ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের রূপারচর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৮০ লিটার চোলাই মদসহ আব্দুল খালেক (৩০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শোল্লা ইউনিয়নের রূপারচর গ্রামের শামীমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তবে অভিযানের সময় শামীমসহ তিনজন আসামি পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, খালেক ও পলাতক আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ ও সিংগাইর থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসিফ রহমান ও নবাবগঞ্জ থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাহমুদুল হাসান সুমন, দোহার প্রতিনিধি :ঢাকা জেলার দোহার পৌরসভার খারাকান্দা এলাকার বাসিন্দা লেবানন প্রবাসী বানুর (৫০)পরিচয় মিলেছে। বানুর ব্যাপারে news39.net এ সংবাদ প্রচারের পর তার স্বজনেরা তাকে চিনতে পারেন এবং এই প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন । উল্লেখ্য বানুর সাক্ষাৎকার ভিত্তিক একটি ভিডিও দোহার উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও ইকরাশি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরে আলম ঝিলু মারফত এই প্রতিবেদক এর কাছে আসে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সরেজমিনে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর পূর্বে জীবিকার তাগিদে লেবানন চলে যান উক্ত নারী। তার বাবার নাম আকালী,যিনি পেশায় রিকশাচালক ছিলেন। তিনিও মারা যান প্রায় ১৫ বছর পূর্বে। ৪ ভাইয়ের একমাত্র বোন এই বানু অবিবাহিত ছিলেন। তার পৈত্রিক বাড়িও বিক্রি হয়ে যায়।
প্রথমদিকে তার পরিবারের সাথে তার যোগাযোগ হলেও দু -এক বছর পর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।ইতমধ্যে তার ৪ ভাইয়ের মধ্যে ৩ ভাইও মারা যান।একমাত্র জীবিত ভাই আলমগীরের পেশায় রিকশাচালক। তিনি ঢাকায় অস্থায়ীভাবে ভাড়ায় রিকশা চালান। বোন জীবিত আছেন শুনে আনন্দে কেদে ফেলেন। পরক্ষনেই তার কথায় নেমে আসে হতাশা। আক্ষেপ করে জানান,তার বোনকে ফিরিয়ে আনার সাধ্য তার নাই।
ভিডিওতে বানু জানান, তার কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। কারণ হিসাবে বলেন, সেগুলো যুদ্ধের সময় হারিয়ে গেছে। এ সময় তাকে কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে। তিনি লেবাননের বাংলাদেশ দূতাবাসের আশ্রয়ে রয়েছেন। তাকে দেশে ফেরানোর জন্য দূতাবাসের কর্মকর্তারা দোহার উপজেলায় নুরে আলম ঝিলুর সাথে যোগাযোগ করেন। এছাড়াও, দূতাবাস তার জন্য মানবিক ব্যক্তিদের সহায়তা কামনা করেছেন।
বানুর করুণ কাহিনী স্থানীয়দের মাঝে আলোড়ন তুলেছে। অনেকেই তার সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কবে এই দুঃখী নারী তার স্বদেশে ফিরতে পারবেন।
শরিফ হাসান/ মো আল-আমিন: ঢাকার দোহার উপজেলার দেবীনগর নদীরপাড় এলাকায় ডাকাতির সময় ডাকাতদলের গুলিতে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন মো. হোসেন আলী (৪০) ও মো. মাসুদ (১৭)।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
গুলিবিদ্ধ মাসুদের বড় ভাই জাকির আলী জানান, “রাতে আমাদের বাসা থেকে দুই-তিন বাড়ি পরেই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। চিৎকার শুনে আমরা ১০-১২ জন বেরিয়ে আসি। তখন ডাকাতরা আমার ভাই মাসুদ ও প্রতিবেশী হোসেন আলীকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে।”
তিনি আরও জানান, মাসুদের শরীরে আট-দশটি গুলি লেগেছে এবং হোসেন আলীর শরীরেও গুলির চিহ্নসহ ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দোহার থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুইজন এসেছেন। তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে।
ঢাকার দোহার উপজেলার দেবীনগর নদীরপাড় এলাকায় ডাকাতির সময় দলের গুলিতে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন মো. হোসেন আলী (৪০) ও মো. মাসুদ (১৭)।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
