চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিবাদে নবাবগঞ্জে ফার্মেসি বন্ধ

 

ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা কর্তৃক হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিবাদে ঢাকার নবাবগঞ্জে সব ফার্মেসি বন্ধ করে রেখেছেন ওষুধ ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল থেকে উপজেলার সব ফার্মেসি বন্ধ করে দেন ওষুধ ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে উপজেলা সদর, বাগমারা, কলাকোপা, বান্দুরা, কোমরগঞ্জ বাজারসহ প্রায় উপজেলার সব ফার্মেসি বন্ধ।

নবাবগঞ্জ উপজেলা (বিসিডিএস) বাংলাদেশ কেমিস্ট ড্রাগিস্ট সোসাইটি সূত্র জানায়, ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তারা নবাবগঞ্জের বিভিন্ন ফার্মেসিতে এসে অযথা নানা ধরনের সমস্যা দেখিয়ে ২০/৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। টাকা নেওয়ার রশিদ চাওয়া হলে তারা বিভিন্ন হুমকি দিয়ে চলে যান। দীর্ঘদিন ধরে তারা দোকানদারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করে আসছেন।

উপজেলার বাগমারা বাজারের এসএস ফার্মেসির মালিক মো. সবুজ বলেন, ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের লোকেরা এসে অযথা আমাদের হয়রানি করে চাঁদা দাবি করে। এর প্রতিবাদে আমরা ফার্মেসি বন্ধ রেখেছি।

এ বিষয়ে উপজেলা ওষুধ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান ফারুক বলেন, ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কিছু লোক প্রতিনিয়ত ফার্মেসি থেকে চাঁদা আদায় করে। এর প্রতিবাদে আমরা ফার্মেসি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই।

এদিকে, নবাবগঞ্জের সব ফার্মেসি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন রোগীরা। ওষুধ কিনতে আসা সালেহা বেগম (৫০)জানান, তিনি শ্বাসকষ্টের রোগের ওষুধ কিনতে এসে দেখেন ফার্মেসি বন্ধ।

নবাবগঞ্জে গরুর খামারে অগ্নিকাণ্ড খামারি ও তার স্ত্রী দগ্ধ

 

ঢাকার নবাবগঞ্জের কলাকোপা ইউনিয়নের খন্দকারহাটি গ্রামে একটি গরুর খামারে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুনে খামারি নিজাম উদ্দিন ও স্ত্রী এ্যানি বেগম দগ্ধ হয়েছেন। আগুনে পুড়ে মারা গেছে ৪টি গরু। দগ্ধ হয়েছে আরও ৩টি গরু।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাত ৯টার দিকে মশা তাড়ানোর ধোঁয়া থেকে খামারে আগুন লাগে। খামারে ছোট-বড় ২১টি বিভিন্ন প্রজাতির গরু ছিল। আগুন দেখে নিজাম উদ্দিন ও তার স্ত্রী খামার থেকে গুরু বের করে আনার চেষ্টা করেন। এতে তারা দগ্ধ হন। আশপাশের লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। ততক্ষণে পুরো খামার ভস্মীভূত হয়ে যায়। পুড়ে মারা যায় ৪টি অস্ট্রেলিয়ান গরু। দগ্ধ হয় আরও ৩টি। দগ্ধ নিজাম উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার তাদের দেখতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান ঢাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন ও ইউএনও শাকিল আহমেদ। তাদের চিকিৎসার জন্য ১৩ হাজার টাকা দেন জেলা প্রশাসক। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহনাজ মিথুন মুন্নী, কলাকোপা ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহীম খলিল, প্রেস ক্লাবের সম্পাদক আজহারুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শদন করেছেন।

দোহারে বিক্রি হয় নকল দুধ

 

