দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে মন্দির থেকে চুরি হওয়া ৩ বিগ্রহ  উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

ডেস্ক নিউজঃ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের নতুন শুভাঢ্যা আগানগরে শ্রী শ্রী রাধেশ্যাম পঞ্চায়েত মন্দির থেকে চুরি হওয়া রাধা, কৃষ্ণ ও নৃসিংহদেবের ৩টি বিগ্রহ চুরির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তারা মিয়া (৫০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সুপার জানান, গত ৫ মার্চ সকালে মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে দ্বীপন কুমার বর্মন নামে একজন ভক্ত দেখতে পান বিগ্রহগুলো মন্দিরে নেই। তিনি বিষয়টি মন্দিরের সভাপতি সুজিত বর্মনকে জানান। পরবর্তীতে থানায় খবর দিলে এসআই সুরুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অন্তর্গত আগানগর ঝাড়ু পট্টি এলাকার তারা মিয়ার ভাঙারি দোকানে অভিযান চালিয়ে বিগ্রহগুলো উদ্ধার করে। একই সঙ্গে দোকানদার তারা মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, তারা মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চুরির ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।

তিন কোটির বেশি পাঠ্যবই এখনও অনুপস্থিত, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক রিপোর্ট: বছরের দুই মাস পার হলেও দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য তিন কোটির মতো পাঠ্যবই এখনও ছাপানো শুরু হয়নি। এছাড়া ছয় কোটি বই ছাপানো শেষ হলেও তা এখনও শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি, যার ফলে পড়াশোনায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এক সপ্তাহের মধ্যে সব বই বিতরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও কাগজ সংকট এবং মুদ্রণ সমস্যার কারণে তা বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন সরকার আগের শিক্ষাক্রম বাতিল করে পরিমার্জনের সিদ্ধান্ত নেয়। ডিসেম্বর নাগাদ ৪০ কোটি বই ছাপানোর কাজ শুরু হলেও কাগজ সংকটে মুদ্রণ থমকে গেছে। চীন থেকে আট হাজার টন কাগজ আমদানি করা হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র দুই হাজার টন দেশে পৌঁছেছে। মুদ্রণ মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান জানিয়েছেন, কাগজ না থাকায় ছাপানোর কাজ বন্ধ আছে।এদিকে, স্কুল বন্ধ থাকায় ছাপানো বই কীভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাবে তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ৪০ দিনের রোজা ও ঈদের ছুটিও বিতরণে বিলম্ব ঘটাতে পারে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, বই না পাওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিক শিক্ষার সেতুবন্ধন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেছেন, “শিক্ষকেরা অনলাইনে বই পেলেও শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে না, যা ডিজিটাল শিক্ষার পথে বড় বাধা।” শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগ কত দ্রুত কাটবে, তা নিয়ে নীতিনির্ধারকরা এখনো নিরুত্তর।

রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে কি রোজা নষ্ট হয়ে যাবে?

রোজা ভঙ্গের কারণ হচ্ছে স্বাভাবিক প্রবেশ পথ দিয়ে শরীরে কোনো কিছু প্রবেশ করা। শরীর থেকে কোন কিছু বের হলে রোজা ভঙ্গ হয় না। তাই রক্ত দিলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

কেননা, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা রেখে সিঙ্গা লাগিয়েছেন। তা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

সিঙ্গার মাধ্যমে শরীরের বিষাক্ত রক্ত বের করা হয়। তাই রোজা রেখে নিজের টেস্ট/পরীক্ষার জন্য কিংবা কোনো রোগীকে দেওয়ার জন্য রক্ত দিলে, রোজার কোন ক্ষতি হবে না। তবে রক্ত দিতে গিয়ে দুর্বল হয়ে রোজা ভেঙ্গে ফেলার আশঙ্কা থাকলে, সে অবস্থায় রক্ত দেওয়া মাকরুহ হবে।