গুলিবিদ্ধ মাসুদের বড় ভাই জাকির আলী জানান, “রাতে আমাদের বাসা থেকে দুই-তিন বাড়ি পরেই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। চিৎকার শুনে আমরা ১০-১২ জন বেরিয়ে আসি। তখন ডাকাতরা আমার ভাই মাসুদ ও প্রতিবেশী হোসেন আলীকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে।”
তিনি আরও জানান, মাসুদের শরীরে আট-দশটি গুলি লেগেছে এবং হোসেন আলীর শরীরেও গুলির চিহ্নসহ ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দোহার থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুইজন এসেছেন। তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। দোহার থানার (ওসি) রেজাউল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয় দোহার থানায় মামলার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান।
ডেস্ক রিপোর্টঃ ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া আমবাগান এলাকায় এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সীমা বেগম (৪০) নামের ওই নারী তার শিশু কন্যাকে কোচিং থেকে ফিরিয়ে আনছিলেন। পথে এক দুর্বৃত্ত তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পাশের একটি বাসার নিচতলায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় সীমাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতাল, পরে মিটফোর্ড হাসপাতাল এবং শেষে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যা সাতটার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বামী আক্তার হোসেন জানান, তার স্ত্রীর কানের দুল, গলার স্বর্ণের চেইন ও কিছু টাকা খোয়া গেছে। তিনি এটিকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে সন্দেহ করছেন। তবে পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরকীয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সীমা বেগম অভিযুক্ত ইমাম হোসেনের (২৫) ভাড়া বাসায় দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে ইমাম ঘরে থাকা বঁটি দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ ইমাম হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে পরকীয়ার জের ধরে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে আরও বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে বলে প্রত্যাশা করছে স্থানীয়রা।
ডেস্ক রিপোর্টঃ পবিত্র রমজান মাসের জন্য ব্যাংকের সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রমজান মাসে ব্যাংকের লেনদেন চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। বর্তমানে লেনদেন চলে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ফলে রমজানে মাসে ব্যাংক লেনদেনের সময় কমে আসবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রমজানে ব্যাংকের অফিস সূচি হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ৪টা পর্যন্ত। বর্তমানে এ অফিস সূচি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। সপ্তাহে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নতুন এ সময়সূচিতে ব্যাংকে অফিস ও লেনদেন চলবে। রোজা শেষে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, রমজানে অফিস সময়সূচিতে বেলা ১টা ১৫ মিনিট থেকে দেড়টা পর্যন্ত নামাজের বিরতি থাকবে। তবে এ সময়ে বিকল্প ব্যবস্থায় লেনদেন অব্যাহত রাখতে হবে।
ডেস্ক রিপোর্টঃ সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে দ্রুত নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ, তাই সম্মানের সঙ্গে বিদায় নেওয়া উচিত।
মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মোহনগঞ্জে এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাবর আরও বলেন, নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে, যা মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের রাজপথে প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি দাবি করেন, ফ্যাসিস্ট সরকার মিথ্যা মামলায় তাকে ১৭ বছর কারাগারে রেখেছিল এবং কারাগারে থাকা অবস্থায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে চাপ সৃষ্টি করেছিল। তবে তিনি কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হননি বলে জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফ উদ্দিন খান, বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান তালুকদারসহ দলটির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
ডেস্ক রিপোর্টারঃ ঢাকা জেলা বিএনপির সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দ্রুত নির্বাচন জরুরি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এই নির্বাচন চাই।”
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ধামরাইয়ের যাত্রাবাড়ী মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের মতো এবারও জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। সংস্কারের নামে নির্বাচন বিলম্ব করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং বিএনপির ৩১ দফার সংস্কারে এক ব্যক্তি দুইবারের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবে না—এমন বিধান রাখা হয়েছে।
সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে, অন্যথায় কঠোর আন্দোলন হবে।”
ডেস্ক রিপোর্টারঃ ইলন মাস্কের স্টারলিংককে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো এবং তা চালু করার মূল কারণ হচ্ছে অনলাইন শাটডাউন চিরতরে বন্ধ করার জন্য। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একথা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে একথা বলেন।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার পোস্টে লেখেন, ‘অনলাইন শাটডাউন চিরতরে বন্ধ করার ইলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক বাংলাদেশে ইনভাইট করে চালু হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে অনলাইন শাটডাউন ব্যবসা চিরতরে বন্ধ করা। শেখ হাসিনা একনায়কতন্ত্র ১৬ বছরের শাসনকালে অনেকবার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। ইন্টারনেট শাটডাউন হচ্ছে স্বৈরশাসক ও স্বৈরাচারীদের একটি প্রিয় হাতিয়ার বিক্ষোভ দমন করতে বা কোন প্রধান বিরোধী আন্দোলন দমন করতে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায়, হাজার হাজার ফ্রি ল্যান্সার আক্রান্ত হয়েছিল। কেউ কেউ তাদের চুক্তি এবং চাকরি চিরতরে হারিয়ে ফেলে। বাংলাদেশের বাজারে স্টারলিংকের আগমন মানে ভবিষ্যৎ কোন সরকারই ইন্টারনেট সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে পারবে না। অন্তত বিপিও প্রতিষ্ঠান, কল সেন্টার এবং ফ্রি ল্যান্সাররা নেট বন্ধ করার নতুন চেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।’
এনালগ ক্যামেরার যুগে যখন ফিল্মে ছবি তুলতেন, সেই সময়ের পৃন্ট করা ছবি দেখবেন কোনোটায় সবুজ ভাব বেশি, কোনোটা লালচে। আমি এর কারণ বুঝতাম না, বাড়িতে আব্বার কয়েটা ছবি আছে, এক রঙা কিন্তু কালো না, যেগুলোকে বলে “সেপিয়া”। ডিজিটাল ক্যামেরার যুগে এসে বুঝতে পেরেছি ছবিগুলোর ভিন্নতার কারণ।
সেই যুগে দোকানে গিয়ে র্যান্ডম একটা ফিল্ম কিনে নিতাম। ব্র্যান্ড ছিল আগফা, ফুজিফিল্ম, কোডাক, আর এদের সাব-ব্র্যান্ড ছিল অনেক। কিন্তু সেগুলো নিয়ে মাথা ঘামাতাম না। কেওই হয়তো মাথা ঘামাত না। যেকোনোটা কিনে আনত, হয়ত যেটার দাম কম। আমি আগফা, ফুজি ব্যবহার করে থিতু হয়েছিলাম কোডাক গোল্ড ২০০ তে। এর কারণ হল এটার দাম ছিল দশ টাকা বেশি, দাম যেহেতু বেশি মানও নিশ্চই ভাল হবে। একারণে আমার পরের দিকের ছবিগুলোতে লালচে-গোলাপি আভা আছে।
আমি যখন ফিল্ম সিমুলেশনের সাথে পরিচিত হলাম তখন কোডাক গোল্ড ২০০ নামে একটা রেসিপি দেখলাম। টার্ম দুটো অপরিচিত মনে হচ্ছে?
