বাংলাদেশের কৃতী সন্তান অধ্যাপক সাইদুর রহমান আবারও এশিয়ার মধ্যে সেরা বিজ্ঞানীর স্বীকৃতি পেলেন। এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্সের ২০২৫ সালের র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, তিনি এশিয়ার মধ্যে প্রথম এবং বিশ্বে সপ্তম সেরা বিজ্ঞানী হিসেবে স্থান পেয়েছেন। তার অসাধারণ গবেষণাকর্ম এবং বিশাল পরিমাণ উদ্ধৃতি তাকে এই সম্মানে ভূষিত করেছে।
অধ্যাপক সাইদুর রহমান বর্তমানে মালয়েশিয়ার সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে ডিসটিঙ্গুইশড রিসার্চ প্রফেসর হিসেবে কর্মরত আছেন। তার এইচ-ইনডেক্স ১৩৯ এবং তার গবেষণাপত্রগুলো ৭৬ হাজারেরও বেশি বার উদ্ধৃত হয়েছে। সাসটেইনেবল এনার্জি এবং ন্যানোফ্লুয়েড গবেষণায় তার অসামান্য দক্ষতার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত।
২০২৪ সালে স্কলারজিপিএস অনুসারে, সাসটেইনেবল এনার্জি বিষয়ক গবেষণায় তিনি বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি পান। একই বছরে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং এলসেভিয়ারের জরিপেও তিনি মালয়েশিয়ার বিজ্ঞানীদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ওয়েব অব সায়েন্সের মতে, ন্যানোফ্লুয়েড গবেষণায় তিনি বিশ্বের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছেন।
অধ্যাপক সাইদুর রহমান সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে একটি অত্যাধুনিক ল্যাব স্থাপন করেছেন, যা অ্যাডভান্সড ম্যাটারিয়াল ডেভেলপমেন্ট, এনার্জি ট্রান্সফার, সৌর এনার্জি, এবং ক্লিন ওয়াটার ডেভেলপমেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তার গবেষণার সাফল্যের জন্য সানওয়ে ইউনিভার্সিটি তাকে মর্যাদাপূর্ণ ডিসটিঙ্গুইশড রিসার্চ প্রফেসরের পদে নিয়োগ দিয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলার কৃতী সন্তান অধ্যাপক সাইদুর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ্বসেরা গবেষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ২০২২ সালে দেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে সিআইপি সম্মাননাও প্রদান করে।
তার এই সাফল্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার গবেষণা অঙ্গনে খুশির জোয়ার বইছে। অধ্যাপক সাইদুর রহমানের এই পথচলা ভবিষ্যতে আরও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
