পৌর নির্বাচন নিয়ে হতাশ দোহার পৌরবাসী

৪ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে সারা দেশে তুমুল আগ্রহ জন্মালেও এই নির্বাচন নিয়ে কোন উত্তাপ নেই দোহার পৌরবাসীর। দীর্ঘ ১৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন আদালতের রায়ে স্থগীত হওয়ার কারনে হতাশ দোহার পৌরবাসী।

২০০০ সালে পৌরসভায় উন্নত হবার পর দোহার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০১ সালে। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দিপনার মাঝে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে প্রথম বারের মত পৌর পিতা নির্বাচিত হন আব্দুর রহিম। তারপর বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারনে দীর্ঘ ১২ বছর কোন নির্বাচন হয় নি দোহার পৌরসভায়। অভিযোগ আছে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া শীল মহল নির্বাচন স্থগীত করে আরো বেশি সময় ধরে পৌরসভার ক্ষমতা নিজের হাতে কুক্ষিগত করে রাখতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে বাধা দেয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তফসীল হয়ে যাওয়া নির্বাচন স্থগীত করে উচ্চ আদালত। পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে দোহার পৌরসভার নেতৃত্বে যে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিল এক কথায় মুখ থুবড়ে পরেছে।
পৌরসভা পরিনত হবার বিগত ১৩ বছরে পৌরসভার নাগরিকদের উপর ট্যাক্সের বোঝা বারানো ছাড়া দৃশ্যত কোন উন্নয়ন কাজ হয়নি দোহার পৌরসভায়। বরং ট্যাক্সের পর ট্যাক্সের বোঝা ঘাড়ে চেপেছে দোহার পৌরবাসীর। ট্যাক্স পরিশোধ না করার জন্য অনেক পৌর নাগরিকের মালামাল ক্রোক করা হলেও মনোনায়ন কিনতে যাবার পর দেখা যায় পৌর মেয়র নিজেই ১৩ বছর কোন ট্যাক্স দেন নি। মনোনায়ন বাতিল হবার পর ১৩ বছরের ট্যাক্স ১ ঘন্টায় জমা দিয়ে এসে মনোনায়ন কিনেন বর্তমান পৌর মেয়র। তাতেও শেষ রক্ষা হয় নি। পৌর মনোনায়ন বাতিল হয় বর্তমান পৌর মেয়রের।

দীর্ঘ ১৩ বছরে পৌর এলাকায় রাস্তায় লাগানো বাতিই ছিল পৌরসভার অন্যতম দৃশ্যমান কাজ। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই অনেক এলাকার রাস্তার বাতি নষ্ট হয়ে গেছে। পরিপূর্ন রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে বেশির ভাগ বাতিই আজ নষ্টের পথে।

প্রতিটি পৌরসভায় খাবার পানি সরবরাহের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ১২ বছরেও এখানে গড়ে উঠেনি খাবার পানি সরবরাহের ব্যবস্থা। বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ হবার কথা থাকলেও জয়পাড়া বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া হয়নি সেরকম বড় কোন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড।

জয়পাড়া পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের বিলের পাড় গ্রামে হাটাচলার মত কোন রাস্তাও করে নি দোহার পৌরসভা। যদিও ঐ অঞ্চলটা পৌরসভার অন্যতম ঘনবসতী পূর্ন একটা এলাকা। এখনও বৃষ্টি হলে চলাচল করা যায় নি এই রাস্তা।

জয়পাড়া বাজার রাস্তা নিয়ে অনেক লেখালেখি হওয়ার পর জয়পাড়া বাজার রাস্তার কাজ শুরু হয়। কিন্তু অদৃশ্য কোন ইশারায় বিশ্বব্যাংকের অনুদানের দুই কিলোমিটার রাস্তার কাজ ৫০ মিটারেই শেষ হয়ে যায়।

এই সব সমস্যা সমাধানে পৌর সভার পক্ষ থেকে নেই কোন সমাধান। জনকল্যান মূলক কাজে দোহার পৌরসভার অংশগ্রহন খুবই কম।

তাই চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রভাব ফেলতে পারে নি এই উপজেলায়। স্থবীর হয়ে থাকা উন্নয়ন অতিশীঘ্রই দ্রুত চালু করার জন্য নেতৃত্বের পরিবর্তন ছাড়া কোন উপায় নেই বরে মনে করেন পৌরবাসী।

