সাভারে সরকারি কালভার্ট বন্ধ করে মাছ চাষ

সাভারের পাথালিয়া ইউনিয়নের হাঁটুভাঙ্গা এলাকার প্রভাবশালী এক মাছ ব্যবসায়ীর কারণে ৩০টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। জানা যায়, ওই এলাকার পাশে একশ’ শতক জমিতে মাছ চাষ করেছেন ওই ব্যবসায়ী। পাশেই বিশাল মার্কেটও রয়েছে তার। এলাকার মানুষের ঘরের ব্যবহৃত পানি মার্কেটের কালভার্ট হয়ে তার পুকুরে এসে পড়ে এবং এতে নাকি ব্যবসায়ীর মাছের রেণু নষ্ট হয়। তাই নিজের লাভের কথা ভেবে তিনি এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ একমাত্র কালভার্টটি বন্ধ করে দিয়েছেন সিমেন্ট ঢালাই করে।

সরেজমিন দেখা গেছে, কালভার্ট দিয়ে পানি বের না হওয়ায় হাঁটুভাঙ্গা ও খেজুরটেক এলাকার প্রায় ত্রিশটি পরিবার পানিবন্দি হয় পড়েছে। কিন্তু তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি অবগত করা হলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি বলেও জানান ভুক্তভোগীরা।

পানিবন্দির কারণে চরম অসহায়ত্ব ও কষ্টের মধ্য দিয়ে মানবেতর দিনযাপন করছে পরিবারগুলো। বাড়িগুলোতে জমে আছে প্রায় হাঁটুপানি। রান্নাঘরে পানি উঠে যাওয়ায় ডুবে গেছে চুলাও। তাই রান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রুটি ও কলা খেয়ে দিন পার করছেন তারা। দেখা দিয়েছে খাবার পানির সংকট। জলাবদ্ধতার কারণে বৃদ্ধ ও শিশুরা পড়েছে বেশি বিপাকে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি শিশু পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে মানুষের কষ্ট বেড়েছে কয়েকগুণ। এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দুই মাস যাবৎ তার বাড়িসহ আশপাশের প্রায় ত্রিশটি বাড়ির লোকজন পানিবন্দি রয়েছেন। তিনি বলেন, এলাকার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মো. শরীফ গায়ের জোরে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র কালভার্টটি আটকে দিয়েছেন। এতে পানিবন্দি হয়ে এতগুলো মানুষ মানবেতর দিন পার করছে। এ ব্যাপারে তাকে বারবার বলা সত্ত্বেও তিনি কর্ণপাত করছেন না। তিনি আছেন তার মাছ বাঁচানো নিয়ে।

জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে মানুষের ভোগান্তি তৈরি করেছেন সেই প্রভাবশালী শরীফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, এলাকার মানুষের ব্যবহারের পানি আমার রেণুর প্রজেক্টে পড়লে রেণু মারা যাবে। তাই কালভার্টে এর ছিদ্র ঢালাই করে আটকে দিয়েছি। আর ওনাদের অনেকবার বলেছি, আপনারা পানি নিষ্কাশনের অন্য কোনো ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তারা সেটা করেনি। এতে আমার দোষ নেই। তারা বিকল্প ব্যবস্থা করে নিতে পারে। তবে সরকারি অর্থে নির্মিত পানি নিষ্কাশনের একমাত্র কালভার্টটির ছিদ্র তিনি কোন অধিকারে আটকে দিয়েছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকারি অর্থে কালভার্টটি নির্মিত হলেও কেবল তাদেও ক্ষেতে পানি সেচের কারণে তা দেয়া হয়েছিল। এখন ওই জমিতে ধান হয় না তাই কালভার্টটি বন্ধ করে তিনি মাছ চাষ করছেন। জলাবদ্ধতায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর সমস্যা কেন সমাধানের কোনো চেষ্টা করা হয়নি এমন প্রশ্নে দায়সারা জবাব দেন ব্যবসায়ী অনুগত স্থানীয় মেম্বার আবুবক্কর সিদ্দিক বাক্কা। এদিকে জলাবদ্ধতার সংবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ওই এলাকা পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আশুলিয়া সার্কেলের সহকারী (ভূমি) কর্মকর্তা বিকাশ বিশ্বাস। তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।

 

নবাবগঞ্জে ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ী অপহরণ, কুষ্টিয়া থেকে উদ্ধার

