ধানমন্ডী থেকে শফিকুল ইসলাম সেণ্টু গ্রেফতারের গুজব

ঢাকার ধানমন্ডীস্থ  আবাহনী ক্লাব সংলগ্ন স্টার কাবাবের গলি থেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও হজ্ব বাবা’র শিষ্য শফিকুল ইসলাম সেণ্টু গ্রেফতার হয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে রাত ১০.০০টায় গ্রেফতার করে।

সেখানে উপস্থিত নিউজ৩৯ এর সাংবাদিককে ডিবি’র এস আই জানান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে হজ্ব বাবার শিষ্য নামে পরিচিত শফিকুল ইসলাম সেণ্টুকে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে একা আটক করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে ২০০পিস ইয়াবা  উদ্ধার করা হয়। তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

এ ব্যাপারে শফিকুল ইসলাম সেণ্টুর স্বজনরা জানান, এটি একটি ষড়যন্ত্র। দোহার থেকে তাকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র।

জাতীয়করণের জন্য ২৮৭টি কলেজ চূড়ান্ত

0

জাতীয়করণের মহাকেলেঙ্কারি থামাতে জাতীয়করণের চূড়ান্ত তালিকা করে দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাতীয়করণের জন্য ২৮৭টি কলেজকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে সে তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) পৌঁছেছে। এই কলেজগুলো পরিদর্শন শেষে অর্থমন্ত্রণালয়ের সম্মতি নিয়ে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যেসব উপজেলায় সরকারি কলেজ নেই সেখানে একটি করে বেসরকারি কলেজকে জাতীয়করণের সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে এ তালিকা পাঠানো হয়ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক শামছুল হুদা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ২৮৭টি কলেজ জাতীয়করণে তালিকা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে অনেক কলেজ জাতীয়করণ হয়েছে। বাকিগুলো মাউশি সরজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন পাঠাবে। তিনি জানান, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাকি কলেজগুলো জাতীয়করণ হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ নিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে এর প্রতিবাদে আন্দোলন করেছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। সর্বশেষ ময়মনসিংহে ফুলবাড়িয়ায় পুলিশের গুলিতে একজন শিক্ষক মারা যান। মাউশি কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয়করণের শর্তানুযায়ী এই কলেজটি জাতীয়করণ হওয়ার কথা ছিল। মাউশির সরেজমিন রিপোর্টে তা-ই ছিল। কিন্তু অদৃশ্য কারণে সেই রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে যায়নি। এর বিপরীতে জাতীয়করণ হয় বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ।
মাউশির রিপোর্টের তথ্যমতে, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থেকে যে তিনটি কলেজের নাম পাঠানো হয়েছিল সেখানে স্থান পায় বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ। ফুলবাড়িয়া কলেজটি প্রতিষ্ঠিত ১৯৭২ সালে। আর ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কলেজটি ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান এমপি মোসলেম উদ্দিনের নামে মোসলেম উদ্দিন কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০০৯ সালে কলেজটির নাম করা হয় বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের এ কলেজটিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা তিনশ’র মতো, আর সাত বিভাগে অনার্সসহ ফুলবাড়িয়া কলেজের শিক্ষার্থী পাঁচ হাজার তিনশ। জাতীয়করণের মানদণ্ডে এই ফুলবাড়িয়া কলেজ এগিয়ে থাকলেও জাতীয়করণ হয় ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কলেজ। এসব কারণে ফুলবাড়িয়া কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্থানীয় মানুষের দাবি, ওই উপজেলা থেকে যদি কোনো কলেজ জাতীয়করণ করা হয় তাহলে এ কলেজটিই হবে। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় এমপির তদবিরের কারণে মন্ত্রণালয় আগে পিছে কোনো কিছু বিচার না করে শুধু নাম দেখেই ফুলবাড়িয়া কলেজকে বিবেচনায় নিয়েছেন। শুধু ফুলবাড়িয়া নয়, সারা দেশে অর্ধশতাধিক কলেজ জাতীয়করণে নিয়ে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে কয়েকজন সংসদ সদস্যও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে তাদের অভিযোগ ও ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। এমনকি দুর্নীতির প্রভাবে কোথাও কোথাও প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত কলেজ জাতীয়করণ হয়নি। রাজনৈতিক তদবির আর দলাদলির ফাঁদে পড়ে অনেক ঐতিহ্যবাহী কলেজও সরকারিকরণ থেকে ছিটকে পড়েছে। জানা গেছে, জাতীয়করণ নিয়ে প্রথম ধাপে ৭৯টি মডেল স্কুলকে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বাগত জানালেও দ্বিতীয় ধাপে অস্বচ্ছতা শুরু হয়। মডেল বাদ দিয়ে আরো নিজেদের পছন্দের প্রতিষ্ঠান খোঁজা হয়। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে গিয়ে বাদ পড়তে শুরু হয় ভালো মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরপর ১৯৫টি কলেজ জাতীয়করণ করার তালিকা আসে। সেটি এখন ২৮৭টিতে গিয়ে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক উপজেলায় একটি কলেজ সরকারি করার কথা জানান। এরপরই শুরু হয় জাতীয়করণের কাজ। এরই অংশ হিসেবে গত জুন ও আগস্টে দুটি তালিকা প্রকাশ হয়। নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে নম্বর দিয়ে গ্রেডিং করে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। গ্রেডিং করার সময় সবচেয়ে বেশি নম্বর পাওয়া কলেজকে এক নম্বরে এবং তার চেয়ে কম পাওয়া কলেজকে দুই নম্বরে রাখা হয়। এভাবে একটি উপজেলার সর্বোচ্চ ৪-৫টি কলেজকে তালিকাভুক্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। গ্রেডিং করার সময় শিক্ষক, শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, কলেজের ফলাফলের পরিসংখ্যান, ঐতিহ্যবাহী, নিজস্ব জমিসহ আরো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় দেখা হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মন্ত্রণালয় মানদণ্ডের কথা বললেও জাতীয়করণের ক্ষেত্রে তা সেভাবে অনুসরণ করেনি। এ নিয়ে সংসদ সদস্যরাও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

