ডেস্ক রিপোর্টঃ পবিত্র রমজান মাসে দখলকৃত জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে গিয়ে ইবাদত, দৃঢ় অবস্থান ও ইতেকাফে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস। সংগঠনটি বলছে, এটি শুধু ধর্মীয় আনুগত্যের প্রতীক নয়, বরং দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধেরও অংশ। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
হামাস এক বিবৃতিতে পশ্চিম তীর, জেরুজালেম এবং ইসরাইলে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “এই মাসে আল-আকসা মসজিদে গিয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালান, সেখানে দৃঢ় থাকুন এবং ইতেকাফ করুন।” সংগঠনটি আরও বলেছে, “রমজানের বরকতময় দিন ও রাতগুলো ইবাদত, দৃঢ় অবস্থান এবং শত্রু ও বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে উৎসর্গ করুন, পাশাপাশি জেরুজালেম ও আল-আকসার প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করুন যতক্ষণ না তা দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত হয়।”
এদিকে, আল-আকসা মসজিদের খতিব শেখ ইকরিমা সাবরি অভিযোগ করেছেন, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার অজুহাতে জেরুজালেমে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার প্রকৃত উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনিদের আল-আকসায় প্রবেশ সীমিত করা। প্রতি বছর রমজান মাসে ইসরাইল এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা ফিলিস্তিনিদের জন্য বাধা সৃষ্টি করে।
ফিলিস্তিনিরা মনে করেন, এই বিধিনিষেধ পূর্ব জেরুজালেমসহ আল-আকসা মসজিদকে ইহুদিকরণ এবং এর আরব ও ইসলামি পরিচয় মুছে ফেলার বৃহত্তর ইসরাইলি নীতির অংশ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও পূর্ব জেরুজালেমের দখলদারিত্বকে স্বীকৃতি দেয়নি। গত বছরের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং সব বসতি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
বিশ্বব্যাপী ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশে কর্মসূচি ও উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হামাস, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