দোহার পৌরবাসী আশা করে দেশ ব্যাপী নির্বাচনী যে হাওয়া বইছে সেই সুবাদে অতি দ্রুত দোহার পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ড্যান ব্রাউন: এক কলম জাদুকরের কথা

ড্যান ব্রাউন। যারা ইংরেজি সাহিত্য সম্পর্কে খোজ কবর রাখেন তাদের কাছে নামটা অতি পরিচিত। তাদের কাছে ড্যান ব্রাউন মানে এক জাদুকর। যিনি কলমের জাদুতে ধরে রাখেন পাঠকের সম্পূর্ন মনযোগ। যার একটা উপন্যাস মানে একটা জাদুর বাক্স। আজ এই জনপ্রিয় সাহিত্যিকের কথা আলোচনা করব। বলা হয়ে থাকে কোরআন আর বাইবেলের পর ড্যান ব্রাউনের বই মানুষ সবচেয়ে বেশি পড়ে।

ড্যান ব্রাউন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের এক্সিটারে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে উঠেন। পরিবারের তিন সন্তানের মধ্যে তিনিই বড়। তাঁর মা কনস্টান্স (কনি) ছিলেন পেশাদার বাদক যিনি চার্চে অর্গান বাজাতেন। তাঁর বাবা রিচার্ড জি. ব্রাউন ছিলেন একজন  বিখ্যাত গণিতশিক্ষক যিনি ১৯৬৮ থেকে ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ফিলিপ্স এক্সিটার একাডেমিতে মাধ্যমিক গণিত পড়াতেন। ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

ফিলিপ্স এক্সিটার একাডেমি একটি উঁচুমানের আবাসিক বিদ্যালয় যেখানে নতুন শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের ভেতরেই থাকতে হয়। এই সূত্রেই ড্যান ব্রাউন এবং তাঁর পরিবারের সবাই স্কুলের ভেতরেই থাকতেন। এক্সিটারের সামাজিক প্রতিবেশ ছিল সম্পূর্ণ খ্রিস্টানপন্থী। ব্রাউন চার্চে ঐকতান সঙ্গীত গাইতেন এবং সানডে স্কুল করতেন, আর  গ্রীষ্মের সময়টা চার্চেরই শিবিরে কাটাতেন। ব্রাউনের প্রাথমিক শিক্ষাজীবন কাটে পাবলিক স্কুলগুলোতে। নবম গ্রেড পর্যন্ত সেখানে পড়ার পর তিনি ফিলিপ্স এক্সিটারে ভর্তি হোন এবং ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে সেখান থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তাঁর ছোট ভাইবোনের মধ্যে ভ্যালেরিন ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে এবং গ্রেগরি ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে এক্সিটার থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে।

ফিলিপ্স এক্সিটার থেকে স্নাতক শিক্ষা শেষ করার পর ব্রাউন অ্যামহার্স্ট কলেজে যোগ দেন; সেখানে তিনি সাই আপসাইলন নামক ভ্রাতৃসংঘের সদস্য ছিলেন। সেখানে স্কোয়াশ খেলা আর অ্যামহার্স্ট গ্লি ক্লাবে গান গেয়ে দিন কাটতো তাঁর। একইসাথে ঔপন্যাসিক অ্যালান লেলচাকের একজন ছাত্র হিসেবে তাঁর লেখায় সহযোগিতা করতেন।

১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে অ্যামহার্স্ট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর একজন পেশাদার সংগীতশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। মূলত শিশুতোষ ক্যাসেট দিয়ে যাত্রা শুরু তাঁর। প্রথম দিকের ক্যাসেটগুলোর মধ্যে রয়েছে: সিন্থঅ্যানিমেল্স, হ্যাপি ফ্রগ্স এবং সুজুকি এলিফ্যান্ট্স যার মাত্র কয়েকশো কপি বিক্রি হয়েছিলো। এরপর তিনি নিজের রেকর্ডিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন, নাম দেন ড্যালিয়েন্স। তাঁর কোম্পানি থেকে প্রকাশিত প্রথম সিডি ছিলো পার্সপেক্টিভ যা মূলত বড়দের জন্য ছিলো। এটিও কয়েকশো কপি বিক্রি হয়।

