কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আজ রবিবার ঢাকা জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সভা, ঢাকা ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে বেলা ২.০০ ঘটিকায় অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে। এতে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা জেলা বিএনপি’র সভাপতি ডাঃ দেওয়ান সালাহউদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক ও সাংগাঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম পল সহ কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন : শেখ হাসিনাকে চাপ দিয়েছিলেন হিলারি’
গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অপসারণ না করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চাপ দিয়েছিলেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সারকা বৃহস্পতিবার এই কথা জানিয়েছে। তবে এ ব্যাপারে ড. ইউনূসের কোনও প্রতিক্রিয়া জানতে পারেনি সারকা।
সারকা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ২০১১ সালের মার্চ মাসে হিলারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে ইউনূসের ব্যাপারে চাপ দেন। এক ইমেইল বার্তায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব মো. নজরুল ইসলাম সারকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি ইমেইলে সারকাকে জানান, ‘সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ২০১১ সালের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণ না করার জন্য চাপ দেন।’
গ্রামীণ ব্যাংক একটি রাষ্ট্রশাসিত সংস্থা এবং ব্যাংকিং নীতিমালার আওতায় পড়ে। গ্রামীণ ব্যাংকের আর্থিক দুর্নীতি তদন্তে ২০১২ সালে সরকার একটি কমিশন গঠন করে। সরকারের পক্ষ থেকে হিলারি ক্লিনটনকে জানানো হয়, ১০ বছর ধরে ইউনূস বেআইনিভাবে বেতন ও ভাতা তুলছিলেন। নজরুল ইসলামকে উদ্ধৃত করে সারকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিলারি ক্লিনটনকে প্রধানমন্ত্রী তখন জানিয়েছিলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের আইন ও বিধি অনুসারে ৬০ বছরের বেশি বয়সের কেউ ব্যবস্থাপনা পরিচালক হতে পারেন না। অপসারণের সময় মোহাম্মদ ইউনূসের বয়স ছিল ৭০ বছর। ইউনূসকে অপসারণে প্রধানমন্ত্রীর কোনও ভূমিকা নেই।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে ড. ইউনূসকে সারকার পক্ষ থেকে ফোন করা হয়। তবে তার কোনও প্রতিক্রিয়া জানতে পারেনি ওই মার্কিন সংবাদমাধ্যম। অবশ্য অভিযোগ ওঠার পর থেকেই ইউনূস কোনও ধরনের বেআইনী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে আসছেন।
এর আগে উইকিলিকসের ফাঁস করা ইমেইল সূত্রে জানা গিয়েছিল, হিলারিকে তিনি নিজের অপসারণ ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ওই সময় ইউনূস এক ইমেইলে হিলারির উপদেষ্টা মেলানি ভারবিকে লিখেছিলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের বিষয়টি বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে সমাধান করা যায় কিনা দেখুন। ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পরামর্শে সমস্যাটি সম্পর্কে জানাতে আমি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়েছি।’ প্রতিক্রিয়ায় হিলারি মার্কিন কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, ইউনূস যে সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তা তার স্বামী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে জানাতে।
উল্লেখ্য, বিল ক্লিনটনের প্রতিষ্ঠিত ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের একজন বড় দাতা ড. ইউনূস।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেন, ২০১০-২০১২ সালে বিভিন্নভাবে ইউনূসবিরোধী তদন্ত নস্যাতের চেষ্টা করেছিলেন হিলারি ক্লিনটনের সহযোগীরা। তারা জয়কে চাপ দিয়েছিলেন, তিনি যেন তদন্তকাজ থামিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে তার মাকে রাজি করান। এজন্য দফায় দফায় তারা জয়ের আর্থিক হিসাব তদন্তের হুমকি দিয়েছেন। পাঁচ বছর ধরেই জয় এমন অভিযোগ করে আসছেন।
নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন : ইব্রাহীম সভাপতি, আজহার সম্পাদক
নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক ২০১৭ কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেণ।
নির্বাচিত সদস্যরা হলেনÑ দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি আলহাজ¦ মো. ইব্রাহীম খলিল সভাপতি, দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার আজহারুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলানিউজটোয়োন্টি ফোর. কমের শেখ সালাহ্উদ্দিন বাচ্চু সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচিত বাকী সদস্যরা হলেনÑ দৈনিক আলোচিত খবরের ফজলুর রহমান সহ-সভাপতি, সাপ্তাহিক একুশের কন্ঠের সম্পাদক মো. আলম হোসেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আমাদের সময়ের বিপ্লব ঘোষ দপ্তর সম্পাদক, দি নিউ ন্যাশনের মজিবুর রহমান অর্থ বিষয়ক সম্পাদক, ভোরের ডাকের সাদের হোসেন বুলু প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং কার্যকারী সদস্য পদে দৈনিক ইত্তেফাকের মো. কাজী সোহেল ও বিডি নিউজের আসাদুজ্জামান বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। উল্লেখ্য আগামী ২ বছর মেয়াদে এ কমিটি গঠন করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাকক্ষে প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল মজিদ, নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল প্রমূখ।
বনানীর ধর্ষন মামলার আসামী সাদমান সাকিফ দোহারের ছেলে !!
