প্রখ্যাত ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। প্রথম মেয়াদ সম্পন্ন হওয়ায় গত ১৪ই জুলাই অনুষ্ঠিত ৩৯তম বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি পুনরায় ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচিত হন। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি দেশে টেক্সটাইল, ট্রেডিং, মেরিন ফুড, আবাসন ও নির্মাণ, তথ্য প্রযুক্তি, মিডিয়া, সিরামিকস, ওষুধ, জ্বালানিসহ বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর সভাপতি ছিলেন। তিনি অনেক সামাজিক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আছেন।
ডা. রোকনের গ্রামবাসী বিস্মিত
শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রোকনউদ্দিন খন্দকার তার নিজ গ্রামে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন বেশ কয়েক বছর আগে। হাসপাতালের জায়গায় তিনি প্রাচীর নির্মাণ করেন। সেখানে হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন। এরপর দুই বছর তিনি আর গ্রামে যাননি।
গতকাল মঙ্গলবার ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রে তার পুরো পরিবারের উপর সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ঢাকার দোহার উপজেলার আউলিয়াবাদ গ্রামবাসী বিস্মিত হন। গ্রামবাসীদের অনেকেই বলেন, হাসপাতালটি আর হলো না। এলাকাবাসী ডা. রোকনউদ্দিনকে ভালো জানতেন। গ্রামে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হলে হাতের কাছে সুচিকিত্সা পেতেন গ্রামবাসী। ডা. রোকন প্রায়ই গ্রামবাসীকে বলতেন যে এই হাসপাতাল হলে আপনাদেরকে বিনামূল্যে চিকিত্সা দেয়া হবে। আউলিয়াবাদ গ্রামবাসী সেই আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু ডা. রোকন জঙ্গি কার্যক্রমে যোগ দিতেই সপরিবারে দেশ ছেড়েছেন—এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করে গতকাল গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে আউলিয়াবাদ গ্রামবাসীর চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। এই সংবাদের পর গ্রামবাসী বলাবলি করতে থাকেন যে আউলিয়াবাদের ডা. রোকন আর সেই রোকন নেই, তিনি এখন জঙ্গি। তার স্ত্রী-সন্তানরাও একই পথের পথিক হয়েছেন।
গ্রামবাসী তাদের এই পরিবর্তনকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। গতকাল ইত্তেফাকের দোহার উপজেলা সংবাদদাতা আউলিয়াবাদ গ্রামে গিয়ে বিভিন্ন পেশার লোকজনের সঙ্গে আলাপ করলে তারা এই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এই গ্রামের বাসিন্দা তোফাতুল ইসলামের পুত্র ডা. রোকনউদ্দিন খন্দকার। তিন পুত্র ও এক কন্যার মধ্যে ডা. রোকন সবার ছোট।
গোয়েন্দা সংস্থা নিখোঁজ তালিকার মধ্যে ডা. রোকনউদ্দিন এবং তার পরিবারের ৪ সদস্যসহ ৭ জনের বিষয়ে তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে তারা জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে গেছেন। তাদের মধ্যে ডা. রোকনউদ্দিন সপরিবারে তুরষ্কে রয়েছেন বলে গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত হয়েছে।
এদিকে নিখোঁজ নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র তাওসিফ হোসেন ও সেজাদ রউফ ওরফে অর্ক ওরফে মরক্কো বাংলাদেশেই রয়েছেন বলে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন। তাদের পাসপোর্টের সূত্র ধরে বিষয়টি জানা গেছে। গোয়েন্দা সূত্রের ভাষ্যমতে, এই দুজন জঙ্গি তত্পরতায় লিপ্ত বা কোন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে কোথাও অবস্থান করছে।
ডা. রোকনউদ্দিন শেরে বাংলানগর ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১৯৯০ সালে ৪ আগস্ট অনারারি মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৫ সালের ১ জুলাই তার চাকরি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত করে। পরবর্তী সময়ে তিনি পদোন্নতি পেয়ে রেজিস্ট্রার হন। গত বছর ৩০ এপ্রিল ওই হাসপাতাল থেকে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেন বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।
