গ্যাস সংযোগ হলেই নবাবগঞ্জ হবে আলোকিত শহর: সালমা ইসলাম

 

দোহার-নবাবগঞ্জবাসীকে দেয়া আমার নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করতে চাই। দলমতের বাইরে সবাইকে নিয়েই আমি সে কাজটি সম্পন্ন করতে চাই। পদ্মা ভাঙন রোধের কাজ শুরু হয়েছে। এখন এ অঞ্চলকে আধুনিক নগরায়ণে গ্যাস সংযোগ হলে দোহার-নবাবগঞ্জ হবে আলোকিত শহর। সেই চেষ্টাই এখন আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে আশা করি সেটাও পূরণ হবে। বৃহস্পতিবার বিকালে নবাবগঞ্জের শোল্লা ইউনিয়নের শোলানগরে জাতীয় পার্টিতে যোগদান অনুষ্ঠানে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি এ কথা বলেন।

জাতীয় পার্টির নেতা আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সালমা ইসলাম বলেন, উন্নয়নের কাছে কোনো দল বা প্রতীক নেই। আমি আপনাদের কাছের মানুষ, আপনজন। আগামী দিনে সবাইকে আমার পাশে চাই। আমিও আপনাদের জন্য কাজ করে যাব।

অনুষ্ঠানে অ্যাডভোকেট মোজাহার আলী ও বাবুল হোসেনের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী সালমা ইসলাম এমপির উন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ করে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। এ সময় নবাগত নেতাকর্মীরা সালমা ইসলাম এমপির পাশে থেকে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সভায় সালমা ইসলাম এমপি বলেন, শোল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি, কালীগঙ্গা নদীর ওপর পাতিলঝাঁপ দত্তখণ্ড সেতুর কাজ দ্রুত শুরু হবে। এ ইউনিয়নে আড়াই কোটি টাকায় তিনটি রাস্তার কাজ চলমান আছে। আরও তিনটি রাস্তা দ্রুত পাকা করার উদ্যোগ চলছে। উপস্থিত ছিলেন শোল্লা ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান তুহিনুর রহমান, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার নুরুল আনোয়ার বেলাল, নবাবগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব শরফুদ্দিন শরীফ, যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল আহমেদ প্রমুখ।

দোহার-নবাবগঞ্জে জমে উঠেছে প্রচারণা

আগামী ২৮শে ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা জেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনে সদস্য পদের লড়াইয়ে মাঠে রয়েছেন বিপুলসংখ্যক প্রার্থী। তবে তাদের বেশির ভাগই ক্ষমতাসীন দলের একে অপরের প্রতিপক্ষ। যে কারণে মাঠের উত্তাপ ততটা না থাকলেও জেতার জন্য মরিয়া হয়ে কাজ করছে প্রার্থীরা। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বাড়িতে অফিসে গিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে।

জেলার দোহার ১৫নং নবাবগঞ্জে ১৪টি ইউনিয়নকে দুই ভাগে ১৩ ও ১৪নং ওয়ার্ড করা হয়েছে। এতে সদস্য পদে ২২ জন প্রার্থী হয়েছেন ও সংরক্ষিত মহিলা পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে দোহারের ১৫নং ওয়ার্ডে ৮ জন, নবাবগঞ্জের ১৩ নং ওয়ার্ডে ৮ জন ও ১৪নং ওয়ার্ডে ৬ রয়েছে। এই তিন ওয়ার্ডে মহিলা প্রার্থী হয়েছেন আনার কলি পুতুল (হরিণ), মাহমুদা আক্তার (দোয়াত কলম), রেশমা আক্তার (মাইক), জয়নব খান জলি (ফুটবল), শামীমা আক্তার বীথি (পাখা)। দোহার নবাবগঞ্জে ২০৫ জন ভোটার রয়েছে। প্রতিদিনই এসব ভোটারের দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা।

নবাবগঞ্জের ১৩নং ওর্য়াডে প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাসেত, ভাস্কর চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এসএম সাইফুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউর রহমান রেজা, বক্সনগর ইউরিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  শাহীন খান, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক  রাকিব পত্তনদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা দেওয়ান আওলাদ হোসেন ও শামীম মাহমুদ।

১৪নং ওয়ার্ড নবাবগঞ্জের সদরসহ পশ্চিমাঞ্চলে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পলাশ চৌধুরী, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান রনি, নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার সরকার, আকমল হোসেন,  আলহাজ আরিফুর রহমান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির আহমেদ উদ্দিন পান্নু।