দোহারে প্রতারক বাবা ও মেয়ে আটক

দোহার উপজেলায় একাধিক প্রবাসীকে ‘প্রতারনার ফাদেঁট্রাশে ফেলুন ফেলে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া’র অভিযোগে দোহার থানা পুলিশ প্রতারক বাবা ও তার যুবতী মেয়েকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছে। আটককৃতরা হলেন উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের উত্তর শিমুলিয়া গ্রামের মৃত. আব্দুল লতিফ খালাসীর ছেলে তোতা খালাসী(৫৮) ও তার মেয়ে সিনথিয়া হোসাইন(২৭) ওরফে তিয়ানা হোসাইন ওরফে ঝিনুক মালা।

পুলিশ সুত্র জানায়, দোহার উপজেলার সৌদী প্রবাসী আবুল কালাম দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে দেশে আসলে প্রতারকচক্র তোতা খালাসী ও তার সুন্দরী মেয়ে ঝিনুক মালা সুকৌশলে কালামকে বাড়ীতে নিয়ে আটক করে এবং মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ছবি তোলে। একপর্যায়ে প্রতারক তোতা তার দলবল নিয়ে প্রবাসী কালামকে একটি নিকাহনামায় জোর করে টিপ ও স্বাক্ষর নেয়। একপর্যায়ে কালামের ব্যাগ খুলে নগদ বাইশ হাজার টাকা, পাসপোর্ট, রিটার্ন বিমান টিকেট, জাতীয় পরিচয় পত্র, ব্যাংকের চেক বইসহ অন্যান্য কাগজ পত্র লুটে নেয়। অতঃপর যাবতীয় কাগজপত্র ফেরৎ দেবে বলে ১০০ টাকার নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে টিপ ও স্বাক্ষর নেয় এবং নিকাহনামায় এক কোটি টাকা (!) কাবিনে ও দুইটি চেক পাতায় সিকিউরিটি বাবদ স্বাক্ষর নেয়। অভিযুক্ত তোতা কালামকে ঘটনা প্রকাশ করলে হত্যার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেন। মুক্ত হয়ে কালাম দোহার থানা পুলিশকে ঘটনা অবহিত করলে কালাম গা ঢাকা দেয়।

