দোহার-নবাবগঞ্জে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

যতদূর চোখ যায় শুধুই হলুদ রংয়ের সমাহার। এ বছর সরিষার বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকরা রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আর এ কারনে দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার আড়িয়াল বিল, কোঠাবাড়ী বিল, চর অঞ্চল সহ বিভিন্ন এলাকা জুড়ে সরিষার ক্ষেত হলুদ ফুলে একাকার হয়ে গেছে। কৃষকেরা আশা করছেন এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে। আবহাওয়াও তাদের অনুকুলে আছে তাদের।

দুই উপজেলার চাষীরা এবার বিভিন্ন উন্নতমানের সরিষার বীজ ব্যবহার করেছেন। আর এ কারনে এই বছর এই দুটি উপজেলার প্রতিটি গ্রামাঞ্চলের মাঠে ইতিমধ্যে আগাম জাতের সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে।

বৃষ্টি না হবার কারনে এবার কীট-নাশকের খরচসহ বাড়তি কোন খরচ হয়নি। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর সরিষার আবাদে পোঁকার আক্রমনও খুব একটা লক্ষ করা যায়নি।

তাছাড়া সময় মত সার, কীটনাশকের ব্যবহারের কারনে সরিষার আবাদ করতে কৃষকের কোন বেগও পেতে হয়নি। সব মিলিয়ে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে এটাই কৃষকদের আশা।

দোহারের কোঠাবাড়ী চকের আব্দল খালেক মোল্লার নামের এক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি এবার ৫ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছেন, সব কিছু ঠিক থাকলে তিনি বিঘা প্রতি প্রায় চার থেকে পাঁচ মন সরিষা তুলতে পারবেন।

তাছাড়া এবার অনেক সুলভে সরিষা চাষ করতে পারছে কৃষকেরা। প্রতি বিঘা সরিষা চাষ করতে কৃষকদের খরচ হচ্ছে প্রায় ১০০০-১২০০ টাকা। তাই এবার সরিষা বিক্রি করে কৃষক লাভবান হবে এটাই সবার আশা।

আবারো প্রশ্নবিদ্ধ মান্নান খান

আবারো প্রশ্নবিদ্ধ আব্দুল মান্নান খান। আর এবার তার সাথ অভিযুক্ত ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু। আর অভিযোগ করেছে পরিবেশবাদী সংগঠনেরা। ঢাকার ফুসফুস হিসেবে খ্যাত প্রায় ২০০ বছরের পুরনো রমনা উদ্যানের জন্য বিষফোড়া হয়ে উঠেছে ইউরো আসিয়ানো নামের একটি রেস্তোরাঁ।

পরিবেশবিদদের আপত্তি সত্ত্বেও সামান্য কিছু অর্থের জন্য নগর গণপূর্ত বিভাগ রমনার বড় একটি অংশ লিজ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কাছে। কিন্তু অভিযোগ পাওয়া গেছে, দরপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে রেস্তোরাঁর মালিক কয়েক গুণ বেশি জায়গা দখল করেছেন। ফলে উদ্যানের উল্লেখযোগ্য একটি অংশের গাছপালা হুমকির মুখে পড়েছে। এমনকি পার্কের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নির্মিত ছাতাগুলোও রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ দখল করেছে। এ কারণে নগর গণপূর্ত বিভাগ চিঠি দিয়ে দখলে নেওয়া ওই বাড়তি জায়গা ছেড়ে দিতে বললেও দখলদাররা তা কানে তোলেনি।

জানা যায়, ২০১২ সালে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ তৎকালীন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খানের কল্যাণে রমনা রেস্তোরাঁ বাগিয়ে নেন। রেস্তোরাঁটি পেতে তখনকার যুবলীগসহ ক্ষমতাসীন দলের অনেক প্রভাবশালী টেন্ডারে অংশ নিলেও গণপূর্ত অধিদপ্তর মান্নান খানের নির্দেশের বাইরে যাওয়ার সাহস পায়নি। ফলে দুই কোটি ৮২ লাখ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে পাঁচ বছরের জন্য রেস্তোরাঁটি ঝিলুকে দেওয়া হয়। এর নতুন নামকরণ করা হয় ইউরো আসিয়ানো। রেস্তোরাঁটি উদ্বোধন করেন মান্নান খান নিজেই। উদ্বোধনী ফলকে তাঁর নাম রয়েছে। রেস্তোরাঁ উদ্বোধনের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর।