এক কথায় ফিল্ম সিমুলেশন হল ডিজিটাল ক্যামেরায় ফিল্মের মত কালার টোন আনা। ফুজিফিল্ম ক্যামেরার একটি বিশেষ ফিচার, যা ডিজিটাল ছবির ওপর নির্দিষ্ট কালার টোন, কনট্রাস্ট এবং ফিল্ম-স্টাইলের লুক যুক্ত করে, যেন ছবিগুলো ঐতিহ্যবাহী ফুজিফিল্ম এনালগ ফিল্মের মতো দেখায়।
সরাসরি ক্যামেরা থেকে সুন্দর ছবি পাওয়া যায়, এডিট করতে হয় কম বা করতেই হয় না। একই সাথে RAW ফাইলেও ফিল্ম সিমুলেশন সংরক্ষণ করা যায় ও পরে পরিবর্তন করা যায়, আবার সিমুলেশন ছাড়া মূল ছবিও পাওয়া যায়।
আর ফিল্ম রেসিপি হল ফিল্ম সিমুলেশনকে কাস্টমাইজ করে আরও ব্যতিক্রম কালার টোন আনা বা স্পেসিফিক কোনো সাব-ব্র্যান্ড ফিল্মের মত কালার আনা। যেমন রেসিপির তালিকায় কোডাক গোল্ড ২০০ নামটা দেখে ও সেই রেসিপিতে ছবি তুলে আমি বুঝতে পারলাম ফিল্ম যুগে এতো ভিন্ন ভিন্ন নামের ফিল্ম কেন ছিল। এগুলো আসলে এক রকম ছিল না, ভিন্ন ভিন্ন ফিল্ম ফটোগ্রাফারকে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ দিত।
কোডাক গোল্ড ২০০ রেসিপিতে ছবি তুলেছি, যদিও ছবি সেই ফিল্ম ছবির চেয়ে অনেক বেশি ভাইব্র্যান্ট, অনেক বেশি লালচে, উজ্জল।
Kodak Gold 200 ফিল্ম রেসিপিতে তোলা যা এই নামের ফিল্মের মত কালার দিচ্ছে – ছবি: পারভেজ রবিন
মজা পেয়ে গেলাম। মনে হল পুরোনো যুগে সব ফিল্ম আমার হাতে। রেসিপি পাল্টে যেকোনো ফিল্ম ফ্রিতে কিনে আনো। সেই সাথে কেমন কেমন কী কী নামের ফিল্ম ছিল সেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তখন একটা ফিল্মের দাম ছিল ১০০ টাকা থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে, এখন দেড় হাজার টাকার উপরে। ভাবা যায়! কিছু বড়লোক ফটোগ্রাফার এই যুগেও ফিল্মে ছবি তুলেন! কী এস্থেটিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে!
হারিয়ে যাওয়া দিনের প্রতি মানুষের এতো আগ্রহ। আর ফুজিও ডিজিটাল যুগে ঢুকেও তার ফিল্মের সোনালী দিনকে ভুলতে পারছে না। ডিজিটালে ঢুকিয়ে দিয়েছে ফিল্ম। আর নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত মানুষ এখন বেশি দাম দিয়ে হলেও ফুজিফিল্ম ক্যামেরা কিনছে। শুধু এই হাইপের কারণে তাদের একটা সিরিজ X100 এর লেটেস্ট মডেলের দাম বেড়ে দুই লাখ টাকা ছাড়িয়েছে!
ফিল্ম সিমুলেশন কিভাবে কাজ করে?