পুলিশ আরও জানায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য উঠে আসে। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে প্রবাসী মোবারক হোসেনের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ বাবদ আট লক্ষ টাকা আদায় করেন অভিযুক্ত তোতা খালাসী ও তার সুন্দরী মেয়ে ঝিনুক মালা। এ ঘটনা জানতে পেরে দোহার থানা পুলিশ নড়েচড়ে বসে। পুলিশ আরো জানতে পারে ঝিনুকমালা আশপাশের উপজেলার কয়েকজন প্রবাসীর বিরুদ্ধে দোহার থানায়  বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক জিডি করেছেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে পুলিশ গত সোমবার দিবাগত গভীররাতে তোতার বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে প্রতারক বাবা ও মেয়েকে আটক করে মামলা রুজু করে। মঙ্গলবার সকালে বাবা ও মেয়েকে ৫ দিনের পুলিশি জিঙ্গাসাবাদের আবেদন করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালত ১ দিনের জিঙ্গাসাবাদের আবেদন  মঞ্জুর করে।

এ বিষয়ে দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, আটককৃত প্রতারক বাবা মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার প্রবাসী পুরূষদের সাথে প্রতারনা করে বিয়ের নাটক সাজিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। প্রবাসী কালাম বিষয়টি অবগত করলে আমরা অভিযানে নেমে দীর্ঘদিন পর আটক করতে সমর্থ হই।

জাতীয় পার্টি চাঁদাবাজি দখলবাজিতে যুক্ত নয়;অ্যাডঃ সালমা ইসলাম এমপি

জাতীয় পার্টি উন্নয়নের রাজনীতি করে। আমরা কোনো বাহিনীতে বিশ্বাস করি না। আমার দলের কোনো নেতাকর্মী সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সঙ্গে জড়িত নয়। গত ১৭ এপ্রিল সোমবার দোহারের সুতারপাড়া মধুরচর গ্রামে জাতীয় পার্টি আয়োজিত যোগদান ও কর্মী সমাবেশে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি এ কথা বলেন।

সালমা ইসলাম আরও বলেন, বিগত সময়ের এমপি-মন্ত্রীরা লোক দেখানো কাজ করেছেন। গ্রামের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেননি। তাই অবহেলিত দোহার-নবাবগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোয় কোনো রাস্তাঘাট হয়নি। সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন নয়াবাড়ীতে পদ্মা নদীতে বাঁধ হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বিলাশপুর ও মধুর চরের ভাঙনকবলিত এলাকায় নদী শাসনের কাজ হবে। আপনারা আমার সঙ্গে থাকলে দোহার-নবাবগঞ্জের কোনো অলিগলি বাকি থাকবে না। সর্বত্রই উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে। সালমা ইসলাম এ সময় এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি রাস্তা ও দুইটি ছোট কালভার্ট নির্মাণের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে দুই শতাধিক নেতাকর্মী বিভিন্ন দল থেকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এ সময় সেখানে ছিলেন ঢাকা জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ, নবাবগঞ্জ উপজেলার সাবেক সভাপতি হুমায়ন কবির, যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান চৌধুরী রানা, দোহারের সভাপতি ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ, সদস্য সচিব আবদুল আলীম, বশির আহমেদ, হায়দার বেপারি, লোকমান হোসেন, সালাম মহুরী, মো. হারুন, শহিদুল ইসলাম, ডা. তরুণ, পারভেজ মোল্লা, আবদুল হাসেম, জসীম উদ্দিন পান্নু, নারী নেত্রী রেশমী হোসেন আজাদ, আসমা আক্তার রুমি প্রমুখ।

