দোহারে বাড়ছে শীতের প্রকোপ

দোহারে বাড়ছে শীতের প্রকোপ। ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডাএবং হিমালয় থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। প্রচন্ড ঠান্ডায় কাজে যেতে পারছেনা কৃষক ও দিনমজুররা।

ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌছেছে। শীত বস্ত্রের অভাবে চরম কষ্টে দিন যাপন করছে তারা। দিনে যেমন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারপাশ তেমনি রাতে বাড়ছে ঠাণ্ডা। মৃদুশৈত্য প্রবাহের কারনে কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল কমে গেছে। সারাদিন ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারপাশ। সেইসাথে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

এদিকে বেচাবিক্রি বেড়েছে জয়পাড়ার শীত বস্ত্রের দোকান গুলোতে। বিক্রেতারা বলছেন শীতের শুরুতেই অনেক ক্রেতার সমাগম হচ্ছে তাদের বিপনী বিতানগুলোতে। শীতবস্ত্রের বিক্রিও হচ্ছে খুব ভাল। তবে ক্রেতারা বরাবরের মতো অভিযোগ করছেন দাম নিয়ে। ক্রেতারা অভিযোগ করছেন দাম একটু বেশী।

আজকে দোহারের সবোর্চ তাপমাত্রা ছিল ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।আবওহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে সারাদেশে মৃদুশৈত্য প্রবাহের কারনে দোহারেও শীতের প্রকোপটা একটু বেশী। এ শৈত্য প্রবাহ আরও কয়েকদিন থাকবে বলে জানা গেছে।

ঈদে মিলাদুন্নবি পালন করা হারাম: সৌদি প্রধান মুফতি

0

মহানবী (স.)-এর জন্মদিন বা ঈদে মিলাদুন্নবি পালন করা পুরোপুরি হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছেন সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতি শেখ আব্দুল আজিজ আল আশ-শেখ। তিনি বলেন, এই ধরনের বাড়তি আরেকটা ঈদ পালনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

ঈদে মিলাদুন্নবি পালন করা পুরোপুরি হারাম ফতোয়া দিয়ে গ্রান্ড মুফতি বলেন, এটি একটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন অনুশীলন এবং ইসলাম ধর্মে অবৈধভাবে তা ঢুকে পড়েছে। সৌদির রিয়াদে তুর্কি বিন আব্দুল্লাহ মসজিদে শুক্রবারের জুম’আর খোতবায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নবীর শিক্ষা হচ্ছে, তাঁর সুন্নাহকে মেনে চলা এবং অনুশীলনের মাধ্যমে তা অনুসরণ করা। ইসলামের শুরুতে নবীর (সা.)-এর জন্মদিন উদযাপন ছিলো না। অন্তত তিন শতাব্দী পর এই রীতিটি ইসলাম ধর্মে ঢুকে পড়ে। সুতরাং বলা যায়, নবীর (সা.) জন্মদিন উদযাপন বিদআত। নিঃসন্দেহে এটি একটি পাপ অর্জনের আনুষ্ঠানিকতা।

মহানবী (স.)-কে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসতে হলে তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষাকে অনুসরণ করতে হবে জানিয়ে গ্রান্ড মুফতি বলেন, নবীজির সুন্নাহকে নিয়মিতভাবে পালন করার নামই প্রকৃত ভালবাসা।

তিনি কোরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিতে গিয়ে বলেন, আল্লাহ বলেন, ‘যদি তুমি আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর। আল্লাহ তোমাকে ভালবাসবেন এবং তোমার পাপ সমূহ ক্ষমা করে দেবেন।’

অন্য এক স্থানে আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই রাসুল (স.)-এর মধ্যেই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ রয়েছে।

দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা

৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে ৩০ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে। বাস্তবে ২০ শয্যার জনবলও নেই হাসপাতালটিতে। ১৮ জন চিকিত্সকের মধ্যে রয়েছে মাত্র ৫ জন। রোগীদের অভিযোগ: যে স্বল্পসংখ্যক চিকিত্সক আছেন তারাও বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকেন প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে চিকিত্সা দিতে।