১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে তিনি হলিউডে যান। উদ্দেশ্য ছিলো শিল্পী, গীতিকার এবং চিত্রকর হিসেবে ক্যারিয়ার গঠন। আর্থিক সচ্ছলতার জন্য এসময় ব্রেভারলি হিল্স প্রিপারেটরি স্কুলে ক্লাস নিতেন।

লস অ্যাঞ্জেল্স-এ থাকাকালীন তিনি ন্যাশনাল একাডেমি অফ সংরাইটার্স-এ যোগ দিয়ে এর অনেক কার্যক্রমে সক্রীয় অংশহগ্রহণ করেন। সেখানেই ব্লিথ নিউলনের সাথে ব্রাউনের পরিচয় হয় যিনি তাঁর চেয়ে ১২ বছরের বড়। তিনি একাডেমির আর্টিস্ট ডেভেলপমেন্ট বিভাগের পরিচালক ছিলেন। নিউলন ব্রাউনের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে প্রভূত সগযোগিতা করেন যদিও তা তাঁর কাজের অন্তর্ভুক্ত ছিলো না। তিনি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ছাপাতেন, ব্রাউনের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক শিক্ষণের সুযোগ করে দিতেন আর তার ক্যারিয়ারের উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে এমন ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিতেন। তখন তাঁদের মাঝে একটি ব্যক্তিগত সম্পর্কও গড়ে উঠে যা ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দের আগে কেউই জানতেন না। এই বছরই ব্রাউন নিউ হ্যাম্পশায়ারে ফিরে যান এবং নিউলন তার সঙ্গী হোন। ১৯৯৭ সালে তাঁরা নিউ হ্যাম্পশায়ারের উত্তর কনওয়ের পি পরিজ পন্ডে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হোন।

সংগীতসংশ্লিষ্ট কাজে সহায়তা করার পাশাপাশি ব্লিথ, ড্যান ব্রাউনের লেখকজীবনেরও একটি বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন। ব্লিথ তাঁর লেখার জন্য প্রয়োজনীয় উপায় উপকরণ সংগ্রহে অনেক সহযোগিতা করেন। প্রথম দিককার রঙ্গরসাত্মক বইগুলো দুজনে একসাথেই লিখেছিলেন আর পরবর্তী বইগুলোতেও ছিলো ব্লিথের সহায়তা। ডিসেপশন পয়েন্ট বইয়ের একটি অংশে ব্রাবুন ব্লিথ ব্রাউনকে সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান।

১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে ব্রাউন নিজের নামে অর্থাৎ ড্যান ব্রাউন নামে একটি সিডি বের করেন যাতে “৯৭৬-লাভ” এবং “ইফ ইউ বিলিভ ইন লাভ” নামীয় গানগুলো ছিলো।

১৯৯৩ সালে ব্রাউন এবং ব্লিথ নিউ হ্যাম্পশায়ারে ব্রাউনের বাড়িতে ফিরে যান। ব্রাউন তাঁর পূর্বতন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফিলিপ্স এক্সিটারে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। একই সময় তিনি লিংকন একারম্যান স্কুলের ৬ষ্ঠ, ৭ম এবং ৮ম গ্রেডের শিক্ষার্থীদের স্পেনীয় ভাষা শিখানোর দায়িত্ব পালন করেন। এটি হ্যাম্পটন ফল্স-এ অবস্থিত একটি ছোট বিদ্যালয় যাতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ২৫০ জন। ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে ব্রাউন অ্যাঞ্জেল্স অ্যান্ড ডেমন্স নামে একটি সিডি প্রকাশ করেন। এই সিডির শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে ছিলো জন ল্যাংডনের দ্বিত্ব প্রতীক বা এম্বিগ্রাম যেগুলো পরবর্তীতে তিনি অ্যাঞ্জেল্স অ্যান্ড ডেমন্স উপন্যাস রচনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন। এই সিডির মন্তব্য করতে যেয়ে প্রভূত সহযোগিতার জন্য তিনি তাঁর স্ত্রী ব্লিথকে ধন্যবাদ জানান; কারণ হিসেবে লিখেছেন:

“for being my tireless cowriter, coproducer, second engineer, significant other, and therapist”

