দোহারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানঃ ১৩ হাজার টাকা জরিমানা

দোহার উপজেলায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রয় এবং পণ্যের মূল্য তালিকা না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ৯টি মামলায় মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। বৃহস্পতিবার নিয়মিত বাজার মনিটরিং এর অংশ হিসেবে দোহারের নারিশা ইউনিয়নের মেঘুলা বাজারে দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোবাশ্বের আলম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রয় এবং পণ্যের মূল্য তালিকা না থাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন- ২০০৯ এবং সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অমান্য করায় ৯ টি মামলায় মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। অভিযানকালে দোহার থানা পুলিশ সহযোগিতা করেন।
দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোবাশ্বের আলম বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সড়কে যানজট নিরসনে দোহার উপজেলায় এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত রাখবে।

দোহার থানা ওসিকে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের রমজানের উপহার প্রদান

ঢাকার দোহার উপজেলায় পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোস্তফা কামালকে উপহার প্রদান করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ দোহার থানা শাখা। রোববার দুপুরে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ দোহার থানা শাখার নেতাকর্মীরা এ উপহার প্রদান করেন। উপহার সামগ্রীর মধ্যে ছিল জায়নামাজ, তাসবিহ,আতর, টুপি , মেসওয়াক ইত্যাদি। সে সময় উপহারের পাশাপাশি পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী যুব আন্দোলন দোহার থানা শাখার সাবেক সভাপতি, মুফতি জিল্লুর রহমান আরেফী,ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ দোহার থানা শাখার সংগ্রামী সভাপতি মাহমুদুল হাসান রিপন,সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাধারন সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুর রহমান মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হামজা,অর্থ ও কল্যাণ সম্পাদক লিমন মোল্লাসহ প্রমুখ।

মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অস্ত্র ছিলো না, ছিলো জয় বাংলা শ্লোগান – দোহারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের
পদ্মা কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকাল সাড়ে চার টায় পদ্মা কলেজের মাঠে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

দোহার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলমের সভাপতিত্বে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উওোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী নানা খেলার আয়োজনে মুখরিত হয়েছিলো কলেজ প্রাঙ্গন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সে সময় তিনি বলেন, আমরা পাকিস্তান আর্মির হৃৎকম্প উঠিয়েছিলাম আমাদের জয়বাংলা শ্লোগান দিয়েই। আমাদের কাছে কোন অস্ত্র ছিলো না, ছিলো একটি শ্লোগান “জয় বাংলা”। জয় বাংলা শ্লোগান শুনলেই দালাল যারা ভয়ে পালাতো। আমরা সেই স্লোগানটি জাতীয় শ্লোগানে পরিণত করেছি। পার্লামেন্টের এই এলাকার সংসদ সদস্য আমাদের প্রিয় ব্যক্তিত্ব সালমান এফ রহমান এই শ্লোগান কে রাষ্ট্রীয় শ্লোগানে পরিণত করেছেন, তাকে ধন্যবাদ জানাই। সালমান এফ রহমান ভাই এই কলেজের জন্য তিনি অনেক অনুদান দিয়েছেন। অনেক সহযোগিতা করেছেন। পার্লামেন্টে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সরকারিভাবে জয় বাংলা স্লোগান মুক্তিযুদ্ধে সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আলোকিত করার জন্য পদ্মা সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠা আমরা করেছিলাম। আজ এই এলাকা আলোকিত হয়েছে। এই সকল দাতা, প্রতিষ্ঠাতা, কলেজের শিক্ষক আর সর্বোপরি আমার সম্মুখে নতুন প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীরা সবাইকে শুভেচ্ছা।

দোহার এমনই এক এলাকা যেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি হতে চাইতেন না। দোহারে তেমন কোন নাগরিক সুবিধা ছিল না, বিদ্যুৎ ছিল না, কিছুই ছিল না। আজকে আমাদের এই ছোট ছোট সোনামণিদের কাছে এটা স্বপ্নের কথা মনে হবে যে আমরা কি প্রতিকূল পরিবেশে একটা কলেজ করতে চেয়েছিলাম। অথচ এই দোহারেই জন্মেছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস। এখানেই জন্মেছিলে ভারতের পশ্চিম বংগের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল চন্দ্র সাহা। এই কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল একটা স্বপ্নের উপরে। আমরা সে স্বপ্ন বাস্তাবায়ন করে দোহার ও এর আশেপাশ আলোকিত করেছিলাম। আজ এই জনপদ উন্নত হয়েছে। দোহারে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে আমাদের সন্তানেরা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন। তাই, নারীদেরকে এগিয়ে যেতে দেখছি। আজ এখানেও ছাত্রীদের সংখ্যা অনেক বেশি। আজ বীরদর্পে চলছেন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও অগ্রগতির চাকা।

বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছরে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিলো।আর তখনই এই অশুভ শক্তি, পাকিস্থানী প্রেতাত্মারা তাকে হত্যা করে, উন্নয়ন প্রক্রিয়ার গতি রোধ করতে চেষ্টা করেছিলো। আজ ঘরে বসে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমাদের সন্তানেরা পড়াশোনা করছে। কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে অপব্যবহার সম্পর্কে। নতুন প্রজন্মের ছেলেদের মেয়েদের দেখলেই আমি কথা বলেছি। এই দেশকে তাদেরকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। তখন আমরা মুক্তিযোদ্ধারা নিশ্চিন্তে মৃত্যুবরণ করতে পারব যে আমাদের আমাদের নতুন প্রজন্ম আমাদের দেশটাকে সমুন্নত রাখতে পারবেন। আমরা এই বিশ্বাস নিয়ে আমরা মরতে পারবো। এই নতুন প্রজন্মই আমাদের বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে। একটা অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশের জন্য ৩০ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত বরণ করেছিলেন। সেই রক্তের কে হিন্দু-কে মুসলমান খ্রিস্টান তা আমরা জানি না। আমরা জানি রক্তরঞ্জিত বাংলাদেশে আমরা সবাই এক জাতি।

গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পদ্মা কলেজের গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি ও সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মেজর জেলারেল (অবঃ) অধ্যাপক ডাঃ এ আর খান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্য বলেন,শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়ায় মনোযোগ বাড়াতে হবে। পদ্মা কলেজকে ভালো মানুষ গড়ার ও সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা বিনির্মানের কারিগর হতে হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ মারুফ হোসেন সরদার বিপিএম, পিপিএম পুলিশ সুপার, ঢাকা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আফসারুজ্জামান খান সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ অন্যতম দাতা, পদ্মা সরকারি কলেজ,বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সাইদুর রহমান (খোকা)বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী,
আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম আখন্দ,বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল মোন্নাফ বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী,বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুর রউফ, মোঃ আলমগীর হোসেন চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, দোহার, এ্যাড. এ.কে.এম আজিজুর রহমান (বাবুল) প্রতিষ্ঠাতা সহ-সাধারণ সম্পাদক, পদ্মা সরকারি কলেজ,অধ্যাপক এম.এ হান্নান খান চেয়ারম্যান, মুকসুদপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও অন্যতম দাতা, পদ্মা সরকারি কলেজ,এম.এ.রহিম অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, পদ্মা সরকারি কলেজ,উদ্ভোদক হিসেবে উপস্থিত ছিল, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সাধারন-সম্পাদক ও সাবেক ভূমি নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক ড.খান মো.আব্দুল মান্নান,পদ্মা কলেজের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকববৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দরা।

জয় বাংলা জাতীয় স্লোগান; দোহার ও নবাবগঞ্জে সালমান এফ রহমানকে সংর্বধনা 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১ (দোহার ও নবাবগঞ্জ) আসনে নৌকা প্রতিককে রেকর্ড ভোটে বিজয়ী হওয়ায় পর সালমান এফ রহমান জাতীয় সংসদে ২০১৯ সালে জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগানে পরিনত করার দাবি জানান।  স্পিকার বরাবর জানানো সেই দাবি এখন বাস্তবায়িত হয়েছে। জয়বাংলা জাতীয় স্লোগান পরিনত করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে সালমান এফ রহমানকে এক গনসংর্বধনা দেয়ার আয়োজন করা হয়েছে । তার সংর্বধনাকে কেন্দ্র করে দোহর-নবাবগঞ্জের আওয়ামীলীগ এবং অঙ্গসংগঠন ব্যস্ত সময় পার করছেন, পিছিয়ে নেই সাধারন জনগন । একদিকে যেমন ব্যস্ত সময় পার করছে উপজেলা আওয়ামী লীগ; অপরদিকে জনমনে দেখা দিয়েছে আনন্দ উদ্দীপনা। জনগনের কথা মাথায় রেখে চলছে সংর্বধনার সকল প্রস্তুতি। ইতি মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষের দিকে বলে জানা গিয়েছে । সালমান এফ রহমানের সাথে এই বছরের একুশে পদক বিজয়ী আমজাদ আলী খন্দকারকে দেওয়া হবে সংর্বধনা। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষন সংরক্ষণ করাইয় অবদান রাখার জন্য তাকে এই সংর্বধনা দেওয়া হবে।