সাবিত আল-বুনানি (রহ.) বলেন- আনাস ইবনে মালিক (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে যে, রোজাদারের জন্য শরীর থেকে শিঙ্গা লাগিয়ে রক্ত বের করাকে কি আপনি অপছন্দ করেন? জবাবে তিনি বলেন- না, আমি অপছন্দ করি না। তবে দুর্বল হয়ে পড়ার ভয় থাকলে ভিন্ন কথা। (বুখারি, হাদিস : ০১/২৬০)

তাই দুর্বল লোকদের জন্য রোজা অবস্থায় অন্য রোগীকে রক্ত দেওয়া ঠিক নয়। আর এমন সবল ব্যক্তি যে রোজা অবস্থায় অন্যকে রক্ত দিলে রোজা রাখা তার জন্য কষ্টকর হবে না সে রক্ত দিতে পারবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই।

তথ্যসূত্র: বোখারী শরিফ, হাদিস নং-১৯৩৮, মুসলিম শরিফ, হাদিস নং-১১০৬,আবু দাউদ শরিফ, হাদিস নং-২৩৭২

বৈজ্ঞানিক দিক থেকে কোনও ব্যাখ্যা রয়েছে কিরক্তদান একটি নিরাপদ ও মানবিক কাজ, তবে এটি করার জন্য শরীরকে প্রস্তুত রাখা জরুরি। রমজানে রক্তদানের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা উচিত: ১. রক্তদানের সময়: সেহরির পর বা ইফতারের ২-৩ ঘণ্টা পর রক্তদান করা উত্তম। কারণ, ইফতারের পর শরীরে পানিশূন্যতা কমে আসে এবং শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। ২. পর্যাপ্ত পানি পান: রক্তদানের আগে ও পরে শরীরে পানিশূন্যতা রোধের জন্য ইফতার ও সেহরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করা জরুরি। ৩. পুষ্টিকর খাবার: রক্তদানের পর শক্তি ফিরে পেতে প্রোটিন ও আয়রন সমৃদ্ধ খাবার যেমন খেজুর, দুধ, ডিম, মাছ ও শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন। ৪. শরীরের অবস্থান: রক্তদানের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া উচিত যাতে মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা অনুভব না হয়।

রক্তদাতাদের বিষয়ে রোগীর স্বজনদের কি করনীয়রমজানে রক্তদাতার সংখ্যা কমে যায়, ফলে রোগীদের জন্য রক্ত সংগ্রহ করা কষ্টকর হয়ে ওঠে। তাই রোগীর স্বজনদের উচিত: • রক্তদাতাদের যথাযথ সম্মান জানানো এবং তাদের জন্য উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা। • ইফতারের পর বা রাতের সময়ে রক্তদানের জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের উৎসাহিত করা। • হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রক্ত সংগ্রহ করা।

মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পেলেন আবরার ফাহাদ

অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রতীক ও মুক্তচিন্তার প্রতিচ্ছবি হিসেবে আখ্যায়িত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রয়াত ছাত্র আবরার ফাহাদকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক ২০২৫-এ ভূষিত করা হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মান হিসেবে এই পদক তার আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সোমবার ভোর চারটা ৪৫ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) আবরার ফাহাদের পদকপ্রাপ্তি এবং তার আত্মত্যাগকে স্মরণ করে একটি পোস্ট দেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

আসিফ মাহমুদ তার পোস্টে লেখেন, ‌”অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসিকতার প্রতীক, মুক্ত চিন্তার এক প্রতিচ্ছবি- আবরার ফাহাদ। মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক ২০২৫-এর ভূষিত হওয়া তার আত্মত্যাগের স্বীকৃতি। তার আদর্শ আমাদের আলোকিত করে, ন্যায়বিচারের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেয়। জাতি তোমাকে ভুলবে না, আবরার!”

