সোনাহাজরায় মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত আয়ানের দাফন

রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় দগ্ধ নবাবগঞ্জের সাহিল ফারাবি আয়ানের (১৪) গতকাল পরলোক গমন করেছে। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সাইল আয়ান এর জানাজা আজ বাদজোহর সোনাহাজরা মাদরাসার প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়। এরপরে তাকেই কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

আয়ান সোনাহাজরা মুন্সি বাড়ীর সন্তান, তার বাবার নাম মোহাম্মদ আলী মাসুদ। মোহাম্মদ আলী মাসুদ পরিবার নিয়ে মিরপুর মধ্য মনিপুর এলাকায় থাকত।

সাহিল ফারাবি আয়ানের চাচা ডা. মোস্তফা কামাল আরেফিন বলেন, “আয়ান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো। আল্লাহ তায়ালা আয়ানকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। শহীদী মর্যাদা দান করুন। আপনারা দোয়া করবেন ভাই।”

উল্লেখ্য, রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় দগ্ধ সাহিল ফারাবি আয়ান রোববার (২৭ জুলাই) দিনগত রাত পৌনে ২টায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

সোমবার (২৮ অক্টোবর) সকালে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, আয়ানের শ্বাসনালীসহ শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

ক্রিটিক্যাল অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে ছিল সে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, এ নিয়ে ঘটনাটিতে ইনস্টিটিউটে ১৮ জনের মৃত্যু হলো। এখন ভর্তি আছে ৩৩জন। যাদের মধ্যে তিনজন এখনও আইসিইউতে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছে।

নারিশায় আবারও ডাকাতি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

এমএস বেপারী: দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নে একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ভোররাতে নারিশা পশ্চিম চরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হ্যাঙ্গার লাইন সুপার শপের মালিক মামুন বেপারীর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতদল হামলা চালিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা সমমূল্যের স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও বিদেশি মুদ্রা লুট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোররাত আনুমানিক ৪:০৫ মিনিটে ৭-৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল গ্রিল কেটে বাড়িতে প্রবেশ করে। ৪-৫ জন ঘরে ঢুকে এবং বাকি সদস্যরা বাইরে অবস্থান নেয়। ডাকাতদের কাছে দেশীয় অস্ত্র ও আধুনিক সরঞ্জাম ছিল। তারা পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে পাশের রুম থেকে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও ডলার লুট করে। আনুমানিক ৪:৪৫ ঘটিকায় তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ডাকাতরা প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৩০০ ডলার এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ নিয়ে যায় বলে, মামুন বেপারী জানিয়েছেন।

মামুন বেপারী বলেন, “তারা হঠাৎ করেই ঢুকে পড়ে এবং অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। আমরা প্রতিরোধের কোনো সুযোগ পাইনি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা সব কিছু লুট করে পালিয়ে যায়।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নারিশা ইউনিয়নে কয়েক মাস ধরেই ধারাবাহিকভাবে ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। রাতে নিয়মিত টহল হয় না। কমিউনিটি পুলিশও সক্রিয় নাই।

ঘটনার বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আলী বলেন, “আমরা ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে ডাকাতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। খুব শিগগিরই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

তিনি আরও জানান, “এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় কমিউনিটি পেট্রলিং ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

সম্প্রতি নারিশা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী মনে করছেন, প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই অপরাধীরা বারবার সাহস করে ডাকাতি ঘটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতন মহল অবিলম্বে ডাকাতদের গ্রেফতার, দ্রুত বিচার ও নারিশা ইউনিয়নে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। এ ধরনের ঘটনায় পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয়দের নিয়ে নিরাপত্তা টিম গঠন করতে হবে। অন্যথায়, ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতা ও জনঅবিশ্বাস তৈরি হবে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর প্রত্যাশা নতুন ওসি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবেন।

দোহারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৬ জন আটক

স্টাফ রিপোর্টার:ঢাকার দোহার উপজেলায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৬ জনকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। সোমবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের শিলাকোঠা মুন্সি বাড়ি এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ওই এলাকায় ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল অবস্থান করছে। তাৎক্ষণিকভাবে দোহার থানা পুলিশের একটি চৌকস দল সেখানে অভিযান চালায়। এলাকাবাসী বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে আশেপাশের লোকজন জড়ো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেকেই পালিয়ে গেলেও ৬ জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা সম্ভব হয়।