চিকিত্সকরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মিতভাবে এলেও দ্রুত কর্মস্থল থেকে চলে যান। এ অবস্থায় রোগীরা হাসপাতালে এসেও চিকিত্সাসেবা পাচ্ছে না।

বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে চিকিত্সাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশুদ্ধ পানির অভাবে বাইরে থেকে মিনারেল ওয়াটার কিনে  খাবার পানির প্রয়োজন মেটাতে হয়। হাসপাতালের আলট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রে ও ইসিজি মেশিন থাকলেও তা বিকল হয়ে আছে। কোন রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষাই হয় না এই হাসপাতালে এমনটাই জানালেন এখানে চিকিত্সাসেবা নিতে আসা রোগীরা।

মো. সোহেল রানা নামে এক রোগী জানান, তার পেটে ব্যথা হলে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিতে আসেন। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে কিছু টেস্ট করার কথা বলে প্রাইভেট ক্লিনিকে রেফার্ড করে এবং সেখানে পরীক্ষা করে তিন হাজার টাকা বিল করে। এভাবেই গরীব ও দরিদ্র মানুষগুলো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে­ক্স থেকে চিকিত্সার নামে প্রতারিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. এমআই রুমেল বলেন, ছোট ছোট কাটাছেঁড়া, জ্বর-সর্দি, ঠাণ্ডা রোগের চিকিত্সা দেয়া হয়। সিজারিয়ান ও বড় ধরনের অপারেশনের ক্ষেত্রে অ্যানেসথেশিয়ার চিকিত্সা না থাকায় এই বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জসিমউদ্দিন বলেন, হাসপাতালে তীব্র ডাক্তার সংকট। তাই ভর্তি রোগীদের চিকিত্সা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অল্প কয়েকজন চিকিত্সকের পক্ষে এত রোগীর চিকিত্সা দেয়া সম্ভব নয়।

মুকসুদপুরে লাশ উদ্ধার

শুক্রবার দুপুরে দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের আন্দারবিল এলাকার একটি ডোবার পাশে আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়।

দোহার থানার শাইন পুকুর তদন্ত কেন্দ্রের এস আই মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। লাশটি একেবারে গলে গেছে, সনাক্ত করার উপায় নেই। লাশের পাশে একটি হলুদ রঙের শার্ট, একটি গামছা ও বড় পলেথিন পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

এসআই হাবিব বলেন, ১০/১৫ দিন আগে এই নির্জন জায়গায় তাকে হত্যা করে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি আমরা।

দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, লাশটি কোনো রিক্সা বা ভ্যান চালকের হতে পারে। তদন্ত করে আমরা তার পরিচয় জানার চেষ্টা করছি।

দোহারে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীর কারাদন্ড

ঢাকার দোহার উপজেলায় ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার অপরাধে আজাদ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে ১০দিনের কারাদ্ল ও ২০ হাজার টাকা অর্থদ্ল দিয়েছে ভ্রাম্যামাণ আলাদত। পরে আজাদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার শামীম আরা নিপা এ সাজা প্রদান করেন। দন্ড প্রাপ্ত আজাদ লটাখোলা গ্রামের মৃত আয়নাল খানের ছেলে।

পুলিশ জানান, গতকাল শনিবার সকালে দোহার উপজেলার লটাখোলা খাল থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আজাদ নামে এক ব্যাক্তিকে আটক করে থানা পুলিশ।

