮ জন।

ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, এক সপ্তাহে ৪০১ জনের নমুনা পরীক্ষায় এখানে ১৫২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ২ জন। এ পর্যন্ত নবাবগঞ্জে মোট শনাক্ত হয়েছে ১৩২৩ জন। দোহারে ইতঃমধ্যে ৩ জন মৃত্যুবরণ করেছে। দোহারে ১০ দিনের করোনা সংক্রমণ হার ৪৮% এবং নবাবগঞ্জে প্রায় ৫৩% ।

করোনা আক্রান্তদের মধ্যে যারা ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হচ্ছে তাদের শ্বাসকষ্টের জটিলতা দেখা যাচ্ছে। এ কারণে প্রতিদিনই এই দুই উপজেলা থেকে রোগীদের ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ঢাকায় সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দোহার নবাবগঞ্জে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহ থাকলেও শ্বাসকষ্টের জটিলতা নিরাময়ে নেই হাই ফ্লো ক্যানোলা । এতে অক্সিজেন লেভেল ২/৩ মাত্রায় সরবরাহ করা গেলেও, তীব্র শ্বাসকষ্টের জন্য হাই ফ্লো ক্যানোলা না থাকায় রোগীদের ঢকায় পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের কয়েকটি অঞ্চলে কোভিডের ভয়াবহ অবস্থার কারণে সেখানে অতিমাত্রায় অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের প্রয়োজন হচ্ছে। তবে যেসব স্থানে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টে এখনো লিকুইড অক্সিজেন দেয়া হয়নি, তার মধ্যে দোহার-নবাবগঞ্জকে অবশ্যই ‘প্রায়োরিটি’ দেওয়া উচিত। ধীরে ধীরে রেড জোনে পরিণত হচ্ছে দোহার-নবাবগঞ্জ। প্রশাসন, দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ও আইনশৃঙ্খলা  রক্ষাবাহিনীর কঠোর টহল ও নজরদারি সত্ত্বেও জনগণের অসচেতনতা এবং শ্রমজীবি মানুষের রুটি রুজির কারণে পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ।

দোহারে করোনায় এক মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু

0

দোহারে করোনায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে গত দশ দিনে প্রায় ৩ জন মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে দোহার উপজেলার সুতারপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সোবাহান মোল্লা(৭০) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ৩ মেয়ে ও ২ পুত্র রেখেছেন। শনিবার সকাল ১০টায়, দোহার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরহুমকে রাস্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। পরবর্তীতে, সুতারপাড়া গাজীরটেক কবরস্থানে দাফন করা হয়।  দোহার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্নার মাগফিরাত কামনা করছি।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কর্মহীনদের পাশে স্বেচ্ছাসেবকলীগ আছে, থাকবে – নির্মল গুহ

মো. আল-আমীন ও শরিফ হাসান; প্রতিনিধি,news39.net :দোহার উপজেলায় করোনা লকডাউনের কারনে কর্মহীন লোকদের মাঝে লোকদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ । বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দোহারের লটাখোলা গ্রামে প্রায় দুই শতাধিক মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ।
এ সময়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, করোনার শুরু থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ মানুষের পাশে ছিলো, আছে থাকবে। সবাইকে এক হয়ে এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার মাধ্যমে আই মহামারী থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে। দোহার – নবাবগঞ্জের সন্তান হিসেবে, আমার এলাকার জনগণ সর্বদা আমাকে আপনাদের পাশে পাবেন।
ত্রাণ বিতরণের পূর্বে, জয়পাড়া ক্লিনিকের সামনে একটি করোনা সুরক্ষা বুথ উদ্বোধন করেন তিনি। এছাড়া আগামী একমাস হটলাইনে ফোন কলের মাধ্যমে মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে বলে, ঘোষণা করেন নির্মল রঞ্জন গুহ।

ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মাহবুব বেপারির সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ হাওলাদার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম, উপজেলা সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার চোকদার, ঢাকা জেলা দক্ষিণ আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম আসাফোর সাধারণ সম্পাদক শামীম শিপলু, পৌরসভার যুগ্ম সম্পাদক মান্নান, সাবেক ছাত্রনেতা তুহিন হোসাইন প্রমুখ।

হায়াত আলি স্যার অসুস্থ, সকলের নিকট দোয়া প্রার্থী

news39.net: দোহার উপজেলার প্রবীণ শিক্ষক ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় এবং দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা , জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক জনাব হায়াত আলী মিয়া (৮০) গুরুতর অসুস্থ। গত ৮জুলাই তিনি করোনা পজিটিভ হোন। এছাড়া, তিনি বার্ধক্যজনিত কিছু অসুস্থতায় ভূগছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার গ্যাষ্ট্রোলিভার হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

তার পরিবার এই সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের জন্য সুস্থতা কামনা করে, সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

সবাইকে নিয়ে বাচতে অসহায়দের মাঝে ত্রাণ বিতরণ “বাচিঁ সবাই মিলে” ফাউন্ডেশন

news39.net: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিয়ির সদস্য এবং গ্রীন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট জাতীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক এর ফাউন্ডেশন “বাঁচি সবাই মিলে” তাদের দশম আয়োজনে শুক্রবার ঢাকা এবং দোহারে কর্মহীন শ্রমিক, দিনমজুরের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন।
আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ঢাকায় আমার বাসার পাশে একটা বস্তি আছে সেখানে প্রায়ই আমি খাবার অথবা খাদ্য সামগ্রী দিয়ে থাকি। আজ আবার দিলাম।এছাড়া দোহারে নিয়মিতভাবে আমার এলাকা ও আশেপাশের মাঝে খাদ্য, স্যানিটাইজার বিতরণ করছি। আজ সব মিলিয়ে ১৫৯ জনের পাশে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে দাড়াতে চেষ্টা করেছি।

তিনি আরও বলেন, ছোট ছোট করে ধারাবাহিক ভাবে সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চাওয়া বা এগিয়ে যাওয়াটাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। দীর্ঘমেয়াদী ক্রাইসিসে আমরা, তাই সম্মিলিত আর ব্যাক্তিগত যেভাবেই হোক এগিয়ে আসতেই হবে মানবতার স্বার্থে। ঘরে থেকে নিজে সচেতন হওয়া, অন্যকে সচেতন করা, প্রার্থনা করা আর যার যার অবস্থান থেকে সমাজের সাধারণ মানুষের পাশে থাকাটাই মূল আহবান। প্রতিবার যারা “বাচি সবাই মিলে” উদ্যোগটি নিজেদের মনে করে বিবেকে ও মননে সাধারণ মানুষের কথা ভেবে আমাদেরকে নানাভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

সড়কে ঘুরে ঘুরে মাহবুবুর রহমানের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ

দোহারে ঢাকা জেলা পরিষদের পক্ষ হতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দোহার উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঘুরে এসব স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন ঢাকা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহবুবুর রহমান।

মাহবুবুর রহমান news39.net কে বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। আমার নিজ উপজেলার জনসাধারণ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর অভাবে ভুগবে, সেটা আমি মানতে পারি না। তাই, সকাল থেকে ঢাকা জেলা পরিষদের পক্ষ হতে ৫০ জননের মাঝে এসব সামগ্রী বিতরণ করেছি। এতে রয়েছে একটি হ্যান্ড স্যানিটাইজার, একটি সাবান, দুটি মাস্ক এবং একটি তরল স্যাভলন।

তিনি বলেন, দোহার প্রশাসনকেও ২০টি স্বাস্থ্যসেবা প্যাকেট দিয়েছি।তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই কারণ করোনার শুরু থেকে তারা মাঠে পর্যায়ে কঠোর পরিশ্রম করে চলেছে। ঢাকার প্রতেকটি উপজেলায় ৫০০টি স্বাস্থ্য সুরক্ষা সেবার প্যাকেট শীঘ্রই বিতরণ করা হবে।