ইউরো আসিয়ানোয় কর্মরত একাধিক কর্মচারী জানান, আওয়ামী লীগ নেতা জিলুর আগে একটি গ্রুপ ১৭ বছর রেস্তোরাঁটি দখলে রেখেছিল। এর মধ্যে আছেন মনির, মন্টু, শাহাদাৎ, ওবায়েদ প্রমুখ। তাঁরা গণপূর্তকে কোনো ভাড়া দিতেন না। উপরন্তু রিট করে দীর্ঘ সময় রেস্তোরাঁ দখলে রেখে কোটি কোটি টাকা আয় করেন তাঁরা। ২০১০ সালের দিকে অনেক চেষ্টার পর দখলদারদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়। এরপর নগর গণপূর্ত বিভাগ পরিবেশের কথা চিন্তা করে আর কাউকে রেস্তোরাঁটি ভাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ উদ্যোগকে সবাই সাধুবাদ জানায়। এভাবে দুই বছর কাটার পর সেখানে নজর পড়ে মান্নান খানের। একটি সাজানো টেন্ডারে তাঁর এলাকার লোক এবং ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ জিলুকে রেস্তোরাঁটি লিজ দেওয়া হয়। তিনি ২০১২ সালের ১২ আগস্ট থেকে ২০১৭ সালের ১১ আগস্ট পর্যন্ত সেটি পরিচালনার ক্ষমতা পেয়েছেন। বর্তমানে প্রতিদিন সেখানে আট-দশটি পার্টি, রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। প্রতিদিন উদ্যানে ঢুকছে শত শত গাড়ি। ফলে সবুজ উদ্যানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু বলেন, ‘রেস্তোরাঁটি নিতে আমি কোনো তদবির করিনি। ৭৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে বেশি টাকার দর দিয়ে লিজ পেয়েছি। তবে ব্যবসায় নেমে দেখছি লোকসান হচ্ছে। এ বিষয়ে গণপূর্তকে একাধিক চিঠিও দিয়েছি।’

প্রখ্যাত নৈসর্গিক দ্বিজেন শর্মা বলেন, ‘দেশে আর দ্বিতীয় একটি রমনা উদ্যানের জন্ম হবে না। অথচ এর ভেতরেই রেস্তোরাঁ দিয়ে পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে। এটি বন্ধের জন্য আমরা অনেক সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ফলে যা হওয়ার হচ্ছে। প্রতিদিন রেস্তোরাঁয় শত শত গাড়ি, হাজার হাজার মানুষ আসছে। এতে উদ্যানের নীরবতা ভঙ্গ হচ্ছে। পাখির কলধ্বনি স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রেস্তোরাঁর সামনে পশ্চিম পাশে নগর গণপূর্তের রমনা শাখা-২-এর নির্মিত কয়েকটি স্থায়ী ছাতার নিচে চেয়ার-টেবিল বিছিয়ে খাদ্য পরিবেশন করা হচ্ছে। পাশে একটি বড় আমগাছের চারদিকে ছাউনি তুলে সেখানে বড় ধরনের একটি লাউঞ্জ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে মানুষজন এসে বসছে, খাবার খাচ্ছে। ফলে প্রাচীন আমগাছটির অবস্থা মরণাপন্ন।

রমনা গণপূর্ত শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী আলী আকবর সরকার বলেন, রেস্তোরাঁর ঠিকাদারকে ছয় হাজার ৯০০ বর্গফুট অংশ ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এর অতিরিক্ত এক ইঞ্চি জায়গাও ব্যবহারের এখতিয়ার তাদের নেই। অথচ তারা এর পাঁচ-ছয় গুণ বেশি জায়গা দখল করে নিয়েছে। শত শত গাড়ি উদ্যানের ভেতরে আসছে, যার প্রভাব পড়ছে গাছপালার ওপর। বাড়তি জায়গা ব্যবহার না করার জন্য চিঠি দেওয়া হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