বনানীর ধর্ষন মামলার আসামী সাদমান সাকিফের বাড়ী দোহারে উপজেলায় বলে জানা গেছে। তার দাদা বাড়ী দোহারের নিকড়া গ্রামে। তার বাবা মোহাম্মদ হোসেন জনি শিকদার। এলাকায় সজ্জ্বন ব্যাক্তি বলে তিনি পরিচিত। তিনি রেগনাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এছাড়া সাদমান সাকিফ নিজে রেগনাম গ্রুপের পরিচালক।
এদিকে গণমাধ্যম থেকে সাদমান সাকিফের বাবা রেগনাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্দ হোসেন জনিকে বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাত ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন।
বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট থেকে ধর্ষণ মামলার দুই আসামি সাফাত ও সাকিফকে গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সাফাত ও সাকিফকে সিলেটের জালালাবাদ থানার পাঠানটুলা এলাকার রশীদ ভিলা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ছিল।
শুক্রবার আদালতে হাজির করে তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ধর্ষণের অভিযোগ এনে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই দুই তরুণীকে জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। এরপর তাদের বনানীর ‘কে’ ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে রেইনট্রি নামের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। এ ঘটনা সাফাতের গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিও করানো হয় বলেও উল্লেখ করা হয় এজাহারে। ধর্ষণ মামলার আসামিরা হলো- সাফাত আহমদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।
আজ পবিত্র শবে বরাত
যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে আজ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পালিত হবে পবিত্র শবে বরাত। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ ইবাদত-বন্দেগীর মধ্যে দিয়ে এই রাতটি অতিবাহিত করবেন।
মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশ্বের মুসলমানরা বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করবেন।
এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব থেকে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে রাতব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।অনু ষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে কুরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ, কিয়াম ও বিশেষ মুনাজাত।
শবে বরাত’ হলো সৌভাগ্যের রজনী, যাকে আরবিতে বলা হয় ‘লাইলাতুল বরাত’। হিজরি বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত। মহান আল্লাহ তাআলা এ রাতে বান্দাদের জন্য তার অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। মহিমান্বিত এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিগত জীবনের সব ভুলভ্রান্তি ও পাপের জন্য মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ জীবনে পাপ-পঙ্কিলতা পরিহার করে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করেন। ইবাদত-বন্দেগি ছাড়াও প্রয়াত স্বজনদের কবর জিয়ারতও করে থাকেন মুসলমানরা।
এদিকে শবে বরাত উপলক্ষে আজ সন্ধ্যা ছয়টা থেকে শুক্রবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত ক্ষারজাতীয় বা বিস্ফোরক দ্রব্য, আতশবাজি, পটকাবাজিসহ অন্যান্য ক্ষতিকর ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং ফোটানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ডিএমপির কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এ ঘোষণা দেন।
গতিশীল নেতৃত্বে বাজারের উন্নয়নে কাজ করে যেতে চাই, বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছাঃ রুবেল কাজী
“গত দুই টার্মে ৭ বছর বাজারের উন্নয়নের জন্য আমি আমার সর্বোচ্চ কাজই করে গেছি, বাকীটা আল্লাহর ইচ্ছা” মেঘুলা বাজার পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে গত দুই বারের নির্বাচিত সভাপতি রুবেল কাজী নিউজ৩৯ এর কাছে এভাবেই নিজের নির্বাচন ও বাজারের নির্বাচনে নিজের অবস্থানের কথা পরিস্কার করলেন। মেঘুলা বাজারের জনপ্রিয় এই ব্যবসায়ী নেতা এইবারও নির্বাচন করছেন মেঘুলা বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে।