আমাদের দোহার সংবাদদাতা মো. কাজী সোহেল জানান, চার বছর আগে তার গ্রামের বাড়ী আউলিয়াবাদে তার বাবার সম্পত্তিতে বিনা মূল্যে চিকিত্সা প্রদান করার উদ্দেশ্যে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়ে সীমানা প্রাচীর দিয়ে ভিত্তি প্রস্তর করেন। তিনি গ্রামের প্রতিষ্ঠিত আউলিয়াবাদ জামে মসজিদের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। এর পর হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর করার পর দ’ুএকবার গ্রামে আসলেও পরে তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। জন্মগতভাবে কোন রাজনীতির সাথে জড়িত না থাকলেও বিএনপির সমর্থক ছিলো বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে আওলিয়াবাদ গ্রামের শেখ সোহেল রানা বলেন, ডা. খন্দকার রোকন উদ্দিনের সাথে চার বছর যাবত্ এলাকার কারো সাথে কোন যোগাযোগ নেই। তিনি গ্রামের সকল উন্নয়ন কাজের সাথে জড়িত তার দ্বারা কেউ ক্ষতি গ্রস্থ হয়নি।
আব্দুল জলিল নামে এক বৃদ্ধা বলেন, ডা. খন্দকার রোকন উদ্দিন ও তার পরিবারের দ্বারা কেউ কোন সময় কোন ক্ষতিসাধিত হয়নি।
আমাদের নিরাপত্তা নিজেদেরই তৈরি করতে হবে: সালমা ইসলাম
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে আমাদের নিরাপত্তা নিজেদেরই তৈরি করতে হবে। শুধু সরকারকে দোষারোপ করে লাভ নেই। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার নবাবগঞ্জের নয়নশ্রী ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর গ্রামে নয়নশ্রী খানেপুর তুইতাল রাস্তা নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি এ কথা বলেন। তিনি নয়নশ্রী এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ কিলোমিটার রাস্তার কার্পেটিং কাজের ভালোমন্দ যাচাই করার জন্য তদারকি করতে বলেন। এ সময় সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম নয়নশ্রীর যে কোনো উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
সালমা ইসলাম বলেন, দেশের ভেতর ও বাইরের একটি গোষ্ঠী জঙ্গিদের দিয়ে হামলা করে মানুষ হত্যা করছে। এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সজাগ এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এলাকায় কোনো নতুন মুখ দেখলে তার সম্পর্কে জানতে হবে। সন্দেহ হলে প্রশাসনকেও জানাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়নে আপনাদের পাশে আছি এবং থাকব। আপনাদের সহযোগিতা পেলে দোহার-নবাবগঞ্জবাসীর জন্য যে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারব, ইনশাআল্লাহ।
একই দিন তিনি নবাবগঞ্জের বারুয়াখালী কুমার বাড়িল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জয়কৃষ্ণপুর কুঠুরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন। এছাড়া কৈলাইলের মোল্লাকান্দা থেকে ভাঙ্গাভিটা পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার রাস্তা এইচবিবি দ্বারা উন্নয়ন ও চুড়াইনের ঋষিপাড়া থেকে আকারবাগ কামারখোলা সাড়ে ৪ কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন।
দোহারের চিকিৎসক পুরো পরিবার নিয়েই নিখোঁজ: পুলিশের ধারণা তারা সিরিয়া আছেন
গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলায় ঘরছাড়া তরুণদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশের পর নিখোঁজদের অনুসন্ধানে গিয়ে ঢাকার এক চিকিৎসকের পুরো পরিবার নিয়েই উধাও হওয়ার তথ্য মিলেছে। দোহারের কুসুমহাটি ইউনিয়নের আওলিয়াবাদ গ্রামের খন্দকার তোফাতুল ইসলামের ছেলে শিশু বিশেষঞ্জ ডা: খন্দকার রোকন উদ্দিন(৫৫) আজ দুই বছর ধরে নিখোজ আছেন। ধারনা করা হচ্ছে তিনি আইএস নিয়ন্ত্রীত সিরিয়ার রাক্কায় আইএসের অধীনে একটি হাসপাতালে কাজ করছেন।