পরিবেশবিদরা জানান, ঢাকার ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট চার্লস ডজ ১৮২২ সালে বন-জঙ্গল পরিষ্কার করে রমনা উদ্যান গড়ে তোলেন। তিনি ছিলেন আধুনিক ঢাকার স্থপতি। ১৮২৫ সালে রমনার একটি অংশে তিনি রেসকোর্স ময়দান প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে উদ্যানের সাড়ে ৬৮ একর জমির ওপর ৭১ প্রজাতির ফুল, ৩৬ প্রজাতির ফল, ৩৩ প্রজাতির ঔষধি, ৪১ প্রজাতির জলজ ও ১১ প্রজাতির অন্যান্য গাছ রয়েছে। এর বাইরেও রয়েছে অনেক দুষ্প্রাপ্য গাছ-গাছালি। এমন সব মহামূল্যবান গাছ এবং পরিবেশ রক্ষায় অচিরেই রেস্তোরাঁটি সেখান থেকে তুলে দেওয়া উচিত।

ইউরো আসিয়ানো রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন আহমেদ অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, ‘আমি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবেই রেস্তোরাঁটি পাঁচ বছরের জন্য ভাড়া নিয়েছি। এ জন্য আমি তৎকালীন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খানের কোনো সহযোগিতা পাইনি। বরং তখন তিনি আমার বিরোধিতা করেছিলেন। এমনকি তিনি আমার ফাইল দেড় বছর আটকিয়ে রেখেছিলেন। এরপর অনেক দেনদরবার করে তাঁকে দিয়েই রেস্তোরাঁটি উদ্বোধন করতে হয়েছে। গণপূর্তের কোনো শর্ত ভঙ্গ করিনি।’

পরিবেশ নষ্টের ব্যাপারে ঝিলু বলেন, ‘ব্যবসায়ী হিসেবে আমি রেস্তোরাঁটি ভাড়া নিয়েছি। এখানে না হলে আরেক জায়গায় ভাড়া নিতাম। এ ক্ষেত্রে নগর গণপূর্ত বিভাগই ভালো বলতে পারবে। যদি রেস্তোরাঁর কারণে পরিবেশ নষ্ট হয়, তাহলে এর দায় তো তাদেরই। এর পরও আমি চারজন কর্মচারী দিয়ে সব সময় রেস্তোরাঁর চারপাশ পরিষ্কার করছি।’

জানা গেছে, একাধিক পরিবেশবাদী সংগঠন রমনা থেকে রেস্তোরাঁ উঠিয়ে দিতে অচিরেই আন্দোলনে নামবে। রমনাকে বাঁচানো না গেলে ঢাকাকে বাঁচানো সম্ভব নয় বলে তাদের অভিমত।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি আবু নাসের খান বলেন, ‘রমনার মতো একটি ঐতিহাসিক সবুজ উদ্যানকে কোনোভাবেই হোটেল-রেস্তোরাঁর মাধ্যমে ধ্বংস করা ঠিক নয়। সরকার এ ব্যাপারে পদক্ষেপ না নিলে আমরা প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাব।’

নবাবগঞ্জের শোল্লায় যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা প্রদীপ কুমার মণ্ডলকে (৩০) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার দুপুরে উপজেলার মহেশদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রদীপ মহেশদিয়া গ্রামের প্রফুল্ল কুমার মণ্ডলের ছেলে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে প্রদীপ কুমার মণ্ডলকে কয়েকজন লোক ডেকে নিয়ে যায়। পরে বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন প্রদীপ মণ্ডলের লাশ মহেশদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা নবাবগঞ্জ থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে দুপুরে নবাবগঞ্জ থানার পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাশার জানান, প্রদীপ মণ্ডলের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দুর্বৃত্তরা মঙ্গলবার রাতে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করতে হবে: নবাবগঞ্জে সালমা ইসলাম

নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করতে হবে। তাহলেই একটি সুন্দর ও সুখী সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে উঠবে। বুধবার দুপুরে নবাবগঞ্জে মহান বিজয় দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নয় মাস যুদ্ধ করে বিজয় লাভ করেছিলাম। তাই আজ আমরা সারা বিশ্বে আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি। এ দেশটি আমাদের সবার তাই এটিকে রক্ষা করা আমাদের সবারই দায়িত্ব।

সালমা ইসলাম এমপি বলেন, ‘একটি সুন্দর দেশ গড়তে সব ভেদাভেদ ভুলে স্বাধীনতার চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে স্বাধীনতা ও দেশপ্রেমের চেতনা। আসুন দলমত নির্বিশেষে সবাই মিলে একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করি।’

মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এ বিজয়ের সুফল পেতে দোহার-নবাবগঞ্জের নারী-পুরুষসহ সব মা-বোনকে মতভেদ ভুলে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করে সামাজিক উন্নয়নে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সকালে তিনি নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ, শারীরিক কসরত, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার হারুন-অর-রশিদ, বোরহান উদ্দিন খান, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আবদুল বাতেন মিয়া, যুদ্ধকালীন কমান্ডার বদিউজ্জামান বদি, ভাইস চেয়ারম্যান মহসিন রহমান আকবর, মরিয়ম জালাল শিমু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবদুল কাদির মিয়া, নবাবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহ আবু বকর সিদ্দিক, নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সায়েদুর রহমান, নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. ইব্রাহীম খলিল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।

দোহারকে সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত করা হবে:  আই জি আর খান আব্দুল মান্নান

দোহার উপজেলা থেকে সন্ত্রাস ও মাদকের মুল উৎপাটন করা হবে এবং দোহারকে বাংলাদেশের মডেল উপজেলায় রুপান্তর করা হবে বলে ঘোষনা দিয়েছেন আই জি আর খান আব্দুল মান্নান। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দোহার উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত জয়পাড়া মডেল স্কুলের মাঠে বিজয় দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন।

দোহার উপজেলা পরিষদের নির্বাহী নুরুল করিম ভুঁইয়ার সভাপত্বিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আই জি আর খান আব্দুল মান্নান বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দোহারে সন্ত্রাস অনেকাংশে কমে গেছে। এখন দোহারের মানুষকে সন্ত্রাসের ভয়ে বাড়িতে মুখ গুজে পড়ে থাকতে হয় না। তবে দোহারে এখন যে পরিস্থিতি আছে তার থেকে আরও উন্নত করা হবে। মাদক এখন দোহারের বড় সমস্যা। এই সমস্যা থেকেও অতি দ্রুত দোহারকে বের করে নিয়ে আসা হবে। দোহার উপজেলা পুলিশ প্রশাসন এই কাজে আমাদের সবাইকে সহায়তা করবে। আমরাও আমাদের সাধ্যমত দোহার উপজেলা পুলিশ প্রশাসনকে সহায়তা করবো।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, সাধারন সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার, দোহার উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ভিপি আলমাস, সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান আকন্দসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

৭১ এর চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে: সালমা ইসলাম

৭১ এর চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন ঢাকা ১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সালমা ইসলাম। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দোহার উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত জয়পাড়া মডেল স্কুলের মাঠে বিজয় দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন।

দোহার উপজেলা পরিষদের নির্বাহী নুরুল করিম ভুঁইয়ার সভাপত্বিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমা ইসলাম বলেন, দেশ যখন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই একটা মহল দেশের উন্নয়নের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এদেরকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলিয়ান হয়ে মোকাবেলা করতে হবে মন্তব্য করেন সালমা ইসলাম। এসময় দোহারের বাহ্রা-অরঙ্গাবাদ বাঁধকে নিজের একক কৃতিত্বে সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন সালমা ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আই জি আর খান আব্দুল মান্নান, দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ, দোহার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রজ্জব মোল্লা।

