নবাবগঞ্জে পানিবন্দি হাজারো পরিবার

চলতি বর্ষায় পদ্মা নদীর অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার পরিবার। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, আবাদী ফসল ও ঘরবাড়ি। শহর রক্ষা বেড়ীবাঁধের বাইরের ৫টি ওয়ার্ডের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ভারিবর্ষণ ও জোয়ারে পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বালেঙ্গা, রাজাপুর, চারাখালী, ঘোষাইল, আর-ঘোষাইল, খাটবাজার, কঠুরী, আশয়পুর, রায়পুর, পানিকাউর, তিতপালদিয়া ও কল্যাণশ্রী গ্রামের মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। এসব এলাকার ৬ টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দী পরিবারের লোকজন তাদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠানোসহ গৃহপালিত পশু- গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী নিয়ে বিপাকে পড়েছে। পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই। নিরাপদ পানি ও পশু খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ছোট বড় রাস্তা-ঘাট তলিয়ে এখন যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে পানিবন্দী মানুষ ব্যবহার করছে নৌকা ও কলাগাছের ভেলা। খাটের উপর বাড়ি তৈরি চুলায় রান্না করে দিনাদিপাত করছে। পানিবন্দী মানুষের অনেকেই বেরীবাঁধের উঁচু স্থানে তাদের গবাদী পশুসহ আশ্রয় নিয়েছে।

জয়কৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নের ১০ টি গ্রাম এখন পানিবন্দী। তাদের জন্য দ্রুত ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্ধ দেয়া হবে। ইতোমধ্যে ইউএনও এবং পাউবো কর্মকর্তা পানিবন্দী এলাকা পরিদর্শন করেছে।

আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ বন্যায় কষ্ট পাবে না: সালমা ইসলাম

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, ভয় পেলে চলবে না। যে কোনো দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে সাহসিকতার সঙ্গে সব বিপদ মোকাবেলা করতে হবে। আমার নির্বাচনী এলাকার কোনো মানুষ বন্যায় কষ্ট পাবে না। শনিবার দুপুরে ঢাকার নবাবগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের তিতপালদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গরিব মানুষের মাঝে নগদ টাকা ও চাল বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি সরকারি উদ্যোগে প্রতিটি পরিবারকে ৫শ’ টাকা ও ২০ কেজি করে চাল দেন। সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম সবাইকে ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার আহবান জানান।

সালমা ইসলাম বলেন, বিপদ এলে কখনও ভেঙে পড়বেন না। কখনও অন্যের ওপর নির্ভর হয়ে হাত পেতে চাইবেন না। ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করিয়ে আর্থিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। কাশিয়াখালি বাঁধ সম্পর্কে তিনি বলেন, সবার সহযোগিতায় এ বাঁধ রক্ষা করতে হবে। যাতে ভেঙে এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সার্বক্ষণিক পাহারা দিয়ে কোথাও কোনো ফাটল দেখা দিলে প্রশাসনকে জানাতে হবে। বাঁধ রক্ষায় নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ নিয়মিত তদারকি করছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারাও বালুর বস্তা ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন। সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম তাদের বন্যার্ত এলাকায় বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দেন।

এ সময় নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ, ওসি মোস্তফা কামাল, ইউপি চেয়ারম্যান আলিমোর রহমান পিয়ারা, রিপন মোল্লা, মাসুদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত: দোহার নবাবগঞ্জে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

পদ্মার অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের গত ৪ দিনের পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় গড়ে ১০ সেমি পানির উচ্চতা বাড়ছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। ফলে দোহার উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ভাঙ্গনের তীব্রতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। মাহমুদপুরে রাস্তায় ভাঙ্গন শতাধিক পরিবার হুমকির মুখে।

ইতিমধ্যে দোহার উপজেলার মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছে রানীপুর গ্রামটি। বসত ভিটে হারিয়ে প্রায় দুই হাজার মানুষ সড়ক এবং বিভিন্ন উচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। মানবেতর জীবন যাপন করছে ভাঙ্গন কবলিত ও পানি বন্দি মানুষ।

শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের প্রায় ১৫শত ঘরবাড়ি,মসজিদ.মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে যেতে না পাড়ায় বর্তমানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। মধুরচর গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধু সাবিনা আক্তার (৪৫) বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানিতে আমাদের ঘড়বাড়ি তলিয়ে যায় আমাদের দেখার কেউ নাই। মাওলানা মো. হোসেন বলেন, শুনেছি পদ্মার ভাঙ্গন রোধে বাধঁ নির্মান করা হবে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের ঘরবাড়ি কখন যেন পদ্মায় চলে যাবে জানি না। একই অবস্থা মাহমুদপুরের নারায়নপুর, চরপুরুলিয়া, হরিচন্ডী, মাহমুদপুর ও চর বিলাশপুর গ্রামে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে ফসলী জমিসহ ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসিপত্র নিয়ে দূগর্তরা স্বজনের বাসা ও উচু স্থানে আশ্রয় খুঁজে নিচ্ছে। এদিকে মাহমুদপুর ইউনিয়নের কাটাখালের পারের সড়কটির অধিকাংশ পানির চাপে ভেঙ্গে পড়ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, একাধিকবার দোহার উপজেলা প্রশাসনকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ সড়কটি ভেঙ্গে গেলে প্রায় শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ভেসে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে ব্যাপক এলাকা। স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, সড়কটি মেরামতে প্রায় তিন মাস আগে এক লাখ টাকার প্রকল্প পাস হলেও কাজ হয়নি। ফলে এলাকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি হারানোর ভয়ে আতংকে রয়েছে। এছাড়া নারিশা ইউনিয়নের মেঘুলা, রানীপুর পানিতে তলিয়ে গেছে। পাল্লা দিয়ে ভাঙ্গন ও বাড়ছে।

দোহার উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা কে এম আল আমিন বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

এদিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কাশিয়াখালী বেঁড়ীবাধের বাইরে বাহাদুরপুর, আশয়পুর, পানিকাউর, চারাখালি, ঘোশাইল, আরঘোশাইল গ্রামের বেশীরভাগ বাড়িতেই পানি ঢুকে পড়েছে। পদ্মার তীর ঘেঁষা এসব এলাকায় ভাঙ্গন আতংকেও রয়েছে শত শত পরিবার। এছাড়া বাঁধের পশ্চিম পাশে পানির চাপ বেশী থাকায় বেড়ীবাধটিও হুমকির মুখে আছে।

গতকাল শুক্রবার বিকালে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের পরামর্শক্রমে ওই এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা জামান। ইউএনও বলেন, এমপি স্যারের সাথে কথা বলে বাঁধ রক্ষায় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তিতপালদিয়া সুইচগেটে ভাঙ্গন; সেনাবাহিনীর তড়িৎ পদক্ষেপে ভাঙ্গন রোধ

পদ্মার ক্রমাগত পানি বৃদ্ধির ফলে পানির চাপে শনিবার বিকালে নবাবগঞ্জের তিতপালদিয়া সুইচগেটে ভাঙ্গন দেখা দেয়। পরে রাতে এলাকাবাসী, সেনাবাহিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তড়িৎ পদক্ষেপে ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব হয়।

পদ্মায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারতের সব বাধের মুখ খুলে দেয়ায় পদ্মায় পানি ক্রমাগত বুদ্ধি পায়। এর মাঝে ইছামতি ও কালিগঙ্গা নদীর উৎসমুখ নামে পরিচিত তিতপালদিয়া সুইচ গেট দিয়ে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ক্রমাগত পানি প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে গতকাল বিকালে হঠাৎ করেই তিতপালদিয়া সুইচ গেটের রাস্তার উপর দিয়ে পানি কোঠাবাড়ির চকের ভেতর পরতে থাকলে সুইচ গেটে ভাঙ্গন দেখা দেয়। ফলে আতঙ্কিত এলাকাবাসী বস্তা দিয়ে প্রাথমিক ভাবে চেষ্টা করলেও সেটা কাজ না করলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল রাতেই প্রাণন্তকর প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করে। ফলে রক্ষা পায় ইছামতির মুখ বলে পরিচিত এই সুইচ গেটটি।

এবং পরবর্তীতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে এই সুইচ গেটের উপর দিয়ে জারনবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।