ঢাকার দোহারের হাট বাজার গুলোতে হরদম বিক্রি হচ্ছে প্রতারক চক্রের নকল গরুর দুধ। দাম কম পেয়ে চা ষ্টোলের মালিরা অধিক মুনাফার লোভে তা কিনে নিচ্ছে হরদম। দোকানীরা গরুর দুধের চা বলে কাষ্টোমারদের কাছে ৮ থেকে ১০ টাকা এক কাপ চা বিক্রি করছে। এবং কাষ্টোমার ও সারাক্ষন ভীড় লেগে থাকে দুধের চা পান করার জন্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের ডাক বাংলো পদ্মার ঐ পাড়ে চইরা কান্দা এলাকার খালেক কারাইল (৪০), জমির উদ্দিন (৩৫) ও বাশেদ মাঝি (৩০) নামে তিন ব্যাক্তি পদ্মা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে পাওডার এবং কেমিক্যাল দ্রব্য মিশিয়ে নিজেরা তৈরি করছে গরুর দুধ। পরে দুধ তৈরি হয়ে গেলে পদ্মা নদী পাড় হয়ে নরিশা ঘাটে এসে ইজিবাইকে চড়ে উপজেলার রতন চত্বরে মতির চায়ের দোকানে ২০ কেজি, শফিকের দোকানে ১৫ কেজি ও আলমের দোকানে ১৫ কেজি দুধ দিয়ে টাকা নিয়ে চলে যায় জয়পাড়া বাজারে।

দোকানী মতি,শফি ও আলম জানায়, বাজারে এক কেজি দুধের দাম ৮০ টাকা। আমরা গোয়ালদের কাছ থেকে কিনছি ৪০ টাকা দমে।

এই ব্যাপারে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল আমিন জানায়, জরুরি ভাবে দোহারের প্রতিটি বাজারে দুধ পরিক্ষারজন্য মিশিন বসানো হবে।

১৯১২ সাল থেকে দোহার-নবাবগঞ্জে আলো ছড়াচ্ছে যারা

 

নবাবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বান্দুরা হলিক্রশ স্কুল এন্ড কলেজ সুনামের সঙ্গে ১০৪ বছর যাবত্ শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়াসহ সকল ক্ষেত্রেই সাফল্য বজায় রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে অর্জন করেছে জাতীয় ও উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়ার গৌরব।

প্রতিষ্ঠানটির মোট ভূমির পরিমাণ পাঁচ একর হলেও ১.৯৭ একর জমির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রশাসনিক ভবন। ১৯১২ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর ২০১৪ সালে এসে কলেজ শাখার যাত্রা শুরু করে। বান্দুরা স্কুল এন্ড কলেজে বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৭শ’ ৪২জন। এর মধ্যে স্কুল শাখায় ১ হাজার ৬শ’ ৩৭ জন ও কলেজ শাখায় ১০৫ জন রয়েছে। তাদের শিক্ষাদানে নিয়োজিত প্রায় ৫৩ জন শিক্ষক। প্রায় ৩০টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে।

১৯১২ সালের ৮ জানুয়ারি বর্তমান গোল্লা ধর্মপল্লী প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৫৭ জন ছাত্র নিয়ে হলিক্রশ বান্দুরা গোবিন্দপুর হাই স্কুল নামে যাত্রা শুরু হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইরিস বংশোদ্ভূত ক্যাথলিক ধর্মযাজক রেভারেন্ড ফাদার জন হেনেসি। ঢাকা মহাধর্ম প্রদেশের দ্বিতীয় হাই স্কুল এটি। নানা অসুবিধা ও সমস্যার মধ্যে দিয়ে গোল্লায় মাত্র পাঁচ মাস ক্লাস চলে। ওই বছরেরই জুন মাসে স্কুলটি বান্দুরায় স্থানান্তরিত হয় এবং একই মাসের ১১ তারিখ থেকে নিয়মিত ক্লাস শুরু হয়। ১৯১৫ সালে দশম শ্রেণি চালু করা হয় এবং তিন বছরের জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলটিকে অস্থায়ীভাবে অনুমোদন দেয়। ১৯১৬ সালে প্রথমবারের মতো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছয়জন ছাত্রের ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা হয়। ১৯১৮ সালের ২০ নভেম্বর স্কুলটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী স্বীকৃত লাভ করে। দোহার-নবাবগঞ্জের সর্বপ্রথম স্বীকৃতপ্রাপ্ত স্কুল এটি।