এই সিডির গানগুলোর মধ্যে আছে “Here in These Fields” এবং ধর্মীয় সমবেত সঙ্গীত “All I Believe”। ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে অবকাশযাপনের জন্য তাহিতিতে অবস্থানকালে তিনি সিডনি শেল্ডনের দ্য ডুম্সডে কন্সপাইরেসি উপন্যাসটি পড়েন। এর পরই সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি লিখলে এর চেয়ে ভালো লিখতে পারেন। এই সময়ই ডিজিটাল ফোরট্রেস রচনার কাজ শুরু করেন এবং একই সাথে তাঁর স্ত্রীর সাথে যৌথভাবে “187 Men to Avoid: A Guide for the Romantically Frustrated Woman” নামীয় একটি রসাত্মক বই লিখেন। এই বইয়ের ১৮৭টি নিবন্ধের একটি ছিলো “Men who write self-help books for women”। এক্ষেত্রে অবশ্য তিনি নিজ নাম ব্যবহার করেননি; ড্যানিয়েল ব্রাউন ছদ্মনাম ব্যবহার করেন। বইয়ের প্রথমে লেখকের জীবনীতে লেখা হয়েছে: “Danielle Brown currently lives in New England: teaching school, writing books, and avoiding men”। বইটির স্বত্ব অবশ্য ড্যান ব্রাউনের নামেই ছিলো। প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়ার আগে বইটির মাত্র কয়েক হাজার কপি বিক্রি হয়।

এর পর ১৯৯৬ সালে তিনি লেখালেখির কাজে পূর্ন মনোযোগ দেন। ১৯৯৮ সালে তার প্রথম উপন্যাস ডিজিটাল ফোরট্রেস প্রকাশিত হয়। প্রথম উপন্যাস ডিজিটাল ফোরট্রেস পাঠক মহলে তেমন সারা ফেলতে না পারলেও তার পরবর্তীতে ২০০০ সালে তিনি বের করেন এ্যাঞ্জেল এন্ড ডেমনস। এই বইয়ের মাঝে তিনি তৈরী করেন তার সৃষ্ট সবচেয়ে জনপ্রিয় চরিত্র হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট ল্যাঙ্গডনকে। বইটি যদিও বেশি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষন করতে পারে নি তারপরও তিনি সাইন্স ফিকশন ধরনের উপন্যাস ডিসিপশন পয়েন্ট বের করেন। প্রথম তিন বইয়ের মত এই বইটিও পাঠক সমাজের দৃষ্টি কারতে অসমর্থ হয়।

এর পর তিনি হাত দেন তার সবচেয়ে আলোচিত বই দ্য ভিঞ্চি কোড লেখায়। ২০০৪ সালে যখন ভিঞ্চি কোড বের হয় তখন পাঠক মহলে আলোড়ন পরে যায় তার এই বই নিয়ে। একের পর এক ভাঙ্গতে থাকে রেকর্ড। বইটি বের হবার সাথে সাথে নিউ ইয়র্ক টাইমসের বেস্ট সেলরের মর্যাদায় ভূষিত হয়। এরপর আর পিছে ফিরে তাকাতে হয় নি এই কলম জাদুকরকে। এরপর ড্যান ব্রাউন মানেই জাদু। এর পর বের হয়েছে লস্ট সিম্বল এবং ২০১৩ এর মে মাসে প্রকাশিত হয় ইনফার্নো। এবং দুটোই বেস্ট সেলর। বর্তমানে ব্রাউনের লিখা উপন্যাস ৪০ টিরও অধিক ভাষায় অনুদিত হয়েছে।

উল্লেখ্য তার দুইটি বই দ্য ভিঞ্চি কোড ও এ্যাঞ্জেল এন্ড ডেমনস উপন্যাস নিয়ে উপন্যাসের নামে দুইটি সিনেমা হয়েছে। সিনেমায় রবার্ট ল্যাঙ্গডনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বিখ্যাত অভিনেতা টম হ্যাঙ্কস।

নিচে ড্যান ব্রাউনের বইগুলোর তালিকা:

১. ডিজিটাল ফোরট্রেস (১৯৯৮)

ডিজিটাল ফোরট্রেস (১৯৯৮)

অনুবাদ

২. ডিসিপশন পয়েন্ট (২০০১)

ডিসেপশন পয়েন্ট

অনুবাদ

৩. এ্যাঞ্জেল এন্ড ডেমনস (২০০০)