শিশু চিকিৎসক খন্দকার রোকনুদ্দীন (৫০) তার স্ত্রী নাইমা আক্তার (৪৫), দুই মেয়ে রেজওয়ানা রোকন (২৩) ও রামিতা রোকন (১৫), জামাতা সাদ কায়েসকে (৩০) সাথে নিয়ে সিরিয়া হয়ে আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পাড়ি গেছেন বলে তার পরিবারের ধারনা।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক রোকনুদ্দীন খিলগাঁও চৌধুরী পাড়ায় থাকতেন। তার স্ত্রী নাইমা ঢাকার বাইরের একটি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।
রামপুরা থানার পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “গত বছরের ১০ই অক্টোবর তারা দেশ ছেড়ে চলে যায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আমরা ধারণা করছি, তারা সিরিয়া চলে গেছে।”
সিরিয়া ও ইরাকের একটি অংশজুড়ে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে কাজ করছে ইসলামিক স্টেট (আইএস), বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলায় যে সংগঠনটির নাম আসছে। সম্প্রতি গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলাকারী হিসেবে ঘরছাড়া অন্তত পাঁচ তরুণ-যুবকের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে নিখোঁজ আরও ১০ যুবকের তথ্য জানানো হয়। এরপর আরও নিখোঁজ আরও সাতজনের তথ্য আসে, যাদের পাঁচজনই ডা. রোকনুদ্দীনের পরিবারের সদস্য। অন্য দুজন হলেন তাওসীফ হোসেন এবং সেজাদ রউফ ওরফে অর্ক ওরফে মরক্কো।
ওই তথ্য পেয়ে চৌধুরীপাড়ায় গিয়ে জানা যায়, একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকতেন রোকনুদ্দীন। বাড়িটি তার শ্বশুর খ্যাতিমান হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক প্রয়াত আলী আহমেদের।
রোকনুদ্দীনের গাড়িচালক হিসেবে আট বছর কাজ করেছিলেন জানিয়ে হেলাল বলেন, “প্রায় এক বছর আগে থেকে তাদের (রোকনুদ্দীনের পরিবার) কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। প্রথমে তারা মালয়েশিয়া যাবে, এরপর অন্য কোনো মুসলিম দেশে যাওয়ার কথা বলেছিল। এরপর থেকে আর কিছু জানি না।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেওয়া তালিকায় সাদ কায়েসকে ডা. রোকনুদ্দীনের ছেলে দেখানো হলেও হেলাল জানান, সাদ রেজওয়ানার স্বামী।
পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাফিজ বলেন, “রোকনুদ্দীনের বড় মেয়ে রেজওয়ানা ও তার স্বামী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত, তবে শেষ করেনি। ছোট মেয়ে রামিতা পড়ত ভিকারুন নিসা নূন স্কুল ও কলেজে।”
সংবাদসূত্র:
দোহারে পদ্মায় ভাঙছে বসতি; বাস্তবায়িত হয়নি বেড়িবাঁধ
বর্ষা মৌসুম এলেই ঢাকার দোহারের পদ্মা পাড়ের মানুষের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক বেড়ে যায়। কেননা প্রতি বছরই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। গত ৫ বছরে ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে হাতনী, পানকুন্ড, ধোয়াইর, অরঙ্গাবাদ, বালেঙ্গাসহ অন্তত ১৫টি গ্রাম। সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে কয়েক হাজার পরিবার। অনেক অসহায় পরিবারের আশ্রয় হয়েছে রাস্তার ধারে। সব হারিয়ে তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। কারও আশ্রয় মিলেছে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে।
অন্যদিকে, গত বছর দোহারের ভাঙনকবলিত এলাকায় ৭৫ কিমি স্থায়ী বেরিবাঁধ নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের ২১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ একনেকে পাস হয়। কিন্তু গত শুষ্ক মৌসুমেও এর কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ভাঙন এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভের ঝড় বইছে।
জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে নারিশা ইউনিয়নের রানীপুর গ্রাম সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী নারিশা পশ্চিমচর গ্রামের ১৫টি পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। হুমকিতে রয়েছে মেঘুলা বাজারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। নারিশা ইউনিয়নের মেঘুলা ও মধুরচরে ২ শতাধিক পরিবার ভাঙনের কবলে পড়েছে। চর বিলাশপুর ও মুকসেদপুরের আরও ২০টির মতো ঘরবাড়ি পদ্মায় চলে গেছে বলে এলাকাবাসী জানায়। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করছে এলাকার অসহায় মানুষ। যেন তাদের দেখার কেউ নেই। দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অচিরে নদীতে বিলীন হয়ে যাবে আরও কয়েক হাজার পরিবার।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘুলা বাজার দক্ষিণে রানীপুর গ্রামের ব্রিজটির অধিকাংশই পানির নিচে ডুবে রয়েছে। বাকি অংশ ওপরের দিকে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়রা জানান, গত ২ বছরে প্রায় ২ হাজার পরিবারের বসতভিটে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অসহায় পরিবারগুলো সর্বস্ব হারিয়ে দুখে কষ্টে জীবন কাটছে।
রানীপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান বলেন, গত বছরের অক্টোবরে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা সালমান এফ রহমান, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেও কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে নদী পাড়ের মানুষের মধ্যে হতাশা ও আতঙ্ক কাজ করছে।
নারিশা পশ্চিম চর গ্রামের আতাউর রহমান জানান, গত বছর ভাঙনের পর তার বাড়ির কিছু অংশ ছিল এ বছর পুরো বাড়ি গিলে খেয়েছে পদ্মা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা তাদের প্রয়োজনে আসেন। সান্ত¡না দিয়ে যান। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। মাহ্মুদপুরের পুরুলিয়া থেকে নারিশা ইউনিয়নের পূর্বচর পর্যন্ত নদী পারের প্রায় ২টি গ্রাম পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়েছে। এলাকাবাসী সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছেন।
নারিশা ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন দরানী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন এলাকা পরিদর্শনও করেছে। জরুরি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
দোহার উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শামীম আরা নিপা বলেন, নদী ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জরুরি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ শুরু করার কথা। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মহোদয়কেও অবগত করা হয়েছে।
দোহারে স্বাস্থ্য সেবার নামে হারবাল প্রতারণা!
ঢাকার দোহার উপজেলার পূর্ব জয়পাড়া বাজার মেঘুলা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হারবাল প্রতিষ্ঠান। গ্রামের সহজ সরল মানুষদের স্বাস্থ্য সেবার নামে প্রতারক চক্র চিকিৎসার নামে লুটে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। আর এ কাজে প্রতারক চক্রকে সহায়তা করছেন প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তা ও এক শ্রেণীর বখাটে মাস্তানরা এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দোহারে বিভিন্ন হারবাল প্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পাওয়া যায় উপজেলার পূর্ব জয়পাড়া বাজারে মহাদেশ হারবাল, বাংলাদেশ হারবাল, ঢাকা হারবাল ও ইসলামী হারবাল নামক বিভিন্ন ভুয়া চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। যেখানে নেই কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী হাকীম নেই কোন উচ্চ শিক্ষিত মহিলা ও পুরুষ চিকিৎসক। ফলে রোগীদের সঠিক পদ্ধতিতে ঔষধ না দিতে পেরে তারা বিভিন্ন কায়দায় মহিলাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