১৯৭৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ব্রাদার জন ষ্টিফেন এমিঞ্জার। তার সময়কালে বিদ্যালয়ের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়। তিনি বিদ্যালয়ের ১৮টি শ্রেণিকক্ষ ও ছয়টি আবাসিক কক্ষ বিশিষ্ট ত্রিতল ভবন নির্মাণ করেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের চারপাশের প্রাচীর ও রঙ্গমঞ্চ তার আমলেই নির্মিত। ১৯৮৭ সালে তত্কালীন প্রধান শিক্ষক ব্রাদার বেনেডিক্ট রোজারিও’র সময় বিদ্যালয়ের ৭৫ বছর পূর্তি উত্সব করা হয়। ২০০৩ সালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ব্রাদার প্রদীপ লুইস রোজারিও। তার সময়ে বিদ্যালয়ের মূল ভবন সম্প্রসারণ করা হয় এবং পুরান প্রাচীর ভেঙে নতুন সুউচ্চ প্রাচীর করা হয়। এছাড়া অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব ও বিজ্ঞানাগার তারই অবদান। তার সময়েই ২০০১ সালে জাতীয় শিক্ষক সপ্তাহে স্কুলটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে একাধিকবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভূষিত হয়েছে বিদ্যালয়টি। ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে প্রধান শিক্ষক হয়ে আসেন ব্রাদার চন্দন বেনেডিক্ট গমেজ। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিদ্যালয়ের ২১তম প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ব্রাদার নিপু হিউবার্ট রোজারিও, সিএসসি। তার ও এলাকার গণ্যমান্যদের প্রচেষ্টায় ২০১৪ সালের ১ জুলাই মাত্র ৪৯ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়ে কলেজ শাখার যাত্রা শুরু হয়। বর্তমান কলেজ শাখার শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০৫জন।

স্কুলটির প্রাক্তন ছাত্র ও দোহার-নবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন ও বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক অপূর্ব হালদার বলেন, আমি আজ দোহার-নবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন ও বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হওয়ার পেছনে বান্দুরা হলিক্রশ স্কুলের অবদান শতভাগ। আমি যদি  ছোটবেলা  থেকে ওই স্কুলে পড়া-শোনা না করতাম তাহলে আজ এতদূর আসতে পারতাম না। তাই আমি আজ ধন্য।

দোহার-নবাবগঞ্জে বড়দিন উদযাপিত

 

ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের সিরজাদিখানের আঠার গ্রামে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন উদ্যাপিত হয়েছে।

জানা গেছে, বড়দিন উপলক্ষে গত শনিবার বিকাল থেকে দোহারের ইকরাশী উপ-ধর্মপল্লী, নবাবগঞ্জের হাসনাবাদ গির্জা, গোল্লা গির্জা, তুইতাল গির্জা, সোনাবাজু উপ-ধর্মপল্লী, বক্সনগর উপ-ধর্মপল্লী, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের শুলপুর গির্জায় প্রার্থনা করতে আসা পুণ্যার্থীদের আগমনে সরগরম হয়ে ওঠে। রবিবার সকালে প্রার্থনা পর্ব সম্পন্ন হয়। বড়দিনের উত্সব চলবে সোমবার পর্যন্ত। কীর্তনের (ক্যারল) মধ্য দিয়ে শেষ হবে বড় দিনের উত্সব। এর আগে নবরাজ খ্রিষ্টকে গ্রহণ করতে গির্জা ও উপধর্মপল্লীগুলোকে বড় দিনের ৯ দিন আগে থেকে নভেনা খ্রিষ্টযাগ বা পাপস্বীকার পর্ব চলে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায় বেথেলহেমের সেই আবহ সৃষ্টি করতে উপজেলার হাসনাবাদ, গোল্লা ও তুইতাল গির্জার পাশাপাশি বাড়িতে বাড়িতে তৈরি করেছে প্রতীকী গোশালা। নবাবগঞ্জের সব গির্জা ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বাড়িগুলো বড়দিনের ঐতিহ্যবাহী জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জায় সেজেছে। গোশালা স্থাপন, রঙিন কাগজ, ফুল ও আলোর বিন্দু দিয়ে ক্রিসমাস ট্রি দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো চলছে নবাবগঞ্জের পুরনো বান্দুরা, হাসনাবাদ, নয়নশ্রী, তুইতাল, গোল্লা, শিকারিপাড়ার খ্রিস্টপল্লীতে। টুকটুকে লাল পোশাক পরা সফেদ দাড়ি-গোঁফের বুড়ো সান্তাক্লজ উপহারের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ছোট্ট সোনামণিদের হাতে তুলে দেবেন মজার মজার উপহার।