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আবরারের নির্মম মৃত্যু দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রতীক হিসেবে তাকে স্মরণ করা হয়। তার আত্মত্যাগ ও সত্যের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হলো।

সৌদি আরবে এক সপ্তাহে গ্রেফতার ১৭ হাজারের বেশি প্রবাসী

সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে এক সপ্তাহে ১৭ হাজার ৩৮৯ জন প্রবাসীকে গ্রেফতার করেছে। আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ২০ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়।

সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১০ হাজার ৩৯৭ জন আবাসন আইন, ৪ হাজার ১২৮ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ২ হাজার ৮৬৪ জন শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছেন। এছাড়া, ১ হাজার ৪৮৩ জনকে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশের সময় আটক করা হয়, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ইয়েমেনি ও ইথিওপিয়ান নাগরিক।

দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি সংস্থাগুলোর যৌথভাবে পরিচালিত এই অভিযানের মাধ্যমে সৌদি আরবে বসবাসকারী অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে। বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ হলেও, লাখ লাখ অভিবাসী শ্রমিক দেশটিতে কর্মরত রয়েছে। নিয়মিত আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে এমন ধরপাকড় চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৩৭ লাখের বেশি: ইসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ

ডেস্ক রিপোর্টঃ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২০২৪ সালে তালিকায় যুক্ত হওয়া নতুন ভোটারসহ দেশের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ১০৩ জন, নারী ৬ কোটি ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪১৫ জন এবং হিজড়া ভোটার ৯৯৪ জন।

রোববার (২ মার্চ) আগারগাঁওয়ে জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল, “তোমার আমার বাংলাদেশে, ভোট দিব মিলেমিশে”।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, জুনের মধ্যে হালনাগাদ ভোটার তালিকার কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ডিসেম্বর ২০২৫-এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

রমজানে আল-আকসায় ইবাদত ও প্রতিরোধের ডাক হামাসের

ডেস্ক রিপোর্টঃ পবিত্র রমজান মাসে দখলকৃত জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে গিয়ে ইবাদত, দৃঢ় অবস্থান ও ইতেকাফে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস। সংগঠনটি বলছে, এটি শুধু ধর্মীয় আনুগত্যের প্রতীক নয়, বরং দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধেরও অংশ। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

হামাস এক বিবৃতিতে পশ্চিম তীর, জেরুজালেম এবং ইসরাইলে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “এই মাসে আল-আকসা মসজিদে গিয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালান, সেখানে দৃঢ় থাকুন এবং ইতেকাফ করুন।” সংগঠনটি আরও বলেছে, “রমজানের বরকতময় দিন ও রাতগুলো ইবাদত, দৃঢ় অবস্থান এবং শত্রু ও বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে উৎসর্গ করুন, পাশাপাশি জেরুজালেম ও আল-আকসার প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করুন যতক্ষণ না তা দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত হয়।”

এদিকে, আল-আকসা মসজিদের খতিব শেখ ইকরিমা সাবরি অভিযোগ করেছেন, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার অজুহাতে জেরুজালেমে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার প্রকৃত উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনিদের আল-আকসায় প্রবেশ সীমিত করা। প্রতি বছর রমজান মাসে ইসরাইল এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা ফিলিস্তিনিদের জন্য বাধা সৃষ্টি করে।

ফিলিস্তিনিরা মনে করেন, এই বিধিনিষেধ পূর্ব জেরুজালেমসহ আল-আকসা মসজিদকে ইহুদিকরণ এবং এর আরব ও ইসলামি পরিচয় মুছে ফেলার বৃহত্তর ইসরাইলি নীতির অংশ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও পূর্ব জেরুজালেমের দখলদারিত্বকে স্বীকৃতি দেয়নি। গত বছরের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং সব বসতি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

বিশ্বব্যাপী ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশে কর্মসূচি ও উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হামাস, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দোহারে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

ঢাকার দোহারে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার আন্তা গ্রামে এ ইফতার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুজন মিয়ার সার্বিক অর্থায়নে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়।

ইফতার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আব্দুল ওহাব মাস্টার, এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাসির উদ্দীন মিলিটারি। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আবুল হাসেম বেপারী, ঢাকা জেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আতিকুর রহমান সোহানসহ আরও অনেকে।