দশ বছরে ঢাকায় বায়ু দূষণ বেড়েছে আশি ভাগ

0

বাতাসকে পরিশুদ্ধ করতে পশ্চিমা উন্নত দেশগুলোর একটি প্রচেষ্টা স্পষ্টতই সাফল্য পেয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। গত দশ বছর ধরে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা’র একটি স্যাটেলাইটের পর্যালোচনায় এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

অরা মিশন নামের এই স্যাটেলাইটটি ২০০৪ সালে উৎক্ষেপণ করা হয় বিশ্বজুড়ে নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইডের নিঃসরণ পর্যবেক্ষণ করতে। পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে এই দূষণের মাত্রা কমেছে।

কিন্তু একই সময়ে বাংলাদেশসহ এশিয়ার কিছু দেশে দূষণের হার বেড়েছে। বিশেষ করে দেশটির রাজধানী ঢাকায় এই দূষণের হার গত দশ বছরে বেড়েছে শতকরা আশি ভাগ পর্যন্ত। আর চীনে এই বৃদ্ধির হার শতকরা ২৫ ভাগ।

অপরপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে গত দশ বছরে নাইট্রোজেন দূষণের হার কমে গেছে শতকরা কুড়ি থেকে পঞ্চাশ ভাগ পর্যন্ত।

সার্বিক বিচারে গত দশ বছরে বিশ্বে গড়ে এই গ্যাসের দূষণ অবশ্য কমেছে শতকরা ১৪ ভাগ হারে।

নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড গ্যাস মূলত জীবাশ্ম জ্বালানী পোড়ানোর ফলে নিঃসরিত হয়। সংক্ষেপে এনওটু নামে পরিচিত এই গ্যাসটির মূল উৎস গাড়ির নির্গমন পাইপ ও কয়লা পোড়ানো হয় এমন শিল্প কারখানা। হলদে-বাদামী এই গ্যাস মানুষের শ্বাসযন্ত্রে মারাত্মক প্রদাহের কারণ।

এটি বায়ুম-লের নিম্নভাগে ওজোন গ্যাস বাড়াতেও ভূমিকা রাখে।

অরা মিশন থেকে প্রাপ্ত গত দশ বছরের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এর ফলাফল আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নের এক বৈঠকে উপস্থাপন করেন বিজ্ঞানীরা।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যা বললেন ইমরান খান

0

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়েছিলর ঘুমন্ত বাঙালির ওপর। নৃশংসতা আর আক্রোশ নিয়ে খুন করেছিল অসংখ্য বাঙালিকে। এই বর্বর আক্রমণের খানিক আগেও ঢাকায় ছিলেন পাকিস্তানি ক্রিকেটার ইমরান খান। মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে ইমরান পশ্চিম পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলতে এসেছিলেন ঢাকায়।

২০১১ সালে প্রকাশিত পাকিস্তানের সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার ও বর্তমানের শীর্ষ রাজনীতিকের প্রকাশিত রাজনৈতিক আত্মজীবনী পাকিস্তান: দ্য পার্সোনাল হিস্ট্রি-তে উঠে এসেছে তার সে সময়ের অভিজ্ঞতার কথা। ১৯ বছর বয়সী ইমরান সে সময় লক্ষ্য করেছিলেন, পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতি বাঙালিদের ক্ষোভ ও তীব্র ঘৃণার বিষয়টি।

ইমরান লিখেছেন, ‘আমরা পূর্ব পাকিস্তান দলের বিপক্ষে খেলছিলাম। সবকিছুই সেদিন আমাদের কাছে শত্রুভাবাপন্ন মনে হচ্ছিল। শত্রুভাবাপন্ন মনে হচ্ছিল ঢাকা স্টেডিয়ামের দর্শক, এমনকি প্রতিপক্ষ পূর্ব পাকিস্তান দলের খেলোয়াড়দেরও।’