আটককৃতরা হলেন:

মো. জসিম (৪৩), পিতা ইয়াকুব আলী, গ্রাম শিলাকোঠা

দাউদ আহম্মেদ পাবেল (৪৯), পিতা মাহতাব উদ্দিন আহম্মেদ, একই গ্রাম

শাওন বেপারী (২৫), পিতা লুৎফর বেপারী, শিলাকোঠা

আল-আমিন শেখ (২০), পিতা মো. মোস্তফা, পশ্চিম শিলাকোঠা

শেখ নয়ন (২০), পিতা শেখ রহমান, গ্রাম আন্তা বাহ্রা

মিরাজ হোসেন (২৫), পিতা শেখ তোতা মিয়া, শিলাকোঠা

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, “আটককৃতদের কাছ থেকে ২টি চাপাতি ও ২টি লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁরা পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। আটক জসিম একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী; তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে।”

ঘটনার পর থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে আটককৃতদের আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ড চাওয়া হয়।

এদিকে, স্থানীয় শিলাকোঠা বাংলাবাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, “আটক ব্যক্তিরা মূলত মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত। ডাকাতির অভিযোগ সত্য কিনা, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।”

কবি নজরুল স্কুলে ২৮টি ফ্যান চুরি

শুক্রবার দিবাগত রাতে দোহার উপজেলার মেঘুলায় অবস্থিত কবি নজরুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চুরি হয়েছে। এছাড়াও, জানালা থেকে কাচ খুলে নেয়া হয়েছে। আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই লক্ষ টাকা। এই ব্যাপারে, দোহার উপজেলায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফ উদ্দিন এই প্রতিবেদককে বলেন, “চুরি হয়েছে নির্মিত নতুন ভবনে। কোনো পাহারাদার ছিল না। ঐ ভবনটি তাদের প্রাচীরের বাইরে থাকায় দীর্ঘদিন এভাবে পড়ে ছিল। সেখানে কোনো সিসি ক্যামেরা ও ছিলো না। পাহারাদার ছিল ভিতরে পুরনো ভবনের। ২৮ টি ফ্যান এবং জানালার গ্লাস চুরি হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ টাকা প্রায়।”

তিনি আরও বলেন, তারা এটি উদ্বোধন করতে পারেন নি কারণ মেয়েদের স্কুল। প্রাচীর নেই, উন্মুক্ত। ইতোমধ্যে, প্রাচীরের টেন্ডার পাশ ও হয়েছে। এই বিষয় আমরা দোহার থানায় আইনি সহযোগিতা নিয়েছি, জিডি করা হয়েছে।

দোহারে ইয়াবাসহ ভুয়া সাংবাদিক আটক

ক্রাইম রিপোর্ট, news39.net: দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের মৌড়া গ্রামের শাকিল ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক হয়েছেন। স্থানীয় যুবসমাজ তাকে বালুরচর এলাকা থেকে হাতেনাতে ধরে ফুলতলা পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করে। সে নিজেকে মুকসুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাহী সদস্য এবং দোহার উপজেলা প্রেসক্লাব নামে একটি কথিত বানোয়াট ও ভুয়া সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক বলে পরিচয় দিয়ে আসছিলো। বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাক্তির সাথে ছবি তুলে, সেগুলো ব্যবহার করে অপকর্ম চালিয়ে আসছিলো। এছাড়াও, আরেকটি বিতর্কিত মানবাধিকার সংগঠন এর নির্বাহী সদস্য বলে নিজেকে পরিচয় দিতো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শাকিল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, স্বর্ণ চোরাচালান, গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রিসহ নানা অপরাধে জড়িত। এলাকাবাসীর কাছে সে ‘ইয়াবা শাকিল’ নামে পরিচিত। এছাড়া, সে দোহার উপজেলার একটি ভূঁইফোঁড় সংগঠন ‘দোহার উপজেলা প্রেসক্লাব’-এর দপ্তর সম্পাদক পরিচয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং ঘুরে বেড়ায়। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকালে দোহার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া তাবাসসুম এর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত শাকিলকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারায় ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন।