ফুজিফিল্ম বহু বছর ধরে তাদের এনালগ ফিল্ম তৈরি করত, যেমন Velvia, Provia, Acros, Astia ইত্যাদি। এসব ফিল্মের আলাদা আলাদা রঙ, টোন, এবং ডাইনামিক রেঞ্জ ছিল। ফুজিফিল্ম তাদের ডিজিটাল ক্যামেরায় এই ফিল্মের কালার প্রোফাইল ও চরিত্র অনুকরণ করে “ফিল্ম সিমুলেশন” হিসেবে যুক্ত করেছে।
ফুজিফিল্ম (Fuji Photo Film Co., Ltd.) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৪ সালে এবং দ্রুত ফটোগ্রাফিক ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করে।
১৯৫০-১৯৯০: আইকনিক ফুজি ফিল্মের জনপ্রিয়তা
ফুজি ফিল্মের Velvia (১৯৯১), Provia, Astia, Acros-এর মতো কালার ও ব্ল্যাক-অ্যান্ড-হোয়াইট ফিল্ম ফটোগ্রাফারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়।
২০০০-২০১০: ডিজিটাল যুগ ও ফিল্মের পতন
ডিজিটাল ক্যামেরার জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে এনালগ ফিল্মের বাজার কমতে থাকে। কিন্তু ফুজিফিল্ম তাদের ফিল্মের রঙ এবং টোন ডিজিটাল ফটোগ্রাফিতে আনার চেষ্টা করে।
২০০৩: প্রথম ফিল্ম সিমুলেশন ফিচার
ফুজিফিল্ম FinePix S3 Pro ক্যামেরায় প্রথমবারের মতো ফিল্ম সিমুলেশন প্রিসেট চালু করে। এতে মূলত Provia, Velvia, Astia ছিল।
২০১১: X-Series ক্যামেরায় উন্নত ফিল্ম সিমুলেশন
ফুজিফিল্ম X100 (২০১১) ক্যামেরা দিয়ে নতুন এক ডিজিটাল অভিজ্ঞতা তৈরি করে। এটিতে উন্নত ফিল্ম সিমুলেশন ছিল, যা সরাসরি JPEG-এ ফিল্ম-স্টাইলের ছবি দিত। এরপর X-Series ক্যামেরাগুলোতে নিয়মিত নতুন ফিল্ম সিমুলেশন যুক্ত হতে থাকে।
২০১৩: Classic Chrome – ম্যাগাজিন স্টাইল লুক
Classic Chrome ফিল্ম সিমুলেশন চালু করা হয়, যা ম্যাগাজিন ও ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফির জন্য দারুণ জনপ্রিয় হয়।
২০১৭-বর্তমান: সিনেমাটিক ও নস্টালজিক সিমুলেশন
Eterna (2017) – সিনেমাটিক লুক
Classic Negative (2019) – ১৯৯০-এর দশকের ফিল্ম ক্যামেরার মতো টোন
Nostalgic Neg (2022) – ১৯৭০-এর দশকের কালার ফটোগ্রাফির অনুপ্রেরণা
ভবিষ্যৎ: AI-ভিত্তিক ফিল্ম সিমুলেশন?
ফুজিফিল্ম ভবিষ্যতে AI-ভিত্তিক কাস্টমাইজেবল ফিল্ম সিমুলেশন তৈরি করতে পারে, যেখানে ইউজার তার নিজের পছন্দ অনুযায়ী ফিল্ম লুক ডিজাইন করতে পারবে।
সংক্ষেপে, ফুজিফিল্ম তাদের এনালগ ফিল্মের জনপ্রিয়তাকে ডিজিটাল ক্যামেরায় সংযুক্ত করার জন্য ফিল্ম সিমুলেশন তৈরি করে। এটি ফটোগ্রাফারদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা এনে দেয়, যেখানে তারা পোস্ট-প্রসেসিং ছাড়াই সরাসরি ক্যামেরায় ফিল্ম-স্টাইলের ছবি তুলতে পারে।
ফুজিফিল্ম ছাড়া অন্যান্য ক্যামেরায় ফিল্ম সিমুলেশন বা অনুরূপ ফিচার
Nikon (পিকচার কন্ট্রোলস – Picture Controls)
Nikon-এর “Picture Control” অপশন ফুজিফিল্মের ফিল্ম সিমুলেশনের মতো কাজ করে, যা JPEG ও ভিডিওতে নির্দিষ্ট রঙ ও কনট্রাস্ট দেয়।