 

নবাবগঞ্জে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

নবাবগঞ্জ উপজেলায় আনোয়ার নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের দত্তখণ্ড চকপাড়া এলাকার একটি গাছ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত আনোয়ার ওই গ্রামের মালেক বেপারির ছেলে। স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক কলহের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। শোল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান তুহিনুর রহমান বলেন, আনোয়ার একজন হোটেল শ্রমিক হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরির্দশক (এসআই) আজাহারুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় লোকজন দত্তখণ্ড চকপাড়া এলাকায় সানাল মাতবরের জমির ওপর একটি গাছের সঙ্গে লাশটি ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেয়, পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

 

দোহার থানা আওয়ামীলীগের নতুন কমিটি এখন সময়ের দাবি (পর্ব -০২)

রাজনীতির গতি-প্রকৃতিটাই এমন সকালের সোনামাখা রোদ বুকে ডিগবাজি খাওয়ার সুখ শেষ করতে না করতেই মধ্য দুপুরে ঈশানকোণে মেঘ জমে ওঠে। আবার গোধূলিবেলায় পশ্চিমে লাল আভা ছড়িয়ে সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্যের মুগ্ধতা কাটতে না কাটতেই আসে নতুন খবর। কিন্তু এখন রাজনীতি অতীতের মতো ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ নয়, ঝড়ের পূর্বাভাসও নেই। নেই কোন অসম প্রতিযোগীতা। একটা অনিয়মই যেন নিয়মে পরিনত হয়ে চলছে দোহারের বর্তমান রাজনীতি। নিস্তরঙ্গ রাজনীতির পর্দার অন্তরালে চলছে একে অপরকে ঘায়েল করার কুটকৌশল।দোহার থানা আওয়ামীলীগের নতুন নেতৃত্বে কে আসবে সেটা নিয়ে হচ্ছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। হচ্ছে নানা দৃষ্টিভঙ্গির ওপর বিস্তর আলাপ-আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা।সবই অদৃশ্য পর্দায় অন্তরালে।