এ বিষয়ে ইউএনও ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তানিয়া তাবাসসুম বলেন, “সাজাপ্রাপ্ত শাকিলকে তার পরিবারের মাধ্যমে আরও কারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে তথ্য দিতে বলা হয়েছে। দোহারে মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে।”

এই ব্যাপারে মুকসুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে। এর আগে সে সাধারণ সদস্য ছিলো বলে জেনেছি। এই ব্যাপারে খন্দকার আবু আশফাক ভাই এর সুস্পষ্ট নির্দেশনা মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট কেই কোন প্রকার অনুকম্পা পাবে না, প্রশ্রয় পাবে না।  উপরন্তু আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ফুলতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল আলম বলেন, “শাকিলকে মাদকসহ আটক করে আদালতের মাধ্যমে ৭ দিনের সাজা ও ৫০০ টাকা জরিমানা দেয়া হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাকিল নিজেকে বিএনপির স্থানীয় এক নেতার অনুসারী দাবি করে এলাকায় প্রভাব খাটাতেন এবং নিয়মিত সাধারণ মানুষকে হুমকি-ধামকিও দিতেন।

তার বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, “আমরা মাদকমুক্ত সমাজ চাই। তাই এলাকাবাসী মিলে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়েছি।

দোহার থানার দস্যুতা মামলায় ৪ আসামি গ্রেফতার

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকা জেলার দোহার থানার পুলিশ টিম দস্যুতা মামলার চারজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে । বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ।

৭ জুলাই ২০২৫ রাত আনুমানিক ২টার দিকে দোহার উপজেলার দক্ষিণ শিমুলিয়া তালপট্টি এলাকার বাসিন্দা মোঃ মোস্তফা ফকিরের বাড়িতে প্রবেশ করে আসামি সাগর মোড়ল (২৬) ও অজ্ঞাত আরও তিনজন। তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মোস্তফার স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং ছুরি দিয়ে মোস্তফা ফকির ও তার স্ত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

এসময় ভিকটিমের ঘর থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা লুট করে দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আসামি সাগর মোড়লের মুখের মাস্ক খুলে গেলে ভিকটিম তাকে চিনে ফেলেন।

ঘটনার পর মোস্তফা ফকির দোহার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন, যার ভিত্তিতে দোহার থানায় ৮ জুলাই একটি মামলা (নম্বর-০৯, ধারা ৩৯৪ পেনাল কোড) রুজু করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার জনাব মো: আনিসুজ্জামান পিপিএম দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিলে দোহার থানার পুলিশের একটি টিম অভিযানে চালিয়ে ৮ জুলাই অভিযানে এজাহারভুক্ত আসামি সাগর মোড়ল ছাড়াও আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন –
১। মোঃ সোহেল খান (২২), পিতা-কুদ্দুস খান, উত্তর শিমুলিয়া
২। শেখ কাজল (২৫), পিতা-মৃত শেখ সলিমুদ্দিন, উত্তর শিমুলিয়া (ভাড়াটিয়া)
৩। মোঃ আবুল খায়ের (৪০), পিতা-মৃত জব্বার সাড়েং, দক্ষিণ শিমুলিয়া

সকল আসামিকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত চলমান এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ

পাল্লেকেলের আলো ঝলমলে সন্ধ্যায় আজ শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মাঠে গড়াবে প্রথম ম্যাচ। এবারের সফরে এখনো সিরিজ জয় খুঁজে ফিরছে বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনে বরাবরই ধুঁকেছে বাংলাদেশ। তবে ফরম্যাট বদলে কিছুটা নতুনরূপে ফিরতে পারে দলটি—এমনটাই প্রত্যাশা সমর্থকদের। বিশেষ করে, ব্যাটিং ব্যর্থতার ভূত এবার না জাগালে সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব। অন্যদিকে, আগের দুই ফরম্যাটে হারায় লিটনের জন্যও এটি বড় পরীক্ষা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তার আগ্রাসী মেজাজ ও ক্রিকেট বোঝাপড়া দলকে সঠিক পথে নিতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, নাঈম শেখ, তৌহিদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, শামীম পাটোয়ারী, মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব ও সাইফউদ্দিন।