৩৯ বছর পর দায়িত্ব ছাড়লেন কলাকোপার তৈয়ব চেয়ারম্যান

৩৯ বছর অপরাজিত থেকে দায়িত্ব ছাড়লেন ঢাকার নবাবগঞ্জের কলাকোপা ইউপি চেয়ারম্যান তৈয়ব আহমেদ। বার্ধক্য জনিত কারণে গত ৭মে ইউপি নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দিতা থেকে সরে আসেন। সোমবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে বর্তমান চেয়ারম্যান, নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও আওয়ামীলী নেতা মো. ইব্রাহীম খলিলকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই তাকে ফুল দিয়ে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান। এসময় অনেকে ছিলেন আবেগ আপ্লুত।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৭৭ থেকে ২০১৬ একাধারে ৮বার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করেছেন তৈয়ব আহমেদ। অনেক প্রভাবশালী-ক্ষমতাসীন প্রার্থীও তার জনসমর্থনের কাছে হার মেনেছেন। এই দীর্ঘ ৩৯ বছরেও তার জনসমর্থন একটুও কমেনি।

ইউনিয়নের বাসিন্দা, মুক্তিযোদ্ধা তাপস সাহা জানান, ইউনিয়নের এমন কোন পরিবার নেই তিনি চিনতেন না। প্রয়োজনে তাকে পাননি এমন অভিযোগ একটিও নেই। তার ব্যবহারে কষ্ট পেয়েছেন এমন কোন দৃষ্টান্ত নেই। তার অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিশ্বাসে আমরা সাহসী হতাম। তিনি আমাদের আগামীর প্রেরণা।

তৈয়ব আহমেদ বলেন, ৩৯ বছর দায়িত্ব পালন করেছি। বয়স ৭০’এর উপরে। জনগণ আমাকে অনেক ভালোবাসা দিয়েছে। আমি সাধ্য মতো তাদের সেবা দেয়ার চেষ্টা করেছি। আর নয়, নতুনদের সুযোগ দিতে তাই নিজেকে সরিয়ে নিলাম। আশাকরি বর্তমান চেয়ারম্যান আমার ভুল-ত্রুটি গুলো শুধরে নেবেন।

বারুয়াখালী নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আরিফুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। গত শনিবার দুপুরে চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আরিফুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে বারুয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আবদুল কুদ্দুস ভূঁইয়া, এম এ বারী বাবুল মোল্লা, মাসুদ রেজা খানসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

নবাবগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের জঙ্গিবাদ বিরোধী র‌্যালী ও সমাবেশ

“জামাত শিবির রাজাকার,এই মুহুর্তে বাংলা ছাড়,সারাদেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবতার শক্র এদের মূলউৎপাটন করবই” এই শ্লোগানকে ধারণ করে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় জঙ্গিবাদ বিরোধী র‌্যালী ও সমাবেশ করেছে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড।

রবিবার সকালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড অফিসের সামনে থেকে এক র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক এম,পি এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হারুন-অর-রশিদের সভাপত্বিতে র‍্যালীতে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান ফকু, মুক্তিযোদ্ধা এস.পি (অব.) আব্দুল হাকিম, ঢাকা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সহকারী কমান্ডার সুশিল কুমার, নবাবগঞ্জ উপজেলা কমান্ডার আবু বকর সিদ্দিকী, ডেউটি কমান্ডার আব্দুল মহিদসহ ১৪ ইউনিয়ন কমান্ডার এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ।

নবাবগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের জঙ্গিবাদ বিরোধী র‌্যালী ও সমাবেশ

এ সময় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, ”দেশে জামায়াত শিবির এক হয়ে জঙ্গিবাদ কর্মকান্ড চালাচ্ছে তাই আমাদের সকলকে একত্রিত হয়ে তাদের মোকাবেলা করতে হবে। ৭১ এর মতো আরো  একটি যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। যাতে এ দেশে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে”।

নবাবগঞ্জে অপহৃত ব্যবসায়ী মাওয়া ঘাটে উদ্ধার

ঢাকার নবাবগঞ্জে আনিছুর রহমান রমিজ (৩৪) নামে এক ব্যবসায়ীকে ঢাকা শাপলা চত্বর থেকে অপহরণের ৯ দিন পর মুন্সিগঞ্জ মাওয়াঘাট পদ্মাপাড় থেকে স্থানীয় লোকজন অসুস্থ অবস্থায় উদ্বার করে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করেন। গত বুধবার ওই ব্যবসায়ী কাজে ঢাকা গেলে মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে অপহরণের শিকার হন।

অপহ্নত ব্যবসায়ী রমিজ নবাবগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্ট্যাম্পের ব্যবসা করেন। তিনি নবাবগঞ্জ সদরের মৃত শারজাহানের পুত্র।

