দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের ৬নং পশ্চিম চর সংলগ্ন মেঘুলা এলাকায় মাদরাসা ও এতিমখানা সংলগ্ন একটি রাস্তায় দুই লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনগণ ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে জনভোগান্তি আরও বেড়েছে।
উল্লেখ্য, মেঘুলা রওজাতুল ইসলাম দারুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানা সংলগ্ন রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি পরিবার চলাচল করে। জনস্বার্থে এই রাস্তাটি টেকসইভাবে নির্মাণ ও পাড় বাঁধাইয়ের প্রয়োজনীয়তা বহুদিন ধরেই স্থানীয়ভাবে আলোচিত ছিল। প্রথমে এলাকার জনগণ ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট মেম্বারকে বিষয়টি অবহিত করলে, পরবর্তী এক জনপ্রতিনিধি প্রকল্পটি পাশ করিয়ে নেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তাটিকে মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত অর্থ যোগ করার কথাও বলা হয়েছিল, যাতে তা টেকসই হয়। কিন্তু বাস্তবে কাজের গুণগত মান ছিল একেবারেই নিম্নমানের। কয়েকদিনের মধ্যেই রাস্তাটির পাড় ধসে পড়ে এবং কাজের উপকারিতা একপ্রকার শূন্যে নেমে আসে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের অর্থ মূলত ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট মেম্বারের পকেট ভারী করতেই ব্যয় হয়েছে, বাস্তব উন্নয়ন হয়নি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা চাইছিলাম রাস্তা এমনভাবে করা হোক যাতে অন্তত ১০ বছর কোনো সমস্যা না হয়। কিন্তু কয়েক সপ্তাহেই সব ভেঙে পড়েছে। এই টাকা তো সরকারি, মানে আমাদেরই।”
অন্যদিকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, “আমাদের এতিম ছাত্রদের চলাচলের প্রধান রাস্তা এটি। উন্নয়ন হয়নি বরং আরও বিপদ বাড়লো।”
এ বিষয়ে এলাকাবাসী যথাযথ তদন্ত এবং প্রকল্পটির কাজ পুনরায় সঠিকভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তাঁরা।
এলাকার বিশিষ্টজনদের মতে, সরকারি অর্থে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের নামে এমন অনিয়ম একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ বাড়ায়, অন্যদিকে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়। নারিশার এ প্রকল্পের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