১৫নং ওয়ার্ড দোহারে প্রার্থী হয়েছেন মো. সালাহউদ্দিন, মো. তরুণ, শামীম বেপারি, হুমায়ন কবির, মো. বাসার, মো. শাজাহান, রিপন হোসেন ও হাবিবুর রহমান।

প্রার্থীরা জানান, সাধারণ তৃণমূলের ভোটারের নির্বাচন থেকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে জনপ্রতিনিধিদের ভোট আদায় অনেকটাই কষ্টকর। তবুও তারা ভোটারদের মন আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

ঢাকা জেলা পরিষদ নির্বাচনঃ নবাবগঞ্জের ১৪নং ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের দাবি

 

ঢাকা জেলা পরিষদ নির্বাচনে ঢাকার নবাবগঞ্জের ১৪নং ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন ৬ সদস্য প্রার্থীর ৪ জন। এ বিষয়ে তারা রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।

 

আবেদনসূত্রে জানা যায়, উপজেলার কলাকোপা, বান্দুরা, যন্ত্রাইল, নয়নশ্রী, বারুয়াখালী, জয়কৃষ্ণপুর, শিকারীপাড়া ইউনিয়ন নিয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৪নং ওয়ার্ড গঠিত। নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র নবাবগঞ্জ সদরে হওয়ায় ওয়ার্ডের এক প্রান্তে পড়েছে। তাই রাজনৈতিক প্রভাব ও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। তাছাড়া মধ্যবর্তী স্থান বারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা বারুয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র হলে ভোটারদের যাতায়াতে নিরাপদ ও সহজতর হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষতার জন্য কেন্দ্র পরিবর্তনের আবেদন জানান তারা। আবেদনকারী সদস্য প্রার্থীরা হলেন, মোহাম্মদ আকমল হোসেন, মো. পলাশ চৌধুরী, আলহাজ আরিফুর রহমান খান ও মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন আহমেদ, দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজের ভিপি ওয়াহিদুজ্জামান রনি ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার সরকার।

 

সদস্য প্রার্থী মো. পলাশ চৌধুরী জানান, কেন্দ্র মধ্যবর্তী স্থানে হলে যাতায়াতে সুবিধা হবে এবং ভোটাররা নির্বিঘেœ ভোট প্রয়োগ করতে পারবেন। কেন্দ্র রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত রাখা সম্ভব হবে।

 

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাকিল আহমেদ জানান, রিটার্নিং অফিসার জেলা প্রশাসক মহোদয়। তাই নির্বাচন সংক্রান্ত সকল বিষয় এবং ভোটকেন্দ্র কোথায় হবে না হবে তার এখতিয়ারভুক্ত। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমি তা বাস্তবায়ন করব। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কোনো প্রার্থী যেন আচরণবিধি লঙ্ঘন না করে তা দেখভাল করব।

দোহারে দাঁতের চিকিৎসায় দুর্দশা   

 

দোহার পৌরসভার জয়পাড়ায় আধুনিক বিপণিবিতান আর সরকারি-বেসরকারি অফিসের গমগমে ভিড়। সেসব ছাপিয়ে একটু পরপর চোখে পড়ে বেসরকারি দাঁতের চিকিৎসালয়। খোঁজখবর নিয়ে আর ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগের সেবার মান খারাপ। অনিয়মও আছে।

রাজধানী ঢাকা থেকে দোহার উপজেলা মাত্র ঘণ্টা তিনেকের পথ। এখানকার অনেক মানুষ বিদেশে কাজ করেন। প্রবাসী আয়ের সুবাদে মানুষজন মোটামুটি সচ্ছল। বেসরকারি চিকিৎসাসেবার বাজারটি বড়। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে দোহারে দাঁতের চিকিৎসালয় আছে ১৫টি, এর ১০টিই পৌরসভায়।

দাঁতের চিকিৎসালয়গুলো ছোট, চিকিৎসকের চেম্বারের মতো। একজন নিবন্ধিত দন্তচিকিৎসক স্থানীয় সরকারের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চিকিৎসালয় খুলতে পারেন। পৌরসভার কর কার্যালয়ের তালিকার তথ্য মিলিয়ে দেখা যায়, সদরে অন্তত তিনটি চেম্বার ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই চলছে। তা ছাড়া গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে আটটি দন্তচিকিৎসালয় ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ চেম্বারে অচিকিৎসকেরা সেবা দিচ্ছেন। অনেক চেম্বার ঘুপচি, সাজসরঞ্জাম ও ঘরদোরও মলিন।