টানা দুই বার বাজার পরিচালনা করা এই জনপ্রিয় তরুণ ব্যবসায়ী নেতা নিউজ৩৯ এর কাছে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, আমি দুই বারের টার্মে যতটুকু পেরেছি উন্নয়ন করেছি। যদিও যতটুকু উন্নয়ন করার কথা ছিল বা প্রয়োজন ছিল বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারনে করতে পারিনি, তবে যতটুকু সহায়তা পেয়েছি তার ১০০ শতাংশ করেছি। বাজারে শান্তি শৃঙ্খলা বাজায় রাখার চেষ্টা করেছি। যে মেঘুলা বাজারে এক সময় খুন, ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া নিয়মিত ছিল সেখানে আমার দুই টার্মে মাত্র ১ টা বিচার বসেছে বাজার কেন্দ্রীক। অথচ আগে প্রতি সপ্তাহে বিচার বসতো বাজারকে কেন্দ্র করে।
তিনি নিউজ৩৯কে আরও বলেন, তারপরও বাজারের নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট নই। বাজারের নিরাপত্তা আরো বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা আমার আছে। আমার চেষ্টা থাকবে এই নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা সহ বাজার সমিতির একটা নিজস্ব অফিস করা। গত ৭ বছর আমি আমার ব্যক্তিগত অফিসকে বাজার সমিতির অফিস হিসাবে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। কিন্তু এইবার আমার অন্যতম কাজ থাকবে বাজারের নিজস্ব অফিস তৈরি করা। জনসাধারণ সহ ব্যবসায়ীদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করা।
মাদকের ব্যাপারে তিনি বলেন, মেঘুলা বাজারের প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার লোকের আনাগোনা হয়। এর মাঝে ৩-৪ জন খারাপ থাকতেই পারে। সেইটুকু দূর করতেও আমরা কাজ করেছি। এছাড়াও আপনারা জানেন মেঘুলা বাজারে একসময় সরকার অনুমোদিত মদের বার তৈরি হয়েছিল। তারপরও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান ঢাকা জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান এবং বর্তমান নারিশা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন দ্বরানীর সার্বিক সহযোগীতায় আমরা সেই মদের বার বন্ধ করেছি। মানুষকে পাপ ও উচ্ছৃংখলা থেকে রক্ষা করেছি।
তিনি আরও বলেন নিউজ৩৯কে, তারপরও মানুষ ভুলের উর্ধে নয়। আমি আমার পক্ষে সীমিত অবস্থায়ও সর্বোচ্চ করেছি। স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করেছি। ভবিষতেও করতে চাই। সবাইকে নিয়ে বাজারে ব্যবসায়ের সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখতে চাই। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। তিনি যা করবেন তা বাজারের সবার উন্নয়ন ও বাজারের মঙ্গলের জন্যই করবেন।
যন্ত্রাইলে অর্পিত সম্পত্তি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের ছোট গোবিন্দপুর গ্রামে ভূমিহীন তারা হালদারের পরিবারকে বঞ্চিত করে অর্পিত সম্পত্তিতে এলাকার বিত্তশালী আনন্দ হালদার অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবাদ করায় তারা হালদারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোট গোবিন্দপুর গ্রাম ও মৌজাস্থিত এসএ ৯৪৮, আরএস ১১৪৭ দাগের ৩৩ শতাংশ ভিপি বা অর্পিত সম্পত্তি রয়েছে। যা স্থানীয়দের সমঝোতায় তিন পরিবারের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি আনন্দ হালদার দরিদ্র তারা হালদারের জমির কিছু অংশ দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন। তিনি এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদন নেননি।
আনন্দ হালদারের স্ত্রী সীমা হালদার জানান, তারা যে জমিতে ভবন নির্মাণ করছেন, সেটি তার স্বামীর পৈতৃক সম্পত্তি। একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাদের কাছ থেকে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তারা হালদার অভিযোগ করেন, তিনি দরিদ্র মানুষ। হাট-বাজারে মুড়ি বিক্রি করে কোনো রকমে দিন যাপন করেন। সম্প্রতি স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, এলাকাবাসী উপস্থিত থেকে স্থানীয় সার্ভেয়ার দ্বারা সীমানা নির্ধারণ করে ওই জমিতে তাকে থাকতে দেন। কিন্তু কিছুদিন পর পাশর্^বর্তী আনন্দ হালদার সেই সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে সেখানে বহুতল ভবণ নির্মাণ করছেন। বাধা দিতে গেলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তারা বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, দাঁড়াবার জায়গা টুকু নেই। ছেলে সন্তান নিয়ে কোথায় যাব?’