ব্যবসায়ী  রমিজের বরাত দিয়ে তার পরিবার জানান, রমিজ গত ২০শে জুলাই বুধবার ব্যবসায়ী কাজে ঢাকায় যান। অপহরণকারীরা তাকে মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নেয়। এসময় অপহরণকারী আরো ৩ জনকে অপহরণ করেন বলে তিনি জানান। তিনিসহ ৪ জনকে নিয়ে অপহরণকারী বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে থাকেন। সারাক্ষণই তাদের মুখ কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হতো। ফলে ওই ব্যবসায়ী কাউকে চিনতে পারেনি বলে জানা যায়। এই সময় বেশি ভাগ সময়ই তাদের অচেতন করে রাখা হতো।

বৃহস্পতিবার সকালে তার জ্ঞান ফিরলে তিনি নিজেকে মাওয়া ঘাটের পদ্মার পাড়ে দেখতে পান। এই সময় স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে মাওয়া পুলিশ ফাঁড়িতে দিয়ে আসে। পুলিশের পক্ষ থেকে অপহরণের শিকার ব্যবসায়ীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বৃহস্পতিবার রাতে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় ঘটনার ৯ দিন পর তাকে উদ্ধার করা হয়।

বর্তমানে তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। তবে তার সঙ্গে অপহরণের শিকার অপর ৩ জনের পরিচয় ও তার বর্তমান অবস্থার কথা কিছু বলতে পারেনি উদ্ধার হওয়া ব্যবসায়ী। পরিবার সূত্রে আরো জানা যায়, ২০শে জুলাই নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি জিডি করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আনিছুর রহমান বলেন, মাওয়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে আমাদের জানানো হলে আমি ফোর্সসহ ঘটনাস্থল থেকে অপহরণের শিকার ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ নিয়ে আসি। অসুস্থ থাকায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিংগাইরে কালিগঙ্গা নদীর মাটি বিক্রি, ফসলি জমি হুমকির মুখে

একদিকে নদীভাঙন, অপরদিকে নদীতে প্রভাবশালীদের মাটি খনন করে বিক্রি। দুটোই এখন কৃষকদের কাছে মরার উপর খাঁড়ার ঘা। সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের চক পালপাড়া এলাকার কালিগঙ্গা নদীর এমন চিত্র।

ভুক্তভোগীদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১ মাস ধরে চলছে পালপাড়া মৌজায় নদীর পাড় থেকে মাটি কাটার উৎসব। স্থানীয় সরকারি দলের নেতারা মাটি কেটে বিক্রি করছে। শুরুতে বিএনপি সমর্থিত কর্মীরা তাদের মালিকানাধীন জমি থেকে মাটি কাটা শুরু করলে এখন ক্ষমতাসীনদের দাপটে তারা এলাকা ছাড়া। তাদের পরিবর্তে এখন কাটছে সরকারি দলের অনেক সমর্থক ও কর্মী।

সূত্র মতে, চান্দহর ইউনিয়নের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী চক পালপাড়া গ্রামের আ. কুদ্দুসের ছেলে সেলিম (২৮), মজিদের ছেলে মিন্টু (৩২), আনোয়ার, চান্দহর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা নাসির (৩৮) ও ওয়াইজ নগর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত নৌবাহিনীর সদস্য মনির হোসনের নেতৃত্বে মাটি কাটা হচ্ছে। প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ৯টায় পর্যন্ত চলে মাটি কাটা কর্মক্রম। সূত্র আরো জানায়, প্রায় ২০-৩০টি ট্রলার ভর্তি করে কাটা মাটি নারায়ণগঞ্জের জাজিরা ইটের ভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছেন প্রভাবশালীরা। আর চরম উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছেন আশপাশ ফসলির জমির মালিকরা। স্থানীয় কৃষক আ. কুদ্দুস (৮০), আক্তার হোসেন (৩৮), ফরহাদ (৪৫) অভিযোগ করে বলেন, আমরা চেষ্টা করেও সরকারি দলের নেতাদের দাপটে মাটি কাটা বন্ধ করতে পারছি না। নিরুপায় হয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বাদলকে জানিয়েও ফল পায়নি।