এসব চেম্বারের মাত্র একটির মালিক ও চিকিৎসক যথাযথভাবে নিবন্ধিত। তিনটি চেম্বারে ঢাকা থেকে চিকিৎসক আসেন। বাকিগুলোতে চিকিৎসকের কাজ করছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট বা চিকিৎসা সহায়তাকর্মীরা। চারটিতে অচিকিৎসক মালিকেরা নিজেরাই চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অদূরে আলিফ ডেন্টাল কেয়ার। এর মালিক এম এ কুদ্দুস বললেন, লাইসেন্সের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেছেন। তিনি অবশ্য কোনো কাগজ দেখাননি। কুদ্দুস নিজে চিকিৎসক নন। তাঁর কথা, ‘আমার প্রতিষ্ঠানে সব চিকিৎসকের অনুমোদন আছে।’ এই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আছেন। আর ঢাকা থেকে নিয়মিত একজন চিকিৎসক আসেন। তবে তিন দিন ঘুরে দেখা যায়, কুদ্দুস নিজে এবং ওই টেকনোলজিস্ট চিকিৎসকের মতোই রোগী দেখছেন।

অননুমোদিত চিকিৎসকের হাতে খারাপ সেবার দায়ে গত ২৯ আগস্ট উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত আলিফ ডেন্টালকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ বলছে, একই কারণে সেদিন সবুজ ডেন্টাল কেয়ার  ২০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছিল। দাঁতের চিকিৎসালয়গুলোতে প্রায়ই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছে মুক্তা ডেন্টাল কেয়ার। ঘুপচি একটি ঘরে দাঁতের চিকিৎসার দুটি চেয়ার বসানো। রোগী চেয়ারে বসার পর শুধু চিকিৎসকের দাঁড়ানোর জায়গাটুকু থাকে। চেম্বারটির মালিক গোপাল চন্দ্র রায় দাঁতের চিকিৎসক নন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ‘দাঁতের সার্জন’ এখানে রোগী দেখেন। কিন্তু উপজেলা হাসপাতালে প্রায় এক মাস ধরে কোনো দাঁতের সার্জন নেই—এ কথার জবাবে তিনি বলেন, সেখানকার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আর সহকারী সার্জনরা এখানে বসেন। তাঁদের দেখাদেখি গোপাল নিজেও এখন দাঁত তোলেন এবং দাঁত ও মাড়ির ময়লা পরিষ্কার (স্কেলিং) করেন।

নারিশা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. শামসুদ্দিন তাঁর মেয়ের দাঁত ফেলতে মুক্তা ডেন্টালে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘এর আগে একবার আসছিলাম। বাড়ি থেকে কাছে হওয়ায় এখানে চিকিৎসা নিতে আসি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম আল আমীন বলেন, অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের ঠিকঠাক কাগজপত্র নেই। সেবার মান ভালো না। তাদের আপাতত কাজ বন্ধ রেখে এসব ঠিক করতে বলা হয়েছে। ঠিক না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোহারে পদ্মায় বাঁধ নির্মাণের প্রাথমিক কাজের উদ্বোধন

 

অবশেষে দোহার উপজেলার ভাঙনকবলিত এলাকায় বহু প্রত্যাশিত বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নের অরঙ্গবাদ থেকে বাহ্রা ঘাট অবধি ৩.০৫ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়েছে।

প্রকল্পটির বরাদ্দ পাওয়ার পরও দীর্ঘদিন নানা জটিলতায় বাঁধের নির্মাণ কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ও দ্রুত নদীর অব্যাহত ভাঙন রোধে গত বুধবার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বাঁধ নির্মাণের প্রথম ধাপ নদী তীরে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার প্রাথমিক কাজের উদ্বোধন করেন।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় ইঞ্জিনিয়ার মো. কায়কোবাদ, এসও আবুল কালাম আজাদ, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, টাক্স ফোর্স প্রধান কাজী তোফায়েল আহম্মেদ, টাক্স ফোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, নৌবাহিনীর প্রতিনিধি প্রাঃ লেঃ (অব.) আবুল বাশার, নয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শামীম আহম্মেদ হান্নান, প্রকল্পটির নির্মাণ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হুসেইন এন্ড সন্সের চেয়ারম্যান ব্রিঃ জেঃ (অব.) আহমেদ সেলিম এবং ব্রিঃ জেঃ (অব.) মো. ফজলুর রশিদ মৃধা, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক এমএ হালিম, সাব-কন্ট্রাক্ট নেয়া প্রতিষ্ঠান দোহার এন্টারপ্রাইজের মালিক আবদুল আওয়াল, রাব্বী এন্টারপ্রাইজের মালিক আলমগীর হোসেন প্রমুখ। গত সপ্তাহে ঝটিকা সফরে নির্মাণাধীন বাঁধের কাজ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্পখাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। সে সময় তিনি দ্রুত বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়ে যান বলে জানা গেছে।

জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বাঁধটির নির্মাণ কাজ শেষ করবে বলে জানা গেছে, যা শেষ করতে তিন বছর সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২১৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এখন বরাদ্দকৃত সেই অর্থের ১৮৮ কোটি টাকার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. কায়কোবাদ। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের দাবি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় ও তার বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা, দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখছে। উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, অবশিষ্ট বাঁধের ৭.০৫ কিলোমিটার অংশের কাজের সার্ভে শেষ করা হয়েছে। দ্রুত বাঁধটির নির্মাণ কাজ শেষ করে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও পরিকল্পনামন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল এমপিসহ বিশিষ্টজনদের।

দোহার-নবাবগঞ্জে গির্জা ও বাড়িতে সাজ সাজ রব

 

আর মাত্র তিন দিন পর বড়দিন। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে দোহার-নবাবগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের ৫টি গির্জা ও ১৮টি গ্রামের খ্রিষ্টান বাড়িগুলোতে সাজ সাজ রব।

বাড়িগুলোর সামনে সাজানো হচ্ছে ক্রিসমাস ট্রি। মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে ও পোস্ট কার্ডের মাধ্যমে অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। অতিথি আপ্যায়নের জন্য বাড়িতে বাড়িতে তৈরি করা হচ্ছে রকমারি পিঠা।

গির্জা ও উপধর্মপল্লিগুলোকে সাজানো হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ঝলমলে আলোকসজ্জায়। গির্জার ভেতরে দৃষ্টিনন্দন ডিসপ্লে করা হবে। প্রাঙ্গণে কুঁড়েঘর নির্মাণ করা হয়েছে। তাতে রাখা হবে মাতা মেরির কোলে যিশুখ্রিষ্টের মূর্তি।

বড়দিন উপলক্ষে নবাবগঞ্জের বান্দুরা বাজারের তৈরি পোশাক বিপণিবিতানগুলোতে ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে। বিক্রিও ভালো।

বান্দুরা বাজারের মুকুল বস্ত্রালয়ের মালিক মো. মুকুল প্রথম আলোকে বলেন, রুচিশীল রকমারি পোশাকের সমাহারে দোকান সাজানো হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার বিক্রি বেশি।

তুইতাল গ্রামের গৃহবধূ কিরণ গোমেজ বলেন, ‘বড়দিন উপলক্ষে অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য আমরা সপ্তাহ খানেক ধরে বিভিন্ন ধরনের পিঠাপুলি ও কেক তৈরি করছি। আমাদের অনেক আত্মীয়স্বজন দেশের বাইরে ও ঢাকায় বসবাস করে। বড়দিন উপলক্ষে তারা প্রতিবছর গ্রামে আসে। সবাই মিলে উৎসব উদ্যাপন করি। তাদের জন্য হরেক রকমের খাবার রান্না করা হবে।’

বান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দিলীপ গোমেজ বলেন, এ উপজেলার ১৮টি গ্রামে ৫টি গির্জা আছে। এর মধ্যে হাসনাবাদ এলাকায় রয়েছে পবিত্র জপমালা রানির গির্জা। এ ছাড়া গোল্লা, তুইতাল, সোনাবাজু ও বক্সনগরে গির্জা আছে। বড়দিন উপলক্ষে আগামী শুক্রবার থেকে উৎসব শুরু হবে। ১৮টি গ্রাম ও গির্জা এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

নবাবগঞ্জের হাসনাবাদ জপমালা রানির গির্জার ফাদার ম্যাক্সওয়েল বলেন, নবরাজ খ্রিষ্টকে গ্রহণ করতে বড়দিনের নয় দিন আগে থেকে নভেনা খ্রিষ্ট যাগ বা পাপস্বীকার পর্ব চলছে। দোহার, নবাবগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ১৮টি গ্রামের প্রায় ৩ হাজার পরিবার উৎসব উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বড়দিনের কীর্তনের (ক্যারল) মধ্যে দিয়ে এ উৎসব শেষ হবে।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল বলেন, গির্জা ও আশপাশের এলাকায় সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। র্যা ব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর পাশাপাশি সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।

নয়নশ্রী ইউনিয়নের যুবলীগের কমিটি গঠন

 