নবাবগঞ্জের ভাঙ্গাপাড়া ব্রিজের বেহালদশা

নবাবগঞ্জের ভাঙ্গাপাড়া গ্রামের ব্রিজটির বেহাল দশা প্রায় ৩ বছর । প্রতিদিন ব্রিজটি দিয়ে চার থেকে পাঁচ হাজার লোক ঝুঁকির মধ্য দিয়ে চলাচল করছে। এলাকাবাসী জানায়, ২০০২ সালে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের পাঁচ বছর পর ব্রিজের দুপাশের রেলিং ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে। এরপর আর ব্রিজটি সংস্কার করা হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া জানান, কিছুদিন আগে মারুফ নামে ৪ বছরের এক শিশু ব্রিজ থেকে পড়ে আহত হয়। বারুয়াখালী ইউনিয়নের কৃষক নেতা মো. আলি বলেন, ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য রিক্সা, ভ্যান, ইজিবাইক, বাইসাইকেল চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ার ফলে যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

গোপন তথ্য গোপন থাকছে না ফেসবুকে

0

‘অতীত স্মৃতিশক্তি অনুযায়ী আপনি কে ছিলেন?’, ‘আপনার সুপ্ত গুণ কী?’, ‘কোন রং আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে?’, ‘আপনার সবচেয়ে কাছের বন্ধু’—ফেসবুকের ওয়ালে এরকম আরও অনেক কুইজ দেখেই আপনি হয়তো ঝটপট ক্লিক করে বসেন। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে যে আপনার প্রোফাইলের গোপন সব তথ্য বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে তা হয়তো আপনারও অজানা।

কুইজের ফলাফল জানানোর আগে যারা এসব কুইজ বানিয়েছে তারা আপনার ব্যক্তিগত প্রোফাইলের নানা তথ্যে প্রবেশের অনুমতি চায়। কুইজ শেষ করতে চাইলে আপনিও তথ্য দিতে বাধ্য। এভাবে আপনাকে হালকা বিনোদন দেওয়ার ছলে গোপনে আপনার সব তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে সেই কুইজ বা অ্যাপের নির্মাতারা। এখানেই শেষ নয়। আপনার এসব তথ্য তারা বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রিও করে দিচ্ছে।

মিয়াও (Meaww) অ্যাপ এর কয়েকটি কুইজ, যেমন- ‘কে আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু’, ‘কোন বন্ধুটি আপনাকে উজ্জীবিত করে?’ খুব জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ফেসবুকে। তবে উত্তর জানানোর আগে আপনাকে ওই অ্যাপ কোম্পানির নানা ধরনের শর্ত ও নীতিমালা মেনে নিতে হবে। এসব শর্ত মেনে নেওয়ার মধ্য দিয়ে আপনাকে আপনার প্রোফাইল, বন্ধুদের তালিকা, ইমেইল অ্যাড্রেস, টাইমলাইন পোস্ট, ছবি ব্যবহারের অনুমতি দিতে হবে।

প্রযুক্তিবিদরা সাবধানবাণী দিচ্ছেন, এভাবে যেসব তথ্য এসব অ্যাপের হাতে আমরা তুলে দিচ্ছি এগুলো তারা চাইলেই পাবলিক প্রোফাইল হিসেবে শেয়ার করতে পারে। তাই কুইজে অংশ নেওয়ার আগে অন্তত তাদের শর্তগুলো একবার পড়ে দেখুন। কারা তথ্য শেয়ার করবে না বলে নিশ্চিত করছে তা দেখে নিন। যদিও মিয়াও বলছে, কোনও ফেসবুক ইউজার অনুমতি না দিলে তারা প্রাপ্ত তথ্য অন্য কোনও কোম্পানিকে দেয় না।

প্রযুক্তিবিদেরা আরও জানান, ফেসবুক ইউজাররা চাইলে প্রোফাইলের তথ্য ছাড়া বাকি তথ্যগুলো দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়েও যেতে পারেন। শর্তগুলো বিশদ পড়ে দেখার মধ্য দিয়ে একাজ করা যায়। তাছাড়া অ্যাপগুলোও আগেই জানিয়ে রাখে যে কোনও সময় তাদের নীতিমালার পরিবর্তন ঘটতে পারে। নতুন নীতি দেখে না নিলে অন্য কোনও কোম্পানির হাতে তথ্য তুলে দেওয়ার বিষয়টিও অগোচরেই থেকে যেতে পারে। তাই সাবধানতা হিসেবে প্রতিবার শর্তগুলো পড়ে নেওয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ।