নবাবগঞ্জ উপজেলা থেকে ডিবি পরিচয়ে মো. ইমরান হোসেন (৩০) নামের ব্যবসায়ীকে অপহরণের একদিন পর কুষ্টিয়া থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল রোববার দুপুরে কুষ্টিয়ার মিলপাড়া রেলগেট এলাকা থেকে তাকে উদ্ধারের পর রাতে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ইমরান হোসেন নবাবগঞ্জ উপজেলার বৈকণ্ঠপুর-জালালপুর এলাকার মৃত মো. গোলাম আলীর ছেলে। তিনি উপজেলার বাগমারা বাজারে ইট, বালু, রড ও সিমেন্টের ব্যবসা করেন। ব্যবসায়ীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাগমারা বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে তার বড় ভাই হাবিবুর রহমান সেন্টু সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করছেন। শনিবার বিকালে নির্বাচনী প্রচারণায় বের হয়। অপরহণের আগে বাগমারা-বলমন্তচর সেতুতে একা দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দুই ব্যক্তি ডিবি পরিচয়ে কালো রঙের একটি হাইয়েচ গাড়িতে তাকে তুলে নেয়। এরপর চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে চেতনানাশক ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করে ফেলেন। সোমবার সকালে কুষ্টিয়ার একটি রেললাইনের পাশ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। ব্যবসায়ী ইমরান জানান, তার কাছে ব্যবসার প্রায় এক লাখ টাকা ছিল। সে টাকাও ভুয়া ডিবিরা নিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. মহির উদ্দিন নিউজ থার্টিনাইনকে বলেন, সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

এইচএসসিতে ১৫ মিনিট কম পরীক্ষা দিল দোহারের পরীক্ষার্থীরা

২৪ এপ্রিল সোমবার ছিল এসএসসির পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র পরীক্ষা। অবজেক্টিভ ২৫ মিনিট ও লিখিত পরীক্ষা ২ ঘন্টা ৩৫ মিনিট, মোট তিন ঘন্টা। সকালে এমনি নির্দেশ আসে বোর্ড থেকে। কিন্তু প্রশ্নে লিখিত পরীক্ষার সময় লেখা ছিল ২ ঘন্টা ২০ মিনিট। বোর্ড থেকে কেন্দ্র সচিব ও কলেজ অধ্যক্ষদের নিকট ম্যাসেজ আসে ২ ঘন্টা ৩৫ মিনিট পরীক্ষা নেবার নির্দেশ দিয়ে। ম্যাসেজটি হুবহু তুলে দেয়া হলো:

Dear Sir Please follow the instructions for HSC Exam 2017 of sub code 174 CQ time duration is two hours & thirty five minutes. Regards Controller, BISE, Dhaka

২ ঘন্টা ৩৫ মিনিট পরীক্ষা নেবার নির্দেশ মেসেজে আসার পরও মালিকান্দা কলেজ ও জয়পাড়া কলেজ কেন্দ্র নির্দেশ অনুসরণ করেনি। যার কারণে সময় বঞ্চিত ছাত্ররা ১ টি সৃজনশীল মানে ১০ মার্কে মত প্রশ্ন ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে পদার্থ বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ছাত্রদের এই ক্ষতির দায়ভার কে নিবে? – সে প্রশ্ন রেখেছে পরিক্ষার্থীরা।

জয়পাড়া কলেজ কেন্দ্রে মালিকান্দার ছাত্ররা নির্ধারিত সময় দাবী করলেও দেয়া হয়নি। এই বিষয়ে অনেকই বোর্ডে অভিযোগ করবে বলে জানিয়েছে।

নির্মাণের ৩ দিনেই ধসে পড়ল কিছুক্ষণ হল রোড: জনগণকে রাস্তা ঠিক করে নিতে বললেন মেয়র

নির্মাণের মাত্র ৩ দিনের মধ্যেই ধসে পড়েছে দোহার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের জয়পাড়া কিছুক্ষণ হল রোডের বিভিন্ন অংশ। রাস্তাটি ধসে পড়ার খবর পেয়ে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে জয়পাড়া কিছুক্ষণ হল রোডের অটোস্যান্ড এবং এর আশে পাশের বেশ কিছু অংশ বৃষ্টির পানিতে ধসে পড়েছে। সম্প্রতি দোহার পৌরসভার বিভিন্ন রাস্তাঘাট উন্নয়নের অংশ হিসেবে নির্মান করে ড্রেনসহ রাস্তা। তারই ধারাবাহিকতায় এ রাস্তাটিতেও ড্রেন সংযুক্ত করা হয়। পরে রাস্তা নির্মান করা হলেও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাটি মাথায় না রাখায় ড্রেনের ম্যানহোল থেকে রাস্তা নিচু করে তৈরি করা হয়।