গোল্লা গির্জায় প্রার্থনা করতে আসা গ্যামল গমেজ জানান, এ বছর আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বড়দিন উত্সব পালন করছি।

আরাম পরিবহনের দূর্ঘটনাঃ নিহত ৩

0

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার দুপুর ২টায় উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের তেজখালি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুপুরে তেজখালি গ্রামে ওই স্পটে মাওয়াগামী আরাম পরিবহন ও ঢাকাগামী গোধুলী পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় আরাম পরিবহনের বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে পাশে পড়ে যায়। ফলে এর তিন পুরুষ যাত্রী নিহত হন। এছাড়া দুই বাসের অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি, তবে তাদের বাড়ী কাঠালবাড়ী বলে জানা গেছে।

আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকে নেয়া হয়। এদের মধ্যে প্রায় ১০জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শ্রীনগর থানার ওসি সাহিদুর রহমান জানান, এ দুর্ঘটনায় প্রায় ৪০ মিনিট রাস্তা বন্ধ ছিল। এখন রাস্তা যান চলাচলের জন্য স্বাভাবিক করে দেয়া হয়েছে।

সৌরজগতের সবচেয়ে বড় চাঁদ

0

 

আমাদের পৃথিবীর উপগ্রহের সংখ্যা একটি। চাঁদ নামেই এটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত। চাঁদ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে যেমন প্রতিনিয়ত ঘূর্ণনশীল তেমনি সৌরজগতের আরো অনেক গ্রহ রয়েছে যাদেরকে কেন্দ্র করে একটি চাঁদ নয় একাধিক চাঁদ ঘূর্ণয়মান।

যেমন মঙ্গলের দুইটি উপগ্রহ বা চাঁদ রয়েছে। এছাড়া শনির ৬২টি, ইউরেনাসের ২৭টি, নেপচুনের ১৪টি, প্লুটের ৫টি এবং বৃহস্পতির ওপর সর্বশেষ সমীক্ষা অনুযায়ী এ গ্রহের মোট ৬৭টি চাঁদের সন্ধান পাওয়া গেছে। কিন্তু সৌরজগতের এইসব চন্দ্র সমূহের মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে বড় কে? পৃথিবীর চাঁদ নাকি অন্য গ্রহের কোনো চাঁদ? এই প্রশ্ন তো থেকেই যায়।

বেশ কিছুদিন পূর্বেও ধারণা করা হতো, শনির উপগ্রহ টাইটানই সৌরজগতের সবচেয়ে বড় চাঁদ। কারণ টাইটানই একমাত্র উপগ্রহ যার ঘন আবহাওয়ামণ্ডল রয়েছে এবং সেটা আয়তনে বিশাল। বিজ্ঞানীদের মতে, টাইটান এতই শীতল যে, এখানের গ্যাস কণিকার চঞ্চলতাও কম। ফলে কিছু গ্যাস কণিকা আটকে পড়েই এই ঘন আবহাওয়া মণ্ডলের সৃষ্টি করেছে। এর বায়ুমণ্ডলের ৯৯ শতাংশই হচ্ছে নাইট্রজেনে ভরপুর। আয়তনে টাইটান বুধ গ্রহের থেকে বেশ কিছুটা বড়।