দোহার থানা আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক ভাগ্য কোন পরিণতির মুখোমুখি হবে— সেটি নিয়েও দোহার জুড়ে নানা আলাপ-আলোচনা, জল্পনা-কল্পনার মৃদুমন্দ ঢেউ উঠেছে। বর্তমানে দোহারের রাজনীতিতে যে অগুছালো অবস্থা আর দুঃসময় চলছে তা যে সামনে আরও কঠিন ও জটিল রূপ নেবে, তারই ইঙ্গিত বহন করছে অনেকে। এক নেতার অন্য নেতার প্রতি সন্দেহ ঘনীভূতই হচ্ছে আদৌ দোহারের নতুন কমিটি হবে কিনা ?বর্তমান কমিটি মেয়াদকাল ১৫ বছর চলছে তবুও তারা নিজেদের পদ ধরে রাখতে তিন নেতার দরবারেই তদবীরে ব্যস্ত।দোহারের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন দুঃসময় অতীতে আর কখনো আসেনি। সামনে দলের জন্য আরো কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে বলে অনেকে আশংকা করছে।ক্ষমতার রাজনীতির হাওয়া কোন নেতার অনুকূলেই বইবে সেটাই এখন বিবেচ্য?  ক্ষমতার রাজনীতির প্রতিকূল-বৈরী রাজনৈতিক আবহাওয়ার মুখোমুখি দোহারের স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন আর উদারপন্থীরা। সুবিধাজনক অবস্থানে আছে দলে অনুপ্রবেশকারী নব্যরা। যদি ধারাবাহিক কমিটি হতো তাহলে সেই রাজনৈতিক আবহাওয়া তাদের প্রতিকূলে বইত। এখনও নতুন কমিটি হলে দোহার থানা আওয়ামীলীগের পালে নতুন হাওয়া লাগবে। দলে অনুপ্রবেশকারী অনেকেই রাতারাতি তিন নেতার আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে আওয়ামী লীগের আস্থা ও অনুকম্পা লাভের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হচ্ছে। পর্দার অন্তরালে নেতৃত্ব হতাশাক্ষুব্ধই নন; বিষণ্নচিত্তে অসহায় পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। তরুণ নেতৃত্বের প্রাণশক্তি দলে অনুপস্থিত। ক্ষমতার রাজনীতির বাইরে ছিটকে পড়া হতাশাক্ষুব্ধ একটি অংশ যে কোন সময় নতুন কমিটির দাবিতে মাঠে যে নামবে না তা বলা যায় না। ইতিহাসের শোধের ধারায় এই কমিটি রাজনৈতিক ধারার বাইরে যে ছিটকে পড়বে না তাও বলা যাচ্ছে না। কারন এই কমিটির শক্তি ও সামর্থ্য এখনও দৃশ্যমান নয়।রাজনীতির গতিপথ বড়ই জটিল। সামনে রাজনীতির কূটচাল কারো জন্যই সুখকর হবে না। যাদের চরিত্রে সারল্যতা রয়েছে। মানুষের মনের ভাষা পাঠ করতে জানেন, তাদের সমন্বয়ে এখনই নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া জরুরী।দোহার থানার রাজনীতিতে এখন সততার বড়ই অভাব রয়েছে। সততার ঘাটতি পূরণ করতে হলে সৎ মানুষদের রাজনীতিতে নিয়ে আসতে হবে। ভালো মানুষেরা রাজনীতিতে আসলেই; রাজনীতি ভালো হয়ে যাবে। ভালো মানুষেরা রাজনীতি না করে দূরে সরে গেলে খারাপ লোকেরা রাজনীতির মঞ্চ দখল করবে, করছেও।এদের কারনেই রাজনীতির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমে গেছে। রাজনীতিতে যখন ভালো মানুষ আসবে তখন রাজনীতি জনগণের কাছে আকর্ষণীয় হবে।রাজনীতিতে সৎ, যোগ্য ও মেধাবীদের টেনে আনা এখন সময়ের দাবী।দোহারের রাজনীতির গৌরবময় উত্তরাধিকারিত্ব কে কতটা বহন করছেন বুকে হাত দিয়ে সবাই বলতে পারবেন?

আওয়ামী লীগের যখন বিপর্যয় আসে, তখন সুবিধাভোগী বসন্তের কুকিলদের খুঁজেও পাওয়া যায় না। আদর্শিক কর্মীরাই দুঃসময়েরই মুখোমুখি হয়ে থাই পাহাড়ের মতো ভারী বোঝা কাঁধে নিয়ে টানে। ইতিহাসের পরতে পরতে সবচেয়ে অগ্নিপরীক্ষা অবহেলিত বঞ্চিত নেতা-কর্মীরাই দিয়েছে। কিন্তু এই আদর্শিক নেতা-কর্মী দলের কাঠামোতে ঠাঁই পাচ্ছে না। নেতৃত্বে উঠে আসতে পারছে না। সমাজে ভালো মানুষ হিসেবে চিহ্নিত হলেও দলের নেতৃত্বে আসতে পারছে বা আসতে দেয়া হচ্ছে না।কারন তারা নেতাদের কাছে তারা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাদের টাকা, হোন্ডা, গুণ্ডা হাতে নেই বলে তাদের কাছে টানা হয় না। দলের মাঠের নেতৃত্বে তাদের ঠাঁই হয় না। ক্ষমতার ছায়ায় থেকে রাতারাতি যারা বিত্তবৈভব গড়েছে, নেতাদের কাছে তাদেরই কদর বেশি। কিন্তু সৎ আদর্শবানদের কি মাঠের নেতৃত্ব থেকে কী দূরে সরানো সম্ভব ? ১৬ বছর ধরে দোহার থানার আওয়ামীলীগের কমিটি বন্ধ থাকার কারনে আদর্শিক তরুণ রাজনৈতিক কর্মী তৈরির প্রক্রিয়া রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সৎ,আদর্শিক দলের প্রতি অনুগতদের জীবন ও জীবিকার জন্য, পরিবার ও পরিজনের জন্য সৎ জীবনযাপন করে তাদের টিকে থাকতে হয়। তাদের রাজনৈতিক, সাংগঠনিক দক্ষতা আছে। সমাজে ক্লিন ইমেজ আছে।কিন্তু তাদের কৌশলে রাখা হয়েছে কমিটির বাইরে। সৃজনশীল, মেধাবী, আদর্শিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে দোহার থানা আওয়ামী লীগ সাজাতে পারলে আগামী দিনের মাঠের বিরোধী আন্দোলন ঢেকাতে ভুমিকাই রাখবে না দলকেও আরো সুসংগঠিত করবে।