এ আয়োজনের মাধ্যমে এলাকার দুস্থ ও অসহায় মানুষদের মাঝে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সহমর্মিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।

এশিয়ার সেরা বিজ্ঞানী বাংলাদেশি অধ্যাপক সাইদুর রহমান, বিশ্বে সপ্তম স্থান অর্জন

বাংলাদেশের কৃতী সন্তান অধ্যাপক সাইদুর রহমান আবারও এশিয়ার মধ্যে সেরা বিজ্ঞানীর স্বীকৃতি পেলেন। এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্সের ২০২৫ সালের র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, তিনি এশিয়ার মধ্যে প্রথম এবং বিশ্বে সপ্তম সেরা বিজ্ঞানী হিসেবে স্থান পেয়েছেন। তার অসাধারণ গবেষণাকর্ম এবং বিশাল পরিমাণ উদ্ধৃতি তাকে এই সম্মানে ভূষিত করেছে।

অধ্যাপক সাইদুর রহমান বর্তমানে মালয়েশিয়ার সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে ডিসটিঙ্গুইশড রিসার্চ প্রফেসর হিসেবে কর্মরত আছেন। তার এইচ-ইনডেক্স ১৩৯ এবং তার গবেষণাপত্রগুলো ৭৬ হাজারেরও বেশি বার উদ্ধৃত হয়েছে। সাসটেইনেবল এনার্জি এবং ন্যানোফ্লুয়েড গবেষণায় তার অসামান্য দক্ষতার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত।

২০২৪ সালে স্কলারজিপিএস অনুসারে, সাসটেইনেবল এনার্জি বিষয়ক গবেষণায় তিনি বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি পান। একই বছরে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং এলসেভিয়ারের জরিপেও তিনি মালয়েশিয়ার বিজ্ঞানীদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ওয়েব অব সায়েন্সের মতে, ন্যানোফ্লুয়েড গবেষণায় তিনি বিশ্বের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছেন।

অধ্যাপক সাইদুর রহমান সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে একটি অত্যাধুনিক ল্যাব স্থাপন করেছেন, যা অ্যাডভান্সড ম্যাটারিয়াল ডেভেলপমেন্ট, এনার্জি ট্রান্সফার, সৌর এনার্জি, এবং ক্লিন ওয়াটার ডেভেলপমেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তার গবেষণার সাফল্যের জন্য সানওয়ে ইউনিভার্সিটি তাকে মর্যাদাপূর্ণ ডিসটিঙ্গুইশড রিসার্চ প্রফেসরের পদে নিয়োগ দিয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলার কৃতী সন্তান অধ্যাপক সাইদুর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ্বসেরা গবেষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ২০২২ সালে দেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে সিআইপি সম্মাননাও প্রদান করে।

তার এই সাফল্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার গবেষণা অঙ্গনে খুশির জোয়ার বইছে। অধ্যাপক সাইদুর রহমানের এই পথচলা ভবিষ্যতে আরও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নবাবগঞ্জে ডাকাতি প্রস্তুতিকালে ৩ ডাকাত গ্রেফতার

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার টিকরপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে তিন ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে আগলা ইউনিয়নের টিকরপুর ফিডার রোডে অভিযান চালিয়ে সেন্টু বিশ্বাস (৩১), মো. ওমর ফারুক (২৫) ও মো. রনি (৩২) নামে তিনজনকে আটক করা হয়। তবে তাদের সাথে থাকা আরও ৮-৯ জন পালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থল থেকে একটি মিনি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো. ন-২০-৯৫২৬) জব্দ করা হয়, যেখানে লোহা কাটার যন্ত্র, হ্যাক্স ব্লেড, চাকু ও অন্যান্য ডাকাতির সরঞ্জাম পাওয়া যায়।

নবাবগঞ্জ থানায় পেনাল কোড ৩৯৯/৪০২ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে ঢাকার আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান দোহার সার্কেলের এএসপি মো. আশরাফুল আলম।