শ্রীলঙ্কা স্কোয়াড: চারিথ আসালাঙ্কা (অধিনায়ক), পাথুম নিসাঙ্কা, কুশল মেন্ডিস, দিনেশ চান্দিমাল, কুশল পেরেরা, কামিন্দু মেন্ডিস, আভিশকা ফার্নান্দো, দাসুন শানাকা, দুনিথ ওয়েলাগে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, মহেশ থিকশানা, জেফরি ভ্যান্ডারসে, চামিকা করুনারত্নে, মাথিশা পাথিরানা, নুয়ান থুশারা, বিনুরা ফার্নান্দো, এশান মালিঙ্গা।

জয়পাড়া তোহা বাজারে উদ্ধার হলো ১৫ শতাংশ সরকারি জমি

মাকসুমুল মুকিম : ঢাকার দোহার উপজেলায় জয়পাড়ার তোহা বাজারে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ২১টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। (৯ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রায় ১৫ শতাংশ সরকারি জমি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জয়পাড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা পৌরসভার জমিতে অবৈধ দোকানপাট স্থাপন করে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। প্রশাসন এর আগে বিভিন্ন সময় তাদের নোটিশসহ মাইকিং করে সতর্ক করেছিল। সর্বশেষ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসফিক সিবগাত উল্লাহর নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

এ বিষয়ে তাসফিক সিবগাত উল্লাহ বলেন, “জয়পাড়া বাজারে দখলকৃত সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। আমাদের এই উচ্ছেদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক তানিয়া তাবাসসুম জানান, তোহা বাজারের প্রায় অর্ধ একর সম্পত্তি থেকে আংশিক ১৫ শতাংশ জমি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত জমিতে প্রকৃত কৃষকগণ তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারবেন।

অভিযানে দোহার পৌরসভা প্রকৌশলী এম এম মামুনুর রশিদ, দোহার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন, জয়পাড়া বাজার বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি এস এম কুদ্দস, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আজিজসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

গায়েবি মামলায় জামিন নিতে আত্মসমর্পণ: দোহারের সুজনকে জেলহাজতে প্রেরণ

শরিফ হাসান: আওয়ামী লীগের দমনমূলক রাজনীতির শিকার আরিফুর রহমান সুজনকে শেষ পর্যন্ত জেলহাজতে পাঠানো হলো। সুজন দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের সন্তান, আকসু’র সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি।

বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের শাসনামলে ৩০ এর অধিক হয়রানি মামলার আসামি ছিলেন আরিফুর রহমান সুজন। সুজন আবুজার গিফফারী কলেজের ছাত্রসংসদের প্রথমে জিএস এবং পরবর্তীতে ভিপি ছিলেন। বর্তমানে রাজধানীর শাহজাহানপুর থানার একটি ওয়ার্ডে সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর সুজনের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন এবং পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। সোমবার রাজধানীর সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে, আদালত আরিফুর রহমান সুজনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় দোহারসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সুজনের শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। আমরা অবিলম্বে সুজন ভাইয়ের নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’ উল্লেখ্য, সুজন দীর্ঘদিন জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাসুল সা. ও ধর্ম অবমাননাকারী কবিরের শাস্তির দাবিতে স্বারকলিপি প্রদান

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কটূক্তি করার অভিযোগে অভিযুক্ত কবিরের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে স্বারকলিপি প্রদান করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দোহার থানা শাখা।

রবিবার (৬ জুলাই) দুপুরে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া তাবাসসুম ও দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আলীর কাছে এ স্বারকলিপি তুলে দেন সংগঠনটির সভাপতি হাফেজ মাওলানা মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল।

প্রতিনিধি দলের অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দোহার থানা ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহ-সভাপতি মাওলানা কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ নাজমুল হুদা প্রমুখ।

স্বারকলিপিতে বলা হয়, মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরমভাবে আঘাত করে কবির যে ঘৃণ্য কাজ করেছে, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন, “প্রিয় নবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, বরং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে আঘাত করার শামিল। এর যথাযথ বিচার না হলে দেশে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।”

ইউএনও তানিয়া তাবাসসুম ও ওসি হাসান আলী নেতৃবৃন্দের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শেষ পর্যন্ত, ইসলাম ও নবীপ্রেমিক মানুষের আবেগকে সম্মান জানিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্রুততম সময়ে অভিযুক্ত কবিরকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করার জোর দাবি জানানো হয়।