তাদের অভিযোগ, ক্রমাগত মাটি কেটে নেয়ার ফলে হেলাল বেপারির বরই বাগানের ১ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। তার বাকি ৬ বিঘা জমি এখন হুমকির সম্মুখীন। পালপাড়া গ্রামের জলিলের ৪ বিঘা জমির পূর্ব-পশ্চিম পাশ থেকে গভীর করে মাটি কেটে নেয়া হয়েছে। ব্যবস্থা নিতে তিনি বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে ঘুরে ঘুরে এখন ক্লান্ত। উল্টো হুমকির মধ্যে রয়েছে আছেন জলিল অভিযোগ করেন। কুদ্দুস, হেলাল, বিশা শেখ ও জলিলের মতো অর্ধশতাধিক কৃষক তাদের ফসলি জমি নিয়ে রয়েছেন আতঙ্কিত। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রভাবশালীরা শুধু ট্রলার দিয়ে নয়, ড্রেজার দিয়েও ওই নদী থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে। পাশ্ববর্তী ঢাকার জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার সরকারদলীয় নেতারা জড়িত রয়েছে। তাদের সঙ্গে সিংগাইরের অনেক নেতাকর্মীর যোগসাজশ রয়েছে।

মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত সেলিম তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার বলেন, এখানে বিএনপির লোকজনই মাটি কাটছে।

স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার সমুন বলেন, এভাবে মাটি কাটার ফলে ফসলি জমি ভাঙতে শুরু করেছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন আরো বেড়ে যাবে। আমি চেয়ারম্যানসহ অনেককে জানিয়েও কোনো ফল পায়নি।

চান্দহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হোসেন বাদল বলেন, প্রতিবছর নদী ভাঙনের ফলে জমির মালিকরা ভয়ে তাদের জমির মাটি সেলিমসহ অন্যদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এখানে আমার হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। এ ছাড়া বসুন্ধরা গ্রুপ অনুমতি নিয়ে ড্রেজার দিয়ে নদী খনন করছে। এতেও আমার কিছু করার নেই।

সিংগাইর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৌসুমী সরকার রাখী বলেন, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি। এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে মাটি কাটলে আমাদের কিছু করার নেই। আর সরকারি নদী থেকে কাটা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নবাবগঞ্জ সিংগাইর-সড়কের বেহাল অবস্থা

নবাবগঞ্জ-রুপারচর নিলাম্বরপট্রি ভায়া সিংগাইর সড়কটিতে র্দীঘদিন ধরে সংস্কার কাজ না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে পিছ ও  খোয়া উঠে গেছে।  বৃষ্টির পানিতে কাঁদা জমে  চলা চলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। গর্তে ভরা রাস্তা যেন জনগণের চলাচলের মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে এবং ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে।

সরেজমিনে দেখাগেছে, প্রত্যাহ অসংখ্য মানুষ মোটর বাইক, রিকসা, সিএনজি চালিত অটোরিকসা যোগে নবাবগঞ্জ থেকে রুপাচর নিলাম্বরপট্রি  হয়ে সিংগাইর মানিকগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। আবার সিংগাইর উপজেলার রুপারচর, নিলাম্বরপট্রি,মোসলেমাবাদ পূর্ববান্দাইল  গ্রামের চাকরিজীবি, কৃষক- ছাত্রছাত্রী নবাবগঞ্জের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান- হাটবাজার ও স্কুল,কলেজে  পড়াশুনা করতে সড়কটি দিয়ে  নবাবগঞ্জে আসে।

সড়কটির বেহাল অবস্থার কারনে  সময় মতো  কর্মস্থল ও স্কুলে পৌছাতে না পারায় কারনে  বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয় বলে জানান রুপারচরের বাসিন্দা শোল্লা হাই স্কুলের সপ্তমশ্রেনীর ছাত্রী আশা আক্তার।

ব্যবসায়ী  সালাম মোলা বলেন  প্রতিদিন বিভিন্ন মালামাল নিয়ে  হেটে আসতে হয় সড়কটি দিয়ে গর্ত হয়ে যাওয়ায় গাড়ি  চলে না। সিংগাইর উপজেলার লোকজন  নবাগঞ্জ-দোহার,মুন্সিগঞ্জ ও রাজধানী ঢাকাতে কম সময়ে যাতায়াতের জন্য এ সড়কটি ব্যবহার করে থাকে মাত্র ৩ কি:মি রাস্তায় পৌছতে প্রায় ১  ঘন্টা সময় লেগে যায়। ঝাঁকুনিতে রোগীকে আরো অসুস্থ করে তুলে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি স্থায়ী ভাবে সংস্কার হওয়া জরুরী বলে জানান সিংগাইর জয়মন্টব এলাকার সুজন মাহমুদ।

সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশলী মো.আবদুর রাজ্জাক বলেন আগামী জুলাই আগষ্টে  কাজ শুরু হবে।