রাস্তার তুলনায় ড্রেনের ম্যানহোল উঁচু হওয়ায় তা দিয়ে বৃষ্টির পানি সরতে না পেরে ম্যানহোলের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে যার ফলে এ ধসের সৃষ্টি।  এখন চলছে কালবৈশাখী মৌসুম। ফলে বৃষ্টি পাতের তোড় বছরের যে কোন সময়ের চেয়ে একটু বেশি বিধায় গত দুই দিনের সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি ধসে পড়ে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, এ বিষয়টি তারা বারবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে জানালেও কোন সংস্কারমুলক ব্যবস্থা না নিয়ে জনগনকে উপজেলায় গিয়ে অভিযোগ করতে বলেন।

এ ব্যাপারে দোহার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলমাস উদ্দিন নিউজ থার্টিনাইনকে বলেন, রাস্তাটি ধসে পড়ার কারন খুঁজে বের করে সে ব্যাপারে অতি দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কথা বলা হয় মঙ্গল এবং হেলাল নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মীর সাথে। সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে তারা প্রতিষ্ঠানের নাম না বলে উভয়েই ফোন কেটে সুইচ অফ করে রাখেন। পরে বার বার চেষ্টা করা হলেও তাদেরকে আর  ফোনে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে দোহার পৌরসভার মেয়র আব্দুর রহীম মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি নিউজ থার্টিনাইনকে বলেন, “স্থানীয় জনগণের যদি রাস্তা নিয়ে কোন অভিযোগ থাকে তবে জনগণকে রাস্তা ঠিক করে নিতে বলেন।” এ কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।

মেয়রের এমন মন্তব্যে পৌরসভার বাসীন্দাদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। দোহার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকন্দ নিউজ থার্টিনাইনকে বলেন, মেয়রের এ ধরনের বক্তব্য খুবই দু:খজনক। আশা করছি অতি দ্রুতই পৌর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

 

সামান্য বৃষ্টিতেই দোহার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা

ছবিটি দেখে মনে হতে পারে কোন জলাশয় কিংবা পুকুরের। কিন্তু না দোহার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের আজাহার আলী রোডের চিত্র এটি । পূর্ব লটাখোলা, পশ্চিম লটাখোলা, উত্তর লটাখোলা, চর লটাখোলার কিছু অংশ এবং লটাখোলা বিলের পাড়ের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত দোহার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড। এখানকার প্রায় প্রতিটি রাস্তাতে সামান্য বৃষ্ঠিতেই চোখে পড়ে এমন জলাবদ্ধতা। ওয়ার্ডটিতে নেই কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা। লটাখোলা চাঁদতারা ক্লাবের সামনে থেকে মরা গাং পর্যন্ত একটি ড্রেন নির্মানের কাজ আরো পাঁচ বছর আগে কিছুটা শুরু হলেও বর্তমানে তা থেমে আছে অর্থ সংকটের কারনে। ফলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এবং খাল বিল ভরাট করে ফেলায় বৃষ্টির পানি সরতে না পেরে তা রাস্তায় সৃষ্টি করছে জলাবদ্ধতার। এখন চলছে কালবৈশাখীর মৌসুম প্রায় প্রতিদিনই হচ্ছে ঝড় বৃষ্টি। ফলে পানি কোথাও সরতে না পেরে সৃষ্টি করছে জলাবদ্ধতার। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের। একটু সামনেই রয়েছে লটাখোলা শাহী জামে মসজিদ তারপাশেই লটাখোলা আজাহার আলী মেমোরিয়াল হাই স্কুল। রাস্তায় জলাবদ্ধতার কারনে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে মসজিদগামী মুসল্লি এবং স্কুলগামী হাজারো ছাত্র ছাত্রীদের। রাস্তায় ময়লা পানি জমে থাকায় তা থেকে জন্ম নিচ্ছে মশা মাছি এছাড়াও ময়লা পানিতে চলাচলের জন্য দেখা দিচ্ছে চুকলকানীসহ নানা রকম সমস্যার। ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে নিউজ থার্টিনাইনকে বলেন, দেশের প্রথম শ্রেনির পৌরসভায় বসবাস করছি, নিয়মিত পরিশোধ করছি পৌরকরও । অথচ আমরা পৌরসভার তেমন কোন সুযোগ সুবিধাই পাচ্ছিনা। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কি লাভ এমন পৌরসভা থেকে ? এর চেয়ে পৌরসভা না থাকাই অনেক ভাল।