আরও অনেক পাকিস্তানির মতো তিনিও প্রায় অন্ধকারে ছিলেন, তখনকার পূর্ব পাকিস্তান কী অন্যায় আর বৈষম্যের শিকার হচ্ছিল এ ব্যাপারে। জানতেন না সে সময় পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ কী ভাবছিল। কীভাবে, কোন পরিস্থিতিতে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তান সম্পর্কে জন্ম নিয়েছিল এত ক্ষোভ।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার ও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সফল ক্রিকেট-সংগঠক সৈয়দ আশরাফুল হক পূর্ব পাকিস্তানের সেই অনূর্ধ্ব ১৯ দলে খেলেছেন। ২৫ মার্চের কাল রাতের কয়েক দিন আগে আশরাফের কাছ থেকেই ইমরান প্রথম জানতে পেরেছিলেন এ ব্যাপারে। আশরাফ সে রাতে ইমরানকে দুই পাকিস্তান যে খুব সম্ভবত আর একসঙ্গে থাকছে না, এ ব্যাপারে ধারণা দেন। জানান, স্বাধীনতার আন্দোলন ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।

আশরাফুলের কথায় ইমরান একটা ধাক্কার মতো খেয়েছিলেন, ‘আমি চমকে উঠেছিলাম এটা শুনে। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ভাবনা সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এ জন্য দায়ী ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে গণমাধ্যমের ওপর সামরিক জান্তার পুরো নিয়ন্ত্রণ।’

পাকিস্তানের মানুষ এই কথাটা অনেক জায়গাতেই বলে থাকেন। গণমাধ্যমের ওপর আরোপিত সেন্সরশিপের কারণেই নাকি পূর্ব পাকিস্তানে কী ঘটছে, এ সম্পর্কে তারা কিছুই জানতেন না। পাকিস্তানের সামরিক জান্তা গণমাধ্যমে যা দেখাত, সেই সময় অন্ধের মতো পাকিস্তানিরা সেটাই বিশ্বাস করতেন। ইমরান তার বইয়েও সেটি স্বীকার করে নিয়েছেন। তার কথায় একটা বিষয় প্রমাণিত, একই রাষ্ট্রে বসবাসকারী হিসেবে পাকিস্তানের দুই অংশের মানুষের মধ্যে যে মানসিক নৈকট্য থাকার কথা ছিল, তার কিছুই ছিল না পাকিস্তান নামের সেই রাষ্ট্রে। দুই অংশের মানুষের মানসিকতার দূরত্ব ছিল আকাশ-পাতাল।

১৯৭১ সাল নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অন্য সব অভিজাত পাকিস্তানিদের মতো ইমরানও মনে করেন, পশ্চিম পাকিস্তানের রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা সেনাবাহিনী একের পর এক ভুল করেছে, আর সেই ভুলের পুরো ‘সুযোগ’ নিয়েছে ভারত। জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বের ওপর গড়ে ওঠা পাকিস্তান ভেঙে দুই টুকরো হওয়া নিয়েও ইমরানের লেখায় উঠে এসেছে হাহাকার। বাংলাদেশ যে এই যুদ্ধে অংশ নেওয়ার আগে নিজেকে আলাদা দেশ হিসেবে ঘোষণা করেই স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেটিও ইমরান এক রকম অস্বীকার করেছেন এই যুদ্ধকে ‘গৃহযুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন ‘ভারতের দখলদারি’র কথা। তার ভাষায় পশ্চিম পাকিস্তানের ভুলের কারণে ইন্দিরা গান্ধী পূর্ব পাকিস্তানে দখলদারি চালান। মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বাঙালি বিদ্রোহী’ হিসেবে অভিহিত করে ইমরান লিখেছেন, ‘নেহরু-কন্যা ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে থাকা ভারত পূর্ব পাকিস্তানে আক্রমণ চালায় বাঙালি বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করতে। ১৯৬৫ সালে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে যেটা হয়নি, এবার খুব দ্রুতই পরাজয় মেনে নিতে হয়। ঢাকায় আমাদের সেনাবাহিনী অপমানজনক আত্মসমর্পনে বাধ্য হয়। ভারত ৯০ হাজার যুদ্ধবন্দী নিয়ে যায়। আমাদের দেশ ভেঙে দুটো হয়ে যায়, পূর্ব পাকিস্তান হয়ে যায় নতুন দেশ—বাংলাদেশ। তার বাবা যা পারেননি, ইন্দিরা তার চেয়েও বেশি কিছু অর্জন করেন জিন্নাহর পাকিস্তানের ধারণাটিকে ধ্বংস করার মাধ্যমে।’