দোহার ও নবাবগঞ্জে সালমান এফ রহমানকে সংর্বধনা 

এ উপলক্ষে দোহার উপজেলা ও নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রস্তুতি সভা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আগামী ২৩ মার্চ বুধবার নবাবগঞ্জ এ নবাবগঞ্জ সরকারী পাইলট হাই স্কুলে সন্ধ্যা ৬ঃ৩০ মিনিটে ও ২২ মার্চ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ঃ৩০ মিনিটে জয়পাড়া পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়র খেলার মাঠে সালমান এফ রহমান ও আমজাদ আলী খন্দকারকে সংবর্ধনা দেওয়ার তারিখ সভায় নির্ধারণ করা হয়।

সংর্বধনা সম্পর্কে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার জানান, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে সালমান এফ রহমান ও আমজাদ আলী খন্দকারকে সংর্বধনা আয়োজন করা হয়েছে। বিএনপির সময় তারা জয়বাংলাকে চিরতরে মুছে দিতে চেয়েছিল কিন্তু তারা সেটি করতে পারেনি। দীর্ঘ দিন ধরে সংরক্ষণ করেছেন আমাদের দোহারের আমজাদ আলী খন্দকার সে জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে একুশে পদক নিয়েছে তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। সংসদে আমাদের এমপি সালমান এফ রহমান “জয়বাংলাকে” জাতীয় স্লোগানের জন্য দাবি জানান। তার সেই দাবির জন্য আজকে জয়বাংলা জাতীয় স্লোগান সেই জন্য আমরা তাকে এই সংর্বধনা দিচ্ছি।

তিনি আরো জানান, সংর্বধনা শেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে সেখানে দেশের জনপ্রিয় কন্ঠ শিল্পী জেমস, মমতাজ ও এইচডি রুবেল সংগীত পরিবেশন করেবেন।

দোহারে আগুনে পুড়লো দুটি দোকান

ঢাকার দোহার উপজেলার ছন্দু মিয়ার বাজার (দোহার বাজারে) সাদিয়া সুপার মার্কেটে ভয়াবহ আগুনে দুটি ও একটির আংশিক দোকান পুড়ে গেছে। বুধবার (১৬ মার্চ) ভোর ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছায় ফায়ার সার্ভিসের দল। প্রায় এক ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায় মার্কেটের দুটি সাথে পাশে থাক দোকানেরও ক্ষতি হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলো হলো সুমন মেডিসিন কর্ণার, নাঈমা মোবাইল মিডিয়া ও ফারিয়া এন্টারপ্রাইজ। আগুনে তিনটি দোকানে প্রায় দুই থেকে তিন লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

এবিষয়ে নাঈমা মোবাইলের দোকানের মালিক মোঃ সুজন জানান, বাজার থেকে আমাকে সকাল ৭ টায় ফোন দিয়ে বলে আমার দোকানে আগুন ধরেছে। খবর পেয়ে আমি দ্রুত চলে যাই। গিয়ে দেখি আমার দোকানে সব পুড়ে গিয়েছে। বিদ্যুৎ এর শট সার্কিট থেকে আগুন ধরেছে। এতে আমার দোকানে থাকা মোবাইলসহ অন্য অন্য জিনিস পুরে যায়। এতে আমার প্রায় দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আমার দোকানসহ আরো একটি দোকান আগুনে পুরেছে তবে পাশে থাকা আরেকটি দোকানেও আগুন ধরেছে তবে সেটায় তেমন কোন ক্ষয় ক্ষতি হয়নি।