সালেহা বেগম নামে এক রোগী মহাদেশ হারবাল থেকে ১৫ হাজার টাকার ঔষধ সেবন করেন দেহের বিশেষ একটি রোগের জন্য। কিন্তু ঔষধ কোন কাজে না আসায় টাকা ফেরত চাইলে তিন মাস ঘুরিয়ে টাকা না দিয়ে বখাটে মাস্তান দিয়ে উল্টো হুমকি দেয় পরে তিনি আর টাকা ফেরত পাননি।
জানতে পারে মহাদেশ হারবাল, বাংলাদেশ হারবাল, ঢাকা হারবালও ইসলামী হারবাল নামক বিভিন্ন ভুয়া চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এসব হারবাল প্রতিষ্ঠান কাছ থেকে অপুষ্ঠি, শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা, অতিরিক্ত জরায়ুর দুর্বলতার সঠিক চিকিৎসা দিবে ও রোগ নিরাময়ের কথা বলে দোহার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মহিলাদের কাছ থেকে প্রতিদিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিদেশ ফেরত ও প্রবাসী চাকরিজীবিরা এদের প্রধান টার্গেট। এরা তাদের কাছে কুস্তরী, হরিনের নাভী, জিনটোন, জিনসেং আম্বরী, মাজুন গাওজবান, চ্যবনপ্রাশ, নিশাত, ত্রি কারমিনাসহ বিভিন্ন রেজিঃবিহীন কোম্পানীর ঔষধ বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক ঔষধের গায়ে বিক্রি মূল্য লেখা নেই ফলে যেমন খুশি তেমনভাবে দাম নিচ্ছে তারা আর এভাবেই চালাচ্ছেন জাকির, হাসান, কুদ্দুস গংরা তাদের প্রতারণা নামক হারবাল ব্যবসা।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান দ্রুত বিষয়টি দেখবেন।
নবাবগঞ্জে কালীগঙ্গা ও ইছামতি নদী থেকে মাটি বিক্রি
রাজধানী ঢাকার গুলিস্থান এলাকা থেকে মাত্র ৩৭ কিঃমিঃ দুরে অবস্থিত নবাবগঞ্জ উপজেলা। উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজের সাথে জরিত। কিন্তু এক শ্রেণীর অসাধু ভূমিখেকো নদীর পাড়ের জমিসহ বিভিন্ন জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে ফলে অনেক নিরীহ মানুষের কৃষি জমি ভেঙে নদীতে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। ফলে সাধারন জনগণ জমি বসতবাড়ী হারিয়ে পথে বসছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালীগঙ্গা নদীর খৈতা খেয়া ঘাট, কোন্ডা খেয়া ঘাট, নয়নশ্রীর খানেপুর, মেলেং ও মাতাপপুর কাটাখালী এলাকা, দৌলতপুর-তুলশিখালী, ইছামতি নদীর সাইলকা খেয়া ঘাট সংলগ্ন বিশাল এলাকা জায়গাজুড়ে কোনো রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কৃষি জমির মাটি কেটে বিক্রি করছে প্রতিদিন প্রভাবশালী খুদু মেম্বার ও এপেলো মেম্বার নজরুলসহ বেশ কয়েক জন ভূমিখেকো চক্রের সদস্যরা। যা মাহেন্দ্র গাড়ী দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থাপনা ও ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিক্রির জন্য।অনুমোতিবিহীন মাহেন্দ্র গাড়ী কাচা সড়ক গুলোতে চলাচলের কারনে সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে গেছে বলে জানান কৈলাইলের রব মুনসী।
তিনি বলেন, যা দেখেও না দেখার ভান করছে স্থানীয় প্রশাসনের কর্তা বেক্তিরা এমন অভিযোগ বিভিন্ন জমির মালিকদের।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে নবাবগঞ্জ উপজেলায় মোট জমির পরিমান ৫৮,২৮৪.০২ একর, ফসলি জমি ৩০৮৯২ হেক্টর, আবাদী জমি ১৭৭৮৪ হেক্টর। জনসংখ্যা বৃদ্ধিরহার প্রায় ১.৪৮% যা আগামি ৫০ বছরে ২ গুনে পরিনত হবে। যার কারনে এখন থেকেই আবাদযোগ্য কৃষি জমি রক্ষা জরুরি বলে মনে করেন উপজেলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজ সেবক শাহজাহান চুন্নু।
তিনি আরো বলেন আমাদের কৃষক সমাজকে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে ও তাদের সচেতন করতে হবে কৃষি জমি রক্ষায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল আমীন বলেন, কৃষক সমাজের সচেতন হওয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। ঢাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, নিয়ম নীতির বাইরে কেও না অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ফুটবল খেলা নিয়ে নবাবগঞ্জে সংঘর্ষ