ইমরানের বইয়ের এই অংশে একটি পরস্পর-বিরোধী তথ্য আছে। ১৯৭১ সালের জুনে পাকিস্তানের হয়ে তার আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় ইংল্যান্ডে। সেই প্রথম তিনি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার চোখে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা সম্পর্কে প্রথম জানতে পারেন বলে লিখেছেন। আবার এও লিখেছেন, ১৯৭৪ সালে আরও একবার আশরাফুল হকের সঙ্গে তার দেখা হয়। আশরাফই তাকে জানান, গণহত্যার আসল চিত্রটি সম্পর্কে।

তবে বইয়ের এই অংশে ইমরান স্বীকার করে নিয়েছেন, সরকার নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের ওপর থেকে পুরো বিশ্বাস তার উঠে যায়। ইমরান লিখেছেন, ‘কতজন আসলে নিহত হয়েছে এ সম্পর্কে দুই পক্ষের দেওয়া সংখ্যাই সঠিক কি না তা প্রমাণ করা কঠিন। তবে সম্ভবত কয়েক মাস ধরে চলা গৃহযুদ্ধে কয়েক লাখ সাধারণ মানুষ মারা যান, আরও কয়েক লাখ নিরাপত্তার জন্য ভারতে আশ্রয় নেন। এর আগে আমি ইংলিশ ও ভারতীয়দের সঙ্গে এ নিয়ে তর্ক করতাম, এর সবই পাকিস্তান ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে চালানো অপপ্রচার। কিন্তু হকের কাছ থেকে শোনার পর ঠিক করি, আমাদের সরকার যে অপপ্রচার চালাবে, তা বিনাবাক্যে মেনে নেব না।’

তবে ইমরানের আত্মজীবনীতে অন্যান্য পাকিস্তানিদের তুলনায় ১৯৭১-এর আসল ইতিহাস মেনে নেওয়ার ব্যাপারে বেশ উদার দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে এই অংশে, ‘পাকিস্তানের বাকি সবার মতো আমিও আমাদের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের অপপ্রচার বিশ্বাস করতাম, যারা বাঙালি যোদ্ধাদের সন্ত্রাসী, জঙ্গি, বিদ্রোহী কিংবা ভারত-সমর্থিত যোদ্ধা হিসেবে আখ্যা দিত; এখন যেসব বিশেষণ ব্যবহার করা হয় পাকিস্তানের উপজাতি কিংবা বেলুচিস্তানে যারা লড়াই করছে, তাদের ব্যাপারে।’ জেনারেল নিয়াজি আর ইমরান একই বংশের। তাকেও ইমরান তার আত্মজীবনীতে আখ্যা দিয়েছেন ‘মিথ্যেবাদী’ হিসেবে।

ইমরানের আত্মজীবনীতে ১৯৭১ নিয়ে বেশ কিছু বিভ্রান্তি থাকলেও মোটের ওপর ১৯৭১ এ বাঙালিদের স্বাধিকার আন্দোলনের লড়াই, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর নৃশংস গণহত্যা তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন। আশ্চর্য হতে হয়, মাত্র ৪ বছর আগে প্রকাশিত সেই বইয়ের ইমরানের বক্তব্যের সঙ্গে এখনকার রাজনীতির প্রতিটা ছক কষে চলা ইমরানের বক্তব্যের পার্থক্য কী বিশাল! কদিন আগেও যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের ও আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসির আগমুহূর্তে দেওয়া তার বিবৃতিও বিস্ময় হয়ে এসেছে।

এক সময়ের ‘বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর’ এই ইমরান এখন ‘আসল সত্যি’ বলার চেয়ে পাকিস্তানের মানুষের সাধারণ আবেগকে পুঁজি করে রাজনৈতিক অবস্থান শক্তপোক্ত করতেই যেন বেশি আগ্রহী। দলের নাম যিনি দিয়েছেন ‘তেহরিক-ই-ইনসাফ’, ‘ন্যায় বিচারের জন্য আন্দোলন’; সেই তিনিও যেন ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ছেন কপট রাজনীতিবিদের খোলসে।