Standard, Neutral, Vivid, Monochrome, Flat
Creative Picture Controls – Dream, Morning, Pop, Bleach, Melancholic ইত্যাদি নতুন স্টাইল
Canon (পিকচার স্টাইলস – Picture Styles)
Canon ক্যামেরায় “Picture Style” বলে একটি ফিচার আছে, যা নির্দিষ্ট কালার প্রোফাইল দেয়। Standard, Portrait, Landscape, Neutral, Faithful, Monochrome Custom Picture Styles ডাউনলোড ও ইমপোর্ট করা যায়। ইউজাররা “Kodak, Fuji, Agfa” লুকের জন্য কাস্টম স্টাইল বানাতে পারে।
Sony (ক্রিয়েটিভ লুক – Creative Look & পিকচার প্রোফাইল)
Sony-এর নতুন ক্যামেরাগুলোতে “Creative Look” ফিচার এসেছে, যা ফিল্ম-স্টাইলের রঙ ও কনট্রাস্ট তৈরি করে।
S-Log & HLG Profiles (সিনেমাটিক কালার গ্রেডিংয়ের জন্য) Custom LUTs যোগ করা যায় (A7S III, A7 IV, FX3 ইত্যাদিতে)
Panasonic (ফিল্ম লুকস ও V-Log)
Panasonic ক্যামেরাগুলোতে কিছু ফিল্ম লুক প্রিসেট ও V-Log অপশন থাকে, যা সিনেমাটিক ও ফিল্মিক লুক দিতে পারে। Cinelike-D, Cinelike-V, L.Monochrome, Vivid, Natural V-LogL – সিনেমাটিক কালার গ্রেডিংয়ের জন্য ফ্ল্যাট প্রোফাইল
Olympus/OM System (কালার প্রোফাইল ও Art Filters)
Olympus (OM System) ক্যামেরাগুলোতে কিছু ক্রিয়েটিভ কালার প্রোফাইল এবং “Art Filters” দেওয়া থাকে।
Vivid, Natural, Muted, Portrait, Monochrome
Art Filters – Vintage, Grainy Film, Bleach Bypass ইত্যাদি
Leica (Film Modes & Monochrome Profiles)
Leica ক্যামেরাগুলোতে কিছু নির্দিষ্ট ফিল্ম-স্টাইলের কালার প্রোফাইল থাকে। Standard, Vivid, Natural, Monochrome Leica M10 Monochrom – খাঁটি ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ফটোগ্রাফির জন্য
Ricoh GR ক্যামেরার ফিল্ম লুক বা Image Control
Ricoh GR III ও GR IIIx ক্যামেরাগুলোতে বিল্ট-ইন কিছু Film-Like Image Control Modes রয়েছে, যা JPEG ছবির জন্য নির্দিষ্ট কালার টোন, কনট্রাস্ট ও টেক্সচার অ্যাডজাস্ট করতে দেয়।
Ricoh GR সিরিজে ফিল্ম-স্টাইলের কালার প্রোফাইল থাকলেও, ফুজিফিল্মের মতো Grain Effect বা Color Chrome-এর মতো গভীর টিউনিং অপশন নেই। ব্যবহারকারীরা Custom Image Control সেটিংস টুইক করতে পারে, তবে আলাদা আলাদা “Film Simulation” নেই।
বাংলাদেশে এখনও কাওকে রিকো ইউজ করতে দেখি নি অবশ্য। কিন্তু এর ছবি আমাকে খুব টানে।
কোন ব্র্যান্ড ফুজিফিল্মের সবচেয়ে কাছাকাছি?
ফুজিফিল্মের মতো পুরোপুরি ফিল্ম-স্টাইলের সিমুলেশন অন্য ক্যামেরায় পাওয়া যায় না, তবে Nikon, Canon, এবং Sony-তে কিছু কাস্টমাইজড প্রোফাইল ব্যবহার করে কাছাকাছি ফলাফল পাওয়া যায়। Leica ও Olympus কিছু ক্ষেত্রে ফুজিফিল্মের মতো ফিল্মি লুক দিতে পারে, বিশেষ করে কালার টোন ও Monochrome ফটোগ্রাফিতে।
আর সব কিছুর পরে আপনার নিজের বানানো একটা ফিল্ম থাকে, তবে সেটাকে বলে ফিল্ম রেসিপি! সেটা পরের আর্টিকেলে।