কিন্তু গ্রহের ব্যাসার্ধ মাপার পদ্ধতি আবিষ্কৃত হওয়ার পর জানা গেল টাইটান নয়, বৃহস্পতির উপগ্রহ গ্যানিমিড-ই হল সৌরজগতের সবচেয়ে বড় চাঁদ। ব্যাসার্ধে টাইটান গ্যানিমিডের কিছুটা ছোট। এই উপগ্রহটি সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন জ্যোতির্বিদ্যার জনক হিসেবে খ্যাত বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি। তবে তিনি শুধু গ্যানিমিড-ই নয়, ১৬১০ সালের জানুয়ারি মাসের ৭ তারিখে সর্বপ্রথম তার দূরবীনের সাহায্যে একসঙ্গে আবিষ্কার করেছিলেন বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহ। তিনি পরের রাতে উপগ্রহ চারটির ওপর পর্যবেক্ষণ করে জানতে পারেন উপগ্রহ চারটি বৃহস্পতিকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণয়মান।

এই চারটি উপগ্রহই বৃহস্পতির সবচেয়ে বড় উপগ্রহ। বাকি তিনটি হল- আইও, ইউরোপা এবং ক্যালিস্টো। তবে গ্যালিলিও আবিষ্কার করলেও এই উপগ্রহটির নামকরণ করেন বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ সাইমন মেরিয়াস। গ্রিক পুরাণের দেবতা জিউসের প্রেমিকের নামে গ্যানেমিড নামকরণ করা হয়।

গ্যানিমিড হল বৃহস্পতির তৃতীয় উপগ্রহ। সৌরজগতের অন্য উপগ্রহের তুলনায় গ্যানিমিড একটি বৈশিষ্টের কারণে সবচেয়ে আলাদা। কারণ গ্যানিমিডই হল সৌরজগতের একমাত্র উপগ্রহ যেটিতে গ্রহের মতো ম্যাগনেটিক ফিল্ড বিদ্যমান। মূলত এই ম্যাগনেটিক ফিল্ড থাকার কারণে গ্রহকে কেন্দ্র করে উপগ্রহ ঘূর্ণয়মান এবং এই ম্যাগনেটিক ফিল্ডের কারণেই সমগ্র সৌরজগৎ একটি নির্দিষ্ট সিস্টেমে কোটি কোটি বছর ধরে একইভাবে ঘূর্ণয়মান।

গ্যানিমিডের ব্যাস ৫২৬৮ কিলোমিটার। এই ব্যাস হিসেব করলে দেখা যায় এই উপগ্রহটি বুধ গ্রহের থেকে প্রায় ৮% বড় এবং সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপগ্রহ টাইটানের থেকে ২% বড়। আয়তনে এই উপগ্রহটি প্লুটো গ্রহ থেকেও বড়। মহাকাশযান পায়োনিয়ার-১০ এর সবচেয়ে কাছে গিয়ে (প্রায় ৪৪০ কিলোমিটার) যে তথ্য প্রেরণ করে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এই উপগ্রহটির পৃষ্ঠ সম্পূর্ণরূপে পাথুরে পাহাড়ে ভরপুর। এই পাহাড়ে সালফারের পরিমান বেশি। এসব পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে জমাট পানির অস্তিত্বও পাওয়া গেছে। ১৯৭৯ সালে মহাকাশযান ভয়েজারের পাঠানো ছবিতে এই দৃশ্য সর্বপ্রথম দেখা যায়। তবে এর ভূ-অভ্যন্তরে যে পরিমান পানি রয়েছে তার পরিমান পৃথিবী পৃষ্ঠের সকল সমুদ্রের মিলিত পানির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।