ঢাকার নবাবগঞ্জের নয়নশ্রী ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে মুরাদ আলী সিকদারকে সভাপতি ও মো. খোকন মোল্লাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৪৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সারোয়ার হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম কমিটির অনুমোদন দেন।

মঙ্গলবার সকালে অনুমোদন করা সাংগঠনিক প্যাড সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেন। উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দোহারে ২০ লাখ ঢাকা নিয়ে ব্যবসায়ী উধাও

 

ঢাকার দোহারে সত্যজিৎ দাস (৪২) নামে এক ব্যাক্তি স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের ২০ লাখ ঢাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে ব্যবসায়ীরা। সত্যজিৎ দাস ঢাকার দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামের গোসাই দাসের ছেলে।

জানা যায়, দোহার উপজেলার কার্তিকপুর বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির মিতালী অলংকার নিকেতনের মালিক সত্যজিৎ দাস ক্যাসিয়ার ছিল। তাকে ব্যবসায়ীরা খুব বিশ্বাস করতো। তাই সমিতির সব টাকা তার কাছে থাকে। প্রতি রবিবার হাট শেষে সন্ধ্যায় সমিতির হিসাব নিয়ে বসতো সদস্যরা। সমিতির সদস্য সুকুমার দাস (৪০) জানায়, রবিবার সকাল থেকে তার মিতালী অলংকার নিকেতন বন্ধ ছিল। সন্ধ্যা তার মোবাইল বন্ধ থাকায় বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ঘরে তালা দেওয়া।

প্রতিবেশী সম্পা রানী (৫০) জানায়, তারা সহপরিবারে শনিবার রাতে ইন্ডিয়া চলে গেছে।

এই ব্যাপারে দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানায়, এখনও আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

নবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিরাপত্তা কর্মী নিহত

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবকও আহত হয়েছেন।

রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলা সদর জালালপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফজল হক উপজেলার বলমন্তচর গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে। তিনি ওয়ান ব্যাংক নবাবগঞ্জ শাখার নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। দুই মোটরসাইকেল আরোহী রিফাত (২০) ও মানিক (২০) গুরুতর আহত হয়ে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মহির উদ্দিন জানান, লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঢাকা জেলা পরিষদ নির্বাচনঃ দোহার-নবাবগঞ্জে জমে উঠেছে প্রচার

 

ঢাকা জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনে সদস্যপদে লড়াইয়ে মাঠে রয়েছেন অনেক প্রার্থী। তাদের বেশিরভাগই ক্ষমতাসীন দলের। মূলত তারাই একে অপরের প্রতিপক্ষ। এ কারণে মাঠের উত্তাপ ততটা না থাকলেও জেতার জন্য মরিয়া হয়ে কাজ করছেন প্রার্থীরা। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বাড়িতে অফিসে গিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে তারা। জেলার দোহারকে ১৫ নম্বর, নবাবগঞ্জে ১৪টি ইউনিয়নকে দুই ভাগে ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড করা হয়েছে। এতে সদস্যপদে ২২ প্রার্থী হয়েছেন ও সংরক্ষিত পদে ৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে দোহারের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৮, নবাবগঞ্জের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৮ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জন রয়েছেন। ওই তিন ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছেন আনারকলি পুতুল (হরিণ), মাহমুদা আক্তার (দোয়াত-কলম), রেশমা আক্তার (মাইক), জয়নব খান জলি (ফুটবল) ও শামীমা আক্তার বিথী (পাখা)। দোহার-নবাবগঞ্জে ২০৫ ভোটার রয়েছেন। প্রতিদিনই ওইসব ভোটারের দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা।

নবাবগঞ্জের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাসেত, ভাস্কর চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এসএম সাইফুল ইসলাম, রেজাউর রহমান রেজা, শাহীন খান, রাকিব পত্তনদার, দেওয়ান আওলাদ হোসেন ও শামীম মাহমুদ। ১৪ নম্বর ওয়ার্ড নবাবগঞ্জের সদরসহ পশ্চিমাঞ্চলে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি পলাশ চৌধুরী, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান রনি, স্বপন কুমার সরকার, আকমল হোসেন, আরিফুর রহমান খান ও নাসির উদ্দিন পান্নু। ১৫ নম্বর ওয়ার্ড দোহারে প্রার্থী হয়েছেন মো. সালাহ উদ্দিন, মো. তরুণ, শামীম বেপারী, হুমায়ন কবির, মো. বাসার, মো. শাজাহান, রিপন হোসেন ও হাবিবুর রহমান। ২৮ ডিসেম্বর ওই পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।