তাই দোহার থানা আওয়ামীলীগের নতুন কমিটি এখন সময়ের দাবী।

ঝটপট তৈরি করুন ছানার জিলাপি

রসে ভেজানো সুস্বাদু ছানার জিলাপি ঝটপট তৈরি করে ফেলতে পারেন ঘরেই। জেনে নিন কীভাবে বানাবেন ছানার জিলাপি-

উপকরণ
ছানা- ১ কাপ
সুজি- ১/৪ কাপ
চিনি- ১ কাপ
পানি- ২ কাপ
বেকিং পাউডার- ১ চা চামচ
তেল- পরিমাণ মতো
দারুচিনি- ১ টুকরা
প্রস্তুত প্রণালি
পানিতে চিনি ও দারুচিনি ফুটিয়ে সিরা তৈরি করে রাখুন। এবার ছানার সঙ্গে অল্প অল্প করে সুজি মিশিয়ে নিন। মিশ্রণে বেকিং পাউডার মেশান। ভালো করে মাখিয়ে ছোট ছোট বলের মতো গোল করুন। গোল অংশ শক্ত কিছুর উপর রেখে দুই হাত দিয়ে লম্বা দড়ির মতো করে জিলাপির আকৃতি করে নিন।
প্যানে তেল গরম করুন। ডুবো তেলে জিলাপি ভেজে চিনির সিরায় দিয়ে দিন। দুই ঘণ্টা পর জিলাপি রসে টইটম্বুর হয়ে গেলে পরিবেশন করুন মজাদার ছানার জিলাপি।

 

সহজেই তৈরি করুন চিকেন সল্টটিম্বোকা

শুধু লবণ দিয়ে মুরগী রেঁধে খেয়েছেন? কেমন স্বাদ? জানেন? অনেকেই ইয়াক করে উঠবেন। লবণের সঙ্গে হালকা পাতলা মশলা দেওয়া হবে। তবে মূল উপাদান লবণ, তারই কত স্বাদ। একবার ঘরে চেষ্টা করেই দেখুন না এই ইউরোপীয় খাবারটা।ইউরোপীয়রা এই খাবারে পাতলা হ্যাম স্লাইস ইউজ করেন। এটা ছাড়াও করা যায়।

উপকরণ:

গোল মরিচের গুঁড়া- ১ টেবিল চামচ

ঘন দুধ- আধ কাপ

মুরগীর হাড় ছাড়া বুকের মাংস – ৪ পিস

পছন্দমতো ফ্লেভারের শুকনো পাতা- ১ চা চামচ

(অরিগোনো, থাইম, তুলসি যে কোনও একটা, এখানে পালং শাকও দেওয়া যেতে পারে)