এ্যাঞ্জেল এন্ড ডেমনস (২০০০)

অনুবাদ

৪. দ্য ভিঞ্চি কোড (২০০৩)

দ্য ভিঞ্চি কোড

অনুবাদ

৫. দ্য লস্ট সিম্বল (২০০৯)

দ্য লস্ট সিম্বল

অনুবাদ

৬. ইনফার্নো (২০১৩)

ইনফার্নো

অনুবাদ

৭. অরিজিন (২০১৭)

অরিজিন

অনুবাদ

ফরমালিন মুক্ত জয়পাড়া বাজার

বহুল প্রতীক্ষার পর জয়পাড়া বাজার ফরমালিন মুক্ত ঘোষণা করা হলো। জয়পাড়া বাজারের কোন খাদ্য দ্রব্যে ফরমালিন ব্যবহার না করায় বাজার কমিটি ও উপজেলা পরিষদের তত্বাবধানে এই ঘোষণা দেয় উপজেলা পরিষদ ও জয়পাড়া বাজার কমিটি।

বর্তমান সময়ের অন্যতম বিষাক্ত রাসায়নিক ফরমালিন ব্যবহার করে শাক সবজী ও ফল তাজা রাখা হয়। মানব শরীরের ক্ষতিকারক এই বিষ ব্যবহার করা হতো মূলত লাশ যাতে না পচেঁ যায় সেই কাজে। কিন্তু এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীর কারনে এটি ব্যবহার করা হতে থাকে শাক-সবজী, ফল ও মাছে যাতে পচন না ধরে। সংবাদ মাধ্যম এই ব্যাপারে গন মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে  সরকার এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করে। সেই সাথে সচেতনতা তৈরী করে সাধারন মানুষের মাঝে।

এছাড়াও বিভিন্ন বাজার কমিটিও জনস্বার্থের কথা চিন্তা করে এই ফরমালিন নিষিদ্ধ করে। তারই ধারাবাহিকতায় জয়পাড়া বাজারকে ফরমালিন মুক্ত বলে ঘোষনা করলো দোহার উপজেলা প্রশাসন ও জয়পাড়া বাজার কমিটি। এই ফরমালিন মুক্ত করতে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে দোহার উপজেলা পরিষদ।

নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবে পনিরুজ্জামান তরুণের কম্পিউটার প্রদান

নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে মতবিনিময় সভা শেষে প্রেস ক্লাবকে কম্পিউটার প্রদান করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপকমিটির সহ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ। ৮জুন শনিবার বিকাল ৫ টায় নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হাজী মো. ইব্রাহীম খলিলের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পনিরুজ্জামান তরুণ।

অনুষ্ঠানে তরুণ বলেন, “সাংবাদিকরা হচ্ছেন জাতির বিবেক। তারা অক্লান্ত পরিশ্রম ও ঝুঁকি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও চিত্র ধারণ করেন। এ সব তথ্য সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলে প্রচার করেন। সাংবাদিকরা কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় প্রতিকুলতার মধ্যে পড়েন এবং নির্যাতিত হয়ে থাকেন। তিনি দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার সাংবাদিকদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন”

এসময় উপস্থিত ছিলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোশারফ হোসেন দিলু, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইকরামুল নবী (ইমু), উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মো: সোহেল, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালিদ হোসেন সুমন, প্রথম আলোর সাংবাদিক আজহারুল হক, কালের কন্ঠের সাংবাদিক অমিতাভ অপু প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি সাহিদুল হক খান ডাবলু, সহ সভাপতি শেখসালাহ্ উদ্দিন বাচ্চু, আমাদের সময়ের বিপ্লাব ঘোষ, জনকন্ঠের সুজন খান, আমার দেশের মো. কাজী সোহেল, দেশের পত্রের ফজলুর রহমান প্রমূখ।

ত্রিলোক-এর আবৃ্ত্তি অনুষ্ঠান আয়োজিত

শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়ে ত্রিলোক বাচিক পাঠশালার সম্পূর্ণ নুতন একটি আবৃত্তি প্রযোজনা ‘অন্তমিল’। অনুষ্ঠানটির গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ছিলেন জয়পাড়া কলেজের সাবেক ছাত্র এনাম আজিজুল।