এ বিষয়ে দোহার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বদরুল ইসলাম নিউজ থার্টিনাইনকে জানান,”আজাহার আলী স্কুল রোডে জলাবদ্ধতার বিষয়ে আমি অবগত আছি। অতিশীঘ্রই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে”।

নবাবগঞ্জে শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ছাত্র আহত

নবাবগঞ্জে শিক্ষকের বেত্রাঘাতে মো. মাহমুদ (৭) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্র গুরুত্বর আহত হয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল বুধবার দুপুরে উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের জৈনতপুর আশরাফুল উলুম মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষকের আশরাফুল ইসলাম ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক। আহত মাহমুদ ঐ মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের ছাত্র এবং স্থানীয় মো. সাকিব মোল্লার ছেলে।

আহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে ক্লাশ চলাকালিন সময়ে মাহমুদ হৈ চৈ করলে শিক্ষক আশরাফুলতাকে বেধর মারধর করেন। শুধু মারধর করেই সে ক্ষান্ত থাকেনি ঐ শিক্ষক। সে মাহমুদকে বেত্রাঘাতের বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি দেখায়। ভয়ে মাহমুদ ঘটনাটি কাউকে জানাইনি। বিকালে মাদ্রাসার অন্যান্য ছাত্রদের মাধ্যমে ঘটনাটি বাহিরে জানাজানি হয়ে যায়। এই সময় মাহমুদের পরিবার তাকে মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেন। এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে অভিযুক্ত শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম গা ঢাকা দেন। এই ঘটনার পর এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। তবে সন্ধ্যায় স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ এর সঠিক বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্খিতি স্বাভাবিক হন।

মাহমুদের কয়েকজন সহপাঠি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্লাশে দুষ্টামী করায় প্রথমে স্যার মাহমুদকে খারাপ ভাষায় বকাঝকা করেন। এক পর্যায়ে পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক বেত্রাঘাত করলে সে গুরুত্বর আহত হয়ে পড়েন। এ সময় স্যার মাহমুদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ঘটনাটি কাউকে জানাবি না। জানালে তোকে মেরে নতুন যে বিল্ডিং তৈরি করেছি সেখানে সন্ধ্যায় জানাজা দিমু।

আহত মাহমুদের মা রিমা বলেন. ভাবতে পারি না একজন শিক্ষক কিভাবে ছাত্রদের এভাবে মারতে পারে। ৮দিন যাবত শিক্ষক ছেলেটিকে বাসায় আসতে দেন না। দুষ্টুমীর কারণে ওকে এত মারধরের করেছে যে ছেলেটি আমার ভয়ে কথা বলছে না। আমি ঐ শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তি চাই।

স্থানীয়রার জানান, শিক্ষক আশরাফুলের বিরুদ্ধে এর আগেও ছাত্রদের মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে আমরা তাকে কিছু বলি নাই। কিন্ত এবার সে যে কাজটি করেছে তা ক্ষমার অযোগ্য।

এব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বেত্রাঘাতের কথা স্বীকার করে বলেন, ছেলেটির সাথে অন্য একটি ছেলের সমকামিতা রয়েছে। তাই তাকে একটু শাসন করা হয়েছে। তবে তার সাথে মাহমুদের সমকামিতা রয়েছে এ ব্যাপারে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেনি। এ সময় তিনি ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন।

 

 

 

শাশুড়ির মামলায় পুত্রবধূ গ্রেপ্তার

ঢাকার নবাবগঞ্জে যুবক আনোয়ারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার ঘটনায় তার স্ত্রী সম্পা আক্তারকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে থানার পুলিশ। গত বুধবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে দুপুরে নিহতের মা সালেহা বেগম বাদী হয়ে সম্পাসহ ৫ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

নবাবগঞ্জ থানার এসআই মো. আজহারুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার পর সম্পাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত বৃহস্পতিবার সকালে সম্পাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

অপশক্তিকে দমন করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় পদ্মা কলেজের