শিক্ষানুরাগী আতা উদ্দিন খান নিভৃতচারী আলোকবর্তিকা

‘দোহার-নবাবগঞ্জের ঘরে ঘরে উচ্চ শিক্ষার আলো পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। গৌরবময় জীবনের অধিকারী আতা উদ্দিন খান শিক্ষানুরাগী হিসেবে প্রদীপ্ত হয়ে থাকবেন মানুষের অন্তরে। একটি জনপদে একজন মানুষের সামাজিক মূল্যবোধ থেকে জাগ্রত কর্মোদ্যমের মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি স্তরে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। ‘দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ’ প্রতিষ্ঠা আতা উদ্দিন খানের তেমনি এক মহৎ উদ্যোগ।

মহান শিক্ষানুরাগী আতা উদ্দিন খান গত ৩০ নভেম্বর ’১৫ বার্ধক্যজনিত রোগে পরলোকগমন করেন। এই মহান ব্যক্তির প্রয়াণে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের প্রয়াসে লিখতে গিয়ে কলেজের বর্তমান সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি উল্লিখিত এসব কথা বলেন, ‘একজন মানুষের জাগতিক মূল্যায়নের চেয়ে যথার্থ আর কি হতে পারে।’

১৯৬৫ সালের ১ জুলাই নবাবগঞ্জের সমসাবাদ গ্রামে আতা উদ্দিন খান নিজ উদ্যোগে দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। শুধু কলেজ প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত ছিলেন না তিনি। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সন্তানের চাইতেও অধিক বাৎসল্যে আগলে রেখেছেন কলেজকে। অসাধারণ বাগ্মী আতা উদ্দিন খান সংগ্রাম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে শিক্ষার্জন করে জ্ঞানের উচ্চ শিখরে আরোহণ করেছেন। অবহেলিত সমাজকে শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করে অর্জিত জ্ঞানের মাধুরী বিকাশে ব্রতী হন। দোহার-নবাবগঞ্জ ও রাজধানীতে প্রতিষ্ঠা করেন মসজিদ, মাদরাসা, হাসপাতাল, চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্সি ফার্ম, স্কুল, কলেজসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। তিনি শিল্পোদ্যোক্তাও ছিলেন, ইস্টার্ন স্টিল মিলস তাঁরই অবদান। জ্ঞানার্জন ও অর্জিত জ্ঞানের আলো সাধারণ্যে বিলিয়ে দিয়ে পক্ষান্তরে পার্থিব সুখ -শান্তির জন্য আবার উপার্জিত সম্পদ বিনিয়োগ করে সাধারণ্যের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। আক্ষরিক অর্থেই তাঁর জীবনদর্শন সাফল্যে উদ্ভাসিত।

রাজধানী ঢাকার অতি সন্নিকটে হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে দোহার-নবাবগঞ্জবাসী শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে বরাবরই পিছিয়ে ছিল। এর অন্যতম কারণ ১৯৬৫ সালের পূর্বে এতদাঞ্চলে কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। মুষ্টিমেয় বিত্তবানদের সন্তান-সন্ততিরাই কেবল ঢাকা বা কলকাতায় গিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন দেখার সাহস করত। আর নারীদের উচ্চশিক্ষা কল্পনাই করা যেত না সে সময়। এর বাইরে অল্পসংখ্যক মেধাবী ও উচ্চাকাক্সক্ষী যুবক নিজেদের চেষ্টায় উচ্চশিক্ষা লাভ করেছে। আতা উদ্দিন খান সেসব মেধাবী তরুণদের একজন যিনি দারিদ্র্যের কাছে হার মানেননি। তিনি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে লন্ডন থেকে ১৯৫৮ সালে এফসিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে চতুর্থতম ব্যক্তি হিসেবে তিনি এফসিএ ডিগ্রি অর্জনের গৌরব লাভ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে শুরু হয় তার কর্মজীবন। শুরু থেকেই বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী আতা উদ্দিন খানের জীবন। ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রভিন্সিয়াল অ্যাসেম্বলির সদস্য হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতির পাঠ নেন। একই বছর ১ জুলাই থেকে দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজের যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৯ সালে সাংসদ হয়ে তিনি প্রথমে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ প্রতিমন্ত্রী এবং পরে শ্রম ও জনশক্তিমন্ত্রী হিসেবে দেশ গঠনে অবদান রাখেন।