প্রেম ও ভালবাসাকে উপজীব্য করে দেশের প্রখ্যাত কয়েকজন কবির ছন্দপ্রধান বেশ কিছু কবিতার সমন্বয়ে সাজানো হয়েছিল অনুষ্ঠানটি। এতে অংশগ্রহণ করেন ‘ত্রিলোক বাচিক পাঠশালা’র কয়েকজন নবাগত মুখ।

ব্যক্তিগত আবৃত্তির পাশাপাশি ত্রিলোক সদস্যরা দলগতভাবে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কামাল পাশা’ ও ‘অগ্রপথিক’ এর বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করেন।

চালনাই ইট ভাটায় শিশু শ্রম: দেখার কেউ নেই

শিশুশ্রম শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করে উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের চালনাই’তে ইটভাটার মালিকরা শিশু শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ন কাজে ব্যবহার করছে। এই কাজে তাদের বাধা দিচ্ছে না কেউ। দেখার কেউ নেই এই অপরাধের।

১৯৯০ সালে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় চালনাই সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠে এই তিন ইটের ভাটা। শুরু থেকেই ইটভাটাগুলো নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে।

বর্তমানে ইটভাটা গুলো বন্ধ থাকরেও ইট তৈরির মৌসুমে ৪টি ইটভাটায় কয়েক শতাধিক শিশু শ্রমিক ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ করছে। ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পারশ্রমিক দিয়ে ৫ থেকে ১৫ বছরের শিশুদের কাজ করানো হচ্ছে ইটের ভাটায়। এই শিশুরা জানে না স্কুল কী।

সাত বছরের শিশু উজ্জল কাজ করে বিডিবি ইটের ভাটায়। তার বাবা মায়ের সাথে কথা বললে তারা জানান, লেখাপড়া তো করাতে চাই কিন্তু পয়সার অভাবে লেখাপড়া করাতে পারি না।

সায়মা নামের ৬ বছরের অপর এক শিশু সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডিএনবি ইট ভাটায় কাজ করে তার মা বাবার সাথে। সে পায় ১০০ টাকা। তার কাজ ইট পোড়ানোর খোলার মধ্যে ইট সাজানো। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কোন মানুষ সেখানে এক মিনিটের বেশি থাকলে না পারলেও সায়মা সারাদিন খোলার পাশে থেকে ইট স্তুপ করে সাজায়।

দীর্ঘদিন এভাবে কাজ করতে করতে এসব শিশুদের গায়ের রং অনেকটা আগুনের মতো লালচে হয়ে গেছে।

শিশুশ্রমের ব্যাপারে বিডিবি ইটভাটার মালিক আব্দুল আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে তার নিজের ভাটার একদিকে কর্মরত শিশুদের দেখিয়ে দিলে তিনি বলেন, আমরা কাউকে স্কুলে যেতে নিষেধ করি না।

শ্রম আইন ২০০৬’র ২৮৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোন ব্যক্তি কোন শিশু বা কিশোরকে চাকরিতে নিযুক্ত করিলে অথবা এই আইনের কোন বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোন শিশু বা কিশোরকে চাকরি করার অনুমতি দিলে, নগদ টাকাসহ কারাদন্ডে দন্ডিত হতে পারে’।

নবাবগঞ্জ-পাড়াগ্রাম রাস্তা মরণফাঁদে পরিণত

নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ব্রিজ থেকে পাড়াগ্রাম যাওয়ার ১৬ কিলোমিটার র্দীঘ একমাত্র রাস্তাটি এখন যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সময়ের সাথে অনেক কিছু পরিবর্তন হলেও রাস্তাটিতে উন্নয়নের ছোয়া লাগে নি। 

সড়কজুড়ে পিচ কার্পেটিং উঠে খানা-খন্দ ও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই এসব গর্ত বৃষ্টির পানিতে ভরে থাকে, আর এসব গর্তে পড়ে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনায় পড়ছে যানবাহন ও পথচারীরা। মাঝে মাঝে যানবাহন বিকল হয়ে সড়কের মাঝেই পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ দুর্ভোগ যেন দেখারও কেউ নেই।

অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ঝুঁকি নিয়ে হলেও এ সড়ক দিয়ে শত শত যাত্রীবাহী রিকসা, মটরসাইকেল, ইজিবাইক, গতি, সিএনজি দিয়ে হাজার হাজার যাত্রীকে চলাচল করতে হয়। ফলে উপজেলার অন্যান্য সড়কের মধ্যে এ সড়কের গুরুত্ব বেশি।