শেখ আলমগীর শিশিরঃ দুঃসহ অতীতকে ভুলে গিয়ে এবং অপশক্তিকে দমন করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে পদ্মা কলেজ পরিবার স্বাগত জানিয়েছে নতুন বছরকে। পহেলা বৈশাখের দিন সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের বৈশাখী পদচারনায় কলেজ ক্যাম্পাসে নতুন বছরের হাওয়া বইতে শুরু করে। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশ অনুযায়ী দিনের প্রথম প্রভাতেই অত্র কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মজিবুল হায়দারের নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রীর সমন্বয়ে একটি জাঁকজমকপূর্ণ মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রায় সকলের হাতেই শোভা পেয়েছিল বিভিন্ন প্লে­কার্ড,বাঘ, ফুল, পাখির প্রতিকৃতি, আনন্দ শোভাযাত্রাটি কলেজের পশ্চিম গেট দিয়ে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী বটতলা প্রদক্ষিণ করে প্রধান গেট দিয়ে কলেজ মাঠে এসে শেষ হয়।

দিবসটি উপলক্ষ্যে কলেজ প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ মজিবুল হায়দার বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালীদের প্রাণের উৎসব। নতুন বছর নিয়ে এসেছে নতুন শপথ, তাই আমাদেরকে একটি সুন্দর দেশ গঠনে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় “মঙ্গল শোভাযাত্রা” অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং ধর্ম, দর্লমত নির্বিশেষে সকলকে এই উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে আহবান করেন। হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় অত্র অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে নববর্ষের আগমনী সংগীত, নৃত্য, নাটক, কৌতুক ছাড়াও বাঙ্গালিদের পোশকের ঐতিহ্যের উপর একটি ব্যতিক্রমধর্মী ফ্যাশন শো’র আয়োজন করা হয়। এসময় কলেজের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ দেশকে এগিয়ে নিতে আমরা সবাই মিলে কাজ করবঃ সালমা ইসলাম এমপি

পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, সালমা ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপি বুঝি না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ দেশকে এগিয়ে নিতে আমরা সবাই মিলে কাজ করব। নারীর সম্মান রক্ষায় সব নারীকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই দেশ আরও উন্নতির দিকে যাবে। উন্নয়ন ও মানব সেবার রাজনীতিই আমার লক্ষ্য ও স্বপ্ন।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী নির্বাচনে দোহার নবাবগঞ্জ থেকে আপনাদের প্রতিনিধি হয়ে আমি নির্বাচন করব। আশা করি আপনারা আমার পাশে থাকবেন।এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য আমার দ্বার খোলা। যার যখন প্রয়োজন আমাকে ডাকবেন। আমি প্রতিটি গরিব-দুঃখী মানুষের ডাকেই সাড়া দেব। আপনারাই আমার ভাই-বোন।
তিনি আরও বলেন, সেটাকে সামনে রেখেই আমি কাজ করে যাচ্ছি। আমি মনে করি, আমার পাশে আপনারা থাকলেই আগামীর প্রত্যাশা পূরণ হবে। শুক্রবার ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার চকবাহ্রা মাঠে জাতীয় পার্টির সমাবেশ ও যোগদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। নবাবগঞ্জের মানুষ আমার সন্তান ও বাবা-মার সমতুল্য। তাই আপনাদের সম্মান দেয়া আমার দায়িত্ব-কর্তব্য। এ সময় সালমা ইসলাম নবাবগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরেন। বাকি কাজ সমাপ্ত করতে সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা চান।
যুথী হাসান মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাহ্রা ও আগলা ইউনিয়নের তিন শতাধিক নারী-পুরুষ এমপির হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এ সময় তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১ আসন থেকে সালমা ইসলামকে বিজয়ী করতে এখন থেকেই ঘরে ঘরে সমর্থন আদায়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

মালিকান্দা মেঘুলা স্কুলের ছাত্র মাহবুবুর রহমানকে আজ সংবর্ধনা

২১শে এপ্রিল শুক্রবার বিকাল ৩.০০টায় ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানকে সংবর্ধিত করছে মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল এন্ড কলেজ এর প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। উক্ত সংবর্ধনায় সঙ্গীত পরিবেশন করবে বিখ্যাত শিল্পী মমতাজ বেগম এমপি ও ক্লোজ আপ ওয়ান তারকা সালমা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ  ডাঃ মোঃ জালাল উদ্দিন আর শুভেচ্ছায় থাকবেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মজিদ।