শিকারিপাড়া কলেজ বিজয় মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড়

ঢাকার নবাবগঞ্জের তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী কলেজের বিজয় মেলায় শিশু,বৃদ্ধ,নারী সহ নানা বয়সের মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। গত শনিবার এ বিজয় মেলার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী দিন থেকে সমাপনি দিন পর্যন্ত প্রতিদিনই ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজন।

৪দিন ব্যাপী এই বিজয় মেলায় শত শত মানুষ ভিড় করে বিকেল হলে। নবনির্মিত বিজয় স্তম্ভের চারপাশে আলোক সজ্জায় রঙিন করে তুলেছেন। সোমবার বিকেলে বিজয় মেলায় লালন গীতির আয়োজন করা হয়। কুষ্টিরার লালন একাডেমীর পক্ষে গান পরিবেশন করেন লালন কন্যা লতা বাউল।

বিজয়ের মাসে লালন সংগীতের আয়োজন করা হলেও মূলত বিজয়ের গান গেয়ে শ্রোতাদের প্রানবন্ত করে তুলে।এছাড়া বিজয় মেলায় ১০টি স্টল বসে। স্টেজের দুই পাশে নারী ও পুরুষ সহ নানান বয়সের মানুষকে লক্ষ্য করা যায়। দূর-দুরান্ত থেকে আসে বিজয় মেলা দেখার জন্য। শত শত মানুষের মনের সুপ্ত বাসনা আর একটু বিনোদন কোন কিছুরই কমতি ছিল না এ বিজয় মেলায়।

বৈকালিক আয়োজনে প্রিয়জনদের সাথে একটু সময় কাটাতে পেরে অনেকেই স্বাছন্দবোধ করেন। নগর সভ্যতায় হাঁপিয়ে উঠা লোকজন কয়েক ঘন্টার জন্য হলেও এ বিজয় মেলায় ভিড় করে। বিজয় দিবসের বাকি আর মাত্র একদিন।এরই মধ্য দিয়ে চলছে বাঙালির বিভিন্ন সাজ সজ্জা। বিকেল হলে চোখে পড়ে পতাকা আর মাথায় ব্যানার বিক্রির ধুম।বৃদ্ধ,নারী ও শিশু এসব পতাকা কেনায় ব্যস্ত থাকে। খন্ডকালীন পেশা হিসেবে বিজয়ের মাসে অনেকেই বেছে নিয়েছে পতাকা বিক্রি। নবাবগঞ্জ থেকে পতাকা বিক্রি করতে আসা আবুল কালাম জানান,”প্রতিবছর বিজয়ের মাসে পতাকা বিক্রি করি এটা আমার খন্ডকালীন ব্যবসা”।

১৮ ডিসেম্বর গ্যাডের নির্বাচন

গ্র্যাজুয়েট এ্যাসোসিয়েশন অব দোহার(গ্যাড) এর কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন আগামী ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে ঢাকার বিজয় নগরে আকরাম টাওয়ারে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই ভোট গ্রহন চলবে।

গ্র্যাজুয়েট অ্যাসোসিয়েশন অব দোহারের এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি নির্বাচিত করবেন গ্যাডের সদস্যরা। এই কার্যকরী পরিষদের কমিটি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচন কমিটির সভাপতি ড. মোঃ খায়েরুজ্জামান মজুমদার, নির্বাচন কমিটির সদস্য অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র মন্ডল ও নিজামুল হক তরুন।

বিজয়নগরে আকরাম টাওয়ারের ৬ তলায় বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের অফিসে সকাল ১০ থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন চলবে।  এবং দুপুর ১টায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনা করা হবে। নির্বাচনে সকল ভোটারের অংশ গ্রহন কামনা করেছে গ্র্যাজুয়েট এ্যাসোসিয়েশন অব দোহার(গ্যাড)।