রাস্তার এমনই বেহাল দশা যা যান চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তবুও মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে প্রতিনিয়ত। রাস্তায় যানবাহন চালালে নদীর যানবাহনে উথাল-পাথাল ঢেউয়ের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে রীতিমতো শুরুহয়ে যায় হৃদকম্প। এ সড়কে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-খাটো দুর্ঘটনা।

সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় নবাবগঞ্জ উপজেলার উত্তরাঞ্চলের প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জানা গেছে, প্রায় একযুগ আগে মুহাম্মদ নূর আলীর ব্যাক্তিগত টাকা দিয়ে নবাবগঞ্জ থেকে পাড়াগ্রামর ১৬ কিলোমিটার রাস্তাটি কার্পেটিং করা হয়েছিল। এর পর থেকে এ পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তসহ উল্লেখযোগ্য সংস্কার চোখে পড়ে নি। এ অবস্থায় স্থানীয় জনগন ও যাত্রীদের প্রশ্ন আর কতখানি ভাঙ্গলে মেরামত করা হবে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তা মাঝখানে উচু এবং দু পাশে নিচু হয়ে অনেকটা কবরের মত আকার ধারন করেছে। কোন কোন স্থানে ২/৩ ফুট পর্যন্ত রাস্তা দেবে গেছে।  গর্তে পড়ে এ সড়কে বিভিন্ন যানবাহন বিকল হওয়র ঘটনা নিত্যদিনের।

এলাকাবাসীর দাবী অতিদ্রুত যেন এ রাস্তা মেরামত করার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়।এ ব্যাপারে কথা হয় পথচারী রমজান আলীর সাথে তিনি জানান, “কষ্টে যাদের জীবন গড়া তাদের আবার কষ্ট কিসের। এমপি-মন্ত্রীরা যদি এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করত তাহলে রাস্তার এমন ভয়াবহ অবস্থা থাকত না। আমরা তো সাধারন জনগন একটা ভোটের মালিক তাই আমাদের এমন চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়।”

সিএনজি চালক আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, গাড়ি নিয়ে যেতে ইচ্ছা হয়না বাধ্য হয়ে চলাচল করতে হয় এই রাস্তাটি দিয়ে। কিছু কিছু জায়গায় এমনই অবস্থা গাড়ি উল্টে যাওয়ার উপক্রম। বেশির ভাগ সময়ই এই রাস্তা দিয়ে চলাচলে প্রচুন্ড ঝাকুনিতে গাড়ির নাট-বল্টু খুলে গাড়ি অকেজ হয়ে পরে থাকে। কর্তপক্ষ যেন অতি শিগ্রহ এ রাস্তাটি মেরামত করার ব্যবস্থা গ্রহন করেন।

এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ জানায়, কিছুদিনের মধ্যে এ রাস্তাটির মেরামতের কার শুরু হবে।

এক রাতে নবাবগঞ্জে তিন বাড়িতে ডাকাতি

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নের শেখরনগর গ্রামে গত ২ জুন রাতে ৪০/৫০ জন ডাকাত এক রাতে তিন বাড়িতে ডাকাতি করেন। ডাকাত সদ্যসরা প্রথমে শেখরনগর গ্রামের নজরুল ইসলাম কাজীর বাড়িতে রাত ২টার দিকে ১০/১২ জন ডাকাত ঘরে ঢুকে সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমারি থেকে ২ ভরি স্বর্ণ ১২ হাজার টাকা ৩টি মোবাইল নিয়ে যায়।

নজরুল ইসলাম কাজীর ছেলে আবদুর রহমান নিউজ৩৯কে বলেন, ডাকাত দল আমার ঘরে প্রবেশ করে আলমারির চাবি চায় তখন আমি বলি তোমাদের যা নেওয়ার তা নিয়ে যাও আমাদের কোন ক্ষতি করো না।