যন্ত্রাইল ইউপি চেয়ারম্যান নন্দ লাল সিং বলেন, আমি উপস্থিত থেকে সম্পত্তি বণ্টন করে দিয়েছি। আনন্দ হালদার আমাদের অমান্য করেছেন। আইনের তোয়াক্কা না করে বহুতল ভবণ নির্মাণ করছেন।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ জানান, বিষয়টি তার জানা নেই, তবে খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
মেঘুলা বাজারের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করাই হবে আমার প্রধান কাজঃ বিপ্লব মোড়ল
আসন্ন মেঘুলা বাজার পরিচালনা কমিটির নির্বাচন উপলক্ষে সাজসাজ রব দেখা দিয়েছে মেঘুলা বাজারে। ব্যবসায়ি নেতারা ছুটে বেড়াচ্ছেন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। চেষ্টা করে যাচ্ছেন ভোটারদের মন জোগানোর জন্য। এই বাজার পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন মেঘুলা বাজারের মেসার্স নিলয় ইলেকট্রিক এন্ড টাইলস স্যানেটারী স্টোরের স্বত্বাধিকারী আলমগীর হোসেন বিপ্লব মোড়ল। মেঘুলা বাজারের ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ ব্যবসার পরিবেশ সৃষ্টি করাই হবে তার প্রধান কাজ হবে বলে জানিয়েছেন এই ব্যবসায়ীক নেতা।
নিউজ৩৯ এর সাথে একান্ত এক সাক্ষাৎকারে বিপ্লব মোড়ল বলেন, বাজারের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই খারাপ। ফলে বাজারের ব্যবসায়ীরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই এই বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমি আরো বৃদ্ধি করবো। তাছাড়া বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুব খারাপ উল্লেখ করে তিনি বলেন তিনি নির্বাচিত হলে বাজার পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করবেন, এছাড়া সুইপারের ব্যবস্থাও তিনি করবেন। এছাড়া কাঁচাবাজারের দোকানের জন্য তিনি টিনের সাউনির ব্যবস্থা করবেন। এছাড়া বাজার কমিটির জন্য নির্ধারিত কোন অফিস নেই এটা উল্লেখ করে তিনি বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির জন্য নির্ধারিত অফিসের ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি জানান। এছাড়া বাজার কমিটির উদ্যোগে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও বার্ষিক বনভোজনও আয়োজন করা হবে।
পুরোতন কমিটির কাজ নিয়ে কিছু বলতে বললে তিনি নিউজ৩৯কে বলেন, পুরোতন কমিটি তো বাজারের কোন কাজেই অংশগ্রহন করে না। তারা নির্বাচনের সময় বাজারে উদয় হয় আবার নির্বাচনের পর চলে যায়। তাছাড়া তাদের নিয়ে বলার কিছু নাই। বাজার কমিটিকে তারা একেবারে অকেজো করে রেখেছে। কাউকে কোন কাজ করতে দেয় না। সভাপতি নিজেই সব কাজ করতে চায় ফলে বাজারে খুব সহজেই অস্থিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
তিনি নির্বাচিত হলে সবাইকে যার যার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিবেন। এবং সবাইকে নিয়ে বাজারের উন্নয়নের কাজ করে যাওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।
নবাবগঞ্জ এসোসিয়েশনের বর্ণাঢ্য অভিষেক