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে খান ও শেখ গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দু’পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। গুরুত্বর আহত নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য রমজান আলীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও হাবিবুর রহমান এবং মঞ্জুর আলম নামে আরো ২ জনকে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্র ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নেয়।
আহত অন্যরা হলেন, মো. কামরুল, মিল্লাত হোসেন, মুরাদ হোসেন, বুলু মেম্বার, শাহনেওয়াজ, মাহফুজ, হৃদয়, মোশারফ হোসেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার আগলা ইউনিয়নের বেনুখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দু’পক্ষের দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক বিরোধ ছিল বলে জানা যায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকালে স্থানীয় বিজিসি সমাজ কল্যান সমিতির মাঠে বেনুখালী গ্রামের খান বনাম শেখ গোষ্ঠীর মধ্যে ফুটবল খেলা চলছিল। খেলা চলাকালীন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য রমজান খানের ছেলে আহাদের সক্ষে কথাকাটাকাটি হয় শেখ গোষ্ঠীর খেলোয়াড় হৃদয়ের। এরই জের ধরে মাঠের মধ্যে দু’পক্ষের হাতাহাতি হয়। সন্ধ্যার দিকে শেখ গোষ্ঠীর লোকজন সংগঠিত হয়ে খান গোষ্ঠীর বাড়িতে হামলা করে। এ সময় তারা খানদের বাড়িঘর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পরে দু’পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এতে দু’পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সোহেল রানা জানান, বিষয়টি জেনেছি। তবে এ বিষয়ে থানায় কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি।
পদ্মায় বিলীন হাজারো ঘরবাড়ি: হারিয়ে গেলো চিরদিনের ঠিকানা
বর্ষার শুরুতেই পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে গেছে দোহার উপজেলার কয়েকটি গ্রামের ঘরবাড়ি। সর্বস্ব খুইয়ে নিঃস্ব হয়েছে প্রায় দুই হাজার পরিবার। ভাঙন আতংকে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদীপারের মানুষজন। হারিয়ে যাচ্ছে চিরদিনের বাপ – দাদার ঠিকানা। এ অসহায় পরিবারগুলোর আশ্রয় এখন বিভিন্ন স্থানে। ভেঙ্গে যাচ্ছে পারিবারিক যৌথ পরিবার। কারও আশ্রয় মিলেছে আত্মীয়স্বজনের বাসায়, কারও আশ্রয় কেন্দ্রে, কেউ রাস্তার পাশে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।এসেছে নতুন ড্রেজার কিন্তু আতংক বা আশংকা কোনটাই দূর হয়নি এলাকাবাসীর। প্রতিদিনই ২/৪টি পরিবারকে দেখা যায় ঘর-বাড়ি ভেংগে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে।আবার কেউ বা গাজীপুর অথবা সাভারে জমি কিনে চলে যাচ্ছেন দোহার ছেড়ে। বিশেষ করে নারিশা ইউনিয়নের রানীপুর গ্রাম এখন সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে মেঘুলা বাজারসহ ওই এলাকার বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান।
ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে আরও কয়েক হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি। এর ফলে ধীরে ধীরে দোহারের মানচিত্র থেকে অনেক গ্রাম হারিয়ে যাওয়ারও আশংকা রয়েছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মেঘুলা বাজারের দক্ষিণে রানীপুর গ্রামের ব্রিজটির অধিকাংশই পানির নিচে ডুবে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ কর্তৃপক্ষের আশ্বাস সত্ত্বেও নদী শাসনের কোনো পদক্ষেপ হলো না আজও। ২ বছরে প্রায় ২ হাজার পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অসহায় পরিবারগুলো সর্বস্ব হারিয়ে দুঃখে-কষ্টে জীবন কাটছে।