ফায়ার সার্ভিসের ইঞ্জিনিয়ার ইসস্টেশন মাস্টার তামিম হাওলাদার জানান, আমাদেরকে ভোর সকাল ৬ঃ৫৮ মিনিটে ফোন দিলে আমরা দ্রুত সেখানে চলে যাই আগুন নিভাতে আমরা একঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। আমাদের তাৎক্ষণিক ধারনা বৈদ্যতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। আমাদের আনুমানিক ধারনা দুই থেকে তিন লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

যৌতুক নেওয়ার আধুনিক কৌশল

উত্তরবঙ্গে শিক্ষা এবং অশিক্ষা নেই যৌতুকের লোভ সবার। বেসরকারি একটু ভালো চাকুরে পাত্রের দাবি সাধ্যের মধ্যে তাও ৪-৫ লাখ। পাত্রীর বাবার জমি থাকলে সেখানে আগ্রহ থাকে দুই এক কানি লিখে নেওয়ার। সরকারি চাকুরে পাত্রের সেটা ১৮-২০ লাখে গড়ায় জমি ১০-১২ কানি সাথে বাইক হলে আরো ভালো হয়। বগুড়ার এক ফ্রেন্ডের বড়ো বোনের ছয় সাত বছরের প্রেমিক বিয়ের সময় কম করে সম্পর্কের খাতিরে ৭-৮ লাখটাকায় রাজি। পরবর্তীতে সেই প্রেমিককে টাকা না দিতে পারায় বিয়ে বাতিল করে অন্যত্র বিয়ে করে বেশ সুখে আছে। যৌতুকের কোনো যৌক্তিকতা নেই বিয়ের ক্ষেত্রে। প্রেমিকার চাকরি নেই অার্থিক সামর্থ্যও ভালো নয় তাই অন্য পাত্রী খুঁজে বিয়ে করা চাকরি জীবী পুরুষও চিনি।

এবার একটু উন্নত সমাজের দিকে তাকাই। ঢাকার এই অঞ্চলে বিশেষ করে দোহার নবাবগঞ্জে নগদ টাকার চালাচালি নাই বললেই চলে। ছেলে বেকার হলে ভিসা দিয়ে মধ্য প্রাচ্যে অথবা ইউরোপ পাঠায়। ইউরোপীয় কার্ডধারী প্রবাসী হলে তার বাসার পুরো ফার্নিচারের দায়িত্ব কনে পক্ষের সাথে সুন্দরী কন্যদান। যদি চাকুরীজিবী পাত্র হয় সে খুঁজে চাকুরীজিবী পাত্রী। বিয়ের আগেই বলে নেয় ‘আমাকে সাহায্য করতে হবে আর্থিক ভাবে।’ সাথে কনের পরিবার থেকে ঘরভর্তি ফার্নিচার তো থাকেই। একটা মেয়ের গল্প জানি যার বাবা নেই চাকুরী করে তার উপার্জনের উপর নির্ভর পরিবার। তার বিয়ের সমন্ধের সময় পাত্র, (দেখতে অনেক পছন্দনীয় এবং মানানসই) সে সরাসরি টাকা না চেয়ে কনের বেতনের টাকার সাহায্য চাচ্ছে! আশ্চর্য হলেও সত্যি এরাও পুরুষ বিয়েটা এদেরও হয়।

যৌতুকের সমাধান কি হতে পারে? যত শিক্ষাই হোক নৈতিকতার পরিবর্তন না হলে যৌতুক নিরসন সম্ভব নয়। সম্ভব নয় যৌতুকের জন্য ডিভোর্স কমানো।

আইন করতে হয় যৌতুক বন্ধের অথচ ধর্ম শুরু থেকে যৌতুক নিরুৎসাহিত করছে। এতো এতো আইন এবং ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও আমরা কি মানছি! যৌতুকের টাকা জমাইতে চাকরি করতেও দেখছি মা মেয়েসহ পুরো পরিবারকে। দেখছি বিয়ের কথা চলাকালীন সময়ে ফার্নিচার না দিতে পারার জন্য পাত্রপক্ষকে উঠে যেতে। যে পাত্র প্রথম দেখায় বেতনের অংশীদারিত্ব চায় বিয়ের পরে চাকরি চলে গেলে কি হতে পারে? আমি এতো হ্যান্ডশাম হয়ে তুমাকে বিবাহ করেছি চাকরি দেখে, এই কথা বলতে কতক্ষণ! কোনো আর্থিক কমিটমেন্টে বিবাহ হওয়া উচিৎ নয়। ধর্ম দিয়েছে দেনমোহর আর সমাজ তৈরী করছে যৌতুক।