পরস্পর ভ্রাতৃত্ব বন্ধন ও সম্প্রীতি স্থাপনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সমাপ্ত হয়েছে প্রবাসের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন নবাবগঞ্জ এসাসিয়েশন অব ইউএসএ ইনকের নতুন কমিটির অভিষেক, বাংলা বর্ষবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গত ৩০ এপ্রিল রবিবার অভিষেক অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে। তিন পর্বে সাজানো অনুষ্ঠানের শুরুতে ছিল নতুন কমিটির শপথ অনুষ্ঠান। এতে সভাপতিত্ব করেন সভাপতি মো: গিয়াস উদ্দিন। এ পর্বে নতুন কর্মকর্তাদের শপথ বাক্য পাঠ করার প্রধান উপদেষ্টা বদরুল ইসলাম খান বাদল। শপথের পর নতুন কমিটির সদস্যদেরকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এ প্রজন্মের কিশোর-কিশোরীরা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আমিন মেহদী বাবু, গীতা পাঠ করেন গণেশ কীর্ত্তনীয়া।
দ্বিতীয় পর্ব আলোচনা সভা নাজিয়া লীনা, সেলিম ইব্রাহিম ও সাধারণ সম্পাদক মো: মিলন মোল্লার যৌথ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা। অতিথি হিসেবে মঞ্চে ছিলেন, মুলধারার নেতা এর্টণী মঈন চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইসতিয়াক রুমি, সাবেক আইন মন্ত্রীর পিএস এডভোকেট আকসির এম চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ মহসিন, ডা: তাজুল ইসলাম, বাসেত রহমান, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক হোসেন, হাবিব জোয়াদ্দার, হাজী মুজিবুর রহমান, সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা বদরুল ইসলাম খান বাদল, উপদেষ্টা আব্দুস সাত্তার খান, আমিন মেহেদী বাবু, মীর রেজাউল হক রেজা, এম রহমান সাচ্চু, প্রফেসর আনোয়ার হোসেন খান, এস মিয়া তৌহিদ, নাসির উদ্দিন, বখতিয়ার রহমান খোকন, আতাউর রহমান আতা প্রমুখ। প্রধান অতিথি ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা বলেন, নতুন কমিটির সদস্যদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধতার বিকল্প নেই। প্রবাসী নবাবগঞ্জবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে একই ছায়াতলে অবস্থান করে নবাবগঞ্জ
এসোসিয়েশন ইউএসএ ইনক প্রতিষ্ঠা করেছে। আমার অন্তর থেকে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের প্রতি রইল শুভেচ্ছা। পরস্পর প্রতিহিংসা নয়, বন্ধুসুলভ আচরণই পারে একটি কঠিন কাজকে সহজ থেকে সহজতর করতে। অন্যান্য বক্তারা বলেন, বহু আশা, আকাংখা আর ভালবাসায় আমাদের প্রিয় সংগঠন নবাবগঞ্জ এসাসিয়েশন অব ইউএসএ ইনক। অনেক বাধাঁকে উপক্ষো করে এ সংগঠনের পথচলা। তবুও দেশ ও প্রবাসে নবাবগঞ্জবাসীর কল্যাণে আমরা সকলে এক ও অভিন্ন। আজকের সুন্দর অনুষ্ঠান আমাদেরকে প্রবাসী নবাবগঞ্জবাসীকে উৎসাহিত করেছে। তাই আমরা গর্বিত। সংগঠনের মাঝে আমরা বছর পর বছর বেচেঁ থাকি। এ সংগঠণ আমাদের প্রাণ। সভাপতির বক্তব্যে মো: গিয়াস উদ্দিন এসোসিয়েশনের সম্মানে প্রতিহিংসার উর্ধে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেন, এ সংগঠন গঠিত হয় ২০১৩ সালে। কমিউনিটির কল্যাণে আমরা ঐক্যবদ্ধ। আমাদের প্রত্যেক সদস্যকে সামাজিক ও কল্যাণমূলক কাজে আরো অধিকতর ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রবাসী নবাবগঞ্জবাসী কৃর্তি সন্তানদেরকে সম্মাননা জানানো ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, দল ও মতের উর্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগঠন গড়তে প্রয়োজন সহমমির্তার মানসিকতা। সংগঠনকে অভিষ্ট লক্ষে পৌঁছাতে হলে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। তৃতীয় পর্ব ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন, কৃষহা তিথি, রোকসানা মির্জা, হাফিজুর রহমান, সেলিম ইব্রাহিম, রুবিনা শিল্পী, আয়েশা আক্তার খানম, সায়মা সালাম রুনি। নৃত্য পরিবেশন করেন শ্রাবনী, কবিতা আবৃতি করেন মিজানুর রহমান বিপ্লব।