শুধু পানিই নয় গ্যানিমেডের ভূ-অভ্যন্তরে প্রচুর পরিমানে গলিত তপ্ত লোহাও রয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন এই লোহাই গ্যানিমিডের ম্যাগনেটিক ফিল্ডের মূল রহস্য। উপগ্রহটিতে অক্সিজেনের হালকা বায়ুমণ্ডলও বিদ্যমান।

গ্যানিমিডের কক্ষপথ বৃহস্পতি থেকে প্রায় ১০৭০৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এর কক্ষপথ সামান্য উৎকেন্দ্রিক। এটি প্রতি সাত দিন তিন ঘণ্টায় বৃহস্পতিকে একবার ঘুরে আসে। এদিকে এই সময়ের মধ্যে আইও চারবার এবং ইউরোপা দুইবার বৃহস্পতিকে ঘুরে আসে।

সবমিলিয়ে রহস্যমণ্ডিত সৌরজগতের সবচেয়ে বড় এই চাঁদ। আগামীতে বৃহস্পতির নতুন রহস্য উন্মোচন এবং গ্যানিমিডের নতুন সব তথ্যের খোঁজ পেতে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি ২০২২ সালে বৃহস্পতির উদ্দেশ্যে ‘জুপিটার আইসি মুন এক্সপ্লোরার’ শিরোনামের একটি মহাকাশযাত্রার ঘোষণা ইতোমধ্যেই দিয়েছে। সে সময় গ্যানিমিড সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য আবিষ্কার হবে কিনা সেটা এখন দেখার বিষয়।

দোহারে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দিনে দুপুরে আড়াই লাখ  টাকা ছিনতাই

 

 

আজ ২২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ঢাকা দোহার উপজেলায় রাইপাড়া ইউনিয়নের চিতাঘাটা ব্রীজের পর এস পি মজিবরের বাড়ি সংলগ্ন সড়কে মোঃ শিশির নামের এক মুদি ব্যবসায়ীর নিকট হইতে দুপুর ৩:০০ টার দিকে দুইলক্ষ পঞ্চাশ হাজার (২,৫০,০০০) টাকা ছিনতাই করে দূর্বৃত্তরা।

ব্যবসায়ী মোঃ শিশিরের কাছ থেকে জানা যায়, আজ দুপুর ৩:০০ ঘটিকায় তিনি তার জমিসংক্রান্ত (বায়নাবাবদ) টাকা নিয়ে জয়পাড়া ডাচ বাংলা ব্যাংকে জমা রাখার উদ্দেশ্যে রিক্সাযোগে যাচ্ছিলো। ঘটনাস্থলে পৌছালে হঠাৎ অজ্ঞাত একটি মোটরসাইকেলে তিনজন দুর্বৃত্তকারী এসে তার গতিপথ আটকায়। এবং তাকে মারধর আহত করে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে টাকার ব্যাগটি নিয়ে জয়পাড়ার দিকে পালিয়ে যায়।

মোঃ শিশির (৪০) কুসুমহাটি ইউনিয়নের আওলিয়াবাদ গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে। এঘটনার কারনে এলাকায় জনগনের মধ্যে এক আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে শিশির দোহার থানায় এখনও কোন অভিযোগ বা মামলা করেননি বলে জানান।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম শেখ জানান, এব্যাপারে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই, এবং কোন অভিযোগ আসলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দোহারে অনুমোদন ছাড়াই রাস্তায় স্পিড ব্রেকার দিল ক্লিনিক কর্মকর্তারা

পৌরসভার অনুমোদন না নিয়ে বেআইনী ভাবে মেইন রাস্তায় স্পিড ব্রেকার দেয় দোহার উপজেলার প্রাইভেট জয়পাড়া ক্লিনিকের পরিচালক কর্মকর্তারা বিকেল আনুমানিক ৩টায় সময় জয়পাড়া বাজার যাওয়ার মেইন রাস্তায় স্পিড ব্রেকার দেয়।

 