আবুল বাশার

আইনজীবী

দ্বিতীয় দিনও দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় মেঘুলা মালিকান্দা স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা 

ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দ্বিতীয় দিনের মত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। মঙ্গলবার সকালে কলেজের ভিতর থেকে মালিকান্দা মেঘুলা বাজার হয়ে পূর্ণ রায় কলেজর মূল ফটকের বাইরে এসে ঢাকা-দোহার আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা।

সে সয়ম শিক্ষার্থীরা দাবি করেন আমাদের কলেজের মানসম্মত শহীদ মিনার নির্মাণ, মূল ফটকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামফলক, পুকুর ইজারা অর্থ আত্মসাৎ, বেতন রসিদের অনিয়মের হোতা কেরানি গোলাম মোস্তফার অপসারণ, প্রতিষ্ঠানের মসজিদের উন্নয়ন না করা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণসহ উন্নয়নের নাম করে পরিচালনা পর্ষদের লুটপাটের বিচার দাবিসহ অধ্যক্ষের অপসারণের। তারা আরো বলেন, আমাদের এ দাবি না মানা হলে আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ অজয় কুমার রায় বলেন, আজকেও শিক্ষার্থীরা তাদের একই দাবিতে আন্দোলন করেছে। আমাদের স্কুল বন্ধ থাকায় কাজগুলে বন্ধ ছিল সে জন্য কাজ গুলো বন্ধ ছিল। ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন ও দোহার থানার পুলিশ পরির্দশক আজাহারুল ইসলামসহ আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে বসেছি তাদের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা তাদেরকে বলেছি তাদের দাবি আমরা মেনে নিব।

এবিষয়ে দোহার উপজেলায় চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, আমি আগামীকাল এখানে যাবো গিয়ে তাদের সাথে কথা বলবো। যে ভবে ভাল হয় বিষয় টা সে ভাবে সমাধানের চেষ্টা করবো।

এ বিষয়ে দোহার থানার পুলিশ পরির্দশক আজাহারুল ইসলাম বলেন, তাদের বিষয় নিয়ে দোহার উপজেলায় চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন ভাই বসবে বলেছে। আমরা আজকে গিয়ে তাদেরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে কলেজের ভিতরে টুকিয়ে দেই।

রিমান্ড শেষে কারাগারে হত্যা মামলার আসামি নবাবগঞ্জের জাকির

নবাবগঞ্জে মোটরসাইকেল চালক হত্যা মামলার মূল আসামি জকির হোসেনকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত। মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব হাসান দুদিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা( জিআরো) আব্দুল করিম বলেন, রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামি জাকিরকে হাজির করলে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এর আগে শুক্রবার উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের আবজাল নগর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আসামি জাকিরকে আটক করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনবেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরপর আসামি জাকিরকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব হাসান দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, দুই দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার আসামি জাকিরকে আদালতে উপস্থিত করা হবে তাকে। রিমান্ডে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন।