২০১৭-১৮ সালে অভিষিক্ত কর্মকর্তারা হলেন: সভাপতি মো: গিয়াস উদ্দিন,সিনিয়র সহ সভাপতি মুনসুর আলম, সহ সভাপতি তানভীর এ মিলন, সহ সভাপতি মাহবুবুর রহমান সবুজ, সহ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ সভাপতি শেখ মাহমুদ সিদ্দিক, সহ সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মিলন মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গণেষ কীর্ত্তনিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবুব রহমান বাবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবেল চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আব্দুল মালেক, কোষাধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম শফিক, দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক আসাদ জামান, ত্রুীড়া সম্পাদক মানিক মিয়া ওয়াদুদ, সহ ত্রুীড়া সম্পাদক শামীম আহম্মেদ, মহিলা সম্পাদিকা আয়েশা আক্তার খানম, সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা শায়মা আক্তার রুনী, সহ সাংস্কৃতি সম্পাদক এ্যালেক্স গোমেজ, আপ্যায়ন সম্পাদক ওয়াজেদ মিয়া, সহ আপ্যায়ন গোলাম রিপন, কার্যকরী সদস্য,মো: উজ্জ্বল বিপুল, সেলিম ইব্রাহিম, গোলাম মোস্তফা, মো: সিরাজউদ্দিন সিরাজ, সাইফুল ইসলাম শাহিন, জাহিদুল ইসলাম, শেখ অয়ণ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আব্দুল আউয়াল ভূঞা, আলতাফ হোসেন কবির, মোহাম্মদ হান্নান সরকার, আমিনুল ইসলাম কচি, সালাহ উদ্দিন আহমেদ খোকন, আব্দুল আজিজ, হুমায়ন কবির, সফি উদ্দিন সফা, আনোয়ার হোসেন, কিরণ, নওশেদ, কাঞ্চনসহ আরো অনেক। এ উপলক্ষে সায়মা সালাম রুনির সম্পাদনায় “ইছামতির বাঁেক” নামে একটি স্বরনিকা প্রকাশিত হয়।
সাংবাদিকতায় কেনো ৫৭ ধারার খগড়!
নিত্যকার ঘটনা, দুর্ঘটনা আর নিয়মিত খবরের পাশাপাশি অনুসন্ধানী খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। এই দায়িত্বের আওতায় একজন সাংবাদিক যেমন দেখেন তেমনই লেখেন। তিনি ভালোকে ভালো বলেন, মন্দকে মন্দ। তাই পেশাগত প্রয়োজনেই সাংবাদিকদের সংগ্রহ করা খবরে উঠে আসে নানামুখী ভালোমন্দের মিশেল।
কিন্তু সেই খবরে যদি কারো আপত্তি থাকে, তাহলে তা প্রকাশের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া সংবাদমাধ্যমের স্বীকৃত রূপ। এজন্য কেউ কোনো খবরের প্রতিবাদ জানাতে চাইলে সে সুযোগ অবারিত। প্রতিবাদ প্রকাশে ব্যর্থ হলে তার জন্য খোলা আছে প্রেস কাউন্সিলের দরোজা। তাতেও সন্তুষ্ট না হলে ক্ষতিপূরণ মামলা ঠুকতেই পারেন যে কেউ।
কিন্তু গণমাধ্যমের মাথার ওপরে সম্প্রতি ঝুলিয়ে দেওয়া তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার জুজু সব স্বাভাবিক নিয়মকেই যেনো হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে? সাংবাদিকরা তো বটেই, আইনজীবীসহ সুশীল সমাজের কেউই এই আইনকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে পারছেন না।
তাহলে কেনোইবা এমন অস্বাভাবিক আইন তৈরি করা হলো? তৈরির পর সমালোচনার মুখে এ আইন সংশোধনের প্রেক্ষিত তৈরি হলেও কেনো এতোদিনেও তা বাতিল বা সংশোধন হলো না? কেনো তথ্য-প্রযুক্তির অপরাধকে কেবল সাংবাদিকদের জন্য খড়গ হিসেবে ব্যবহার শুরু হলো? কেনো শুরু হলো সাংবাদিকদের গ্রেফতার, রিমান্ড, হাজতবাস?