ময়দা- আধ কাপ

তেল – আধ কাপ

লবণ পরিমাণ মতো

প্রণালি:  প্রথমেই মুরগীর মাংস থেতলা করে পাতলা রুটির মতো করে নিতে হবে। এরপর  ট্রেতে এই মাংস ছড়িয়ে দিন, এতে প্রথমে লবণ ছড়িয়ে দিন, এরপর গোলমরিচ ছড়িয়ে দিন। ঘণ দুধ ঢেলে দিন। এর ওপর পালং শাক কিংবা পছন্দের পাতা ছড়িয়ে দিন। এবার বুকের মাংস মুড়ে রোল বানিয়ে নিন। আপনার বাসায় সালামি বা হ্যাম থাকলে সেটি দিয়ে মুড়েও নিতে পারেন। এবার একটি টুথপিক দিয়ে আটকে তেলে আস্তে আস্তে ভেজে তুলুন মুরগীর টুকরোগুলোকে। চাইলে চিকেন স্টক এবং বাটিতে পরে থাকা ঘণ দুধের অংশটুকুও ঢেলে দিতে পারেন ভাজা মুরগীতে। বেশ ভাজা ভাজা হয়ে এলে গরম গরম পরিবেশন করুন টুথপিক খুলে।

 

গরমে পান করুন কাঁচা আমের শরবত

গরমে প্রাণ জুড়াতে নানারকম আইসক্রিম, জুস, শরবত খেয়ে থাকি আমরা সবাই। তবে সবকিছুর আগে স্বাস্থ্য সচেতন হওয়াটা জরুরি। বাইরে থেকে হুটহাট কিনে খেয়ে ফেললেই হবে না, যা খাচ্ছেন তা স্বাস্থ্যকর কি না সেদিকেও নজর রাখতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় ঘরেই তৈরি করে নেয়া। বাজারে এখন পাওয়া যাচ্ছে কাঁচা আম। আর এই কাঁচা আম দিয়েই তৈরি করতে পারেন সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর শরবত। চলুন জেনে নেই-

উপকরণ : বড় কাঁচা আম একটি, চিনি আধা কাপ, কাঁচামরিচ কুচি দুটি, অল্প বিট লবণ, গোল মরিচের গুঁড়া সামান্য, পানি দুই কাপ এবং লবণ স্বাদমতো।

প্রস্তুতু প্রণালি : প্রথমে আমের খোসা ছাড়িয়ে কুচি করে কেটে নিন। এবার পানিতে আম, চিনি, কাঁচামরিচ কুচি, বিট লবণ, গোল মরিচের গুঁড়া ও লবণ একসঙ্গে মিলিয়ে দিন। ২ মিনিট ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। এবার গ্লাসে ঢেলে বরফ কুচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন দারুণ সুস্বাদু কাঁচা আমের শরবত।

 

 

বিলাশপুর উপনির্বাচনে আবুল মেম্বার জয়ী

ভোট মানেই হত্যা – এমন আতংকের মাঝ দিয়ে বিলাশপুর উপনির্বাচন গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার জন্য এই উপনির্বাচন সেই আবুল হোসেন  ই আবার নির্বাচিত হয়েছে। এই নির্বাচনে গতবারের ন্যায় আবার আবুল হোসেন বিজয়ী হয়েছে।

গত বছরের ২২ মার্চ বিলাসপুরে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনের এক দিন পর বিজয়ী প্রার্থী আবুল হোসেন তাঁর কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বাদ্যবাজনাসহকারে বিজয় মিছিল বের করেন। জালাল মাতবরের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বাড়িতে থাকা একজনের সঙ্গে বাগিবতণ্ডা হয় ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় আলাল ও তাঁর ভাই জালালসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় জালালের। এ ঘটনায় আলালের ছেলে সাকিব মাতবর ২১ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় পুলিশ ইউপি সদস্য আবুলকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ইউপি সদস্য আবুলের পদটি শূন্য ঘোষণা করে। রবিবার এ পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

গতকালের নির্বাচনে টিউবয়েল প্রতীক নিয়ে ৪৪০ ভোট পান, তার নিকটতম প্রার্থী পাখা প্রতীকের শহীদ চোকদার পান ২১৫ ভোট। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেয়া হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা। বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য পদে মাঝিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট হয়। এ কেন্দ্রে দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৬৫ জন পুলিশ, ১৭ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। আর স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ছিল র‌্যাব।