এর আগে ২০২০ সালের ১লা অক্টোবর নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের চর সৈল্যা এলাকার মোটরসাইকেল চালক মো. জাকির (৪৫)কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাকে মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে চর শৈল্যার জাকিরের নেতৃত্বে হত্যা করা হয়। জাকির ওই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। নিহতের ঘটনায় পুরান তুইতালের মো. রহিমের ছেলে শফিক (৪০) ও আফজাল নগরের মৃত শফিউদ্দিনের ছেলে মো. জাকির (৪২)সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করে নিহতের স্ত্রী মোকসেদা বেগম নবাবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, নিহত জাকিরকে মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে চর শৈল্যার জাকিরের নেতৃত্বে হত্যা করা হয়। নিহতের পিতা বলেন, আমার ছেলেকে ফোনে কল করেন স্থানীয় সফিক । ফোন পেয়ে আমার ছেলে মোটরসাইকেল নিয়ে রওনা দেন সফিকের বাড়ির দিকে। কিছুক্ষণ পর ছেলের মুঠোফোনে কল দিলে আর সংযোগ পাইনি। পরে বিকালে ওয়ার্ড মেম্বার আমাকে জানান, জাকির অসুস্থ অবস্থায় শফিকুলের বাড়িতে পড়ে আছে। আমি গিয়ে জাকিরকে শফিকের ঘরের সামনে পড়ে থাকতে দেখতে পাই। আরো দেখতে পাই তার শরীরে বালু মাখানো ছিল। পরে শফিকুলের বোন ঘরের দরজা খুলে জাকিরের শার্ট এবং মোটরসাইকেলের চাবি দেয় আমাকে। হাসপাতালে নিতে চাইলে তারা কেউ আমাকে সহযোগিতা করেননি। উল্টো সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেছে আসামিরা।

ঢাকার নবাবগঞ্জের ব্যবসায়ীর ওপরে হামলা

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের খানেপুর গ্রামের হাজী আব্দুল বারেক ভূইয়ার ছেলে ব্যবসায়ী মো. কিরনের( ২৮) ওপরে হামলা করেছে দুবৃত্তরা। এসময় কিরনের কাছে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার খানেপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্বজনেরা দ্রুত আহত কিরনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করিয়েছেন।

হামলার ঘটনায় খানেপুর বাজার ব্যবসায়ি ও এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।এ ঘটনার নবাবগঞ্জ থানা পুলিশকে অভহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ বলেন, আমরা তদন্ত করে অপরাধীদের খোঁজে বের করব।

আহত ব্যবসায়ীর স্বজনরা বলেন, প্রতিদিন বাজার থেকে রাত ৮টা সারে ৮টার মধ্যে বাড়িতে আসে। হঠাৎ বাড়ির উঠানে চিৎকারের শব্দ পেয়ে দরজা খুলে দেখি তার শরীর রক্তক্ত। এরপর দ্রুত তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করি।

আহত ব্যবসায়ি কিরন আমার মামাতো ভাই। ছেলেটা খুবই ভদ্র ও নম্র। গ্রামেও এখন শহরের মতো দুবৃত্তপনা চলছে। মামাতো প্রবাসে বেশ কয়েক বছর পর চাকরি করার পর দেশেই কিছু চেষ্টা করেন। এলাকার বাজারে ফ্লাক্সিলোড, বিকাশ ও মুদি ব্যবসা শুরু করেন।

এলাকার ব্যবসায়িদের দাবি, এভাবে একজন প্রবাসী ব্যবসায়ির ওপর হামলা কোনো ভাবেই মানা যায় না। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। পুলিশের কাছে আহ্বান দ্রুত এ ঘটনার হোতাদের খুঁজে বের করুন। ব্যবসায়ীদের মনোবল বাড়ান। আমরা বিশ্বাস করি পুলিশ এ ঘটনা উদঘাটন করতে সক্ষম হবেন। পুলিশের সেই ক্ষমতা আছে।

দোহারে তুচ্ছ ঘটনায় কুপিয়ে যখম

দোহারে তুচ্ছ ঘটনায় একজনকে গুরুতর জখম করেছে একদল বখাটে মাদকসেবী। সে এখন দোহার উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিৎসাধীন অবস্থায় আছে । জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের বানিয়াবাড়ী গ্রামের হাজির ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় পিয়াল গাজী (১৮) এর উপর হামলা চালায় জিহাত, রিফাত, রানা, জাকির, শহিদ, ইমন সহ অন্যান্যরা। গুরুতর জখম পিয়ালকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নতর চিকিৎসা এবং সিটি স্ক্যানের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, দুই এলাকার দুই গ্রুপ কিশোরদের বাগবিতণ্ডা থেকে ঘটনার সূত্রপাত। আজ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাধ্যমে সালিশে বিষয়টি মীমাংসা হওয়ার কথা ছিলো। সকালে প্রাইভেট পড়া শেষ করে পিয়াল হাজীব্রীজের নিকট আসলে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে তার দুই প্রাইভেট সহপাঠী জানান।

এই ব্যাপারে দোহার থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। ডিউটি অফিসার বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।