জানা যায়- জয়পাড়া ক্লিনিকের কর্মকর্তা বেআইনী ভাবে মেইন রাস্তা বাঁশ ফেলে আটকে দিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানের সামনে স্পিড ব্রেকার দেয়। সেসময় রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় দু’ঘন্টা আটকে রাখে রাস্তাটি। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমীন (ম্যাজিস্ট্রেট) সারাবাংলা টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,

 

রাস্তায় স্পিড ব্রেকারর বিষয়টি আমি জানিনা। দোহার পৌরসভার প্রকৌশলী কর্মকর্তা মুশিউর রহমান বলেন – এই বিষয়টি আমি জানিনা আমাকে জানানো হয়নি। পৌরসভা থেকে তাদের কে অনুমোদন দেওয়া হয়নি- রাস্তায় স্পিড ব্রেকার দেয়া সম্পূর্ণ নিষেধ এ ব্যাপারে অবশ্যই প্রদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি,

 

পৌর মেয়রের কাছে জানতে চাইলে বলেন তারা আবেদন করেছেন অনুমোদন না দিলেও বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। ক্লিনিকের পরিচালকরা চটা মেজাজে সাংবাদিককে বলেন আপনাদের সমস্যা কি? আমাদের কাছে অনুমোদনের কাগজ আছে। দেখতে চাইলে বলে ব্যস্ত আছি পরে দেখাবো বলে ফোন রেখে দেয় ক্লিনিক পরিচালকরা।

নবাবগঞ্জে ভূমিহীনের বন্দোবস্তের জমি দখল চেষ্টা

 

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার হরিস্কুল গ্রামের মাধব পালের মেয়ে লক্ষ্মী রানী পালের বন্দোবস্তের ১৮ শতাংশ খাস কৃষি জমি দখলের পায়তারা করছে পার্শ্ববর্তী জালালচর গ্রামের মো. হাসমত। এমনি অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসমত ঐ গ্রামের মৃত শেখ আজমত আলীর ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও দলিল সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মী রানী স্বামী পরিত্যক্তা, নি:সন্তান ও ভূমিহীন। গ্রাম গ্রামে ঘুরে কাপড় বিক্রি করে চলে তার একার সংসার। যন্ত্রাইল ইউনিয়নের জালালচর মৌজার ১নং খাস খতিয়ান ভুক্ত আরএস ৫১৯নং দাগের ১৮ শতাংশ কৃষি জমি ২০০৯ সালে বন্দোবস্ত পান লক্ষ্মী রানী। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে তৎকালীন ঢাকা জেলা প্রশাসক ৪৯১০/০৯ নং দলিল মূলে ভূমিহীন হিসেবে ঐ জমি তাকে ৯৯বছরের বন্দোবস্ত দেয়। তৎকালীন নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্দেশে সার্ভেয়ার লক্ষ্মী রানীকে জমিটি বুঝিয়ে দেন। সেই মোতাবেক নামজারি ও খাজনাদি পরিশোধ করে ফসল রোপন করে আসছিলেন।

লক্ষ্মী রানী পালের অভিযোগ, সম্প্রতি জালালচর গ্রামের মো. হাসমত ঐ জমি দাবী করে সীমানা পিলার তুলে ফেলেন। আদালতে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেও হেরে যাওয়ার ভয়ে উঠিয়ে নিয়ে গেছেন। এবছর বর্ষার পর জমিতে রোপন করা খেসারী ডাল মো. হাসমত তার ভাড়াটে বাহিনী দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কথাও তিনি শুনছেন না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. চঞ্চল জানান, জমিটি হিন্দুদের ছিল বলে জানি। আরএস রেকর্ড অনুযায়ী প্রশাসন ভূল করেনি। লক্ষ্মী জমিটিতে ফসল রোপন করে আসছিল। তাই দেখে আসছি।

এবিষয়ে মো. হাসমত জানান, এটা তার পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমি। ভূল বসত রেকর্ড হয়নি। আগের মামলায় লেখা ভুল হয়েছিল। তাই, তুলে নিয়েছিলাম। আবার মামলা করেছি।