শ্রম ও জনশক্তিমন্ত্রী হিসেবে তিনিই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে সৌদী আরব, ইরাক, বাহরাইন, আরব আমিরাত প্রভৃতি দেশে চাকরির উদ্দেশ্যে জনশক্তি পাঠাতে সক্ষম হন। জনশক্তি রপ্তানির সূচনা হলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও জীবন মান উন্নততর হতে শুরু করে। শুধু অর্থ উপার্জন বা আর্থিক উন্নতিই একটি সদ্য স্বাধীন দেশের সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি নয়। জনসাধারণকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার মাধ্যমে তা খুব দ্রুততর করা সম্ভব। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি স্বাধীনতা-পূর্ব তার প্রতিষ্ঠিত দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজের প্রতি বিশেষ নজর দেন। পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে উদ্যোগী হন।

এর পর্যায়ক্রমে তিনি যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তার মধ্যে নবাবগঞ্জ এতিমখানা ও মাদরাসা, নবাবগঞ্জ কেন্দ ীয় জামে মসজিদ, খানহাটি জামে মসজিদ, ছাতিয়া বড়বাড়ি জামে মসজিদ, চরচরিয়া জামে মসজিদ, খানেপুর জামে মসজিদ, ইছামতি কলেজ, গালিমপুর সোনাভান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়, খানেপুর উচ্চ বিদ্যালয়, গোল্লা সেন্টথেকলাস উচ্চ বিদ্যালয়, হাসনাবাদ সেন্ট ইউফ্রেজিজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তুইতাল মিশনারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, জয়পাড়া বেগম আয়েশা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, ঢাকার মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি অ্যান্ড গার্লস হাই স্কুল উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া তার প্রতিষ্ঠিত ‘আতা খান অ্যান্ড কোম্পানি’ দেশের অন্যতম চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্সি ফার্ম। রাজধানী ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় আতা খান জেনারেল হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবায় অনন্য এক প্রতিষ্ঠান। সুখী, সমৃদ্ধ ও আলোকিত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে জীবনের প্রতিটি স্তরে আতা উদ্দিন খান নিরবে নিভৃতে বিচরণ করেছেন।

দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং আজীবন কলেজের সাথে সম্পৃক্ত থেকে উন্নয়নে অবদান রেখেছেন আতা উদ্দিন খান।