নারিশা পশ্চিম চরের সুমন বলেন, গত বছরের অক্টোবরে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এব ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা সালমান এফ রহমান ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তরণে কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে নদীপারের মানুষের মধ্যে হতাশা ও আতংক কাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নেতারা তাদের প্রয়োজনে ঠিকই আসেন। সান্ত্বনা দিয়ে যান। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।
নারিশা ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন দরানী বলেন, বিভিন্ন অফিসে দৌড়াদৌড়ি করে নারায়নগঞ্জের বরফ কল এলাকা থেকে সরকারে সদ্য ক্রয় কৃত আধুনিক ড্রেজার মেশিন আনা হয়েছে, এটি দিয়ে নদী খনন করে নাব্য করা হবে, বালু উত্তোলন করে জিও ব্যাগে ভরে ভাংগন প্রবণ অঞ্চলে ফেলা হবে। সবাই দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন নদী ভাংগন ঠেকিয়ে দেন।
দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম আরা নিপা বলেন, নদী ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হওয়ার কথা। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসককেও অবগত করা হয়েছে।
এদিকে উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের ভাঙনরোধে স্থানীয় এমপি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপির নিরন্তর প্রচেষ্টায় নদী শাসনের জন্য সরকার ২১৭ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকের সভায় পাস করে। যার কার্যাদেশ হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষেই কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে। মাহমুদপুরের পুরুলিয়া থেকে নারিশা ইউনিয়নের পূর্বচর পর্যন্ত নদীপারের প্রায় ২টি গ্রাম পদ্মা ভাঙনের কবলে পড়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
মালিকান্দায় গান্ধীজি অভয়াশ্রম ও শ্মশানের জমি দখলের অভিযোগ
দোহার উপজেলার মালিকান্দা গ্রামে গান্ধীজি অভয়াশ্রম ও শ্মশান ঘাটের পতিত জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনসহ স্থানীয় ধর্মাবলম্বীদের।
উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের মালিকান্দা এলাকায় ১৯৪৬ সালে সাড়ে চার একর জায়গা নিয়ে গান্ধীজি অভয়াশ্রম নির্মাণ করা হয়। এরপর একই সময়ে তার পাশে উপজেলার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মৃতদেহ সৎকারের জন্য দুই একর জায়গাজুড়ে শ্মশানঘাট নির্মাণ করা হয়। নৌপথ সুবিধা থাকার কারণে পদ্মা নদী সংলগ্ন মালিকান্দা খালটি সে সময়ে স্থানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বহন করে আসছিল। কালের বিবর্তনে বর্তমানে স্থানটির চিত্র ভিন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দখলদারদের কারণে গান্ধীজি অভয়াশ্রমের সাড়ে চার একর জায়গা ৮০ ভাগই দখল হয়ে গেছে। শ্মশানঘাটের দুই একর জায়গা থেকে মাত্র ১০ শতাংশ বর্তমানে আছে।
মালিকান্দা খালটির সংযোগস্থলে প্রথমে সড়ক ও জনপথ মুন্সীগঞ্জ বিভাগ সেতু না করে সড়ক হওয়ায় দখলদারদের খাল দখল করতে আর বেগ পেতে হয়নি। চলছে দখলের মহোৎসব! কেউ দোকান তুলছেন, কেউ বাড়ি নির্মাণ করছেন, কেউবা মসজিদ-মাদ্রাসা। আর এই দখলের কারণে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। কোথাও কোথাও পানি জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, মশা-মাছি তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে অভয়াশ্রম ও শ্মশান ঘাট উন্নয়ন কমিটির সাধারণ-সম্পাদক সঞ্জিত কুমার ধর (সুন্দর) জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখল হয়ে যাচ্ছে দেখার কেউ নেই। প্রশাসনকে বার বার বলার পরও উদ্ধার হয়নি আমাদের শেষ আশ্রয়ের সম্পত্তি।
এ বিষয়ে নারিশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন দরানী জানান, ’’স্থানীয়রা দখলের পর আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম. আল-আমীনকে জানানো হয়েছে। তিনি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম. আল-আমিন জানান বিষয়টি তিনি দেখবেন’’।