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এই আইন পাস হয় ২০০৬ সালে। ২০১৩ সালে এটি সংশোধন করা হয়। তারপর থেকেই ওই আইনের ৫৭ ধারা নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠে।
এ ধারায় বলা হয়েছে, (১) কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব সাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি প্রদান করা হয়, তাহা ইহলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ৷
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি ১ (অনধিক চৌদ্দ বৎসর এবং অন্যূন সাত বৎসর কারাদণ্ডে) এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন৷
এখনো পর্যন্ত এ আইনে কারো ১৪ বছর জেল হয়নি বটে, কিন্তু ৫৭ ধারায় মামলা হয়েছে কয়েকটি। মামলার পরপরই হয়েছে গ্রেফতার আর রিমাণ্ডে নেওয়ার ঘটনা।
এসবকে আইনের অপব্যবহার আখ্যা দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বাংলানিউজকে বলেন, আইনে ইন্টারনেটে মিথ্যা ও অশ্লীল প্রচারের বিষয়টি বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখলাম সংবাদ প্রকাশের পর ৫৭ ধারায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। গ্রেফতার করা হচ্ছে।
কিন্তু কেন এই গ্রেফতার বা রিমাণ্ডের আবেদন এ প্রশ্ন রেখে মনজিল মোরসেদ বলেন, মামলা হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত করবেন। যদি তথ্য উদঘাটন না করতে পারে তাহলে রিমাণ্ডের আবেদন করবেন। কিন্তু যে বিষয়বস্তু নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে,সেটা তো ইন্টারনেটে আছেই। সেখানে আবার তথ্য উদঘটনের জন্য রিমাণ্ড কেন?
তিনি বলেন, গ্রেফতার করে রিমাণ্ড আবেদন করা এখন একটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। এটা তো ঠিক না। এছাড়া সংবাদ প্রকাশের কারণে নিয়ম অনুসারে প্রেস কাউন্সিলসহ যথাযথ ব্যবস্থায় না গিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জেল খাটানোর চিন্তাও অসুস্থ মানসিকতা।
আইন সংশোধনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী বলেন, আমরা ইতিমধ্যে শুনেছি আইনটা সংশোধন হবে। কিন্তু সংশোধিত আইনে যদি ঘুরে ফিরে আগের বিষয়গুলো থাকে তাহলে তো কোন লাভ হবে না।
যদিও আশার কথা এই যে সম্প্রতি আইনমন্ত্রী বলেছেন, আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা যেভাবে আছে সেভাবে থাকবে না। ৫৭ ধারায় যে ব্যাপারগুলো নিয়ে আপত্তি ও অষ্পষ্টতা এবং যেখানে মনে হচ্ছে বাক স্বাধীনতা বন্ধের জন্য এটি করা হচ্ছে, সে গুলো পরিষ্কার করে দেওয়া হবে। কিন্তু কবে হবে এই সংশোধন? কবে নাগাদ স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপরে চেপে বসা খড়গটা সরানো হবে?
২০১৫ সালে ওই আইনের ৫৭ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১১ ব্যক্তি রিট করেন। পরে প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুলও জারি করা হয়। যে রুল বিচারাধীন। ওই রিটে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।
তিনি বলেন, ভয়টা প্রথম থেকেই ছিলো। আইনের ৫৭ ধারা উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। আর সেটাই হচ্ছে। এটা নিয়ে সাংবাদিকদের আরও বেশি সোচ্চার হওয়া দরকার ছিলো।
ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, সাংবাদিকদের কাজ হচ্ছে লেখা। সমাজের ভালো-মন্দ সবই লিখবেন। কিন্তু ৫৭ ধারা অনুসারে (যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন) সাংবাদিকরা যে কোনো লেখার জন্য মামলায় পড়তে পারেন। কারণ আইনে বলছে ‘মিথ্যা বা অশ্লীল।’ এখন কোনটা মিথ্যা আর কোনটা সত্য সেটা নির্ধারণ করবে কোর্ট। কিন্তু এটা নির্ধারণের আগেই সাংবাদিকদের জেলে যেতে হচ্ছে। রিমাণ্ডের আবেদন করা হচ্ছে। আবার এই আইনের মামলায় জামিন পাওয়াও কঠিন।
তিনি বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর স্ট্যান্ডার্ড নিয়ম হচ্ছে প্রতিবাদ দেওয়া। সেটা প্রকাশ না করলে প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করা। আর সেখানে যদি নাও যান তাহলে মানহানি কিংবা ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারেন। কিন্তু এতসব না করে সোজা গিয়ে ৫৭ ধারায় মামলা ঠুকে দেন। এ ধারা বাদ না দিলে সাংবাদিকরা সেলফ সেন্সরশিপে চলে যাবে। আর সেটা হলে গুর্ড গভর্নেন্সও থাকবে না।