একটি নিবন্ধে কয়েক শব্দ লিখে প্রকাশ সম্ভব নয় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বিকাশের ইতিবৃত্ত। শত বাধাবিপত্তি সমালোচনা কোনো কিছুই দমাতে পারেনি তাঁকে। শিক্ষানুরাগী হিসেবে এলাকার প্রতিটি ঘরে শিক্ষার আলো জ্বালাতে তিনি ছিলেন দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। নিজ অর্থায়নে জমি কিনে ছোট্ট টিনের চালাঘরে যাত্রা শুরু হয় কলেজটির। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত কলেজের শিক্ষকদের বেতন-ভাতাসহ কলেজের সকল ব্যয় তিনি বহন করেছেন। মন্ত্রী হয়ে কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন শুরু করেন। গড়ে তোলেন তিনটি বহুতল একাডেমিক ভবন। তিনতলা প্রশাসনিক ভবন, কলেজ আঙিনার দ্বিতল মসজিদ ও দ্বিতল ছাত্র কমনরুম সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হয়। কলেজ আঙিনার দক্ষিণ দিকে একটি একাডেমিক ভবনের পাঁচতলা ভিত্তিসহ প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কাজ তার অর্থায়নে সম্পন্ন হয়েছে। কলেজের কলেবর বৃদ্ধির সাথে সাথে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বড়তে থাকে। এলাকার উদ্যমী যুবক ও সমাজ হিতৈষীদের সাথে নিয়ে কলাকোপা কলেজ ছাত্রাবাস ও কলেজের পূর্ব দিকে খেলার মাঠ সম্প্রসারণ করেন। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে নিজ অর্থায়নে কলেজ মাঠের উত্তরদিকে নির্মাণ করেছেন ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ছাত্রাবাস। দূরদর্শী শিক্ষানুরাগী আতা উদ্দিন খান প্রতি শিক্ষাবর্ষে কলেজের কয়েকজন মেধাবী ছাত্রছাত্রীর শিক্ষার সকল খরচ বহন করেন। উপমহাদেশের প্রখ্যাত অলি হযরত শাহ্ সুফি মো. ইসমাইল ক্বারী (র.) ও হযরত আফাজ উদ্দিন শাহ (র.)-এর স্মৃতিবিজড়িত পুণ্যভূমি নবাবগঞ্জ। বাংলা সাহিত্যের দিকপাল মহাকবি কায়কোবাদের অমর সাহিত্য গাথায় মিশে আছে জন্মভূমি নবাবগঞ্জের মাটি ও মানুষের মহিমা।

অবিভক্ত ভারতের যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াছেক মিয়া এই নবাবগঞ্জেরই সন্তান। সেইসব মনীষীদের অনন্য উচ্চতায় শিক্ষানুরাগী আতা উদ্দিন খান সমাসীন। বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গঠনে তাঁর অনন্য অবদান চিরস্মরণীয়।

চট্টগ্রামে ট্রাকচাপায় দোহারের ফায়ার সার্ভিস কর্মী নিহত

চট্টগ্রামের মিরসরাইতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত সিরাজুল ইসলাম (৪৪) ফায়ার সার্ভিসের মিরসরাই স্টেশনে ‘লিডার’ ছিলেন। তার বাড়ি ঢাকার দোহার উপজেলায়।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহকারী পরিচালক মো. ইয়াহিয়া জানান, শুক্রবার সকালে উপজেলার রাস্তার মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, মিরসরাই ফায়ার স্টেশনের মেসের জন্য বাজার করতে বেরিয়েছিলেন সিরাজুল ইসলাম।

সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় স্টেশনের অদূরে একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে স্টেশনের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে। গুরুতর আহত সিরাজুলকে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইয়াহিয়া বলেন, সেখানো পৌঁছানোর পর বেলা পৌনে একটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নবাবগঞ্জে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলার তিন আসামী গ্রেফতার

নবাবগঞ্জ উপজেলায় গৃহবধূ গণধর্ষণের মামলায় মো. লুতফর রহমান (৩৫), মনির (৩০) এবং সোহরাব (৪৫) নামে তিন আসামীকে গ্রেফতার করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। শুক্রবার রাতে উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কুঠুরী গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মো. লুতফর রহমান উপজেলার আসরপুর গ্রামের নজর আলী বেপারীর ছেলে, মনির পানিকাউর গ্রামের শেখ বাবর আলীর ছেলে এবং সোহরাব কঠুরী গ্রামের মোহাম্মদ বেপারীর ছেলে।

স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার তিতপালদিয়া গ্রামের হযরত আলীর বসত বাড়ীতে স্থানীয় বখাটে মো. লুতফর রহমান, মনির এবং সোহরাব ঘরের জানালা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে স্বামী-স্ত্রীকে হত্যার হুমকি দিয়ে তার স্ত্রীকে বাহিরে নিয়ে আসে। পরে বাড়ীর উঠানে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ বিষয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর ধর্ষীতা সুরিয়া বেগম বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় একটি নারী নির্যাতনের মামলা করেন। পরে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে আসামিদের নিজ নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) এ. কে. এম শামীম হাসান বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত আসামীদের শনিবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হবে’।