 একই রাতে ঐ গ্রামের ফয়জদ্দিন শেখের বাড়ির ঘরে ঠুকে দেড় ভরি স্বর্ণ ও ৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ফয়জদ্দিন জানায় ডাকাত দলের সদস্যরা আমার ঘরে ঠুকে আমরা নতুন লঙ্গি পরিধান করে ডাকাতের ছেরা পুরাতন লঙ্গি ফেলে রেখে যায়। আমার পাঞ্জারি পকেটে থেকে ১০ টাকা ছিলো টাকা দিয়ে বলে চাচার পকেঠে ১০টাকা আছে নিয়ে গেলাম।

পরে ডাকাত দল একই গ্রামের আবদুস সালামের বাড়ি গিয়ে বলে আমরা আইনের লোক দরজা খুলেন। এ কথা সোনে আবদুস সালাম জানালা খুলে দেখে তার সন্দেহ হয়। সে দরজা না খুলায় ডাকাত দল দরজা ভেঙ্গে ফেলার জন্য চেষ্টা করে। দরজা না খুলায় ডাকাত দল সাপল দিয়ে দরজায় কুপ দেয়। অনেক চেষ্টা করে দরজা না খোলায় ডাকাত দল চলে যায়। ক্ষতিগ্রস্থরা জানায় তিন বাড়িতে একসাথে ডাকাতি করেন। এবং এদের ভাষা আমাদের দেশের লোকদের মত না তারা একটু টেনে টেনে কথা বলে।

পর দিন সকালে শিকারীপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘটনা স্থান পরির্দশন করেন।

সাংবাদিক হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে নবাবগঞ্জে মিছিল ও সমাবেশ

দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা সংবাদদাতা ফারুক আহমেদকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার দুপুরে মিছিল ও সমাবেশ করেছেন দোহার নবাবগঞ্জের সাংবাদিকেরা।

উপজেলার গালিমপুর বাজারে গত শনিবার রাত আটটায় কম্পিউটার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে সন্ত্রাসীরা ফারুকের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে এবং ডান হাতের কবজির রগ কেটে দেয়। ফারুক বর্তমানে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ফারুকের বড় ভাই সিরাজ আহমেদ রোববার রাতে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সন্ত্রাসী ফিরোজ, রবিউল, শামীম বাবুসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ফারুকের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গতকাল নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে সংবাদকর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে থানা মোড় ঘুরে উপজেলার প্রধান ফটক অবরোধ করে সমাবেশ করেন। এতে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার সাংবাদিকেরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা ফারুকসহ দেশের সব নির্যাতিত সাংবাদিকের বিচার দাবি করেন। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফারুকের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে সময়সীমা বেঁধে দেন। এ সময় বক্তৃতা করেন মো. ইব্রাহীম খলিল, জহিরুল ইসলাম, আজহারুল হক, নাসিরউদ্দিন, মাহবুবুর রহমান, সিরাজ আহমেদ প্রমুখ। প্রতিবাদ সমাবেশে সাংবাদিক ছাড়াও জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ সংহতি জানান।
নবাবগঞ্জ থানার ওসি মাসুদ করিম জানান, পুলিশের একাধিক দল আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

নবাবগঞ্জে সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা

নয়া দিগন্ত পত্রিকার ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা সংবাদদাতা ফারুক আহম্মেদকে (৩৫) কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে গালিমপুর বাজারে ফারুকের কম্পিউটার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে সন্ত্রাসীরা তাঁকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় লোকজন জানান, গতকাল রাত আটটার দিকে এলাকার ফিরোজ, শামীম, রবিউল ও বাবুর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল ফারুক আহম্মেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে তাঁর পরিচয় জানতে চায়। তারা নাম নিশ্চিত হয়ে চায়নিজ কুড়াল ও চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ফারুকের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠান।

সাংবাদিক ফারুকের বড় ভাই সিরাজ আহমেদ নিউজ৩৯ কে বলেন, সম্প্রতি গালিমপুরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও ফিরোজ বাহিনীর অপরাধের ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এ ঘটনার জের ধরেই তাঁকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে তারা।
খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ সার্কেলের এএসপি শহীদুল ইসলাম হাসপাতালে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে নবাবগঞ্জ থানার ওসি মাসুদ করিমকে নির্দেশ দেন। এ সময় নবাবগঞ্জের সংবাদকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে যান।
ওসি মাসুদ করিম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত যে-ই হোক না কেন, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য ফারুক আহমেদ সজল নিউজ ৩৯ এরও একজন ফ্রি ল্যান্সার।